Logo
শিরোনাম
রাজধানীর সেতু ভবনে আগুন কমপ্লিট শাটডাউন : ঢাকাসহ সারা দেশে বিজিবি মোতায়েন জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ইট বোঝায় ট্রাক খাদে কুষ্টিয়ায় আন্দোলনকারী ও ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষ -কয়েকটি মোটর সাইকেলে আগুন পুঠিয়ায় আ’লীগের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা লালমনিরহাটে অনুষ্ঠিত হয়েছে তিস্তা সমাবেশ বেনাপোল স্থল বন্দর দিয়ে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা হয়েছে ১৮ কোটি টাকার সালফিউরিক এসিড কুমারখালীতে মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, আহত-২ শরণখোলায় নার্সের চিকিৎসার অবহেলায় এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ শেরপুরে কোটাবিরোধী শিক্ষার্থী-ছাত্রলীগের সংঘর্ষ, সাংবাদিকসহ আহত-২০

সাপাহারে কৃষি প্রযুক্তি মেলা ও কৃষি প্রণোদনা বিতরণ অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত:রবিবার ০৭ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২০ জুলাই ২০24 |

Image


উত্তম কুমার সরকার সাপাহার (নওগাঁ)প্রতিনিধিঃ নওগাঁর সাপাহারে কৃষি প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন ও কুষি প্রণোদনা বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় খাদ্যমন্ত্রী বাবু সাধন চন্দ্র মজুমদার এমপি।

রবিবার বেলা ১১টার দিকে সাপাহার উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর কর্তৃক আয়োজিত কৃষি প্রযুক্তি মেলার শুভ উদ্বোধন শেষে কৃষি প্রণোদনা বিতরণ অনুষ্ঠানের আলোচনা সভায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদ হোসেন এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় খাদ্যমন্ত্রী বাবু সাধন চন্দ্র মজুমদার এমপি । অনান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহজাহান হোসেন, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার শাপলা খাতুন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নঈমুদ্দীন , মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফাইমা খাতুন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রেজা সারোয়ার প্রমুখ। 

এর পর প্রধান অতিথি দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তি ও বাইসাইকেল প্রদান করেন। বেলা ২টা ৩০মিনিটে উপজেলা হাসপাতাল ব্যাবস্থাপনা কমিটির সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান এবং বিকেল সাড়ে ৩টায় পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল খেলার শুভ উদ্বোধন ঘোভনা করেন।

আরও খবর



নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে সব কিন্ডারগার্টেন

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৫ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০২৪ |

Image



বিডি টুডেস  রিপোর্ট:


আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের সব কিন্ডারগার্টেন (কেজি) স্কুলকে বিধিমালা অনুযায়ী নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব ফরিদ আহাম্মদ।


মঙ্গলবার (২৫ জুন) ‘জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৪’ উপলক্ষে সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি। 



এ সময় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুস সালাম এবং মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব বলেন, আমরা একটা টার্গেট নিয়ে কাজ করছি। বার্ষিক প্রাথমিক জরিপে দেখেছি নার্সারি, কিন্ডারগার্টেন বা বেসরকারি পর্যায়ে স্কুলের সংখ্যা একটু কমে গিয়েছিল।



 এ বছর ৮০০-এর মতো আরও বেড়েছে, সব মিলিয়ে এখন ৪৪ হাজারের কাছাকাছি আছে।


সচিব বলেন, বিধিমালা জারির পরে মাঠ পর্যায়ে যে কাজ করছে, সেই অনুযায়ী ইতোমধ্যে ২০ শতাংশ বেসরকারি পর্যায়ের স্কুল (কিন্ডারগার্টেন) অ্যাকাডেমিক স্বীকৃতি বা নিবন্ধনের আওতায় চলে এসেছে। 



আমরা আশাবাদী আগামী এক বছরের মধ্যে সকল বেসরকারি প্রাথমিক পর্যায়ের স্কুলগুলোকে অ্যাকাডেমিক স্বীকৃতি এবং নিবন্ধনের আওতা চলে আসবে।



ফরিদ আহাম্মদ বলেন, মাত্র দুই তিন মাস আগেও এটা ছিল ৮-৯ শতাংশ। এখন ২০ শতাংশ নিবন্ধন বা অ্যাকাডেমিক স্বীকৃতির আওতায় চলে এসেছে।



 আবেদন করার ৩০ দিনের মধ্যে স্কুলগুলো সিদ্ধান্ত পাবে। নিবন্ধন হলেও সিদ্ধান্ত পাবে, না হলেও কেন হলো না সেই সিদ্ধান্ত পাবে।


আরও খবর



তিস্তা নিয়ে ভারতের সঙ্গে কাজ করতে চীনের সম্মতি

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৪ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪ |

Image



বিডি টুডেস রিপোর্ট:



তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রকল্পে ভারতের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে চীনের কোনও আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।



তিনি বলেন, ‘সরকারের যেকোনো সিদ্ধান্ত আমরা সম্মান করব। এ প্রকল্প নিয়ে প্রস্তাব দিয়েছিলাম আমরা, এখনো বাংলাদেশের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়।’



বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) কূটনীতিক সাংবাদিকদের সংগঠন ডি ক্যাব আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।


ইয়াও ওয়েন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে এদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, কৃষি সহযোগিতা, ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট, ডিজিটাল ইকোনোমি, শিক্ষা, গণমাধ্যমের সঙ্গে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হবে। 



এছাড়াও দুই দেশের জনগণের মধ্যে সংযোগ বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হবে। আবার রোহিঙ্গা সংকট আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পাবে।

 

তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে চীনের রাষ্ট্রদূত বলেন, এ নদী বাংলাদেশের নদী। অতএব তিস্তা প্রকল্প নিয়ে বাংলাদেশকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যেকোনো সিদ্ধান্ত আমরা সম্মান করব।



 তিস্তা নিয়ে প্রস্তাব দিয়েছিলাম আমরা। আমরা এখনও বাংলাদেশের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তিস্তা নিয়ে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। আমরা সেটা সম্পন্ন করি। যে পক্ষই এ প্রকল্পে কাজ করুক, দ্রুত শেষ হোক সেটা আমরা চাই।


 উত্তরের সমস্যার দ্রুত সমাধান হোক সেটা আমরা চাই। আর তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রকল্পে ভারতের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে রাজি আছে চীন।  

 

চীনা রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, বাংলাদেশকে উদীয়মান অর্থনীতির দেশ হিসেবে দেখে চীন। এ ধারাবাহিকতায় উন্নয়ন চলতে থাকলে আগামী ৫ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় হবে ৪ হাজার ডলার।



 আন্তর্জাতিক নানা ইস্যুতে বাংলাদেশ ও চীনের দৃষ্টিভঙ্গি একই। ফলে আমাদের সম্পর্কের একটি কমন জায়গা রয়েছে।



মিয়ানমারে যুদ্ধ থামাতে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে কথা বলছে চীন- যা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পথ উন্মুক্ত করবে এ কথা জানিয়ে ইয়াও ওয়েন বলেন, দেশটির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হয়ে পড়েছে। কিন্তু যত জটিলই হোক, আমরা চেষ্টা করে যাব যুদ্ধবিরতি আনার। 



যুদ্ধবিরতি না হলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কঠিন। আমরা আরাকান আর্মির সঙ্গেও কথা বলেছি এ বিষয়ে। আরাকান আর্মিসহ সব আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ রয়েছে।


তিনি আরও বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের কারণে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে তৃতীয়পক্ষীয় আলোচনা সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। 



তবে এটিকে আমরা বন্ধ বলতে চাই না। এটাও নিশ্চিত নই যে, কবে প্রত্যাবাসন শুরু হবে। আমরা চেষ্টা করছি যাতে, গৃহযুদ্ধ থামে এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের দ্বার উন্মুক্ত হয় বলেও জানান তিনি। 


আরও খবর

রাজধানীর সেতু ভবনে আগুন

বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪




কোটা বিরোধী আন্দোলন না করার প্রচারণায় ফুলবাড়ী উপজেলা প্রসাশন

প্রকাশিত:বুধবার ১৭ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১৯ জুলাই ২০২৪ |

Image
ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) সংবাদ দাতা::



সারাদেশের চলমান কোটা বিরোধী আন্দোলনে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়িতে,সাধারণ ছাত্র,ছাত্রী সহ অভিভাবকরা যাতে আন্দোলনের নামে গুজবে কান না দেয় বা ভিন্ন ভাবে প্রভাবিত হতে না পারে তারেই লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের জনসচেতনতা মূলক প্রচার প্রচারণা।

বুধবার ১৭ (জুলাই) ফুলবাড়ী উপজেলা প্রসাশন সকালে কাশিপুর ইউনিয়নের কলেজ মোড় থেকে শুরু করে উপজেলার বিভিন্ন বাজারে গিয়ে কোটা বিরোধী আন্দোলনের নামে কোন প্রকার বিশৃঙ্খলা, মানববন্ধন সমাবেশ না করার জন্য ছাত্র ছাত্রী সহ অভিভাবকদের অনুরোধ জানিয়ে ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহনুমা তারান্নুম বলেন,যে মায়ের কোল খালি হয়,সে মায়ে বোঝে তার কষ্ট।সে কথাটা বোঝেন, আমরা কেউ বুঝিনা। আমরা চাই আপনাদের কোন সন্তান যাতে কোন পক্ষের কথায় কষ্ট পাক, আহত হোক অথবা মৃত্যু বরণ করুক। এসময় তিনি ফুলবাড়ির সন্তানদের সুস্থ সুন্দর রাখতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

এসময় কোটা বিরোধী আন্দোলনে না জড়ানোর জন্য ফুলবাড়ির সকল ও ছাত্র, ছাত্রী সহ অভিভাবকদের অনুরোধ জানান,থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নত্তয়াবুর রহমান। তিনি আরও জানান,প্রসাশনের নির্দেশ অমান্য করে কোন প্রকার সভা সমাবেশ বিশৃঙ্খলা করলে আপনাদের কে এর দায় দায়িত্ব নিতে হবে। যে করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও খবর



মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অক্ষত রাখা প্রসঙ্গে

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২০ জুলাই ২০24 |

Image

অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইদ্রিস আলী :

মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি, তাদের প্রজন্মের প্রতি সুস্থ সরকারের দায়, জনগণের দায় যুগ যুগ ধরেই থাকবে। এটা করুণা নয়, উচ্ছ্বাস কিংবা আতিশয্য নয়। দায় মুক্তির প্রচেষ্টা মাত্র। 

কোটা এই দায় মুক্তির সামান্য একটি অংশ মাত্র। এটা অনস্বীকার্য- কোটায় অনিয়ম হয়েছে, অবিবেচনা হয়েছে, এটির মিস ইউজ হয়েছে। সাংবিধানিক প্রক্রিয়াতেও ঘাটতি আছে।


 ১৯৭১  সালের পরে যারা বঙ্গবন্ধুর সরকারের উপর ভর করেছিল, রাজনীতির বিভাজন সৃষ্টি করেছিল। বিভাজনের কুফলকে সুফলে ভোগ করেছিল। আদালতের মাধ্যম দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা হয়ে সুযোগ সুবিধা নিয়েছিল। ছয় দফা আন্দোলন সময় দুনিয়ার মজদুর নিয়ে কথা বলেছিল। শেখ মুজিবুর রহমানকে সন্দেহ করেছিল। ছয় দফায় পাকিস্তান ভাঙার ষড়যন্ত্র খুঁজেছিল। তারাও পরবর্তীতে কোন না কোন ভাবে মুক্তিযুদ্ধের সাথে সম্পৃক্ত হয়েছে । পরবর্তীতে সহকারী, সহযোগী, মুক্তিযোদ্ধা হয়ে এর বেনিফিট নেয়ার চেষ্টা করেছে। 

সময়ের সাথে অনেক কিছুর পরিবর্তন, সংযোজন, সংশ্লেষণ, বিশ্লেষণ, সংশোধন সময়েরই দাবি। বিশাল তারুণ্যের ইতিহাসের সংবেদনশীলতাকে পাশ কাটিয়ে, বৈশ্বিক নাগরিক হওয়ার প্রচেষ্টায় ইতিহাস বিমুখতা, ইতিহাসের নির্লিপ্ততা দুঃখজনক, দুর্ভাগ্যজনক। 

এটাও কমবেশি ভ্রান্ত, উদ্ভ্রান্ত কিংবা বহুধা বিভাজিত বিভিন্ন তান্ত্রিক রাজনীতির নিকট অতীত ও সমসাময়িক চরিত্র। এর প্রভাব কোমলমতি শিক্ষার্থীদের তাড়িত করেছে, করছে।

তরুণ প্রজন্মের আশা থাকবে, আকাঙ্ক্ষা থাকবে, দাবি-দাওয়া থাকবে। তারা দাবী দাওয়া উত্থাপন করবে, তার স্বপক্ষে নিয়মতান্ত্রিক গণতান্ত্রিক আন্দোলন করবে, এটা গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ। 

বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট অঙ্গন। 

দেশ স্বাধীনতার পরে ৫৩ বছর অতিক্রান্ত করেছে। অনেক কিছুই আধুনিক হয়েছে। রাজনীতি ও আন্দোলনের আধুনিকায়ন দরকার। তা কার্যত হয়নি।

দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী যে কোন গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে অনুমোদন করে। 

আন্দোলনের বর্তমান প্রেক্ষিতে যে কোন নাগরিক বলতে পারে, 'আমার রাস্তা বন্ধ কেন?'

যোগাযোগ ব্যবস্থা, নাগরিক সুবিধা, ঘাট রাস্তাকে বন্ধ করে দিয়ে, জনগণের দুর্ভোগকে বাড়িয়ে দিয়ে সুযোগ-সুবিধার আন্দোলন, আন্দোলনের যৌক্তিকতাকে খাটো করে। 

এ আন্দোলন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্গনে ঘটতে পারে ধারাবাহিকভাবে। কিন্তু তা যখন সাধারণের, জনগণের চলাচলে, জীবনযাত্রায় বিঘ্ন ঘটায়, তখন তা বিতর্কের জন্ম দেয়। 

বিতর্কের জন্ম দেয় যখন হাজার বছরের কাঙ্খিত স্বাধীনতার  ঐতিহাসিক স্লোগানকে অসম্মানজনক বক্তব্যকে বিকৃত করে উপস্থাপন করা হয়। লাখো শহীদের নির্যাতন, রক্তদান, রক্ত গঙ্গার প্রবাহের বিসর্জনের বিনিময়ে যে স্বাধীনতা তা কোন আন্দোলনের মাধ্যম দিয়েই উত্যক্ত কিংবা বিতর্কিত করার সুযোগ মুক্তিযুদ্ধের বিসর্জনের লাখো আত্মার প্রতি চরম অবমাননা।

'একজন একবার মুক্তিযোদ্ধা হলেই আজীবন মুক্তিযোদ্ধা নন'- এটি হুমায়ুন আজাদের কথা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, প্রেরণা, অহংকার, অনুভূতি অনুসঙ্গকে ধারণ করেই, সম্মানজনক চর্চা করেই একজনকে মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক সৈনিক হতে হয়।

 অন্যভাবে একজন একবার রাজাকার হলে বাস্তবে অথবা চেতনায় সে কিন্তু আজীবনই রাজাকার থেকে যায়। 'রাজাকার' একটি ভ্রান্ত চেতনার নাম। দেশপ্রেমহীন মুক্তিযুদ্ধের দূষকদের নাম। এদেশের সংহতি, সম্প্রীতি, স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের প্রতি চরম ঘৃণা ও আঘাত করা একটি ভ্রান্ত ভাবনাগুচ্ছের নাম। 

 বিশেষ্য থেকে বিশেষণে রূপান্তরিত এই ভ্রান্ত অভিশপ্ত শব্দটি আন্দোলনের স্লোগান হতে পারেনা। তরুণ প্রজন্মের ভাবনা ও চেতনার উপকরণ, উপাদান হতে পারে না। 

মুক্তিযুদ্ধের অর্জনের মহাসড়কে অবস্থান করে, চেতনার বৈপরীতে উল্লাস, উদ্দীপনা, উন্মাদনার মাধ্যম দিয়ে আন্দোলনের নামে স্বাধীনতার অহংকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করা কোনভাবেই এদেশের যেকোনো আন্দোলনেরই অংশ অঙ্গ হতে পারে না। 

এতে অস্তিত্বকে অস্বীকার করা হয়। অর্জনকে অস্বীকার করা হয়। লাখো শহীদের রক্তের প্রতি বিদ্বেষ এবং বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়। 


মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা বাংলাদেশের এই মুহূর্তে অনিবার্য অনুসন্ধান। যারা  স্বাধীনতার পরে বঙ্গবন্ধুর সনদ ছিঁড়ে ফেলে উল্লাস করে বঙ্গবন্ধুকেই বিতর্কিত করে রাজনীতিতে ভ্রান্তির বিষ বাষ্প ছড়িয়েছিল মনে করা হয়, তারা ভিন্ন কথা বলে। যাদের সুবিধাজনক প্রভাবে ছাত্রলীগ দ্বিখন্ডিত হয়েছিল। তারা সময়ের ব্যবধানে রাজনৈতিক অস্তিত্বকে তলানিতে নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সুযোগ সুবিধা নিয়েছে। নিশ্চিহ্ন তার দিকে ধাবিত হয়েছে, তাদের বক্তব্যে উস্কানি আছে। 

যারা ১৯ ৭১ সালে স্বাধীনতার সাথে সম্পর্ক না রেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নের নামে পাকিস্তানের সংহতির প্রতি সমর্থন যুগিয়েছে, দুর্ভাগ্য হলো,এই তারাই আমাদের ইতিহাসের , রাজনীতির, মুক্তিযুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছে।

 

আমাদের রাজনৈতিক দৈন্যতা আছে। অজ্ঞতা ও নির্লিপ্ততা আছে।  মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস চর্চায় ঘাটতি আছে। সবগুলো একত্রিত করলে যে প্রজন্মের সৃষ্টি হয়, সেই প্রজন্মের থেকে 'আমরা তোমরা রাজাকার স্লোগান আসতেই পারে'। অনাকাঙ্ক্ষিত, অবাঞ্চিত এ বক্তব্যের দায় কিন্তু আমাদের সবার।


অতীতের একটি ছাত্র সংগঠনের স্বাধীনতা বিরোধী কর্মকাণ্ডে উস্কানি, উম্বাদনা সৃষ্টিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতরা তৎপরত থাকতো। এটি কারো অজানা নয়।

এটি এদেশের সচেতন মানুষদের অজানা নয়। সেই বিশেষ সংগঠনের দেশি-বিদেশি বিভিন্ন পেশার সাথে সম্পৃক্ত আমাদের পরিচিত মানুষগুলো এখন কিন্তু খুব তৎপর।

একটি নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনকে ভিন্ন ধারায় প্রবাহিত করার প্রচেষ্টা সবসময় ভালো ফল বয়ে আনেনি।

 বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বর্তমান বাংলাদেশের অর্জন ও অগ্রগতির অদম্য নেত্রী। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার কারণে তার যেমন সুবিধাবাদী সমর্থকগোষ্ঠী সৃষ্টি হয়েছে। একইভাবে বিদ্রোহী- বিদ্বেষী সুধীজনের(!) সংখ্যাও কম নয়। 

দীর্ঘদিন শিক্ষকতার সুবাদে যেসব ছাত্র কিংবা শিক্ষার্থীর দীর্ঘদিন স্বাধীনতার বৈপরীত্যের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিল বিশেষ বিশেষ প্রতিষ্ঠানে, এখন দেখা যায়, তারা যথেষ্ট সক্রিয়। 

রাজনীতির পোড় খাওয়া একজন কথিত জাতীয়তাবাদী নেতা (মুক্তিযুদ্ধের সময়ের শান্তি কমিটির চট্টগ্রাম শহরের আহ্বায়কের পুত্র) যখন কোটা নিয়ে মন্তব্য করে, তখন তা গ্রহণযোগ্য হয় না। এক্ষেত্রে এসব মানুষের মন্তব্য একদিকে কোটা আন্দোলনকারীদের উসকে দেয়, অন্যদিকে কোটা বিরোধীদের উত্তপ্ত, উদ্ভ্রান্ত করে করে। 

সরলমনা আন্দোলনকারীদের বোধে ইতিহাসের এই অংশটুকু ধারণ করতে হবে। 


আর দীর্ঘ করার ইচ্ছা নেই। কোটা আন্দোলনকারীদের যৌক্তিক সংস্কার প্রয়োজন আছে। সময়ের সাথে যেকোনো কিছুর ধারাবাহিক সংস্কারও একটি সংস্কৃতি। যে পথে, যেভাবে, যে প্রক্রিয়ায় জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করার পায়তারা হচ্ছে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, প্রজন্ম কিংবা ইতিহাসকে আঘাত করা হচ্ছে, সেটা কখনোই যৌক্তিক আন্দোলনের পথ নয়। এতে সাময়িক সংকট হবে, লক্ষ্য অর্জন হবে না।

মুক্তিযোদ্ধাদের সমর্থন এখানে থাকবে না। আমাদের মনে রাখতে হবে, এদেশে যুদ্ধাপরাধী ছিল। তাদের অনেকের বিচার হয়েছে। বড় অংশ নীরবে নিভৃতে সমাজের আনাচে কানাচে রয়ে গেছে। আমাদের মনে রাখতে হবে মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা সীমিত হয়ে আসছে। এমন ভাবার কারণ নেই, একজন মুক্তিযোদ্ধার  দশটি সন্তান,  তারা যুগ যুগ ধরেই সুবিধা নিয়েই যাবে। 

সময় বলে দেবে রাষ্ট্র কখন এই সুবিধাকে সীমিত করবে। এটি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতার অংশ।


এর জন্য প্রচলিত প্রক্রিয়ার উস্কানিমূলক আন্দোলন মহান মুক্তিযুদ্ধের, মুক্তিযোদ্ধার, স্বাধীনতাপ্রেমী জনগোষ্ঠীর সংহতি সম্প্রীতি কিংবা চেতনার প্রতি চরম তাচ্ছিলতা। চরম অবমাননা। উস্কানি কিংবা অনুপ্রেরণা তা যে উৎস থেকেই আসুক। তরুণ প্রজন্মের কাছে এটি আশা করা যায় না।

 মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশকে সুরক্ষার জন্য, দীর্ঘজীবী করার জন্য তাদেরই কাজ করতে হবে। তাদের উপর যদি স্বাধীনতা বিরোধী সেই চক্রের প্রজন্ম ভর করে, তাহলে সেটা হবে খুবই দুর্ভাগ্যজনক। 


আমরা আশা করি, এক দফা, ৫ দফা এসব উস্কানিমূলক বক্তব্য বাদ দিয়ে প্রচলিত ধারায় সমস্যার সমাধান খুঁজতে হবে এবং আমাদের অহংকারের চেতনাকে অক্ষত রাখতে হবে। 

মনে রাখতে হবে, এখনো বাংলাদেশের অদম্য নেত্রী বঙ্গবন্ধুর রক্তের ধারাবাহিকতাকে পোষণ করে, চর্চা করে, লালন করে। 

যে নেত্রী তাঁর বাসার কাজের মানুষের সমালোচনা করে জনসমক্ষে তা তুলে ধরতে পারে। দুর্নীতিগ্রস্তদের এক বিন্দুও ছাড় দিচ্ছেন না হলে উন্মুক্ত কন্ঠে ঘোষণা দিতে পারে,তাঁর প্রতি আমাদের শ্রদ্ধাবোধ বহু গুণে বৃদ্ধি পাওয়া দরকার। 

তাঁর দেশপ্রেম, জনসম্পৃক্ততা, দৃঢ়তা, চেতনা ও সংহতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা আমাদের নাগরিক দায়িত্বের অংশ। আমরা যারা বঙ্গবন্ধুকে দেখিনি, তাদের জন্য এ এক বিরল সুযোগ। বর্তমান বিশ্বের অনন্তকালের শ্রেষ্ঠ নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের রক্তের প্রবাহের ধারক শেখ হাসিনা।

আমাদের মা-বাবারা,দাদারা যে ভুলই করুক, মুক্তিযুদ্ধের যত বৈপরিত্যেই অবস্থান করুক, সেটি আমাদের ভুলে যাওয়া উচিত। 

কথিত 'এক দফা দাবি' জানিয়ে তাঁর প্রতি ইতিমধ্যে যে অসম্মান প্রদর্শন করা হয়েছে, এর জন্য নিঃস্বার্থ ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত।

তখনই মুক্তিযোদ্ধারা, তাদের প্রজন্ম তা সমর্থন করবে। যে কোন গণতান্ত্রিক আন্দোলন সফলতার দিকে যাবে। সকলের সফলতা কামনা করে সকলকেই ধন্যবাদ।

প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইদ্রিস আলী 

মুক্তিযোদ্ধা, সেক্টর- ১১ 

বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ অধ্যায়ন কেন্দ্র চট্টগ্রামের প্রধান সমন্বয়ক।


আরও খবর



ইভিএম প্রকল্পের মেয়াদ বাড়াতে চায় ইসি

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৮ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪ |

Image

শেষ পর্যায়ে এসে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর তোড়জোড় শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। চলতি মাসেই এর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। এর মধ্যে এ সময়সীমা আরও এক বছর বাড়ানোর প্রস্তাব পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে সংস্থাটি। এখন এর ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকারের দিকে তাকিয়ে আছে ইসি।

গেলো কয়েক বছর ধরে দেশের নির্বাচনে ভোটগ্রহণের আলোচনায় থাকে ইভিএম। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেড়শ আসনে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও প্রয়োজনীয় সংখ্যক ইভিএম যন্ত্রের অভাবে তা করা যায়নি।

২০১৮ সালে ৩ হাজার ৮২৫ কোটি ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ইভিএম প্রকল্প হাতে নেয় ইসি। কেনা হয় দেড় লাখ ইভিএম। প্রতিটি ইভিএম কিনতে খরচ হয় ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। এগুলোর জীবনকাল কমপক্ষে ১০ বছর বলা হলেও পাঁচ বছরের মাথায় নষ্ট অবস্থায় পড়ে আছে এর বেশিরভাগ যন্ত্র। নেই রক্ষণাবেক্ষণের কোনো ব্যবস্থা।

বর্তমানে এক লাখের বেশি ইভিএমই পড়ে আছে অচল অবস্থায়। এর বিপরীতে ভালো আছে ৪০ হাজারের মতো ইভিএম।

এ অবস্থায় আর কদিন পরই শেষ হতে যাচ্ছে ইভিএম প্রকল্পের মেয়াদ। কিন্ত শেষ পর্যায়ে এসে ইসি আরও এক বছর এ মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্পের ব্যয় মেটাতে অবশিষ্ট প্রায় ১০০ কোটি টাকা দ্রুত ছাড় পেতেও আবেদন জানানো হয়েছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে ইসির প্রস্তাব পাস হলে শুরু হবে ইভিএম-এর নতুন অধ্যায়।

ইভিএম প্রকল্প পরিচালক কর্নেল সৈয়দ রাকিবুল বলেন, প্রজেক্ট রান করলে আমাদের দেখতে হবে কতগুলো ইভিএম সচল আছে, আর কতগুলো নষ্ট হয়ে আছে। প্রকল্পের মেয়াদ বাড়লে পুরো বিষয়টি নিয়ে পরিকল্পনা করতে হবে, যাতে পরবর্তীতে তা হস্তান্তর করা যায়।

তবে এর শেষ রক্ষা হবে কি-না, তা নির্ভর করছে সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর। প্রকল্প পাস না হলে জুনের পরেই ধ্বংস করতে হবে ইসির হাতে থাকা ইভিএমগুলো। পুড়িয়ে বা নষ্ট করে ফেলা হবে সচল-অচল মিলিয়ে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার এ মেশিনগুলো।

সম্প্রতি উপজেলা নির্বাচনসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে ইভিএম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় ইভিএম প্রকল্প বাঁচাতে নতুন করে তোড়জোড় শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন।


আরও খবর

রাজধানীর সেতু ভবনে আগুন

বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪