Logo
শিরোনাম

সবজির বাজারে উত্তাপ, কমেছে মুরগীর দাম

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৪ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ |

Image



সদরুল আইন:


কোরবানির ঈদ উপলক্ষে ক্রেতা সাধারণের চোখ এখন পশুর হাটের দিকে।



 সেই সুবাদে দীর্ঘদিন পর কমেছে মুরগীর দাম। দুইশ টাকার নিচে নেমেছে ব্রয়লার মুরগির দাম। তাল মিলিয়ে দাম কমেছে অন্যান্য জাতের মুরগিরও। 


তবে সবজিতে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও অস্বস্তি রয়েছে আলু পেঁয়াজের দামে। শুক্রবার (১৪ জুন) রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে এমন চিত্র দেখা গেছে।


বাজার ঘুরে দেখা যায়, ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৮০-১৯০ টাকা। যা গত সপ্তাহেও ২০০ টাকার ওপরে বিক্রি হয়েছে। এছাড়াও সোনালী পাকিস্তান জাতের মুরগি ৩০০-৩২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।



 লেয়ার মুরগি লাল ৩০০-৩২০ টাকা, সাদা ২৬০-২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে দেশি মুরগী বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকার উপরে।


এদিকে আবারও উত্তাপ ডিমের বাজারে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৬০ টাকায়। হালি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৫৫-৬০ টাকা।


এদিকে সবজির বাজারে লম্বা বেগুন প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকা, গোল বেগুন ৭০-৮০ টাকা, পটল ৪০-৫০ টাকা, চিচিঙ্গা ৭০-৮০ টাকা, ঢেঁড়শ ৪০-৫০ টাকা মান ও সাইজভেদে লাউ ৬০-৮০ টাকা, ছোট সাইজের মিষ্টি কুমড়া ১০০-১২০ টাকা, জালি ৫০-৬০ টাকা, পেঁপে ৪০-৫০ টাকা, কাঁচা কলা ডজন ৯০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। যা গেল সপ্তাহজুড়ে প্রায় একই দামে বিক্রি হয়েছে।


ঈদকে কেন্দ্র করে অস্থিরতা দেখা গেছে শশা টমেটোর বাজারে। প্রায় ২০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে এক কেজি শশা। টমেটোর কেজি ১৬০-১৮০। ২০০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে কাঁচা মরিচ।


মাছের বাজারে ঘুরে দেখা যায়, ২০০ টাকার নিচে তেমন কোনো মাছ নেই। সাইজ ভেদে তেলাপিয়া ২০০-২৩০ ও পাঙাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকা। যা গেল সপ্তাহেও প্রায় একই দামে বিক্রি হয়েছে। 


অন্য মাছের মধ্যে মাঝারি ও বড় আকারের চাষের রুই, কাতলা ও মৃগেল মাছের দাম প্রতি কেজি ২৮০ থেকে শুরু করে সাইজ ভেদে ৪০০-৪৫০ টাকা।


 ৬০০ টাকার নিচে নেই পাবদা, টেংরা, কই, বোয়াল, চিতল, আইড় ও ইলিশ মাছ। চাষের কই বিক্রি হচ্ছে ২৫০-৩০০ টাকা, চাষের শিং মাছ ৩৫০-৪৫০ টাকায়।



আরও খবর



সিলেটসহ দেশের পাঁচ জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

প্রকাশিত:বুধবার ০৩ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ |

Image

উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিতে দেশের বন্যাপ্রবণ প্রধান প্রধান নদ-নদীর পানি হু হু করে বাড়ছে। সারাদেশে ধেয়ে আসছে বন্যা। ইতিমধ্যে পাঁচ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে উঠেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড। এদিকে সিলেটে তৃতীয় দফার বন্যায় ফের প্লাবিত হয়েছে জেলার ৯৭ ইউনিয়নের এক হাজার ১৭৬ গ্রাম। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন ৭ লাখ ১ হাজার ৬৫৮ জন। এছাড়া সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, নেত্রকোণা ও শেরপুরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান স্বাক্ষরিত এক সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে অতিবৃষ্টি এবং উজানের ঢলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। দেশের বন্যাপ্রবণ প্রধান প্রধান নদ-নদীর পানি হু হু করে বাড়ছে। ইতোমধ্যে পাঁচ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে উঠে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

এতে আরও বলা হয়েছে, দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানে আগামী ২৪ ঘণ্টায় ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় উত্তরাঞ্চলের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীসমূহের পানি সমতল সময় বিশেষে বৃদ্ধি পেয়ে কতিপয় পয়েন্টে স্বল্পমেয়াদে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের সতর্কীকরণ জানিয়েছে, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীর পানি সমতলও বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আগামী ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। এছাড়া গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়ে কতিপয় পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের মুহরী, ফেনী, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীসমূহের পানি সমতল সময় বিশেষে বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হতে পারে।

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান জানিয়েছেন, সুরমার পানি কানাইঘাট ও সুনামগঞ্জ; কুশিয়ারার পানি অমলশীদ, শেওলা, শেরপুর-সিলেট ও মারকুলিতে; মনু নদীর পানি মৌলভীবাজারে; সোমেশ্বরীর পানি কলমাকান্দায় ও ভুগাইয়ের নাকুগাঁওয়ে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে পাঁচ জেলার (সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট, নেত্রকোণা ও শেরপুর) নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

সিলেটে তৃতীয় দফার বন্যায় ফের প্লাবিত হয়েছে জেলার ৯৭ ইউনিয়নের এক হাজার ১৭৬ গ্রাম। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন ৭ লাখ ১ হাজার ৬৫৮ জন। মঙ্গলবার (২ জুলাই) রাতে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে সিলেট জেলা প্রশাসনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যায় সিলেটের সবকয়টি উপজেলা আক্রান্ত হয়েছে। বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে সুরমা-কুশিয়ারাসহ সিলেটের বিভিন্ন নদ-নদীর পাঁচটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা প্রশাসন।

সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ১১২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এই নদীর পানি সিলেট পয়েন্টে ১০ দশমিক ৭৯ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এখানে বিপৎসীমা ১০ দশমিক ৮০ সেন্টিমিটার।

কুশিয়ারার পানি আমলশীদ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৮৯ সেন্টিমিটার, ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ৯৭, শেওলা পয়েন্টে ২৬ সেন্টিমিটার এবং শেরপুরে ১৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে কিছুটা কমেছে সারি, সারিগোয়াইন ও লোভা নদীর পনি।

সিলেট আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজীব হোসাইন বলেন, মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (৩ জুলাই) পর্যন্ত সিলেটে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।

সিলেটের জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসান বলেন, তৃতীয় দফা বন্যার আশঙ্কা আগে থেকেই করা হচ্ছিল। যে কারণে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে দির্দেশনা দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রয়েছে। পরিস্থিতি সতর্কতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে সরকারের।


আরও খবর



মাভাবিপ্রবিতে প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু ২২ জুলাই

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০২ জুলাই 2০২4 | হালনাগাদ:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ |

Image

মো: হ্নদয় হোসাইন মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধি :

টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবষের্র প্রথম বর্ষ প্রথম সেমিস্টারের স্নাতক (ইঞ্জিনিয়ারিং/সম্মান), বিবিএ ও বি ফার্ম কোর্সের ক্লাস আগামী ২২ জুলাই, ২০২৪  (সোমবার)  থেকে শুরু হতে যাচ্ছে।

মাভাবিপ্রবি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার আহবায়ক ও ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল মাহমুদ এই তথ্য নিশ্চিত করেন।


বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শাহীন উদ্দিনের কাছে বলেন, নবীন শিক্ষার্থীদের অরিয়েন্টেশনের তারিখ এখনো ঠিক করা হয়নি। তবে সকল বিভাগের ক্লাস শুরু হবে ২২ জুলাই।

ক্যাম্পাসে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় যে, নবীন শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের মেস ভাড়া করা শুরু করেছেন। অনেকেই ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস  ঘুরে দেখছেন। নতুন শিক্ষার্থীদের পদচারণায় ক্যাম্পাস মুখরিত হতে শুরু করেছে। 


আরও খবর



দেশে ফিরেছেন সাড়ে ১৯ হাজার হজযাত্রী

প্রকাশিত:বুধবার ২৬ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ |

Image



বিডি টুডেস ডেস্ক:


পবিত্র হজ পালন শেষে দেশে ফিরতে শুরু করেছেন হাজীরা। গতকাল মঙ্গলবার (২৫ জুন) মধ্যরাত পর্যন্ত দেশে ফিরেছেন ১৯ হাজার ৪৩৯ জন হাজি। 


ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ ব্যবস্থাপনা পোর্টালের আইটি হেল্প ডেস্কের প্রতিদিনের বুলেটিন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।



হেল্প ডেস্কের তথ্যমতে, পবিত্র হজ পালন শেষে মঙ্গলবার মধ্যরাত পর্যন্ত ৫১টি ফিরতি ফ্লাইটে দেশে ফিরেছেন ১৯ হাজার ৪৩৯ জন হাজি। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালিত ফ্লাইটের সংখ্যা ১৩টি, সৌদি এয়ারলাইন্স পরিচালিত ফ্লাইট ২০টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ১৮টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে।


অন্যদিকে, পবিত্র হজ পালন করতে গিয়ে নাসরিন বানু (৬৪) নামে আরও এক বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর হজ পালনে গিয়ে এখন পর্যন্ত ৪৮ জনের মৃত্যু হলো। তাদের মধ্যে ৩৬ জন পুরুষ ও ১২ জন নারী। এর মধ্যে মক্কায় ৩৭ জন, মদিনায় ৪ জন, মিনায় ৬ জন এবং জেদ্দায় একজন মারা গেছেন।


এ বছর তীব্র গরমের মধ্যে হজ পালন করতে হয়েছে মুসল্লিদের। হজের মৌসুমে মক্কার তাপমাত্রা কখনো কখনো ৫০ ডিগ্রি পর্যন্ত ছাড়িয়ে গেছে। সেই সঙ্গে সৌদিজুড়ে প্রবল তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। 


যার ফলে তীব্র গরমে অসুস্থ হয়ে অনেকের মৃত্যু হয়েছে।


আরও খবর



শ্রীপুরে ১৪ বছরের কিশোরীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ চিকিৎসক গ্রেফতার

প্রকাশিত:রবিবার ৩০ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ |

Image



বিডি টুডেস:



গাজীপুরের শ্রীপুরে কিশোরী গৃহকর্মীকে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণের পর সেই ভিডিও দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের ঘটনায় ফরহাদ উজ্জামান নামে এক ফিজিওথেরাপি চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। 



এরই মধ্যে আপত্তিকর ওই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন অভিযুক্ত চিকিৎসক।


রোববার (৩০ জুন) সকালের দিকে অভিযুক্ত চিকিৎসককে আদালতে পাঠানো হয়। এরআগে,ভুক্তভোগীর মায়ের দায়ের করা মামলায় শনিবার রাতে শ্রীপুর পৌরসভার শ্রীপুর বাজারের নিজস্ব চেম্বার থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে শ্রীপুর থানা-পুলিশ।



গ্রেপ্তার ডা: ফরহাদ উজ্জান (৩৭) শ্রীপুর পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের আবুল হাসেমের ছেলে। তিনি একজন ফিজিওথেরাপিদ চিকিৎসক। তার বাবা একজন আইনজীবী।


ভুক্তভোগী গৃহকর্মীর (১৪) বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায়। দীর্ঘদিন ধরে তার বাবা-মা শ্রীপুরে ভাড়ায় থেকে মা মানুষের বাড়িতে কাজ করে এবং বাবা রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন।


ভুক্তভোগী কিশোরী মা বলেন,' আনুমানিক দুই মাস আগে ওই চিকিৎসকের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। এরপর সে আমার ১৪ বছর বয়সী মেয়েকে তাদের বাসার কাজ করার জন্য প্রস্তাব দেয়।



 তখন আমি বেতন ঠিক করে মেয়েকে তাঁর বাড়িতে কাজ করতে পাঠাই। এর কিছুদিন যাওয়ার পর অভিযুক্ত সুকৌশলে আমার মেয়েকে ধর্ষণ করে তার মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে। সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অভিযুক্ত তার বাসায় ও চেম্বারে নিয়ে আমার মেয়েকে একাধিকবার ধর্ষণ করে।



 বিষয়টি মেয়ে আমাকে জানালে আমি ও আমার স্বামী গিয়ে চিকিৎসকের বাড়ি থেকে মেয়েকে নিয়ে আসি। নিয়ে আসার পরপরই আমার মোবাইল নম্বরে অপরিচিত একটি মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে মেয়েকে আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। 



এর একদিন পর আজ সকালে আমার এক আত্মীয় ফোন করে জানায় মেয়ের আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। এরপর আমি থানায় এসে পুলিশকে লিখিত আকারে জানালে পুলিশ তাকে আটক করে।



শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকবর আলী খান  বলেন,' ভুক্তভোগীর মায়ের লিখিত অভিযোগটি আমলে নিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা রুজু করা হয়। সেই মামলায় ফরহাদ উজ্জামানকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। '



আরও খবর



রাজনৈতিক মৃত্যু ফাঁদে গাজীপুর-৩ আসনে আ.লীগের একাংশের রাজনীতি

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৮ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১২ জুলাই ২০২৪ |

Image
সদরুল আইন :১৯৯১-২০১৮ ইং গাজীপুর -৩ আসনে আ'লীগের রাজনীতির জীবন্ত কীংবদন্তি ছিলেন এ্যাড রহমত আলী।

প্রখর বুদ্ধিমত্তা আর কেন্দ্রিয় শক্ত লবিং ও ব্যক্তি পরিচিতি দিয়ে তিনি আ.লীগের সর্বজন শ্রদ্ধেয় নেতায় পরিনত করেছিলেন নিজেকে।পাশাপাশি শক্ত হাতে গাজীপুর-৩ আসনকে প্রায় ৩০ বছর নিজের করে রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন তিনি।

যদিও তার রাজনীতি,নিজ আসন ধরে রাখা,আধিপত্য প্রতিষ্ঠা, পারিবারিক বলয় তৈরি,প্রতিপক্ষ সৃষ্টি হতে না দেওয়াসহ বহুবিধ অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে।তারপরও তিনি সবার কাছে গ্রহনযোগ্য মানুষ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন।ছিলেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় শ্রীপুরের সিংহ পূরুষ।

                     বার্ধক্যজনিত  কারনে নানা অসুস্থতায় ২০১৪ সালের পরে পিতার আসনে পরবর্তি এমপি হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে রাজনীতির মাঠ চষে বেড়ান তার পুত্র জামিল হাসান দুর্জয়।

              ভারতের আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রীধারি জামিল হাসান দুর্জয়ের রাজনৈতিক পড়াশোনা, কোরআন হাদিস ও সমসাময়িক রাজনৈতিক জ্ঞান ছিল প্রখর।তার উদ্দিপ্ত বক্তব্য, রাজনৈতিক উদ্ধৃতি, রাজনীতির বিজ্ঞ মহলে ছিল প্রশংসিত ও সমাদৃত।

                   অনেকেরই ধারনা ছিল নন্দিত এমপি,আ'লীগের নীতি নির্ধারক এ্যাড রহমত আলীর পর শ্রীপুরের রাজনীতির দৃশ্যপটে আসবেন তার পুত্র জামিল হাসান দুর্জয়।

                 কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। বহু নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে পালাপদল ঘটে এই আসনের আ'লীগের রাজনৈতিক অভিযাত্রায়।পিতার দেখানো পথে হাঁটতে পারেননি পুত্র।পিতার আদর্শকে ব্যবহার করলেও ধারন করতে পারেননি তিনি  ব্যক্তি জীবনে।

একাদশ সংসদে নতুন মুখ হিসেবে ৩০ বছর পর এমপি হতে পারেন জেলা আ'লীগের নন্দিত প্রিয় মুখ ইকবাল হোসেন সবুজ।কিন্তু কেন্দ্রিয় লবিং থেকে দুরে সরে যাওয়া,অন্তরালে ঝুট ব্যবসায় জড়িয়ে থাকায় অভিযুক্ত থাকা,পরিবারের অন্তত দুই সদস্য শিল্প কলকারখানা ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার বনে যাওয়া,অতি পান্ডিত্য এবং তার পাশে থাকা বিপুল জনগোষ্টিকে আশাহত করা বিশেষ করে কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে সঠিক লোকদের পদায়ন করতে না পারায় তার বিশাল জনপ্রিয়তায় ধ্বস নামে এবং তিনিও ছিটকে পড়েন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে দলিয় মনোনয়ন থেকে।

স্বতন্ত্র নির্বাচন করে কাঙ্খিত ভোট পেলেও এমপি হতে পারেননি তিনি।ক্ষমতার ঘুড়ির লাটাই চলে যায় এড রহমত আলীর কন্যা একাদশ সংসদের সংরক্ষিত আসনের এমপি অধ্যাপিকা রুমানা আলী টুসির হাতে।তিনি বর্তমানে গাজীপুর-৩ আসনের এমপি ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী।

                 জামিল হাসান দুর্জয় নমিনেশন না পাওয়ার পেছনে ছিল শ্রীপুরের ঘৃণিত কিছু মানুষের অপরাজনীতি,তারা ছিলেন দুর্জয়ের শীর্ষ সুবিধাভোগী উপদেষ্টা।এদের বেশিরভাগ এখনো তার পাশেই রয়েছেন।

এরা নিজেদের স্বার্থের প্রয়োজনে দুর্জয়কে রাজনৈতিকভাবে শুধু পথেই বসায়নি, এ্যাড রহমত আলী পরিবারকে করেছে চরম বিতর্কিত।এই চক্রের বলয়ে এখনো এই পরিবারের একাংশ বন্দি।

             এ্যাড রহমত আলী ২০১৪ সালের উপজেলা নির্বাচনে ইকবাল হোসেন সবুজের মনোনয়ন প্রত্যাহার করায়ে আব্দুল জলিলকে মনোনয়ন দিয়ে একটি বিতর্কিত ফলাফলের মাধ্যমে যে বিজয়ের হাসি হেসেছিলেন সেদিন, তা তার রাজনৈতিক জীবনের শ্রেষ্ঠ ভুল ছিল বলে মনে করেন এই এলাকার রাজনীতি সচেতন মহল।সেদিন সেই ভুলটি তিনি না করলে হয়ত শ্রীপুরের রাজনীতির ইতিহাস আজ অন্যভাবে লেখা হত।

               অন্যদিকে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে গত উপজেলা নির্বাচনে এমপি হওয়ার আশা আপাতত ত্যাগ করে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন এড জামিল হাসান দুর্জয়।শপথও নিয়েছেন।তার চেয়ারম্যান হওয়ার নেপথ্যে অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সংশ্লিষ্ট একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা চাকরিও হারিয়েছেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে।

গত উপজেলা নির্বাচনে পেশীশক্তির দাপট ছিল চোখে পড়ার মত।দ্বি-শক্তির চরম উত্থানের সামনে দাড়িয়েও ঈর্ষনীয় ভোট পেয়ে চমকে দেন আব্দুল জলিল।এই উপজেলা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতার পাদপীঠে আবার ফিরে আসেন এড রহমত আলী পরিবার।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে ইকবাল হোসেন সবুজ ক্ষমতায় আসার পর ঈর্ষণীয় জনজোয়ার দেখে এখানকার মানুষের ধারনা ছিল অন্তত ৩/৪ মেয়াদ এই আসনে এমপি সবুজের কাছ থেকে টিকেট ছিনিয়ে নেওয়া কারো পক্ষে সম্ভব হবে না।বাস্তবে এমপি সবুজ ঝরে গেছেন এক মেয়াদ পরেই, তার নিজের অদুরদর্শিতার চোরাবালিতে,যা জনগনের প্রত্যাশিত ছিল না।

 অভিজ্ঞ রাজনৈতিক বোদ্ধারা মনে করেন, উপজেলা নির্বাচনের ভুলের খেসারত বর্তমান সাংসদ ইকবাল হোসেন সবুজকে  দিতে হয়েছে ২০২৩ সালের সংসদ নির্বাচনে  তার রাজনীতির চলার পথে।

                 এদিকে একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর শ্রীপুরের মানুষ ভেবেছিল এখানকার রাজনৈতিক দৃশ্যপট থেকে হারিয়ে গেল এ্যাড রহমত আলী পরিবার ইকবাল হোসেন সবুজ এমপি হওয়ার মধ্য দিয়ে।

বাস্তবে তা হয়নি।সংরক্ষিত মহিলা আসনে অপ্রত্যাশিতভাবে এ্যাড রহমত আলী তণয়া অধ্যাপিকা রুমানা আলী টুসীকে এমপি করার মধ্য দিয়ে সঙ্কটময় অবস্থা থেকে শ্রীপুরের রাজনীতিতে ফিরে আসেন এ্যাড রহমত আলী পরিবার।

অধ্যাপিকা রুমানা আলী টুসীকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ও কৃষক লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা নির্বাচিত করে আর এক ধাপ এগিয়ে দেওয়ায় তিনি '২৩ সালে দলিয় মনোনয়ন পেয়ে বিজিত হয়ে এমপি ও মন্ত্রীত্বের অমিয় সুধায় সিক্ত হয়ে জীবনের চরম প্রাপ্তিটি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে ছোট বোন এই আসনের এমপি,মন্ত্রী,বড় ভাই সদ্য নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান।ইকবাল হোসেন সবুজ কেন্দ্রিয় নেতিবাচক অভিযোগের বৃত্ত ভেঙে আবার কি ক্ষমতার পাদপ্রদ্বীপে জ্বলে উঠতে পারবেন?জনগনের বাধভাঙা জোয়ারের মহানায়ক হয়ে আবার কি জাতির দৃষ্টি আর্কর্ষনের নায়ক হয়ে অনন্য ইতিহাস সৃষ্টি করতে পারবেন?

বিশ্লেষকরা বলছেন, তিনি আর কখনো সক্ষম হবেন না।কারন হিসেবে বলছেন, তিনি তার সততার ইমেজ হারিয়েছেন কেন্দ্র ও জনগনের চোখে।বিশ্বাস, আস্থা ও জননপ্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি।বিশ্বাস নষ্ট হয়ে গেছে জনগনের তার প্রতি।এসব কারনে রাজনীতির মাঠে থাকলেও তিনি কেন্দ্র ও জনগনের চোখে ইমেজ ফিরিয়ে আনতে হয়ত আর সক্ষম হবেন না।

অন্যদিকে উপজেলা চেয়ারম্যান হয়ে এখন এখানকার রাজনীতির দন্ডমূন্ডের কর্তা হবেন এড জামিল হাসান দুর্জয় এতে সন্দেহ নেই।এখানকার মিল ইন্ডাস্ট্রিসহ অর্থনৈতিক জোনগুলো নিয়ন্ত্রণ করবেন তিনি।কমিটিগুলো হবে তার নিজের মত করে।তবে তার পাশে থাকবে ইন্ডাস্ট্রি ব্যবসার বিশাল চক্র।প্রকৃত ত্যাগী দলিয় ব্যক্তিরা তার কাছে পাত্তা পাবেন না।এসবের দায়ভার বহন করতে হবে অধ্যাপিকা রুমানা আলী টুসি এমপিকে।

এখানকার রাজনীতি, ব্যবসা কুক্ষিগত করে রাখতে গিয়ে সৃষ্টি হবে বঞ্চিত মানুষের কাফেলা।সৃষ্টি হবে জনরোষ।আর এসব বঞ্চিত মানুষের কাফেলার একাংশ মিলিত হবে ইকবাল হোসেন সবুজের রাজনীতিতে এবং এর বেশিরভাগ অংশ মিলিত হবে শ্রীপুরের পৌর মেয়র আনিছুর রহমান ও সদ্য পরাজিত সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল বিএ'র মঞ্চে।

এদের সমন্বয়ে এক সময় এখানে আত্মপ্রকাশ ঘটবে তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি।আর সেই শক্তির মঞ্চেই ২৯ সালে রচিত হবে মনোনয়নে পরিবর্তনের নতুন ইতিহাস।কারন সাবেক ও বর্তমান নেতৃত্ব নানাবিধ বিতর্কে জড়িয়ে জনপ্রিয়তা হারাবে।কেন্দ্রে বিতর্কিত হবে।জনগন ক্ষুব্ধ হবে।উন্নয়ন বঞ্চিত হবে।ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক পদ হারাবে।উত্তাল জনজোয়ার সৃষ্টি হবে প্রার্থি পরিবর্তনের দাবি নিয়ে।আর সেই প্রেক্ষাপটে আসবে এমপি হওয়া দুই পরিবারের বাইরে তৃতীয় শক্তির অভ্যূদ্বয়।

এদিকে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের পর এমপি সবুজের যে সমস্ত শীর্ষ নেতা পদ ধরে রাখতে, ব্যবসা ঠিক রাখতে এবং পরবর্তি কমিটি গঠন হলে যাতে চেয়ারটা ঠিক থাকে মনে করে নেতা পরিবর্তন করেছিলেন তাদের কেউ আর ক্ষমতার পাদপ্রদ্বীপে থাকবেন না।সময়ের প্রয়োজনে বর্তমান ক্ষমতাসীনরা তাদের ব্যবহার করলেও এখন ছুঁড়ে ফেলার সময় সমাগত।তাদের রাজনৈতিক জীবনের অবসান ঘটবে।শুধু নামের পাশে যোগ হবে সাবেক শব্দটি।

আরও খবর