Logo
শিরোনাম

শিরক থেকে দূরে থাকতে হবে

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৪ ডিসেম্বর ২০২২ |
Image

শিরক একটি আরবি শব্দ যার অর্থ অংশ। ইসলামী পরিভাষায় সর্বশক্তিমান আল্লাহতায়ালার সঙ্গে কাউকে শরিক করা, কাউকে তাঁর সমকক্ষ ভাবা কিংবা অংশীদার করাকে শিরক বলে।

এটি একটি জঘন্য অপরাধ এবং কবিরা গুনাহ। মহান সর্বশক্তিমান আল্লাহতায়ালা শিরককে বড় মিথ্যা এবং জুলুম বলে আখ্যায়িত করেছেন। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসে বলা হয়েছে- আল্লাহ তার বান্দার যে কোনো গুনাহকে ক্ষমা করে দেন। কিন্তু শিরকের গুনাহকে ক্ষমা করেন না। আমাদের সমাজে আল্লাহতায়ালার সঙ্গে বিভিন্নভাবে এবং বিভিন্ন পন্থায় শিরক করা হয়ে থাকে। মানুষ পাথর, অগ্নি, গাছ ও কবর পূজা ইত্যাদির মাধ্যমে শিরক করে। তা ছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি-বাকরি, বিবাহশাদি, রোগ-শোক, আয়-রোজগার ইত্যাদির ক্ষেত্রেও বিভিন্নভাবে এবং বিভিন্ন পন্থায় শিরক করা হয়। শিরক চার ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। ১. আল্লাহর মূল সত্তায় শিরক, ২. আল্লাহর গুণাবলিতে শিরক, ৩. আল্লাহর অধিকারে শিরক, ৪. আল্লাহর এখতিয়ারে শিরক। পবিত্র কোরআনে শিরকের পরিণাম সম্পর্কে সতর্ক করে বলা হয়েছে- এটি একটি ক্ষমাহীন অপরাধ।

ইরশাদ করা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন না, যে তার সঙ্গে কাউকে শরিক করে। এ ছাড়া যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন এবং কেউ আল্লাহর সঙ্গে শরিক করলে সে ভীষণভাবে পথভ্রষ্ট হয়। তারা তার পরিবর্তে শুধু দেবীরই পূজা করে এবং বিদ্রোহী শয়তানের পূজা করে।’ (৪-সুরা নিসা : ১১৬-১১৭)। যারা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে উপাস্য হিসেবে মানে তারা পথভ্রষ্ট। ইরশাদ করা হয়েছে- স্মরণ কর, যখন ইবরাহিম তার পিতা আজরকে বললেন : ‘তুমি কি প্রতিমাগুলোকে উপাস্য মনে কর? আমি দেখতে পাচ্ছি যে, তুমি ও তোমার সম্প্রদায় প্রকাশ্য পথভ্রষ্ট।’ (৬ সুরা আনয়াম : ৭৪)। আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তার ইবাদতের জন্য। শিরকমুক্ত ইবাদতের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর সন্তুষ্টি বিধান করতে পারে।

সর্বশেষ ও শ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশিত পথে আল্লাহর ইবাদত করতে হবে। হজরত আদম (আ.)-এর মাধ্যমে দুনিয়ার বুকে প্রথম নবীর আগমন, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমনের মাধ্যমে পৃথিবীতে নবী রসুলের আগমন পর্বের সমাপ্তি টানা হয়েছে। মহানবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর পৃথিবীতে আর কোনো নবী আসবেন না। তিনি হলেন বিশ্ববাসীর জন্য মনোনীত নবী।

কেয়ামত পর্যন্ত যত মানুষ পৃথিবীতে আসবে তারা তার উম্মতের মধ্যেই গণ্য হবে। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর পথে মানুষকে ডাকার এ মহান জিম্মাদারি তার উম্মতের মধ্যে যারা কোরআন হাদিসের জ্ঞানে জ্ঞানী তাদের ওপর দিয়েছেন। মহানবীর আগে যে হাজার হাজার নবী রসুল এসেছেন তাদের বিশেষ সম্প্রদায়ের নবী রসুল হিসেবে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু আখেরি নবীর আগমন ঘটেছে সমগ্র মানবজাতির জন্য। ইরশাদ করা হয়েছে- ‘হে নবী আমি তোমাকে সারা বিশ্বের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছি।’ (২১ সুরা আম্বিয়া : ১০৭)।


আরও খবর

হজ ব্যবস্থাপনায় আসছে পরিবর্তন

শনিবার ১২ নভেম্বর ২০২২




নওগাঁয় এমপি পুত্র রকিকে লক্ষ্য করে হেলমেট বাহীনির ককটেল হামলা

প্রকাশিত:সোমবার ২১ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৪ ডিসেম্বর ২০২২ |
Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, স্টাফ রিপোর্টারঃ


নওগাঁর মহাদেবপুরে এমপি পুত্র ও যুবলীগ নেতাকে লক্ষ্য করে ককটেল হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার ২১ নভেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টারদিকে মহাদেবপুর উপজেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ের পাশে অবস্থিত বুলবুল সিনেমা হলের সামনে এ ঘটনা ককটেল হামলার ঘটনা ঘটে। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, জাতীয় সংসদ-৪৮, নওগাঁ-৩ মহাদেবপুর- বদলগাছী আসনের এমপি আলহাজ্ব মোঃ ছলিম উদ্দিন তরফদার সেলিম এর পুত্র ও মহাদেবপুর উপজেলা যুবলীগের অন্যতম সদস্য সাকলাইন মাহমুদ রকি এবং মহাদেবপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও তরুন সমাজ সেবক মোঃ সাঈদ হাসান তরফদার শাকিল স্থানীয় যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ এবং ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দদের নিয়ে প্রতিদিনের মতো ঐ স্থানে মত বিনিময় করছিলেন। এ সময় ২ টি মোটরসাইকেল যোগে হেলমেট পড়া কয়েকজন এসে যুবলীগ নেতা সাকলাইন মাহমুদ রকি ও সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাঈদ হাসান তরফদার শাকিলকে লক্ষ্য করে ৩টি ককটেল নিক্ষেপ করে দুষ্কৃতকারীরা মটরসাইকেল যোগে পালিয়ে যায়।


ককটেল গুলো ঘটনাস্থলে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে লেগে বিকট শব্দে বিষ্ফোরন ঘটে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি বলে পুলিশ জানায়। যুবলীগ নেতাকে লক্ষ্য করে ককটেল হামলার ঘটনার প্রতিবাদে তৎক্ষনিক আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ ও ছাত্রলীগের বিক্ষুদ্ধ কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌছে নওগাঁ-নজিপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু করেন। ঘটনার খবর পেয়ে মহাদেবপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে বিক্ষোভকারীদের শান্ত করেন এবং অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাফ্ফর হোসেনের বলেন, ঘটনার পর থেকেই থানা পুলিশের কয়েকটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শণ সহ হামলাকারীদের গ্রেফতার পূর্বক আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে।


আরও খবর



নওগাঁয় বিজিবি'র উপর হামলা, মূলহোতা বাবা ও ছেলেকে আটক

প্রকাশিত:সোমবার ০৭ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৪ ডিসেম্বর ২০২২ |
Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, স্টাফ রির্পোটারঃ


নওগাঁর সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাকারবারি কর্তৃক বিজিবি'র টহল দলের উপর হামলার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত বাবা ও ছেলেকে আটক করেছে র‌্যাব-৫, সিপিসি-৩, কাম্পের চৌকস অভিযানিক দল। আটককৃতরা নওগাঁর পার্শ্ববর্তী জয়পুরহাট জেলার সীমান্ত দিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে পালানোর সময় র‌্যাব তাদের আটক করেন।

সত্যতা নিশ্চিত করে র‌্যাব-৫, সিপিসি-৩, জয়পুরহাট কাম্প থেকে প্রতিবেদককে জানানো হয়, র‌্যাব-৫, সিপিসি-৩, জয়পুরহাট ক্যাম্পের বিশেষ অভিযানে বিজিবি সদস্যদেরকে কুপিয়ে গুরুতর জখমকারী দু' জন প্রধান আসামি বাবা ও ছেলেকে গ্রেফতার পূর্বক থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। র‌্যাব আরো জানায়,


গত শুক্রবার ৪ নভেম্বর বিজিবি জেসিও নায়েব সুবেদার মোঃ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ৩ জন অন্যান্য পদবীর সদস্য সহ ১৪ বিজিবি (পত্নীতলা) ব্যাটালিয়ন এর অন্তর্গত নওগাঁ জেলার ধামইরহাট উপজেলার সীমান্তবর্তী বস্তাবর সীমান্ত এলাকায় টহলে বের হয়। এবং রাত আনুমানিক সারে ৩ টারদিকে বস্তাবর সীমান্ত এলাকায় ৮/১০ জন অবৈধ মাদক ব্যবসায়ী মাদকদ্রব্য বহন করে নিয়ে আসতেছিল। এই দৃশ্য টহল টিমের নজরে আসলে দায়িত্বরত টহল টিম তাদেরকে আটক ও অবৈধ মাদক দ্রব্য উদ্ধারের চেষ্টা করলে এসময় আসামীগণ চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল, হাসুয়াসহ বিভিন্ন ধরণের ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে বিজিবি'র টহল কমান্ডার সহ ৩ জন বিজিবি সদস্যকে কুপিয়ে জখম করের। এর মধ্যে টহল কমান্ডার জেসিও নায়েব সুবেদার মোঃ মুজিবুর রহমানের অবস্থা আশংকাজনক। তার মাথা ও পিঠের গভীরে হাসুয়া ঢুকে যায়। অন্যান্য সদস্যদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত করে মাদক ব্যবসায়ীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে আক্রমনকারী মাদক চোরাকারবারীদের সনাক্ত করে নওগাঁ জেলার ধামইরহাট থানায় ১৪ বিজিবি (পত্নীতলা) ব্যাটালিয়ন ৭ জনের নাম উল্লেখ সহ অজ্ঞাত ৮/১০ জন চোরাকারবারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এরপর র‌্যাব এজাহারপ্রাপ্ত হয়ে র‌্যাব এর গোয়েন্দা শাখার সহায়তায় ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রাখে। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার ৭ নভেম্বর পূর্বরাতে জয়পুরহাট র‌্যাব ক্যাম্প কমান্ডার মেজর মোঃ মোস্তফা জামান, আর্টিলারি এর নেতৃত্বে একটি চৌকস আভিযানিক দল জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি থানাধীন ধুরইল সীমান্ত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় বিজিবি সদস্যদের উপর আক্রমনকারী ও ১নং এজাহার নামীয় প্রধান আসামি মোঃ রেজাউল করিম ওরফে গুপ্তা (৫৫), পিতা- মৃত তসির উদ্দিন এবং ২নং এজাহার নামীয় আসামী মোঃ মেহেদী হাসান ওরফে রাজু (২৫), পিতা- মোঃ রেজাউল করিম ওরফে গুপ্তা উভয় সাং- রসুলবিল (ধন্দুপাড়া), থানা-ধামুইরহাট, জেলা-নওগাঁদ্বয়কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় এবং গ্রেফতারকৃতদের দেয়া তথ্য ও দেখানো মতে একটি হাসুয়া উদ্ধার করেন র‌্যাব।

পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত আসামী বাবা ও ছেলেকে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নওগাঁ জেলার ধামুইরহাট থানায় জিডি মূলে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও নিশ্চিত করেছে র‌্যাব।


আরও খবর



কু‌মিল্লায় বি‌জি‌বি উ‌দ্যো‌গে দুস্থ‌দের মা‌ঝে কস্বল বিতরণ।

প্রকাশিত:শনিবার ২৬ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৪ ডিসেম্বর ২০২২ |
Image

নিজস্ব প্রতি‌বেদক ,কু‌মিল্লা ঃ

কু‌মিল্লায় শীতার্ত দুস্থ মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র হিসেবে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।  শনিবার বেলা ১১টার দিকে সদ‌রের কা‌লির বাজার না‌র্গিস আফজল বহুমুখী কা‌রিগ‌রি ক‌লেজে ১০‌বি‌জি‌বি উদ্যোগে  শীতার্ত মানুষের হাতে কম্বল তুলে দেওয়া হয়।                                                    কু‌মিল্লা ব‌্যাটা‌লিয়ন ১০ বি‌জি‌বি সেক্টর এর ব্যবস্থাপনায় কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এফআইজি কমান্ডারের পত্নী শামীমা সুলতানা, উপ-শাখা সীপকস্‌ (সেক্টর), কুমিল্লার ভারপ্রাপ্ত কোষাধক্ষ্য ও সমন্বয়কারী অফিসার তানিয়া ইসলাম ।

উল্লেখ্য, আগামীকালও কুমিল্লা ব্যাটালিয়নের (১০বিজিবি) সীমান্তবর্তী বিবিরবাজার বিওপি ও  আগামী ২৯ নভেম্বর সুলতান ব্যাটালিয়নের (৬০ বিজিবি) বড়জ্বালা বিওপির সীমান্তবর্তী দুঃস্থ্য মানুষের মাঝে উপ-শাখা সীপকস (সেক্টর), কুমিল্লার পক্ষ হতে কম্বল বিতরণ করা হবে।


আরও খবর



লালমনিরহাট ১৫ বিজিবির সীমান্তে

ভারতীয় বিএসএফর গুলিতে ২ জন বাংলাদেশী রাখাল নিহত

প্রকাশিত:বুধবার ০৯ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০৩ ডিসেম্বর ২০২২ |
Image

লালমনিরহাট প্রতিনিধি ঃ

লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর অধিনস্থ লোহাকুচি বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার ৯২১ হতে ৯২২ পর্যন্ত একটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। গত বছরে উক্ত এলাকায় একটি সীমান্ত দুঘর্টনা সংগঠিত হয়েছিল। বর্ণিত ঘটনার পর হতে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বারকে সম্পৃক্ত করে জনসাধারণের মধ্যে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা এবং সীমান্ত হত্যা প্রতিরোধে লিফলেট বিতরণ করা সহ এছাড়াও বিওপিতে জনবল বৃদ্ধি করে উক্ত এলাকায় টহল কার্যক্রম জোরদার করে আসছে।  তার পরেও  বিজিবি টহলদল গুলির শব্দ শুনতে পায় কিন্তু টহলদল উক্ত এলাকা তল্লাশী করে কাউকে খুঁজে পায়নি। পরবর্তীতে আনুমানিক ০৪০০ ঘটিকায় লোহাকুচি বিওপি কমান্ডার স্থানীয় সুত্রে জানতে পারে টহলরত বিজিবির চোখ ফাঁকি দিয়ে একদল চোরাকারবারী গরু চোরাচালানের চরকিসহ অন্য এলাকা দিয়ে সীমান্ত পিলার ৯২১/৬-এস হতে ১০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে চরকি স্থাপন করে গরু পারাপারের চেষ্টা করলে ৭৫ ব্যাটালিয়ন বিএসএফ এর কৈমারী ক্যাম্পের টহল দলের গুলিতে ০২ জন বাংলাদেশী নাগরিক গুরুত্বর আহত হয়। আহত চোরাকারবারীদের সাথে থাকা অন্য চোরাকারবারীরা তাদেরকে উদ্ধার করে নিজ বাড়ীতে নিয়ে আসে। পরবর্তীতে নিজ বাড়ীতে অবস্থানকালে মৃত্যুবরণ করে। নিহতরা হলেন  লালমনিরহাট জেলার (১) মোঃ ওয়েস কুরনী (৩৫), পিতা-মৃত সানোয়ার হোসেন, গ্রাম-মহিষতলী (২) মোঃ আয়নাল হক (৩৫), পিতা-সাদেক আলী, গ্রাম- তালুক দুলালী গ্রামে । সংবাদ পেয়ে বিজিবি টহলদল নিহতদের বাড়ীতে আসে এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সহায়তায় লাশ উদ্ধার করে। উক্ত ঘটনায় কোম্পানী কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের আহবান করা হয়েছে এবং ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে প্রতিবাদলিপি প্রেরণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন জানিয়ে মোবাইল ফোনে ৭১ টিভিকে নিশ্চিত করেন ১৫ বিজিবির হাবিলদার মেজবা উদদীন । এ বিষয়ে ১৫ বিজির সিও লে: কর্নেল তৌহিদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও এ বিষয়ে আর কোন কথা হয়নি। তবে আদিতমারি থানা পুলিশ প্রাথমিকভাবে লাশ দুটি ময়না তদন্তের জন্য আদিতমারি থানা নিয়ে যান ।ওসি মোক্তারুল জানান, ময়না তদন্তের জন্য লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হবে।


আরও খবর



জনবল সংকটে নওগাঁ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত

প্রকাশিত:রবিবার ১৩ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৪ ডিসেম্বর ২০২২ |
Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, স্টাফ রিপোর্টারঃ


প্রায় ২৮ লাখ মানুষের চিকিৎসার জন্য একমাত্র ভরসাস্থল নওগাঁ সদর ২৫০ শয্যা আধুনিক হাসপাতাল। এ হাসপাতালে প্রতিদিন আউটডোরে প্রায় ১ হাজার ৭শ’ জন ও ইনডোরে আরও ৩ শতাধিক রোগীর চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়। নওগাঁর ১১ উপজেলা ছাড়াও পাশের বগুড়া জেলার আদমদীঘি ও জয়পুরহাটের আক্কেলপুর থেকেও লোকজন আসেন এ হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে। কিন্তু আশানুরুপ সেবা না পাওয়ায় নওগাঁ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা।

এ জেলার মানুষকে উন্নত চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয় হাসপাতাল টি। তবে আগের ১০০ শয্যা হাসাপাতালের যে জনবল সেটা দিয়েই ২৫০ শয্যার কার্যক্রম চলছে এখনো। এতে করে রোগীদের চাপে হিমশিম খাচ্ছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সরা। আর উন্নত চিকিৎসা সেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন মানুষ।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ১০০ শয্যার হাসপাতালে উপ-পরিচালক, শিশু, মেডিসিন, সার্জারি, ফরেনসিক, চক্ষু, অর্থোপেডিকস, রেডিওলজি ইমেজিং, কার্ডিওলজি, চর্ম ও যৌন, গাইনি এ্যান্ড অবস, নাক-কান-গলা, প্যাথলজি, নিউরোসার্জারি, নেফ্রোলজি, ও মেডিকেল অফিসারসহ মোট ৪৫ চিকিৎসকের মধ্যে আছেন মাত্র ৩২ জন। ৮৬ জনের মধ্যে নার্স রয়েছেন ৭৮ জন। বর্তমানে ১৩ জন মেডিকেল অফিসার দিয়ে আউটডোর ও ইনডোরে সেবা দেয়া হচ্ছে। 

প্রতিদিন আউটডোরে প্রায় ১৬/১৭শ’ এবং ইনডোরে প্রায় ৩ শতাধিক রোগীর চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়।

এছাড়াও ১০০ শয্যার জন্য মঞ্জুরি করা পদের মধ্যে সিনিয়র কনসালটেন্ট মেডিসিন, চক্ষু, অর্থোপেডিকস ও রেডিওলজি ইমেজিং, জুনিয়র কনসালটেন্ট গাইনি এ্যান্ড অবস, মানসিক, প্যাথলজি ও নেফ্রোলজি, ডেন্টাল সার্জন, মেডিকেল অফিসার চক্ষু, রেডিওলজিস্ট এবং ইনডোর মেডিকেল অফিসার কার্ডিওলজি ও মেডিসিন প্রতি পদে একটি করে শূন্য রয়েছে। হাসপাতাল পরিচালনার জন্য ১৭৬ মঞ্জুরি পদের বিপরীতে জনবল আছে ১২১ জন।

নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, র্দীঘ লাইনে দাঁড়িয়ে চিকিৎসা সেবা না পেয়ে অনেক সেবা প্রত্যাশীরা বাধ্য হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। আবার অনেকে বেড না পেয়ে মেঝে এমনকি বারান্দায় ভর্তি হয়ে চিকিৎসা সেবা গ্রহন করছেন। অন্যদিকে, রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন হাসপাতালের দায়িত্বরতরা। অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতাল থেকে রোগীদের ওষুধ সরবরাহের পাশাপাশি বাড়তি ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হয়।

ইনডোরে রোগী দেখার পর ডাক্তার আউটডোরে গিয়ে রোগী দেখা শুরু করেন। এতে হাসপাতালের আউটডোরে চিকিৎসা সেবা নিতে আসাদের দীর্ঘসময় অপেক্ষা করতে হয়। আবার চিকিৎসক না থাকায় হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে সেবা নিতে আসা রোগীদেরও।

নওগাঁর নিয়ামতপুর থেকে পায়ের চিকিৎসা করাতে এসেছেন রমজান আলী। তার সঙ্গে আসা মেয়ে নিলুফা খাতুন বলেন, অর্থোপেডিক ডাক্তারের কক্ষের সামনে এতই ভিড় বাবাকে যে পাশে কোথাও বসিয়ে রাখবো সেই ব্যবস্থাও নেই। ২ ঘণ্টা অপেক্ষা করেও বাবাকে ডাক্তার দেখাতে পারিনি। বাধ্য হয়ে বাসায় ফিরে যাচ্ছি। অন্যকোনো দিন আবার আসবো আর না হয় রাজশাহীতে নিয়ে যাবো।

একই অবস্থা মেডিসিন বিভাগের সামনেও, দীর্ঘ লাইনে প্রায় ৫০-৬০ জনের মত সেবাপ্রত্যাশী দাঁড়িয়ে আছেন। আমেনা বেগম নামে এক সেবা প্রত্যাশী বলেন, দুইদিন হলো ঘুরে গেলাম। সেই সকাল ১০টায় এসেছি এখন ১২টা বেজে গেল। কিন্তু এখনও ডাক্তারের কাছে যেতেই পারলাম না। অনেকে বাধ্য হয়ে ফিরে গেছে। আমি চলে যাবো। আর কিছুক্ষণ এভাবে দাঁড়িয়ে থাকলে আমি আরও অসুস্থ্য হয়ে পড়বো। একসাথে তিন -চারটি কক্ষে যদি মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা রোগী দেখতেন, তাহলে এতো ভোগান্তি পোহাতে হতো না।

হাসপাতালের নতুন ভবনের সার্জারী ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, অনেকে মেঝেতে ও বাড়ান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। কামরুল হোসেন নামে একজন বলেন, আমার ভাইকে ভর্তি করা হয়েছে। বেড সংকট তাই মেঝেতেই চিকিৎসা সেবা নিতে হচ্ছে। কি আর করার, বাধ্য হয়েই এসেছি সরকারি হাসপাতালে।

রেনুকা বেগম নামে এক রোগী বলেন, বেড নাই তাই বারান্দা থেকেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। চিকিৎসা পাওয়াতো আমাদের মৌলিক অধিকার। কিন্তু চিকিৎসাটাও ভালো ভাবে পাই না আমরা। বারান্দায় এভাবে থাকা যে কতটা কষ্টের, তা বুঝাবো কি করে? টাকা খরচ করে প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা করার মত সামর্থ্য নেই। তাই বাধ্য হয়েই এখানে থেকেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর থেকে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে মিলাদুল ইসলাম এসে ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছেন। তিনি বলেন, হঠাৎ করে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। হাসপাতাল থেকে কিছু ওষুধ দেয়া হয়েছে। আর বেশি ভাগ ওষুধ বাইরে থেকেই কিনতে হয়েছে।

নওগাঁ নাগরিক কমিটির সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট এ.কে.এম ফজলে রাব্বী বকু জানান, ২৮ লাখ মানুষের ভরসা নওগাঁ সদর হাসপাতাল। চিকিৎসক সংকটের কারণে যদি কেউ সময়মত সেবা না নিতে পারে তাহলে এর চেয়ে দুঃখজনক কি আর হতে পারে। হাসপাতালে যদি সেবার মান ভালো না হয় তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে সেবা নিতে? চিকিৎসক সংকটসহ হাসপাতালের সার্বিক সমস্যা দূর করে যেন সেবার মান বৃদ্ধি করা হয় সেই দাবি জানান তিনি।

নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক (উপ-পরিচালক) ডা. জাহিদ নজরুল চৌধুরী জানান, ২৫০ শয্যা বলা হলেও ১০০ শয্যার হাসপাতাল চালাতে যে পরিমাণ জনবল দরকার তাও এখানে নেই। এতে করে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিদিন আউটডোরে প্রায় ১৬শ' জন ও ইনডোরে প্রায় ৩ শতাধিক রোগীর চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে।

তিনি আরো জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জন্য প্রশাসনিক অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সেবার মান বৃদ্ধির জন্য চাহিদা পত্রের মাধ্যমে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। আশা করছি চাহিদা গুলোর অনুমোদন পেলে ডাক্তার, সেবিকা, ওষুধ ও অবকাঠামো সহ সার্বিকভাবে সেবার মান আরো ভালো হবে বলে জানান তিনি।


আরও খবর