Logo
শিরোনাম
শবে বরাত পালন মুসলিম জাতিকে একতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে। ৫৭ তম খোশরোজ শরীফ ও মইনীয়া যুব ফোরামের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন বাঙালি সাংস্কৃতিতে মাইজভাণ্ডারী ত্বরীকার সাথে সম্পর্ক রয়েছে সীমান্তে হত্যা বন্ধের দাবীতে প্রতীকী লাশ নিয়ে হানিফ বাংলাদেশীর মিছিল লক্ষ্মীপুরে কৃষক কাশেম হত্যা: স্ত্রী, শ্বশুরসহ গ্রেপ্তার ৫ কুমিল্লা সিটি’র উপনির্বাচন: মেয়র পদে প্রতীক বরাদ্দ অবৈধ মজুদকারীরা দেশের শত্রু : খাদ্যমন্ত্রী ফতুল্লায় সিগারেট খাওয়ার প্রতিবাদ করায় কিশোরকে পিটিয়ে হত্যা বকশীগঞ্জে মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা নোবিপ্রবিতে সিএসটিই এলামনাই এসোসিয়েশনের নতুন কমিটি গঠন

স্কুল ছাত্রীকে যৌন হয়রানির, গ্রেফতারকৃত সেই শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত

প্রকাশিত:রবিবার ০৪ ডিসেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ |

Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, স্টাফ রিপোর্টারঃ


নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার মেরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির মামলায় গ্রেফতার বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হাফিজুর রহমান কে (৫২) সাময়িক বরখাস্ত হয়েছে। নওগাঁ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সিদ্দীক মোহাম্মদ ইউসুফ রেজা স্বাক্ষরিত এক পত্রে শিক্ষক হাফিজুরকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্তকৃত শিক্ষক হাফিজুর উপজেলার মেরিয়া পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত আশেক আলীর ছেলে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শিক্ষক হাফিজুর বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নানাভাবে যৌন হয়রানি করে আসছিল। এ ঘটনায় ওই শিক্ষকের যৌন হয়রানির অভিযোগে কয়েকবার মিটিং করে তাকে সর্তকও করা হয়। এরইমধ্যে গত ২০ নভেম্বর ওই স্কুলের পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ুয়া এক ছাত্রীকে শিক্ষক হাফিজুর যৌনপীড়ন করেন। এরপর ওই শিক্ষার্থী বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি পরিবারকে জানায়। ভূক্তভোগীর পরিবারের লোকজন ঘটনাটি বিভিন্ন জায়গায় জানিয়েও কোন সুরহা না পেয়ে ঘটনাটি গ্রামের লোকজনদের জানালে ওই শিক্ষকের আরো কয়েকজন শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি করার বিষয় উঠে আসে। এরপর স্থানীয়া গ্রামের লোকজন ঘটনাটি নিয়ে গত ২৭ নভেম্বর রবিবার সকালে বিদ্যালয়ে গিয়ে ওই শিক্ষকের বিচারের দাবিতে বিদ্যালয় ঘেরাও করে তাকে অবরুদ্ধ করে। 

পরে খবর পেয়ে রাণীনগর থানা পুলিশ ও উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় ৫ ঘন্টা পর শিক্ষককে শাস্তির আশ্বাস দিয়ে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এদিন রাতেই ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীর বাবা বাদি হয়ে শিক্ষক হাফিজুরকে আসামি করে থানায় যৌনপীড়নের মামলা দায়ের করলে থানা পুলিশ শিক্ষককে গ্রেফতার দেখিয়ে সোমবার আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠায়।

সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে রাণীনগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন জানান, স্কুল ছাত্রীকে যৌন হয়রানির মামলায় শিক্ষক হাফিজুর গ্রেফতার হয়ে জেল হাজতে থাকায় তাকে বৃহস্পতিবার ১ ডিসেম্বর জেলা শিক্ষা অফিসার সাময়িক বরখাস্ত করেছে। রবিবার বরখাস্তের অফিস আদেশের পত্রটি পেয়েছি। 


আরও খবর



একুশে ফেব্রুয়ারি ঘিরে নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই

প্রকাশিত:সোমবার ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ |

Image

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহীদ দিবসকে ঘিরে কোনো ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমান।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, এই মুহূর্তে আমাদের কাছে কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই। তারপরও পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের নিরাপত্তা হুমকি বিশ্লেষণ করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বইমেলায় রয়েছে। সেখানে একটা কন্ট্রোল রুম স্থাপন করে ক্যামেরার মাধ্যমে সব ধরনের সিকিউরিটি ইকুইপমেন্ট এবং সিকিউরিটি ইউনিট কাজ করছে।

 তিনি আরো বলেন, আইন-শৃঙ্খলা ভঙ্গের মতো কোনো পরিস্থিতি তৈরি হলে পুলিশ সবসময় প্রস্তুত রয়েছে। একুশে ফেব্রুয়ারি যেহেতু গভীর রাত এবং ঢাকা শহরের মানুষ এদিকে আসবেন তাই যানজট নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কিছুকিছু জায়গায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রিত থাকবে। কোনো কোনো জায়গা দিয়ে গাড়ি একদিকে ঢুকতে পারবে। সাধারণত পলাশীর মোড় দিয়ে শহীদ মিনারে আসার রাস্তাটা রাখা হয়েছে। বের হওয়ার রাস্তাটাও নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

পুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমান বলেন, যারা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আসবেন তাদের প্রতি আমাদের অনুরোধ, সবাই পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এখানে আসবেন এবং শৃঙ্খলা মেনে চলবেন। সব নাগরিকের কাছ থেকে পুলিশ সহনশীল আচরণ প্রত্যাশা করে।


আরও খবর



অবৈধ দখল উচ্ছেদ শুরু প্যারিস খালের

প্রকাশিত:শুক্রবার ০২ ফেব্রুয়ারী 2০২4 | হালনাগাদ:শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪ |

Image

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী রাজধানীর মিরপুরের প্যারিস খালে অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অভিযান শুরু করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম।

শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এই কার্যক্রম শুরু হয়। এতে সহযোগিতা করতে যুক্ত হয়েছেন বিডি ক্লিনের ১২শ স্বেচ্ছাসেবী।

এর আগে, স্বেচ্ছাসেবীদের শপথ বাক্য পাঠ করান মেয়র আতিকুল ইসলাম। গত বুধবার মিরপুরের প্যারিস খাল পরিদর্শনে গিয়ে খাল উদ্ধারে অভিযানের কথা জানান ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম।

তিনি বলেছিলেন, খালটির প্রস্থ থাকার কথা ৪০ ফিট। কিন্তু বাসাবাড়ির ময়লা ও দখলদারদের কারণে এখন কোথাও ২২ ফিট, কোথায় ১৮ ফিটে নেমে এসেছে। আশেপাশের বাসার সুয়ারেজের ময়লাও এখানে ফেলা হয়। খাল রক্ষায় এলাকাবাসীকে সচেতন হতে হবে।

মেয়র আরও বলেছিলেন, ময়লা ও দখলমুক্ত করে মিরপুর প্যারিস খাল আগের রূপে ফেরানো হবে। এই খাল পরিষ্কার হলে মেয়র এবং কাউন্সিলররা কিন্তু এর সুফল ভোগ করবে না। এর সুফল ভোগ করবে এলাকাবাসী। আপনাদের সকলের জন্যই এই খাল পরিষ্কার করা হবে।


আরও খবর

ফুটপাতের চাঁদার টাকা খায় কারা ?

সোমবার ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

বায়ুদূষণে নীরবে ধুঁকছে ঢাকা

শুক্রবার ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




নওগাঁর জহুরুল জিরা চাষে সফল, জিরা চাষে আগ্রহী অন্য কৃষকরা

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪ |

Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, সিনিয়র রিপোর্টার :

নওগাঁয় কৃষক জহুরুল ইসলামের জিরা চাষ করা দেখে অন্য কৃষকরাও জিরা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। দেশে জিরার চাহিদার পুরোটায় আমদানী করা হয় বিদেশ থেকে। আর এই মূল্যবান জিরা চাষ করে এলাকার লোকজন তথা কৃষকদের মাঝে সাড়া ফেলেছেন নওগাঁর রানীনগর উপজেলার শিয়ালা গ্রামের কৃষক জহুরুল ইসলাম। কৃষক জহুরুল ইসলাম এর পরীক্ষা মূলক জিরা চাষ দেখে আগ্রহ বাড়ছে অন্য কৃষকদেরও।

এক সময় এ গ্রামের মাঠ-জুড়ে দেখা যেত সবজির খেত। এখন সেই মাঠে চোখে পড়ে মসলা জাতীয় ফসলের খেত। এই ফসলের (জিরা) চাষ করেই চমক দেখিয়েছেন কৃষক জহরুল ইসলাম।নওগাঁর রানীনগর উপজেলার গ্রামের নাম শিয়ালা। জিরা মসলা জাতীয় ফসল। দেশে জিরার চাহিদার পুরোটায় আমদানি নির্ভর। আর সেই মূল্যবান জিরা চাষ শুরু করেছেন কৃষক জহরুল ইসলাম। এই গ্রামের তার এই পরীক্ষা মূলক জিরা চাষ দেখে আগ্রহ বাড়ছে স্থানীয় অন্য কৃষকদেরও। এই অঞ্চলে মসলা ফসল জিরা চাষে কৃষক পাবে বিকল্প পথ এমনটাই আশা করছেন স্থানিয় সচেতন মহল।

প্রাচীনকাল থেকেই রান্নার স্বাদ ও ঘ্রাণ বাড়াতে জিরা ব্যবহার করা হয়ে আসছে। জিরা শুধু রান্না কাজে মশলা হিসেবে ব্যবহার হয় না, বহু রকমের বিশেষ ঔষধী গুণ সম্পন্ন জিরা। এটি শুধু খাবারের স্বাদ বাড়ায় তা নয়, শরীরের নানা সমস্যা সমাধানে জিরার জুড়িমেলা ভার।

কৃষক জহুরুল ইসলাম বিভিন্ন সময় দেশী ও বিদেশী সবজী চাষ করে থাকেন। হঠাৎ কয়েক বছর থেকে বাজারে জিরার দাম আকাশ ছোয়া অর্থাৎ বেশি হওয়ায় জহুরুল ইসলাম সবজীর পাশাপাশি জিরা চাষে উদ্বুদ্ধ হোন। এরপর অনলাইনে চাষাবাদ প্রদ্ধতি দেখতে শুরু করেন এবং অনেক চেষ্টা করে অনলাইন এর মাধ্যমে ভারত থেকে প্রায় ১ হাজার টাকা খরচ করে ৫০০ গ্রাম জিরা বীজ সংগ্রহ করেন। এরপর স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শে ৯ শতক জমিতে এই জিরা বীজ রোপণ করেন। বর্তমানে জহুরুল ইসলাম এর জিরা গাছে ফুল ও জিরা আসতে শুরু করেছে। তিনি পরীক্ষা মূলক জিরা চাষে অনেকটা সফল হওয়ায় স্থানীয় কৃষদের মধ্যেও জিরা চাষে আগ্রহ বাড়ছে।

কৃষক জহুরুল ইসলাম বলেন, প্রথমে বীজ সংগ্রহের পর পানিতে ৩০টি জিরা বীজ ভিজে টিস্যুর মধ্যে রেখে পরীক্ষা করি, কি পরিমান গাছ গজাবে। পরে ৩০টির মধ্যে ২৫টি গাছ ওঠে গেছে। এর পরই ৯ শতক জমি হালচাষ ও সার ছিটিয়ে বীজ রোপন করি। বীজ রোপনের ৮ থেকে ১০ দিনের মধ্যে জিরা গাছগুলো উঠতে শুরু করে। পরে বৃষ্টির কারনে কিছু গাছ নষ্ট হয়ে যায়। বাকি গাছগুলো ভালো করে যত্ন নেয়া শুরু করি।

তিনি আরো বলেন, যেভাবে সরিষার চাষ করা হয় একই রকমভাবে জিরা চাষ করেছি। এরই মধ্যে গাছে ফুল ও জিরা ধরতে শুরু করেছে। গাছে যতগুলো ফুল, ততগুলোই জিরা ধরছে। হিসেব করে দেখছি যেভাবে জিরা ধরছে তাতে ৯ শতক জমি থেকে ২০ থেকে ২২ কেজি জিরা পাওয়া যাবে। বাজারে জিরার দাম ভালো থাকায় যার বাজার মূল্যে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করতে পারিব। তাতে জিরা চাষ একটি লাভজনক ফসল মনে হয়েছে। তবে জিরা চাষ শীতকালে ভালো হয়। বীজ বপণের ৩ থেকে সারে ৩ মাস সময় লাগে জিরা ঘরে উঠতে। এবছর পরীক্ষা মূলক ভাবে জিরা চাষ সফল দাবি করে আগামীতে আরো বড় পরিসরে জিরা চাষাবাদের পরিকল্পনা করছেন বলে জানান কৃষক জহুরুল ইসলাম।

স্থানীয় তানজিব হোসাইন নামে কৃষক পরিবারের যুবক বলেন, জহরুল ভাই নতুন ফসল জিরা চাষ করেছেন। জিরা চাষ ইতি পূর্বে আমরা কখনো দেখিনি। প্রথম হলেও খুব সুন্দর তার জিরার গাছ হয়েছে। বাজারে জিরার দাম ভালো রয়েছে। চিন্তা করছি তার দেখাদেখি আমরাও জিরা চাষ করবো এবং জিরা চাষ করে লাভবান হওযার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অপর কৃষক মোফাজ্জল হোসেন বলেন, আমাদের এই এলাকায় জিরা চাষ প্রথম হিসেবে মোটামুটি গাছ ভালোই হয়েছে জহুরুলের। শুনলাম তার এই জমিতে ২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে আর পাবে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা মতো। কৃষি বিভাগ থেকে সহযোগিতা করলে আমরাও জিরা চাষ করবো।

জিরা চাষ বিষয়ে নওগাঁর রানীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফারজানা হক বলেন, জহুরুল ইসলাম উদ্যোগী একজন কৃষক। তিনি নতুন ফসল হিসেবে জিরা পরীক্ষা মূলক ভাবে চাষ করেছেন। তার জিরা চাষ কৃষি বিভাগ সার্বক্ষনিক নজরদারী করছে। আমরা শেষ পর্যন্ত এটার ফলন কেমন হয় সেটা দেখবো। তিনি জিরা চাষে সফল হলে উঠান বৈঠক, সভা, সেমিনার করে অপর কৃষকদের জিরা চাষে উদ্বুদ্ধ করা হবে।

তিনি আরো বলেন, দেশে যে পরিমাণ জিরার চাহিদা তার পুরোটাই আমদানী করতে হয়। জিরা মসলা এখনও বাংলাদেশ আমদানী নির্ভর। তাই এই জিরা চাষে সফল হলে কৃষিতে বানিজ্যকরন ও জিরা উৎপাদন করে আমদানীর পরিমাণ কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করেন কৃষি কর্মকর্তা।


আরও খবর



অস্ত্র প্রতিযোগিতা বন্ধ করে জলবায়ু তহবিলে অর্থ দিন

প্রকাশিত:শনিবার ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ |

Image

অস্ত্র প্রতিযোগিতা বন্ধ করে সেই অর্থ জলবায়ু তহবিলে দেওয়ার জন্য বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় তিনি বিশ্বনেতাদের কাছে ছয় দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থহীন অস্ত্র প্রতিযোগিতা বন্ধ করতে হবে। এর পরিবর্তে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় তহবিল সংগ্রহের জন্য সম্পদের সংস্থান করা দরকার। আমাদের মনে রাখতে হবে যে, মানবতার অস্তিত্ব যখন হুমকির মুখে পড়বে, তখন সংকীর্ণ স্বার্থ রক্ষার পথ অনুসরণ করলে তা কোনো সুফল বয়ে আনবে না।

শুক্রবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) জার্মানিতে মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্স ২০২৪-এ ‌ফ্রম পকেট টু প্ল্যানেট: স্কেলিং আপ ক্লাইমেট ফাইন্যান্স শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় তিনি তার প্রস্তাবিত পরামর্শে এসব কথা বলেন।

ছয়টি পরামর্শ তুলে ধরার সময় তার প্রথম পরামর্শ উপস্থাপন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের সঠিক পথে রাখতে জলবায়ু অর্থায়নের বরাদ্দ ছাড় করার সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। উন্নত দেশগুলোকে পরিকল্পনার ভিত্তিতে ২০২৫ সাল পর্যন্ত দুই বছরে প্রতি বছর ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রদানের প্রতিশ্রুতি মেনে চলতে হবে।

তিনি বলেন, এই বছরের শেষ নাগাদ, আমাদের সবাইকে অবশ্যই বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে বিশেষ করে ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ওপরে ২০২৫-পরবর্তী একটি নতুন জলবায়ু অর্থায়ন লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে একমত হতে হবে।

তার দ্বিতীয় প্রস্তাবে শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বকে যুদ্ধ ও সংঘাত, অবৈধ দখলদারিত্ব এবং নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিকদের বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নির্মম হত্যাকাণ্ড থেকে পরিত্রাণ পেতে হবে যা গাজা ও অন্যত্র বিশ্ববাসী প্রত্যক্ষ করছে।

তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা ও পাল্টা নিষেধাজ্ঞার প্রভাব সংঘাতের অনুভূতির বোধ থেকেও অনেক দূরে অনুভূত হয়।

তার তৃতীয় পরামর্শে তিনি বলেন, জলবায়ুর প্রভাব প্রশমন ও অভিযোজনের জন্য অর্থায়নের তীব্র ভারসাম্যহীনতা দূর করার জন্য অভিযোজন অর্থায়নের বর্তমান পর্যায় অন্তত দ্বিগুণ করা প্রয়োজন।

এ লক্ষ্যে অভিযোজনে সহায়তার জন্য বাংলাদেশকে ১ বিলিয়ন ইউরো প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার জন্য তিনি ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁকে ধন্যবাদ জানান।

চতুর্থ পরামর্শে তিনি বলেন, বিদ্যমান আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিল থেকে উন্নয়নশীল দেশগুলির অর্থ প্রাপ্তি সুগম করার জন্য দীর্ঘকালের অমীমাংসিত সমস্যাটি তাদের সক্ষমতায় বিনিয়োগ করার সুযোগসহ সমাধান করতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে, গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড থেকে অর্থায়ন পাওয়ার জন্য আমাদের শুধু দুটি যোগ্য প্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং আরও দুটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তার পঞ্চম পরামর্শে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক অর্থায়নের ব্যবস্থাপনায় সংস্কারের ক্ষেত্রে বিশেষ করে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর ঋণের বোঝা দূর করতে তাদের জন্য অনুদান ও সুবিধাজনক ঋণ লাভের সুযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে অর্থপূর্ণ ফলাফল দেখাতে হবে।

সর্বশেষ ও ষষ্ঠ পরামর্শে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু কর্মসূচি জন্য বেসরকারি পুঁজি প্রবাহের জন্য সরকারগুলোকে সঠিক পরিকল্পনা, নীতি ও ব্যবস্থার ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করতে হবে। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রকল্পগুলোর জন্য বেসরকারি পুঁজি আকৃষ্ট করার জন্য উদ্ভাবনী, মিশ্র অর্থায়নের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, এটি সুস্পষ্ট যে, বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ ছাড়া জলবায়ু অর্থায়নের বিপুল পরিমাণ ঘাটতির কার্যকর সমাধান করা যাবে না।

শেখ হাসিনা বলেন, সকলেই জলবায়ু প্রভাব প্রশমন ও অভিযোজনে বিনিয়োগের জন্য আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়নের বর্তমান মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে।

তিনি বলেন, দুঃখের বিষয়, প্রতিশ্রুত জলবায়ু অর্থায়ন এখনও গুরুতরভাবে অপর্যাপ্ত। জলবায়ু অর্থায়ন এবং এর অ্যাকাউন্টিং পদ্ধতির বিষয়ে আন্তর্জাতিকভাবে সম্মত সংজ্ঞার অনুপস্থিতির কারণে এটি আরও জটিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি ২০০৯ সালে কোপেনহেগেনে কপ-১৫ চলাকালে শেষ মুহূর্তের সমাধান খুঁজে বের করার লক্ষ্যে নেতাদের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন এবং বুঝতে পেরেছিলেন যে, আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করা বেশ কঠিন হবে।

দেশে ফিরে যাওয়ার পর, তিনি স্থানীয়ভাবে অভিযোজন প্রকল্প গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড গঠনের উদ্যোগ নেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশকে এখন স্থানীয়ভাবে পরিচালিত জলবায়ু অভিযোজনের একটি পরীক্ষাগার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশ এ পর্যন্ত ৪৮ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয়ে প্রায় ৮০০ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে, সবগুলোই নিজস্ব সম্পদ থেকে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তবে, আমাদের জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রতি বছর যে ৭-৮ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন তার তুলনায় এটি এখনও অপর্যাপ্ত।

তিনি বলেন, বিষয়গুলোকে পরিপ্রেক্ষিত পরিকল্পনায় রাখার জন্য, জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি) অনুসারে প্রভাব প্রশমনের জন্য ২০৩০ সাল পর্যন্ত প্রায় ৬ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়ন প্রয়োজন বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অভিযোজনের জন্য ২০৩০ সাল পর্যন্ত বার্ষিক ২১৫-৩৮৭ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে। এটা সুস্পষ্ট যে, অর্থায়নের বিপুল ব্যবধান বিশ্বব্যাপী জলবায়ু সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।

শেখ হাসিনা বলেন, লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড চালু করার মাধ্যমে দুবাইতে কপ-২৮ একটি ইতিবাচক যাত্রা শুরু করেছে।

তিনি বলেন, আমরা সন্তুষ্ট যে, তহবিলের জন্য ৭৯২ মিলিয়ন ডলার প্রদানের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। আমরা আশা করি যে, তহবিলে অতিরিক্ত প্রতিশ্রুত অর্থ দেওয়া হবে।

অর্থায়নের সিদ্ধান্তের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে এখন লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ডের গভর্নিং বোর্ড গঠিত হয়েছে। তিনি প্যারিস চুক্তির নীতিমালা দ্বারা তহবিল পরিচালিত হওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ওডিএ এবং অন্যান্য ধরনের জলবায়ু অর্থায়নের বাইরে তহবিল অবশ্যই নতুন ও অতিরিক্ত অর্থ পাবে। গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে যে, লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড থেকে জলবায়ু অভিযোজনের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় অর্থ সংস্থান করা হয় না।

তিনি বলেন, তহবিলের পরবর্তী কাজ হল কার্যকর প্রকল্পের জন্য অর্থ ছাড় করা শুরু করা। তহবিল তাদের কাছে পৌঁছানো উচিত যাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।

সরকারপ্রধান বলেন, অর্থ ছাড় প্রক্রিয়া সহজ ও নমনীয় করা উচিত। আমরা আশা করি যে, তহবিলের পরিচালনা পর্ষদ এলডিসি এবং সিডস প্রতিনিধিদের মতামতের বিষয়ে যথাযথ মনোযোগ দেবে।

তিনি আরও বলেন, আমি অবশ্যই বাংলাদেশকে লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ডের সহায়তার প্রথম প্রাপক হিসেবে দেখতে চাই।

নিজের দেশ সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বব্যাপী কার্বন নিঃসরণে আমাদের অবদান নগণ্য (বৈশ্বিক নির্গমনের ০.৪৭%-এর কম) হলেও তার দেশ বিশ্বের সবচেয়ে বেশি জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে সপ্তম স্থানে রয়েছে।

তিনি বলেন, এটা অনুমান করা হয় যে, এখন থেকে ২০৫০ পর্যন্ত, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আমাদের বার্ষিক জিডিপি ক্ষতি হবে ২%, এবং এই হারে ২১০০ সালের মধ্যে, ক্ষতি ৯% পর্যন্ত হবে। আরও অনুমান করা হয়েছে যে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশের প্রায় ১৩.৩ মিলিয়ন মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন বাংলাদেশ জলবায়ু অভিযোজন এবং সহিষ্ণুতার জন্য বার্ষিক বাজেটের প্রায় ৪.৬ শতাংশ এবং জিডিপির ০.৭৪ শতাংশ ব্যয় করে, যার ৭৫ শতাংশ আসে অভ্যন্তরীণ সম্পদ থেকে।

বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ড ২০০৯ সালে নিজস্ব সম্পদ থেকে গঠিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তহবিল এ পর্যন্ত প্রায় ৪৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগে ৮০০টিরও বেশি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে।


আরও খবর



সংরক্ষিত নারী আসনের তফসিল মঙ্গলবার

প্রকাশিত:সোমবার ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪ |

Image

দ্বাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের ভোটের তফসিল মঙ্গলবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ঘোষণা করা হবে। তফসিল ঘোষণার আগে মনোনয়নপত্র দাখিল, যাচাই-বাছাই, চূড়ান্ত প্রার্থী ও ভোট গ্রহণের দিন তারিখ ঠিক করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংরক্ষিত নারী আসনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ১৪ দলের শরিকদের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে সংসদে সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। 

এবার ক্ষমতাসীনদের সমর্থন জানিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় সংরক্ষিত নারী আসনের তফসিল নিয়ে বৈঠকে বসবে ইসি। বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। কমিশন বৈঠকের পরেই তফসিল ঘোষণা করা হবে।ইসি অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে বলেন, ৫০ সংরক্ষিত নারী আসনের ভোটের তফসিল মঙ্গলবার ঘোষণা করা হবে।

কমিশন বৈঠকের পরে সব কিছু জানিয়ে দেয়া হবে। নির্বাচন বিধি অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট হওয়ার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সংরক্ষিত মহিলা আসনের নির্বাচনে রাজনৈতিক দল বা জোটের সদস্যদের পৃথক তালিকা প্রস্তুত করার বাধ্যবাধকতা আছে। তবে এবার অর্ধশতাধিক আসনে স্বতন্ত্ররা বিজয়ী হওয়ায় সংরক্ষিত নারী আসনগুলো নিয়ে তুমুল আলোচনা হয়। স্বতন্ত্ররা সংরক্ষিত আসনগুলোর বিষয়ে মনোনয়ন দেওয়ার দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর হাতে ছেড়ে দেয়ায় বাকি থাকে দুটি আসন। সংসদের বিরোধী দল হিসেবে এ আসনগুলোতে নারী প্রার্থীদের মনোনয়ন দেবে জাতীয় পার্টি।

 


আরও খবর