Logo
শিরোনাম

স্কুলে পাঁচ দিন পুরোপুরি ক্লাস হবে

প্রকাশিত:শুক্রবার ০২ সেপ্টেম্বর 2০২2 | হালনাগাদ:সোমবার ২৮ নভেম্বর ২০২২ |
Image

মইনুল ইসলাম মিতুল :  বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাপ্তাহিক দুইদিন ছুটি ঘোষণা করে সরকার। তবে দুইদিন ছুটি হওয়ায় সেটি পুষিয়ে নিতে ক্লাসের সংখ্যা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ।

ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণিতে অধ্যায়নরত (মাধ্যমিক) শিক্ষার্থীদের দিনে সাতটি করে ক্লাস করতে হবে। বৃহস্পতিবার অর্ধদিবসের পরিবর্তে পূর্ণ দিবস ক্লাস হবে।

এত দিন অধিকাংশ বিদ্যালয়ে, বিশেষ করে দুই শিফটে চলা বিদ্যালয়ের একেকটি শ্রেণিতে ছয়টি ক্লাস হতো। আর বৃহস্পতিবার আরও কম ক্লাস হতো।

মাউশি বলছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে দুই দিন ছুটি কার্যকর হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ছয় দিনের শ্রেণি কার্যক্রম সমন্বয় করে পাঁচ দিনের জন্য করে সময়সূচি পরিমার্জন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের যাতে শিখন ঘাটতি না হয়, সে জন্য এটি করা হয়েছে। আদেশের সঙ্গে পরিমার্জিত সময়সূচিও ঠিক করে দেওয়া হয়েছে।

মাউশির আদেশে বলা হয়েছে, রোববার থেকে বৃহস্পতিবার ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণিতে প্রতিদিন সাতটি করে সপ্তাহে মোট ৩৫টি ক্লাস পরিচালিত হবে। এক শিফটের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাসের মোট ব্যাপ্তি হবে দিনে ৬ ঘণ্টা ১০ মিনিট। এর মধ্যে সমাবেশের জন্য ১৫ মিনিট এবং বিরতির জন্য ৩০ মিনিটও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

তবে দুই পালায় চলা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দিনে মোট ব্যাপ্তি হবে ৫ ঘণ্টা ৫ মিনিট। এর মধ্যে ১৫ মিনিট সমাবেশের জন্য এবং ২০ মিনিট বিরতির জন্য থাকবে।

এত দিন দুই শিফটে চলা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একেক শিফটের কর্মঘণ্টা ছিল ৫ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট।
প্রথম শিফট সকাল সাতটায় শুরু হয়ে শেষ হবে ১২টা ৫ মিনিটে। আর দ্বিতীয় শিফট ১২টা ২০ মিনিটে শুরু হয়ে ৫টা ২৫ মিনিটে শেষ হবে।


আরও খবর

কর্মবিরতিতে নৌযান শ্রমিকরা

রবিবার ২৭ নভেম্বর ২০২২




সুনামগঞ্জে মোহনা টেলিভিশনের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত

প্রকাশিত:শুক্রবার ১১ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৭ নভেম্বর ২০২২ |
Image

স্টাফ রিপোর্টার :

কেক কাটা,আলোচনা সভা ও র‌্যালীসহ নানান কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে সুনামগঞ্জে গ্রামবাংলার প্রতিচ্ছবি মোহনা টেলিভিশনের ১৩ বছরে পদাপর্ণ উপলক্ষে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত হয়েছে। 

শুক্রবার সকাল ১১টায় সুনামগঞ্জ জেলা মোহনা টিভি দর্শক ফোরামের আয়োজনে শহরের শহীদ জগৎজ্যোতি পাঠাগার মিলনায়নে প্রধান অতিথি হিসেবে কেক কেটে মোহনা টিভির জন্মদিনের শুভ সূচনা করেন জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন। 

সুনামগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি ও মোহনা টেলিভিশনের  জেলা প্রতিনিধি কুলেন্দু শেখর দাসের সভাপতিত্বে ও অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি একে মিলন আহমদের সঞ্চলনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন। সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সুমন মিয়া 


আরও খবর



আধ্যাত্মিক শক্তি লাভের জন্য নারীর কবর খুড়তে গিয়ে যুবক আটক

প্রকাশিত:বুধবার ০২ নভেম্বর 2০২2 | হালনাগাদ:রবিবার ২৭ নভেম্বর ২০২২ |
Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, স্টাফ রির্পোটারঃ


আধ্যাত্মিক শক্তি লাভের জন্য এক নারীর কবর খুড়তে গিয়ে এক যুবক আটক। এলাকার লোকজনের মাঝে চাঞ্চল্যকর সৃষ্টিকারি এ ঘটনাটি ঘটেছে নওগাঁর সাপাহার উপজেলার বাখরপুর "তালতলা" গ্রামে।

স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, নওগাঁর সাপাহার উপজেলার বাখরপুর "তালতলা" গ্রামের আমিন সরেন এর স্ত্রী তালামনি টুডু গত সোমবার ৩১ অক্টোবর রাত ১০ টারদিকে মৃত্যুবরণ করেন। পরের দিন মঙ্গলবার ১ নভেম্বর বিকেল ৩ টারদিকে ধর্মীয় বিধি মোতাবেক বাড়ি হতে প্রায় হাফ কিলোমিটার দূরে নির্ধারিত আদিবাসী সম্প্রদায়ের সমাধিস্থলে তার দাফনকার্য সম্পূন্ন করেন স্বজনরা। ঐ দিনই রাত ৯ টারদিকে মৃত তালামনি টুডু'র এর ছেলে মন্দন সরেন লোক মুখে জানতে পারেন, কে যেন তার মায়ের কবরে মাটি খুড়ছে। এমন খবর পেয়ে মন্দন সরেন লোক জন নিয়ে সমাধিস্থলের দিকে রওনা দেন। এসময় একই পথে বিপরিদ দিক থেকে শরীরে কাঁদামাটি মেখে উজ্জল টুডু (২০) নামের এক যুবককে আসতে দেখতে পান তারা। এক পর্যায়ে যুবক উজ্জল টুডু কে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে উজ্জল টুডু তাদেরকে জানান, আধ্যাত্মিক শক্তি "লাভ" অর্জন করার জন্য তালামনি টুডু'র কবর খুঁড়ে মাটি তুলে তার শরীরে তিনি মেখেছেন। যুবক উজ্জল টুডু'র এমন কথা শুনে স্থানীয় লোকজন সহ নিহতের ছেলে মন্দন সরেন তার মায়ের সমাধিস্থলে গিয়ে দেখতে পায় কবরের মাঝখানে প্রায় এক ফুট গর্ত করে মাটি খোঁড়া হয়েছে। পরে '৯৯৯' নম্বরে ফোন দিয়ে ঘটনাটি জানালে সাপাহার থানা পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থলে পৌছে যুবক উজ্জল টুডু কে আটক করে থানা হেফাজতে নেয়।

এঘটনায় অনুভূতি তে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে থানায় মামলা করেন মন্দন সরেন। মামলার পর উজ্জল টুডুকে গ্রেফতার দেখিয়ে বুধবার ২ নভেম্বর বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে নওগাঁ জেল হাজতে প্রেরণ করেন সাপাহার থানা পুলিশ।

যুবককে আটক সহ মামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন

সাপাহার থানার ওসি (তদন্ত) হাবিবুর রহমান 


আরও খবর



ক্ষতিপূরণ বিষয়ে ক্ষুব্ধ রাশিয়া

প্রকাশিত:বুধবার ১৬ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৭ নভেম্বর ২০২২ |
Image

ইউক্রেনে হামলার জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে আন্তর্জাতিক আহ্বান ক্ষোভের সাথে প্রত্যাখ্যান করেছে রাশিয়া। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে একটি রেজুলেশন পাস হওয়ার পর এই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় মস্কো।

ওই প্রস্তাবে বলা হয়েছে, রাশিয়াকে ক্ষতিপূরণ প্রদানসহ আক্রমণের পরিণতি ভোগ করতে হবে। রুশ প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ক্রেমলিন বলেছে, পশ্চিমাদের জব্দকৃত রাশিয়ার আন্তর্জাতিক রিজার্ভ থেকে ক্ষতিপূরণ দেয়া ঠেকানোর জন্য কাজ করবে মস্কো। ক্রেমলিন মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ অভিযোগ করেছেন, পশ্চিমারা ডাকাতিকে বৈধতা দেয়ার চেষ্টা করছে এবং ব্যক্তিগত সম্পত্তি ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন করছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের এই রেজুলেশনের প্রতীকী গুরুত্ব রয়েছে। তবে এটি কার্যকর বা বাস্তবায়নের আবশ্যকতা নেই।


আরও খবর

থাইল্যান্ডে গাড়িবোমা বিস্ফোরণ

মঙ্গলবার ২২ নভেম্বর 20২২

হেরে গেলেন মাহাথির

রবিবার ২০ নভেম্বর ২০22




মির্জাগঞ্জে বাল্য বিয়ে প্রতিরোধে ব্র্যাকের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত:সোমবার ৩১ অক্টোবর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৭ নভেম্বর ২০২২ |
Image

মির্জাগঞ্জ(পটুয়াখালী)প্রতিনিধিঃ

বেসরকারী সংস্থা ব্র্যাক সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচি (সেল্প) মির্জাগঞ্জ শাখার উদ্যোগে নারীর ক্ষমতায়ন এবং সুবিধা বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর আইনি অধিকার নিশ্চিত করন ও বাল্য বিয়ে প্রতিরোধে সমন্বিত কর্মকৌশল নির্ধারন বিষয়ে এক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৩১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সভা কক্ষে অনুষ্ঠিত সভার সভাপতিত্ব করেন ইউএনও মোসাঃ তানিয়া ফেরদৌস।

এ্যাসোসিয়েট অফিসার প্রকাশ কুমার মজুমদার এর সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন দেউলী সুবিদখালী ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন খাঁন, মির্জাগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট মোঃ আবুল বাসার নাসির হাওলাদার,বীর মুক্তিযোদ্ধা আঃ আজিজ মল্লিক,মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন তালুকদার, এনজিও  প্রতিনিধি মোঃ কাওসার হোসেন, সেল্প এর উপজেলা সমন্বয়কারী মোঃ ইদ্রিস আলী বিশ্বাস ও সাংবাদিক কামরুজ্জামান বাঁধন প্রমূখ।


আরও খবর



সমাজ বদলাতে চরিত্রের পরিবর্তন প্রয়োজন

প্রকাশিত:বুধবার ০৯ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৭ নভেম্বর ২০২২ |
Image

মাজহারুল ইসলাম মাসুম, সিনিয়র সাংবাদিক, লেখক, গবেষক :

প্রতিদিন শিশু, বৃদ্ধা পর্যন্ত ধর্ষিত হচ্ছে। শিক্ষক, পেশাজীবী সব শ্রেণির মানুষ প্রায় সময় দেখা যাচ্ছে ধর্ষণে জড়িত। ইদানীং মাদরাসা অধ্যক্ষ, শিক্ষককে দেখা যাচ্ছে বেশি ধর্ষণে জড়িত হতে। অথচ মাদরাসা শিক্ষক হচ্ছে ইসলামি শিক্ষার গুরু।

সমাজে ভালো কাজের উপদেশ, ধর্মীয় শিক্ষা, ধর্মীয় জ্ঞান মাদরাসা শিক্ষকরা যুগ যুগ ধরে দিয়ে আসছেন। কলেজ, স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের যৌন হয়রানি ও ধর্ষণের ঘৃণ্য খারাপ কাজে নিয়োজিত হতে প্রায় পত্রিকায় খবরে প্রকাশ পাচ্ছে। ধর্ষণ এই চিত্র আজকাল বেশি বেশি প্রকাশ পাচ্ছে। কিন্তু অনেকে বলেন, ধর্ষণ আগেও সমাজে ছিল। তখন নারী সমাজ প্রতিবাদ করত না, তা প্রকাশ পেতও না। তখন নারী সমাজ শিক্ষিত, প্রতিবাদ শিখেছে। তাদের সাহস হয়েছে। তাই ঘটনা খবরের কাগজের খবর হয়ে প্রতিনিয়ত বের হচ্ছে।
অনেকে বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ধর্ষণ ও যৌন হয়রানি রয়েছে। ঘটনা ঘটছে। তা ওইসব দেশে তেমন প্রকাশ পায় না। কিন্তু আমাদের দেশে প্রকাশ বেশি। কিন্তু প্রতিবেশী দেশ ভারতেও যৌন হয়রানি, ধর্ষণ ঘটনা বেশ ঘটছে। প্রকাশও পাচ্ছে। নারী জাতিকে স ষ্টা অনেক বেশি সম্মান, মান-মর্যাদা ও অধিকার দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু আমরা কি সেই সম্মান রক্ষা করে চলতে পারছি। পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোয় নারীকে সম্মান অধিকার দিয়ে প্রতিষ্ঠা দিয়েছে। নারী-পুরুষের কোনো ভেদাভেদ উন্নত দেশগুলোয় এখন নেই। শুধু অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে নারী এখনও অবহেলিত।
একসময় আমাদের দেশে নারীদের এসিড মেরে আহত করার বেশ প্রচলন হয়েছিল। প্রতিদিন যুবকরা কিছু কিছু নারীকে যৌন হয়রানি করত। প্রেমের ভ্রান্ত দিয়ে প্রত্যাখ্যাত হলে তখন এসিড মেরে ওই নারীকে আহত করত। এখন বেশ কম দেখা যায় এসিড নিক্ষেপ। কেন এসিড নিক্ষেপ কমল। কী কারণ রয়েছে এর পেছনে। সমাজ বিজ্ঞানীরা তখনও এ বিষয়ে গবেষণা প্রকাশ করেননি। নিশ্চয় এসিড নিক্ষেপ কমে যাওয়ার পেছনে যথেষ্ট কারণ রয়েছে।
এখনও আমাদের সমাজে অনিয়ম, অন্যায়, আইন অমান্য, ঘুষ, দুর্নীতি নিয়মিত ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায় প্রতিদিন অনিয়ম, দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্যের নানা খবর দেশে আসছে। বর্তমান সরকারও এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে বেশ সোচ্চার। দুর্নীতি দমন কমিশনও এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে সক্রিয়। বেশ কিছু মামলা হয়েছে। অনেক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। নতুন নতুন অনুসন্ধান চলেছে দুর্নীতির বিরুদ্ধে। পত্রপত্রিকায়ও প্রকাশ পাচ্ছে। সরকারও বেশ কঠোর নীতি গ্রহণ করেছে বলে ঘোষণা দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু পরিস্থিতির উন্নতি বেশ কম হচ্ছে। কেন এ অবস্থার সৃষ্টি হলো। কিংবা আমাদের উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত।
বাংলাদেশি বিপুলসংখ্যক ধনী ব্যক্তি সুইস ব্যাংকে প্রচুর অর্থ জমা রেখেছেন। ব্যাংকে অর্থ কীভাবে জমা হয়েছে, তা নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে। শুধু যে বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাচার হয়েছে তা নাও হতে পারে। এই অর্থ বিদেশে উপার্জিত অর্থ থেকেজমাও হতে পারে। শুধু যে পাচারের টাকা জমা হয়েছে তা নয়।

কেন এসব ঘটছে :

 আমরা এগিয়ে চলেছি। আমাদের চরম উন্নতি হচ্ছে বলে আমাদের রাষ্ট্রীয় ঘোষণা রয়েছে। রাষ্ট্র এগিয়ে চলেছে। কিন্তু জনগণ তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে যেন বারবার হোঁচট খাচ্ছে। চলতি বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষা-দীক্ষা ও উন্নয়নে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এরই পাশাপাশি দেশের সমাজব্যবস্থায় বিভিন্ন কারণে বাড়ছে অস্থিরতা, বাড়ছে অপরাধপ্রবণতা, বাড়ছে হতাহতের ঘটনা।
খবরের কাগজ উল্টালেই চোখে পড়ছে ধর্ষণ, আত্মহত্যা, খুন, শিশু নির্যাতন, সন্ত্রাসবাদ, মাদক, মারামারি আর হানাহানির খবর। সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করছেন, সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ মূল্যবোধ তথা মানুষগুলোর নৈতিক অবক্ষয়। পাশাপাশি পারিবারিক বন্ধন ঢিলে হয়ে যাওয়া এবং অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে যাওয়ার
বিষয়টিও উল্লেখযোগ্য।


বাড়ছে পারিবারিক কলহ: পরিবার আমাদের সমাজব্যবস্থার অন্যতম মূল ভিত্তি। এ সময়টায় বিভিন্ন কারণে পারিবারিক কলহের ঘটনা বেড়ে গেছে। বেড়ে গেছে পরিবারের এক সদস্যের হাতে আরেক সদস্যের খুন হওয়ার ঘটনা। স্বামী-স্ত্রীর কলহের জেরে প্রাণ দিতে হচ্ছে নিষ্পাপ শিশুদের।

পারিবারিক কলহের কারণে পরিবারের সবাই একসঙ্গে আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটছে। মানুষ এখন শুধু ঘরের বাইরেই নয়, তার আপনজনদের কাছেও নিরাপদ নয়। বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ বিভাগের তথ্যানুযায়ী বছরে মোট হত্যাকাণ্ডের প্রায় ৪০ শতাংশ সংঘটিত হচ্ছে পারিবারিক কলহের কারণে।


অপরাধ বিশ্লেষক তৌহিদুল হক বলছেন
: অভাব-অনটন, অর্থের প্রতি প্রবল দুর্বলতা, চাওয়া-পাওয়ার অসংগতির কারণে দাম্পত্য কলহ ও স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের প্রতি বিশ্বাসহীনতা, নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, সামাজিক-রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অস্থিরতা, অন্য দেশের সংস্কৃতির আগ্রাসন, স্বল্প সময়ে ধনী হওয়ার আকাক্ষা, বিষন্নতা ও মাদকাসক্তিসহ বিভিন্ন কারণে সামাজিক অশান্তি বাড়ছে। পুলিশ সদর দফতর সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য মতে, দেশে প্রতিদিন গড়ে খুন হচ্ছে ১৪ থেকে ১৫ জন। আর এর অধিকাংশই পারিবারিক ও সামাজিক অস্থিরতার কারণে।


মনোবিজ্ঞানী মোহিত কামাল জানান
: সমাজে কেউ অপরাধী হয়ে জন্ম নেন না। মানুষ অপরাধী হয়ে ওঠে পরিবেশ-পরিস্থিতির কারণে। বেশিরভাগ সময়ে সে পরিবেশ তার কাছের মানুষরাই তৈরি করে দেয়। কখনও কখনও সমাজে মানুষদের আচরণ, অসহযোগিতার কারণে পরিবারে, সমাজে দ্বন্দ্ব সংঘাতের মাত্রা বেড়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে মানসিক যন্ত্রণা বা মনোকষ্টে ভুগলে এসব হতে পারে। এ জন্য কাউন্সিলিং দরকার। প্রত্যেককে নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে।


একাকিত্ব থেকে অশান্তি: একাকিত্ব মানসিক বিষন্নতা সৃষ্টির অনেক বড় একটা কারণ। অনেক সংসারেই স্বামীরা বুঝতে পারেন না তার কাজের ব্যস্ততার কারণে স্ত্রীকে একদম সময় দেওয়া হচ্ছে না। এ জন্য অফিসে গেলে মাঝে মধ্যে স্ত্রীকে ফোন দিতে হবে। মাঝে মধ্যে কী করছে না করছে সেটির খোঁজ নিতে হবে।

অফিস থেকে আসতে দেরি হলে বাসায় জানাতে হবে। নিজের ব্যস্ততার বিষয়টি স্ত্রীকে বোঝাতে হবে। আবার স্ত্রীকেও স্বামীর ব্যস্ততা বুঝতে হবে। ব্যস্ততার মাঝেও সপ্তাহে অন্তত একটা দিন স্ত্রীকে নিয়ে বিনোদনের জন্য পার্ক বা দর্শনীয় স্থানে ঘুরতে যাওয়া, সিনেমা দেখা, রেস্টুরেন্টে খেতে যাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। কোনো কারণে স্ত্রী যদি বুঝতে পারে তার স্বামী তাকে যথেষ্ট সময় দিচ্ছেন না, তাহলে তাদের মধ্যে দূরত্বের সৃষ্টিই হবে। একাকিত্বের ফাঁদে পড়ে মেয়েরা অনৈতিক কোনো সম্পর্ক বা মানসিক রোগে আক্রান্ত হতে পারেন।


দাম্পত্য জীবনে অতৃপ্তি: বিয়ে বা সাংসারিক জীবনে কোনোভাবেই যৌনতাকে বাদ দেওয়া যাবে না। বরং যৌনতাকে ঘিরেই দাম্পত্য জীবনে গতি আসে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, কোনো সংসারে অভাব-অনটন থাকলে যতটা অশান্তি হবে তার চেয়ে ভয়াবহ অশান্তি হবে যদি কোনো দম্পতির যৌনজীবন সুখের না হয়। পরকীয়া বা বিবাহ বিচ্ছেদের সবচেয়ে আদিম কারণ শারীরিক চাহিদা অপূর্ণ থাকা।
 স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি, হতাশা বা দূরত্ব বাড়ার অন্যতম একটি কারণ হলো শারীরিক চাহিদা অপূর্ণ থাকা। আমাদের দেশের অধিকাংশ ছেলে জানে না, একটা মেয়েকে কীভাবে শারীরিকভাবে সুখী করতে হয়। অনেকেই জানেন না, আদিম এই খেলায় ছেলের পাশাপাশি মেয়েরও পরিপূর্ণতা বা সন্তুষ্ট হওয়ার একটা ব্যাপার আছে।

মেয়েদের অর্গাজম ঘটানোর ব্যাপারেও উদাসীন ছেলেরা। ছেলেদের যৌনজ্ঞানের অভাব মেয়েদের চরমানন্দ থেকে বঞ্চিত করে। এভাবে দিনের পর দিন মেয়েরা বঞ্চিত হতে হতে একটা সময় তাদের মধ্যে এক ধরনের উদাসীনতা বা হতাশার সৃষ্টি হয়। আমাদের দেশের ছেলেরা মনে করে, মেয়েরা শুধু ভোগের বস্তু।
বিছানায় নিজের সন্তুষ্টি অর্জন হলেই সব শেষ। সঙ্গীর জৈবিক চাহিদার ব্যাপারে কোনো তোয়াক্কা নেই। এরকম ঘটনা যে শুধু ছেলেদের ক্ষেত্রেই ঘটে, সেটি নয়। অনেক মেয়েও তার সঙ্গীর শারীরিক চাহিদা পূরণে সচেতন, কিংবা আগ্রহী নন। এই শারীরিক অপূর্ণতাই পর-পুরুষ বা পর-নারীতে আগ্রহের সৃষ্টি করে। কাজেই শারীরিক চাহিদা পূরণের ব্যাপারে উভয়কে সচেতন হতে হবে।


আরও খবর