Logo
শিরোনাম

স্মার্টফোন আসক্তিতে শিক্ষার্থীরা

প্রকাশিত:রবিবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ |
Image

মাজহারুল ইসলাম মাসুম, সিনিয়র সাংবাদিক, লেখক ও গবেষক :   করোনাভাইরাসের ধকল কাটিয়ে সশরীরে ক্লাসে ফিরেছে অনেক আগেই। নিয়মিত ক্লাস করছে, পরীক্ষাও দিচ্ছে। কিন্তু করোনাকালীন ক্লাস-পরীক্ষা চলেছে অনলাইনে। এই সময়ে স্মার্টফোন, ট্যাব, ল্যাপটপ ছিল তাদের সঙ্গী। এখন এই সঙ্গীই সর্বনাশের কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। গেল অর্ধবার্ষিক পরীক্ষায় মিলেছে এর প্রমাণ। শিক্ষার্থীরা আশঙ্কাজনক হারে খারাপ করেছে। দ্বিগুণ হয়েছে ফেল করা শিক্ষার্থী।

রাজধানীর প্রথম সারির কয়েকটি স্কুলের অর্ধবার্ষিক বা অর্ধসাময়িক পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বেশি ফেল করা বিষয়ের তালিকায় গণিত, ইংরেজি, বাংলা, বিজ্ঞান ও ধর্মশিক্ষা। ক্লাস অনুযায়ী ফেলের হার ৭০-৯৫ শতাংশ পর্যন্ত।

ক্লাস শিক্ষকরা বলছেন, করোনায় দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা হাতের লেখায় অনেক পিছিয়ে গেছে। সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর লিখতে পারছে না। নবম শ্রেণিতে বিশেষ বিষয়ের ওপর জ্ঞানের মাত্রা অনেক কম। সে কারণে ফেলের হার বেড়ে গেছে।

হলিক্রস স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের এক ছাত্রী জানায়, বিজ্ঞান বিভাগে তাদের ৬০ জন ছাত্রী রয়েছে। অর্ধসাময়িক পরীক্ষায় ৪২ জন ফেল করেছে। এক থেকে চার বিষয় পর্যন্ত কেউ কেউ ফেল করেছে। তার মধ্যে উচ্চতর গণিত, বিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞান, পদার্থ বিজ্ঞানে ফেল বেশি। তবে ফেল করা অনেক মেয়ে ক্লাস শিক্ষকদের কাছে প্রাইভেটে পড়ে। স্যারদের কোচিংয়ে পড়েও তারা ফেল করেছে। বিজ্ঞানের বিষয়গুলো অনেক কঠিন মনে হচ্ছে। গণিতের অনেক সূত্র ভুলে গেছি। সেগুলো নতুন করে মুখস্ত করতে হচ্ছে। একটি অধ্যায়ে স্যাররা একটি অংক করিয়ে বাকিগুলো আমাদের করতে বলেন। সেগুলো একার পক্ষে সমাধান করতে পারছি না। স্যারকে বললে ভালো করে আর বেঝাতে চান না।

আবার ক্লাস শিক্ষক বলছেন, বাড়িতে কাজ দিলে সেটি ক্লাসে করতে পারছে না। দীর্ঘদিন বাড়িতে বসে থাকায় হাতের লেখায় তারা দুর্বল হয়ে পড়েছে। ছাত্র-ছাত্রীরা নিয়মিত বই পড়লেও গত দুই বছর লেখার প্র্যাকটিস কম করেছে বলে পরীক্ষায় তারা খারাপ করছে। এটি নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।

গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. আবু সাঈদ ভূইয়া বলেন, করোনার ক্ষতি এখনো আমাদের শিক্ষার্থীরা ধকল কাটিয়ে ওঠেনি। স্কুল বন্ধ থাকায় তাদের অনেক শিখন ঘাটতি হয়েছে। তবে করোনার মধ্যে আমরা প্রথম ও নিয়মিত অনলাইন ক্লাস শুরু করি। সে কারণে অনেকে পড়ালেখায় এগিয়ে থাকলেও হাতের লেখার গতি ও সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর লেখার অভ্যাস ভুলতে বসেছে। অনলাইন ক্লাসের সঙ্গে সবাই যুক্ত হতে না পারায় খুব বেশি সহায়ক হয়নি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ তারিক আহসান বলেন, করোনায় আমাদের শিক্ষার্থীদের যে ক্ষতি হয়েছে তা পোষাতে চলমান বাড়তি ক্লাস নেওয়া বা বাড়তি মনিটরিং পর্যাপ্ত নয়। শিক্ষার্থীরা ক্ল্যাসিকাল সাবজেক্টের একটি লেভেল বা লেয়ার অতিক্রম করতে পেছনের জ্ঞানগুলো বুঝতে না পারলে পরের স্তরে সমস্যা হয়। তার মধ্যে ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞান বিষয় রয়েছে। এগুলোর শিখন ঘাটতি কাটাতে আরও বেশ কিছু কার্যকর প্রোগ্রাম দরকার। প্রতিবেশী শিক্ষার্থীর মধ্যে লার্নার গ্রুপ তৈরি করে ক্লাসরুমের বাইরেও কিছু কার্যক্রমে যুক্ত করা যায়। এর মাধ্যমে অন্যদের কাছে শেখার সুযোগ তৈরি হবে। শুধু ক্লাসরুমে ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হবে না। অ্যাসাইনমেন্টগুলো আরও চিন্তা-ভাবনা করে প্রজেক্টভিত্তিক করে তুলতে হবে। যেন শিক্ষার্থীরা ক্লাসের বাইরে, বাড়িতে ও অবসরে বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে তার সমস্যার সমাধান করতে পারে। 


আরও খবর

পঞ্চগড়ে নৌকা ডুবে ২৪ জন নিহত

রবিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২

এবার ৩২ হাজার মণ্ডপে দুর্গাপূজা

রবিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২




প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কুটিক্তির প্রতিবাদে নোয়াখালীতে প্রতিবাদ সভা

প্রকাশিত:শনিবার ১০ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ |
Image

অনুপ সিংহ,নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

প্রধান মন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে নিয়ে বিএনপির বিভিন্ন কুটিক্তির প্রতিবাদে নোয়াখালী-৪ আসনের এমপি একরামুল করিম চৌধুরীর উদ্যোগে শনিবার বিকেলে এক বিশাল প্রতিবাদ সভা, বিশাল জনসমাবেশে পরিণত হয়েছে। জেলা শহর মাইজদী পুরাতন বাস স্ট্যান্ড থেকে সিনেমাহল পর্যন্ত লাখে মানুষের ঢল নেমেছে প্রধান সড়কে। মিছিলে মিছিলে ভরে গেছে রাস্তাঘাট, পরিণত হয়েছে জন সমুদ্রে। তাদের প্রিয় নেতা সদর সূবর্ণচরের মাটি ও মানুষের প্রিয় নেতা একরামুল করিম চৌধুরীর আহ্বানে দলে দলে ছুটে এসে যোগ দিয়েছে জনসভায়। বিকেল ৩টা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত শত শত মিছিলে ভরে গেলে মহাসড়ক। জনসমুদ্রের কারণে এ সময় সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। 

সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম শামসুদ্দিন জেহানের সভাপতিত্ত্বে জেলা আওয়ামীলীগ কার্যলয়ের সামনে বিশাল জনসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন নোয়াখালী-৪ (সদর-সূবর্ণচর) আসনের এমপি ও জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী। এসময় আরোও বক্তব্য রাখেন সাবেক স্পীকার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মরহুম আব্দুল মালেক উকিলের সুযোগ্য সন্তান বাহা উদ্দিন খেলন, সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান নাছের চেয়ারম্যান, জেলা জর্জ কোর্টের পি পি গুলজার আহমেদ জুয়েল, সাবেক পি পি কাজী শাহিন, জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক বাবু ইমন ভট্ট, কমিশনার ফখরুদ্দিন, এডভোকেট এমদাদ হোসেন কৈশর, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ও বিভিন্ন ইউনিয়নের নির্বাচিত চেয়ারম্যানগণসহ বিভিন্ন স্থরের নেতাকমীরা বক্তব্য রাখেন। এছাড়া আওয়ামীলীগ নেতা মাওলা লিটন, চেয়ারম্যান ওমর ফারুক, এডভোকেট আলতাফ হোসেন, এমপি পুত্র সাবাব চৌধুরী ও আওয়ামীলীগ যুবলীগ, ছাত্রলীগ স্বেচ্ছাসেবকলীগ সহ সর্বস্থরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। হাজার হাজার নেতাকর্মীদের মিছিল দেখে এমপি একরাম চৌধুরী এসময় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে স্লোগানে স্লোগানে নেতাকর্মীদের উজ্জিবিত করেন। নিজে স্লোগান দিতে থাকেন।  

বিশাল জনসমাবেশে প্রধান অতিথি নোয়াখালী-৪ (সদর-সূবর্ণচর) আসনের এমপি ও জেলা আওয়ামীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী বিকেল পোনে পাঁচটায় বক্তব্যে বলেন, যেহেতু আমার প্রিয় নেত্রী মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিএনপির লোকজন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে শোকের মাসে অশ্লীল কুটুক্তি করেছে আমি আর ঘরে বসে থাকতে পারি না। আমি সিঙ্গাপুর থেকে ছুটে এসে এই প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দিয়েছি। সদর সূবর্ণচর নেতাকর্মীদের সাথে দফায় দফায় বৈঠক ও প্রস্তুতি সভা করে এই সভার ডাক দিয়েছি। আজ প্রতিবাদ সভা বিশাল জনসভায় পরিণত হয়েছে। এক লক্ষাধিকের উপরে লোক আমার ডাকে সাড়া দিয়েছে। আমি আপনাদের নিকট কৃতজ্ঞ এবং চিরঋণী হয়ে গেলাম। আপনারা আমার নেত্রীর জন্য এবং আমার জন্য দোয়া করবেন। এই বলে তিনি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। এসময় নেতাকর্মীরা দাড়িয়ে স্লোগান দেন “নোয়াখালীর মাটি, একরাম চৌধুরীর ঘাঁটি”। এসময় জানতে চাইলে নেতাকর্মীরা জানান, প্রায় এক লক্ষ লোকের সমাগম হয়েছে, একরাম চৌধুরীর ডাকে মানুষ সবসময় সাড়া দিয়ে থাকে। তিনি মাটি ও মানুষের নেতা। নোয়াখালীতে তার বিকল্প নেই। এই জন্য তাকে মানুষ নগদ চৌধুরী হিসাবে চিনে।

সাবেক স্পীকার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আব্দুল মালেক উকিলের সুযোগ্য সন্তান বাহা উদ্দিন খেলন বক্তব্যে বলেন, প্রধান মন্ত্রীকে নিয়ে বিএনপি লোকজন কুটুক্তি করেছে কিন্তু জেলা আওয়ামীলীগের লোকজন কোন প্রতিবাদ সভা করতে পারেননি। আপনাদের জনপ্রিয় নেতা একরাম চৌধুরীর ডাকে বিশাল সমাবেশ করে আজ দেখিয়ে দিয়েছেন তিনি। এখানে একরাম চৌধুরীর বিকল্প নেই।

এদিকে নোয়াাখালী পুলিশ সুপার শহিদুল ইসলাম জানান, প্রতিবাদ সমাবেশকে ঘিরে ব্যাপক আইন শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি ডিবিসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও মাঠে রয়েছেন বলে তিনি জানান। এদিকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে ব্যাপক জোরদার ছিল। কোথাও কোন ধরণের সহিংসতার খবর পাওয়া যাইনি।


আরও খবর



নিত্যপণ্যের বাজারে আবারও অস্থিরতা

প্রকাশিত:শনিবার ১০ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ |
Image

সাত দিনের ব্যবধানে ব্রয়লার ও দেশি মুরগির দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে। পাশাপাশি খুচরা পর্যায়ে প্রতি ডজন ফার্মের ডিম ১০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হয়েছে। এছাড়া নতুন করে না বাড়লেও উচ্চমূল্যে বিক্রি হয়েছে সব ধরনের সবজি ও মাছ। তবে চালের দাম কমেছে।

শনির আখরার খুচরা বিক্রেতা মামুন বলেন, গত মাসের প্রথমদিকে পাইকারদের সিন্ডিকেটের কারণে ডিমের দাম বাড়ে। যে কারণে সেসময় প্রতি ডজন ডিম ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি করতে হয়েছে। এজন্য গত সপ্তাহেও প্রতি ডজন ডিম ১২০ টাকায় বিক্রি করেছি। এখন পাইকারি বাজারে আবারও দাম বাড়ায় ১৩০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।

বহুমুখী ডিম ব্যবসায়ী সমিতির প্রচার সম্পাদক নাসির উদ্দিন বলেন, প্রশাসনের অভিযানের পর ডিমের দাম অযৌক্তিকভাবে কমে যায়। এখন দাম স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার চেষ্টা চলছে। কয়েকদিন আগে দাম অনেক বেড়েছিল।

সরকারি সংস্থা টিসিবি বলছে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর এক মাসের ব্যবধানে চাল, চিনি, মসুর ডাল, শুকনা মরিচ, আদা, জিরা, লবঙ্গ, এলাচ, ইলিশ মাছ, গরুর মাংস, গুঁড়াদুধ, লবণসহ ফার্মের ডিমের দাম বেড়েছে।

সাবান, টুথপেস্ট, নারিকেল তেলসহ বিভিন্ন প্রসাধনীর দাম বেড়েছে ৪৪ শতাংশ পর্যন্ত। আগে আধা কেজির যে ডিটারজেন্টের দাম ছিল ৬০ টাকা, সেটি এখন ৯০ টাকা। ৫২ টাকার সাবানের দামও এখন ৭৫ টাকা হয়েছে। যদিও এসব পণ্যের দামের ওঠা-নামার হিসাব টিসিবির কাছে থাকে না।

 কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, দেশে কোনো পণ্যের দাম যেভাবে বাড়ে সেটি পরবর্তী সময়ে সেভাবে সমন্বয় হয় না। দাম কমলেও সেটা বাজারে বাস্তবায়ন করতে চান না কোম্পানি বা বিক্রেতা কেউই।


আরও খবর

স্বর্ণের দাম কমেছে

রবিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২




ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের প্রতিবাদে মধ্যরাতে মহাসড়ক অবরোধ

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ৩০ আগস্ট ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ |
Image

আশুলিয়ায় ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের প্রতিবাদে আবারও নবীনগর-চন্দ্রা সড়ক চার ঘন্টা অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে স্থানীয়রা। এসময় সড়কের দুপাশে দেখা দেয় তীব্র যানজট। পরে পুলিশ ও জনপ্রতিনিধির দেওয়া আশ্বাসের পর সড়ক থেকে সরে যায় তারা।

সোমবার রাত নয়টার দিকে একটি মোটরসাইকেল আরোহীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন ডাকাতরা। এর আগে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার একইভাবে ডাকাত চক্ররা আরও দুই মোটরসাইকেল আরোহীকে অপহরণ করে জঙ্গলে নিয়ে নির্যাতন করে সর্বস্ব কেড়ে নেয়। শুধু এ কয়েক দিনই নয় প্রতিনিয়ত এমন ঘটনাই ঘটছে। এমন ঘটনা বন্ধের দাবিতে রাতে স্থানীয়রা নবীনগর-চন্দ্রা সড়কে নেমে বিক্ষোভ করেন।

পরে সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে বিক্ষোভকারীদের সড়ক থেকে সড়াতে চেষ্টা করেন। কিন্তু সড়ক পথে বাতি ও সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখে স্থানীয়রা।

নাম প্রকাশ না করার অনুরোধে একাধিক ব্যাক্তি অভিযোগ করে বলেন, স্থানটিতে অনেক নারীর সম্ভ্রম হারাতে হয়েছে। এক সদস্যকে স্থানীয়রা আটক করে গণপিটুনি দিলে মামলার ভয় দেখিয়ে উল্টো পুলিশ কয়েকজনের কাজ থেকে জরিমানা আদায় করেন।
এদিকে চার ঘণ্টা সড়ক অবরোধ থাকায় নবীনগর-চন্দ্রা সড়কের দুই পাশে প্রায় ১০ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন সড়কে চলাচলরত যাত্রীরা।


আরও খবর

পঞ্চগড়ে নৌকা ডুবে ২৪ জন নিহত

রবিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২

এবার ৩২ হাজার মণ্ডপে দুর্গাপূজা

রবিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২




ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবন-বিধান

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ |
Image

পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে, আল্লাহ তায়ালা কোন জাতির অবস্থার পরিবর্তন করেন না, যে পর্যন্ত না তারা নিজেদের অবস্থার পরিবর্তনে এগিয়ে আসে। (সূরা রা’দ : ১১)

নবী করীম (সা) বলেন, আমাকে সচ্চরিত্রের পূর্ণতা সাধনের নিমিত্তেই প্রেরণ করা হয়েছে।

মানব জীবনে আখলাকের গুরুত্ব অপরিসীম। মানুষের বাহ্যিক আচার-আচরণ তার মনের আলোকেই সম্পাদিত হয়। দার্শনিক ঈমাম গাজ্জালীর মতে-যেমন গুণাবলী মানব মনে জাগরুক থাকে তারই প্রতিফলন তার বাহ্যিক কাজ-কর্মে প্রকাশিত হয়। এর আলোকে বলা যায় মানুষের কোনো কাজই তার মূল চিন্তা-চেতনা বহির্ভূত নয়। এ জন্যই যুগে যুগে সংস্কারকরা মানুষের সংশোধন ও পবিত্র জীবন যাপনের পন্থা হিসেবে তাদের আত্মার পরিশুদ্ধি ও মূল্যবোধের জ্ঞান প্রথমেই শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দিতেন। ইসলামের দৃষ্টিতে মানুষের উন্নতি-অবনতি, উত্থান-পতন, মান-সম্মান ইত্যাদি সব কিছুই তাদের মানসিক বিকাশ ও মূল্যবোধ জাগ্রত করার ওপরই নির্ভর করে।

উত্তম চরিত্র ইসলামী শিক্ষার অন্যতম একটি কোর্স হিসেবে পরিগণিত করা হয়। পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহতে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ তথা সমগ্র মানব সমাজের চারিত্রিক উন্নয়নে প্রচুর নির্দেশনা বিদ্যমান। মূলত মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর মধ্যে মৌলিক পার্থক্য এ চরিত্রের আলোকেই হয়ে থাকে।

আখলাকের মাধ্যমেই মানুষ মনুষ্যত্বের চূড়ান্ত মানে উন্নীত হতে পারে। ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবন-বিধান। এ বিধানের পরিপূর্ণতার জন্য তাতে উন্নত চরিত্রের বিধান থাকা আবশ্যক।

তাই ইসলামে আখলাকুল হাসানাহ্ তথা উত্তম চরিত্রের স্থান অনেক ঊর্ধ্বে। পৃথিবীতে আল্লাহর বিধান বাস্তবায়নের নিমিত্তে আল্লাহ যুগে যুগে নবী-রসূলদের প্রেরণ করেছেন। আমাদের প্রিয় নবী (সা) কে প্রেরণের অন্যতম কারণ সচ্চরিত্রের বিকাশ সাধন। একদা জনৈক ব্যক্তি রসূল (সা) কে দ্বীনের সংজ্ঞা জিজ্ঞেস করলে উত্তরে তিনি বলেন, উত্তম চরিত্র। এ কথা দ্বারা বুঝা যায়, সচ্চরিত্রতা বা উত্তম চরিত্র দ্বীনের অন্যতম একটি রুকন, যা ব্যতীত দ্বীনের অস্তিত্বই কল্পনা করা যায় না, যেমন হজ্ব সম্পর্কে রাসূলের বাণী- হজ্বের গুরুত্বপূর্ণ একটি রুকন হচ্ছে আরাফায় অবস্থান করা যা ব্যতীত হজ্ব আদায় হয় না, তেমনি সচ্চরিত্রতা ব্যতীত দ্বীন ও পরিপূর্ণ হয় না।

উত্তম চরিত্র হল পরকালে মুক্তির উপায়, ইসলামের অপরিহার্য ফরজ তথা নামাজ-রোযা পালন করা সত্তে¡ও পরকালে জাহান্নাম থেকে নাজাত ও জান্নাত লাভের জন্য আখলাক তথা উত্তম চরিত্রের কোনো বিকল্প নেই।

জনৈক ব্যক্তি রসূল (সা)-কে উত্তম ঈমানদার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে উত্তরে তিনি বলেন, ‘তাদের মধ্যে যে অধিক চরিত্রবান সেই উত্তম’। উত্তম চরিত্র দ্বারা মু’মিনরা কিয়ামতে রাসূল (সা)-এর ভালোবাসা ও নৈকট্য লাভের ক্ষেত্রে সবাই এক রকম হবে না।

এ প্রসঙ্গে রাসূল (সা) বলেন, ‘কিয়ামতের দিবস তোমাদের মধ্যে আমার নিকট বেশি পছন্দনীয় ও অবস্থানের ক্ষেত্রে অধিক নিকটবর্তী হবে তোমাদের মধ্যে যে উত্তম চরিত্রের অধিকারী’। সৎ চরিত্রের অধিকারীর আমলনামাও ভারী হবে।

এ প্রসঙ্গে রসূল বলেন, ‘কিয়ামতের মাঠে হিসেব-নিকাশের সময় ’আ­ল্লাহ ভীতি ও চরিত্রতার গুণ’ মু’মিনের আমলনামাকে ভারী করবে।

রাসূল (সা)-এর উত্তম আখলাক সম্পর্কে দোয়া করতেন, তিনি নিজে গুণাহমুক্ত হয়েও নিজের চরিত্র সুন্দর করার তৌফিক অর্জনের জন্য আল্লাহর নিকট দোয়া করতেন। যেমন তিনি দোয়ায় বলতেন, আল্লাহ তুমি আমার গঠন-আকৃতি সুন্দর করেছ, আমার চরিত্রকেও সুন্দর করে দাও।

আল্লাহ তায়ালা রসূল (সা) এর উত্তম চরিত্রের প্রশংসাও করেছেন, তিনি বলেন, ‘আপনি মহান চরিত্রের ওপর প্রতিষ্ঠিত’। (সুরা কলম : ৪)

আয়াতে মহান আল্লাহ কর্তৃক রসূল (সা)-এর আখলাকের প্রশংসা করেছেন। পবিত্র কুরআনের প্রচুর আয়াতে আখলাকের বিবরণ ও চরিত্রবানদের প্রশংসার বাণী উদ্ধৃত হয়েছে, মাক্কী ও মাদানী উভয় সূরাগুলোতে আখলাকের নির্দেশ বেশি থাকায় এর গুরুত্বেরও আধিক্য বুঝা যায়, যা থেকে কোনো মুসলিমের দূরে থাকা সম্ভব নয়। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে তার রাসূল (সা)-এর উত্তম চরিতে চরিত্রবান করুন।

আমিন


আরও খবর

শিরক থেকে দূরে থাকতে হবে

বৃহস্পতিবার ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২




শেখ রেহানার জন্মদিন আজ

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ |
Image

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ কন্যা  ও  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানার ৬৮তম জন্মদিন আজ। ১৯৫৫ সালের এ দিনে (১৩ সেপ্টেম্বর) গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

১৯৭৫ সালের শোকাবহ এই কালোদিবসে সূর্য ওঠার আগে খুব ভোরে সেনাবাহিনীর কিছুসংখ্যক বিপথগামী সদস্য ধানমন্ডির বাসভবনে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে। ঘাতকরা শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি, তাদের হাতে একে একে প্রাণ হারান বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু শেখ রাসেলসহ পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল। বর্বর এ হত্যাকাণ্ডের সময় শেখ হাসিনার সঙ্গে জার্মানিতে থাকায় বেঁচে যান শেখ রেহানা। সেখান থেকে ভারতে চলে যান দুই বোন। পরে শেখ রেহানা পরিবার নিয়ে যুক্তরাজ্যে চলে যান। সেখানে রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়ার পর থেকে সেখানেই বসবাস করছেন তিনি।

শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের হাল ধরেন। তবে দেশের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হয়েও কখনো সক্রিয় রাজনীতিতে জড়াননি শেখ রেহানা।

২০০৭-০৮ সালে ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে জরুরি অবস্থা চলাকালে শেখ হাসিনা কারাবন্দি হয়েছিলেন। সে সময়ও শেখ রেহানা তার বোনের মুক্তি আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পর্দার আড়ালে থেকে দলের ঐক্য বজায় রাখতে লন্ডন থেকেই তিনি ব্যাপক তৎপরতা চালান। ওই দুঃসময়ে দলের নেতাকর্মীদের সাহস জোগান তিনি। রাজনীতিতে না জড়ালেও জনহিতৈষী কাজেও সবসময় ভূমিকা রেখে আসছেন শেখ রেহানা। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক শফিক আহমেদ সিদ্দিক ও শেখ রেহানা দম্পতির তিন ছেলেমেয়ে। তাদের মধ্যে বড় মেয়ে রেজওয়ানা সিদ্দিক টিউলিপ ব্রিটিশ পার্লামেন্টে লেবার পার্টির একজন সংসদ সদস্য। ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক একটি আন্তর্জাতিক সংস্থায় কর্মরত। আর ছোট মেয়ে আজমিনা সিদ্দিক লন্ডনে কন্ট্রোল রিস্কস নামে একটি প্রতিষ্ঠানের গ্লোবাল রিস্ক অ্যানালাইসিস সম্পাদক।


আরও খবর