Logo
শিরোনাম
নেত্রকোনায় পৃথক স্থানে শিশু ও দুই নারীসহ চারজনপর মরদেহ উদ্ধার সমবায়ের মাধ্যমে চাষাবাদ করার আহ্বান পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রীর জয়পুরহাট সরকারি কলেজে কর্তৃপক্ষের শর্ত মেনে ক্যাম্পাসে প্রবেশের নির্দেশনা রাজবাড়ীতে সড়ক দূর্ঘটনায় পুলিশ সদস্যের মৃত্যু কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ২০ কেজি গাঁজাসহ প্রাইভেটকার জব্দ সাত পৃষ্ঠার চিরকুট লিখে কলেজ ছাত্রীর আত্মহতা লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে প্রণোদনার সার-বীজ নিয়ে কর্মকর্তাদের নয়-ছয় নেত্রকোনায় হাওড়ে নৌকা ডুবে দুই নারীর মৃত্যু নেত্রকোনায় ইমাম হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন নেত্রকোনায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পদযাত্রা ও স্মারক লিপি প্রদান

সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ১৫ লাখের বেশি হজযাত্রী

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৩ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ১৪ জুলাই ২০২৪ |

Image



বিডি টুডে রিপোর্ট:


চলতি বছর এ পর্যন্ত ১৫ লাখের বেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। 


গত মঙ্গলবার (১১ জুন) সৌদির পাসপোর্ট অধিদপ্তর এ তথ্য জানায়। খবর আল অ্যারাবিয়ার।


অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সোমবার (১০ জুন) পর্যন্ত আকাশ, স্থল ও সমুদ্র বন্দর দিয়ে সৌদি আরবে আসা হজযাত্রীর সংখ্যা ১৫ লাখ ৪৭ হাজার ২৯৫ জনে পৌঁছেছে।


এ বছর ১৪ লাখ ৮৩ হাজার ৩১২ জন হজযাত্রী বিভিন্ন ফ্লাইটে, ৫৯ হাজার ২৭৩ জন হজযাত্রী স্থলবন্দর দিয়ে এবং ৪ হাজার ৭১০ জন হজযাত্রী সমুদ্রবন্দর দিয়ে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন।


সৌদি পাসপোর্ট অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হজযাত্রীদের প্রবেশ প্রক্রিয়া সহজতর করার জন্য সর্বশেষ প্রযুক্তিগত সহায়তাসহ সব ধরনের ক্ষমতা ব্যবহার করা হচ্ছে।


গত বছর হজ করতে ১৫০টিরও বেশি দেশ থেকে ১৮ লাখের বেশি মানুষ সৌদি আরবে জড়ো হন। এবার তা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।



হজ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি। সক্ষম যেকোনো মুসলমানের ওপর অন্তত একবার হলেও হজ করা ফরজ। এ বছরের হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হচ্ছে আগামীকাল শুক্রবার (১৪ জুন)।


সৌদি কর্তৃপক্ষ বলেছে, এবারের হজ মৌসুমে উচ্চ তাপমাত্রা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিতে পারে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হজযাত্রীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কিছু নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।


আরও খবর



নতুন গিলাফে জড়ানো হলো পবিত্র কাবা

প্রকাশিত:রবিবার ০৭ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ১৪ জুলাই ২০২৪ |

Image

মক্কায় পবিত্র মসজিদুল হারাম তথা কাবাঘরের গিলাফ পরিবর্তন করা হয়েছে। কালো কাপড়ের স্বর্ণখচিত গিলাফ মোড়ানো আরবীয় সংস্কৃতির ঐতিহ্য। প্রতি বছর হজের সময় পুরোনো গিলাফ পরিবর্তন করে কাবাঘরে নতুন গিলাফ পরানো হয়। কিন্তু এবার তা নতুন বছরে করা হয়েছে।

জানা গেছে, বর্তমানে আরবি নতুন বছর ১৪৪৬ হিজরির প্রথম প্রহরে পবিত্র কাবার এ গিলাফ পরিবর্তন করা হয়। হিজরি নববর্ষকে স্মরণীয় করতে গত বছর থেকে এই উদ্যোগ নিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। এর আগে প্রতি বছর হজের সময় আরাফার দিন সকালে কাবার গিলাফ পরিবর্তন করা হতো। তবে গত দুই বছর হিজরি নববর্ষের প্রথম দিন কাবার গিলাফ পাল্টানো হচ্ছে।

আরবি নতুন বছর উপলক্ষে শনিবার ১ মুহাররম (সন্ধ্যা থেকে দিন গণনা শুরু) সৌদি আরবের স্থানীয় সময় এশার নামাজের পর রাত পৌনে ১০টার দিকে পবিত্র ঘরের নতুন গিলাফ পরিধানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। শনিবার সৌদি প্রেস এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


আরও খবর



ডেঙ্গু: কারণ, সতর্কতা এবং প্রতিকার

প্রকাশিত:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ১৪ জুলাই ২০২৪ |

Image

ডেঙ্গু জ্বর হলো ডেঙ্গু নামক এক ধরনের ভাইরাস দ্বারা মানবদেহে সৃষ্ট জ্বর রোগ। সারা পৃথিবীতে ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি প্রকরণ রয়েছে। সাধারণত প্রতি বছর জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত আমাদের দেশে এই রোগ মহামারী আকার ধারণ করে। লিখেছেন ডা: মো: কফিল উদ্দিন চৌধুরী

আমাদের দেশে প্রধানত এডিস এজিপ্টাই ও এডিস এলবোপিক্টাস প্রজাতির মশকী-ই এই রোগের প্রধান বাহক হিসেবে কাজ করে। উপরিউক্ত প্রজাতির মশকীর দংশনেই এই ভাইরাস কোনো অসুস্থ ব্যক্তির দেহ থেকে অন্য কোনো সুস্থ ব্যক্তির রক্তে প্রবেশ করে রোগের সৃষ্টি করে। সেই সাথে মানবসমাজে এই রোগের প্রকোপ ব্যাপক আকার ধারণ করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক জরিপে দেখা যায় প্রতি বছর পৃথিবীতে গড়ে প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন মানুষ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়। আর এই রোগে বার্ষিক মৃত্যুর পরিমাণ প্রায় ২০ হাজার। নিরক্ষীয় ও উপনিরক্ষীয় অঞ্চলের প্রায় ১০০টি দেশে এই রোগ স্থানিক রোগ হিসেবে স্বীকৃত। উপরিউক্ত অঞ্চলদ্বয়ের প্রায় ১.৭ বিলিয়ন মানুষ এই রোগের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। আমাদের দেশে সর্বপ্রথম ১৯৬৪ সালে ডেঙ্গু জ্বরের কেইস রিপোর্ট হয়। কিন্তু দুঃখের ব্যাপার হলো ডেঙ্গু আমাদের দেশে সবচেয়ে দ্রুত বিস্তার লাভ করা সংক্রামক রোগ হলেও এখনো দেশব্যাপী এর প্রকোপ নিরূপণে বিশদ কোনো জরিপ পরিচালিত হয়নি। স্বল্প পরিসরে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ বড় বড় শহর, হাসপাতাল-ক্লিনিকে কিছু খণ্ডকালীন জরিপ পরিচালিত হয়েছে মাত্র। তেমনি ২০১৭ সালে রাজধানী শহরের হাসপাতালকেন্দ্রিক এক জরিপে দেখা যায়, ওই বছর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা দুই হাজার ৫৮৮ জন। আর এই রোগে মৃতের সংখ্যা পাঁচজন। কিন্তু প্রকৃত হিসাবে দেশব্যাপী এই সংখ্যা আরো কয়েক গুণ বেশি হবে।
রোগের রোগতত্ত্ব
ডেঙ্গু জ্বরের জীবাণু যখন মানবদেহের রক্তে প্রবেশ করে তখন এর বিরুদ্ধে মানবদেহে উৎপন্ন হয় এন্টিবডি নামক এক ধরনের প্রোটিন। অতঃপর ওই প্রোটিনের সাথে রোগের নিয়ন্ত্রণকল্পে জীবাণুর এক শক্ত বন্ধন সৃষ্টি হয়। সবশেষে এই প্রোটিন-জীবাণুর মিশ্রণ জমা হতে থাকে রক্তনালীর প্রাচীর ও রক্ত জমাট বাঁধতে সহায়ক প্ল্যাটিলেট তথা অনুচক্রিকার গায়ে। সেই সাথে মানবরক্তে রোগ প্রতিরোধে সহায়ক টি-লিম্ফোসাইট নামক শ্বেত রক্তকণিকা উদ্দীপিত হয়ে মানবরক্তে নিঃসৃত করে নানা ধরনের জৈব রাসায়নিক পদার্থ। পরিশেষে বেড়ে যায় মানবরক্ত সংবহনতন্ত্রের ক্যাপিলারি তথা রক্ত জালকে অভিগম্যতা। অতিরিক্ত মাত্রায় রক্তরস তথা প্লাজমা রক্তনালী থেকে বের হয়ে মানব কোষ কলায় আশ্রয় নেয়। পানি জমতে শুরু করে রোগীর বুকে ও পেটে। বেড়ে যায় রক্তের ঘনত্ব তথা হেমাটোক্রিটের মাত্রা। কমতে শুরু করে রক্তে প্রোটিন ও সোডিয়ামের পরিমাণ। সেই সাথে কমতে শুরু করে রক্তে অনুচক্রিকার পরিমাণ ও কর্মক্ষমতা। দেখা দেয় মানবদেহের নানা জায়গা থেকে মামুলি থেকে তীব্র রক্তক্ষরণের প্রবণতা।
রোগের লক্ষণ
লক্ষণ ও রোগতত্ত্বের ভিত্তিতে মানব ডেঙ্গু জ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। যথাÑ
সাধারণ ডেঙ্গু জ্বর ও রক্তপাতসহ ডেঙ্গু জ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গু জ্বর
হঠাৎ তীব্র জ্বর, যা সাধারণত দ্ইু থেকে সাত দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়,
জ্বরের সময় পুরো গায়ে কিংবা গায়ের অংশ বিশেষে লাল-লাল ফুসকুড়ি,
তীব্র মাথা ব্যথা,
চোখের পেছনে ব্যথা,
মাংসপেশি, অস্থিসন্ধি কিংবা কোমরে ব্যথা,
বিরল ক্ষেত্রে জ্বরের পর্যায়ে রোগীর দেহের নানা জায়গায় রক্তক্ষরণ।
প্রভৃতি এক বা একাধিক লক্ষণ নিয়ে মানবদেহে এই রোগ দেখা দিতে পারে।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গু জ্বর
এ ক্ষেত্রে রোগের প্রাথমিক লক্ষণগুলো সাধারণ ডেঙ্গু জ্বরের মতোই। তবে জ্বর শেষে পরবর্তী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রোগীর দেহের চামড়ার নিচ, নাক, চোখ, মুখ, যোনিপথ, বমি, প্রস্রাব-পায়খানা বা কাশির সাথে স্বল্প থেকে তীব্র রক্তক্ষরণ হতে পারে,
রোগীর রক্তনালী থেকে প্লাজমা লিকেজের কারণে বুকে ও পেটে পানি জমতে পারে,

অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে রক্তচাপ কমে গিয়ে রোগী শকে চলে যেতে পারে।
সাধারণত জ্বর শেষ হওয়ার পরবর্তী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আক্রান্ত রোগীদের এসব লক্ষণ দেখা দেয় বলে ওই সময়কালকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ওই রোগে আক্রান্ত রোগীর ক্রাইসিস পিরিয়ড তথা সঙ্কটকাল বলা হয়। এ ছাড়া সাধারণ কিংবা রক্তপাতসহ ডেঙ্গু জ্বরে রোগের জটিল পর্যায়ে রোগীর দেহের এক বা একাধিক অঙ্গ যেমনÑ লিভার, কিডনি, স্নায়ুতন্ত্র, ফুসফুস প্রভৃতির অঙ্গে নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে। এমনকি আক্রান্ত অঙ্গের কর্মক্ষমতা হঠাৎ করে লুপ্ত হতে পারে।

কাদের ডেঙ্গু জ্বরের জটিলতায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি?
নবজাতক
প্রৌঢ় ব্যক্তি
স্থূল স্বাস্থ্যের অধিকারী
গর্ভবতী নারী
ঋতুবতী নারী
পেপটিক আলসারে আক্রান্ত ব্যক্তি
থ্যালাসেমিয়াসহ অন্যান্য রক্তরোগে আক্রান্ত ব্যক্তি
হৃদযন্ত্রের জন্মগত ত্রুটিতে আক্রান্ত ব্যক্তি
ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগী, দীর্ঘমেয়াদে যকৃৎ ও কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি
এইডস আক্রান্ত ব্যক্তি
দীর্ঘমেয়াদে স্টেরয়েড ও ব্যথানাশক ওষুধ ব্যবহারকারী
এই রোগের নানা জটিলতায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি।
রোগ নির্ণয়
জ্বরের কারণ তথা ভাইরাসের উপস্থিতি নিরূপণকল্পে পরীক্ষাগুলো :
মানব রক্তে ভাইরাসের দেহস্থ ঘঝ১ এন্টিজেন নামক দেহাণুর উপস্থিতি

ওই ভাইরাসের বিরুদ্ধে মানব রক্তে উৎপন্ন এন্টিবডির উপস্থিতি
আক্রান্ত মানব কোষ-কলা কিংবা রক্তে ওই জীবাণু কিংবা উহার দেহাংশ তথা এন্টিজেনের উপস্থিতি
কিংবা চঈজ পরীক্ষার মাধ্যমে ওই জীবাণুর নিউক্লিক এসিডের বিন্যাস নির্ণয়
প্রভৃতি এক বা একাধিক পরীক্ষার মাধ্যমে মানব দেহে এই রোগের জীবাণুর উপস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
এ ছাড়া বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক রোগ নির্ণয়ে সহায়ক এবং রোগের জটিলতা নিরূপণকল্পে নানা ল্যাবরেটরি পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, আমাদের দেশে ম্যালেরিয়া, টাইফয়েড, শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ, টনসিলাইটিস, ইনফ্লুয়েঞ্জা, ল্যাপ্টোস্পাইরোসিস, মেনিনজাইটিস, চিকুনগুনিয়া জ্বর, টাইফাস বা সান্নিপাতিক জ্বর প্রভৃতি রোগ একই উপসর্গ নিয়ে মানব দেহে দেখা দিতে পারে। প্রয়োজনে একই রূপে ভিন্ন ব্যাধির সম্ভাবনা দূরীকরণকল্পে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক নানা ল্যাবরেটরি পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে।
চিকিৎসা
এই রোগের চিকিৎসা মূলত উপসর্গভিত্তিক। কারণ এই রোগের ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ওষুধ এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বাড়িতে রেখেই এই রোগের নিম্নলিখিত চিকিৎসা দেয়া যেতে পারে।
এই রোগের চিকিৎসায় পান করতে হবে পানিসহ প্রচুর তরল খাবার। তরল খাবার হিসেবে খাবার স্যালাইন, ডাবের পানি, ফলের রস, স্যুপ প্রভৃতি দেয়া যেতে পারে। অন্ততপক্ষে প্রতিদিন আড়াই থেকে তিন লিটার তরল খাবার খেতে হতে পারে। এই রোগের চিকিৎসায় তরল খাবার হিসেবে কোল্ড ড্রিংক পরিহার করাই উত্তম।
সেই সাথে নিশ্চিত করতে হবে উপযুক্ত শারীরিক বিশ্রাম।
জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ সেবন করা যেতে পারে।
সেই সাথে প্রয়োজন জ্বরের সময় দ্রুত দেহের তাপমাত্রা স্বাভাবিক আনার লক্ষ্যে রোগীর মাথায় ঠাণ্ডা জলপট্টি কিংবা সারা দেহ ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মুছে দেয়া যেতে পারে।
বমির জন্য প্রয়োজন হতে পারে বমিনাশক ওষুধ।
প্রয়োজনে রোগের জটিল পর্যায়ে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন হতে পারে। এই অবস্থায় প্রধানত রোগীকে শিরাপথে প্রয়োজনীয় স্যালাইন দেয়া যেতে পারে। সেই সাথে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে নিয়মিত রক্তের বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে আক্রান্ত ব্যক্তিকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।
অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের সময় প্রয়োজনে রোগীর শরীরে রক্ত দেয়া যেতে পারে। প্রয়োজনে তীব্র রক্তক্ষরণের সময় রোগীর রক্তে অনুচক্রিকার মাত্রা যখন প্রতি কিউবিক মিলি. এ দশ হাজারের কম কিংবা রক্তপাত হলে অনুচক্রিকার মাত্রা কমে প্রতি কিউবিক মিলি. এ পঞ্চাশ হাজার বা তার কম হলেও রোগীর শিরাপথে অনুচক্রিকা তথা প্লাটিলেট ট্রান্সফিউশনের প্রয়োজন হতে পারে।

রোগের জটিল পর্যায়ে রোগীর এক বা একাধিক অঙ্গ যখন অকার্যকর হয়ে পড়ে তখন এসব রোগীকে আইসিসিইউতে রেখে নিবিড় চিকিৎসা দেয়া হয়।
কখন রোগীকে হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন হতে পারে
বাড়িতে যথাযথ চিকিৎসা সত্ত্বেও রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি,
রোগী মুখে খাদ্য ও পানীয় খেতে না পারলে,
তীব্র পেট ব্যথা, তীব্র বমি,
হাত-পা ক্রমাগতভাবে ঠাণ্ডা ও নিস্তেজ হয়ে আসা,
তীব্র অবসাদ কিংবা রোগীর আচরণের অস্বাভাবিক পরিবর্তন,
রোগীর শরীরের বিভিন্ন জায়গা থেকে রক্তক্ষরণ,
ঋতুবতী মহিলার মাসিকের সময় অস্বাভাবিকভাবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ,
বিগত ৬ ঘণ্টা ধরে আক্রান্ত রোগীর প্রস্রাব না হওয়া,
রোগীর হাত-পা নীল হয়ে আসা,
রোগীর রক্তচাপ অস্বাভাবিক কমে গিয়ে শকে চলে যাওয়া,
শরীরের গতি অতি দ্রুত ও ক্ষীণ হয়ে আসা,
ক্যাপিলারি রিফিল টাইম ৩ সেকেণ্ডের বেশি হওয়া,
রোগীর রক্তে অনুচক্রিকার মাত্রা প্রতি কিউবিক মিলি-এ এক লাখের কম হওয়া,
রোগীর রক্তের ঘনত্ব তথা হেমাটোক্রিটের মাত্রা চল্লিশের বেশি হওয়া,
রোগীর বুক ও পেটে পানি জমা,
রোগীর যকৃতের আকার ২ সেমি.-এর বেশি বৃদ্ধি পাওয়া।
ডেঙ্গুর চিকিৎসায় যা করবেন না
কখনো ডেঙ্গু জ্বরে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত এসপিরিন বা ব্যথানাশক ওষুধ সেবন,
রক্তক্ষরণের প্রবণতা দেখা না যাওয়া পর্যন্ত শিরাপথে স্যালাইন দেয়া,

রক্তক্ষরণ তীব্র না হলে কিংবা রক্তের হেমাটোক্রিট অতিরিক্ত মাত্রায় কমে না গেলে রোগীকে রক্ত দেয়া,
রোগের চিকিৎসায় অযাচিতভাবে স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধের ব্যবহার,
রোগের চিকিৎসার প্রয়োজন না হলে এন্টিবায়োটিকের ব্যবহার,
শরীরের শিরাপথে স্যালাইন প্রবাহের গতি অপ্রয়োজনে অতি দ্রুত বাড়ানো বা কমানো,
রোগীর দেহে অদৃশ্যমান রক্তপাত সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য রোগীর পাকস্থলীতে নল ঢুকানো।
নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে করণীয়
প্রতিরোধই প্রতিকারের চেয়ে উত্তম পন্থা। তাই এই রোগের প্রতিরোধে নিম্নলিখিত পন্থাগুলো অনুসরণ করা যেতে পারে।
ক) ব্যক্তিগত পর্যায়ে
ঘুমানোর সময় বিশেষত বিকেল ও রাতে মশারি খাটিয়ে ঘুমানো,
মশকীর দংশন প্রতিরোধকল্পে গায়ে ও পরার কাপড়ে মশক নিবারক ক্রিমের ব্যবহার কিংবা প্রয়োজনে লম্বা হাতওয়ালা শার্ট ও ফুলপ্যান্টসহ মোজা পরিধান,
প্রয়োজনে বাড়িতে মশার প্রবেশ নিয়ন্ত্রণকল্পে বাড়ির সব জানালা, ভেন্টিলেটর মশা অনভিগম্য জালক বা স্ক্রিনের ব্যবহার।
খ) কমিউনিটি পর্যায়ে করণীয়
স্থির পানিই যেহেতু এডিস মশার বংশবিস্তারের প্রধান মাধ্যম। তাই গৃহস্থালির আশপাশে পড়ে থাকা পানি জমার বিভিন্ন আধার যেমন টিনের ক্যান, পরিত্যক্ত টায়ার, অব্যবহৃত পানির পাত্র, সেপটিক ট্যাংক, এয়ারকুলার প্রভৃতিতে যাতে পানি জমতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখা। প্রয়োজনে উপরোক্ত আবর্জনাগুলো অপসারণের দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।
প্রয়োজনে পানির ট্যাংক, হাউজ কিংবা ম্যানহোলের গর্তগুলো উপযুক্ত মশক অনভিগম্য ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। যাতে পানির আধারের পানিগুলো এডিস মশার বংশবিস্তারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হতে না পারে।


ফুলের টব বা ফুলদানিতে জমে থাকা পানি প্রতি তিন দিন অন্তর ফেলে দিতে হবে।
বাড়ির আশপাশের ঝোপজঙ্গল নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।
) রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে করণীয়
মশার নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে মশার দমনে নিয়মিতভাবে ব্যাপক হারে মশকনাশক বিভিন্ন কীটনাশক যেমনÑ ডিডিটি, পারমেথ্রিন প্রভৃতি দেয়া যেতে পারে।
মশার লাভা দমনে বাড়ির আশপাশের মজা পুকুর ডোবায় বিভিন্ন কীটনাশক যেমন কেরোসিন, পেরিসগ্রিন প্রভৃতি দেখা যেতে পারে। উপরোক্ত পুকুরে মশার লাভা সেবনকারী বিভিন্ন মাছ যেমন তেলাপিয়া, নাইলোটিকা কিংবা গাপ্পি মাছের চাষ পরিবেশবান্ধব বিকল্প পন্থা হতে পারে।
সেই সাথে রাষ্ট্রীয় সরকারি বেসরকারি পর্যায়ে ডেঙ্গু এর নিয়ন্ত্রণে যথাযথ স্বাস্থ্য শিক্ষার দেয়ার মাধ্যমে ডেঙ্গু রোগের প্রতিরোধ নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক গণসচেতনতা তৈরি করতে হবে। ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন ইলেকট্রনিক প্রিন্ট মিডিয়াগুলোতে এই জনসচেতনতা রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত ছড়িয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
আছে কি কোন টীকা?
সম্প্রতি বাংলাদেশে সানোফি-এভেন্টিস নামক ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানি কর্তৃক উদ্ভাবিত ডেঙ্গুর প্রতিরোধে ডেঙ্গাভেক্সিয়া নামক টীকা বাংলাদেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশনগুলোতে এর কার্যকারিতা নিরীক্ষার জন্য স্বল্পপরিসরে পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে দেয়া হচ্ছে। তথাপি সর্বসাধারণের ব্যবহারের জন্য এর সবুজ টিকিট পেতে হলে আমাদের আরো কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে

লেখক : ডা: মো: কফিল উদ্দিন চৌধুরী, মেডিসিন ও মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, ঢাকা।


আরও খবর



আড়াইশ বছরের ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে কোরবানির মাংস দেড় হাজারের উপরে ভাগ করা হয়

প্রকাশিত:বুধবার ১৯ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ১৪ জুলাই ২০২৪ |

Image



সদরুল আইন:


ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়নের বৈলাজান গ্রামে ঈদ উল আজহা উপলক্ষে দেশের অন্যতম কোরবানির মাঠে ১৫৬টি খাসি ৭০টি গরু কোরবানী করা হয়েছে।


 কোরবানির মাংসের বন্টন হয়েছে ১৫শ ৫৫টি। আাড়াইশ বছরের ঐতিহ্যবাহী কোরবানির মাঠ দেশের বৃহত্তম কোরবানির মাঠ বলে বলে দাবী করেন অনেকে।  


উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়নের বৈলাজান গ্রামের কোরবানির মাঠটি দুটি ঈদগাহ ও সাতটি মসজিদ সমাজ নিয়ে গঠিত। এ কোরবানির সমাজের এ বছর ১৫৬টি খাসি ও ৭০টি গরু কোরবানি করা হয়েছে। 


জানা যায়, বৈলাজান কোরবানির মাঠে সকাল ১০টা থেকে শুরু হয় পশু জবাই, মাংস তৈরির কাজ চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত। এ উপলক্ষে মাঠে বিরাজ করে আনন্দ ঘন পরিবেশ। 


যার যার কোরবানিকৃত পশুর মাংস বানাতে নিজেরাই ব্যস্ত  হয়ে পরে। মাঠে এক পাশে বসে দোকান। ছোট ছেলে মেয়েরা আনন্দ উল্লাস করে থাকে। এ কোরবানির মাঠে রয়েছে এক ঐতিহ্যবাহী নিয়ম।



 এখানে পশু জবাই করার পর তা তিন ভাগের একভাগ মাংস জমা রাখতে হয়। যেখানে জমা রাখা হয় তাকে বলা হয় পঞ্চায়েত। পঞ্চায়েতে দায়িত্বে থাকা সেচ্ছাসেবীরা কোরবানি সমাজের ১৫৫৫টি খানার মধ্যে তা সমান হারে বন্টন করে যার যার বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করে থাকে।



পঞ্চায়েত সভাপতির দায়িত্ব থাকা ইউপি সদস্য মো. শাজাহান মিয়া বলেন, ‘আমাদের এ কোরবানির মাঠ কবে থেকে শুরু হয়েছে তা আমরা বলতে পারব না। আমার দাদা বাবারা এই মাঠে কুরবানি করেছেন। আমার দাদা করেছে আমার বাবা করেছে আমরাও কোরবানি করছি।’ 


এ ব্যাপারে অন্যান্যরা বলেন, এই কোরবানির মাঠে আমাদের বাপ দাদারা ও কোরবানি করেছে। এটি আমাদের ভাতৃত্বের বন্ধনকে সুদৃড় করে। এটি আমাদের গ্রামের একটি ঐতিহ্য।


আরও খবর



রাজধানী ঢাকা এখন ফাঁকা

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৮ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ১৪ জুলাই ২০২৪ |

Image

পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে রাজধানী ছেড়েছেন লাখো মানুষ। কেউ গেছেন গ্রামের বাড়িতে, আবার কেউ পরিবার নিয়ে বেড়াতে গেছেন কোনো পর্যটন স্থানে। ফলে রাজধানীতে মানুষের চাপ নেই বললেই চলে।

মানুষের চাপ কমে যাওয়ায় এর প্রভাব পড়েছে রাজধানীর সড়কেও। দেখা যায়নি চিরচেনা যানজট। গণপরিবহনে ওঠার জন্য নেই কোনো হুড়াহুড়ি। সবমিলিয়ে ঈদের ছুটিতে ফাঁকা রাজধানীর রাজপথ।

মঙ্গলবার (১৮ জুন) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজধানীর কুড়িল, বাড্ডা, রামপুরা, শান্তিনগর ও পল্টন এলাকা ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকে ঢাকার রাজপথে যানবাহন ও যাত্রীদের উপস্থিতি একেবারেই কম। রাস্তায় হাতেগোনা কয়েকটি গণপরিবহন চলছে, এসব বাসেও যাত্রীর সংখ্যা খুব কম। অন্যদিকে রাস্তায় কিছু ব্যক্তিগত যানবাহন, সিএনজি অটোরিকশা ও রিকশা চলাচল করছে।

রাস্তায় বের হওয়া মানুষজন জানান, ঈদের ছুটিতে রাস্তা ফাঁকা থাকায় এক ঘণ্টার রাস্তা ১০-১৫ মিনিটে যাওয়া যাচ্ছে।

রাজধানীর রামপুরা থেকে বাসে উঠে ২০ মিনিটে কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় পৌঁছেছেন রজব আলী। তিনি বলেন, ফাঁকা ঢাকায় ঈদের ছুটিতে ঘুরতে বের হয়েছি। রাজধানীতে মানুষের চাপ নেই বললেই চলে। মাত্র ২০ মিনিটের রামপুরা থেকে কুড়িল বিশ্বরোড এসেছি। আগে এ রাস্তায় এলে তো ঘণ্টা পার হয়ে যেত। ফাঁকা ঢাকায় ঘুরতে ভালোই লাগছে।

এদিকে, ফাঁকা ঢাকায় অনেকে রিকশায় চেপে ঘুরতে বের হয়েছেন। রাজধানীর বাড্ডা এলাকা থেকে রিকশায় করে ঘুরতে বের হওয়া যাত্রী শামসুল হক বলেন, এবারের ঈদ ঢাকাতে পালন করেছি। ঈদে সবচেয়ে ভালো লাগে ঢাকার ফাঁকা রাস্তা। এসময়ে রিকশা দিয়ে ঘুরতে খুব ভালো লাগে। তাই আজ পরিবার নিয়ে বের হয়েছি রিকশা দিয়ে ঘোরাঘুরি করার জন্য।

তবে রাস্তা ফাঁকা হলেও কিছুক্ষণ পরপর গণপরিবহন দেখা যাচ্ছে ঢাকার রাস্তায়।ঢাকায় যে অল্পসংখ্যক মানুষ রয়ে গেছেন তারা ঈদের ছুটিতে আত্মীয়-স্বজনের বাসায় যাচ্ছেন, ঘুরতে বের হচ্ছেন। এ কারণে স্বল্পসংখ্যক যাত্রী নিয়েই গণপরিবহন চলছে। ঈদের উপলক্ষ্যে ভাড়া কিছুটা বেশি নেওয়া হচ্ছে বলে জানান যাত্রীরা।

সদরঘাট থেকে উত্তরাগামী ভিক্টর ক্লাসিকের একটি বাসের চালক জুনায়েদ বলেন, এখন রাস্তায় চাপ নেই, যাত্রীও নেই। তারপরও মাঝেমধ্যে কিছু যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে, সেজন্য গাড়ি নিয়ে বের হয়েছি। সদরঘাট থেকে উত্তরা এখন পর্যন্ত দুই ট্রিপ দিয়েছি। রাস্তা একদম ফাঁকা, কোথাও বিন্দুমাত্র যানজট নেই।


আরও খবর



সুবর্ণচরে ৭০০ একর খাস জমি দখলের অভিযোগ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে

প্রকাশিত:বুধবার ১০ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ১৪ জুলাই ২০২৪ |

Image
 নোয়াখালী প্রতিনিধি::

নোয়াখালী সুবর্ণচরের মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের চরলক্ষী,উরিরচর ও চর নোমান মৌজার ১ নং খাস খতিয়ানের প্রায় ৭ শত একর খাসজমি দখলের অভিযোগ উঠেছে কবিরহাটের ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামাল কোম্পানী ও মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে। ভূমিহীন কৃষকদের ফসল নষ্ট করে এরই মধ্যে তারা এক সাথে প্রায় অর্ধশতাধিক পুকুর খননের কাজ চালাচ্ছে।  

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার চরলক্ষী,উরিরচর ও চর নোমান মৌজার ১ নং খাস খতিয়ানের প্রায় ৭শত একর খাসজমি ৫শতাধিক ভূমিহীন কৃষকের দখলে চাষাবাদ হতো। ২০১৪ সালে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) সমুদ্র গবেষণার জন্য ৪০০ একর খাসজমি সরকারের কাছে বরাদ্দ চায়। ওই প্রস্তাবনার প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনও শিক্ষামন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করে। এরপর থেকে ওই খাসজমিতে শেখ হাসিনা সমুদ্র বিজ্ঞান ও সামুদ্রিক সম্পদ ইউনিস্টিটিউট স্থাপনে ১৫০ একর খাসজমি বন্ধোবস্ত প্রক্রিয়াধীন। নোবিপ্রবির প্রস্তাবিত জায়গায় বাহিরে ৫শত ভূমিহীন পরিবার সেই জমিতে চাষাবাদ করে আসছিলো। সম্প্রতি উপজেলা নির্বাচনের পর থেকে একটি প্রভাবশালী মহল  ভূমিহীনদের ভয়ভীতি দেখিয়ে পুরো ৭শ একর জায়গা জুড়ে অবৈধভাবে দখলের মহোৎসবে মেতে উঠে। সেখানে নোবিপ্রবির প্রস্তাবিত শেখ হাসিনা সমুদ্র বিজ্ঞান ইউনিস্টিটিউট সাউনবোর্ড থাকলেও সেটির তোয়াক্কা না করে কবিরহাটের ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামাল কোম্পানী ও মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ ও তাদের লোকজন খাসজমি দখল করে প্রজেক্ট করার জন্য ভেকু মেশিন দিয়ে দিনরাত মাঠি কেটে যাচ্ছে। অভিযুক্ত দুই ইউপি চেয়ারম্যান সুবর্ণচর উপজেলার দুই শীর্ষ জনপ্রতিনিধির আস্থাভাজন অনুসারী হিসেবে পরিচিত।    

গত মঙ্গলবার ৯ জুলাই দুপুরের দিকে ভূমিদস্যুদের এমন একচেটিয়া দখল ও হুমিকর প্রতিবাদে ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে উপজেলার  চরলক্ষী গ্রামে প্রতিবাদ মিছিল করে ভূমিহীন নদী ভাঙ্গা প্রায় শতাধিক মানুষ।

এলাকবাসী ও ভূমিহীনরা অভিযোগ করে বলেন, জেলার কবিরহাট উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামাল কোম্পানী ও মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ দুই সপ্তাহ ধরে ৩০ থেকে ৪০ টি ভেকু মেশিন দিয়ে ৭শত একর জায়গা জুড়ে প্রজেক্ট করার  কাজ শুরু করে। তাদের দাবি শেখ হাসিনা সমুদ্র বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট হলে তাদের কোন আপত্তি নেই। কিন্তু সেটি না করে এতো বিশাল সরকারি খাসজমি ২/৪ জন লোক গিলে খাবে, সেটি কি করে হয়। 

প্রতিবাদ সামবেশে ভূমিহীনরা অভিযোগ করে আরও বলেন, দীর্ঘ ৩০ থেকে ৩৫ বছর ধরে তারা সেখানে বসবাস করছেন।  সম্প্রতি উপজেলা নির্বাচন শেষ হবার পর একটি মহল তাদেরকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের সকল ঘরবাড়ী ভেঙ্গে উচ্ছেদ করে দেয়। এরপর ১শ একরের মত জায়গায় তাদের রোপন করা শিম,শসা, কচুসহ নানা প্রজাতির সবজি ও মাছের ঘের ধ্বংস করে দেয়। তবে প্রভাবশালীদের ভয়ে কেউ মুখ খুলেনা। 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামাল কোম্পানী খাসজমি দখলের অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেন, এ জায়গার মালিক শাহজাহান নামে এক প্রবাসী বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি আমাকে পাওয়ার দিয়েছেন জায়গাটি দেখাশোনার জন্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের জায়গা হলে তারা কাগজ থাকলে জায়গা নিয়ে যাবে। তাদের জায়গা কেউ ধরে রাখতে পারবেনা।     

মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবু্ল কালাম আজাদ আমি জমি দখলের সাথে জড়িত নেই। তবে এটা আমাদের নৌকা মার্কার প্রার্থীর নির্বাচনী ইশতেহার ছিল আমরা জনগণের জমি জনগণকে বুঝিয়ে দেব। আগে এসব জায়গা তাদের লোকজনের ছিল বলেও দাবি করেন সাবেক এ চেয়ারম্যান।    

সুবর্ণচর উপজেলা কমিশনার (ভূমি) অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, অবৈধ দখলের অভিযোগ পেয়ে দুই দফা অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে ১১টি মাঠি কাটার ভেকু মেশিন জব্দ করে কয়েকটি সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড এবং লাল পতাকা উত্তোলন করে দেওয় হয়। একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের বাদের জন্য আটক করে নিয়ে আসা হয়। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. দিদার-উল-আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।     

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. দিদার-উল-আলম বলেন, ওই জায়গা শেখ হাসিনা সমুদ্র বিজ্ঞান ও সামুদ্রিক সম্পদ ইনস্টিটিউটের প্রস্তাবিত স্থান। ১ নং খাস খতিয়ানভূক্ত ভূমিতে অবৈধভাবে কোনরুপ স্থাপনা নির্মাণসহ অবৈধভাবে দখল আইনগতভাবে নিষিদ্ধ। উক্ত জমি অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা করা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। ভূমিহীনদের বিনা নোটিশে তাড়িয়ে দেওয়া অমানবিক। ভূমিহীনদের পুর্নবাসন না করে কোন কিছু করা ঠিকনা। এত কিছু থাকার পরও যারা খাসজমি দখল চায় তারা মানসিক ভাবে অসুস্থ।   

আরও খবর