Logo
শিরোনাম

সুফিবাদের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ৩০ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ১৪ জুলাই ২০২৪ |

Image

মাজহারুল ইসলাম মাসুম, সিনিয়র সাংবাদিক লেখক ও গবেষক :

আল্লাহের নিকট একমাত্র গ্রহণযোগ্য দীন হল ইসলাম।আল্লাহ তায়ালা মানব জীবনের সকল কর্মকাণ্ডসমূহ সঠিকভাবে পরিচালনা করার জন্য হযরত মুহাম্মদ(সাঃএর মাধ্যমে  জীবন বিধান পেশ করেছেন।ইসলাম ধর্ম মানুষের ব্যক্তিগত,পারিবারিক,সামাজিক,রাষ্ট্রীয়,ইহলৌকিক  পারলৌকিক প্রভৃতি বিষয় ধর্মীয় দিক-নির্দেশনা দিয়ে থাকে।মানব জীবনের প্রতিটি প্রতিদিকে দুটি স্তর রয়েছে যার একটি হল বাহ্যিক(বস্তুগতদিক আরেকটি হল আভ্যন্তরীন (আধ্যাত্মিকদিক।ইসলাম মানুষের দুটি দিক নিয়ে গভীরভাবে পর্যালোচনা করে।মানুষকে আশরাফুল মাখলুকাত  শুধু তার দেহের জন্য করে নাই বরং তার একটি বাতিনী দিক আছে যা হল আত্মা।আত্মার শান্তির জন্য মানবতা যুগে যুগে জড়বাদ,বস্তুবাদের আবর্তে ঘুরছে।কিন্তু প্রকৃত শান্তি তারা খুজে পায় নাই।তাই কবি শেখ সাদী (.) বলেন,

 

 এই সমুদ্রে হাজার কিশতী ডুবে গেছে;কিন্তু একটিও ভেসে উঠে নদীর তীরে পৌছে নাই

জড়বাদ মানুষের যে অধিকার ছিনিয়ে নিয়েছে তা বুদ্বিবাদ তা পূর্ণ করতে পারে নাই আর তার শূন্যতা পূরণ করেছে ইসলামের আধ্যাত্মিকতা।আর ইসলামের এই আধ্যাত্মিক জ্ঞানের নাম হল সূফীবাদ।মানুষের জীবন আত্মা এবং দেহের সমন্বয় গঠিত।যে জ্ঞানের সাহায্যে আত্মাকে পরিশুদ্ব করা যায় তাই হল তাসাউফ।

 

সূফি শব্দের উৎপত্তি

 

সূফি শব্দটি কোন শব্দ হতে এসেছে সে ব্যাপারে মুসলিম পণ্ডিতদের ভিতর বেশ কয়েকটি মতামত পাওয়া যায়।সেগুলো নিয়ে নীচে আলোচনা করা হলঃ

 

প্রথম মতামতঃ  ইবনে খালিদুন,. আফিফী,আল-কালবাদী,আর-রুদবারী,আবূ নসর আস-সাররাজ প্রমুখ পণ্ডিতগণের মতে,সূফী শব্দটি সূফূন হতে নির্গত যাত অর্থ হল পশম।পশমী বস্ত্র সরলতা  আড়ম্বহীনতার প্রতীক।হযরত মুহাম্মদ(সাঃ তার সাহাবাগণ বিলাসী জীবন-যাপনের পরিবর্তে সাদা-সিদে পোশাক পরতেন এবং পরবর্তীতে সূফীগণ সাদাসিধা জীবন-যাপনের জন্য এই পোশাল গ্রহণ করে কম্বল-সম্বল করে চলেন বলে তাদেরকে সূফী বলা হয়।

 

দ্বিতীয় মতামত কারো মতে সূফী কথাটি সফফুন হতে নির্গত যার অর্থ হল কাতার,শ্রেণী,লাইন ইত্যাদি।যেহেতু সে মর্যাদার দিক দিয়ে প্রথম শ্রেণীর লোক।এজন্য তাদের সূফী বলা হয়।

 

তৃতীয় মতামতআলী হাজাবিরী,মোল্লা জামী (র।এর মতেসূফী কথাটি সাফা হতে নির্গত যার অর্থ হল পবিত্রতা,আত্মশুদ্বি  স্বচ্ছলতা।যারা আত্মার পবিত্রকরণ সাধনায় নিয়োজিত থাকেন তাদেরকে সূফী বলা হয়।

 

চতুর্থ মতামতকিছু পাশ্চত্যের পণ্ডিত বলেছেন যে সূফী কথাটি সোফিয়া বা সোফিস্ট কথা হতে নির্গত হয়েছে যার অর্থ হল জ্ঞান।কিছু মানুষ আধ্যাত্মিক জ্ঞানের অধিকারী বলে তাদেরকে সূফী বলা হয় আর  শাস্ত্রকে তাসাউফ বলা হয়।

তবে শেষোক্ত মতামত একেবারে অগ্রহণযোগ্য।কারণ বিদেশি কোন শব্দ হতে ইসলামের কোন একটি বিষয় নির্গত হবে তা হতে পারে না।

 

অন্যদিকে প্রথম তিনটি মতামতের ভিত্তিতে যে সূফী শব্দটি এসেছে তাও অনেকে মানতে নারাজ।  ব্যাপারে 

ইসলামে সূফী দর্শন নামক প্রবন্ধে বলা হয়েছে যে,

 

সূফী কথাটি যে সুফূন(পশমহতে নির্গত তা গ্রহণযোগ্য নয়।কারণ এর দ্বারা সূফীদের কেবল পোশাক-পরিচ্ছেদ  অবয়বের কথা বলা হয়েছে।যেহেতু সূফিবাদ মানুষের বাতিনী দিকের পরিচায়ক তাই এই বাহ্যিক দিকের নির্দেশক পশম হতে সূফীর উৎপত্তি হয়েছে তা যুক্তিসঙ্গত নয়।আবার সাফা(পবিত্রতাহতে যে সূফী কথাটি এসেছে তাও গ্রহণযোগ্য নয়।কারণ এটা হল সূফীদের জীবন-

 

সাধনার একটি নির্দেশক মাত্র।আবার সফফুন হতে সূফী এসেছে  কথাও বিশ্বাস করা যায় না কারণ তা একটি কাল্পনিক ধারনামাত্র।

 

একমাত্র আহলে সূফফা(বারান্দার অধিবাসীশব্দে সূফী তত্ত্বের  সূফী জীবনের বাহ্যিক  আভ্যন্তরীন দিক পরিস্ফূট হয়ে উঠে।তারাই পশমী পোশাক সর্বদা পরিধান করতেন এবং সর্বদা আল্লাহের যিকিরে মশগুল থাকতেন।তারা আল্লাহের সম্মানে চাদরাবৃত।তারাই নবী করিম (সাঃএর সাহচর্যে থেকে সর্বদা আভ্যন্তরীন  বাহ্যিক জ্ঞান অর্জন করেছিলেন। কাজেই আহলে সুফফা হতে যে সূফী কথাটির উদ্ভব ঘটেছে তা অকাট্যভাবে প্রমাণিত।(সূত্রঃ ইসলাম  আধ্যাত্মিকতাঃ১০৩)

 

সূফিবাদের পারিভাষিক সংজ্ঞা

 

সূফীবাদের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে মুসলিম দার্শনিকবৃন্দ  আধ্যাত্মিক সাধনায় সাধনাকারী ব্যক্তিবর্গ বিভিন্নভাবে সংজ্ঞা প্রদান করেছেন।তার ভিতর প্রধান প্রধান কয়েকটি সংজ্ঞা হল নিম্নরুপঃ

ইমাম শামী (.) বলেন,

 

সূফীবাদ হল আধ্যত্মিক জ্ঞান যে জ্ঞানের সাহায্যে মানুষের সৎ গুণাবলীর প্রকারভেদ এবং তা অর্জনের পন্থা  অসৎ গুণাবলীর প্রকারভেদ  তা থেকে রক্ষার উপায় জানা যায়।

 

জুনায়েদ বাগদাদী(রঃবলেছেনআত্মিক পবিত্রতা অর্জন  আল্লাহ ছাড়া সবকিছু হতে প্রভাবমুক্ত হওয়ার নাম হল ”

 

যুন্নন মিসরীর মতেআল্লাহ ছাড়া আর যা কিছু আছে সবকিছু বর্জন করার নাম হল সূফীবাদ।

ইমাম গাযযালী(.)বলেনতাসাউফ এমন একটি বিদ্যা যা মানুষকে পশু হতে উন্নীত করে,মনুষ্যত্বের চূড়ান্ত প্ররযায়ে পৌছিয়ে দেয়।তিনি আরো বলেন,

 

সূফীবাদ হল মুমিনদের অন্তরের জ্যোতি যা নবী করীম (সাঃএর প্রদীপ হতে গ্রহণ করা হয়েছে।

বায়জীদ বোস্তামী (.) বলেনআল্লাহের ইবাদতে মগ্ন থাকা  আল্লাহকে পাওয়ার উদ্দেশ্যে পার্থিব দুঃখ-কষ্ট বরণ করার নাম হল সূফীবাদ।

 

শায়খুল ইসলাম যাকারিয়া (.) বলেনতাসাউফ মানুষের আত্মার বিশোধনের শিক্ষা দান করে।তার নৈতিক জীবনেকে উন্নীত করে এবং স্থায়ী নিয়ামতের আধিকারী করার উদ্দেশ্যে মানুষের ভেতরের  বাইরের জীবনকে গড়ে তুলে। এর বিষয়বস্তু হল আত্মার পবিত্রতা  লক্ষ্য হল চিরন্তন সুখ শান্তি অর্জন।

 

আবূ মুহাম্মদ আয-যারিনি বলেছেন“Sufism is the building up of good habits and freeing of heart from all evil desires.”

তাহলে বলা যায় যেনবী করিম (সাঃএর নির্দেশিত পথে আত্মশুদ্বি করে ইসলামের বাহ্য  অন্তর জীবনের প্রেমপূর্ণ বাস্তব অনুশীলনের মাধ্যমে পরম সত্তার পূর্ণ জ্ঞানার্জন  তার নৈকট্য লাভজনিত রহস্যময় উপলব্ধিকে সূফীবাদ বলা হয়।

 

সূফিবাদের উৎপত্তি

সূফিবাদের উৎপত্তি কিভাবে হয়েছে তা নিয়ে পণ্ডিতদের ভিতর মতবিরোধ লক্ষ্য করা যায়।সূফীবাদ কথাটি মুসলমানদের ভিতর থেকে কিভাবে এসেছে সেসব মতামতসমূহ নিম্নঃরুপঃ

 

বেদান্ত  বৌদ্ব দর্শনের প্রভাব

খ্রিষ্টনিয়  নিও-প্লেটানিক প্রভাব

.পারসিক প্রভাব

.কুরআন হাদীসের প্রভাব

 

উপরের তিনটি মতবাদকে আভ্যন্তরীন মতবাদ বলা হয় আর শেষেরটিকে বাহ্যিক উৎস বলা হয়।এসকল মতবাদ নিয়ে নীচে আলোচনা করা হলঃ

 

বেদান্ত  বৌদ্ব দর্শনের প্রভাবঃ পশ্চাত্যের কিছু চিন্তাবিদ তথা গোল্ডযিহার,এইচ মার্টেন এর মতে,সূফিবাদ বেদান্ত দর্ষন  বৌদ্ব দর্শন হতে উদ্ভূত।কারণ,মুসলমানেরা যখন ভারতীয় উপমহাদেশে আগমন করে এরপর থেকে ভারতীয় সন্ন্যাসী  বেদান্ত বৌদ্বদের প্রভাবে প্রভান্বিত হয়ে মুসলমানগণ কঠোর সংযম  কৃচ্ছতা সাধনের স্পৃহা জাগিয়ে তুলে।আর সে থেকে মুসলমানদের ভিতর সূফিবাদের উদ্ভব ঘটে। পারতপক্ষে  ধরনের মতামত ঐতিহাসিক দৃষ্টিভংগী অনুযায়ী সঠিক নয়।কারণ ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলমানেরা আসার অনেক আগে থেকে সুফিবাদ কথাটির উদ্ভব ঘটেছিল।হাসান বসরী,যুন্নুন মিসরী,আবুল হাশিম কূফী,ইব্রাহীম বিন আদহাম রাবিয়া বিসরী প্রমুখ সূফিদের আবির্ভাব  সাধনা প্রমাণ করে যে,সূফিবাদ ভারতীয় আমদানি নয়,ইসলামের আধ্যাত্মিক শিক্ষার ফলে সূফিবাদের উদ্ভব ঘটে।তাছাড়া বৌদ্ব সন্যাসীগণ জাগতিক কার্যক্রমলে সম্পূর্ণরুপে অস্বীকার করে আর তার ধ্যান-সাধনার জন্য নির্জন জায়গা বেছে নিয়েছে।অন্যদিকে মুসলিম সূফী-সাধকগণ আল্লাহ পাকের ধ্যান করার সাথে সাথে সংসারও করে থাকেন। আবার বৌদ্ব ধর্মে নির্বাণ সত্তায় আত্মবিলোপ শেষ আর মুসলিম সূফিগণ ফানাকে শেষ স্তর বলে মনে করে না বরং তারা বাকাবিল্লাহকে সূফী-পথ পরিক্রমার সর্বশেষ স্তর মনে করে থাকে।সুতরাং,বৌদ্ব  বেদান্ত হতে সূফিবাদের উৎপত্তি হয়েছে  ধরনের মতবাদ সম্পূর্ণরুপে ভিত্তিহীন।

 

.খ্রিষ্টিয়  নিওপ্লেটিক মতবাদঃ অধ্যাপক নিকলশন  ভনক্রেমার  মতামত ব্যক্ত করেছেন যেমুসলমানদের ভিতর সূফিবাদের আবির্ভাব ঘটেছে খ্রিষ্টিয়  নিওপ্লেটিক মতবাদ হতে।তারা  কথা অত্যন্ত জোড় দিয়ে বলেছেন যেযখন মুসলিমরা মিসর,সিরিয়া,প্যালাষ্টাইন প্রভৃতি দেশ জয় করতে থাকে সে অবস্থায় খ্রিষ্টীয় চিন্তা-দর্শন মুসলিম চিন্তা-দর্শনের ভিতর আবির্ভূত হয়  এবং এরই প্রভাবে তপস্যা  সংযমবাদের অনুপ্রবেশ সূফীদের ভিতর ঢুকে আর সেই থেকে সূফিবাদের আবির্ভাব ঘটেছিল। নিকেলসন  কথা অত্যন্ত জোড় দিয়ে বলেছেন যে,সে সময় মুসলিম সম্রাজ্যের অনেক জায়গায় জাষ্টিয়ানদের আধিপাত্য ছিল আর সে থেকে সূফিবাদের উৎপত্তি হয়েছে।পারতপক্ষে  ধরনের মতাবাদ সঠিক নয়।কারণ মুসলিম সূফি-

 

সাধকগণ খ্রিষ্ট্রীয় সন্যাসীদের ন্যায় সংসার বিরাগী নয়।আর তাছাড়া মহানবী (সাঃ),সাহাবা  তাবিঈদের সময় হতে  ধরনের আধ্যাত্মিক সাধনায় মুসলমানেরা নিয়োজিত ছিল।তাই খ্রিষ্ট্রীয়  নিউপ্লেটনিক মতবাদ হতে যে সূফিবাদের উদ্ভব ঘটেছে  ধরনের কথা সম্পূর্ণরুপে অযৌক্তিক।

 

পারসিক প্রভাবঃ ঐতিহাসিক ব্রাউনি আর তার কিছু অনুসারীরা বলেছেন যে,সূফিবাদের উৎপত্তি ঘটেছে পারসিক প্রভাব হতে।তারা  যুক্তি সকলের সামনে তুলে ধরেছে যেপারসিক জাতি ছিল এক অহংকারী  দম্ভ জাতি।কিন্তু তাদের উপর যখন আরবেরা জয় করল তখন হতে তাদের ভিতরে এক ধরনের হতাশা কাজ করতে শুরু করল।সেখান থেকে তারা আধ্যাত্মিক সাধনায় নিয়োজিত থাকের ব্যাপারে এক ভিন্ন চিন্তা-

 

ধারা আবিষ্কার করে আর সেখান থেকে সূফিবাদের আবির্ভাব ঘটে আর তারই ধারাবাহিকতায় পারস্যে অনেক দার্শনিক আবির্ভূত হয়।পারস্যের ভিতর যে ম্যানিকীয়  ম্যাজদেকীয় ধর্মের অস্তিত্ব ভিতর সূফিবাদের কৃচ্ছতাপূর্ণ জীবন-যাপনের উপকরণ খুজে পাওয়া যায়। পারতপক্ষে  ধরনের কথাও সম্পূর্ণ অযৌক্তিক  ভিত্তিহীন।কারন বেশিরভাগ সূফী পারস্যের হলেও তার মানে  বুঝায় না যেসূফিবাদ পারস্য হতে এসেছে।কারন আবূ বকর ইবনুল আরাবী  ইবনুল ফরিদসহ অনেক দার্শনিক আরবীভাষী ছিলেন। আর আমাদের প্রিয়নবী (সাঃ),সাহাবীগণ  তাবিঈগণের সময় হতে এক ধরনের তাপস্যা শুরু হয় এবং তারা বিদেশী ধ্যান-ধারনা থেকে সম্পূর্ণমুক্ত ছিলেন।।

 

.কুরআন  হাদীসের প্রভাবঃ সূফিবাদ যে কোন বাইরের চিন্তা-দর্শনের দ্বারা প্রভাবিত হয় নাই তা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।ইসলামী আধ্যাত্মিক শিক্ষার মূল উৎস হল আল-কুরআন।যদিও কুরআন  হাদীসে সূফিবাদ শব্দটি সরাসরি ব্যবহার করা হয় নাই তবুও কুরআনের অসংখ্য আয়াত  রাসূল(সাঃএর অসংখ্য হাদীসের দ্বারা সূফিবাদ তথা আধ্যাত্মিক জ্ঞানের দিকে বিশেষভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে।ইবনে খালিদুন অত্যন্ত জোড় গলায় বলেছেন যেসূফিবাদ এমন এক ধর্মীয় বিজ্ঞান যার উৎপত্তি  খোদ ইসলাম হতে হয়েছে কুরআনের অসংখ্য আয়াত রয়েছে যার দ্বারা মরমীধারাকে ইসলাম বিশেষভাবে উৎসাহিত করেছে।সেখান হতে কিছু আয়াত নীচে উল্লেখ করা হলঃ

 

তাঁর সিংহাসন সমস্ত আসমান  যমীনকে পরিবেষ্টিত করে আছে।[বাকারাঃ২৫৫]

 

তিনি তোমাদের সাথে আছেন তোমরা যেখানেই থাক[হাদীদঃ৪]

 

তিনিই প্রথমতিনিই সর্বশেষতিনিই প্রকাশমান  অপ্রকাশমান এবং তিনি সব বিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত।” [হাদীদঃ৩]

আমি মানুষ সৃষ্টি করেছি এবং তার মন নিভৃতে যে কুচিন্তা করেসে সম্বন্ধেও আমি অবগত আছি। আমি তার গ্রীবাস্থিত ধমনী থেকেও অধিক নিকটবর্তী।” [ক্বাফঃ১৬]

 

সুতরাং তোমরা আমাকে স্মরণ করআমিও তোমাদের স্মরণ রাখবো [বাকারাঃ১৫২]

 

যারা আমার পথে সাধনায় আত্মনিয়োগ করেআমি অবশ্যই তাদেরকে আমার পথে পরিচালিত করব।” [আ্নকাবূতঃ৬৯]

তারা খাঁটি মনে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহ্র ইবাদত করবে,” [বাইয়েনাহঃ৫]


আরও খবর



নওগাঁয় বিয়ের আগের দিন সড়কেই ঝরলো এক যুবকের প্রাণ

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৪ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ১৪ জুলাই ২০২৪ |

Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, সিনিয়র রিপোর্টার :

বিয়ে করার জন্য মোটরসাইকেল যোগে বাড়ি ফেরার পথে সড়কেই ঝরলো জসিম উদ্দিন (২৩) নামে এক এনজিও কর্মীর প্রাণ।

বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার খাজুর ইউপির দেবীপুর মোড়  নামক স্থানে দুটি মোটরসাইকেল এর মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটলে এদূর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত জসিম উদ্দীন নওগাঁর পাশ্ববর্তী চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার বেগম-নগর গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে ও প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির মহাদেবপুর উপজেলার মহিষবাথান শাখার প্রশিক্ষণার্থী জুনিয়র অফিসার ছিলেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন জানান, নিহত জসিম উদ্দীনের আগামীকাল শুক্রবার বিয়ে হওয়ার কথা ছিলো। তিনি বিবাহ করার জন্যই অফিস ছুটি নিয়ে মোটরসাইকেল যোগে  নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। ফেরার পথে দেবীপুর মোড় নামক স্থানে পৌঁছালে এসময় গ্রামের ভেতর থেকে আসা অপর একটি মোটরসাইকেলের সাথে তার মোটরসাইকেল (দুটি মোটরসাইকেল) সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। জসিম উদ্দিন এর মৃত্যুর খবর তার গ্রামে পৌছার পর থেকে এলাকা জুড়ে লোকজনের মাঝে নেমে এসেছে শোকের ছাঁয়া। দূর্ঘটনার পর পরই নিহতের অফিসের সহকর্মী ও স্বজনরা দূর্ঘটনাস্থল থেকে মৃতদেহ বাড়িতে যায়।


আরও খবর



শিবচরে হবে দেশের প্রথম আইন বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশিত:শনিবার ০৬ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ১৪ জুলাই ২০২৪ |

Image

মাদারীপুরের শিবচরে দেশের প্রথম আইন বিশ্ববিদ্যালয় হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। শনিবার (৬ জুলাই) সকলে শিবচরে বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণের জায়গা পরিদর্শনে গিয়ে এ কথা বলেন আইনমন্ত্রী।

আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে প্রথম একটা আইন বিশ্ববিদ্যালয় হবে। যেটার নাম হবে বাংলাদেশ আইন বিশ্ববিদ্যালয়। সেই বিশ্ববিদ্যালয়টি করা হবে শিবচরে।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, শিবচরে একটি ন্যাশনাল জুডিশিয়াল একাডেমি নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণের কাজ চলমান রয়েছে। শিবচরে বিচার বিভাগ থেকে দুটি প্রতিষ্ঠান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। একটি ন্যাশনাল জুডিশিয়াল একাডেমি, অপরটি আইন বিশ্ববিদ্যালয়।

জানা যায়, শনিবার সকাল থেকে জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ নূর ই আলম চৌধুরীকে নিয়ে শিবচর উপজেলার কুতুবপুর, পৌরসভার চরশামাইল ও ঠেঙ্গামারা মৌজায় আইন বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণের জন্য জায়গা পরিদর্শন করেন আইনমন্ত্রী। পরে দুপুরে মন্ত্রী শিবচর উপজেলা পরিষদ চত্তরে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

এসময় আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো: গোলাম সারওয়ার, আইন ও বিচার বিভাগের যুগ্ন সচিব (প্রশাসন-১) বিকাশ কুমার সাহা, মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মারুফুর রশিদ খান, জেলা জজ (অতিরিক্ত দায়িত্ব) তারেক মঈনুল ইসলাম ভূঁইয়া, চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশিদ নীরবসহ জেলায় কর্মরত বিচার বিভাগের কর্মকর্তারাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


আরও খবর



নেপালে ভূমিধস ও বন্যায় নিহত ১১, নিখোঁজ ৮

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৯ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ১৪ জুলাই ২০২৪ |

Image

নেপালে ভারী বৃষ্টিতে ভূমিধস ও হঠাৎ বন্যায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১২ জন। এছাড়াও নিখোঁজ রয়েছেন আরও আটজন। রবিবার (৭ জুলাই) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে এসব এই ঘটনা ঘটেছে। ভূমিধস ও বন্যার কারণে গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক ও তলিয়ে গেছে।

পুলিশের মুখপাত্র দান বাহাদুর কারকি রয়টার্সকে জানান, কীভাবে আটজন নিখোঁজ হয়েছেনতা বলা যাচ্ছে না। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। জরুরি বিভাগের কর্মীরা ভূমিধসের মাটি ও আবর্জনা পরিষ্কার করে রাস্তাগুলো চালু করার চেষ্টা করছেন।

নেপালের দক্ষিণাঞ্চলীয় কোশি নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে বইছে। এই নদী নেপালের সীমানা পেরিয়ে ভারতের বিহার রাজ্যের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে। প্রায় প্রতি বছর বিহারে প্রাণঘাতী বন্যার কারণ হয় এই নদী বলে এক জেলা কর্মকর্তা জানিয়েছেন।।

নেপালের সানসারি জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বেদ রাজ পুয়েল বলেন, কোশির পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের আমরা সম্ভাব্য বন্যার বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলেছি।

তিনি জানান, স্থানীয় সময় রোববার সকাল ৯টায় প্রতি সেকেন্ডে কোশি নদী দিয়ে ৩ লাখ ৬৯ হাজার কিউসেক পানি প্রবাহিত হচ্ছিল, যা স্বাভাবিক প্রবাহ দেড় লাখ কিউসেকের দ্বিগুণের চেয়েও বেশি।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পানি বের করে দিতে কোশি ব্যারেজের ৫৬টি স্লুইস গেটের সবগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে যেখানে ১০ থেকে ১২টি গেট খোলা রাখা হয়।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নেপালের পশ্চিমাঞ্চলীয় নারায়ণী, রাপ্তি ও মহাকালী নদীর পানিও বাড়ছে। পাহাড় ঘেরা রাজধানী কাঠমাণ্ডুতে বেশ কয়েকটি নদীর পানি পাড় উপচে বন্যার কারণ হয়েছে, এতে নগরীর কয়েকটি রাস্তা তলিয়ে গেছে ও অনেকগুলো বাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে।

নেপালে মধ্য জুনে বৃষ্টির মৌসুম। বৃষ্টি শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ভূমিধস, বন্যা ও বজ্রপাতে অন্তত ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স


আরও খবর

বন্যার অজুহাতে সবজির দাম চড়া

শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪




লেবাননে হামলা করলে ইসরায়েলকে বিলুপ্তের যুদ্ধ শুরু হবে : ইরান

প্রকাশিত:শনিবার ২৯ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ১৪ জুলাই ২০২৪ |

Image



বিডি টুডেস:


ইসরায়েল সৈন্যরা হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে ক্রমাগত হামলা চালাচ্ছে। বড় আকারের হামলার ঘোষণা করার পরও ইসরায়েল এখনও  পর্যন্ত সর্বাত্মক হামলা শুরু করেনি। 



চলমান এ সংঘাত নিরসনে জাতিসংঘ দু’পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। এর মাঝেই ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। গত এপ্রিলে ইরান তিন শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিয়ে হামলা চালায় ইসরায়েলে।



 সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে ইসরায়েলের বিমান হামলায় ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সাত সদস্য নিহত হওয়ার প্রতিশোধ নিতে এ হামলা চালায় ইরান। ইসরায়েলও পাল্টা হামলা চালায় ইরানের ইস্পাহান শহরের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে।



 গতকাল শুক্রবার ইসরায়েলের চিরশত্রু ইরানে আগাম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে নির্বাচনের ফলাফলে ইসলামী প্রজাতন্ত্রটির নীতিতে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা নেই বলেও মনে করেন বিশ্লেষকরা।



আজ শনিবার (২৯ জুন) জাতিসংঘে ইরানের মিশন ইসরায়েলকে সতর্ক করে আরও বলেছে, লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে হামলা চালালে ইসরায়েলকে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার যুদ্ধ শুরু হবে।  


মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে থাকা ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কথা উল্লেখ করে জাতিসংঘে ইরান মিশনের অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টের এক পোস্টে বলা হয়, ‘সমস্ত বিকল্প উপায়সহ সব প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সম্পূর্ণ সম্পৃক্ততা নিয়ে আলোচনা চলছে।’


সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে উত্তেজনার পারদ বৃদ্ধি পেয়েছে। ইসরায়েলি সরকার লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক আক্রমণের পরিকল্পনা অনুমোদন করার পর থেকে এ অঞ্চলে আরেকটি যুদ্ধ দরজায় কড়া নাড়ছে।



 ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে জার্মানি, কানাডা, নেদারল্যান্ডস ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি দেশ তাদের নাগরিকদের লেবাননে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও জরুরি ভিত্তিতে অঞ্চলটি ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছে।



ইসরায়েল প্রতিদিনই সাধারণ ফিলিস্তিনিদের হত্যা করে যাচ্ছে। গত সোমবার থেকে বৃহস্পতিবারের মধ্যে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় ১৩৯ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৩৩১ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয়কের কার্যালয় (ওসিএইচএ) এ তথ্য জানিয়েছে।


ওসিএইচএ’র সর্বশেষ প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, শুজাইয়া এবং এর আশপাশে ইসরায়েলের স্থল হামলার ফলে বৃহস্পতিবার গাজা শহরের পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে থেকে ৬০ থেকে ৮০ হাজার বাসিন্দা পালিয়ে গেছে।



এদিকে, আজ শনিবার সকালে গাজা শহরের একটি বাড়িতে বোমা হামলা চারজন নিহত এবং ১০ শিশু আহত হওয়া ঘটনা ঘটেছে। বার্তা সংস্থা ওয়াফা এ তথ্য জানায়। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ১৩৭ বর্গকিলোমিটার ফসলি জমি নষ্ট হয়ে গেছে, যা উপত্যকাটির মোট আবাদি জমির শতকরা ৬০ ভাগ।



 ওই জমিগুলোতে আর কখনও ফসল হবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন পরিবেশবিদরা। গাজায় মোট আবাদি জমি রয়েছে ২৩০ বর্গকিলোমিটার।



ইসরায়েল সৈন্যরা হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে ক্রমাগত হামলা চালাচ্ছে। বড় আকারের হামলার ঘোষণা করার পরও ইসরায়েল এখনও  পর্যন্ত সর্বাত্মক হামলা শুরু করেনি। চলমান এ সংঘাত নিরসনে জাতিসংঘ দু’পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।



 এর মাঝেই ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। গত এপ্রিলে ইরান তিন শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিয়ে হামলা চালায় ইসরায়েলে। সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে ইসরায়েলের বিমান হামলায় ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সাত সদস্য নিহত হওয়ার প্রতিশোধ নিতে এ হামলা চালায় ইরান। 



ইসরায়েলও পাল্টা হামলা চালায় ইরানের ইস্পাহান শহরের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে। গতকাল শুক্রবার ইসরায়েলের চিরশত্রু ইরানে আগাম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। 


তবে নির্বাচনের ফলাফলে ইসলামী প্রজাতন্ত্রটির নীতিতে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা নেই বলেও মনে করেন বিশ্লেষকরা।


আরও খবর



আড়াইশ বছরের ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে কোরবানির মাংস দেড় হাজারের উপরে ভাগ করা হয়

প্রকাশিত:বুধবার ১৯ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ১৪ জুলাই ২০২৪ |

Image



সদরুল আইন:


ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়নের বৈলাজান গ্রামে ঈদ উল আজহা উপলক্ষে দেশের অন্যতম কোরবানির মাঠে ১৫৬টি খাসি ৭০টি গরু কোরবানী করা হয়েছে।


 কোরবানির মাংসের বন্টন হয়েছে ১৫শ ৫৫টি। আাড়াইশ বছরের ঐতিহ্যবাহী কোরবানির মাঠ দেশের বৃহত্তম কোরবানির মাঠ বলে বলে দাবী করেন অনেকে।  


উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়নের বৈলাজান গ্রামের কোরবানির মাঠটি দুটি ঈদগাহ ও সাতটি মসজিদ সমাজ নিয়ে গঠিত। এ কোরবানির সমাজের এ বছর ১৫৬টি খাসি ও ৭০টি গরু কোরবানি করা হয়েছে। 


জানা যায়, বৈলাজান কোরবানির মাঠে সকাল ১০টা থেকে শুরু হয় পশু জবাই, মাংস তৈরির কাজ চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত। এ উপলক্ষে মাঠে বিরাজ করে আনন্দ ঘন পরিবেশ। 


যার যার কোরবানিকৃত পশুর মাংস বানাতে নিজেরাই ব্যস্ত  হয়ে পরে। মাঠে এক পাশে বসে দোকান। ছোট ছেলে মেয়েরা আনন্দ উল্লাস করে থাকে। এ কোরবানির মাঠে রয়েছে এক ঐতিহ্যবাহী নিয়ম।



 এখানে পশু জবাই করার পর তা তিন ভাগের একভাগ মাংস জমা রাখতে হয়। যেখানে জমা রাখা হয় তাকে বলা হয় পঞ্চায়েত। পঞ্চায়েতে দায়িত্বে থাকা সেচ্ছাসেবীরা কোরবানি সমাজের ১৫৫৫টি খানার মধ্যে তা সমান হারে বন্টন করে যার যার বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করে থাকে।



পঞ্চায়েত সভাপতির দায়িত্ব থাকা ইউপি সদস্য মো. শাজাহান মিয়া বলেন, ‘আমাদের এ কোরবানির মাঠ কবে থেকে শুরু হয়েছে তা আমরা বলতে পারব না। আমার দাদা বাবারা এই মাঠে কুরবানি করেছেন। আমার দাদা করেছে আমার বাবা করেছে আমরাও কোরবানি করছি।’ 


এ ব্যাপারে অন্যান্যরা বলেন, এই কোরবানির মাঠে আমাদের বাপ দাদারা ও কোরবানি করেছে। এটি আমাদের ভাতৃত্বের বন্ধনকে সুদৃড় করে। এটি আমাদের গ্রামের একটি ঐতিহ্য।


আরও খবর