Logo
শিরোনাম

শুস্বাগতম ২০২৩

প্রকাশিত:Sunday ০১ January ২০২৩ | হালনাগাদ:Saturday ০৪ February ২০২৩ |
Image

মাজহারুল ইসলাম মাসুম :

শুস্বাগতম ২০২৩। জীবনের গতিপ্রবাহকে বাঁধ দিয়ে ভবিষ্যৎ স্রোতকে রুদ্ধ করা যায় না। সময় ও স্রোতের মতো জীবনটাও ঠিক তেমনই সতত চলমান। জীবনের শেষ গন্তব্য মৃত্যু। তার আগে সর্বাবস্থায় জীবনের স্পন্দন অনুভব করা যায়। জীবনের শেষবিন্দু মৃত্যু পর্যন্ত পৌঁছানোর আগে জীবনঘড়ি টিক টিক চলতেই থাকে।

২০১৯ থেকে মানবসভ্যতা এক কঠিন সময় পাড়ি দিয়ে চলেছে। বৈশ্বিক ক্রান্তিকাল। কখনো মহামারি করোনা। লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু। করোনার ধাক্কা শেষ হতে না হতেই যুদ্ধের ধাক্কা। রাশিয়া-ইউক্রেন আঞ্চলিক যুদ্ধ। কিন্তু বৈশ্বিক প্রভাব সারা দুনিয়ায়। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে সমগ্র বিশ্ব টালমাটাল।

বিদায়ী বছরের প্রাপ্তি এবং নতুন বছরের সম্ভাবনা নিয়ে আরো কিছু কথা বলার আগে ইংরেজি নববর্ষ উদযাপনের ইতিহাসটায় সংক্ষেপে একটু চোখ বুলিয়ে নেয়া যেতে পারে। যারা নিউইয়র্কে বসবাস করে, বিশেষভাবে তারা ৩১ ডিসেম্বর পুরোনো বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে হাজার হাজার নারী-পুরুষ মধ্যরাতে সমবেত হয় ঐতিহাসিক টাইমস স্কয়ারে। সেখানে রাত ঠিক ১২টা ১ মিনিটে আপেল পতনের দৃশ্য অবলোকন করা আমেরিকার একটি প্রাচীন ঐতিহ্য। নতুন বছরকে স্বাগত জানানো শুরু হয় এই আপেল পতন উৎসবের মধ্য দিয়ে। সমবেত সবাই হাতে হাত ধরে নববর্ষের সংগীত গাইতে গাইতে চোখের পলক না ফেলে দেখতে থাকে আপেল পতন। সেকেন্ডের কাঁটা ১২টা স্পর্শ করার সঙ্গে সঙ্গে হর্ষধ্বনি দিয়ে সবাই ২০২২-কে বিদায় জানিয়ে বরণ করে নেবে ২০২৩-কে।

মানুষ আসলে অতীতের সব আবর্জনা জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে সামনের সম্ভাবনাকে ধরতে চায়। মানুষ স্বপ্ন দেখে ভবিষ্যতের। কোনো মানুষেরই সব স্বপ্ন-সাধ ফেলে আসা বছরে পূরণ হয় না। অপূর্ণ স্বপ্ন, অপূর্ণ বাসনা-অপ্রাপ্তি সব সে পূরণ করতে চায় ভবিষ্যৎকে সামনে রেখে। অনাগত দিন মানুষকে সতত আশাবাদী করে রাখে।

সে কারণেই নববর্ষ বরণে মানুষের মধ্যে এত উচ্ছ্বাস-উৎসবের আনন্দ। এত রীতিনীতি। দেশে দেশে আচার অনুষ্ঠানে নানা বৈচিত্র্য। ১ জানুয়ারি বিশ্বের অধিকাংশ দেশে নববর্ষ উদযাপিত হলেও সব দেশে উদযাপিত হয় না। অধিকাংশ দেশ যারা ১ জানুয়ারি নববর্ষ উদযাপন করে, তারা মডার্ন গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার মেনে চলে। তবে এর ব্যতিক্রম আছে। ১০ মাসেও বছর আছে। রোমান ক্যালেন্ডারে ১০ মাসে বছর এবং সে বছর শুরু হয় মার্চ থেকে। ১ জানুয়ারি থেকে যে বর্ষ গণনা শুরু হয়, সেটিই বিশ্বের প্রাচীনতম এবং সর্বজনীনভাবে উদযাপিত উৎসব। জুলিয়ান ক্যালেন্ডারেও ১ জানুয়ারি নববর্ষ উদযাপিত হয়।

ইংরেজি নববর্ষ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এখন এমন বর্ণাঢ্য রূপ এবং বিশাল কলেবরে উদযাপিত হয় যে, তাদের নিজস্ব নববর্ষের উদযাপনও এর কাছে ম্লান হয়ে যায়। বাংলাদেশেও এর ব্যতিক্রম দেখা যায় না। ইংরেজি নববর্ষের হুল্লোড় ঠেকাতে বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অনেক রকম ব্যবস্থা নিতে হয়। অনেক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার কথাও শোনা যায়। প্রবাসেও বাঙালি কমিউনিটিকে প্রতিবার ইংরেজি নববর্ষের উৎসবে মেতে উঠতে দেখা যায়। বিশ্বজুড়ে আমেরিকার সাংস্কৃতিক আধিপত্য যে এখনো অটুট, তা দেশে দেশে ইংরেজি নববর্ষ উদযাপনের আতিশয্য দেখেই অনুভব করা যায়। গ্লোবাল ভিলেজের মোড়ল যুক্তরাষ্ট্র এখনো তার প্রভাব বহাল রেখেছে যেমন, বিশ্বে সাংস্কৃতিক আধিপত্যও যুক্তরাষ্ট্রের হাতেই রয়েছে।

বাংলাদেশ এবার নববর্ষ উদযাপন করছে বিশেষ রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্য দিয়ে। ২০২৪-এর জানুয়ারির শুরুতেই জাতীয় সাধারণ নির্বাচন। সেই নির্বাচন ঘিরেই এই উত্তেজনা। বাংলাদেশের মানুষ জানে না, তারা ২০২২-এর মতো ২০২৩-কে বিদায় জানাতে পারবে কি না। বাংলাদেশে একটি প্রবাদ আছে, ‘যায় দিন ভালো, আসে দিন খারাপ।আমরা যে দিনটাকে বিদায় জানিয়ে যে দিনকে বরণ করে নিই, সে দিনটি বিদায়ী দিনের চেয়ে ভালো হয় না। অর্থাৎ আমরা ক্রমাগতভাবে খারাপের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। আমরা সবাই সামনে এগিয়ে যেতে চাই। কিন্তু ক্রমাগতভাবে যেন পিছিয়েই যাচ্ছি। যারা আমরা মানুষকে ভালোর প্রতিশ্রুতি দিই, অঙ্গীকার করি, তারাও কেন যেন নিজেদের প্রতিশ্রুতি শেষ পর্যন্ত রক্ষা করার সাফল্য অর্জন করতে পারি না।

কে জানে এই ব্যর্থতার জন্য দায়ী আজকের সময়ে উৎসবও মুনাফার অংশ হয়ে গেছে কি না! এখন সব উৎসবই অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। তাই নির্মল আনন্দের জায়গা নিয়ে নিচ্ছে অর্থনীতি। শত শত কোটি টাকা বিনিয়োগ করছেন ব্যবসায়ীরা মুনাফার আশায়। সে কারণে তাদের উৎসবের চেয়ে বাণিজ্যের দিকে বেশি লক্ষ রাখতে হয়। তবে সবাই প্রত্যাশা করে অর্থনীতি ও বিনোদনের মধ্যে একটা ভারসাম্য রক্ষা পাক। মানুষ আনন্দ লাভ করুক। ব্যবসায়ীরাও বাণিজ্যে লাভবান হোক।


লেখক :

সিনিয়র সাংবাদিক, লেখক,ও গবেষক ( সিনিয়র বার্তা প্রয়োজক একাত্তর টেলিভিশন )

 


আরও খবর

সুখবর নেই বাজারে

Saturday ০৪ February ২০২৩




তৃণমূল গোছাতে ব্যস্ত আ.লীগ

প্রকাশিত:Wednesday ২৫ January ২০২৩ | হালনাগাদ:Saturday ০৪ February ২০২৩ |
Image

জহিরুল কবির আমজাদ :জাতীয় নির্বাচনের আগে দলকে সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে তৃণমূল গুছিয়ে এনেছে আওয়ামী লীগ। দলের মেয়াদোত্তীর্ণ বিভিন্ন জেলা-উপজেলার সম্মেলন প্রায় শেষপর্যায়ে। এসব সম্মেলন স্থলে কেন্দ্র থেকে ছুটে যাচ্ছেন দলের কেন্দ্রীয় উচ্চপর্যায়ের নেতারা। দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দিয়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করার প্রচেষ্টা নেতাদের। নির্বাচনী প্রস্তুতি ও তৃণমূলে দলীয় নেতাকর্মীদের ঢেলে সাজাতে মূলত এসব পরিকল্পনা ক্ষমতাসীনদের।

দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা জানান, ২৪ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনের আগে দলের অর্ধেকের বেশি জেলা-উপজেলাগুলোর সম্মেলন হয়েছে। দীর্ঘদিন সম্মেলন না হওয়া শাখাগুলোর সম্মেলন আয়োজন একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের। দলের গঠনতন্ত্র অনুসারে তিন বছর পরপর সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও অনেক শাখার সম্মেলন হয়েছে দুই যুগ পর। এ মুহূর্তে দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা জেলা ও উপজেলাগুলোর সম্মেলন করতেই ব্যস্ত রয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদকরা।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে আওয়ামী লীগের ৭৮ জেলা ও মহানগর কমিটি রয়েছে। এর মধ্যে ৫৯টির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৯টির সম্মেলন বাকি রয়েছে। খুলনা, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ এই তিন বিভাগের কোনো সাংগঠনিক জেলার সম্মেলন বাকি নেই। চট্টগ্রাম বিভাগে সাতটি শাখা, ঢাকা বিভাগে ছয়টি, রংপুর বিভাগে চারটি, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের একটি করে জেলার সম্মেলন বাকি রয়েছে।

এদিকে সারা দেশে আওয়ামী লীগের ৬৮৪টি সাংগঠনিক উপজেলা রয়েছে। এসব সাংগঠনিক উপজেলার মধ্যে প্রায় ৫৫০টি কমিটির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৩০টির মতো উপজেলা ও উপজেলার মর্যাদাপ্রাপ্ত কমিটির সম্মেলন বাকি রয়েছে। এসব উপজেলার মধ্যে কিছু কমিটি যুগ পার করলেও সম্মেলন আর হয়নি। ময়মনসিংহ বিভাগের নেত্রকোনা ও ময়মনসিংহ জেলার একাধিক উপজেলার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ১৫ থেকে ২০ বছর পর। ঝুলে থাকা বাকি উপজেলাগুলোর কমিটি করতে কেন্দ্রীয় নেতারা জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে তারিখ ঘোষণা করবেন।

সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য মতে, খুলনা বিভাগে ১১টি জেলা ও মহানগর কমিটি রয়েছে। সবগুলোরই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে সাতটির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। বাকি চারটির পূর্ণাঙ্গ কমিটি চলতি জানুয়ারি মাসের মধ্যেই কেন্দ্রে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। বিভাগটিতে ৮১টি সাংগঠনিক উপজেলা রয়েছে। এর মধ্যে ১১টির সম্মেলন বাকি আছে। ৭০টির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলাগুলোর মধ্যে ১২টির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন বাকি রয়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের চিঠি দেওয়া হবে।

খুলনা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক জানান, এ সপ্তাহে তার খুলনায় যাওয়ার কথা। সেখানে গিয়ে জেলার নেতাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে ১২ উপজেলার সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হবে।

চট্টগ্রাম বিভাগের ১৫ সাংগঠনিক জেলার মধ্যে কক্সবাজার, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রাম দক্ষিণ, রাঙামাটি, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ও কুমিল্লা মহানগরের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলন বাকি থাকা সাত জেলা হলো চট্টগ্রাম উত্তর, চট্টগ্রাম মহানগর, খাগড়াছড়ি, ফেনী, চাঁদপুর, বান্দরবান ও কুমিল্লা উত্তর। এর মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরের সর্বশেষ সম্মেলন হয় ১৪ বছর আগে। আর চাঁদপুর জেলার সম্মেলন হয় ১১ বছর আগে।

ঢাকা বিভাগে আওয়ামী লীগের ১৭টি সাংগঠনিক জেলা রয়েছে। এর মধ্যে ১১টির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলন বাকি থাকা ছয়টি সাংগঠনিক জেলা হলো কিশোরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ মহানগর, মুন্সীগঞ্জ, শরীয়তপুর, ঢাকা মহানগর উত্তর ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ। সম্মেলন হওয়া ১১ জেলার মধ্যে গত বৃহস্পতিবার অনুমোদন দেওয়া হয় গোপালগঞ্জ ও নরসিংদী জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি। এ নিয়ে ঢাকা বিভাগে মোট চার জেলায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। ঢাকা বিভাগে সাংগঠনিক উপজেলা ১৭১টি; এর মধ্যে ১৩৫টির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে, ৩৬টির সম্মেলন বাকি আছে। ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণ ছয় সাংগঠনিক জেলার সম্মেলন শিগগিরই অনুষ্ঠিত হবে। আর যে সাতটি জেলায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা হয়নি, সেগুলো চলতি মাসের মধ্যে অনুমোদন হবে।

পূর্ণাঙ্গ কমিটির বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুণ বলেন, নির্বাচনের আগে আমাদের দলীয় নেতাকর্মীদের প্রস্তুতির অভাব নেই। আমরাও সেই লক্ষ্যে কাজ করছি। আমাদের জেলা কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার কাজ প্রায় শেষপর্যায়ে। চলতি মাসে পূর্ণাঙ্গ কমিটির ঘোষণা আসতে পারে।

রাজশাহী বিভাগে আওয়ামী লীগের ৯টি সাংগঠনিক জেলা ও ৮৩টি উপজেলা কমিটি রয়েছে। ৯ জেলা কমিটিরই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এগুলোর পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রে জমা দেওয়া হয়েছে। ৮৩টি উপজেলা কমিটির তিন থেকে চারটির সম্মেলন বাকি রয়েছে। ময়মনসিংহ বিভাগের পাঁচ সাংগঠনিক জেলার সবগুলোরই সম্মেলন হয়েছে। বিভাগের ৪০ সাংগঠনিক উপজেলার মধ্যে ৩২টি উপজেলার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ময়মনসিংহ বিভাগে এখন আটটি উপজেলা কমিটির সম্মেলন বাকি রয়েছে। বরিশাল বিভাগের সাতটি জেলা ও মহানগর কমিটি রয়েছে। এর মধ্যে ছয়টির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুধু বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন বাকি রয়েছে। বিভাগটিতে ৫২টি সাংগঠনিক উপজেলা রয়েছে। সাংগঠনিক উপজেলাগুলোর মধ্যে ৪৮টির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলন বাকি থাকা তিনটি উপজেলা হলো বরিশাল সদর, মঠবাড়িয়া ও পাথরঘাটা।

রংপুর বিভাগের ৯টি সাংগঠনিক জেলা রয়েছে। সম্প্রতি রংপুর জেলা ও মহানগর কমিটি ভেঙে দিয়ে আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এ বিভাগে চার জেলার সম্মেলন বাকি আছে। বিভাগটিতে ৭৮টি সাংগঠনিক উপজেলা কমিটি রয়েছে। এগুলোর অর্ধেকের বেশি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাকিগুলোর সম্মেলন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

সিলেট বিভাগে পাঁচ জেলা ও মহানগর কমিটি এবং ৪৯টি সাংগঠনিক উপজেলা কমিটি রয়েছে। বিভাগটির জেলাগুলোর মধ্যে শুধু সুনামগঞ্জের সম্মেলন বাকি রয়েছে। সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন বলেন, সিলেটে বন্যার কারণে সুনামগঞ্জের সম্মেলন পিছিয়ে গেছে। এ ছাড়া কয়েকটি উপজেলার সম্মেলন বাকি রয়েছে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এসব শাখার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।


আরও খবর



সড়ক ভবন নয়, এযেন একটি দেশিও বিদেশি ফুল গাছের বাগান

প্রকাশিত:Sunday ১৫ January ২০২৩ | হালনাগাদ:Saturday ০৪ February ২০২৩ |
Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, স্টাফ রিপোর্টার :


নওগাঁ সড়ক ভবনে দেশিও বিদেশি ফুল গাছের সমারহ।

নওগাঁ সড়ক ভবনের কার্যালয় বর্তমানে নানা ধরনের দেশি ও বিদেশি ফুলের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। ভবনের প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ করার সময় চোখে পড়বে বিভিন্ন রঙ্গের বড় বড় গাঁদা ফুল থোকায় থোকায় ফুটে আছে। পাশেই সুন্দর অবকাঠামোর মাঝে গড়ে তোলা হয়েছে বিভিন্ন দেশী, বিদেশী ফুল ও ওষুধী গাছের ভেষজ মিশ্রণ ফুল বাগান।

শুধু ফুল বাগানের সৃজন নয়, পুরো সড়ক ভবনের প্রাঙ্গন-ই যেন ছিমছাম সৌন্দর্য্যরে ছোঁয়া আর আবাসিক ভবনের বাইরের অংশ বিশ্বকাপ ফুটবল খেলার প্রিয় দেশের পতাকার রঙ্গের আদলে মনকাড়া ছোঁয়াও রয়েছে সেই সাথেই বাগানের মাঝে শোভা পাচ্ছে ডোরাকাটা রয়েল বেঙ্গল টাইগারের প্রতিকৃতি আর পুরো বাগান জুড়ে ফুল গাছের পাশাপাশি নানা রকমের শোভাবর্ধক বিভিন্ন প্রজাতির গাছও শোভা পাচ্ছে। যা দেখার মতো।

মনোরম বাগানে প্রবেশ করতেই দ্যামাস্ক গোলাপ, রংগন, জবা, ক্রিসমাস, বেরিসহ বিভিন্ন ফুল গাছের পাশে শোভা পাচ্ছে সুন্দর সুন্দর নাম ফলক। একবার বাগানে প্রবেশ করে পুরো বাগানটি অবলোকন করলেই চোখ জুড়িয়ে যাবে যে কারো। এছাড়া ফুলের সৌন্দর্য্য আর মিষ্টি গন্ধে সতেজ হয়ে উঠবে প্রান। প্রতিটি মানুষেরই এমন ফুল বাগান অন্তত একবার পরিদর্শন করা উচিত। বিশেষ করে ফুল বিষয়ে শিশুসহ সকল ধরনের মানুষেরই জ্ঞানের পরিধি বাড়াতে এই বাগান পরিদর্শন করার কোন বিকল্প নেই। নওগাঁ সড়ক বিভাগের সড়ক ভবন প্রাঙ্গণে হৃদয়ের সবটুকু ভালোলাগা ও ফুলের প্রতি ভালোবাসার সবটুকু ঢেলে এমন ব্যতিক্রমী ফুল বাগানে সাজিয়েছেন, সওজ নওগাঁ জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী ও লেখক মোঃ সাজেদুর রহমান সাজেদ।

নির্বাহী প্রকৌশলী সাজেদুর রহমান সাজেদ বলেন, নওগাঁ সড়ক বিভাগে এমন উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন আমার উত্তরসুরী সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ হামিদুল হক। তারই ধারাবাহিকতায় একটু একটু করে অফিস কম্পাউন্ডকে সাজানো শুরু করি আমি। আমি যেখানে কাজ করি সেখানেই সড়ক নেটওয়ার্কের পাশাপাশি অফিস ও বাসা সবকিছু পরিপাটি করার চেষ্টা করি। মানুষ সাধারনত পুরাতন ও জরাজীর্ণ সরকারী অফিস দেখে অভ্যস্ত। কিন্তু সুন্দর পরিবেশ করতে পারলে সবার মন প্রফুল্ল থাকে। কাজের গতি পায়। মানুষের মন মানসিকতা পরিবর্তনেও পরিবেশ সহায়ক ভূমিকা রাখে। আর এ জন্য খুব বেশি অর্থেরও প্রয়োজন হয় না। সরকারি দপ্তর সম্পর্কে মানুষের ধারনা বদলানোর জন্যই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা। সরকারের স্বক্ষমতা বেড়েছে। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মানসিকতাও ইতিবাচকভাবে বদলে যাচ্ছে। আমরা যেখানে জীবনের অধিকাংশ সময় কাটাই সেই অফিসকে সুন্দর রাখা নৈতিক দায়িত্ব। এতে করে যেমন একটি সুন্দর পরিবেশের সৃষ্টি হয় তেমনি ভাবে ওই অফিসের সবকিছুতে স্বচ্ছতার পাশাপাশি কাজের প্রতি আগ্রহ বেড়ে যায় এবং মন মানসিকতার পরিবর্তনের পাশাপাশি সবকিছুতেই পরিচ্ছন্নতা ফিরে আসে বলেও মনে করেন তিনি।


আরও খবর



খাবারের অভাবে, আহত ঈগল কৃষকের বাড়ীতে

প্রকাশিত:Friday ০৩ February ২০২৩ | হালনাগাদ:Saturday ০৪ February ২০২৩ |
Image

নিজস্ব প্রতিনিধি :

খাবারের অভাবে, আহত ঈগল লালমনিরহাটের কৃষকের বাড়ীতে লালিত পালিত হচ্ছে।  

জেলা সদরের কালমাটি নামক গ্রামে  খাবারের অভাবে শারিরিক অসুস্থ ও আহত ঈগল  তিস্তা নদী পারের তামাক ক্ষেতে বসে থাকা দেখে নিজ বাড়ীতে নিয়ে এসে গেলো দুদিন ধরে লালন পালন করছে কৃষক হাছেন আলী।  

হাছেন আলী জানান, নিত্যদিনের মতো নিজন

 তামাক  ক্ষেত পরিচর্যার জন্য গিয়ে দেখে একটা ঈগল বসে আছে।  কাছে গেলেও উড়তে না পারায় তাকে ধরে নিয়ে আসে বাড়ীতে।  তাকে বেকারির বিভিন্ন প্রকার খাবার দিলে সে না খাওয়ায় ভেঙে পরেন হাছেন।  আজ শুক্রবার সকালে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে, ঈগল দেখতে ভীড় জমায় বিভিন্ন এলাকার নানান বয়সী মানুষ।  

পরে তাকে একটি মুরগী ছিলে খেতে দিলে এক পা দিয়ে টেনে ধরে খাওয়া শুরু করে।  কয়েক মিনিটের মধ্যে মুরগির অর্ধেক খেয়ে নেয় ওই ঈগল। তার একটি পা কে বা কাহারা কেটে দেয়ায়  নিজে শিকার করতে না পাওয়ায় হয়তো কদিন থেকে সেই কারণে শারীরিক দূর্বল হয় এবং পাখিটি ক্ষুধার্ত হয়ে পরলে চলাফেরায় দেহ না চলায় মাটিতে লুটিয়ে পরেছে। তাই এই কৃষক তাকে ধরতে পেরেছে।  অনেকের ধারণা পাখিটি হয়তো ইউক্রেনের যুদ্ধপর সময় একটি পা হারিয়ে উড়িয়ে এখানে এসে পরেছে।


আরও খবর



গুরুত্বপূর্ন সড়ক ধান ব্যবসায়ীদের দখলে

দশমিনায় ভোগান্তিতে যানচলাচলসহ পথচারী

প্রকাশিত:Tuesday ২৪ January ২০২৩ | হালনাগাদ:Saturday ০৪ February ২০২৩ |
Image

দশমিনা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি :

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার গুরুত্বপূর্ন সড়কগুলোতে ফড়িয়ারা দখল করে ধানের ব্যবসায় করায় ভোগান্তিতে পড়েছে যানচলাচলসহ পথচারীরা। এতে করে সড়কে সড়কে সৃষ্টি হয়েছে যানজটসহ নানা দুর্ঘটনা। মঙ্গলবার উপজেলার বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ন সড়ক ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন সড়ক, স্কুলের সামনের সড়ক দখল করে ধান ফড়িয়াররা ব্যবসা করছে। উপজেলার রনগোপালদী ইউনিয়নের যৌতা গ্রামে ৬৯ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের সড়কের এপাশ ওপাশে প্রায় ২শ’ বস্তা ধান রেখে উচু টিলা বানিয়ে রেখেছে তারা। এছাড়া উপজেলার আরজবেগী বাজারের দক্ষিন পাশে প্যাদাবাড়ির সামনের সড়ক জুড়ে ধানের বস্তার স্তুপ। উপজেলার বেতাগীসানকিপুর ইউনিয়নের বড়গোপালদী বাজারের পুর্ব ও পশ্চিম পাশের সড়কজুড়ে ধানের বস্তা রাখা হয়েছে। উপজেলার টাকুরের হাটে সড়ক জুরে ধানের বস্তা, তারপাশে দাড়িয়ে আছে ট্র্যাক এতে করে দেখা দিয়েছে যানজট। সড়কে ধানের বস্তা ও ট্র্যাক রাখায় রাস্তার এক-তৃতীয়াংশ দখল করে ধান বস্তা, ট্র্যাকে উঠানো এবং ভ্যানগড়ী দিয়ে এনে নামানোর কাজ করছে দিনভর ধান ব্যবসায়ীরা।

দশমিনা সদর ইউনিয়নের বাসিন্দা ও বড়গোপালদী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক আহম্মেদ ইব্রাহিম অরবিল বলেন, দশমিনা-পটুয়াখালী ও দশমিনা-বরিশালসহ বিভিন্ন স্থানে লোকজন গুরুত্বপূর্ন কাজে যায় এ সড়ক দিয়ে আসা-যাওয়া করেন, রোগী বহন কারি এ্যাম্বুলেন্স এবং মালামালবাহী মিনি ও বড় ট্র্র্যাক আসা যাওয়া করে কিন্তু ধানের বস্তায় সড়কের বেশিরভাগ জায়গা দখল করায় যানজট সৃষ্টি হয়। এতে করে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয় যানচলাচলকারী গাড়ির। আমার প্রতিদিন বিদ্যালয়ে আসা যাওয়াতে সময় ও জীবনের ঝুঁকি থাকে। 

বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নের ঠাকুরের হাট এলাকার বাসিন্দা খোকন মাঝি, রিপন ও কার্তিক চন্দ্র বলেন, এ বাজারটি সন্ধ্যার পর এলাকার বিভিন্ন পেশার লোকজন এসে নিত্য প্রয়োজনীয় মালামাল কেনা-বেঁচা করে। এখন বাজারটি জুড়ে ধানের বস্তার স্তুপ। কেউ দেখার নেই মনে হচ্ছে ফড়িয়ারদের ধান ব্যবসা করার জন্য এই রাস্তা নির্মান করা হয়েছে। এস্তুপের তলে শিশু ও বৃদ্ধরা যে কোন সময় পড়ে যেতে পারে।  

এ বিষয়ে দশমিনা সদর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়াডে সদস্য রিপন কর্মকার বলেন, এলাকার বিভিন্ন সড়ক দখল করে রাখা হচ্ছে ধানের বস্তা। এতে করে রাস্তায় যে কোন সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমি বিষয়টি ইউনিয়ন চেয়ারম্যানকে জানাবো।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহিউদ্দিন আল হেলাল বলেন, খোঁজ খবর নিয়ে ধান ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে।


আরও খবর



শীতের দাপট থাকবে কয়েকদিন

প্রকাশিত:Friday ২০ January ২০23 | হালনাগাদ:Saturday ০৪ February ২০২৩ |
Image

মইনুল ইসলাম মিতুল :মৌলভীবাজারে মাঘের প্রথম সপ্তাহে আবারো জেঁকে বসেছে শীত। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৫ দশমিক ছয় ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কম তাপমাত্রা। উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহের পর এবার শুরু হয়েছে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। হিমেল বাতাস আর ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত জনজীবন। তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিকে তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। বেড়েছে ঠাণ্ডাজনিত রোগের প্রকোপ। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শিশু ও বয়স্করা।

মাঝারি ও মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইছে ২৭ জেলায়। শীতের সঙ্গে ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত জনজীবন। কষ্টের জীবন কাটছে ছিন্নমূল মানুষের। আরো কিছু দিন শীতের দাপট চলবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

বিভিন্ন স্থানে কুয়াশায় ঢেকে থাকে প্রকৃতি। শীত আর কুয়াশার কারণে প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না কেউ। তারপরও জীবিকার তাগিদে ঘরে বসে থাকলে চলে না অনেকের। মাঘের শীত যতই কাঁপন ধরাক হাড়ে, কাজে বের হওয়ায় নিস্তার নেই।

ঘন কুয়াশা আর সূর্য কিরণের অভাবে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমেছে। চলতি মাসে দেশের কোথাও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রির উপরে ছিল না। আর ঢাকায় এ মাসে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১ দশমিক ৭ ডিগ্রি।

এদিকে আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস বলছে, শৈত্যপ্রবাহ থাকবে আরো কিছু দিন। বাড়বে বিস্তৃতি। নতুন করে আরো কিছু জেলায় ওপর দিয়ে বইতে পারে শৈত্যপ্রবাহ।


আরও খবর

সুখবর নেই বাজারে

Saturday ০৪ February ২০২৩