Logo
শিরোনাম

সূফিবাদের প্রয়োজনীয়তা

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ৩০ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ |
Image

সূফি মাজহারুল ইসলাম মাসুম :   

হাদীসের দ্বারা তাসাইফের কথা অকাট্যভাবে প্রমাণিত হয়।একবার রাসূলে করীম (সাঃ)কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে ইহসান কি?তিনি উত্তরে বলেছিলেনইহসান হল  বিষয় যে,তুমি যখন নামায পড়বে তখন তুমি  মনে করবে যে আল্লাহকে তুমি দেখছ আর তাও যদি সম্ভব না হয় তাহলে এই মনে করবে যে আল্লাহ তোমাকে দেখছেন

হাদীসে কুদসীতে বলা হয়েছে যেযে ব্যক্তি নিজেকে চিনল,সে আল্লাহকে চিনল

হাদীসে কুদসীতে আরও এসেছে যেআল্লাহ বলেনযখন আমি আমার কোন বান্দাকে ভালবাসি তখন আমি তার ধ্যান-অনুধ্যানে  কাজে কর্মে নিকটবর্তী হই। আমি তার চোখ হই যা দিয়ে সে দেখে,আমি তার কান হই যা দিয়ে সে শুনতে পায়,আমি তার হাত হই যার সাহায্যে বিভিন্ন জিনিস ধরে।

 

অর্থাৎ,কুরআনে অসঅংখ্য আয়াত  হাদীসের দ্বারা  কথা অকাট্যভাবে প্রমাণিত যে সূফিবাদ কুরআন-হাদীস হতে নিঃস্বরিত এক ধরনের বাতিনী জ্ঞান।এ ছাড়াও আমরা  বিষয়টি লক্ষ্য করে দেখতে পাই যেনবী করিম (সাঃহেরা গুহায় গভীর ধ্যানে নিমজ্জিত থাকতেন যার দ্বারা বুঝা যায় যে তিনি আধ্যাত্মিক জীবন সাধনায় প্রায় সময় ব্যস্ত থাকতেন। নবী করীম (সাঃএর জীবদ্দশায় আহলে সুফফার কিছু লোক আল্লাহ পাকের ধ্যান সাধনায় এমন সময় ব্যয় করেছেন যার দ্বারা ধারনা করা হয় যে সূফিবাদ কথাটির উৎপত্তি ঘটেছে। অতঃপর খুলাফায়ে রাশেদীনের সময় হযরত আবূ বকর(রাঃ),উমার(রাঃ),উসমান(রাঃ আলী(রাঃপ্রত্যেকে তারা শাসনকার্য পরিচালনার পাশাপাশি অসংখ্য ইবাদত-বন্দেগীর মাধ্যমে আধ্যাত্মিক সাধনায় ব্যস্ত থাকতেন। সৈয়দ আমীর আলী বলেন,

 

“ আলী(রাঃএর মৃত্যুর সাথে খিলাফত ধংসব হতে থাকে আর দামেস্কে যে বর্বরোচিত অত্যাচার শুরু হতে থাকে সেখান থেকে কিছু মানুষ একান্তে ইবাদত বন্দেগী করতে বাধ্য আর সেখান থেকে অতীন্দ্রয়বাদ স্বাভাবিকভাবে অগ্রসর হতে থাকে

 

কুরআন  হাদীসে সূফিবাদকে বিভিন্ন নামে নামকরণ করা হয়েছে।তা হল ইলমে বাতিনী,ইলমে লাদুন্নী,ইলমে ইলমে তরীকত,ইলমে মারিফত ইত্যাদি নামে অভিহিত করা হয়েছে।

 সে সময় হতে হাসান বসরীসহ প্রমুখ তাবিয়ীর মাধ্যমে মরমীবাদ প্রকাশ হতে থাকে।উমাইয়্যা খিলাফত আমলে মানুষের বাহ্যিক চিন্তা-চেতনার এতটা বিকাশ ঘটে নাই যতটা বিকাশ ঘটেছিল আব্বাসীয়দের আমলে।সে সময় সূফিবাদের একটি চূড়ান্তরুপ লাভ করে।সে অর্থাত,হিজরীর ২য় শতকে এসে সূফিবাদ নামে একটি স্বতন্ত্র ইসলামী মরমীধারার উদ্ভব ঘটে।সে সময় যেসমস্ত কারনে সূফিবাদের উদ্ভব ঘটে তার প্রধান প্রধান কারনসমূহ নিম্নরুপঃ

()খলিফা হারুন-উর-রশিদের ইন্তেকালের পর তার দুই পুত্র আমীন  মামুনের ভিতর যখন মতবিরোধ দেখা দেয় তখন এক বীভীষীকাময় রাজনোইতিক অবস্থা বিরাজমান ছিল।অন্যদিকে ইসমাইলীয়া,বাতিনিয়া  কারামাতিয়া প্রভৃতি সম্প্রদায়ের অনুসারীগণ ধর্মের নামে অভীষ্ট রাজনীতির প্রচারণা চালাতে থাকে।এমতাবস্থায় কিছু লোকজন রাজনীতি থেকে কিছু মানুষ ইবাদতে ধ্যান-মগ্নে থাকার প্র্যাস পান এববগ এর ভিতর শান্তি তারা খুজে পেয়েছিল।

()আব্বাসীয়দের খিলাফতামালে মুতাযিলা সম্প্রদায়ের চিন্তা-চেতনার আবির্ভাব ঘটেছিল সেখানে মানুষের ভিতর এক ধরনের সংশায়াত্মক অবস্থার সৃষ্টি করেছিল আর মুতাযিলাদের সাথে অন্যান্য গোষ্ঠির ভিতর যে দ্বন্দ্বের আবির্ভাব হয়েছিল তা থেকে পরিত্রানের জন্য কিছু লোক আধ্যাত্মিক সাধনার মাধ্যমে ইবাদত-বন্দেগীর মাধ্যমে শান্তি খুজে পাওয়ার প্রয়াস খুজে পেয়েছিল।

()হানাফী,শাফিয়ী,মালিকি  হাম্বলী মাযহাব যে আবেগ বর্জিত পরহেজগারিতা নিয়ে এসেছিল সে অবস্থায় সম্পূর্ণ আবেগধর্মী অবস্থার দিকে এক দল মানুষ ধাবিত হচ্ছিল।

তাহলে আমরা বলতে পারি যে,তাসাইফের উৎপত্তি প্রকৃতপক্ষে বাহিরের কোন চিন্তা-ধারনা থেকে নয় বরং কুরআন-হাদীস  মুসলমানদের নিজস্ব চিন্তা-ধারাকে কেন্দ্র করে হয়েছে।মহানবী(সাঃএর জীবদ্দশায় এর উৎপত্তি ঘটেছিল যা

সূফিবাদের ক্রমবিকাশঃ

প্রকৃতপক্ষে সূফিবাদের আবির্ভাব মুহাম্মদ(সাঃএর সময় হতে শুরু হয়।অতঃপর যাকে সর্বপ্রথম মুসলিম সূফী হিসেবে চিহ্নতি করা হয় সে হল হযরত হাসান বিসরি(.) তার জ্ঞানতত্ত্বের আলোকে সূফী-সাধকগণ সূফিবাদের ক্রমবিকাশে এক বিশেষ ভূমিকা পালন করে।তার ভিতর মরমী  দার্শনিক চিন্তা-ধারার এক অপূর্ব মিলন ঘটেছিল।এছাড়াও সর্বপ্রথম সূফী হিসেবে যার নাম স্বীকৃতি দেওয়া হয় সে হল আবয় হাশিম কূফী।কেউ কেউ আবার জাবির বিন হাইয়্যানকে প্রথম সূফী হিসেবে চিহ্নিত করে থাকেন।এরপর হিজরীর ২য় শতকে এসে সূফিবাদের জনপ্রিয়তা ব্যাপক হারে বৃদ্বি পেতে থাকে।এ সময়ের উল্লেখযোগ্য সূফীগণ হলেন ইব্রাহীম বিন আদহাম,রাবিয়া বসরী,দাউদ আত-

 

তায়ী  ফুযায়ল বিন হাইয়ায প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ।তাদের কার্যকলাপ  বাণী থেকে আস্তে আস্তে কৃচ্ছতা জীবনে উদ্ভব ঘটতে থাকে।

এরপরে সূফিবাদের ক্রমবিকাশে যুন্নুন মিসরীর ভূমিকা ছিল ব্যাপক।তিনি ইসলামী মরমীবাদকে স্তভ হিসেবে স্থাপিত করেছিল।তাই তাকে সূফিবাদের সর্বপ্রথম ব্যাখ্যাদানকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।তিনি হাল  মাকাম সম্পর্কে সূফী-সংক্রান্ত সূত্র প্রদান করেন।অতঃপর যুনায়েদ বাগদাদী যুন্নুন মিসরীর ধারনাকে আরো উন্নতি  সুসংবদ্ব করেন।

কালক্রমে সূফিবাদের ভিতর সর্বেশ্ববাদের ধ্যান-ধারনা যুক্ত হতে থাকে।এ ধরনের মতাবাদের মূল প্রবক্তা ছিলেন বায়জীদ বোস্তামী  মানসুর হাল্লাজ।তবে মানসুর হাল্লাজের বক্তব্য কিছুটা বিতর্কিত ছিল যে জন্য তাকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল।

অতঃপ্অর ইমামা আল গাযযালী এর সময় থেকে গোড়া সুন্নিবাদী মতবাদ সূফিবাদের ভিতরে একটি বিশেষ স্থান দখল করে নেয়।তিনি গোড়া ইসলাম  সূফিবাদের ভিতর একটি সুন্দর মিল তৈরী করেন।।তার সময় অনেল সূফীর আগমন হয় যার মধ্যে আব্দুল কাদির জিলানী,ফরিদ উদ্দিন আত্তার,আল-কুশাউরী,শিহাবুদ্দিন সোহয়ার্দীর নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

সপ্তম হিজরীতে স্পেনে ইবনুল আরাবী সূফিবাদের ক্রমবিকাশে এক বিশেষ ভূমিকা পালন করে।তিনি সর্বেশ্বরবাদের প্রচলন করেন।তার তার প্রতিষ্ঠিত মতবাদের নাম ছিল “ওয়াহাদুল অজুদ।তার এই মরমী ধারার ক্রমবিকাশে সাহায্য করেছিলেন জালালুদ্দিন রুমি (.)।তার মসনবী শরীফ পৃথিবীর ইতিহাস এক অমূল্য গ্রন্থ হিসেবে বিশেষ স্বীকৃতি লাভ করেছে।ইবনুল আরাবীর এই মতবাদের সামনে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে রুকুনুদ্দিন আলাউদ্দৌলা একটি পৃথক মতবাদ গঠন করেন যা শুহুদিয়া নামে পরিচিত।তার এই সম্প্রদায়কে বাহাউদ্দীন বিশেষভাবে সমর্থন দিয়েছেন এবং হিজরী একাদশ শতাব্দীতে  মতবাদটি ইতিহাসে এক বিশেষ স্থান দখল করে রাখে।    পরবর্তীতে সূফী-সাধকদের ভিতর কাশানী,আলজিলি এর নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।অতঃপর ভারতীয় উপমহাদেশে অনেক সূফীর আবির্ভাব ঘটে যাদের ভিতর খাজা মইনুদ্দিন চিশতী,বাহাউদ্দিন,শিহাবুদ্দিন,মুজ্জাদিদ আলফে সানীর নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।বিশেষ করে আলফে সানী সূফিবাদকে ভারতীয় উপমহাদেশে নতুন করে উজ্জীবিত করেন।তিনি প্রকৃতপক্ষে  শুহুদিয়া সম্প্রদায়কে বিকাশে এক বিশেষ ভূমিকা পালন করেন।অতঃপর ১৮৩৭ সালে মুহাম্মদ বিন আলী ১৮৩৭ সালে আলজেরিয়াতে একটি পৃথক সম্প্রদায় প্রতিষ্ঠা করেন। এভাবে সূফিবাদের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন সময়  ক্রমবিকাশ হতে থাকে।

 

 


আরও খবর

সুফিবাদ ও ইসলাম

রবিবার ২৪ জুলাই ২০২২

সুফিবাদ কী ও কেন ?

মঙ্গলবার ১৯ জুলাই ২০২২




রানি এলিজাবেথ মারা গেছেন

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ |
Image

ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সিংহাসনে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে আসীন ও বিশ্বের প্রবীনতম রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৯৬ বছর। বৃহস্পতিবার রাতে বাকিংহাম প্যালেসের বরাতে বিবিসি এ খবর জানায়। এক বিজ্ঞপ্তিতে বাকিংহাম প্যালেস বলেছে, রানি সন্ধ্যায় ব্যালমোরালে মারা গেছেন।

এপির খবরে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (৮ সেপ্টেম্বর) বালমোরাল প্যালেসের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, সকালে পর্যবেক্ষণের পর চিকিৎসকেরা রানির স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ জানান। এরপর তাকে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়।

দ্বিতীয় এলিজাবেথ (এলিজাবেথ আলেকজান্ড্রা ম্যারি) মৃত্যুর আগে তিনি ছিলেন যুক্তরাজ্য এবং আরও ১৫টি কমনওয়েলথ রাজ্যের রানি। এলিজাবেথ লন্ডনের মেফেয়ারে ইয়র্কের ডিউক এবং ডাচেস (পরে রাজা জর্জ এবং রানি এলিজাবেথ)-এর প্রথম সন্তান হিসেবে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

তার বাবা ১৯৩৬ সালে নিজের ভাই রাজা অষ্টম এডওয়ার্ডের পরে সিংহাসনে আরোহণ করেছিলেন। আর সেই সময় থেকেই এলিজাবেথ সিংহাসনের উত্তরাধিকারী ছিলেন। তিনি বাড়িতে ব্যক্তিগতভাবে শিক্ষিত হয়েছিলেন এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ স্থলসেনাবাহিনীর নারী বিভাগ অগজিলিয়ারি টেরটোরিয়াল সার্ভিসে কর্মরত থেকে জনসাধারণের দায়িত্ব পালন শুরু করেছিলেন। ১৯৪৭ সালে তিনি গ্রিক ও ডেনমার্কের প্রাক্তন রাজপুত্র ডিউক অফ এডিনবরা ফিলিপকে বিয়ে করেন। এলিজাবেথ-ফিলিপ দম্পতির চারটি সন্তান হয়: ওয়েলসের যুবরাজ চার্লস; রাজকুমারী অ্যান; ইয়র্কের ডিউক যুবরাজ অ্যান্ড্রু; এবং ওয়েসেক্সের আর্ল যুবরাজ এডওয়ার্ড।

১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারিতে তার বাবা রাজা জর্জ মারা গেলে এলিজাবেথ কমনওয়েলথের প্রধান হন এবং সাতটি কমনওয়েলথভুক্ত দেশের রেজিমেন্টের প্রধান হন। দেশগুলো হচ্ছে যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, পাকিস্তান এবং সিলন। ১৯৫৬ এবং ১৯৯২ সালের মধ্যে অঞ্চলগুলি স্বাধীনতা লাভ করার সঙ্গে সঙ্গে তার রাজ্যের সংখ্যা বিভিন্ন রকম হয় এবং দক্ষিণ আফ্রিকা, পাকিস্তান এবং সিলন সহ রাজ্যগুলো প্রজাতন্ত্র হয়ে ওঠে। তার অনেক ঐতিহাসিক পরিদর্শন এবং সভার মধ্যে আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রে একটি রাষ্ট্রীয় সফর এবং পাঁচবার পোপের দর্শন বা সফর অন্তর্ভুক্ত।

উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলোতে ১৯৫৩ সালে তার রাজ্যাভিযান এবং ১৯৭৭, ২০০২ এবং ২০১২ সালে যথাক্রমে তার রৌপ্য, স্বর্ণ এবং হীরক জয়ন্তী উদ্‌যাপন অন্তর্ভুক্ত। ২০১৭ সালে, তিনি নীলকান্তমণি জয়ন্তীতে পৌঁছানো প্রথম ব্রিটিশ রাজ্যশাসক হয়েছিলেন। তিনি সবচেয়ে দীর্ঘজীবী এবং সবচেয়ে দীর্ঘকাল ধরে শাসনকারী ব্রিটিশ রাজ্যশাসক। তিনি বিশ্বের ইতিহাসের দীর্ঘতম শাসনকারী নারী রাষ্ট্রপ্রধান এবং বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক জীবিত রাজ্যশাসক, জীবিত রাজা-রানিদের মধ্যে সর্বাধিক দীর্ঘকালীন ধরে শাসনকারী রাজ্যশাসক এবং বর্তমান রাষ্ট্রপ্রধানদের মধ্যে সর্বাধিক প্রবীণ ও দীর্ঘকালীন রাষ্ট্রপ্রধান।


আরও খবর

জাতিসংঘে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী

রবিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২

জাতিসংঘের ভূমিকায় হতাশ মালয়েশিয়া

রবিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২




রাঙ্গামাটির জুরাছড়িতে ১৪৪ ধারা জারি,আওয়ামীলীগ বিএনপির সমাবেশ বন্ধ

প্রকাশিত:বুধবার ৩১ আগস্ট ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ |
Image

উচিংছা রাখাইন কায়েস রাঙ্গামাটি :

রাঙ্গামাটির জুরাছড়ি উপজেলায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। আজ

বুধবার জুরাছড়ি উপজেলায় একই স্থানে বিএনপি ও আওয়ামীলীগ একই স্থানে

সমাবেশের ডাক দেয়ায় গতকাল উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৪৪ ধারাজারী করা

হয়।

সকাল থেকে জুরাছড়ি উপজেলায় প্রতিটি পয়েন্টে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত

পুলিশ। সকাল থেকে আওয়ামীলীগ ও বিএনপি কাউকে সমাবেশ স্থলে আসতে দেখা যায়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিতেন্দ্র

কুমার নাথ স্বাক্ষরিত অবহিত পত্রে বলা হয়, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি,

পরিবহন ভাড়া এবং নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিএনপির

ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে জুরাছড়ি  উপজেলা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী

সংগঠনের উদ্যোগে রোববার (৩১ আগস্ট) সকালে বিক্ষোভ সমাবেশ করবে।

অপরদিকে একইদিনে একইস্থানে ক্ষমতাসীন দল উপজেলা ছাত্র লীগ ও যুবলীগের

উদ্যোগে ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদ ও বিএনপি নেতা তারেক জিয়ার

ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল এবং সমাবেশ করবে ।

পত্রে আরও জানানো হয়, একই সময়ে দেশের দুটি বৃহত্তর রাজনৈতিক দলের

সমাবেশের কারণে উপজেলার স্বাভাবিক শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘিœত হওয়ার সম্ভাবনা

রয়েছে। তাই আজ সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত  উপজেলা সদর এবং এর

আশেপাশের এলাকায় সকল প্রকার মিছিল-মিটিং, সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ থাকবে।

পাশাপাশি চার বা তার ততোধিক ব্যক্তি একত্রে চলাচল এবং আইন, শৃঙ্খলা

পরিপন্থী সব অবৈধ কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকবে।

এদিকে জুরাছড়ি উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দরা জানান, দেশে জ¦ালানী তেলের দাম

বৃদ্ধি, পরিবহন ভাড়া ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য মুল্যে বৃদ্ধির প্রতিবাদে

সমাবেশ আহবান করি। কিন্তু আওয়ামীলীগ সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে

উপজেলা প্রশাসন আমাদের অনুমতি না দিয়ে ১৪৪ ধারা জারী করে তিনি বলেন,

এই অবস্থায় অবৈধ সরকারকে ক্ষমতা থেকে নামাতে আমাদের আন্দোলনের কোন বিকল্পবনেই।

তার পরও আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আমরা আমাদের প্রোগ্রাম স্থগিত করেছি।


এদিকে আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ জানান, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মুল হোতা

তারেক জিয়ার ফাঁসির দাবীতে আমরা পূর্ব নির্ধারিত সমাবেশের আহবান করি।

কিন্তু একই স্থানে বিএনপিও সমাবেশের ডাক দেয়। তাই প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারী

করেছে। তাই আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আমরা সমাবেশ স্থগিত করেছি। আগামী

দিনে আবারো সমাবেশের আহবান করবো।


আরও খবর



বাংলাদেশ নেজামে পার্টির সঙ্গে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ- সংলাপ

প্রকাশিত:শনিবার ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ |
Image

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি নেতৃবৃন্দের সাথে সংলাপ করেছেন। আজ ৩ সেপ্টেম্বর, শনিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির পুরানা পল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় দেশের চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট ও সম-সাময়িক রাজনীতি নিয়ে আলোচনা এবং ভবিষ্যত করণীয় নিয়ে উভয় দলের নেতৃবৃন্দ মতবিনিময় করেন। 

উভয় দলের নেতৃবৃন্দ দেশ, ইসলাম ও জনগণের কল্যাণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। দল দু’টির নেতৃবৃন্দ আরো কাছাকাছি আসার ঐক্যমতে পৌঁছেন। 

মতবিনিময়কালে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন, দলের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, সহকারি মহাসচিব মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, প্রচার ও দাওয়াহ বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম।

বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের সহ-সভাপতি অধ্যাপক এহতেশাম সারওয়ার, অধ্যাপক মাওলানা লোকমান হোসেন ও মাওলানা আব্দুল বাতেন, মহাসচিব মুফতী মুহাম্মদ আবদুল কাইয়ূম, সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ মুহাম্মদ নুরুজ্জামান, অর্থ সম্পাদক মাওলানা আশরাফ আলী জিহাদী, আন্তর্জাতিক সম্পাদক মাওলানা আবুল হাসান তালুকদার, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মাওলানা রফিকুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক জনাব মুনির হোসেন।

বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি নেতৃবৃন্দ বৃহত্তর ঐক্য গড়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করায় এবং নেজামে ইসলাম পার্টির সাথে মতবিনিময়ের জন্য ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান এবং ঐক্য প্রক্রিয়া আরো বৃহত্তর পরিসরে ছড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানান।


আরও খবর



মোরেলগঞ্জের বারইখালীতে কিশোরীদের মাঝে তথ্য কার্ড বিতরণ

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০১ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ |
Image

এম.পলাশ শরীফ, নিজস্ব প্রতিবেদক : 

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে বারইখালী ইউনিয়নে বাল্য বিয়ে ঝুঁকিতে থাকা কিশোরীদের মাঝে তথ্য কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে বেসরকারি সংস্থা ব্রাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনী সুরক্ষা কর্মসূচি (সেল্প)’র আয়োজনে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল খান মহারাজ, ব্রাকের সুরক্ষা কর্মসূচির সেল্প অফিসার মাহফুজা খাতুন, ইউপি সদস্য মো. নিজাম উদ্দিন, প্রধান শিক্ষক কল্পনা রানি, ইউনিয়ন পল্লী সমাজের সভাপতি গৌতম বিশ্বাসসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ। অনুষ্ঠান শেষে পল্লী সমাজের ১৮ জন কিশোরীদের মাঝে তথ্য কার্ড বিতরণ করা হয়। 


আরও খবর



শিরক থেকে দূরে থাকতে হবে

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ |
Image

শিরক একটি আরবি শব্দ যার অর্থ অংশ। ইসলামী পরিভাষায় সর্বশক্তিমান আল্লাহতায়ালার সঙ্গে কাউকে শরিক করা, কাউকে তাঁর সমকক্ষ ভাবা কিংবা অংশীদার করাকে শিরক বলে।

এটি একটি জঘন্য অপরাধ এবং কবিরা গুনাহ। মহান সর্বশক্তিমান আল্লাহতায়ালা শিরককে বড় মিথ্যা এবং জুলুম বলে আখ্যায়িত করেছেন। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসে বলা হয়েছে- আল্লাহ তার বান্দার যে কোনো গুনাহকে ক্ষমা করে দেন। কিন্তু শিরকের গুনাহকে ক্ষমা করেন না। আমাদের সমাজে আল্লাহতায়ালার সঙ্গে বিভিন্নভাবে এবং বিভিন্ন পন্থায় শিরক করা হয়ে থাকে। মানুষ পাথর, অগ্নি, গাছ ও কবর পূজা ইত্যাদির মাধ্যমে শিরক করে। তা ছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি-বাকরি, বিবাহশাদি, রোগ-শোক, আয়-রোজগার ইত্যাদির ক্ষেত্রেও বিভিন্নভাবে এবং বিভিন্ন পন্থায় শিরক করা হয়। শিরক চার ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। ১. আল্লাহর মূল সত্তায় শিরক, ২. আল্লাহর গুণাবলিতে শিরক, ৩. আল্লাহর অধিকারে শিরক, ৪. আল্লাহর এখতিয়ারে শিরক। পবিত্র কোরআনে শিরকের পরিণাম সম্পর্কে সতর্ক করে বলা হয়েছে- এটি একটি ক্ষমাহীন অপরাধ।

ইরশাদ করা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন না, যে তার সঙ্গে কাউকে শরিক করে। এ ছাড়া যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন এবং কেউ আল্লাহর সঙ্গে শরিক করলে সে ভীষণভাবে পথভ্রষ্ট হয়। তারা তার পরিবর্তে শুধু দেবীরই পূজা করে এবং বিদ্রোহী শয়তানের পূজা করে।’ (৪-সুরা নিসা : ১১৬-১১৭)। যারা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে উপাস্য হিসেবে মানে তারা পথভ্রষ্ট। ইরশাদ করা হয়েছে- স্মরণ কর, যখন ইবরাহিম তার পিতা আজরকে বললেন : ‘তুমি কি প্রতিমাগুলোকে উপাস্য মনে কর? আমি দেখতে পাচ্ছি যে, তুমি ও তোমার সম্প্রদায় প্রকাশ্য পথভ্রষ্ট।’ (৬ সুরা আনয়াম : ৭৪)। আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তার ইবাদতের জন্য। শিরকমুক্ত ইবাদতের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর সন্তুষ্টি বিধান করতে পারে।

সর্বশেষ ও শ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশিত পথে আল্লাহর ইবাদত করতে হবে। হজরত আদম (আ.)-এর মাধ্যমে দুনিয়ার বুকে প্রথম নবীর আগমন, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমনের মাধ্যমে পৃথিবীতে নবী রসুলের আগমন পর্বের সমাপ্তি টানা হয়েছে। মহানবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর পৃথিবীতে আর কোনো নবী আসবেন না। তিনি হলেন বিশ্ববাসীর জন্য মনোনীত নবী।

কেয়ামত পর্যন্ত যত মানুষ পৃথিবীতে আসবে তারা তার উম্মতের মধ্যেই গণ্য হবে। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর পথে মানুষকে ডাকার এ মহান জিম্মাদারি তার উম্মতের মধ্যে যারা কোরআন হাদিসের জ্ঞানে জ্ঞানী তাদের ওপর দিয়েছেন। মহানবীর আগে যে হাজার হাজার নবী রসুল এসেছেন তাদের বিশেষ সম্প্রদায়ের নবী রসুল হিসেবে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু আখেরি নবীর আগমন ঘটেছে সমগ্র মানবজাতির জন্য। ইরশাদ করা হয়েছে- ‘হে নবী আমি তোমাকে সারা বিশ্বের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছি।’ (২১ সুরা আম্বিয়া : ১০৭)।


আরও খবর

ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবন-বিধান

শুক্রবার ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২২