Logo
শিরোনাম

সূফিবাদের প্রয়োজনীয়তা

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ৩০ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ১৪ জুলাই ২০২৪ |

Image

সূফি মাজহারুল ইসলাম মাসুম :   

হাদীসের দ্বারা তাসাইফের কথা অকাট্যভাবে প্রমাণিত হয়।একবার রাসূলে করীম (সাঃ)কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে ইহসান কি?তিনি উত্তরে বলেছিলেনইহসান হল  বিষয় যে,তুমি যখন নামায পড়বে তখন তুমি  মনে করবে যে আল্লাহকে তুমি দেখছ আর তাও যদি সম্ভব না হয় তাহলে এই মনে করবে যে আল্লাহ তোমাকে দেখছেন

হাদীসে কুদসীতে বলা হয়েছে যেযে ব্যক্তি নিজেকে চিনল,সে আল্লাহকে চিনল

হাদীসে কুদসীতে আরও এসেছে যেআল্লাহ বলেনযখন আমি আমার কোন বান্দাকে ভালবাসি তখন আমি তার ধ্যান-অনুধ্যানে  কাজে কর্মে নিকটবর্তী হই। আমি তার চোখ হই যা দিয়ে সে দেখে,আমি তার কান হই যা দিয়ে সে শুনতে পায়,আমি তার হাত হই যার সাহায্যে বিভিন্ন জিনিস ধরে।

 

অর্থাৎ,কুরআনে অসঅংখ্য আয়াত  হাদীসের দ্বারা  কথা অকাট্যভাবে প্রমাণিত যে সূফিবাদ কুরআন-হাদীস হতে নিঃস্বরিত এক ধরনের বাতিনী জ্ঞান।এ ছাড়াও আমরা  বিষয়টি লক্ষ্য করে দেখতে পাই যেনবী করিম (সাঃহেরা গুহায় গভীর ধ্যানে নিমজ্জিত থাকতেন যার দ্বারা বুঝা যায় যে তিনি আধ্যাত্মিক জীবন সাধনায় প্রায় সময় ব্যস্ত থাকতেন। নবী করীম (সাঃএর জীবদ্দশায় আহলে সুফফার কিছু লোক আল্লাহ পাকের ধ্যান সাধনায় এমন সময় ব্যয় করেছেন যার দ্বারা ধারনা করা হয় যে সূফিবাদ কথাটির উৎপত্তি ঘটেছে। অতঃপর খুলাফায়ে রাশেদীনের সময় হযরত আবূ বকর(রাঃ),উমার(রাঃ),উসমান(রাঃ আলী(রাঃপ্রত্যেকে তারা শাসনকার্য পরিচালনার পাশাপাশি অসংখ্য ইবাদত-বন্দেগীর মাধ্যমে আধ্যাত্মিক সাধনায় ব্যস্ত থাকতেন। সৈয়দ আমীর আলী বলেন,

 

“ আলী(রাঃএর মৃত্যুর সাথে খিলাফত ধংসব হতে থাকে আর দামেস্কে যে বর্বরোচিত অত্যাচার শুরু হতে থাকে সেখান থেকে কিছু মানুষ একান্তে ইবাদত বন্দেগী করতে বাধ্য আর সেখান থেকে অতীন্দ্রয়বাদ স্বাভাবিকভাবে অগ্রসর হতে থাকে

 

কুরআন  হাদীসে সূফিবাদকে বিভিন্ন নামে নামকরণ করা হয়েছে।তা হল ইলমে বাতিনী,ইলমে লাদুন্নী,ইলমে ইলমে তরীকত,ইলমে মারিফত ইত্যাদি নামে অভিহিত করা হয়েছে।

 সে সময় হতে হাসান বসরীসহ প্রমুখ তাবিয়ীর মাধ্যমে মরমীবাদ প্রকাশ হতে থাকে।উমাইয়্যা খিলাফত আমলে মানুষের বাহ্যিক চিন্তা-চেতনার এতটা বিকাশ ঘটে নাই যতটা বিকাশ ঘটেছিল আব্বাসীয়দের আমলে।সে সময় সূফিবাদের একটি চূড়ান্তরুপ লাভ করে।সে অর্থাত,হিজরীর ২য় শতকে এসে সূফিবাদ নামে একটি স্বতন্ত্র ইসলামী মরমীধারার উদ্ভব ঘটে।সে সময় যেসমস্ত কারনে সূফিবাদের উদ্ভব ঘটে তার প্রধান প্রধান কারনসমূহ নিম্নরুপঃ

()খলিফা হারুন-উর-রশিদের ইন্তেকালের পর তার দুই পুত্র আমীন  মামুনের ভিতর যখন মতবিরোধ দেখা দেয় তখন এক বীভীষীকাময় রাজনোইতিক অবস্থা বিরাজমান ছিল।অন্যদিকে ইসমাইলীয়া,বাতিনিয়া  কারামাতিয়া প্রভৃতি সম্প্রদায়ের অনুসারীগণ ধর্মের নামে অভীষ্ট রাজনীতির প্রচারণা চালাতে থাকে।এমতাবস্থায় কিছু লোকজন রাজনীতি থেকে কিছু মানুষ ইবাদতে ধ্যান-মগ্নে থাকার প্র্যাস পান এববগ এর ভিতর শান্তি তারা খুজে পেয়েছিল।

()আব্বাসীয়দের খিলাফতামালে মুতাযিলা সম্প্রদায়ের চিন্তা-চেতনার আবির্ভাব ঘটেছিল সেখানে মানুষের ভিতর এক ধরনের সংশায়াত্মক অবস্থার সৃষ্টি করেছিল আর মুতাযিলাদের সাথে অন্যান্য গোষ্ঠির ভিতর যে দ্বন্দ্বের আবির্ভাব হয়েছিল তা থেকে পরিত্রানের জন্য কিছু লোক আধ্যাত্মিক সাধনার মাধ্যমে ইবাদত-বন্দেগীর মাধ্যমে শান্তি খুজে পাওয়ার প্রয়াস খুজে পেয়েছিল।

()হানাফী,শাফিয়ী,মালিকি  হাম্বলী মাযহাব যে আবেগ বর্জিত পরহেজগারিতা নিয়ে এসেছিল সে অবস্থায় সম্পূর্ণ আবেগধর্মী অবস্থার দিকে এক দল মানুষ ধাবিত হচ্ছিল।

তাহলে আমরা বলতে পারি যে,তাসাইফের উৎপত্তি প্রকৃতপক্ষে বাহিরের কোন চিন্তা-ধারনা থেকে নয় বরং কুরআন-হাদীস  মুসলমানদের নিজস্ব চিন্তা-ধারাকে কেন্দ্র করে হয়েছে।মহানবী(সাঃএর জীবদ্দশায় এর উৎপত্তি ঘটেছিল যা

সূফিবাদের ক্রমবিকাশঃ

প্রকৃতপক্ষে সূফিবাদের আবির্ভাব মুহাম্মদ(সাঃএর সময় হতে শুরু হয়।অতঃপর যাকে সর্বপ্রথম মুসলিম সূফী হিসেবে চিহ্নতি করা হয় সে হল হযরত হাসান বিসরি(.) তার জ্ঞানতত্ত্বের আলোকে সূফী-সাধকগণ সূফিবাদের ক্রমবিকাশে এক বিশেষ ভূমিকা পালন করে।তার ভিতর মরমী  দার্শনিক চিন্তা-ধারার এক অপূর্ব মিলন ঘটেছিল।এছাড়াও সর্বপ্রথম সূফী হিসেবে যার নাম স্বীকৃতি দেওয়া হয় সে হল আবয় হাশিম কূফী।কেউ কেউ আবার জাবির বিন হাইয়্যানকে প্রথম সূফী হিসেবে চিহ্নিত করে থাকেন।এরপর হিজরীর ২য় শতকে এসে সূফিবাদের জনপ্রিয়তা ব্যাপক হারে বৃদ্বি পেতে থাকে।এ সময়ের উল্লেখযোগ্য সূফীগণ হলেন ইব্রাহীম বিন আদহাম,রাবিয়া বসরী,দাউদ আত-

 

তায়ী  ফুযায়ল বিন হাইয়ায প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ।তাদের কার্যকলাপ  বাণী থেকে আস্তে আস্তে কৃচ্ছতা জীবনে উদ্ভব ঘটতে থাকে।

এরপরে সূফিবাদের ক্রমবিকাশে যুন্নুন মিসরীর ভূমিকা ছিল ব্যাপক।তিনি ইসলামী মরমীবাদকে স্তভ হিসেবে স্থাপিত করেছিল।তাই তাকে সূফিবাদের সর্বপ্রথম ব্যাখ্যাদানকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।তিনি হাল  মাকাম সম্পর্কে সূফী-সংক্রান্ত সূত্র প্রদান করেন।অতঃপর যুনায়েদ বাগদাদী যুন্নুন মিসরীর ধারনাকে আরো উন্নতি  সুসংবদ্ব করেন।

কালক্রমে সূফিবাদের ভিতর সর্বেশ্ববাদের ধ্যান-ধারনা যুক্ত হতে থাকে।এ ধরনের মতাবাদের মূল প্রবক্তা ছিলেন বায়জীদ বোস্তামী  মানসুর হাল্লাজ।তবে মানসুর হাল্লাজের বক্তব্য কিছুটা বিতর্কিত ছিল যে জন্য তাকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল।

অতঃপ্অর ইমামা আল গাযযালী এর সময় থেকে গোড়া সুন্নিবাদী মতবাদ সূফিবাদের ভিতরে একটি বিশেষ স্থান দখল করে নেয়।তিনি গোড়া ইসলাম  সূফিবাদের ভিতর একটি সুন্দর মিল তৈরী করেন।।তার সময় অনেল সূফীর আগমন হয় যার মধ্যে আব্দুল কাদির জিলানী,ফরিদ উদ্দিন আত্তার,আল-কুশাউরী,শিহাবুদ্দিন সোহয়ার্দীর নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

সপ্তম হিজরীতে স্পেনে ইবনুল আরাবী সূফিবাদের ক্রমবিকাশে এক বিশেষ ভূমিকা পালন করে।তিনি সর্বেশ্বরবাদের প্রচলন করেন।তার তার প্রতিষ্ঠিত মতবাদের নাম ছিল “ওয়াহাদুল অজুদ।তার এই মরমী ধারার ক্রমবিকাশে সাহায্য করেছিলেন জালালুদ্দিন রুমি (.)।তার মসনবী শরীফ পৃথিবীর ইতিহাস এক অমূল্য গ্রন্থ হিসেবে বিশেষ স্বীকৃতি লাভ করেছে।ইবনুল আরাবীর এই মতবাদের সামনে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে রুকুনুদ্দিন আলাউদ্দৌলা একটি পৃথক মতবাদ গঠন করেন যা শুহুদিয়া নামে পরিচিত।তার এই সম্প্রদায়কে বাহাউদ্দীন বিশেষভাবে সমর্থন দিয়েছেন এবং হিজরী একাদশ শতাব্দীতে  মতবাদটি ইতিহাসে এক বিশেষ স্থান দখল করে রাখে।    পরবর্তীতে সূফী-সাধকদের ভিতর কাশানী,আলজিলি এর নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।অতঃপর ভারতীয় উপমহাদেশে অনেক সূফীর আবির্ভাব ঘটে যাদের ভিতর খাজা মইনুদ্দিন চিশতী,বাহাউদ্দিন,শিহাবুদ্দিন,মুজ্জাদিদ আলফে সানীর নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।বিশেষ করে আলফে সানী সূফিবাদকে ভারতীয় উপমহাদেশে নতুন করে উজ্জীবিত করেন।তিনি প্রকৃতপক্ষে  শুহুদিয়া সম্প্রদায়কে বিকাশে এক বিশেষ ভূমিকা পালন করেন।অতঃপর ১৮৩৭ সালে মুহাম্মদ বিন আলী ১৮৩৭ সালে আলজেরিয়াতে একটি পৃথক সম্প্রদায় প্রতিষ্ঠা করেন। এভাবে সূফিবাদের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন সময়  ক্রমবিকাশ হতে থাকে।

 

 


আরও খবর



নওগাঁয় পুকুরের পানিতে ডুবে ৩ বছর বয়সী যমজ দুই ভাইয়ের মৃত্যু

প্রকাশিত:রবিবার ০৭ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ১৪ জুলাই ২০২৪ |

Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন :

নওগাঁয় পুকুরের পানিতে ডুবে ৩ বছর বয়সী লক্ষণ ও রাম নামের আপন দুই যমজ ভাইয়ের মর্মান্তিক ভাবে মৃত্যু হয়েছে। রবিবার দুপুর ১২ টারদিকে নওগাঁর ধামুরহাট উপজেলার পশ্চিম চকভবানী গ্রামে পুকুরের পানিতে পড়ে জমজ দুই ভাইয়ের মর্মান্তিক এমৃত্যুর ঘটনাটি ঘটে। নিহত শিশু লক্ষণ ও রাম ঐ গ্রামের সুজিত ওরাওঁ এর যমজ সন্তান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালের খাবার খেয়ে জমজ দুই ভাই বাড়ির পাশে খেলতে থাকে। খেলার কোন এক পর্যায়ে সবার অগোচরে দুই ভাই বাড়ির সামনে পুকুরের পানিতে পড়ে ডুবে যায়। শিশুদের দেখতে না পেয়ে তাদের খোঁজা-খুঁজির এক পর্যায়ে শিশু দুটি জমজ দু' ভাইয়ের লাশ পুকুরের পানিতে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পায় তারা। যমজ দুই ভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবারের সদস্য এবং প্রতিবেশীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ধামইরহাট থানায় অফিসার ইনচার্জ বাহাউদ্দিন ফারুকী বলেন , দুই শিশু পানিতে ডুবে মারা যাওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, খেলতে গিয়েই তারা পানিতে ডুবে মারা গেছে।


আরও খবর



নওগাঁয় অটো রিকসাতে চার্জদিতে গিয়ে বিদ্যুৎ পিষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৪ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ |

Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, সিনিয়র রিপোর্টার :

নওগাঁয় ব্যাটারি চালিত অটো রিকসাতে চার্জদিতে গিয়ে অ-সাবধানতা বশত বিদ্যুৎ পিষ্ট হয়ে অটো রিকসা চালক এক যুবকের মর্মান্তিক ভাবে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। বিদ্যুৎ পিষ্টের এঘটনাটি ঘটে বুধবার দিনগত রাত সারে ৮ টারদিকে নওগাঁর মহাদেবপুর থানাধীন নওহাটামোড় পুলিশ ফাঁড়ি এলাকার চেরাগপুর ইউপির বুজরুক বড়াইল গ্রামে। স্থানিয় সুত্র ও নওহাটামোড় ফাঁড়ি পুলিশ সুত্রে জানাগেছে, বুজরুক বড়াইল গ্রামের আব্দুল খালেকের যুবক ছেলে মাহবুব আলম ওরফে মিঠু (২৭) চার্জার ব্যাটারি চালিত অটো রিকসা চালিয়ে যে অর্থ উপার্জন করতেন সেই অর্থদিয়ে তিনি তার সংসারের খরচ মিটাতেন। প্রতি দিনের মতো বুধবার ও সারাদিন অটো রিকসা চালিয়ে (ভাড়া মাড়ারপর) দিনগত রাত সারে ৮ টারদিকে নিজ বাসায় ফেরার পর অটো রিকসাতে চার্জ বিদ্যুতের সংযোগ দিতেগিয়ে অ-সাবধানতা বশত তিনি বিদ্যুৎ পিষ্ট হলে এসময় তার পরিবারের লোকজন ও প্রতিবেশীরা তাকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়েগেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন। তার মৃত্যুর খবর গ্রামে পৌছামাত্র তার নিজ গ্রাম সহ আশে-পাশের গ্রামের লোকজন সহ স্বজনদের মাঝে নেমে আসে শোকের ছাঁয়া।

বিদ্যুৎ পিষ্ট হয়ে অটো রিকসা চালকের মৃত্যুর সত্যতা প্রতিবেদককে রাতেই নিশ্চিত করেছেন নওহাটামোড় পুলিশ ফাঁড়ির এস আই জিয়াউর রহমান।


আরও খবর



দিল্লিতে ৮৮ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৮ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ |

Image

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে মৌসুমী বৃষ্টিতে অনেক অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া বৃষ্টির কারণে সেখানে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

দেশটির আবহাওয়া বিভাগ শুক্রবার (২৮ জুন) জানিয়েছে, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ৩০ মিনিট থেকে আজ সকাল ৮টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ২৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। যা ১৯৩৬ সালের পর একদিনে (২৪ ঘণ্টায়) সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড। ৮৮ বছর আগে ১৯৩৬ সালে ২৩৫ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছিল।

সাধারণত জুন মাসে দিল্লিতে গড়ে ৮০ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে।

এই অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত দিল্লির শহরের বাসিন্দাদের জন্য বয়ে এনেছে অসহনীয় দুর্ভোগ। যারা অফিস বা কাজের জন্য বের হয়েছিলেন তারা জলাবদ্ধতা এবং ট্রাফিক জ্যামের কবলে পড়েছেন।

তবে এই বৃষ্টিপাত আবার দিল্লিবাসীর জন্য আশীর্বাদ হিসেবেও এসেছে। কারণ সেখানে গত দুই মাস ধরে অসহনীয় তাপমাত্রা বিরাজ করছিল। আজ শুক্রবার দিল্লির তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৪ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা সাধারণ থেকে ৩ দশমিক ২ ডিগ্রি কম।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, এই বৃষ্টিপাত আবার চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়েছে এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য কতটা অপ্রস্তুত দিল্লি।

গত ১৮ জুন দিল্লির মেয়র শেলি ওবে দাবি করেছিলেন, বর্ষা মৌসুমের জন্য তারা প্রস্তুত রয়েছেন। কিন্তু মৌসুমের প্রথম ভারী বৃষ্টিপাতেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে গেছে।

বৃষ্টির পরিমাণ এতই বেশি ছিল যে কোথাও কোথাও ৩ ফুট পর্যন্ত পানি জমেছে। এছাড়া নদিয়ার অবস্থাও এমন নাজুকই বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।


আরও খবর



কুড়িগ্রামে ৪১ ইউনিয়নে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী

প্রকাশিত:শনিবার ০৬ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ |

Image



কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:


ব্রহ্মপুত্র নদের পানি চিলমারী, নুনখাওয়া ও হাতিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে।


 অপরদিকে দুধকুমার নদের পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করায় তলিয়ে যাচ্ছে নতুন নতুন এলাকা।



বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে নদ-নদী তীরবর্তী ৪১টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের দুই শতাধিক গ্রাম। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দেওয়া তথ্যমতে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় থাকলেও কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের হিসাব মতে দুর্যোগ কবলিত হয়েছে ৬২ হাজার দুইশ মানুষ।



শনিবার (৬ জুলাই) সকাল ৯টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি চিলমারী পয়েন্টে বিপৎসীমার ৭৩ সেন্টিমিটার, নুনখাওয়া পয়েন্টে ৬৮ সেন্টিমিটার ও হাতিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ৭২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে এবং দুধকুমার নদের পানি বেড়ে পাটেশ্বরী পয়েন্টে বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র।


বন্যার পানিতে ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় বানভাসি পরিবারগুলো বসতবাড়িতে বাঁশের মাচান, নৌকা ও কলাগাছের ভেলায় আশ্রয় নিয়ে দুর্ভোগকে সঙ্গী করে মানবেতর জীবনযাপন করছে। অধিকাংশ পরিবারে ৫দিন ধরে চুলা জ্বলছে না। চারণভূমি তলিয়ে যাওয়ায় গো-খাদ্যের তীব্র সংকটে গবাদিপশু নিয়ে সংকটে পড়েছে বানভাসীরা।



বানভাসীদের অনেকেই গবাদি পশুসহ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রে কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। গ্রামাঞ্চলের কাঁচা-পাঁকা সড়কগুলো বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। বানভাষীদের মাঝে খাদ্য, বিশুদ্ধ খাবার পানি ও শুকনো খাবার এবং জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। স্যানিটেশন ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে বন্যা কবলিতরা।


পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান জানান, জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্রসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানি আরও ৪৮ ঘণ্টা বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। ব্রহ্মপুত্রের পানি তিনটি পয়েন্টে এবং দুধকুমারের ১টি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যন্য নদ নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। 

 

কুড়িগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুর্নবাসন কর্মকর্তা আব্দুল হাই সরকার জানান, এখন পর্যন্ত বানভাসীদের জন্য ৯ উপজেলায় ২৮২ মেট্রিক টন চাল ও ২১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা বিতরণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মজুত আছে ৩৯৫ মেট্রিক টন চাল ও ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ৫০০ প্যাকেট শুকনা খাবার- যা পর্যায়ক্রমে বিতরণ করা হবে।


কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ জানান, স্থানীয় প্রশাসন বন্যার্তদের পাশে থেকে দুর্ভোগ কমাতে সবধরনের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। শুক্রবার রংপুর বিভাগীয় বিভাগীয় কমিশনার মো. জাকির হোসেন কুড়িগ্রাম সদর ও উলিপুর উপজেলার বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন এবং বন্যার্ত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন।


তিনি আরও জানান, জেলার ৯ উপজেলার মধ্যে ৮ উপজেলা বন্যাকবলিত। ৪০৪টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন এক হাজার ২৪৬জন। শুক্রবার ৭ উপজেলায় ২ হাজার ৮৫০টি পরিবারের মাঝে ২৮ মে.টন চাল বিতরণ করা হয়। এছাড়া শুকনো খাবার, তেল, ডালসহ প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়।




আরও খবর



টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ : সেমিফাইনালের স্বপ্ন শেষ বাংলাদেশের

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৫ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ১৪ জুলাই ২০২৪ |

Image

 


বিডি টুডেস ডিজিটাল রিপোর্ট:



টার্গেট ১১৬ রানের। তবে সেমিফাইনালে যেতে এই টার্গেট টপকাতে হবে ১২ ওভার ১ বলে। সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ। 


১২.১ ওভার শেষে ৭ উইকেট হারিয়ে ৮৩ রান করে বাংলাদেশ। তাই সেমিফাইনালের স্বপ্ন শেষ টাইগারদের। 


১১৬ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে রানের খাতা খোলার আগেই সাজঘরে ফিরে যান তানজিদ হাসান তামিম। দলীয় ৪৮ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। 



নাজমুল হাসান শান্ত ৫ বলে ৫, সৌম্য সরকার ১০ বলে ১০ ও রানের খাতা খোলার আগেই আউট হন সাকিব আল হাসান। তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে ব্যাট করতে থাকেন লিটন দাস।


তবে লিটনকে সঙ্গ দিতে ব্যর্থ হন অন্য ব্যাটাররা। দ্রুতই আরও তিন উইকেট হারিয়ে ধুঁকছে বাংলাদেশ। ১৫ ওভার শেষ ৮ উইকেট হারিয়ে ৯৪ রান সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ।  


আরও খবর