Logo
শিরোনাম
কুমিল্লায় ধর্ষণ মামলায়

স্বামী ও উকিল বাবাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০22 | হালনাগাদ:সোমবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ |
Image

কুমিল্লা ব্যুরো ঃ

কুমিল্লায় ধর্ষণ মামলায় স্বামী মোঃ নূরুল ইসলাম ও উকিল বাবা আব্দুর রহমানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন কুমিল্লার আদালত। মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ রায় দেন কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুন।

মামলার বিবরণে জানাযায়- প্রায় ০৪ বছর পূর্বে সাজাপ্রাপ্ত আসামী মোঃ নূরুল ইসলাম এর সাথে ভিকটিম দেলোয়ারা বেগম বিয়ে হয়। এবং দাম্পত্য জীবনে এক কন্যা সন্তান লামিয়া জন্ম গ্রহণ করে। এরপর হতে ভিকটিমের স্বামী নুরুল ইসলাম প্রায়ই তাঁর পরিচিত লোকজনের সাথে খারাপ কাজ করার জন্য তাঁর স্ত্রী দেলোয়ারা বেগমকে পরামর্শ প্রদান করত। ভিকটিম দেলোয়ারা উক্ত প্রস্তাবে রাজী না হলে তাঁকে তাঁর স্বামী মারপিট করত এবং তাকে তালাক দিয়ে পিত্রালয়ে পাঠিয়ে দেয়ার হুমকী প্রদর্শন করত। ২০২০ সালের ০১লা সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ভিকটিম দেলোয়ারা বেগম মাগরিব এর নামাজ পড়ে তাঁর বাচ্চাকে নিয়ে তসবিহ জপতে থাকাবস্থায় তার স্বামী মোঃ নূরুল ইসলাম উকিল বাবা আব্দুর রহমানকে ঘরে নিয়ে আসে। ঐ সময় আব্দুর রহমানের হাতে একটি নতুন শাড়ি ছিলো। তাঁর স্বামী ভিকটিমের হাতে নতুন শাড়ী দিয়ে উকিল বাবা আব্দুর রহমানের সাথে খারাপ কাজ করার জন্য ভিকটিম দেলোয়ারা বেগমকে প্রস্তাব দেয়। দেলোয়ারা উক্ত প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে তাঁর স্বামী মোঃ নূরুল ইসলাম দেলোয়ারার মুখ চেপে ধরে আব্দুর রহমানকে বলে ধর্ষণ করার জন্য। ভিকটিমের স্বামী জোর করে তাঁর সেলোয়ার খুলে ফেলে। মুখ চেপে ধরায় দেলোয়ারা কোন শব্দ করতে পারেননি। তখন উকিল বাবা আব্দুর রহমান দেলোয়ারা ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে ধর্ষণ করে। এ ব্যাপারে ২০২০ সালের ০৩ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানাধীন ধনুয়াখোলা নিবাসী জোহর আলীর কন্যা ভিকটিম দেলোয়ারা বেগম (২৫) বাদী হয়ে একই গ্রামের মনু মিয়ার ছেলে ভিকটিমের স্বামী মোঃ নূরুল ইসলাম (৩৩) ও একই থানাধীন সৈয়দপুর নিবাসী মৃত আলী মিয়া গাজীর ছেলে উকিল বাবা মোঃ আব্দুর রহমানকে আসামী করে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সং/০৩) এর ৯(১)/৩০ ধারার বিধানমতে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরবর্তীতে ঘটনা তদন্তপূর্বক আসামীদ্বয়ের সংশ্লিষ্ট ধারায় অপরাধ প্রাথমিক ভাবে সত্য প্রমাণিত হওয়ায় গত বছর ২৬ এপ্রিল উল্লেখিত আসামীগণের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্তকরী কর্মকর্তা ফারুক আহমেদ। এরপর মামলাটি বিচারে আসিলে সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে ভিকটিমের স্বামী মোঃ নূরুল ইসলাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ধারা ৯(১)/৩০-এ দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০,০০০/- টাকা অর্থ দণ্ড এবং উকিল বাবা আব্দুর রহমানকে সংশ্লিষ্ট ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৫০,০০০/টাকা অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত করেন। রায়ে আরও উল্লেখ করেন ধর্ষণের শিকার ভিকটিম দেলোয়ারা বেগম অর্থদন্ডের অর্থ ক্ষতিপূরণ হিসাবে প্রাপ্য হবেন। আসামী নূরুল ইসলাম ও আব্দুর রহমান অর্থ দণ্ডের ৬০,০০০/- টাকা পরিশোধ না করলে উক্ত টাকা আদায়ের নিমিত্তে আসামীদ্বয়ের স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি নিলাম বিক্রয় করে বিক্রয়লব্ধ অর্থ ভিকটিম দেলোয়ারা বেগমকে ক্ষতিপূরণ বাবদ পরিশোধ করার জন্য ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টারকে নির্দেশ প্রদান করা হয়। রাষ্ট্র পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন- কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর পিপি এডভোকেট প্রদীপ কুমার দত্ত এবং  আসামী পক্ষে এডভোকেট মোঃ আতিকুল ইসলাম।


আরও খবর



বিবিসিকে প্রধানমন্ত্রী

সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সংগ্রাম করছি

প্রকাশিত:সোমবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ |
Image

প্রয়াত রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে বিবিসিকে দেয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তিনি নিজে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করেছেন। বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছিল শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের শাসনামলে।

বিবিসি সাংবাদিক লরা কুনেসবার্গের আগামী নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে তার সরকারের প্রতিশ্রুতি সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অবশ্যই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এবং অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন প্রতিষ্ঠার জন্যই আমার সংগ্রাম।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গুমের বিষয়ে অনেকেই অভিযোগ করতে পারেন, কিন্তু তা কতটা সত্য তা বিচার করতে হবে। এটা জানার আগে কেউ কোনো মন্তব্য করবেন না।

প্রধানমন্ত্রী বিবিসিকে বলেন, তার দেশে দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে, প্রকাশ্যে বা গোপনে সামরিক শাসক ছিলেন।

তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে আমার বাবাকে (জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান) হত্যা করা হয়। তিনি তখন দেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন এবং আপনি জানেন যে আমার পুরো পরিবার, আমার মা, আমার তিন ভাই, দুই ভাতৃবধু, পরিবারের অন্যান্য সদস্যসহ মোট ১৮ জন সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, তারপর থেকে ২১ বছর ধরে, যে দেশটি বারবার অভ্যুত্থান প্রত্যক্ষ করেছে। তিনি যোগ করেন যে প্রায় ২০ বার অভ্যুত্থানের চেষ্টা হয়েছে এবং প্রতিবার রক্তপাত হয়েছে।

শেখ হসিনা বলেন, সেখানে গণতন্ত্র ছিল না, গণতান্ত্রিক অধিকার ছিল না, তাই আমি আমার দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করেছি।

বিবিসিকে বলেন, সামরিক শাসকরা দীর্ঘদিন ধরে দেশ শাসন করেছে এবং তারা দল গঠন করেছে এবং ভোটের জন্য তারা কখনো জনগণের কাছে যায়নি।তারা সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করেছে, প্রশাসনকে ব্যবহার করেছে এবং ক্ষমতায় থাকার জন্য সবকিছু ব্যবহার করেছে।

নিখোঁজের অভিযোগের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বিবিসি সাংবাদিককে প্রশ্ন করেন, আপনার দেশে এবং অন্যান্য দেশে কত লোক নিখোঁজ হয়েছে? আপনি বিচার করতে পারেন। এই সমস্ত বিষয় আমি মনে করি, প্রথমে আপনাকে বিবেচনায় নিতে হবে। সমস্ত তথ্য আপনার সংগ্রহ করা উচিত, তারপর আপনি অভিযুক্ত করতে পারেন।

আপনার এবং বাংলাদেশের কাছে কমনওয়েলথের গুরুত্ব কতটা, এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অবশ্যই এর মূল্য অনেক বেশি, যখন আমরা একসাথে থাকি, সেখানে অনেক সুযোগ থাকে, তাই, এটা ভালো এবং গুরুত্বপূর্ণ কারণ আমাদের একটা জায়গা আছে যেখানে আমরা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বিনিময় করতে পারি। কিছু ধারণা গ্রহণ করতে পারি বা দেশ বা জনগণের জন্য কিছু ভাল কাজ করতে পারি। তাই, আমার মনে হয় এটা ভালো।

তিনি বলেন, বর্তমানে, আপনি দেখতে পাচ্ছেন, যে একটি দেশ একা চলতে পারে না। কারণ, এটি একটি আন্তঃনির্ভর বিশ্ব। সুতরাং, এই পরিস্থিতিতে সদস্য দেশগুলোর জন্য কমনওয়েলথের অর্থ অনেক বড়। প্রতিটি দেশ একসাথে কাজ করতে পারে-কারণ, অনেক দেশ আছে উন্নত দেশ, উন্নয়নশীল দেশ এবং দরিদ্র দেশ, ছোট দ্বীপ দেশ।

রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের সাথে ব্যক্তিগত স্মৃতি নিয়ে, তিনি বলেন, এটি ১৯৬১ সালে যখন তিনি (রানি) তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সফর করেছিলেন এবং তিনি তাকে ব্যক্তিগতভাবে প্রথমবার দেখার সুযোগ পেয়েছিলেন।

তিনি বলেন, তখন আমরা খুব ছোট এবং আমার বাবার অফিসে গিয়েছিলাম। কারণ, আমরা জানতাম যে তিনি সেই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। তাই, আমরা পুরো পরিবার দূরবীন নিয়ে জানালায় অপেক্ষা করেছি। ফলে, আমরা তাকে আরও স্পষ্টভাবে দেখতে পেয়েছি।

তিনি যোগ করেন যে যখন প্রধানমন্ত্রী হন, তিনি প্রতিটি কমনওয়েলথ শীর্ষ সম্মেলনে রানির সাথে দেখা করেছেন।

আমি প্রায় সাতটি কমনওয়েলথ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়েছি। প্রতিবারই আমি তার সাথে কথা বলার সুযোগ পেয়েছি। প্রয়াত রানির আমন্ত্রণে তিনি অলিম্পিক গেমসে যোগ দিতে গিয়েছিলেন বলে তারা দীর্ঘদিন ধরে একে অপরের সাথে আলাপ আলোচনা করেছেন।

প্রয়াত রানির সঙ্গে সুন্দর স্মৃতির কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,তার (রাণী) চমৎকার স্মৃতিশক্তি ছিল এবং তিনি আমাকে না দেখলে হাসিনা কোথায় ছিলেন বলতেন।

যুক্তরাজ্যের একজন রাণী ছিলেন এতে কোনো সন্দেহ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, রানি কমনওয়েলথেরও একজন নেতা। কমনওয়েলথ দেশগুলোর একজন সদস্য হিসেবে তিনি আমাদের কাছে অনেক মূল্যবান ছিলেন।


আরও খবর

পঞ্চগড়ে নৌকা ডুবে ২৪ জন নিহত

রবিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২

এবার ৩২ হাজার মণ্ডপে দুর্গাপূজা

রবিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২




মাধবদীতে ডাকাতির প্রস্তুতকলে অস্ত্রসহ ৮ ডাকাত আটক

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০22 | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ |
Image

মাধবদী (নরসিংদী) প্রতিনিধি ঃ 

নরসিংদীর মাধবদীতে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে নরসিংদীর জেলা গোয়েন্দা শাখা ও মাধবী থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৮ জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। 

পুলিশ জানায়,  গত সোমবার রাত ১.২৫ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাধবদী থানা এলাকা মেহের পাড়া ইউনিয়নের চৌয়া গ্রামে একটি কালভার্টের উপর হতে তাদেরকে আটক করা হয় । এ সময় তাদের সাথে থাকা একটি বিদেশি পিস্তল ,একটি ম্যাগজিন ও ২ রাউন্ড গুলি এবং১টি চাপাতি ,১টি রামদা ,১ টি কাটার, লোহার পাইপ সহ ডাকাতি কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ ভ্যান উদ্ধার করা হয়।

আটকৃত প্রত্যেক এই আন্ত:জেলা ডাকাত দলের সদস্য বলে জানায় পুলিশ । আটককৃতরা হলেন মাধবদী থানা সাগরদি গ্রামের মতি মিয়ার পুত্র মোঃ ইব্রাহিম, ডৌকাদি গ্রামের জমির আলীর পুত্র ইউনুস ,নরসিংদী থানার বানিয়াছল  এর আবু তাহের পুত্র রুবেল ,মাধবদী থানার বালাপুর এর জাবেদ আলীর পুত্র আইউব, বিরামপুরের আব্দুল হালিমের পুত্র শাহিন, সাগরদী গ্রামের বাসেত পুত্র শফিকুল ইসলাম বাদল ,আড়াইহাজার থানার শালমদী গ্রামের জালালের পুত্র মোঃ শাহিন ,যশোর কোতয়ালী থানা আব্দুল সাত্তার এর পুত্র জাহাঙ্গীর, পুলিশ জানায় তাদের নামে একাধিক মামলা রয়েছে তারা বিদেশি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ডাকাতি করার জন্য বের হয়েছিল । নরসিংদী জেলা গোয়েন্দা শাখা ইনচার্জ মোঃ আবুল বাশার বিপিএম-বার এর নেতৃত্বে মাধবদী থানা অফিসার ইনচার্জ রোকনুজ্জামান এর সহযোগিতায় এস আই নইমুল ইসলাম মোস্তাক,এস আই মোফাজ্জল হোসেন, সজিব খান ,রাহুল মজুমদার ,ফরহাদ,রুবেল, হামিদুল ,মান্নান, তুষার সহ আরো বেশ কয়েকজন অভিযানে অংশগ্রহণ করেন । উক্ত বিষয়ে আসামীদের বিরুদ্ধে মাধবদী থানায় পেনাল কোড ৩৯৯/৪০২ ধারায় এবং ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ১৯অ/১৯(ঋ) ধারায় পৃথক পৃথক এজাহার দাখিল করা হয়েছে।


আরও খবর



জাপায় অন্তঃকলহ দিন দিন বাড়ছে

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ |
Image

দলের নেতৃত্ব নিয়ে ভুল বোঝাবুঝিতে পার্টিতে এখন ভাঙনের সুর বেজে উঠেছে। বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদপন্থিরা ২৬ নভেম্বর কাউন্সিল করতে অটল। আর জি এম কাদেরপন্থিরা কাউন্সিল ঠেকাতে তৎপর। এ নিয়ে এরই মধ্যে জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্যসহ সব পদপদবি থেকে মশিউর রহমান রাঙ্গা এমপিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। মসিউর রহমান রাঙ্গাও পাল্টা হুশিয়ারি দিয়েছেন। 

সাম্প্রতিক টানাপড়েন প্রশ্নে জাতীয় পার্টির নেতারা বলছেন, দলে কোণঠাসা নেতারা জি এম কাদের এবং বিরোধীরা রওশন এরশাদকে ভুল বুঝিয়েছেন। পার্টির ভেতরে সর্বশেষ দ্বন্দ্বের পেছনেও কোণঠাসা বোধ করা নেতারা রয়েছেন বলে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের অভিযোগ। পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের এই অংশটিকে তৃতীয় শক্তি বলে উল্লেখ করেছেন।

সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে একাংশের নেতৃত্ব দিতে থাকেন রওশন এরশাদ। তবে এরশাদ তার ভাই জি এম কাদেরকে দলের নেতৃত্ব দিয়ে যান। এরপর জি এম কাদের রওশনকে দলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক করেন। পাশাপাশি তিনি জাতীয় সংসদে হন বিরোধীদলীয় উপনেতা। সে সময় জি এম কাদের ও রওশনের মধ্যে যে মীমাংসা হয়, সে অনুসারেই সবকিছু চলছিল।

তবে সম্প্রতি অসুস্থ হয়ে দেশের বাইরে থাকাকালে দলের ভূমিকায় অসন্তুষ্ট হন রওশন এরশাদ। জি এম কাদের ও তার অনুসারীরা তার খোঁজ না নেওয়ায় গত ২ জুলাই দলের একটি মতবিনিময় সভায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন রওশন।

এ সভায় দলে মধ্যে কোণঠাসা নেতারা উপস্থিত থাকলেও পার্টির মূল দলের কেউ উপস্থিত ছিলেন না। রওশনের এই অসন্তোষের সুযোগ নিয়ে রওশনকে দিয়ে নতুন নেতৃত্বের কথা বলেন। এ নিয়ে শুরু হয় দ্বন্দ্ব।

জাপার প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ ২৬ নভেম্বর সম্মেলনের আহ্বান করার পাশাপাশি দলটির নিষ্ক্রিয়, ত্যাগী, বঞ্চিত ও বিভিন্ন দলে চলে যাওয়াদের জাপায় ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে দলের চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেছেন, সম্মেলন ডাকার এখতিয়ার নেই রওশন এরশাদের।

সম্মেলন ডাকার প্রতিক্রিয়া হিসেবে বিরোধীদলীয় নেতার পদ থেকে রওশন এরশাদকে সরাতে দলের ২৩ জন সংসদ সদস্যের স্বাক্ষরিত একটি চিঠি দেওয়া হয় স্পিকারকে। দলটির প্রেসিডিয়াম সভাও এ সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছে বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে জি এম কাদেরপন্থিরা প্রেসিডিয়াম সভায় সর্বসম্মতিক্রমে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদেরকে বিরোধীদলীয় নেতা করতে সংসদীয় দলের সভার প্রস্তাবনার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। সভায় আরো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের সঙ্গে কেউ হাত মেলালে তাকে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বহিষ্কার করা হবে। সভায় ইঙ্গিত দেওয়া হয় রওশনপন্থিদের কাউন্সিল ঘিরে কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি করলে যত বড় নেতাই হোক না কেন তাকে বহিষ্কার করা হবে।

যদি কাউকে বহিষ্কার করা হয়, সে ক্ষেত্রে দল আরেক দফা ভাঙনের মুখে পড়বে। পার্টির একাধিক নেতার মন্তব্য, জাপার নেতৃত্বে নতুন মোড় নিতে পারে শিগগির।

এ বিষয়ে রওশন এরশাদের রাজনৈতিক সচিব গোলাম মসীহ বলেছেন, আমরা কাউন্সিলের দিকে এগিয়ে যাব। ২৬ নভেম্বর জাতীয় পার্টির কাউন্সিল হবে। পার্টির সংসদীয় দল স্পিকারের কাছে যে চিঠি দিয়েছে তাতে আমরা বিক্ষুব্ধ, বিস্মিত। বেগম রওশন এরশাদ এ মাসেই দেশে ফিরবেন। পরবর্তী পদক্ষেপ তিনি জানাবেন।

জি এম কাদের বিরোধী হিসেবে পরিচিত ও এরশাদ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান কাজী মামুনুর রশিদ বলেন, কোনোভাবেই জি এম কাদেরের সঙ্গে কোনো মীমাংসা হবে না। শুধু যদি তিনি (জি এম কাদের) রওশন এরশাদের নেতৃত্ব মেনে নেন, তাহলেই মীমাংসা হওয়া সম্ভব।

তাদের ‘দলবিরোধী ষড়যন্ত্রে’ লিপ্ত হওয়ার অভিযোগ তোলা হচ্ছে উল্লেখ করা হলে তিনি বলেন, ‘আপনারা অপেক্ষা করেন। দেখেন কার সঙ্গে কে থাকে। এদিকে গত বুধবার জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্যসহ সব পদপদবি থেকে মশিউর রহমান রাঙ্গাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ।

এদিকে দলটির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বৃহস্পতিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দলটির বনানী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টির শক্তি বেড়েছে দাবি করেন। তিনি বলেন, দল থেকে কেউ চলে গেলেও জাতীয় পার্টি থাকবে। দল দলের জায়গায় থাকবে। দল ভাঙবে না। রওশন এরশাদকে দলের দায়িত্ব নিতে বলা হয়েছিল, কিন্তু তিনি রাজি হননি। রওশন এরশাদই জি এম কাদেরকে দায়িত্ব নিতে বলেছেন।

এ সময় প্রেসিডিয়াম সদস্যসহ জাপার সব পদ থেকে মশিউর রহমান রাঙ্গাকে অব্যাহতি দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেন দলটির মহাসচিব। তিনি বলেন, সংগঠনবিরোধী কার্যকলাপের জন্য রাঙ্গাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।


আরও খবর



অসুস্থ রানি এলিজাবেথ, নেওয়া হয়েছে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ |
Image

ব্রিটিশ রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথে শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ফলে স্কটল্যান্ডের বালমোরালে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে তাকে। বৃহস্পতিবার বাকিংহ্যাম প্যালেস জানিয়েছে এ তথ্য।  

গ্রীষ্মকালীন সময় কাটাতে বর্তমানে স্কটল্যান্ডের প্রাসাদে রয়েছেন ৯৬ বছর বয়সী রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন মেডিকেল কর্মকর্তারা। এরপর তাকে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে রাখার জন্য বলা হয়। 

এ ব্যাপারে একটি বিবৃতিতে বাকিংহ্যাম প্যালেস বলেছে, আজ সকালে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে, রানির চিকিৎসকরা তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে শঙ্কার কথা প্রকাশ করেন এবং তাকে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকার জন্য প্রস্তাব দেন। 

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বালমোরালে বর্তমানে স্থিতিশীল আছেন রানি। তার পরিবারের কাছের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। এদিকে রানির অসুস্থতার খবর শোনার পর নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাস বলেন, পুরো দেশ এমন খবরে চিন্তিত থাকবে। 

তিনি আরও বলেন, এ মুহূর্তে রানি ও তার পরিবারের জন্য আমার, ব্রিটেনের জনগণের শুভকামনা থাকবে।বুধবার ভার্চ্যুয়ালি হওয়া প্রিভি কাউন্সিলে যোগ দেননি রানি এলিজাবেথ। কারণ চিকিৎসকরা তাকে বিশ্রামে থাকার জন্য বলেন। 

সূত্র: বিবিসি


আরও খবর

জাতিসংঘে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী

রবিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২

জাতিসংঘের ভূমিকায় হতাশ মালয়েশিয়া

রবিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২




মিয়ানমার জান্তার ৯০ ঘাঁটি বিদ্রোহীদের দখলে

প্রকাশিত:শনিবার ১০ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ |
Image

এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৯০টি সেনা ঘাঁটি হারিয়েছে মিয়ানমারের জান্তা বাহিনী। বিগত ১৭ মাসে দেশটির বিভিন্ন নৃ–গোষ্ঠীর সশস্ত্র সংগঠনের কাছে এই ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। এসব ঘাঁটির মধ্যে বেশ কয়েকটি ঘাঁটিই কৌশলগতভাবে এবং প্রয়োজনীয় অস্ত্র ও রসদ সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে জানানো হয়েছে মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম ইরাবতী নিউজে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনী সবচেয়ে বেশিসংখ্যক ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে রাখাইন রাজ্যে। এই রাজ্যে সর্বোচ্চ ৩৬টি ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বিদ্রোহীরা। এ ছাড়া, কাচিন রাজ্যে হারিয়েছে ২০টি ঘাঁটি, সিন রাজ্যে হারিয়েছে ৩টি, কায়াহ রাজ্যে হারিয়েছে ১৯ এবং ১২টি ঘাঁটি হারিয়েছে কারেন রাজ্যে।

এদিকে, বিগত কয়েক মাস ধরেই মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংকটও ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়েছে।  ২ সেপ্টেম্বর সিন রাজ্যে বিদ্রোহীদের হাতে মারা যায় জান্তা বাহিনীর ৬০ সৈন্য। এরও আগে, ১ সেপ্টেম্বর সাগাইন রাজ্যে বিদ্রোহীদের হাতে জান্তা বাহিনীর এক কর্নেলসহ অন্তত ৩৪ জন সদস্য মারা যায়। ৩০ আগস্ট ইরাবতীর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিগত ৪৮ ঘণ্টায় বিদ্রোহীদের হাতে মারা যায় অন্তত ৩০ জান্তা সৈন্য।

ইরাবতীর আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২১ সালের মাঝামাঝি থেকে গত আগস্ট পর্যন্ত বিগত ১৫ মাসে কেবল কায়াহ রাজ্যেই কারেন বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘাতে ১ হাজার ৪৯৯ সৈন্যের মৃত্যু হয়েছে। বিপরীতে বিদ্রোহী যোদ্ধা মারা গেছে ১৫১ জন। এই সময়ে রাজ্যটিতে বাস্তুচ্যুত হয়েছে প্রায় ২ লাখ মানুষ।


আরও খবর

জাতিসংঘে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী

রবিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২

জাতিসংঘের ভূমিকায় হতাশ মালয়েশিয়া

রবিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২