Logo
শিরোনাম

তরিকা সমূহের বর্ণনা, তরিকা কি ?

প্রকাশিত:শনিবার ০১ অক্টোবর ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ |

Image

মাজহারুল ইসলাম মাসুম, সিনিয়র সাংবাদিক, লেখক, ও গবেষক

বহুল পরিচিত পাঁচ তরিকার বিবরণ :

কাদেরিয়া তরিকা
চিশতিয়া তরিকা
নকশবন্দিয়া তরিকা
মোজাদ্দেদিয়া তরিকা
মাইজভান্ডারীয়া তরিকা

তরিকা কি?
তরিকা শব্দটি আরবী তারিক শব্দ হইতে পরিগৃহীত হইয়াছে, ইহার বাংলা অর্থ হইল পথ, রাস্তা ইত্যাদি। কিন্তু অবশ্যই বুঝিতে হইবে যে, এই পথ কোন সাধারণ পথ নয় বরং মহান আল্লাহ্র নৈকট্য হাসিল করার নিমিত্তে যে পথ অতিক্রম করা হইয়া থাকে মূলত সেই পথকেই তরিকা বলা হইয়া থাকে। ইসলামী আধ্যাত্মিক পরিভাষায় তরিকা হইল বেলায়েতের জ্ঞান অর্জন করিতে আল্লাহর অলিগণের প্রবর্ত্তিত বিভিন্ন সাধন পদ্ধতি আর সে পথটির সিলসিলা হইতেছে নিম্নরূপ:

পবিত্র কোরআনের দিক নির্দেশনা এবং রাসূল সা. ও তাঁহার পবিত্র আহ্লে বাইত আ.- এর দিক নির্দেশনার আনুগত্য করাই হইতেছে- মহান আল্লাহ্র নৈকট্য হাসিল অর্থাৎ পরিপূর্ণতায় পৌঁছানোর পথ।
পবিত্র কোরআনে বলা হইয়াছে:

লাকাদ কানা লাকুম ফি রাসুলিল্লাহ্ উসওয়াতুন হাসানাহ্…”

অর্থ: আল্লাহ্ রাসূলের মধ্যেই রহিয়াছে তোমাদের জন্য সকল সুন্দরের আদর্শ।

রাসূল সা. কর্তৃক মদিনা মোনওয়ারাহ্তে তৌহিদ বা এলাহিয়্যাতের শিক্ষা তথা মারেফাত অর্জনের যে শিক্ষাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হইয়াছিল, তাহার পথ চলা শুরু হইয়াছিল পবিত্র কোরআন ও রাসূল সা.-কে আনুগত্যের মাধ্যমে। হযরত আলী রা. যেহেতু রাসূল সা.-এর একনিষ্ঠ বিশ্বস্ত এবং গোপন ভেদের আমিন ছিলেন তাই তাঁহার পরে তিনিই দ্বিতীয় ব্যক্তি যিনি এই শিক্ষাকেন্দ্র পরিচালনার দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হন। তিনি স্বীয় জীবদ্দশায় বহু শিষ্য তৈরী করিয়াছিলেন এবং রাসূল সা.- এর পরে তাঁহার সকল শিষ্যই হযরত আলী রা.-এর শিষ্যে পরিণত হইয়াছিলেন।

হযরত মুহাম্মদ মুস্তাফা সা.- কে সূফীগণ প্রথম ও শ্রেষ্ঠ পীর বলিয়া অভিহিত করেন এবং আধ্যাত্মিক জ্ঞানের মূল উৎস বলিয়া মনে করেন। সেই জন্য হযরত রাসূলে করীম সা. হইতেই সমস্ত তরিকার উদ্ভব।

হযরত নবী করীম সা. তাঁহার বিশেষ কিছু সাহাবীকে মিনহাজ বা তাসাওউফ বা তত্ত্ব দর্শন শিক্ষা দান করিয়াছেন। তাঁহাদের উল্লেখ যোগ্য হইলেন - হযরত আবু বকর সিদ্দিক রা., হযরত ওমর ফারুক রা., হযরত আলী রা., হযরত সালমান ফারসী রা., হযরত আবু জর গিফারী রা., হযরত আবু হোরায়রা রা., হযরত আবু আইয়ুব আনসারী রা., হযরত মিকদাদ রা., হযরত আম্মার ইবনে ইয়াসির রা., হযরত মাআজ রা. প্রমুখ।

হযরত আবু বকর রা.-এর মাধ্যমে বর্তমানেও দুইটি তরিকার অস্তিত্ব পাওয়া যায়।

এই তরিকা দুইটি হইল: নকশবন্দিয়া ও মুজাদ্দেদিয়া।

হযরত ওমর রা.-এর মাধ্যমে প্রচারিত তরিকার বর্তমানে কোন অস্তিত্ব নাই। হযরত সালমান ফারসী রা. ইয়ামেন অঞ্চলে তরিকত প্রচার করিতেন। নকশবন্দিয়া ও মোজাদ্দেদিয়া তরিকার শাজারা মোবারকেও তাঁহার নাম রহিয়াছে।

হযরত আলী রা.-এর মাধ্যমে প্রচারিত তরিকার উপর ভিত্তি করিয়াই কাদেরিয়া, চিশতিয়া ও মাইজভান্ডারীয়া তরিকা  সহ বিভিন্ন তরিকা ও উপ-তরিকা বর্তমানে বিদ্যমান রহিয়াছে। তাঁহার প্রচারিত তরিকা প্রধানতঃ তাঁহার পুত্রদ্বয় হযরত ইমাম হাসান রা. ও হযরত ইমাম হোসাইন রা. এবং বিশিষ্ট তাবেঈন হযরত হাসান বসরী রহ.-এর মাধ্যমে প্রচারিত হইয়াছে।  

বিভিন্ন তরিকার নিয়ম-কানুন, আধ্যাত্মিক সুলুক ও তালিম সু-সংগঠিত ও সু-সংবদ্ধ হয় খৃষ্টীয় দশম শতাব্দীর দিকে। ইহার পূর্বে সূফীগণের আধ্যাত্মিক অনুশীলন মুখে মুখে চলিয়া আসিতেছিল। এই সময় (১০ম শতাব্দীতে) আধ্যাত্মিক সাধনার সু-বিখ্যাত কুতুব ও প্রৌজ্জ্বল পীর-মোর্শেদগণ বিভিন্ন তরিকা প্রতিষ্ঠা করেন। এই সকল সূফী-পীর স্বীয় তরিকার ইমাম ও কুতুব হিসাবে পরিগণিত। কাল-কালান্তরে হযরত আবু বকর সিদ্দিক রা., হযরত আলী রা.ও হযরত ওয়াইস করনী রহ.-এর তরিকার উপর ভিত্তি করিয়াই উল্লেখযোগ্য সূফী-সাধকগণের মাধ্যমে অনেক তরিকা প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে। তাঁহাদের সাধন পদ্ধতির পার্থক্যের কারণেই তরিকার সংখ্যা বৃদ্ধি পাইয়াছে। তরিকা সমূহের সংখ্যা নির্দিষ্ট করিয়া বলা দুষ্কর। কাহারো মতে, তিন সহস্র বা ততোধিক। এই সকল তরিকার মধ্যে বহু সংখ্যক তরিকা অবলুপ্ত হইয়া গিয়াছে। প্রায় চারশত তরিকার সন্ধান পাওয়া যায়।

বহুল পরিচিত পাঁচ তরিকার বিবরণঃ

ভারত বর্ষে তিন শতাধিক তরিকার মধ্যে বহুল পরিচিত তরিকা গুলি হইল - কাদেরিয়া, চিশতিয়া, নকশবন্দিয়া, মোজাদ্দেদিয়ামাইজভান্ডারীয়া । 


( চলবে ...........)


আরও খবর



উরুগুয়েকে বিদায় করে ফাইনালে আর্জেন্টিনার সঙ্গী কলম্বিয়া

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১১ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ |

Image

মার্সেলো বিয়েলসার অধীনে এবারের কোপা আমেরিকায় দাপুটে ফুটবল খেলেছে উরুগুয়ে। গ্রুপপর্ব থেকেই দুর্দান্ত পারফর্ম করে সেমিফাইনালে জায়গা করেন নেয় দলটি। কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিলকে হারানো ফেদে ভালভার্দেরা ফাইনালের টিকিট নিশ্চিতের লড়াইয়ে মাঠে নেমেছিল কলম্বিয়ার বিপক্ষে। জেমস রদ্রিগেজদের বিপক্ষে এই ম্যাচটিতে মুহূর্মুহু ছড়িয়েছে উত্তাপ, দুই দলই ফাউল করায় বারবার কার্ড দেখাতে হয়েছে রেফারিকে। দুই দলের ম্যাচটিতে আজ প্রথমে গোলের দেখা পেয়েছে কলম্বিয়া, তবে বিরতিতে যাওয়ার আগেই লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় কলম্বিয়ার ড্যানিয়েল মুনোজকে। কিন্তু প্রতিপক্ষ দশজনের দলে পরিণত হলেও আর গোল শোধ করতে পারেনি বিয়েলসার শিষ্যরা। ফলে ১-০ গোলের জয়ে ফাইনাল নিশ্চিত হয়েছে কলম্বিয়ার।

ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে নেমে আজ শুরু থেকেই সমানে সমান লড়াই করেছে দুই দল। ম্যাচে ৬ মিনিটে প্রথম আক্রমণে যায় কলম্বিয়া। তবে জন অ্যারিসের নেয়া শট ঠিকানা খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়। এরপর মিনিট দশেক পর আরও একটিই সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন জেফারসন লার্মা।

এদিকে কলম্বিয়ার বিপক্ষে আজ উরুগুয়ে প্রথম আক্রমণে যায় ম্যাচের ১৭ মিনিটে। তবে ডারউইন নুনিয়েজের নেয়া শট চলে যায় পোস্টের বাইরে দিয়ে। এরপর ২৩ মিনিটে আরও একটি সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন লিভারপুলের এই তারকা ফুটবলার। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নেমে আজ লক্ষ্যভেদ করার আরও বেশ কয়েকটি সুযোগই পেয়েছিলেন তিনি, তবে দলকে এগিয়ে দিতে পারেননি।

এদিকে ম্যাচের ২৬ মিনিটে প্রথম লাল কার্ড দেখেন উরুগুয়ের নিকোলাস দে লা ক্রুজ। এর মিনিট পাচেক পর কলম্বিয়ার ড্যানিয়েল মুনোজকেও হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। পরে বিরতিতে যাওয়ার আগে যোগ করা সময়ে আরও একবার কার্ড দেখায় লাল কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। তবে এর আগেই লিডে দেখা পায় কলম্বিয়া। ম্যাচের ৩৯ মিনিটের সময় ৬ গজ বক্সের বা দিক থেকে লার্মার করা হেডে জালের ঠিকানা খুঁজে পায় বল।

এদিকে প্রথমার্ধে এগিয়ে যাওয়া কলম্বিয়া দ্বিতীয়ার্ধে খেলেছে দশজনের দল নিয়ে। তবে খর্বশক্তির প্রতিপক্ষের বিপক্ষেও আর গোল করতে পারেননি সুয়ারেজরা। এক গোলের লিড পাওয়া কলম্বিয়া দশজনের দল নিয়ে দ্বিতীয়ার্ধে রক্ষণেই মনোযোগী থেকেছে বেশি। ফলে বারবার আক্রমণে গিয়েও জালের দেখা পায়নি উরুগুয়ে।

এদিকে উরুগুয়ের একের পর আক্রমণের মাঝেই পালটা আক্রমণে উরুগুয়ের রক্ষণে ভয় ধরিয়েছে কলম্বিয়া। তবে বেশ কয়েকটি সহজ সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হওয়ায় শেষ পর্যন্ত আর গলের দেখা পায়নি কলম্বিয়া। এদিকে সুয়ারেজরা শেষ পর্যন্ত গোল করতে না পারায় ১-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে কলম্বিয়া।


আরও খবর



নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে দিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত:শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১২ জুলাই ২০২৪ |

Image



বিডি টুডে রিপোর্ট:



ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে নয়াদিল্লির উদ্দেশে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।


শুক্রবার (২১ জুন) দুপুর ২টা ৩ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর ত্যাগ করে।


বিমানটি স্থানীয় সময় বিকেল ৪টায় নয়াদিল্লির পালাম বিমান বন্দরে অবতরণ করার কথা রয়েছে। ভারতের উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল এবং ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. মুস্তাফিজুর রহমান বিমান বন্দরে শেখ হাসিনাকে অভ্যর্থনা জানাবেন।


লোকসভা নির্বাচনে জয়ী বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠনের পর ভারতে কোনো সরকার প্রধানের এটিই প্রথম দ্বিপাক্ষিক সফর। সফরকালে উভয় প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে এবং তারপর প্রতিনিধি পর্যায়ে আলোচনা হবে।



 উভয় দেশের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে বেশ কিছু চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হবে।


এছাড়া একটি সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। গত এক দশকে শক্তিশালী আঞ্চলিক অংশীদারিত্বের অংশ হিসেবে বেশ কিছু আন্তঃসীমান্ত উদ্যোগ চালু করা হয়েছে। 



এটি ১৫ দিনেরও কম সময়ের মধ্যে ভারতের রাজধানীতে শেখ হাসিনার দ্বিতীয় সফর। তিনি গত ৯ জুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।


শুক্রবার (২১ জুন) সন্ধ্যায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর প্রধানমন্ত্রীর সাথে তাঁর বাসভবনে সাক্ষাৎ করবেন।


শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানাতে রাষ্ট্রপতি ভবনে লাল গালিচা বিছানো হবে। এ সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আনুষ্ঠানিকভাবে শেখ হাসিনাকে অভ্যর্থনা জানাবেন এবং এসময় দু’দেশের জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হবে।



 প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গার্ড অব অনারও পরিদর্শন করবেন। এরপর তিনি রাজঘাটে ভারতের জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধীর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। সেখানে রক্ষিত পরিদর্শন বইয়ে তিনি স্বাক্ষর করবেন।


একই দিন শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে একান্ত বৈঠক এবং প্রতিনিধি পর্যায়ে আলোচনার জন্য হায়দরাবাদ হাউসে যাবেন। উভয়েই সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করবেন।



 এরপর দুই প্রধানমন্ত্রী বিবৃতি দেবেন। হায়দ্রাবাদ হাউসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী আয়োজিত ভোজসভায় যোগ দেবেন।


বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখারের সঙ্গে তার সচিবালয়ে সাক্ষাৎ করবেন। সন্ধ্যায় শেখ হাসিনা রাষ্ট্রপতি ভবনে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।


স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় প্রধানমন্ত্রী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে পালাম বিমানবন্দর থেকে ভারতের রাজধানী ত্যাগ করবেন এবং রাত ৯টায় ঢাকায় অবতরণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।-বাসস।


আরও খবর

সপ্তাহ জুড়ে ভারী বৃষ্টির আভাস

বৃহস্পতিবার ১১ জুলাই ২০২৪




বাজারের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে?

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৯ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১২ জুলাই ২০২৪ |

Image

কাঁচা মরিচের কেজি ৩২০ টাকা। ৩০ টাকার সবজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। আলুর কেজি ৬৫ টাকা। এ ছাড়া চাল, পিয়াজ ও রসুনের দামও বেড়েছে। বাজার করতে এসে হিসাব মেলাতে পারছেনা ক্রেতা।

 

সবজিতে স্বস্তি নেই: কাঁচা বাজারগুলো ঘুরে দেখা যায়, আড়তভরা সবজি। তারপরও বৃষ্টির কারণ দেখিয়ে প্রায় প্রতিটি সবজির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। খুচরা বিক্রেতারা জানান, কাঁচা মরিচ ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা, টমেটো ২০০ টাকা, গাঁজর ১০০ টাকা, বেগুন ৮০ থেকে ১২০ টাকা, পটোল, ঝিঙে, ধুন্দুল ৬০ টাকা, করলা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, শসা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৫০ থেকে ৬০ টাকা, লাউ ও চালকুমড়ার পিস ৭০ থেকে ৯০ টাকা। কচুরলতির কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা কেজি। 

রসুনের কেজি ২৪০, পিয়াজের ১২০ টাকা:  সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে পিয়াজের দাম। রাজধানীর বাজারগুলোতে এখন ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি পিয়াজ। শনিবার তালতলা ও বিএনপি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। বিএনপি বাজারে পিয়াজ ও রসুন কিনতে আসেন শিক্ষার্থী জুনায়েদ। তিনি বলেন, এক মাস আগেও পিয়াজ কিনেছি কেজি ৯০ টাকায়। এখন সেই পিয়াজের দাম ১২০ টাকা। আর এক মাসের ব্যবধানে ৫০ থেকে ৬০ টাকা বেড়ে রসুনের দাম হয়েছে ২৪০ টাকা। আধা কেজি পিয়াজ কেনার পরিকল্পনা থাকলেও ২৫০ গ্রাম পিয়াজ কিনতে হচ্ছে বলে জানান এই শিক্ষার্থী। এদিকে পিয়াজের দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা জানান, দেশি পিয়াজের সাপ্লাই কমে যাওয়ায় দাম বাড়ছে। এখন ভারতীয় পিয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে। আপাতত কমার কোনো সম্ভাবনা নেই।

 
আলুর কেজি ৬০ থেকে ৬৫ টাকা: সুখবর নেই আলুতেও। শনিবার বাজারে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হয়েছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায়। ফলে সপ্তাহের ব্যবধানে পণ্যটির দাম ৫ টাকা বেড়েছে। ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)
র তথ্য অনুযায়ী, এক বছরের ব্যবধানে আলুর দাম ৫৫.১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছরের এই সময়ে প্রতি কেজি আলুর দাম ছিল ৩৮ থেকে ৪০ টাকায়। 

চালের দাম ঊর্ধ্বমুখী: সম্প্রতি বোরো ধান উঠেছে। তারপরও কমছে না চালের দাম; বরং বর্ষার অজুহাতে সপ্তাহের ব্যবধানে আটাশ ও মোটা চালের খুচরা বাজারে কেজিতে ১ থেকে ৩ টাকা বেড়েছে। তবে আগের মতোই মিনিকেট চালের দাম ৭০ থেকে ৭২ টাকা। খুচরা বিক্রেতা নাসির হোসেন জানান, আগের সপ্তাহে আটাশ চাল ৫২ থেকে ৫৫ টাকা বিক্রি হলেও এখন তা ৫৮ টাকা ও ৫০ থেকে ৫২ টাকার মোটা চাল ৫৫ টাকা কেজি বিক্রি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ঈদের পরে আটাশ চাল ও মোটা চালের দাম কিছুটা বেড়েছে।

হাত দেয়া যাচ্ছে না কাঁচা মরিচে, কেজি ৩২০ টাকা: কাঁচা মরিচের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সপ্তাহর ব্যবধানে কেজিতে ১০০ থেকে ১২০ টাকা বেড়ে ৩২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রকারভেদে ২৫০ গ্রাম কাঁচা মরিচ ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতারা ১০ টাকার মরিচ কিনতে চাইলে বিক্রেতা অপারগতা প্রকাশ করছেন। ব্যবসায়ীরা বলছেন, দামের কারণে ১০ টাকার মরিচ বিক্রি করা যায় না। ১০০ গ্রামের নিচে মরিচ বিক্রি করা ব্যবসার জন্য ক্ষতি। চাহিদার তুলনার বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বাড়ছে বলেও জানান তারা। 

খোলা সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে: এদিকে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৮টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে খোলা সয়াবিন তেল। বাজারে খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ টাকা দরে। এর আগে চলতি বছরের ১৮ই এপ্রিল খোলা সয়াবিন তেল প্রতি লিটারের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১৪৭ টাকা নির্ধারণ করে সরকার। তবে বোতলজাত সয়াবিন তেল নির্ধারিত দামেই বিক্রি করতে দেখা গেছে। 

ডিমের দাম চড়া: রাজধানীতে ফার্মের বাদামি ডিম প্রতি ডজন ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর হালি বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকায়। অথচ ডিম উৎপাদক খামারিরা পাইকারদের কাছে এসব ডিম বিক্রি করছেন ১২৫ থেকে ১৩০ টাকা দরে। অর্থাৎ পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ডজনে ২৫ টাকার বেশি দাম বাড়ছে। এমন মূল্যবৃদ্ধিকে অস্বাভাবিক দাবি করে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বলেছে, পাইকারি ব্যবসায়ীদের কারসাজির কারণেই ডিমের দাম বাড়ছে। 

মাছের দামও বাড়তি: বাজারে সব ধরনের মাছের দাম বাড়তি। বাজারে প্রতি কেজি পাবদা বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকায়, চিংড়ি প্রতি কেজি ৭০০ টাকা, পাঙাশ মাছ প্রতি কেজি ২০০ থেকে ২২০ টাকা, তেলাপিয়া প্রতি কেজি ২৫০ টাকা, রুই প্রতি কেজি ৩৫০ টাকা, কাতল প্রতি কেজি ৪০০ টাকা, কই প্রতি কেজি ২৫০ টাকা, শিং মাছ প্রতি কেজি ৪০০ টাকা, টেংরা প্রতি কেজি ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা, বড় বোয়াল প্রতি কেজি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, বড় আইড় মাছ প্রতি কেজি ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষকরা যা বলছেন: নিত্যপণ্যের লাগামছাড়া দাম বৃদ্ধি নিয়ে বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যবসায়ীরা ভোক্তাদের পকেট কাটার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। বাজার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলো যেহেতু সেভাবে তদারকি করতে পারছে না, সেহেতু তারা নিজের ইচ্ছামতো দাম বাড়াচ্ছে। এ বিষয়ে কনজ্যুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন মানবজমিনকে বলেন, এখন ব্যবসায়ীদের মধ্যে একটা প্রতিযোগিতা চলে যে, কে কতো টাকা নিতে পারে। একটা সময় কয়েকটি পণ্যের সংকট হতো, এখন সবগুলো পণ্যেরই সংকট দেখা যায়। এর মূল কারণ হলো কে কতো মুনাফা করতে পারে, কে কতো পকেট কাটতে পারে। তিনি বলেন, সরকারের তদারকির পরিমাণ আগের তুলনায় অনেক কমেছে। এখন ব্যবসায়ীরাই সর্বেসর্বা। তারা যেভাবে ইচ্ছা সেভাবেই ব্যবসা করতে পারছেন। এগুলো আমাদের জন্য খুবই দুঃখজনক। বর্তমানে সীমিত আয়ের মানুষদের জীবিকা নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে


আরও খবর

আবার কমেছে রিজার্ভ

বুধবার ১০ জুলাই ২০২৪




নওগাঁয় বিদ্যুৎ পিষ্ট হয়ে এক জনের মৃত্যু

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৫ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১২ জুলাই ২০২৪ |

Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, সিনিয়র রিপোর্টার :

নওগাঁয় বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটে (বিদ্যুৎ পিষ্ট হয়ে) এক জনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে নওগাঁর মান্দা উপজেলার টিটিহারি গ্রামে এমৃত্যুর ঘটনাটি ঘটে। নিহত আব্দুল গফুর (৪৫) টিটিহারি গ্রামের মৃত নছের উদ্দিনের ছেলে।

নিহতের পরিবার সুত্রে জানা গেছে, নিহত আব্দুল গফুর তার নিজ বাড়ীতে বৈদ্যুতিক কাজ করতে গিয়ে অ-সাবধানতা বশত বৈদ্যুতিক সক লেগে মাটিতে পড়ে অজ্ঞান হয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। সত্যতা নিশ্চিত করে মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ মোজাম্মেল হক কাজী বলেন, নিহত আব্দুল গফুর তার নিজ বাড়িতে বৈদ্যুতিক লাইনের কাজ করার এক পর্যায়ে অ-সাবধান বশত বৈদ্যুতিক শর্ট-সার্কিটে তার মৃত্যু হয়েছে বলে স্বজনরা জানিয়েছেন। এমৃত্যুর ঘটনায় কেউ কোন অভিযোগ করেন নি। 


আরও খবর



আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে যা যা থাকছে আজ

প্রকাশিত:রবিবার ২৩ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ |

Image



সদরুল আইন:


দেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী রোববার (২৩ জুন)। আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ‘প্লাটিনাম জয়ন্তী’ যথাযোগ্য মর্যাদায় ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন করতে দলটির পক্ষ থেকে বিস্তারিত কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।


১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পুরান ঢাকার রোজ গার্ডেনে আওয়ামী মুসলিম লীগ নামে যে দলটি প্রতিষ্ঠা লাভ করে পরবর্তীতে সেটি অসাম্প্রদায়িক রূপ লাভ করে আওয়ামী লীগ নামে আত্মপ্রকাশ করে।



এবার ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে যে কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে, সেগুলো- রোববার সূর্যোদয়ের সময় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। 


সকাল ৭টায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে রক্ষিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।


সকাল সাড়ে ১০টায় গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় চিরনিদ্রায় শায়িত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধিদল শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করে। 


প্রতিনিধিদলের সদস্যরা হলেন, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শাজাহান খান, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, কৃষি ও সমবায়বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, শিক্ষা ও মানবসম্পদবিষয়ক সম্পাদক বেগম শামসুন্নাহার, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ সদস্য সাহাবুদ্দিন ফরাজী প্রমুখ।


প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন, বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে।  


এরপর দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এ সভায় আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করবেন। এ সভায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা, আমন্ত্রিত অতিথিসহ দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা অংশ নেবেন।


দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, আওয়ামী লীগের ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মসূচির পাশাপাশি বিভিন্ন উপযোগী কর্মসূচির মাধ্যমে জাঁকালোভাবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করার জন্য আওয়ামী লীগ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের জেলা/মহানগর, উপজেলা/থানা, পৌর/ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড শাখাসহ সব স্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। 


আরও খবর