Logo
শিরোনাম
রাজধানীর সেতু ভবনে আগুন কমপ্লিট শাটডাউন : ঢাকাসহ সারা দেশে বিজিবি মোতায়েন জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ইট বোঝায় ট্রাক খাদে কুষ্টিয়ায় আন্দোলনকারী ও ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষ -কয়েকটি মোটর সাইকেলে আগুন পুঠিয়ায় আ’লীগের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা লালমনিরহাটে অনুষ্ঠিত হয়েছে তিস্তা সমাবেশ বেনাপোল স্থল বন্দর দিয়ে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা হয়েছে ১৮ কোটি টাকার সালফিউরিক এসিড কুমারখালীতে মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, আহত-২ শরণখোলায় নার্সের চিকিৎসার অবহেলায় এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ শেরপুরে কোটাবিরোধী শিক্ষার্থী-ছাত্রলীগের সংঘর্ষ, সাংবাদিকসহ আহত-২০

উপজেলা পরিষদ নির্বাচন : ২১৭ নেতাকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি

প্রকাশিত:সোমবার ২৭ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২৩ জুলাই ২০২৪ |

Image

সদরুল আইন:

চলমান উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ভোটে অংশ নেওয়ায় এ পর্যন্ত ২১৭ নেতাকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি।


মোট চার ধাপে তাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ৮০ জন, দ্বিতীয় ধাপে ৬৯ জন, তৃতীয় ধাপে ৫৫ জন ও চতুর্থ বা শেষ ধাপের ভোটে অংশ নেওয়ায় ১৩ জনকে বহিষ্কার করে দলটি।


 রোববার (২৬ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিএনপি এ তথ্য জানায়।


বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে উপজেলাসহ কোনও নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না বিএনপি। গত ১৬ এপ্রিল দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শেখ হাসিনার সরকার ও তার আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন, বেসামরিক ও পুলিশ প্রশাসন একটি অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করতে পারে না।


 অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিবেশ নেই। তাই উপজেলা নির্বাচনেও অংশ নেবে না বিএনপি।


এদিকে মোট চার ধাপে ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তফসিল অনুযায়ী গত ৮ মে ও ২১ মে প্রথম-দ্বিতীয় ধাপের উপজেলায় ভোট গ্রহণ হয়।


 এই দুই ধাপের নির্বাচনে বিএনপির বহিষ্কৃত ১৩ জন চেয়ারম্যান পদে ৩ জন ভাইস চেয়ারম্যান পদে জয়লাভ করে বলে জানা গেছে।


আরও খবর



পুলিশের ভূমিকা রহস্যজনক

নওগাঁয় গৃহবধূ আত্নহত্যার প্ররোচনা মামলা, ২৫ দিনেও নেই কোন অগ্রগতি

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৫ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২৩ জুলাই ২০২৪ |

Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, সিনিয়র রিপোর্টার :

নওগাঁর সাপাহারে স্বামী ও শশুর শাশুড়ির অমানুষিক নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে নিগার সুলতানা (৩৩)  নামের এক গৃহবধূ কিটনাশক পানে আত্মহত্যার ঘটনায় আত্মহত্যা প্ররোচনার অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের করার পর পুলিশের নিরব ভূমিকায় নিহতের পরিবার শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। নিহত গৃহবধু নিগার সুলতানার পিতা সাপাহার উপজেলার রসুলপুর গ্রামের মজিবুর রহমান চৌধুরীর দায়েরকৃত এজাহার সুত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৭ বছর পূর্বে সাপাহার উপজেলার হোসেনডাঙ্গা গ্রামের আঃ সালাম এর ছেলে আসামী গোলাম মোস্তফার সহিত তার মেয়ে মোছাঃ নিগার সুলতানা (৩৩) এর ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক বিয়ে হয়। 

জামাই গোলাম মোস্তফা, তার পিতা আঃ সালাম ও মা রাহেলা বেগম তার মেয়েকে বিভিন্ন সময়ে শরীরিক এবং মানসিক নির্যাতন করে আসছিলো। স্বামী ও তার পরিবারের সকল যন্ত্রনা সহ্য করে নিগার সুলতানা স্বামীর ঘর সংসার করে আসছিলেন এরিমাঝে তাদের ঘর আলো করে মা বাবার কোলে ২টি পুত্র সন্তান জন্ম গ্রহন করেন। দু’টি সন্তানের কথা চিন্তা কষ্ট স্বিাকার করে সে তার স্বামীর ঘর করে আসছিলো।  


ঘটনার দিন ৯ জুন সামান্য বিষয়ে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকটি হলে স্বামী, শশুর, শাশুড়ী সকলে মিলে গৃহবধুকে শারিরীক নির্যাতনের এক পর্যায়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং তাকে আত্নহত্যার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। এর পর গৃহবধু নিগার সুলতানা তাদের নির্যাতন সইতে না পেরে সকলের অজান্তেই কীটনাশক পান করে অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। তার স্বামী গোলাম মোস্তফা অসুস্থ্য অবস্থায় তার স্ত্রী নিগার সুলতানাকে নিয়ে সাপহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসকগন গৃহবধূর অবস্থা খারাপ দেখে তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতারে রেফার্ড করেন। মেয়ের অসুস্থ্যতার সংবাদ পেয়ে গৃহবধুর পিতা-মাতা ছুটে এসে তাৎতক্ষনিক মুমূর্ষু  অবস্থায় মেয়েকে নিয়ে রাজশাহী নিয়ে ভর্তি করান। সেখানে চিকিৎসাকালীন অবস্থায় গত ১০ জুন  সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে  তার  মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিয়ে রাজশাহী রাজপাড়া থানায় অভিযোগ করে ময়না তদন্ত শেষে মৃতদেহ নিয়ে বাড়ি ফিরে আসার পথে তানোর পৌছালে স্বামী গোলাম মোস্তফা স্ত্রীর লাশবাহী  গাড়ী থেকে কৌশলে পালিয়ে যায়। এরপর লাশের গাড়ি সাপাহার উপজেলার নিশ্চিন্তপুর মোড় পার হলে গোলাম মোস্তফার আত্মীয় স্বজনরা  মোটরসাইকেল নিয়ে গাড়ীর পথ রোধ করে গাড়ী থেকে মোস্তফার মা ও ছোট ছেলে সন্তান সহ নিহত গৃহবধূর সোনার গহনা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। এঘটনায়  নিগার সুলতানার পিতা মজিবর রহমান চৌধুরী বাদী হয়ে তার জামাই গোলাম মোস্তফা, তার বাবা মোঃ আঃ সালাম ও মা  রাহেলা বেগমকে আসামী করে দন্ডিবিধির ৩০৬ ধারা মোতাবেক সাপাহার থানায় একটি আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলা দায়ের করেন। 

ঘটনার বিষয়ে নিহত নিগার সুলতানার বড় ছেলে ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ুয়া সাব্বির হোসেন (১২) এর সাথে কথা হলে সে বলে যে, প্রায় সময় তার বাবা গোলাম মোস্তফা তার মাকে কারণে অ-কারণে মারপিট ও অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ করত।তার সাথে সাথে আমার দাদা,দাদীরাও মা’কে আত্নহত্য করে মরার জন্য বিভিন্ন ভাবে গালিগালাজ করত। ঘটার দিন অসুস্থ্য  অবস্থায় আমি আমার মা’র নিকট গেলে মা’ আমাকে বলে যে মারপিটের পরে তোর বাবা, দাদা, দাদী মিলে জোরপূর্বক আমাকে বিষ খাইয়ে দিয়েছে। একই রকম বক্ত্যব্য শিশুটি থানা পুলিশের উপস্থিতিতেও বলেছে।

এরপরেও পুলিশের রহস্যজনক ভূমিকা দেখে আমি আমার মেয়ে মৃত্যুর সঠিক বিচার পাব কি না সে বিষয়ে চিন্তিত ও শঙ্কিত আছি। আমার মেয়ে হত্যার সঠিক বিচার পাওয়ার জন্য আমি সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করছি।

এবিষয়ে সাপাহার থানার ওসিকে না পেয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই মিলন কুমার সিংহ এর সাথে কথা হলে তিনি জানান যে, আমরা একাধিকবার আসামীর বাড়ীতে অভিযান চালিয়েছি বর্তমানে আসামী পলাতক রয়েছে। এর পরেও লাশের ময়না তদন্তের রিপোর্ট এখনও হাতে পাইনি। ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে মামলা তার গতিতেই চলবে বলেও জানান তিনি।


আরও খবর



লালমনিরহাটে ফের বন্যার শঙ্কা

প্রকাশিত:শনিবার ০৬ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২৩ জুলাই ২০২৪ |

Image

লালমনিরহাটে  তিস্তা ও ধরলায় ফের পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার কাছাকাছি তিস্তার পানি,তৃতীয় দফায় বন্যার শঙ্কা। 

উজানের পাহাড়ি ঢল ও ভারি বর্ষন অব্যাহত থাকলে দুপুর নাগাদ লালমনিরহাটে দেখা দিতে পারে বন্যা।  এর আগের ২ দফায় বন্যা সহ ভারি বর্ষনের দরুন ধরলা পাড়ের বাঁধে দেখা দিয়েছে ধ্বস। তিস্তা নদী পাড়ের রাজপুর ইউনিয়নে নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে একটি পরিবারের বসত বাড়ী। নদীর তীর রক্ষায় এখন পর্যন্ত কোন প্রকার বরাদ্দ না আসলেও স্থানীয় সংসদ সদস্য পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের নিকট ধরলা ও তিস্তা  পাড়ে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি স্থানের জন্য  সামান্য কিছু সংস্কার কাজের বরাদ্দ নিয়েছেন যার অর্থ ছাড় না হওয়ায়   এখনো কাজ শুরু হয়নি।জেলার পাচটি উপজেলায় ১৩ ইউনিয়নের ১৮ গ্রামের মানুষজন সবথেকে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। 


আরও খবর



রাজনৈতিক মৃত্যু ফাঁদে গাজীপুর-৩ আসনে আ.লীগের একাংশের রাজনীতি

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৮ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২১ জুলাই ২০২৪ |

Image
সদরুল আইন :১৯৯১-২০১৮ ইং গাজীপুর -৩ আসনে আ'লীগের রাজনীতির জীবন্ত কীংবদন্তি ছিলেন এ্যাড রহমত আলী।

প্রখর বুদ্ধিমত্তা আর কেন্দ্রিয় শক্ত লবিং ও ব্যক্তি পরিচিতি দিয়ে তিনি আ.লীগের সর্বজন শ্রদ্ধেয় নেতায় পরিনত করেছিলেন নিজেকে।পাশাপাশি শক্ত হাতে গাজীপুর-৩ আসনকে প্রায় ৩০ বছর নিজের করে রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন তিনি।

যদিও তার রাজনীতি,নিজ আসন ধরে রাখা,আধিপত্য প্রতিষ্ঠা, পারিবারিক বলয় তৈরি,প্রতিপক্ষ সৃষ্টি হতে না দেওয়াসহ বহুবিধ অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে।তারপরও তিনি সবার কাছে গ্রহনযোগ্য মানুষ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন।ছিলেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় শ্রীপুরের সিংহ পূরুষ।

                     বার্ধক্যজনিত  কারনে নানা অসুস্থতায় ২০১৪ সালের পরে পিতার আসনে পরবর্তি এমপি হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে রাজনীতির মাঠ চষে বেড়ান তার পুত্র জামিল হাসান দুর্জয়।

              ভারতের আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রীধারি জামিল হাসান দুর্জয়ের রাজনৈতিক পড়াশোনা, কোরআন হাদিস ও সমসাময়িক রাজনৈতিক জ্ঞান ছিল প্রখর।তার উদ্দিপ্ত বক্তব্য, রাজনৈতিক উদ্ধৃতি, রাজনীতির বিজ্ঞ মহলে ছিল প্রশংসিত ও সমাদৃত।

                   অনেকেরই ধারনা ছিল নন্দিত এমপি,আ'লীগের নীতি নির্ধারক এ্যাড রহমত আলীর পর শ্রীপুরের রাজনীতির দৃশ্যপটে আসবেন তার পুত্র জামিল হাসান দুর্জয়।

                 কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। বহু নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে পালাপদল ঘটে এই আসনের আ'লীগের রাজনৈতিক অভিযাত্রায়।পিতার দেখানো পথে হাঁটতে পারেননি পুত্র।পিতার আদর্শকে ব্যবহার করলেও ধারন করতে পারেননি তিনি  ব্যক্তি জীবনে।

একাদশ সংসদে নতুন মুখ হিসেবে ৩০ বছর পর এমপি হতে পারেন জেলা আ'লীগের নন্দিত প্রিয় মুখ ইকবাল হোসেন সবুজ।কিন্তু কেন্দ্রিয় লবিং থেকে দুরে সরে যাওয়া,অন্তরালে ঝুট ব্যবসায় জড়িয়ে থাকায় অভিযুক্ত থাকা,পরিবারের অন্তত দুই সদস্য শিল্প কলকারখানা ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার বনে যাওয়া,অতি পান্ডিত্য এবং তার পাশে থাকা বিপুল জনগোষ্টিকে আশাহত করা বিশেষ করে কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে সঠিক লোকদের পদায়ন করতে না পারায় তার বিশাল জনপ্রিয়তায় ধ্বস নামে এবং তিনিও ছিটকে পড়েন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে দলিয় মনোনয়ন থেকে।

স্বতন্ত্র নির্বাচন করে কাঙ্খিত ভোট পেলেও এমপি হতে পারেননি তিনি।ক্ষমতার ঘুড়ির লাটাই চলে যায় এড রহমত আলীর কন্যা একাদশ সংসদের সংরক্ষিত আসনের এমপি অধ্যাপিকা রুমানা আলী টুসির হাতে।তিনি বর্তমানে গাজীপুর-৩ আসনের এমপি ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী।

                 জামিল হাসান দুর্জয় নমিনেশন না পাওয়ার পেছনে ছিল শ্রীপুরের ঘৃণিত কিছু মানুষের অপরাজনীতি,তারা ছিলেন দুর্জয়ের শীর্ষ সুবিধাভোগী উপদেষ্টা।এদের বেশিরভাগ এখনো তার পাশেই রয়েছেন।

এরা নিজেদের স্বার্থের প্রয়োজনে দুর্জয়কে রাজনৈতিকভাবে শুধু পথেই বসায়নি, এ্যাড রহমত আলী পরিবারকে করেছে চরম বিতর্কিত।এই চক্রের বলয়ে এখনো এই পরিবারের একাংশ বন্দি।

             এ্যাড রহমত আলী ২০১৪ সালের উপজেলা নির্বাচনে ইকবাল হোসেন সবুজের মনোনয়ন প্রত্যাহার করায়ে আব্দুল জলিলকে মনোনয়ন দিয়ে একটি বিতর্কিত ফলাফলের মাধ্যমে যে বিজয়ের হাসি হেসেছিলেন সেদিন, তা তার রাজনৈতিক জীবনের শ্রেষ্ঠ ভুল ছিল বলে মনে করেন এই এলাকার রাজনীতি সচেতন মহল।সেদিন সেই ভুলটি তিনি না করলে হয়ত শ্রীপুরের রাজনীতির ইতিহাস আজ অন্যভাবে লেখা হত।

               অন্যদিকে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে গত উপজেলা নির্বাচনে এমপি হওয়ার আশা আপাতত ত্যাগ করে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন এড জামিল হাসান দুর্জয়।শপথও নিয়েছেন।তার চেয়ারম্যান হওয়ার নেপথ্যে অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সংশ্লিষ্ট একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা চাকরিও হারিয়েছেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে।

গত উপজেলা নির্বাচনে পেশীশক্তির দাপট ছিল চোখে পড়ার মত।দ্বি-শক্তির চরম উত্থানের সামনে দাড়িয়েও ঈর্ষনীয় ভোট পেয়ে চমকে দেন আব্দুল জলিল।এই উপজেলা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতার পাদপীঠে আবার ফিরে আসেন এড রহমত আলী পরিবার।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে ইকবাল হোসেন সবুজ ক্ষমতায় আসার পর ঈর্ষণীয় জনজোয়ার দেখে এখানকার মানুষের ধারনা ছিল অন্তত ৩/৪ মেয়াদ এই আসনে এমপি সবুজের কাছ থেকে টিকেট ছিনিয়ে নেওয়া কারো পক্ষে সম্ভব হবে না।বাস্তবে এমপি সবুজ ঝরে গেছেন এক মেয়াদ পরেই, তার নিজের অদুরদর্শিতার চোরাবালিতে,যা জনগনের প্রত্যাশিত ছিল না।

 অভিজ্ঞ রাজনৈতিক বোদ্ধারা মনে করেন, উপজেলা নির্বাচনের ভুলের খেসারত বর্তমান সাংসদ ইকবাল হোসেন সবুজকে  দিতে হয়েছে ২০২৩ সালের সংসদ নির্বাচনে  তার রাজনীতির চলার পথে।

                 এদিকে একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর শ্রীপুরের মানুষ ভেবেছিল এখানকার রাজনৈতিক দৃশ্যপট থেকে হারিয়ে গেল এ্যাড রহমত আলী পরিবার ইকবাল হোসেন সবুজ এমপি হওয়ার মধ্য দিয়ে।

বাস্তবে তা হয়নি।সংরক্ষিত মহিলা আসনে অপ্রত্যাশিতভাবে এ্যাড রহমত আলী তণয়া অধ্যাপিকা রুমানা আলী টুসীকে এমপি করার মধ্য দিয়ে সঙ্কটময় অবস্থা থেকে শ্রীপুরের রাজনীতিতে ফিরে আসেন এ্যাড রহমত আলী পরিবার।

অধ্যাপিকা রুমানা আলী টুসীকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ও কৃষক লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা নির্বাচিত করে আর এক ধাপ এগিয়ে দেওয়ায় তিনি '২৩ সালে দলিয় মনোনয়ন পেয়ে বিজিত হয়ে এমপি ও মন্ত্রীত্বের অমিয় সুধায় সিক্ত হয়ে জীবনের চরম প্রাপ্তিটি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে ছোট বোন এই আসনের এমপি,মন্ত্রী,বড় ভাই সদ্য নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান।ইকবাল হোসেন সবুজ কেন্দ্রিয় নেতিবাচক অভিযোগের বৃত্ত ভেঙে আবার কি ক্ষমতার পাদপ্রদ্বীপে জ্বলে উঠতে পারবেন?জনগনের বাধভাঙা জোয়ারের মহানায়ক হয়ে আবার কি জাতির দৃষ্টি আর্কর্ষনের নায়ক হয়ে অনন্য ইতিহাস সৃষ্টি করতে পারবেন?

বিশ্লেষকরা বলছেন, তিনি আর কখনো সক্ষম হবেন না।কারন হিসেবে বলছেন, তিনি তার সততার ইমেজ হারিয়েছেন কেন্দ্র ও জনগনের চোখে।বিশ্বাস, আস্থা ও জননপ্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি।বিশ্বাস নষ্ট হয়ে গেছে জনগনের তার প্রতি।এসব কারনে রাজনীতির মাঠে থাকলেও তিনি কেন্দ্র ও জনগনের চোখে ইমেজ ফিরিয়ে আনতে হয়ত আর সক্ষম হবেন না।

অন্যদিকে উপজেলা চেয়ারম্যান হয়ে এখন এখানকার রাজনীতির দন্ডমূন্ডের কর্তা হবেন এড জামিল হাসান দুর্জয় এতে সন্দেহ নেই।এখানকার মিল ইন্ডাস্ট্রিসহ অর্থনৈতিক জোনগুলো নিয়ন্ত্রণ করবেন তিনি।কমিটিগুলো হবে তার নিজের মত করে।তবে তার পাশে থাকবে ইন্ডাস্ট্রি ব্যবসার বিশাল চক্র।প্রকৃত ত্যাগী দলিয় ব্যক্তিরা তার কাছে পাত্তা পাবেন না।এসবের দায়ভার বহন করতে হবে অধ্যাপিকা রুমানা আলী টুসি এমপিকে।

এখানকার রাজনীতি, ব্যবসা কুক্ষিগত করে রাখতে গিয়ে সৃষ্টি হবে বঞ্চিত মানুষের কাফেলা।সৃষ্টি হবে জনরোষ।আর এসব বঞ্চিত মানুষের কাফেলার একাংশ মিলিত হবে ইকবাল হোসেন সবুজের রাজনীতিতে এবং এর বেশিরভাগ অংশ মিলিত হবে শ্রীপুরের পৌর মেয়র আনিছুর রহমান ও সদ্য পরাজিত সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল বিএ'র মঞ্চে।

এদের সমন্বয়ে এক সময় এখানে আত্মপ্রকাশ ঘটবে তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি।আর সেই শক্তির মঞ্চেই ২৯ সালে রচিত হবে মনোনয়নে পরিবর্তনের নতুন ইতিহাস।কারন সাবেক ও বর্তমান নেতৃত্ব নানাবিধ বিতর্কে জড়িয়ে জনপ্রিয়তা হারাবে।কেন্দ্রে বিতর্কিত হবে।জনগন ক্ষুব্ধ হবে।উন্নয়ন বঞ্চিত হবে।ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক পদ হারাবে।উত্তাল জনজোয়ার সৃষ্টি হবে প্রার্থি পরিবর্তনের দাবি নিয়ে।আর সেই প্রেক্ষাপটে আসবে এমপি হওয়া দুই পরিবারের বাইরে তৃতীয় শক্তির অভ্যূদ্বয়।

এদিকে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের পর এমপি সবুজের যে সমস্ত শীর্ষ নেতা পদ ধরে রাখতে, ব্যবসা ঠিক রাখতে এবং পরবর্তি কমিটি গঠন হলে যাতে চেয়ারটা ঠিক থাকে মনে করে নেতা পরিবর্তন করেছিলেন তাদের কেউ আর ক্ষমতার পাদপ্রদ্বীপে থাকবেন না।সময়ের প্রয়োজনে বর্তমান ক্ষমতাসীনরা তাদের ব্যবহার করলেও এখন ছুঁড়ে ফেলার সময় সমাগত।তাদের রাজনৈতিক জীবনের অবসান ঘটবে।শুধু নামের পাশে যোগ হবে সাবেক শব্দটি।

আরও খবর



নওগাঁয় আবাদপুকুর হাটের ইজারা প্রদানে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

প্রকাশিত:সোমবার ২৪ জুন 20২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ২২ জুলাই ২০২৪ |

Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, সিনিয়র রিপোর্টার :

নওগাঁর বৃহত্তম ধান ও পশুর হাট হচ্ছে রাণীনগর উপজেলার আবাদপুকুর হাট। চলতি সনে এই হাটটির খাস আদায়ের ইজারা প্রদানে ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছে মর্মে অভিযোগ উঠেছে। চলতি বাংলা সনের বৈশাখ মাসে অবৈধ ভাবে গোপনে খোলা ডাকের মাধ্যমে হাটের নতুন ইজারা প্রদান করা হলেও বিষয়টি জানেন না হাটের খাস আদায় কমিটির কোন সদস্যরা। যদি প্রকাশ্যে খোলা ডাকের মাধ্যমে হাটের ইজারা প্রদান করা হতো তা হলে সরকার আরো দ্বিগুন পরিমাণ রাজস্ব পেতো বলে মনে করছেন সচেতন মহল। সূত্রে জানা সর্বশেষ গত ১৪২৯সনে (২০২২খ্রি:) প্রকাশ্যে খোলা ডাকের মাধ্যমে হাটটি ভ্যাট-ট্রাক্স ছাড়া ৮০ লাখ টাকায় ইজারা প্রদান করা হয়েছিলো। এরপর ২০২৩খ্রি: হাটটি খাস আদায়ের আওতায় আনতে একটি মহলের নির্দেশনা মোতাবেক ঐ বছর আবাদপুকুর উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের স্কুল মাঠে পশুর হাট বসতে দিবে না মর্মে একটি মামলা দায়ের করলে পরবর্তিতে হাটটি মামলার যাতাকলে খাস আদায়ের আওতায় চলে যায়। অপরদিকে খাস আদায়ে বাৎসরিক ইজারা প্রদানের কোন নিয়ম না থাকলেও উপজেলা প্রশাসন তা করে আসছে। আর খাস আদায়ের নামে প্রশাসনের সহযোগিতায় গত দু' বছর যাবত নামে হাটের টাকা হরিলুট করছে কতিপয় একটি সিন্ডিকেট।  

সরকারী নিয়মানুসারে উপজেলা পরিষদ নিয়ন্ত্রনাধীন হাট-বাজারের ক্ষেত্রে খাস আদায়ের জন্য ৯ সদস্যের একটি কমিটি থাকবে যে কমিটির মাধ্যমে খাস আদায় হবে। কমিটিতে সভাপতি পদে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সদস্য পদে চেয়ারম্যান (উপজেলা পরিষদ কর্তৃক মনোনীত পরিষদের একজন সদস্য), সংশ্লিষ্ট হাটের নিকটবর্তি হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য, ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের ইউপি মহিলা সদস্য, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ও সদস্য সচিব হিসেবে সহকারী কমিশনার (ভূমি) থাকবেন। যদি সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদটি শূন্য থাকে তাহলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কমিটির সদস্য এমন একজন কর্মকর্তাকে সদস্য সচিব মনোনীত করতে পারবেন। 

সরকারের এমন নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে হাট কমিটির সভাপতি অবৈধ ভাবে গোপনে খোলা ডাকের নামে দীর্ঘদিনের একটি সিন্ডিকেটকে খাস আদায়ের দায়িত্ব প্রদান করেছেন। অথচ কমিটির অধিকাংশ সদস্যরা হাটের খাস আদায় ইজারার বিষয়টি জানেন না। অপরদিকে হাটের সাপ্তাহিক খাস আদায়ের কাজটি সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তার দায়িত্ব হলেও ঝামেলার কারণে ভূমি কর্মকর্তা দায়িত্ব পালনে অস্বীকৃতি জানালে খোলা ডাকের মাধ্যমে গত দু' বছর যাবত বাৎসরিক হিসেবে ইজারা প্রদানের মাধ্যমে খাস আদায় করে আসছে উপজেলা প্রশাসন। এতে করে প্রতি হাটেই খাজনা আদায়ের নামে ক্রেতা-বিক্রেতাদের গলা কাটা হচ্ছে। প্রতিটি পণ্যের বিশেষ করে গরু, ছাগল ও ভেড়ার খাজনা সরকারী নির্ধারিত হারের চেয়ে দ্বিগুনেরও বেশি হারে খাজনা আদায় করা হচ্ছে। এমন অনিয়মকে শুদ্ধ করতে মাঝে মধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দায়সারানো ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানও পরিচালনা করা হয়। 

চলতি বাংলা ১৪৩১সনের (২০২৪খ্রি:) জন্য গত বৈশাখ মাসে আবাদপুকুর হাটটি জেলা প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষে খাস আদায় কমিটির সদস্যদের উপস্থিতি ছাড়াই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কমিটির সভাপতি উম্মে তাবাসসুম অবৈধ ভাবে গোপনে নামমাত্র খোলা ডাকের মাধ্যমে ইজারা প্রদান করেছেন। দীর্ঘদিনের সিন্ডিকেট হেলু মেম্বার গংদের কাছে প্রতি সপ্তাহে ভ্যাট-ট্যাক্স সহ ৩ লাখ (৫২ সপ্তাহ) টাকার বিনিময়ে হাটের খাস আদায়ের ইজারা প্রদান করা হয়েছে। যে সিন্ডিকেটটি কৌশল করে বছরের পর বছর রাজনৈতিক ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্র-ছাঁয়ায় আবাদপুকুর হাটের ইজারা গ্রহণের মাধ্যমে প্রতিটি পণ্যের নির্ধারিত হারের চেয়ে দ্বিগুন টাকা খাজনা হিসেবে আদায় করে আসছে।

আবাদুপুকর হাটের খাজনা আদায়কারী টিমের প্রধান হেলু মেম্বার মোবাইল ফোনে জানান, তারা নিয়মানুসারে হাটের খাস আদায়ের ইজারার দায়িত্ব পেয়ে খাজনা আদায় করছেন। আমি একটু ব্যস্ত আছি আপনি পরে ফোন দিয়েন বলে হেলু মেম্বার সাংবাদিক এর মোবাইল ফোনের সংযোগ কেটে দেন। 

কালীগ্রাম ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা মোঃ কৌশিক আহমেদ মোবাইল ফোনে জানান, খাস আদায় একটি ঝামেলা পূর্ণ কাজ তাই গত বছরও উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাটের খাস আদায় খোলা ডাকের মাধ্যমে ইজারা প্রদান করেছিলেন। চলতি বছর হাটের খাস আদায় বিষয়ে একটি নোটিশ পেয়েছিলাম। আর চলতি বছর খাস আদায়ের ইজারার খোলা ডাকের দিন আমাকে বলা হয়নি বিধায় বিষয়টি আমার জানা নেই। 

আবাদপুকুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সোবহান মোবাইল ফোনে জানান, চলতি বছর আবাদপুকুর হাটের খাস আদায়ের ইজারা বিষয়ে আমার কোন কিছু জানা নেই। আমি কমিটির একজন সদস্য হলেও কিভাবে হাটটির খাস আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে কিছুই জানানো হয়নি। তবে যেভাবেই হাটের খাস আদায়ের ব্যবস্থা করা হোক না কেন খোলা ডাকের দিন কমিটির সকল সদস্যদের উপস্থিতিতেই ইজারা প্রদানের ব্যবস্থা করা উচিত ছিলো। তাহলে কমিটির সদস্যদের মাঝে এই বিষয়ে আর কোন সন্দেহ থাকতো না। স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল কাহার মোবাইল ফোনে জানান, তিনি খাস আদায় কমিটির সদস্য হলেও হাটের ইজারার বিষয়ে কোন কিছুই জানেন না। অবৈধ ভাবে গোপনে হাটের ইজারা প্রদান করার কারণে সরকার যেমন রাজস্ব হারাচ্ছে তেমনি ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে হাটে আসা ক্রেতা-বিক্রেতা সহ আমরা স্থানীয়রা।  

কালীগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব চাঁন মোবাইল ফোনে জানান, আমার ইউনিয়নের মধ্যে থাকা বৃহত্তম আবাদপুকুর হাটের খাস আদায়ের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। কবে কিভাবে কখন খোলা ডাকের মাধ্যমে হাটের খাস আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে তা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে বারবার জানতে চাইলেও আমাকে বিষয়গুলো জানানো হয়নি। অনেক পরে বিষয়টি জানতে চাইলে ইউএনও জানান, যে জেলা প্রশাসক স্যার ও স্থানীয় এমপির নির্দেশনা মোতাবেক সিন্ডিকেট হেলু মেম্বার গংদের কাছে হাটের খাস আদায়ের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। শুধু তাই নয় আমি ঐ হাটের প্রতি সপ্তাহের ইজারা মূল্য ৪লাখ দিতে চাইলেও হাটের খাস আদায়ের দায়িত্ব আমাকে দেয়া হয়নি। উপজেলা প্রশাসন দীর্ঘদিনের সিন্ডিকেট হেলু মেম্বার গং এর সঙ্গে আঁতাত করে হাটের টাকা হরিলুট করছে। হাটের খাস আদায়ের ক্ষেত্রে কোন নিয়মই মানা হয়নি এবং মানা হচ্ছে না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও হাটের খাস আদায় কমিটির সভাপতি উম্মে তাবাসসুম মোবাইল ফোনে বলেন, ১৪৩০ সনের (২০২৩খ্রি:) চেয়ে প্রায় দ্বিগুন টাকায় ১৪৩১সনের (২০২৪খ্রি:) জন্য খোলা ডাকের মাধ্যমে আবাদপুকুর হাটের খাস আদায়ের ইজারা প্রদান করা হয়েছে। যারা হাটের ইজারা মূল্য সবচেয়ে বেশি দিয়েছেন তাদেরকেই খাস আদায়ের ইজারার দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসক স্যারও জানেন। এক কথায় সকল নিয়ম মেনেই আবাদপুকুর হাটের খাস আদায়ের ইজারা প্রদান করা হয়েছে।


আরও খবর



প্রকৌশলী মোহাম্মদ হোসাইন‌

চাঁদপুরের বহু সূর্যসন্তান বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করেছেন‌

প্রকাশিত:রবিবার ০৭ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ২২ জুলাই ২০২৪ |

Image

কামরুজ্জামান টুটুল,চাঁদপুর থেকে :

চাঁদপুরের অনেক সূর্য সন্তান তাদের।কর্মগুনে সারা বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করেছেন ও   চাঁদপুরকে আলোকিত করেছেন। তাদের মধ্যে অসংখ্য নারী ও রয়েছেন। এমন সব আলোকিত নারীদের জীবন-ও কর্ম নিয়ে যিনি গুরুত্বপূর্ণ এই গ্রন্থ রচনা করেছেন এজন্য লেখককে আমরা আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। 

 ‌'সংগ্রামে-অর্জনের চাঁদপুরে নারীগণ' গ্রন্থটিতে যে ২৫ জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে,‌ আমি মনে করি এই সম্মান তাদের প্রাপ্য। আশিক বিন রহিমের লেখা 'সংগ্রামে-অর্জনে চাঁদপুরের নারীগণ'" গ্রন্থের পাঠ পর্যালোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সাহিত্য মঞ্চ ও আপনের যৌথ আয়োজনে ৬ জুলাই বিকেল ৪টায় চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমী মিলনায়তনে এ পাঠ পর্যালোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে  এসব কথা বলেন,  সেলের মহাপরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ হোসাইন‌।

এ সময় সভায় অনুভূতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন করেন, স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ডাক্তার সৈয়দা বদরুন নাহার চৌধুরী, কণ্ঠ সৈনিক মুক্তিযোদ্ধা কৃষ্ণা সাহা, চাঁদপুর উইমেন চেম্বারের প্রেসিডেন্ট মুনিরা আক্তার ট্রাস্ট ব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সুরাইয়া তালুকদার। প্রধান আলোচক ছিলেন প্রবন্ধিক ও‌ গবেষক ড. সরকার আবদুল মান্নান।


অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে ছিলেন পুরানবাজার ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ফেরদৌসী বেগম, কবি ও গবেষক মুহাম্মদ ফরিদ হাসান। আপনের সভাপতি রোটারিয়ান ডা. রাশেদা আক্তারের সভাপ্রধানে ও সাহিত্য মঞ্চের সভাপতি মাইনুল ইসলাম মানিকের সঞ্চালনে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, আপনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল ফারুক, সহ-সভাপতি রোটারিয়ান আশরাফুল আরিফ, কবি ও নাট্যকার জাহাঙ্গীর আলম হৃদয়, কবি সুমন কুমার দত্ত প্রমুখ।


অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য কবি আব্দুল্লা-হিল কাফি, নজরুল গবেষণা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গনি, লেখক আশিক বিন রহিমের বড় ভাই আলী আকবর শেখ, চাঁদপুর লেখক পরিষদের সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন, চাঁদপুর সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ম. নূরে আলম পাটওয়ারী, বঙ্গবন্ধু লেখক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক উজ্জল হোসেন, কবি ও লেখক কবির হোসেন মিজি, কবি জাহিদ নয়ন, কবি আবু হানিফ, বাংলাদেশের ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য  হোসেন মীর, প্রকৌশলী নেছার পাটওয়ারী, চাঁদপুর জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ফারুক আহমেদ, আপনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিত্তুল মোনা চৈতি, সাংগঠনিক সম্পাদক আলামিন মুন্সী, সাহিত্য মঞ্চে সদস্য সদস্য তৈয়বসহ অন্যান্য লেখক ও সাহিত্যকর্মীবৃন্দ। ‌


এছাড়া এদিন প্রকৌশলী মোহাম্মদ হোসাইন, বেলা ১২ টায় হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তির প্রায় শতাধিক শ্রমজীবীদের মাঝে রেইনকোট বিতরণ করেন এবং হাজীগঞ্জ উপজেলার ৯ নং গন্ধব্যপুর উত্তর ইউনিয়নের আহম্মদপুর এতিমখানায় কোরআনে হাফেজদের নিয়ে মধ্যাহ্নভোজে অংশগ্রহণ করেন।


আরও খবর