Logo
শিরোনাম
কথাসাহিত্যিক ইজাজ আহমেদ মিলনের লেখা

ভাওয়াল বীরের জন্মদিনে ‘জীবনালেখ্য’

প্রকাশিত:বুধবার ০৯ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ২৮ নভেম্বর ২০২২ |
Image

শ্রমিক নেতা ও গাজীপুর-টঙ্গী-২ আসনের প্রয়াত সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টারের ৭২তম জন্মদিনে তার যাপিত জীবন নিয়ে কথা সাহিত্যিক ইজাজ আহাম্মদ মিলনের লেখা ‘জীবনলেখ্য’ বইটি প্রকাশ হয়েছে।

আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে বইটির মোরক উন্মোচন করেন।

৯ নভেম্বর ১৯৫০ সালে জন্ম নেওয়া আহসান উল্লাহ মাস্টার ২০০৪ সালের ৭ মে মাত্র ৫৪ বছর বয়সে ঘাতকের বুলেটে নিভে যায় তার জীবন প্রদ্বীপ। 

শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত ‘ভাওয়াল বীর’ খ্যাত আহসান উল্লাহ মাস্টার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান থেকে মানুষের ভালোবাসাকে পুঁজি করে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে দুবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। সংসদ সদস্য থাকাকালেই ঘাতকরা তাকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে।

জাতির পিতার আদর্শ বুকে ধারণ করে ’৬৬-এর ৬ দফা, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০-এর নির্বাচনে ভূমিকা রাখা, ’৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণসহ বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি আন্দোলনেই সরাসরি অংশ নিয়েছেন তিনি। বঙ্গবন্ধুর আশীর্বাদ পাওয়া আহসান উল্লাহ মাস্টার শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় আজীবন আন্দোলন করেছেন। তাদের পক্ষে কথা বলেছেন। মাদকের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেছিলেন ’৯০-এর দশকের গোড়ার দিকেই। তুমুল জনপ্রিয় এক নেতৃত্বে পরিণত হন তিনি।

রাজনীতির মাঠে আহসান উল্লাহ মাস্টারের আলোয় আলোকিত হয়েছিল গাজীপুর। কিন্তু কেমন ছিল আপদমস্তক এ রাজনীতিকের জীবন? গ্রাম থেকে উঠে এসে কীভাবে জাতীয় রাজনীতিতে জায়গা করে নিয়েছিলেন? তার জন্ম, শৈশব, কৈশোর, যুদ্ধের ময়দানে মৃত্যুর খুব কাছ থেকে ফিরে আসা- এমন নানা অজানা অধ্যায় নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক ইজাজ আহমেদ মিলন লিখেছেন ‘আহসান উল্লাহ মাস্টার : জীবনালেখ্য’। এই বইটি তরুণ প্রজন্মের কাছে আহসান উল্লাহ মাস্টারের আদর্শকে তুলে ধরতে সহায়ক হবে মনে করেন লেখক ও সংশ্লিষ্টরা।


আরও খবর



বান্দরবানে পর্যটকদের সর্বোত্তম যানবাহন সেবা প্রদানের আহ্বান পার্বত্য মন্ত্রীর

প্রকাশিত:রবিবার ১৩ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৭ নভেম্বর ২০২২ |
Image

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি যানবাহন চালকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সকল যানবাহন চালককে ট্রাফিক আইন মেনে সড়কে চলাচল করতে হবে। যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিত হয়েই গাড়ি রোডে নামাতে হবে। বান্দরবানে বেড়াতে আসা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের সর্বোত্তম নিরাপদ যানবাহন সেবা প্রদান নিশ্চিত করতে হবে।

গতকাল রাতে বান্দরবান জেলা সদরের হিলভিউ কনভেনশন সেন্টারের অডিটোরিয়াম হলে মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়ন এর নবনির্বাচিত কার্যকরি কমিটির সদস্যদের অভিষেক ও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি সংশ্লিষ্টদের প্রতি এ আহ্বান জানান।

মন্ত্রী বান্দরবান শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যদের কাজের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, বান্দরবানের যানবাহন চালকরা বরাবরই ভালো। তারা সকল পর্যটকদের সাথে সৌজন্যমূলক আচরণ করে থাকে। তাছাড়া এখানকার শ্রমিক ইউনিয়ন খুবই একটিভ। একটি দেশের কৃষ্টি কালচার ও পরিচয় বহন করে ভালো ব্যবহারের মাধ্যমে। মন্ত্রী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষের জন্য নিরলসভাবে কল্যাণমূলক কাজ করে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার যতদিন ক্ষমতায় থাকবে, ততোদিন দেশের মানুষের কল্যাণ করে যাবে এবং এ ধারা আগামিতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন পার্বত্য মন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপি।

পরে মন্ত্রী বান্দরবান মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়ন এর নবনির্বাচিত কার্যকরি কমিটির সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান ও সংশ্লিষ্টদের নিবন্ধন সনদ বিতরণ করেন।

বান্দরবান মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. জাফর ইকবাল এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে পার্বত্য জেরা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লা, জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. লুৎফর রহমান, পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কাজল কান্তি দাস, পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য মোজাম্মেল হক বাহাদুর, বান্দরবান শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের সভাপতি মো. .আব্দুল কুদ্দুছ, বান্দরবান মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল উপস্থিত ছিলেন।

মো. রেজুয়ান খান

জনসংযোগ কর্মকর্তা

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়


আরও খবর



রাঙ্গামাটি রিজার্ভ বাজার মহসিন কলোনীর অগ্নিকান্ডে ১২ টি বসতঘর পুড়ে ছাই

প্রকাশিত:শনিবার ১৯ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৭ নভেম্বর ২০২২ |
Image

উচিংছা রাখাইন কায়েস, রাঙ্গামাটি ঃ 

রাঙ্গামাটি শহরের রিজার্ভ বাজার মহসিন কলোনী এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ১২ টি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আজ দুপুরে সাড়ে ১২ টার দিকে মহসিন কলোনীর মিয়া সদাগরের ভাড়াটিয়ার বাড়ী থেকে অগ্নিকান্ডের সুত্রপাত ঘটে। মুহুর্তের মধ্যে আগুন চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও আগুনের লেলিহান শিখা বেড়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে ফায়ার সার্ভিস এসে প্রায় ১ ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনতে সক্ষম হয়। আগুনে প্রায় অর্ধ কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্থরা জানায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায় আজ দুুপুর হঠাৎ আগুনের লাগার হইচই শোনা যায়। এ সময় সকলে তাৎক্ষনিক আগুন নিয়ন্ত্রনে আনার চেস্টায় চালায়। পরবর্তীতে আগুন কোন ভাবে নিয়ন্ত্রনে না আসায় ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়া হয়। আগুন লাগার প্রায় ২০ মিনিট পর ফায়ার সার্ভিস ঘটনা স্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রনে কাজ চালায়। ফায়ার সার্ভিসের ৩টি ইউনিট ও সাধারণ জনগন প্রায় ১ ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। আগুনের লেলিহান শিখা এতোই বেশী ছিলো যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হয়েছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদেরকে। 

রাঙ্গামাটি জেলা ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা মোঃ ইকবাল হোসেন জানান, আগুন লাগার খবর পেয়ে সাথে সাথে আমরা ঘটনাস্থলে এসে পৌছায় এবং আগুন নিয়ন্ত্রনে কাজ করি। প্রায় ঘন্টা খানেক ৩ টি ইউনিটি তিন দিক থেকে আগুনের নেভাতে প্রচেষ্টা চালায়। তিনি বলেন, তবে তাৎকক্ষনিক কিভাবে আগুন লেগেছে তা জানা সম্ভব হয়নি। আগুনে ১৫ টি বাড়ী পড়ে ছাই হয়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপন করে পরে তথ্য দেয়া হবে। 

তাৎক্ষনিক রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুল ইসলাম, রাঙ্গামাটি পৌরসভার প্যানেল মেয়র মোঃ হেলাল উদ্দিন ঘটনাস্থলে এসে স্থানীয়দের সাথে কথা বলেন এবং ক্ষয়ক্ষতি নিরুপন করে সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন। 


আরও খবর



এবার হবে 'ক্যাশলেস সোসাইটি' : সজীব ওয়াজেদ জয়

প্রকাশিত:রবিবার ১৩ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৭ নভেম্বর ২০২২ |
Image

বিদেশিদের সাহায্য ছাড়াই ডিজিটাল বাংলাদেশের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের পুরোটাই নিজেদের শ্রম ও মেধার মাধ্যমে হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনে এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়।সজীব ওয়াজেদ জয় জানান, এবারের লক্ষ্য ক্যাশলেস সোসাইটি করা। আবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে দেশের শতভাগ মানুষের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকবে বলেও জানান সজীব ওয়াজেদ জয়। বিনিময় সেবা ব্যবহার করে কোনো ঝামেলা ছাড়াই সহজে ও দ্রুত লেনদেন করতে পরবে। এ ক্ষেত্রে শুধু অন্যের ভার্চুয়াল আইডি দিলেই চলে যাবে টাকা। নাম, ব্যাংক বা অ্যাকাউন্ট নম্বর দেওয়ারও প্রয়োজন হবেআ বলে জানান তিনি।  


আরও খবর

কর্মবিরতিতে নৌযান শ্রমিকরা

রবিবার ২৭ নভেম্বর ২০২২




নারায়ণগঞ্জের বন্দর ও রূপগঞ্জে কয়েক ঘন্টার ব্যাবধানে তিন খুন

প্রকাশিত:সোমবার ০৭ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৭ নভেম্বর ২০২২ |
Image

বুলবুল আহমেদ সোহেল ঃ

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে নিখোঁজের তিনদিন পর ভ্যান চালক  মাসুমের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সকালে উপজেলার গণপাড়া এলাকায় একটি ডোবা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। সে খুলনা জেলার সিকান্দার মিয়া ছেলে ও বন্দর আনোয়ার মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া।

পরিবারের অভিযোগ, গত কয়েকদিন ধরে তার সৎ ভাই  আসলামের সাথে পারিবারিক দ্বন্দ্ব চলে আসছিল বৃহস্পতিবার রাতে বাসা থেকে বের হয়ে আর বাড়িতে ফেরেনি। এবিষয়ে থানায় অভিযোগ করা হয়। আজ সকালে

ডোবায় তার লাশ দেখে সনাক্ত করা হয়।

একই উপজেলায়  মা'কে গলাকেটে হত্যা পর মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলে সজীব পলাতক রয়েছে। সকালে মুছাপুর ইউনিয়নের জহুরপুর গ্রামে এঘটনা ঘটে। নিহত আয়েশা বেগম ওই এলাকার মৃত রফিকুল ইসলামের স্ত্রী।  নিহতের স্বজনরা জানান, সজীব দীর্ঘদিন মানসিক ভারসাম্যহীন তাকে কয়েক বার চিকিৎসা দেয়া হয়। রাতে তাদের বসতঘরে খাবার খেয়ে মা-ছেলেকে ঘুমিয়ে পড়েন। ভোরে কোন সময়ে মাকে ছুরি দিয়ে গলায় আঘাত করে হত্যা করে পর সে পালিয়ে যায়।

বন্দর থানার পরিদর্শক আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, নিহত   দুইজনের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। আয়েশা বেগম হত্যায় ধারণা করা হচ্ছে মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলেই হত্যাকান্ডটি ঘটাতে পারে এবং ভ্যান চালক হত্যার সাথে জড়িতদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

অপরদিকে, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে রাশেদ নামে এক তেল ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। রাতে উপজেলার আধুরিয়া বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় এঘটনা ঘটে। সে ভোলা জেলার ধলিগৌর নগর এলাকার আলাউদ্দিনের ছেলে। জানা যায়, আধুরীয়া স্ট্যান্ডের পাশেই তেলের ব্যবসা করে সে। রাতে একদল ছিনতাইকারী তার দোকানে এসে টাকা চাইলে তা দিতে অস্বীকার করায় ছিনতাইকারীরা তাকে ছুরিকাঘাত করে টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় ডিকেএমসি হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্মরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বাচ্চু মিয়ার ঘটনার নিশ্চিত করে জানান, রূপগঞ্জ থেকে রাশেদ নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাত অবস্থায় ঢামেকে নিয়ে আসে। পরে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। নিহতের লাশ মর্গে রাখা হয়েছে। 


আরও খবর

ই-টিকেটিংয়ে বন্ধ অতিরিক্ত ভাড়া

শুক্রবার ২৫ নভেম্বর ২০২২




নওগাঁয় হত্যা মামলায় ১০ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড

প্রকাশিত:বুধবার ২৩ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৭ নভেম্বর ২০২২ |
Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, স্টাফ রিপোর্টারঃ


নওগাঁয় গভীর নলকুপ নিয়ে বিবাদে উজ্জল হোসেন হত্যা মামলায় ৫ সহোদর সহ ১০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছে বিজ্ঞ আদালত। এছাড়া প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরো দু' বছরের সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়। এসময় আসামীরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বুধবার ২৩ নভেম্বর দুপুর ১২টায় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালত এর বিচারক ফেরদৌস ওয়াহিদ এ রায় প্রদান করেন। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলে, অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আব্দুল বাকী এবং আসামীপক্ষের আইনজীবী ছিলেন, অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ-২।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার সারঙ্গপাড়া মৌজায় সমবায় অফিস থেকে নিবন্ধিত গভীর নলকুপ পরিচালনা করতেন দূর্গাপুর গ্রামের নিহত উজ্জল হোসেন এর চাচা সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম। ২০১৩ ইং সালে ৯ মে ঐ নলকুপকে কেন্দ্র করে পূর্ব শত্রুতার জেরে নলকূপটি দখলে নেওয়ার জন্য দূর্গাপুর গ্রামের কামরুজ্জামান, ওয়াহেদ আলী, সামসুজ্জামান, রকেট, ডাবলু, আব্দুল হামিদ, এনামুল, মোশারফ হোসেন, বজলুর রহমান, এমদাদুল হক, কারিমা বেগম, জলি আক্তার এবং জয়পুরহাট জেলার বাঁশকাটা গ্রামের মোছা. জীবন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করে নলকুপ ঘড়ের দরজার তালা ভেঙে তারা ভেতরে প্রবেশ করে কৃষকদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের রশিদ ছিড়ে ফেলেন এবং বাক্সে রাখা কৃষকদের নিকট থেকে আদায়কৃত ১৭ হাজার ৫শ' টাকা নিয়ে যাওয়ার সময় উজ্জল হোসেন সহ কয়েকজন বাঁধা দিলে লাঠিসোটা ও লোহার রড দিয়ে মারপিট সহ মরিচের গুড়া মেশানো গরম পানি ছিটিয়ে দিলে উজ্জলের শরীর "পেটের বামপাশে" ঝলসে যায়। উজ্জল গুরুত্বর আহত হলে তাকে উদ্ধার করে বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে নওগাঁ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে রাজশাহী মেকিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে পরদিন মারা যান উজ্জল।

এঘটনায় নিহতের চাচা মাজহারুল ইসলাম বাদী হয়ে ১৩ জনকে আসামী করে থানায় মামলা করেন। মামলার দীর্ঘ শুনানি শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিত্বে ১০ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড রায় দেয় আদালত। এছাড়া প্রত্যেক ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো দু' বছরের সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন আদালত। তবে মামলায় ৩ জন নারীর কোন সম্পৃক্ততা না থাকায় ঐ ৩ জন নারীকে বেকসুর খালাস দেয় আদালত।

ন্যায় বিচারে আদালতের প্রতি সন্তুষ্ট প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল বাকী জানান, দেশে যে ন্যায় বিচার আছে তা এই রায়ের মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হয়েছে।

অপরদিকে, আসামী পক্ষের আইনজীবী মামুনুর রশিদ-২ বলেন, এ মামলায় আমাদের বিপক্ষে যারা স্বাক্ষ্য প্রদান করেছেন তাদের প্রত্যেকের সাক্ষী হিসেবে জবানমন্দী ও জেরা এবং পুঙ্খানু-পুঙ্খ বিশ্লেষণে অবশ্যই আসামীদের বিপক্ষে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়নি। তারপরও আসামীদের যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছে আদালত। এতে করে আমরা ক্ষুদ্ধ, খুন্ন ও ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি। আমরা এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবে। 


আরও খবর