Logo
শিরোনাম

যুক্তরাষ্ট্রে তিন হাজার খোলা মাঠে ঈদ জামাতের প্রস্তুতি

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৮ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৪ ডিসেম্বর ২০২২ |
Image

শনিবার (৯ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রে সকল দেশের মুসলিম সম্প্রদায় পবিত্র ঈদুল আজহা পালন করবে। যুক্তরাষ্ট্রের ৩ হাজারেরও বেশি মসজিদের ব্যবস্থাপনায় এবারে ঈদের জামাতের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে খোলা মাঠে অনুষ্ঠিত হবে আরো ৩ হাজার ঈদ জামাত এবং বাকি জামাতগুলো অনুষ্ঠিত মসজিদ ও গির্জার মিনলায়তনে।

দ্য অ্যাসোসিয়েশ অব স্টাটিস্টিশিয়ান্স অব আমেরিকান রিলিজিয়াস বডিস'র সূত্রে এ খবর জানা গেছে।

সূত্রটি জানায়, গত দুই দশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মসজিদ ও মুসলিম ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০০ সালের যুক্তরাষ্ট্রে মসজিদের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ২ শ' ৯টি, মসজিদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ২০১১ সালে পরিমাণ দাঁড়ায় ২ হাজার ১শ' ৬টি এবং ২০২০ সালের সর্বশেষ গণনায় যুক্তরাষ্ট্রে মোট মসজিদের পরিমাণ দাঁড়ায় ২ হাজার ৭শ' ৯৬টি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মসজিদ রয়েছে নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে ৩৪৩টি, ক্যালিফোর্নিয়ায় ৩০৪টি, টেক্সাসে ২২৪টি, ফ্লোরিডায় ১৫৭টি ইলিনয়সে ১০৯টি এবং নিউ জার্সিতে ১৪১টি মসজিদ রয়েছে।

প্রবাসী বাংলাদেশিরাও দেশীয় আমেজে উৎসব ঈদুল আজহা উদযাপন করবে শনিবার (৯ জুলাই)। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বাংলাদেশি পরিচালিত মসজিদ, মসজিদ সংলগ্ন মাঠ, পার্কের মাঠে ও গির্জার মিনলায়তনে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। যেসব এলাকায় মসজিদ নেই সেসব এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গির্জার মিনলায়তনেই জুমা ও ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বাংলাদেশিদের পরিচালনাধীন দুই শতাধিক মসজিদ বা তৎসংলগ্ন মাঠে ঈদ জামাত করার প্রস্তুতি নিয়েছে বাংলাদেশি ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। সকাল ৭টা থেকে শুরু হবে জামাত এবং মসজিদগুলোতে পরযায়ক্রমে চলবে সকাল ১০টা পর্যন্ত। ঈদ জামাতের নিরাপত্তায় স্থানীয় প্রশাসন বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। নিউ ইয়র্কের বড় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারে। এ ছাড়া জ্যামাইকার অন্য মসজিদ, জ্যাকসন হাইটস, ব্রঙ্কস, ব্রুকলিন, ওজন পার্ক, এস্টোরিয়া, ম্যানহাটনসহ প্রায় সব এলাকার মসজিদ ও মসজিদ সংলগ্ন মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জনবহুল ও বাংলাদেশি অধ্যুষিত নিউ জার্সি, পেনসিলভানিয়া, ওয়াশিংটন ডিসি, ভার্জিনিয়া, ম্যাসাচুসেটস, কানেকটিকাট, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস, ফ্লোরিডা, ওহাইও, ইলিনয়স, কলারাডো, ডেলাওয়ার, জর্জিয়া, কানসাস, ম্যারিল্যান্ড, মিশিগান, সাউথ ক্যারোলিনা, ওয়াশিংটন ও কেন্টাকি’র বিভিন্ন মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার ও দেড় শতাধিক খোলা মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে বলে খবর পাওয়া গেছে।


আরও খবর



কাগজের দাম বেড়েছে প্রায় দেড়গুণ

প্রকাশিত:বুধবার ১৬ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৪ ডিসেম্বর ২০২২ |
Image

ডলারের মূল্যবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি, গ্যাস ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের অভাবে কাগজ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রায় এক বছর ধরে কম-বেশি কাগজ নিয়ে সমস্যা থাকলেও এখন তা জটিল আকার ধারণ করছে। আগামী দুই মাস চরমপর্যায়ে সংকট থাকবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। কাগজশিল্প-সংশ্লিষ্টদের অনেকে বলছেন, ডলার সংকট না মিটলে এবং লেখা ও ছাপার কাগজে শুল্কহার না কমালে এ সমস্যা দীর্ঘায়িত হবে। অন্যদিকে উৎপাদন খরচ বাড়ায় কাগজের দামও বাড়বে।

কাগজকল মালিক পক্ষ বলছে, দেশে কাগজ সংকটের এ সময় পাঠ্যবই ছাপার জন্য প্রায় ১ লাখ ২০ থেকে ৩০ হাজার টন কাগজের চাহিদা রয়েছে সরকারের। এ ছাড়া বছরের শেষ দিকে এসে ডায়েরি, ক্যালেন্ডার ছাপানোর জন্যও বাড়তি কাগজের চাপও আছে। এই পরিস্থিতিতে মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানগুলো শুল্কমুক্ত আমদানির অনুমতি চেয়েছে। তবে সরকার ডলার খরচ করে কাগজ আমদানি করতে দেবে না। দেশের কাগজ কলগুলোকে সরবরাহ নিশ্চিত করতে অনুরোধ জানিয়েছে সরকার।

এদিকে লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) খুলতে না পারায় ‘অফসেট’ কাগজ বা উন্নত কাগজের জন্য ভার্জিন পাল্প আমদানি করতে পারছেন না কাগজ কল মালিকরা। তাই চাহিদামতো কাগজ সরবরাহও করতে পারছেন না তারা। ভার্জিন পাল্প ছাড়া রিসাইকেল করে যারা কাগজ (নিউজপ্রিন্ট) উৎপাদন করেন, তা চাহিদার তুলনায় খুবই কম। পাশাপাশি উৎপাদন খরচও বেড়ে গেছে।

আম্বার পেপার মিল, লিপি পেপার মিল, টিকে পেপার মিল, মেঘনা পেপার মিল ও রশিদ পেপার মিল মালিকরা ডলারের মূল্যবৃদ্ধি, টাকার মূল্যস্ফীতি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে তাদের উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে বলে সরকারকে জানিয়েছেন। বিশেষ করে গ্যাস সংকটের কারণে মিলের উৎপাদন ক্ষমতা এক-তৃতীয়াংশে নেমে গেছে বলে তারা উল্লেখ করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশে কাগজের চাহিদা প্রায় ১০ লাখ টন। ২০১৪ সালের পর থেকে লেখা ও ছাপার কাগজের (আর্ট পেপার ছাড়া) চাহিদা মেটানো হতো দেশি কাগজ কল থেকে। তবে যদি উৎপাদন বাড়ানো না যায় তাহলে দেশব্যাপী কাগজ সংকট চরমে পৌঁছাবে বলে মনে করছেন কাগজ কলের মালিকরা। অন্যদিকে এলসি না পাওয়ায় আর্ট পেপারও আমদানি করা যাচ্ছে না। ফলে সব ধরনের কাগজ সংকট চলছে এখন।

এদিকে সরকারের বিনা মূল্যের পাঠ্যবই ছাপতে প্রায় ১ লাখ ২০ থেকে ৩০ হাজার টন কাগজ লাগবে ডিসেম্বরের মধ্যে। ফলে আগামী দুই মাস কাগজ সংকট চরম পর্যায়ে পৌঁছাবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিসেম্বরের পরও সংকট থাকতে পারে। ডলার সংকট না মেটা পর্যন্ত এ সংকট অব্যাহত থাকবে।


আরও খবর

মূল্যস্ফীতি কমে এসেছে’

শুক্রবার ০২ ডিসেম্বর 2০২2




মূল্যস্ফীতি কমে এসেছে’

প্রকাশিত:শুক্রবার ০২ ডিসেম্বর 2০২2 | হালনাগাদ:রবিবার ০৪ ডিসেম্বর ২০২২ |
Image

বিশ্বব্যাপীই অর্থনীতিতে একটা সংকট বিরাজ করছে। অস্বীকার করছি না এটা আমাদের দেশেও আছে। তবে আমাদের দেশের আকাশে যে কালো মেঘ সেটি এখন সরতে শুরু করেছে। আশা করছি আগামী মাসে তা সরে যাবে। দেশে যে মূল্যস্ফীতি বেড়েছিল তা এখন অনেকটা কমে এসেছে। আগামী মাসে তা আরও কমবে, বলেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান ।

বৃহস্পতিবার সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির বার্ষিক নৈশভোজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, মূল্যস্ফীতি আগামীতে পুরোপুরি কমে যাবে। এটা বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রীর নিরলস চেষ্টার কারণেই সম্ভব হবে। জননেত্রী শেখ হাসিনা সবসময় মানুষের কল্যাণের কথা ভাবেন। মানুষের কল্যাণে নিষ্ঠার সঙ্গে আমরা কাজ করছি।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেন, স্বল্পকালের জন্য হলেও সিলেটে হাইকোর্ট ব্রাঞ্চ চালু হওয়া উচিত। যদি সিলেটে হাইকোর্ট ব্রাঞ্চ হয় তাহলে এখানকার মানুষের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি দ্রুত নিশ্চিত হবে।

তিনি পরিকল্পনামন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে সিলেটে হাইকোর্ট ব্রাঞ্চ স্থাপনে আইনমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন বলে স্থানীয় আইনজীবীদের আশ্বস্ত করেন।

বিলম্বিত বিচার ন্যায়বিচার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে উল্লেখ করে ড. মোমেন বলেন, সিলেট অঞ্চলে সবচেয়ে বড় সমস্যা জায়গা জমি সংক্রান্ত। বিশেষ করে প্রবাসীদের জায়গা জমি তাদেরই দুষ্ট কিছু আত্মীয় স্বজন বিভিন্নভাবে দখলের চেষ্টা করে থাকে। এরকম মামলা এখানে বেশি হয়। তাই জায়গা জমি ও প্রবাসীদের মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সিলেটে একটা প্রবাসী ট্রাইব্যুনাল গঠন করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে আইনজীবীদেরও কাজ করা উচিত।


আরও খবর



নওগাঁয় চলছে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০১ ডিসেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৪ ডিসেম্বর ২০২২ |
Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, স্টাফ রিপোর্টারঃ


মহাসড়কে নছিমন, করিমন, ভটভটিসহ অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধ করাসহ বিভিন্ন দাবিতে নওগাঁয় শুরু হয়েছে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।

বৃহষ্পতিবার সকাল ৬টা থেকে শুরু হয়েছে এই অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নওগাঁ জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি শহিদুল ইসলাম।

তবে বিএনপির নেতারা বলছেন, আগামী ৩ ডিসেম্বর রাজশাহীতে তাদের বিভাগীয় গণসমাবেশকে বাধা দিতেই এ ধর্মঘট দেওয়া হয়েছে। আর বাস মালিক সমিতির নেতারা বলছেন, গণসমাবেশের সঙ্গে তাদের ডাকা ধর্মঘটের কোন সম্পৃক্ততা নেই।

নওগাঁ শহরের বালুডাঙ্গা ব্যাসস্টান্ডে দাড়িয়ে থাকা যাত্রী খোকন হোসেন বলেন, জরুরি একটি কাজে সাড়ে ১০টার মধ্যে রাজশাহী যেতে হবে। প্রায় ৪০ মিনিট থেকে অপেক্ষা করেও কোনো যানবাহন পাচ্ছি না। কয়েক দিন পর পর পরিবহন শ্রমিক ও মালিকেরা ধর্মঘটের ডাক দেন। এতে অন্য কারও কিছু না হলেও যাত্রীদের হয়রানি এবং ভোগান্তির শিকার হতে হয়।

বাসস্ট্যান্ডে আসা আরও দুই যাত্রী রাসেল ও আলামিন বলেন, বাসস্ট্যান্ডে আসার আগে শুনেছি ধর্মঘট, কিন্তু চিন্তা করছিলাম বিকল্প কোনো বাহনে করে যাব। কিন্তু স্ট্যান্ডে এসে কোনো কিছুই পাচ্ছি না। এমন কী সিএনজি চালিত অটোরিকশাও দেখা যাচ্ছে না। আবার যেগুলো আছে বেশি ভাড়া চাচ্ছে।

বাস চলাচল বন্ধের ব্যাপারে নওগাঁ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব বায়েজিদ হোসেন পলাশ বলেন, এটা সারা দেশেই হচ্ছে। বিএনপির গণসমাবেশ দুই-একদিন আগে থেকেই এই ধর্মঘটের ডাক দিচ্ছেন।আমাদের এখানেও হবে জেনেই আমরা সেইভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমাদেরকে কেউ কোনভাবেই আটকে রাখতে পারবে না। ইতিমধ্যেই আমাদের নেতাকর্মীরা রাজশাহী যেতে শুরু করেছে। সমাবেশ সফল করতে যেকোনভাবে আমরা নেতাকর্মীরা রাজশাহী যাব।

নওগাঁ জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি শহিদুল ইসলাম, সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ সংশোধান, হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে নছিমন, করিমন, ভটভটিসহ অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধ ও জ্বালানি তেলসহ যন্ত্রাংশের মূল্য হ্রাস করাসহ বেশকিছু আমাদের দাবি সরকারের কাছে ছিল। এই দাবির কারণেই রাজশাহী বিভাগের ৮টি জেলায় অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট চলছে। গত ২৬ তারিখে মটর মালিক শ্রমিক সবাই মিলে নাটোরে একটি সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত বা আশ্বাস না পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট চলবে।

তবে বিএনপির সম্মেলনের সাথে তাদের কোন সম্পৃক্ততা নেই দাবি করে তিনি বলেন, আমরা গত দুই মাস আগে থেকে এসব বিষয় নিয়ে মিটিং করা হচ্ছিল। গত ২৬ তারিখে নাটোরে একটি মিটিং এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এখানে নওগাঁর একক কোন বিষয় না। পুরো রাজশাহী বিভাগের বিষয়।


আরও খবর



ঢাকায় বায়ু দূষণ বেড়েছে

প্রকাশিত:রবিবার ১৩ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০২ ডিসেম্বর 2০২2 |
Image

রোকসানা মনোয়ার :  বায়ু দূষণে বিশ্বের প্রায় শীর্ষ অবস্থানে উঠে এসেছে ঢাকা। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিশ্বের বায়ুমান যাচাই বিষয়ক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘এয়ার ভিজ্যুয়ালের’ বায়ুমান সূচক (একিউআই) ইনডেক্সে ১৩ নভেম্বর সকাল থেকে প্রথম অবস্থানে আছে পাকিস্তানের লাহোর। সকাল ৮টার দিকে ঢাকা ছিল দ্বিতীয় অবস্থানে। বেলা ১০টার দিকে ভারতের রাজধানী দিল্লি সামনে চলে আসায় ঢাকার অবস্থান নেমে আসে তৃতীয় স্থানে। গত কয়েক দিন ঢাকার দূষণ কিছুটা কম ছিল। তবে আজ তা অনেক বেশি।

 ‘এয়ার ভিজ্যুয়ালের’ বায়ুমান সূচক (একিউআই) ইনডেক্সে ঢাকার মান ২৫৩, যা মাত্রার দিক থেকে খুবই অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় আছে। তৃতীয় অবস্থানে যাওয়ার পর ঢাকার মান ছিল ২৩৭। এদিকে প্রথম অবস্থানে পাকিস্তানের লাহোরের মান ছিল ৩০৪। তৃতীয় অবস্থানে থাকার সময় দিল্লির বায়ু দূষণের মান ছিল ২০২, দুই ঘণ্টা পরে তা হয় ২৫৬।

সাধারণত ৫০ থেকে ১০০-এর মধ্যে একিউআই স্কোর ‘স্বাভাবিক অবস্থা’ বলা হয়। তবে কিছু মানুষের জন্য তা ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে বিবেচিত হয়। বিশেষ করে যারা বায়ু দূষণের প্রতি অস্বাভাবিকভাবে সংবেদনশীল। এই সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য একিউআই স্কোর ১০১ থেকে ২০০ হলে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বলে মনে কর হয়।

দিল্লির গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানা যায়, একিউআই অনুযায়ী ৫ নভেম্বর দূষণের মাত্রা ছিল ৪০৮ একিউআই। এত বেশি বায়ু দূষণের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ছে শিশুরা। গাড়ির ধোঁয়া এবং পাশের অঞ্চলগুলোতে খড় পোড়ানোর জেরে দিল্লির বাতাস আরও বিষাক্ত হয়েছে। ৪ নভেম্বর সন্ধ্যায় বাতাসে দূষণের পরিমাণ ছিল ৩৭৬ একিউআই। ৫ নভেম্বর সকালে তা পৌঁছে যায় ৪০৮ একিউআইয়ে। যাকে দুর্যোগপূর্ণ পরিবেশ বলে থাকেন বায়ু দূষণ বিশেষজ্ঞরা। এ সময় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বের হতে বারণও করা হয়ে থাকে।

ভারতের পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্কুল বন্ধের পাশাপাশি দিল্লিতে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে পুরনো ইঞ্জিনের ডিজেল গাড়ির ব্যবহার। এছাড়া বৈদ্যুতিক ও সিএনজি চালিত ট্রাক ছাড়া অন্য ট্রাকের দিল্লিতে প্রবেশ করার ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার এই দূষণের মাত্রা আরও বাড়তে পারে। শুষ্ক মৌসুম এলেই বেড়ে যায় এই শহরের দূষণের মাত্রা। সরকারি নানা উদ্যোগের কথা বলা হলেও বাস্তবে দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে এই মাত্রার পরিমাণ।

গাজীপুরের পর ঢাকা দ্বিতীয় এবং নারায়ণগঞ্জ তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বলে উঠে এসেছে তাদের গবেষণায়। ক্যাপসের পরিচালক ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার এক সংবাদ সম্মেলনে তাদের গবেষণার তথ্য তুলে ধরেছিলেন।

বিশেষজ্ঞরা জানান, সাধারণত ছয় ধরনের পদার্থ এবং গ্যাসের কারণে দূষণের মাত্রা বেড়ে যায়। এর মধ্যে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ধূলিকণা অর্থাৎ পিএম ২.৫-কে ঢাকায় দূষণের জন্য বেশি দায়ী করা হয়।


আরও খবর

ই-টিকেটিংয়ে কমেছে ভাড়ার নৈরাজ্য

মঙ্গলবার ২৯ নভেম্বর ২০২২

ই-টিকেটিংয়ে বন্ধ অতিরিক্ত ভাড়া

শুক্রবার ২৫ নভেম্বর ২০২২




বকশীগঞ্জের ধানুয়া কামালপুর হানাদার মুক্ত দিবস কাল

প্রকাশিত:শনিবার ০৩ ডিসেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৪ ডিসেম্বর ২০২২ |
Image

মাসুদ উল হাসান,জামালপুর প্রতিনিধি ঃ

আগামী কাল ৪ ডিসেম্বর জামালপুরের বকশীগঞ্জের ধানুয়া কামালপুর মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক এই দিনে পাকহানাদার মুক্ত হয় মহান মুক্তিযুদ্ধের ১১ নম্বর সেক্টরের কামালপুর রণাঙ্গন। পাক হানাদার বাহিনীর ১৬২ জন সদস্য অস্ত্রসহ আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে আত্মসর্মপণ করে। কামালপুর মুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে সূচিত হয় জামালপুর, ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল তথা ঢাকা মুক্ত হওয়ার পথ। 

জানা যায়,১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক মুক্তিযুদ্ধের ১১ নং সেক্টরের গুরুত্বপূর্ণ স্থান বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামালপুর রণাঙ্গন। এই সেক্টরের সদর দপ্তর ছিল ভারতের মহেন্দ্রগঞ্জে । ১ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অধীনে থাকা ১১ নম্বর সেক্টরের সেক্টর কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বীর সেনানী কর্নেল আবু তাহের বীর উত্তম। মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় মিত্র বাহিনীর রাজধানী ঢাকা দখলের সহজ ও একমাত্র পথ ছিল এটি। কামালপুর দখল হলেই ঢাকা দখল সহজ হয়ে যাবে এ কারনে পাক হানাদার বাহিনি ধানুয়া কামালপুরে শক্তিশালী ঘাঁটি গড়ে তুলে ছিলো। পাকসেনাদের এই শক্তিশালী ঘাটির পতন ঘটানোর লক্ষ্যে কর্নেল আবু তাহেরের নেতৃতে ১২ জুন থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে হানাদার পাকসেনাদের দফায় দফায় সম্মুখ যুদ্ধ হয়। সব চেয়ে বড় সম্মুখ যুদ্ধ হয় ৩১ জুলাই রাতে। সম্মুখ যুদ্ধে ক্যাপ্টেন সালাহ উদ্দিনসহ ১৯৪ জন মুক্তিযুদ্ধা শহীদ ও শত্রু পক্ষের একজন মেজরসহ ৪শ ৯৭ জন নিহত হয়। এই যুদ্ধে পাকসেনাদের একটি মর্টার শেলের আঘাতে সেক্টর কমান্ডার কর্নেল আবু তাহের গুরুতর আহত হন এবং ১টি পা হারান। ৩ ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনি হানাদার বাহিনির কামালপুর বিওপিতে আঘাত হানে। মাত্রাতিরিক্ত আর্টিলারি গোলা বর্ষণ করেও তেমন কোন ক্ষতি করা সম্ভব হয়নি। এর পর বিমান হামলার মাধ্যমে পাকিস্থান সেনা বাহিনির বিওপি ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত হয়। শুরু হয় বিমান আক্রমণ। প্রতিটি মিশনের পর মেজর জেনারেল গিল পাক বিওপি কমান্ডার ক্যাপ্টেন আহসান কে আত্বসর্মপণ করার জন্য একটি করে চিঠি পাঠান। মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও ৪ ডিসেম্বর শত্রু সেনা বিওপিতে প্রথম চিঠি নিয়ে যান বীর মুক্তিযোদ্ধা বশীর আহমদ বীর প্রতীক। চিঠিতে লেখা ছিল তোমাদের চারদিকে যৌথবাহিনী ঘেরাও করে রেখেছে। বাচঁতে চাইলে আত্মসর্মপণ কর, তা না হলে মৃত্যু অবধারিত। এই চিঠি পেয়ে অগ্নিমূর্তি ধারন করে পাকসেনা কমান্ডার আহসান মালিক। বশিরের ফিরতে বিলম্ব হওয়ায় আরেকটি চিঠি দিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা সঞ্জুকে পাঠানো হয় পাকসেনা ক্যাম্পে। চিঠির জবাব না পাওয়ায় শুরু হয় চুড়ান্ত বিমান হামলা। অবস্থা বেগতিক দেখে অস্ত্রসহ পাক বাহিনির কামালপুর ক্যাম্পের গ্যারিসন কমান্ডার আহসান মালিকসহ ১৬২ জনের একটি দল আনুষ্ঠানিকভাবে আত্বসমর্পন করতে বাধ্য হয়। হানাদার মুক্ত হয় কামালপুর রণাঙ্গণ। মুক্তিযোদ্ধারা প্রথম বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন কামালপুর মাঠে। এরপর থেকেই ৪ ডিসেম্বর ধানুয়া কামালপুর মুক্ত দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।


আরও খবর