Logo
শিরোনাম

বিদ্রোহীদের কাছে আত্মসমর্পণ করছে মিয়ানমার বাহিনী

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৬ নভেম্বর ২০২৩ | হালনাগাদ:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ |

Image

মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ রাখাইনে সশস্ত্র সরকারবিরোধী রাজনৈতিক গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন অন্তত ২৮ জন পুলিশ ১০ জন সেনা সদস্য মঙ্গলবার এএ যোদ্ধাদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত এক যুদ্ধ শেষে এই পুলিশ সেনা সদস্যরা তাদের অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেছে বলে জানা গেছে

মিয়ানমারে ক্ষমতাসীন জান্তার মুখপাত্র জাও মিন তুন অবশ্য সেদিনই এক সংবাদ সম্মেলনে তথ্যকেপ্রোপাগান্ডাবলে উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, তারা পুরো দেশকে ধ্বংস করে দিতে চাইছে এবং কারণেই এসব প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। তবে ঘটনার পরের দিন বুধবার রাখাইনের রাজধানী সিটওয়েতে কারফিউ জারি করেছে জান্তা। সিটওয়ের বিভিন্ন সড়কে ট্যাংক চলাচল করেছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন

আরাকান আর্মি বহু বছর ধরে রাখাইনের আঞ্চলিক স্বায়ত্বশাসনের জন্য যুদ্ধ করছে আরাকান আর্মি। গত মিয়ানমারের জান্তাবিরোধী জোট ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্টের (নাগ) অন্যতম সদস্য এই গোষ্ঠীটি। অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ থেকে মিয়ানমারের বিভিন্ন প্রদেশে সেনা পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে লড়াই শুরু হয়েছে নাগের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর। এসব গোষ্ঠীর মধ্যে আরাকান আর্মিও রয়েছে

তিন সপ্তাহের এই সংঘাতে মিয়ানমারের কিছু শহর এবং সামরিক স্থাপনা দখল করেছে জান্তাবিরোধী জোট নাগের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী, যা ২০২১ সালে অভুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা আসা জান্তাকে সবচেয়ে বড় পরীক্ষার মধ্যে ফেলেছে

মঙ্গলবারের সংবাদ সম্মেলনে জাও মিন তুন জানান, বর্তমানে মিয়ানমারের শান, রাখাইন কায়াহ রাজ্যে বিদ্রোহীদের সঙ্গে লড়াই চলছে সেনা পুলিশ সদস্যদের। সেসব লড়াইয়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদ্রোহী যোদ্ধা নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করেছেন জান্তা মুখপাত্র

বাস্তব পরিস্থিতি অবশ্য তার দাবিকে তেমন সমর্থন করছে না কারণ চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে দেশটির উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী প্রদেশ চিনে বিদ্রোহী যোদ্ধাদের সঙ্গে যুদ্ধের এক পর্যায়ে রণে ভঙ্গ দিয়েছেন মিয়ানমারের সেনবাহিনীর সদস্যরা

শুধু তা নয়, এই সেনা সদস্যদের মধ্যে অন্তত ৪৩ জন সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের মিজোরাম রাজ্যে পালিয়ে গেছেন


আরও খবর



‘বিতর্কিত’ ভাইরাল ছবি প্রসঙ্গে যা বললেন সিয়াম

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৪ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ |

Image



বিডি  টুডেস ডেস্ক:


ফের আলোচনায় ঢালিউডের চিত্রনায়ক সিয়াম আহমেদ। তবে সিনেমা নয়, অন্য কারণে ভাইরাল সিয়াম। 



বছর তিনেক আগে স্ত্রী অবন্তীকে নিয়ে তোলা একটি ছবি নিয়েই বিদ্রূপের মুখে পড়েছেন সিয়াম। মূলত ঘুরতে গিয়েই ছবিটি তোলা।



সাজেকের লুসাই গ্রামে গিয়ে সেখানকার ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী পোশাকে ছবিও তোলেন এই দম্পতি। সেই ছবি আবার সামাজিক মাধ্যমেও প্রকাশ করেন তাঁরা। 


কিন্তু হঠাৎ করেই ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর পোশাক পরা সেই ছবি ভাইরাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। 



সম্প্রতি ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও উন্নয়ন’ শীর্ষক একটি সাইনবোর্ডের ছবি ঘুরছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। সেখানে চাকমা, তঞ্চঙ্গ্যা, পাংখোয়া, গারো, খাসিয়া, মারমা, খুমি, লুসাই, রাখাইন, ত্রিপুরাসহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর নারী-পুরুষের ছবি আছে।



 কিন্তু ভুলবশত ‘পাংখোয়া’ ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী হিসেবে সিয়াম ও তাঁর স্ত্রী অবন্তীর ছবিটিও দেওয়া হয়েছে। এই ছবি নিয়েই ট্রলের মুখে সিয়াম। যা নিয়ে বেশ বিব্রত সিয়াম।



পুরো বিষয়টি নিজের ফেসবুকেও তুলে ধরে সিয়াম লিখেছেন, ‘লুসাই জনগোষ্ঠীর সম্মানিত রাজার আমন্ত্রণে বছর তিনেক আগে সাজেকে ঘুরতে গিয়েছিলাম অবন্তীকে নিয়ে। তাঁদের সংস্কৃতি, কৃষ্টি, পরিবেশ ঘুরে দেখেছিলাম। 



তাঁদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরেছি, সবার আতিথেয়তায় মুগ্ধ হয়েছিলাম সেবার। নিউজফিডে বেশ কয়েক জায়গায় দেখলাম, আমার আর অবন্তীর এই ছবিটি একটি সাইনবোর্ডে ব্যবহৃত হচ্ছে। 


সেখানে আমাদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে পাংখোয়া জনগোষ্ঠীর সদস্য হিসেবে। আমরা এতে বিব্রত হয়েছি। কারণ, এর মাধ্যমে পাংখোয়া জনগোষ্ঠীকে হেয় করা হচ্ছে।’



সামাজিক মাধ্যমে ট্রলের বিষয়ে তিনি লেখেন, ‘ঘুরতে গিয়েছিলাম পরিবারকে নিয়ে। সেই ছবিটি নিয়ে অনেক জায়গায় দেখলাম নানা রকমের ট্রল হচ্ছে। ভেবেছিলাম অন্য আরও অনেকবারের মতো এবারও এড়িয়ে যাব। 


কিন্তু ভাবলাম কিছু বলা উচিত। ট্রল আমরা অবশ্যই করব, মিম আমরা অবশ্যই বানাব। কিন্তু কিসে কাউকে অসম্মান করা হচ্ছে, একটি সম্প্রদায়কে ছোট করা হচ্ছে, সেই বোধ থাকাটাও জরুরি। 



যে তারুণ্যকে আমি প্রতিনিধিত্ব করি, সেই তারুণ্যের কাছে এই সেনসিবিলিটি তো প্রত্যাশা করতেই পারি।’



এ ছাড়া সাইনবোর্ড থেকে তাঁদের ছবি সরিয়ে নিতেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আহ্বান জানান সিয়াম।



আরও খবর



সাংবাদিকদের কাজে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৫ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১২ জুলাই ২০২৪ |

Image

বিডি টুডেস ডিজিটাল ডেস্ক :


সম্প্রতি সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম নিয়ে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বিবৃতির প্রসঙ্গ নিয়ে দেশজুড়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।

ইতোমধ্যে বিভিন্ন সংগঠন বিবৃতির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এবার এই প্রসঙ্গ উঠে এসেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের ব্রিফিংয়ে।


স্থানীয় সময় সোমবার (২৪ জুন) পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বিবৃতি নিয়ে প্রশ্ন করা হয় স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলারকে। জবাবে তিনি সরকারের স্বচ্ছতা বাড়াতে মুক্ত-স্বাধীন সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের কাজের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের কথা জানান।

সেই সঙ্গে সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ কাজ থেকে বিরত রাখতে হয়রানি বা ভয়ভীতি দেখানোর যে কোনো প্রচেষ্টায় তিনি আপত্তি জানান।


সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, সম্প্রতি বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন পুলিশের দুর্নীতি নিয়ে রিপোর্ট করা গণমাধ্যমগুলোকে উদ্দেশ্য করে একটি হুমকিমূলক বিবৃতি দিয়েছে। শাসকগোষ্ঠীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের ব্যাপক দুর্নীতির তুলনায় এটি খুবই নগণ্য, যা নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম প্রায়ই উপেক্ষা করে।

একটি শীর্ষস্থানীয় ইংরেজি দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক প্রকাশ্যে বলেছিলেন যে, তারা পরিচিত দুর্নীতির গল্পও প্রকাশ করতে পারেন না। আপনারা জানেন, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সূচকে ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৬৫তম।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে এসব হুমকি মোকাবেলা ও দুর্নীতি মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্র কী পদক্ষেপ নেবে?

জবাবে মিলার বলেন, কার্যকর গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান বজায় রাখতে এবং সরকারের স্বচ্ছতা বাড়াতে মুক্ত ও স্বাধীন গণমাধ্যমের ভূমিকাকে আমরা দৃঢ়ভাবে সমর্থন করি। সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ কাজ থেকে বিরত রাখতে হয়রানি বা ভয়ভীতি দেখানোর যে কোনো প্রচেষ্টায় আমরা আপত্তি জানাই।


ব্রিফিংয়ে সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, সম্প্রিতি ভারত সফরকালে নরেন্দ্র মোদি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মধ্যে বৈঠক হয়। পরে যৌথ বিবৃতিতে আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতায় অংশীদারিত্বের অবদানের স্বীকৃতি দিয়ে একটি মুক্ত, উন্মুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক, নিরাপদ ও নিয়মভিত্তিক ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রতি উভয় দেশের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়।


এই প্রতিশ্রুতি কি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য অনুরূপ দৃষ্টিভঙ্গি প্রচারে মার্কিন আগ্রহকে প্রতিফলিত করে?

জবাবে মিলার বলেন, আমি সেই নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি নিয়ে কথা বলতে চাই না, কারণ আমি বিবৃতিটি পড়িনি। এটি নিয়ে এখানে আমার সহকর্মীদের সাথেও কথা হয়নি। তবে স্পষ্টতই, আমরা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে 'শান্তি ও স্থিতিশীলতা' সমর্থন করি। ঐ অঞ্চলে আমাদের কর্মপ্রচেষ্টার এটাই এক বিশেষ বৈশিষ্ট্য।

সম্প্রতি গণমাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক ও বর্তমান সদস্যদের নিয়ে অনুসন্ধানমূলক ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এগুলোকে অতিরঞ্জিত, আংশিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে বিবৃতি দেয় বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন-বিপিএসএ। রিপোর্ট প্রকাশে আরও সতর্ক হওয়ারও আহ্বান জানানো হয়।

পুলিশের এই বিবৃতিকে সাম্প্রতিক সময়ে ফাঁস হওয়া সাবেক শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাদের বিপুল পরিমাণ অর্থ-সম্পদ অর্জনের তথ্য প্রকাশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির পাশাপাশি পুলিশ বাহিনীর একাংশের দুর্নীতির সুরক্ষা দেওয়ার অপচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেছে বিভিন্ন সংগঠন ও সংস্থা।


আরও খবর

সপ্তাহ জুড়ে ভারী বৃষ্টির আভাস

বৃহস্পতিবার ১১ জুলাই ২০২৪




নওগাঁয় পথচারী বাঁচাতে গিয়ে জীবন দিলো মোটরসাইকেল চালক

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৪ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১২ জুলাই ২০২৪ |

Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, সিনিয়র রিপোর্টারঃ

নওগাঁয় পথচারী মা ও শিশু সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে শ্যালো মেশিন চালিত স্টিয়ারিং ভুটভুটির চাকায় পিষ্ট হয়ে দূর্ঘটনাস্থলেই শিমুল হোসেন (৩২) নামের এক মোটরসাইকেল চালকের মর্মান্তিকভাবে মৃত্যু হয়েছে। এ দূর্ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার বিকাল ৬ টারদিকে নওগাঁ টু রাজশাহী মহাসড়কের মহাদেবপুর থানাধীন চৌমাশিয়া বাজার (চেংকুড়ি মোড়) নামক স্থানে। নিহত শিমুল হোসেন নওগাঁ জেলা সদর উপজেলার মধ্য দূর্গাপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকালে নিহত সিমুল হোসেন আরো দু'জন কে সাথে নিয়ে একটি মোটরসাইকেল যোগে  হোটেলে ব্যবহারের জন্য কড়াই কিনতে নওগাঁ থেকে (চৌমাশিয়া) নওহাটা মোড় বাজারে আসছিলেন। চৌমাশিয়া (চেংকুড়ি) মোড় নামক স্থানে পৌছালে এসময় এক নারী তার শিশু সন্তান কে নিয়ে সড়ক পারাপার হচ্ছিল। মা ও শিশু সন্তান কে বাঁচাতে গিয়ে মোটরসাইকেল চালক মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করলেও পথচারী মা ও শিশুকে আঘাত লেগে মোটরসাইকেল সড়কের উপর পড়ে এবং চালক শিমুল হোসেন সিটকে সড়কের উপর পড়লে নওহাটা থেকে হাট-চকগৌরীগামী দ্রুতগতীর একটি স্টিয়ারিং ভুটভুটি চাকায় পিষ্ট হয়ে দূর্ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় শিমুল হোসেন এর। স্থানিয়রা জানান, পথচারী মা ও মেয়ে শিশুকে জখম অবস্থায় চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয় এছাড়া মোটরসাইকেলের অপর দু'জন আরোহী আহত হলে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। দূর্ঘটনার খবর পেয়ে নওহাটা মোড় ফাঁড়ি পুলিশ দ্রুত দূর্ঘটনাস্থলে পৌছে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করা সহ ঘটনাস্থল থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরন করেন।

মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করে মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রুহুল আমিন বলেন, ময়না তদন্ত শেষে মৃতদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


আরও খবর



নওগাঁয় আবাদপুকুর হাটের ইজারা প্রদানে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

প্রকাশিত:সোমবার ২৪ জুন 20২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১২ জুলাই ২০২৪ |

Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, সিনিয়র রিপোর্টার :

নওগাঁর বৃহত্তম ধান ও পশুর হাট হচ্ছে রাণীনগর উপজেলার আবাদপুকুর হাট। চলতি সনে এই হাটটির খাস আদায়ের ইজারা প্রদানে ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছে মর্মে অভিযোগ উঠেছে। চলতি বাংলা সনের বৈশাখ মাসে অবৈধ ভাবে গোপনে খোলা ডাকের মাধ্যমে হাটের নতুন ইজারা প্রদান করা হলেও বিষয়টি জানেন না হাটের খাস আদায় কমিটির কোন সদস্যরা। যদি প্রকাশ্যে খোলা ডাকের মাধ্যমে হাটের ইজারা প্রদান করা হতো তা হলে সরকার আরো দ্বিগুন পরিমাণ রাজস্ব পেতো বলে মনে করছেন সচেতন মহল। সূত্রে জানা সর্বশেষ গত ১৪২৯সনে (২০২২খ্রি:) প্রকাশ্যে খোলা ডাকের মাধ্যমে হাটটি ভ্যাট-ট্রাক্স ছাড়া ৮০ লাখ টাকায় ইজারা প্রদান করা হয়েছিলো। এরপর ২০২৩খ্রি: হাটটি খাস আদায়ের আওতায় আনতে একটি মহলের নির্দেশনা মোতাবেক ঐ বছর আবাদপুকুর উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের স্কুল মাঠে পশুর হাট বসতে দিবে না মর্মে একটি মামলা দায়ের করলে পরবর্তিতে হাটটি মামলার যাতাকলে খাস আদায়ের আওতায় চলে যায়। অপরদিকে খাস আদায়ে বাৎসরিক ইজারা প্রদানের কোন নিয়ম না থাকলেও উপজেলা প্রশাসন তা করে আসছে। আর খাস আদায়ের নামে প্রশাসনের সহযোগিতায় গত দু' বছর যাবত নামে হাটের টাকা হরিলুট করছে কতিপয় একটি সিন্ডিকেট।  

সরকারী নিয়মানুসারে উপজেলা পরিষদ নিয়ন্ত্রনাধীন হাট-বাজারের ক্ষেত্রে খাস আদায়ের জন্য ৯ সদস্যের একটি কমিটি থাকবে যে কমিটির মাধ্যমে খাস আদায় হবে। কমিটিতে সভাপতি পদে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সদস্য পদে চেয়ারম্যান (উপজেলা পরিষদ কর্তৃক মনোনীত পরিষদের একজন সদস্য), সংশ্লিষ্ট হাটের নিকটবর্তি হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য, ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের ইউপি মহিলা সদস্য, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ও সদস্য সচিব হিসেবে সহকারী কমিশনার (ভূমি) থাকবেন। যদি সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদটি শূন্য থাকে তাহলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কমিটির সদস্য এমন একজন কর্মকর্তাকে সদস্য সচিব মনোনীত করতে পারবেন। 

সরকারের এমন নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে হাট কমিটির সভাপতি অবৈধ ভাবে গোপনে খোলা ডাকের নামে দীর্ঘদিনের একটি সিন্ডিকেটকে খাস আদায়ের দায়িত্ব প্রদান করেছেন। অথচ কমিটির অধিকাংশ সদস্যরা হাটের খাস আদায় ইজারার বিষয়টি জানেন না। অপরদিকে হাটের সাপ্তাহিক খাস আদায়ের কাজটি সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তার দায়িত্ব হলেও ঝামেলার কারণে ভূমি কর্মকর্তা দায়িত্ব পালনে অস্বীকৃতি জানালে খোলা ডাকের মাধ্যমে গত দু' বছর যাবত বাৎসরিক হিসেবে ইজারা প্রদানের মাধ্যমে খাস আদায় করে আসছে উপজেলা প্রশাসন। এতে করে প্রতি হাটেই খাজনা আদায়ের নামে ক্রেতা-বিক্রেতাদের গলা কাটা হচ্ছে। প্রতিটি পণ্যের বিশেষ করে গরু, ছাগল ও ভেড়ার খাজনা সরকারী নির্ধারিত হারের চেয়ে দ্বিগুনেরও বেশি হারে খাজনা আদায় করা হচ্ছে। এমন অনিয়মকে শুদ্ধ করতে মাঝে মধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দায়সারানো ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানও পরিচালনা করা হয়। 

চলতি বাংলা ১৪৩১সনের (২০২৪খ্রি:) জন্য গত বৈশাখ মাসে আবাদপুকুর হাটটি জেলা প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষে খাস আদায় কমিটির সদস্যদের উপস্থিতি ছাড়াই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কমিটির সভাপতি উম্মে তাবাসসুম অবৈধ ভাবে গোপনে নামমাত্র খোলা ডাকের মাধ্যমে ইজারা প্রদান করেছেন। দীর্ঘদিনের সিন্ডিকেট হেলু মেম্বার গংদের কাছে প্রতি সপ্তাহে ভ্যাট-ট্যাক্স সহ ৩ লাখ (৫২ সপ্তাহ) টাকার বিনিময়ে হাটের খাস আদায়ের ইজারা প্রদান করা হয়েছে। যে সিন্ডিকেটটি কৌশল করে বছরের পর বছর রাজনৈতিক ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্র-ছাঁয়ায় আবাদপুকুর হাটের ইজারা গ্রহণের মাধ্যমে প্রতিটি পণ্যের নির্ধারিত হারের চেয়ে দ্বিগুন টাকা খাজনা হিসেবে আদায় করে আসছে।

আবাদুপুকর হাটের খাজনা আদায়কারী টিমের প্রধান হেলু মেম্বার মোবাইল ফোনে জানান, তারা নিয়মানুসারে হাটের খাস আদায়ের ইজারার দায়িত্ব পেয়ে খাজনা আদায় করছেন। আমি একটু ব্যস্ত আছি আপনি পরে ফোন দিয়েন বলে হেলু মেম্বার সাংবাদিক এর মোবাইল ফোনের সংযোগ কেটে দেন। 

কালীগ্রাম ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা মোঃ কৌশিক আহমেদ মোবাইল ফোনে জানান, খাস আদায় একটি ঝামেলা পূর্ণ কাজ তাই গত বছরও উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাটের খাস আদায় খোলা ডাকের মাধ্যমে ইজারা প্রদান করেছিলেন। চলতি বছর হাটের খাস আদায় বিষয়ে একটি নোটিশ পেয়েছিলাম। আর চলতি বছর খাস আদায়ের ইজারার খোলা ডাকের দিন আমাকে বলা হয়নি বিধায় বিষয়টি আমার জানা নেই। 

আবাদপুকুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সোবহান মোবাইল ফোনে জানান, চলতি বছর আবাদপুকুর হাটের খাস আদায়ের ইজারা বিষয়ে আমার কোন কিছু জানা নেই। আমি কমিটির একজন সদস্য হলেও কিভাবে হাটটির খাস আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে কিছুই জানানো হয়নি। তবে যেভাবেই হাটের খাস আদায়ের ব্যবস্থা করা হোক না কেন খোলা ডাকের দিন কমিটির সকল সদস্যদের উপস্থিতিতেই ইজারা প্রদানের ব্যবস্থা করা উচিত ছিলো। তাহলে কমিটির সদস্যদের মাঝে এই বিষয়ে আর কোন সন্দেহ থাকতো না। স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল কাহার মোবাইল ফোনে জানান, তিনি খাস আদায় কমিটির সদস্য হলেও হাটের ইজারার বিষয়ে কোন কিছুই জানেন না। অবৈধ ভাবে গোপনে হাটের ইজারা প্রদান করার কারণে সরকার যেমন রাজস্ব হারাচ্ছে তেমনি ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে হাটে আসা ক্রেতা-বিক্রেতা সহ আমরা স্থানীয়রা।  

কালীগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব চাঁন মোবাইল ফোনে জানান, আমার ইউনিয়নের মধ্যে থাকা বৃহত্তম আবাদপুকুর হাটের খাস আদায়ের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। কবে কিভাবে কখন খোলা ডাকের মাধ্যমে হাটের খাস আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে তা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে বারবার জানতে চাইলেও আমাকে বিষয়গুলো জানানো হয়নি। অনেক পরে বিষয়টি জানতে চাইলে ইউএনও জানান, যে জেলা প্রশাসক স্যার ও স্থানীয় এমপির নির্দেশনা মোতাবেক সিন্ডিকেট হেলু মেম্বার গংদের কাছে হাটের খাস আদায়ের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। শুধু তাই নয় আমি ঐ হাটের প্রতি সপ্তাহের ইজারা মূল্য ৪লাখ দিতে চাইলেও হাটের খাস আদায়ের দায়িত্ব আমাকে দেয়া হয়নি। উপজেলা প্রশাসন দীর্ঘদিনের সিন্ডিকেট হেলু মেম্বার গং এর সঙ্গে আঁতাত করে হাটের টাকা হরিলুট করছে। হাটের খাস আদায়ের ক্ষেত্রে কোন নিয়মই মানা হয়নি এবং মানা হচ্ছে না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও হাটের খাস আদায় কমিটির সভাপতি উম্মে তাবাসসুম মোবাইল ফোনে বলেন, ১৪৩০ সনের (২০২৩খ্রি:) চেয়ে প্রায় দ্বিগুন টাকায় ১৪৩১সনের (২০২৪খ্রি:) জন্য খোলা ডাকের মাধ্যমে আবাদপুকুর হাটের খাস আদায়ের ইজারা প্রদান করা হয়েছে। যারা হাটের ইজারা মূল্য সবচেয়ে বেশি দিয়েছেন তাদেরকেই খাস আদায়ের ইজারার দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসক স্যারও জানেন। এক কথায় সকল নিয়ম মেনেই আবাদপুকুর হাটের খাস আদায়ের ইজারা প্রদান করা হয়েছে।


আরও খবর



নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে সুপার এইটের পথে বাংলাদেশ

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৪ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১২ জুলাই ২০২৪ |

Image

ক্রীড়া ডেস্কঃ

টার্গেট ১৬০ রানের। এক সময় মনে হচ্ছিল এই টার্গেট অনায়াসেই করে ফেলবে নেদারল্যান্ডস। ঠিক সেই সময় এক ওভারে জোড়া উইকেট তুলে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরান লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন। 

এরপর টাইগার বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ২৫ রানে জয় পায় বাংলাদেশ।

এই জয়ে সুপার এইটের স্বপ্ন বেশ ভালোভাবে জিইয়ে রাখলো নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ৩ ম্যাচ থেকে ৪ পয়েন্ট নিয়ে সুপার এইটে এক পা দিয়ে রাখলো বাংলাদেশ। নিজেদের শেষ ম্যাচে নেপালকে হারালেই সেরা আট নিশ্চিত করবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। 

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) ওয়েস্ট ইন্ডিজের আর্নোস ভ্যালে গ্রাউন্ডে টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠান ডাচ অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ড। ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই চাপে পরে বাংলাদেশ।  

তবে সাকিব আল হাসানের ফিফটি ও তানজিদ হাসান তামিমের ব্যাটে ভর করে লড়াকু পুঁজি পায় বাংলাদেশ। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৫৯ রান সংগ্রহ করে টাইগাররা। সাকিব আল হাসান ৪৬ বলে ৬৪ রানে অপরাজিত থাকেন। এছাড়া তানজিদ তামিম ২৬ বলে ৩৫ ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ করেন ২১ বলে ২৫ রান। 

১৬০ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে সাবধানী শুরু করে নেদারল্যান্ড। দেখেশুনে খেলতে থাকেন দুই ডাচ ওপেনার মাইকেল লেভিট, ম্যাক্স ও’দাউদ। উদ্বোধনী জুটিতে ২২ রান যোগ করেন তারা।

এরপর ইনিংসের পঞ্চম ওভারে বাংলাদেশকে ব্রেক থ্রু এনে দেন তাসকিন। ১৬ বলে ১৮ রান করা লেভিটকে আউট করেন এই টাইগার পেসার। 

এরপর দলীয় ৩২ রানে ডাচ শিবিরে আঘাত হানেন আরেক পেসার তানজিম হাসান সাকিব। ১৬ বলে ১২ রান করা ম্যাক্স ও’দাউদকে আউট করেন সাকিব। এরপর সিব্রান্ড এঙ্গেলব্রেখটকে সঙ্গে নিয়ে রানের চাকা সচল রাখেন বিক্রমজিত সিং।

তবে দলীয় ৬৯ রানে ১৬ বলে ২৬ রান করে ফিরে যান বিক্রমজিত। তার বিদায়ের পর অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডসকে সঙ্গে নিয়ে রানরেটের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রান তুলতে থাকেন এঙ্গেলব্রেখট।

দলীয় ১১১ রানে এঙ্গেলব্রেখটকে আউট করে বাংলাদেশকে স্বস্তি দেন দেন রিশাদ হোসেন। ২২ বলে ৩৩ রান করে আউট হন এঙ্গেলব্রেখট। একই ওভারে বাস ডি লিডকে আউট করে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরান এই লেগ স্পিনার। 

এরপর দ্রুতই আরও দুই উইকেট তুলে নিয়ে হারিয়ে ডাচদের ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন রিশাদ ও মোস্তাফিজুর রহমান। 

শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৩৪ রান করতে সক্ষম হয় ডাচরা। বাংলাদেশের পক্ষে রিশাদ নেন ৩টি উইকেট। 


আরও খবর