Logo
শিরোনাম

কতটা বুঝে উঠতে পারি আমরা মানুষকে?

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৯ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ |
Image

শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী ঃ

 হয়তো আমাদের বোঝার মধ্যেই একটা অস্পষ্টতা থেকে যায়। এ অস্পষ্টতাই অনেক সময় মানুষকে মৃত্যু পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়। সময় এখানে একটা মহামূল্যবান উপাদান হিসেবে কাজ করে। সময়ের বোঝাটা সময়ে বুঝতে না পারাটাই ‘আমি অন্ধের দেশে চশমা বিক্রি করি’-এর মতো। ১৯৩১ সালের একটা ঘটনা মনে পড়ল।

কৌতুক অভিনেতা চার্লি চ্যাপলিন আইনস্টাইনকে আমন্ত্রণ জানান তার একটি শো দেখার জন্য। তখন চ্যাপলিনের ‘সিটি লাইটস্’ সিনেমার প্রদর্শনী চলছিল। শো-এর পরে তারা দুজন শহরের পথ ধরে হেঁটে যাচ্ছিলেন, তখন চ্যাপলিন আইনস্টাইনকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘সবাই আমাকে সহজেই বোঝে, এজন্যই আমার এত জনপ্রিয়তা। কিন্তু মানুষ আপনাকে কেন এত পছন্দ করে বুঝলাম না।’ আইনস্টাইন সহাস্যে জানালেন, ‘কেউ আমাকে সহজে বুঝতে পারে না বলেই আমার এ জনপ্রিয়তা।’

তাহলে মানুষ যাকে সহজে বোঝে আর যাকে বোঝে না, তারা দুজনই কি জনপ্রিয় হয়? বোঝা না বোঝার এ ঘোরের মধ্যেই মানুষকে বোঝার গভীর তত্ত্বটা অনেকটা এক টুকরো আলোর মতো ছড়িয়ে থাকে। মানুষের মধ্যে মহানুভবতা থাকলে সময় মানুষের মধ্যে বোধশক্তি তৈরি করে। কিন্তু মানুষের মধ্যে মহানুভবতা না থাকলে সময় তখন অপেক্ষা করে।

সে অপেক্ষা কতটা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হবে, তা অনেকটা অনিশ্চিত। কারণ সময় তখন নিজেকে আড়াল করে, নিরুদ্দেশ হয়। যাযাবর হয়। কেউ সময়ের এ রহস্যকে ভেদ করতে পারে না। তবে চার্লি চ্যাপলিন আইনস্টাইন-এর ‘কেউ আমাকে সহজে বুঝতে পারে না বলেই আমার এ জনপ্রিয়তা’ এ উত্তরটার ভেতরের অর্থ বুঝতে পেরেছিলেন। আত্মজীবনীতে তাই চ্যাপলিন লিখছেন, আইনস্টাইনকে তার ঘরোয়া ‘আলপাইন জার্মান’দের মতোই লেগেছিল। তবে চমৎকার অনুভূতিসম্পন্ন, হাসিখুশি আর বন্ধুত্বপূর্ণ ছিলেন আলবার্ট।

তিনি খুব শান্ত ও ভদ্র। তবে এসব ছাপিয়ে ফুটে উঠেছিল আইনস্টাইনের গভীর ও অনন্য সংবেদনশীল মনের পরিচয়। চ্যাপলিনের ধারণা, এ সংবেদনশীল মনই আইনস্টাইনের অনন্য সাধারণ পাণ্ডিত্যের আধার।

আইনস্টাইনের সংবেদনশীল মনের পাণ্ডিত্য সবার পক্ষে বুঝে উঠাটা হয়তো কঠিন ছিল; কিন্তু তিনি যে কিছু একটা করে পৃথিবীর চিন্তাধারা বদলে ফেলতে পেরেছেন, সেটি সাধারণ মানুষের মধ্যে একটা সহজাত কৌতূহল তৈরি করতে পেরেছিল। মানুষের এ কৌতূহল থেকে আইনস্টাইন মানুষের কাছে সাধারণ থেকে অসাধারণ মানুষে পরিণত হয়েছিলেন। সাধারণ মানুষ আইনস্টাইনের আপেক্ষিক তত্ত্বকে না বুঝলেও তার চিন্তার শক্তিকে বুঝতে পেরেছিল। যেটি সে সময় নীরবে, নিভৃতে আইনস্টাইনকে মানুষের কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছিল।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর আর রাজা রামমোহন রায় সে সময় সমাজ যা বিশ্বাস করত, তার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস দেখিয়েছেন। রাজা রামমোহন রায় যেমন ‘সতীদাহ প্রথা’ বন্ধের সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। অন্যদিকে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরও বাল্যবিবাহ ও কৌলীন্য প্রথা বন্ধে এবং বিধবা বিবাহ চালু করতে সমাজ সংস্কারের দৃঢ় প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করেছিলেন। সমাজ এগুলোকে সে সময় জীবনের অপরিহার্য অংশ ও নৈতিকতা বলে প্রচার করেছিল।

গতানুগতিক ধারার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে সে সময় ঈশ্বরচন্দ্র ও রাজা রামমোহন রায় সমাজের কাছে ভিলেন বলে পরিগণিত হলেও আজকের সময় ও সমাজ তাদের মহানায়কে পরিণত করেছে। সে সময়ের সমাজের পশ্চাৎপদ ধারণার মানুষদের কেউ মনে না রাখলেও ঈশ্বরচন্দ্র ও রাজা রামমোহন রায়কে সময় এখনো মনে রেখেছে। এটাই সময়ের ধর্ম।

ইতিবাচক দিকগুলো যতই পুরনো হোক না কেন, তাতে যদি মানবিক ধারণার নান্দনিকতা থাকে; তবে তার আলো কখনো নিভে যায় না। প্রযুক্তির আভিজাত্যের রঙ মেখে দারুণ এ সময়ে আমরা কতটুকু মানুষকে বোঝার চেষ্টা করেছি, কতটা করছি; সে বুঝতে পারার শক্তিটাই কেমন, যা ‘বোঝা’ হয়ে ঝুলে পড়েছে কোনো একটা আস্থাহীনতার জায়গায়! যাদের আমরা ভালো বলছি, তারাই হয়তো খারাপ। আবার যাদের আমরা খারাপ বলছি, তারাই হয়তো ভালো। এ এক গোলক ধাঁধা। সময়ের পরীক্ষা। যে পরীক্ষাটা সময় নেয়। উত্তরটাও সময় দেয়।

তবে সময়ের টমটম ঘোড়ায় চড়ে মানুষের সম্পর্কগুলো কেমন যেন অগোছালো, আলগা, ফসকা গেড়োর মতো হয়ে গেছে। মা, বাবা, ভাই, বোনের সম্পর্কগুলো কেমন যেন অচেনা হয়ে পড়েছে। আপন প্রাণের টানটায় কেমন যেন ঘুণে ধরেছে। মরিচা পড়েছে। সময়টা কি তবে অচেনা হয়ে গেল! মায়া-মমতা সব নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল! সেই পুরনো দিনের সম্পর্কের মখমলটা বিবর্ণ সুতার রক্তে যেন পচে গেছে। মা ছুটছে হাই সোসাইটিতে নিজের বড়ত্বের প্রমাণ দিতে; বাবা ছুটছে অবৈধ টাকার পিছনে।

অনৈতিকতাকে নৈতিক বানানোর রঙ-রূপ-রসে ছেলেমেয়েরা উচ্ছন্নে গেছে। মাদক আর ভোগবাদী দুনিয়াতে তারা ডুব দিয়েছে। না আছে মন, না আছে মানবিকতা, না আছে জীবনবোধ। সব মিছে খেলা হয়ে কাদামাটিতে গড়াগড়ি খাচ্ছে। বন্ধুতে-বন্ধুতেও আর চাকচিক্য নেই, আছে স্বার্থের রুগ্ন দেহ। লোভ, কামনা, বাসনা। বন্ধুর মধ্যে আর সেই মায়ার বন্ধন নেই, জাদুকরী চিন্তার শক্তি নেই। সবাই কাঁচা পয়সার তেলেসমাতিতে বেসামাল হয়ে দড়ি টানাটানির প্রতিযোগিতায় নেমেছে। মানুষের ভেতর এখন আর কিছু নেই।

আছে কেবল অস্তিত্বহীন কিছু হাড় ও কংকাল। তবুও জীবন, তবুও সময় কখনো ভুল করে না। সময় সময়ের মতো করে জেগে উঠে। যেমন সময় কখনো ডানা মেলে উড়াল দেয়, আবার কখনো ডানাটা খুলে নেমে আসে মাটির পৃথিবীতে। সময়কে মানুষ যদি বুঝতে পারে, মানুষও সময়কে তখন বুঝে; যা একদিন বাস্তব হয়ে স্বপ্নের সময় হয়। সময়ের পরীক্ষাটা খুব কঠিন বরফের মতো। কখনো এটা পানি, কখনো জলীয়বাষ্প, আবার কখনো বরফ। কখনো গন্তব্যহীন।

রোমান সম্রাট নিরোর কথা মনে পড়ছে। নিরোকে নিয়ে সবচেয়ে প্রচলিত কথাটি হলো-রোম যখন পুড়ছিল, নিরো তখন বাঁশি বাজাচ্ছিল। এটা সত্য না মিথ্যা ছিল, সে বিচারের ভার সময়ের হাতে। কারণ সময় সর্বদাই বেঁচে থাকে, কিন্তু মানুষ সময়ের গর্ভে হারিয়ে যায়। রোমান সম্রাট নিরো ইতিহাসের সবচেয়ে নির্মম ও পাগলাটে ধাঁচের শাসক ছিলেন। কথিত আছে, নিরোর মা নিরোকে ক্ষমতায় বসালেও তিনি তার মাকে হত্যা করেন। ক্ষমতার উন্মুক্ততায় নিরোর হত্যার শিকার হয়েছেন তার সৎভাই ও স্ত্রীরা।

বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ওপর তার দমন-পীড়নের কাহিনী এখনো মানুষের মুখে মুখে। একটা আবেগতাড়িত শিল্পমনস্কতা তার মধ্যে বিদ্যমান ছিল। নিরো থিয়েটার করতে খুব পছন্দ করতেন। তিনি বীণা জাতীয় বিশেষ একটি বাদ্যযন্ত্র বাজাতেন, গান গাইতেন, কবিতা লিখতেন এবং মঞ্চে অভিনয়ও করতেন। সম্রাট নিরোর শাসনকালের প্রথম পাঁচ বছর তার জনপ্রিয়তা ছিল ঈর্ষণীয়। এ সময়টা রোমান জনগণের জন্য ‘স্বর্ণযুগ’ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। সময় তাকে মানুষের রাজা বানিয়েছিল। সময়ের ভয়ংকর নিষ্ঠুরতা আবার তাকে পথের মাটিতে ছুড়ে মেরেছে। এটা তো সময়ের খেলা, সময়ের নাটক। সেনাবাহিনী ও সিনেট তাকে ‘জনগণের শত্রু’ হিসেবে ঘোষণা করে। নিরোকে যেখানেই পাওয়া যাবে, সেখানেই তাকে হত্যা করার আদেশ জারি হয়। বিশাল রাজপ্রাসাদে থাকা সম্রাট নিরো গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে পালিয়ে বেড়াতে থাকেন। কিন্তু সেটা আর কতক্ষণ? রক্ষীরা তার গন্তব্যের খোঁজ পেয়ে যখন অগ্রসর হচ্ছিল, তখন তিনি আত্মহত্যা করেন।


মৃত্যুর আগে তিনি ‘কোয়ালিস আর্টিফেক্স পেরেও’ বলে চিৎকার করছিলেন। কী অদ্ভুত! সময় যেটা তাকে উচ্চারণ করতে প্ররোচিত করেছিল, সেটার অর্থ ছিল বহুমাত্রিক। তবে এর মধ্যে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য অর্থ হিসেবে যা বিবেচনা করা হয়, তা হলো- ‘আমার মৃত্যুর সময়ে আমি কী দারুণ এক শিল্পী’, ‘আমার সঙ্গে কী এক শিল্পীর মৃত্যু হচ্ছে’ অথবা ‘আমি একজন বণিকের মতো মারা যাচ্ছি।’ কী বিচিত্র সময়ের রং বদলানোর জাদু; যার অস্থিমজ্জার পচনশীলতায় মানুষ একসময় পচে যায়। কখনো সময়ের সম্মোহনী জাদুতে মানুষ প্রাণশক্তি ফিরে পায়।


আরও খবর



ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের প্রতিবাদে মধ্যরাতে মহাসড়ক অবরোধ

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ৩০ আগস্ট ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ |
Image

আশুলিয়ায় ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের প্রতিবাদে আবারও নবীনগর-চন্দ্রা সড়ক চার ঘন্টা অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে স্থানীয়রা। এসময় সড়কের দুপাশে দেখা দেয় তীব্র যানজট। পরে পুলিশ ও জনপ্রতিনিধির দেওয়া আশ্বাসের পর সড়ক থেকে সরে যায় তারা।

সোমবার রাত নয়টার দিকে একটি মোটরসাইকেল আরোহীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন ডাকাতরা। এর আগে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার একইভাবে ডাকাত চক্ররা আরও দুই মোটরসাইকেল আরোহীকে অপহরণ করে জঙ্গলে নিয়ে নির্যাতন করে সর্বস্ব কেড়ে নেয়। শুধু এ কয়েক দিনই নয় প্রতিনিয়ত এমন ঘটনাই ঘটছে। এমন ঘটনা বন্ধের দাবিতে রাতে স্থানীয়রা নবীনগর-চন্দ্রা সড়কে নেমে বিক্ষোভ করেন।

পরে সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে বিক্ষোভকারীদের সড়ক থেকে সড়াতে চেষ্টা করেন। কিন্তু সড়ক পথে বাতি ও সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখে স্থানীয়রা।

নাম প্রকাশ না করার অনুরোধে একাধিক ব্যাক্তি অভিযোগ করে বলেন, স্থানটিতে অনেক নারীর সম্ভ্রম হারাতে হয়েছে। এক সদস্যকে স্থানীয়রা আটক করে গণপিটুনি দিলে মামলার ভয় দেখিয়ে উল্টো পুলিশ কয়েকজনের কাজ থেকে জরিমানা আদায় করেন।
এদিকে চার ঘণ্টা সড়ক অবরোধ থাকায় নবীনগর-চন্দ্রা সড়কের দুই পাশে প্রায় ১০ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন সড়কে চলাচলরত যাত্রীরা।


আরও খবর

পঞ্চগড়ে নৌকা ডুবে ২৪ জন নিহত

রবিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২

এবার ৩২ হাজার মণ্ডপে দুর্গাপূজা

রবিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২




মোরেলগঞ্জে বিএনপির ৪৪ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০১ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ |
Image

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৪ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে।  দিবসটি উপলক্ষে বুধবার বেলা সাড়ে ৭টার দিকে বিএনপি নেতা কাজী খায়রুজ্জামান শিপন এর বাসভবনে কেক কাটা, মিষ্টি বিতরণ ও আলোচনা সভার আয়োজন করেন উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতাকর্মীরা। উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহিদুল হক বাবুল এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। 

বিএনপি নেতা গিয়াস উদ্দিন তালুকদার, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শিকদার ফরিদুল ইসলাম, মহিদলা দলের সভানেত্রী হ্যাপি আক্তার, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা খানমসহ শ্রমিকদল, যুবদল, ছাত্রদল, কৃষকদলের নেতাকর্মীরা এ অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহন করেন। ##


আরও খবর



রোহিঙ্গাদের কারণে অর্থনীতিতে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে

প্রকাশিত:সোমবার ১২ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ |
Image

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত ১২ লাখ নাগরিককে দীর্ঘসময় আশ্রয় দেওয়ার কারণে বাংলাদেশের নিরাপত্তা,শান্তি,অর্থনীতি,সামাজিক,রাজনৈতিক ও প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। তাদের দ্রুত মিয়ানমারে ফেরত না পাঠাতে পারলে দেশ অনিরাপদ হয়ে উঠবে।

সোমবার ঢাকার হোটেল রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনে ৪৬তম ইন্দো-প্যাসিফিক আর্মিস ম্যানেজমেন্ট সেমিনারে (আইপিএএমএস) অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন সরকার প্রধান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন,মিয়ানমারের নাগরিকদের দীর্ঘদিনের অবস্থানের কারণে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও নিরাপত্তাসহ সব ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে। তাদের দ্রুত মিয়ানমারে ফেরত না পাঠাতে পারলে দেশ অনিরাপদ হয়ে ওঠবে। আমরা শান্তি ও জনগণের ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করি। শান্তিরক্ষা আমাদের সাংবিধানিক অঙ্গীকার। তাই আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। মিয়ানমারকে অনুরোধ করছি রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে।

সরকার প্রধান বলেন,বর্তমান বিশ্বে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ইস্যু। বাংলাদেশ বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেই কাজ করতে চায়। সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয় বাংলাদেশ এই নীতিতে বিশ্বাস করে। আইপিএএমএস একটি বহুজাতিক প্ল্যাটফর্ম যা বন্ধুত্ব এবং উষ্ণতার অনুভূতি তৈরি করতে পারে যাতে এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিরাজ করে। আইপিএএমএস সব সময় ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বন্ধুত্ব বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

যেকোনো দেশের সেনাবাহিনী সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করার অন্যতম উপাদান উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে জন্ম নেওয়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সময়ের সঙ্গে উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নতি করেছে। শান্তি কার্যক্রমে অবদানের জন্য বাংলাদেশ আজ বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত। বাংলাদেশ এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সাফল্যের জন্য একটি ডেভেলপমেন্ট মিরাকাল হিসাবে স্বীকৃত। বিশেষ করে দারিদ্র্য হ্রাস, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে লিঙ্গ সমতা, শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার হ্রাস, লিঙ্গ সমতার ক্ষেত্রে।

সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ বলেন, যে সংকটই আসুক, একসঙ্গে কাজ করলে তা মোকাবিলা করা যাবে। এসময় তিনি একসঙ্গে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।


আরও খবর

পঞ্চগড়ে নৌকা ডুবে ২৪ জন নিহত

রবিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২

এবার ৩২ হাজার মণ্ডপে দুর্গাপূজা

রবিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২




জনগণের শক্তি দিয়ে আওয়ামীগের পতন ধরাবো’

প্রকাশিত:বুধবার ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ |
Image

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি ঃ

কেন্দ্রিয় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন জনগণের শক্তি দিয়ে আওয়ামী লীগের পতন ধরাবো। আগামীতে সুষ্ঠ নির্বাচন হলে আওয়ামীলীগের এমপি-মন্ত্রী কারোর জামানত থাকবে না। আওয়ামীলীগ জনগণের আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। মানুষের কাছে দাঁড়ানোর অবস্থা তাদের নেই। তিনি বলেন, দেশের লাখ লাখ মানুষ তাদেরন ভোটের অধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার ফেরত পেতে রাস্তায় নেমেছে। সফল না হওয়া পর্যন্ত রাস্তায় থাকবে। তিনি দাবী করেন সরকার এখন জনবিচ্ছিন্ন। দেশের বাধ ভেঙ্গে গেছে। হামলা- মামলা দিয়ে বাঁধ রক্ষা করতে পারবেনা আওয়ামীলীগ সরকার।তিনি বলেন বাজারের পণ্যকে আওয়ামীলীগ রাজনৈতিক পণ্য হিসেবে পরিণত করেছে। সরকার তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎসহ সব জিনিসপত্রের মূল্য বৃদ্ধি করে মূলত তাদের দলীয় লোকজন কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরো বলেন, বিএনপি নেতাকর্মীদের উপর ও তাদের বাসা বাড়িতে হামলা- মামলা দিয়ে তাদের থামানো যাবেনা। আওয়ামী সন্ত্রাসী কর্তৃক লক্ষ্মীপুরে কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও জেলা বিএনপির আহবায়ক শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাহাবুদ্দিন সাবুর বাসায় হামলা নতুন কোন ঘটনা নয়। আওয়ামী সন্ত্রাসীরা সারাদেশে গুম খুন ও হামলা মামলা দিয়ে বিএনপির আন্দোলনকে পুলিশ বাহিনী দিয়ে দমন করতে চেয়েছে। মানুষ গণতন্তের জন্য,বাক সাধীনতা রাস্তা গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও মুক্তির জন্য রাস্তায় নেমেছে। সৈরাচারী সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত জনগণকে নিয়ে আন্দোলন চলবে। আওয়ামী লীগের পতন না হওয়া পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরবো না।

মঙ্গলবার বিকালে বশির উল্যাহ্ চৌধুরীর হাউজিং এলাকায় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।  

তিনি আরো বলেন,বিএনপি জনগণকে সাথে নিয়ে আন্দোলন করছে। প্রেসিডিয়েন্ট শহীদ জিয়াউর রহমান  বলেন,জনগণই সকল  ক্ষমতার উৎস। তাই জনগণের সরকার প্রতিষ্টার জন্য বিএনপিসহ অন্যান্যদল যুগপথ আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি আওয়ামী লীগের আকাম কুকাম করা ছাড়া আর কোন পথ নেই। রাজনৈতিক দল হিসেবে এখন দেওলিয়া। জনগণের উপর তাদের কোন আস্থা নেই। তারা কিছু সংখ্যক দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ী কতিপয় পুলিশ অফিসার সকারি কর্মকর্তা র‌্যাব কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিয়ে দেশ চালাচ্ছেন। তারা এখন জন বিচ্ছিন্ন। 

 জেলা বিএনপির আহবায়ক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, কেন্দ্রিয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুবের রহমান শামীম, বিএনপির মিডিয়া সেলের আহবায়ক জহির উদ্দিন স্বপন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন অর রশিদ, সহ-বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক এবি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান, নিবার্হী সদস্য নাজিম উদ্দিন আহমেদ,জেলা কমিটির সদস্য সচিব শাহাব উদ্দিন সাবু, যুগ্ন আহবায়ক এ্যাড: হাছিবুর রহমান প্রমুখ। 

এছাড়া স্থানীয় ছাত্রদল,যুবলদল ও বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


আরও খবর



সিদ্ধিরগঞ্জে একই পরিবারের চার জনের ইসলাম ধর্ম গ্রহণ

প্রকাশিত:শুক্রবার ০২ সেপ্টেম্বর 2০২2 | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ |
Image

ইসলাম ধর্মের আচার অনুষ্ঠান ও ধর্মীয় বিধি বিধান নিয়ম কানুন ভালো লাগা এবং ইসলাম শান্তির ধর্ম, আর এ ধর্মে রয়েছে মানুষের জন্য কল্যাণকর জীবনব্যবস্থা এমন আত্ম-উপলব্ধি থেকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে একই পরিবারের চার জন হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। 

কোর্ট হলফনামার মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তারা শুক্রবার (২ আগস্ট) সিদ্ধিরগঞ্জের জেলেপাড়া পুল সংলগ্ন হজরত শাহজালাল (রহঃ) জামে মসজিদের খতিব আলহাজ্ব হাফেজ মাওলানা কামরুজ্জামান নকশাবন্দীর হাতে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে জুম্মা নামাজের পূর্বে কলেমা পড়েন। 

জানাগেছে, সুবল চন্দ্র দাস ইসলাম ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে কোর্ট হলফনামার মাধ্যমে স্বপরিবারে নাম পরিবর্তন করে মো. রফিকুল আলম, স্ত্রী লক্ষী রানী দাস এর স্থলে মরিয়ম বেগম, মেয়ে অরদ্ধা দাস এর স্থলে আয়েশা আক্তার ও ছেলে  লিয়ন দাস এর স্থলে মো. বায়েজিদ নাম রেখে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। 

মো. রফিকুল আলম বলেন, ইসলাম হলো শান্তির বাণী। ইসলাম রয়েছে আল্লাহর অনেক রহমত। তাই আমি হিন্দু থেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছি। পাশাপাশি আমার সাথে ও আমার পরিবারের সদস্যরাও ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। সকলের নিকট সহযোগিতা কামনা করছি।


আরও খবর