Logo
শিরোনাম

পাঁচ জেলায় সড়ক দুঘটনায় ১২ জনের মৃত্যু

প্রকাশিত:শনিবার ০৪ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৩ জুন ২০২৪ |

Image

দেশের পাঁচ জেলায় ছয় ঘণ্টার ব্যবধানে সড়ক দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো বেশ কয়েকজন। শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটা থেকে শনিবার সকাল সাড়ে আটটার মধ্যে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মারা গেছেন মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার দুর্ঘটনায়। রাত আড়াইটার দিকের ওই দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে একই পরিবারের তিনজনের। এছাড়া গাজীপুরের শ্রীপুরে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে দুই নির্মাণ শ্রমিক, নওগাঁর আত্রাইয়ে ইটভাঙা মেশিনের চাপায় এক এনজিও কর্মী ও নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে ৪ জন নিহত হয়েছেন। বিস্তারিত প্রতিদিনের সংবাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে।

মুন্সীগঞ্জ: মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে লরিচাপায় একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও দুইজন।

শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার বাউশিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- আলমগীর, তার ছেলে জহির এবং আলমগীরের মামি রাহেলা বেগম। তাদের বাড়ি চাঁদপুরে। দুর্ঘটনায় আহত দুইজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাজীব খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গাজীপুর: শনিবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে জেলার শ্রীপুর উপজেলায় ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে দুই নির্মাণ শ্রমিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১১ শ্রমিক।

শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. কুদ্দুস দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহতরা হলেন- সুনামগঞ্জের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে রাসেল মিয়া (২৫), আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ের স্বামী আবু সুফিয়ান (২৫)।

শ্রীপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার বেলাল আহমেদ জানান, একটি পিকআপে করে মিক্সার মেশিন নিয়ে ১৩ শ্রমিক ঢালাইয়ের কাজ করতে শ্রীপুর থেকে মাওনা যাচ্ছিলেন। ভোর সাড়ে ৪টার দিকে পিকআপটি শ্রীপুর-মাওনা আঞ্চলিক সড়কের ভাংনাহাটি কাউন্সিলরের বাড়ির সামনে পৌঁছলে পেছন থেকে একটি ড্রাম্প ট্রাক সেটিকে ধাক্কা দেয়। এতে পিকআপটি উল্টে গেলে মিক্সার মেশিনের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই রাসেল মিয়া নিহত হন। আহত হন ১২ জন। তাদের উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আবু সুফিয়ানকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অন্যদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

এসআই মো. কুদ্দুস জানান, দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি জব্দ করা হলেও এর চালক পালিয়ে গেছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নওগাঁ: শনিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে নওগাঁর আত্রাইয়ে ইটভাঙা মেশিনের চাপায় সঞ্জয় কুমার নামে সিএনজিচালিত অটোরিকশার এক যাত্রী নিহত হয়েছেন। তিনি এনজিও কর্মী। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। উপজেলার সাহাগোলা-শিমুলিয়া রাস্তার রেলক্রসিংয়ে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।

নিহত সঞ্জয় আত্রাইয়ের আইডিএফ এনজিওতে ফিল্ড অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি রাজশাহী বাঘা উপজেলায়।

নিহত সঞ্জয় কুমারের সহকর্মী শামীম জানান, সঞ্জয় কুমার আইডিএফ এনজিওর আত্রাই শাখায় ফিল্ড অফিসার হিসেবে কাজ করতেন। সকালে বাড়ি থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে অফিসে যাচ্ছিলেন। এ সময় ওভারটেক করার সময় একই দিক থেকে আসা একটি ইটভাঙার মেশিন অটোরিকশাটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যায়। আহত হন আরও কয়েকজন।

আত্রাই থানার ওসি জহুরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

নোয়াখালী : নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে ৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন লক্ষীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ থানার লতিফপুর গ্রামের মো. রহমত উল্যাহ ভূঁইয়া (৬৫), সেনাসদস্য ফজলুল করিম (৫০) ও লক্ষ্মীপুরের আমানিয়া গ্রামের মো. আলাউদ্দিন (৪৫) । এ ছাড়া আরও একজনের পরিচয় জানা যায়নি।

শনিবার (৪ মে) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ পূর্ব বাজার এলাকার লক্ষ্মীপুর টু নোয়াখালী সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন চন্দ্রগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন। তিনি বলেন, ভোর সাড়ে ৫টার দিকে একটি যাত্রীবাহী সিএনজি লক্ষ্মীপুর থেকে বেগমগঞ্জের দিকে যাওয়ার সময় বেগমগঞ্জের চন্দ্রগঞ্জ পূর্ব এলাকায় পৌঁছালে ট্রাক ও যাত্রীবাহী সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় সড়ক থেকে ১৫ ফিট নিচে ট্রাক ও সিএনজি খালে পড়ে যায়। এতে সিএনজি চালকসহ ৪ জন নিহত হয়।

মাদারীপুর :মাদারীপুরের রাজৈরে বদরপাশা এলাকায় গাছ বোঝাই ট্রাক আর ইজিবাইকের সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন এঘটনায় আরো জন গুরুতর আহত হয়েছেন সকাল ৯টার দিকে কাঠায়িলা বিজ্রের পাশে দুর্ঘটনা ঘটে নিহতরা হলেন হোসেন মুন্সী এবং ধলু হাওলাদার । স্থানীয়রা জানান, নিহতরা ইজিবাইকে করে রাজৈর যাচ্ছিলেন এসময় উল্টোদিক থেকে আসা গাছ বোঝাই একটি ট্রাকের সাথে সংঘর্ষ হয়


আরও খবর



ওয়াকার-উজ-জামান নতুন সেনাপ্রধান

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১১ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৩ জুন ২০২৪ |

Image

সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

মঙ্গলবার (১১ জুন) আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

এতে জানা যায়, আগামী ২৩ জুন থেকে বিএ-২৯০২ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানকে (ওএসপি, এসজিপি, পিএসসি, চিফ অব জেনারেল স্টাফ-সিজিএস) জেনারেল পদবিতে পদোন্নতি দিয়ে ওই দিন থেকে আগামী তিন বছরের জন্য সেনাবাহিনী প্রধান পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষা বাহিনীগুলোর প্রধানদের (নিয়োগ, বেতন, ভাতা এবং অন্যান্য সুবিধা) আইন, ২০১৮ অনুযায়ী তিনি বেতনভাতা পাবেন।

১৮তম সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।


আরও খবর



ঈদযাত্রার প্রথম দিনে ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়

প্রকাশিত:বুধবার ১২ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৩ জুন ২০২৪ |

Image



সদরুল আইন:


শুরু হয়েছে ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে অগ্রিম টিকিটে ট্রেনযাত্রা। তবে, প্রথম দিনেই ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বিলম্ব ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করা।


 কাঙ্ক্ষিত ট্রেন পেতে যাত্রীদের এক থেকে আড়াই ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। আর স্টেশন থেকে বলা হচ্ছে, ঈদের সময় এই বিলম্ব স্বাভাবিক।



আজ বুধবার (১২ জুন) কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। সকালে ঢাকার কমলাপুর স্টেশন থেকে সিলেটগামী পারাবাত এক্সপ্রেসের ছাড়ার কথা ছিল ভোর ৬টা ৩০ মিনিটে। 


সেই ট্রেন ২ ঘণ্টা বিলম্বে ছেড়েছে সকাল ৮টা ৩৩ মিনিটে। সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে যাওয়ার কথা কিশোরগঞ্জের এগারো সিন্ধু প্রভাতীর। ট্রেনটি ৯টা ২৫ মিনিটে স্টেশন ছাড়ে। 


এ ছাড়া ৮টা ১৫ মিনিটের মোহনগঞ্জগামী মহুয়া এক্সপ্রেস স্টেশন ছেড়েছে বেলা ১১টার কিছু পর।



ঈদ উপলক্ষে পরিবার নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে বাড়ি যেতে কিশোরগঞ্জগামী এগারো সিন্ধু প্রভাতীর টিকিট কেটেছিলেন রফিকুল ইসলাম। ছেলে-মেয়ে ও মাকে নিয়ে কমলাপুর স্টেশনে যান ট্রেন ছাড়ার নির্দিষ্ট সময় আগেই। তবে দুই ঘণ্টা পার হলেও ট্রেন কমলাপুর ছাড়েনি।


রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ট্রেনের জন্য যদি অপেক্ষা করতেই হয়। তাহলে আর স্বাচ্ছন্দ্যে বাড়ি যাওয়া হলো কোথায়? আগে ট্রেনের টিকিট কেটেই কী লাভ হলো? সেই দুর্ভোগই পোহাতে হচ্ছে। গরমে ছেলে-মেয়ে আর মা কষ্ট পাচ্ছেন।’


মোহনগঞ্জগামী সালমা আক্তারও জানালেন ট্রেনযাত্রার ভোগান্তির কথা। তিনি বলেন, ‘স্টেশনে খুব একটা ভিড় নেই। ঈদের প্রথম ট্রেন। এরপরও কেন এমন শিডিউল বিপর্যয়।’ ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এর চেয়ে বাসে যাওয়াই ভালো ছিল।’


তবে কমলাপুরের স্টেশন মাস্টারের দাবি, অধিকাংশ ট্রেন সময় অনুযায়ী ছেড়েছে। স্টেশন মাস্টার মোহাম্মদ মাসুদ সারওয়ার বলেন, ঈদের এ সময়টায় একঘণ্টা বা তারও বেশি দেরি স্বাভাবিক হিসেবেই দেখতে হবে।


 তবে আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) থেকে যেন ট্রেন সময়মতো ছেড়ে যায় সে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।



আরও খবর



চোখের যত্নে অপ্টোমেট্রিস্টদের ভূমিকা

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৪ মে 20২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৩ জুন ২০২৪ |

Image

চোখ আমাদের শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল অঙ্গগুলির একটি। চোখের সঠিক যত্ন পরিচর্যা করা আমাদের দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করে। এই ক্ষেত্রে অপ্টোমেট্রিস্টদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমান সময়ে মানুষের জীবনযাত্রা কাজের ধরন পরিবর্তিত হওয়ায় চোখের যত্নের প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে। দীর্ঘ সময় কম্পিউটার, মোবাইল টেলিভিশনের সামনে কাটানোর ফলে চোখের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে অপ্টোমেট্রিস্টদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

অপ্টোমেট্রিস্ট হলেন প্রাথমিক চোখের চিকিৎসক, যারা চোখের রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা এবং ব্যবস্থাপনার কাজে নিযুক্ত থাকেন। তারা চোখের বিভিন্ন সমস্যা যেমন মায়োপিয়া (দূরদৃষ্টি সমস্যা), হাইপারোপিয়া (কাছের দৃষ্টি সমস্যা), অ্যাসটিগমাটিজম এবং প্রেসবায়োপিয়ার মত সমস্যাগুলি চিহ্নিত করে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ প্রদান করে থাকেন।

অপ্টোমেট্রিস্টদের প্রধান কাজ হল চোখের পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা করা এবং রোগ নির্ণয় করা। এই পরীক্ষার মাধ্যমে তারা রোগীর চোখের সামগ্রিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে ধারণা পান। এছাড়াও, অপ্টোমেট্রিস্টরা চোখের গ্লুকোমা, ক্যাটারাক্ট এবং ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথির মতো জটিল রোগগুলি সনাক্ত করতে সাহায্য করে।

একটি নিয়মিত চোখের পরীক্ষা করার মাধ্যমে অপ্টোমেট্রিস্টরা চোখের সমস্যাগুলি প্রাথমিক অবস্থায় শনাক্ত করতে সক্ষম হন। এর ফলে সময়মতো চিকিৎসা শুরু করা যায় এবং দৃষ্টিশক্তি ক্ষতির ঝুঁকি কমে যায়। অপ্টোমেট্রিস্টরা রোগীদের সঠিক চশমা বা কন্টাক্ট লেন্স নির্বাচনেও সাহায্য করে, যা দৈনন্দিন জীবনে স্পষ্ট দৃষ্টি নিশ্চিত করে।

বর্তমান সময়ে, ডিজিটাল স্ক্রিনের অতিরিক্ত ব্যবহার এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনের কারণে চোখের সমস্যার হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই সমস্যাগুলির সমাধানে অপ্টোমেট্রিস্টদের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তারা রোগীদের সঠিক পরামর্শ প্রদান করে, যেমন প্রতি ২০ মিনিট পর পর ২০ সেকেন্ডের জন্য ২০ ফুট দূরের কোন বস্তু দেখার পরামর্শ দেন (২০-২০-২০ নিয়ম), যা চোখের ক্লান্তি কমাতে সাহায্য করে।

অপ্টোমেট্রিস্টরা শিশুদের চোখের যত্নেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে। শৈশব থেকেই নিয়মিত চোখের পরীক্ষা করার মাধ্যমে শিশুরা সুস্থ দৃষ্টিশক্তি নিয়ে বড় হতে পারে। এছাড়া, তারা শিশুদের চোখের সমস্যা সম্পর্কে অভিভাবকদের সচেতন করেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পরামর্শ দেন।

সাধারণ মানুষের চোখের যত্নে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণ নিশ্চিত করতে অপ্টোমেট্রিস্টদের ভূমিকা অপরিহার্য। তাদের দক্ষতা এবং পেশাদারিত্বের মাধ্যমে আমাদের চোখের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখা সম্ভব। অতএব, নিয়মিত চোখের পরীক্ষা করা এবং অপ্টোমেট্রিস্টদের পরামর্শ অনুযায়ী চলা প্রত্যেকের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমান যুগে চোখের যত্ন সুরক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশে চোখের যত্নের ক্ষেত্রে অপ্টোমেট্রিস্টদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অপ্টোমেট্রিস্টরা চোখের স্বাস্থ্য দর্শন সংক্রান্ত সমস্যাগুলি নির্ধারণ চিকিৎসায় বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত।

অপ্টোমেট্রিস্টদের কাজ দায়িত্ব

অপ্টোমেট্রিস্টরা মূলত চোখের পরীক্ষা সঠিক চশমা বা কনট্যাক্ট লেন্স নির্ধারণ করে থাকেন। তাঁরা চোখের সাধারণ জটিল সমস্যা শনাক্ত করতে পারেন এবং সেই অনুযায়ী চিকিৎসা পরামর্শ দিয়ে থাকেন। সাধারণ চোখের সমস্যা যেমন মায়োপিয়া (নিকট দৃষ্টি), হাইপারোপিয়া (দূর দৃষ্টি), অ্যাস্টিগমাটিজম এবং প্রেসবায়োপিয়া সনাক্ত করা তাদের চিকিৎসা করা তাঁদের কাজের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া, অপ্টোমেট্রিস্টরা চোখের রোগ যেমন গ্লুকোমা, ক্যাটারাক্ট, এবং ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথির মতো গুরুতর সমস্যাগুলিও শনাক্ত করতে সক্ষম।

বাংলাদেশে অপ্টোমেট্রিস্টদের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হলেও, তাদের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। দেশের অধিকাংশ মানুষ এখনও চোখের যত্ন সম্পর্কে সঠিক ধারণা রাখে না। প্রাথমিক পর্যায়ে চোখের সমস্যা চিহ্নিত চিকিৎসা করা না হলে তা ভবিষ্যতে জটিল আকার ধারণ করতে পারে।

বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে চোখের যত্নের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। এইসব অঞ্চলে অপ্টোমেট্রিস্টদের উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গ্রামের মানুষদের মাঝে চোখের যত্ন রোগ নির্ণয়ের বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে তারা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করতে পারেন। এছাড়া, বিভিন্ন স্কুল কলেজে নিয়মিত চোখের পরীক্ষা সচেতনতা কর্মসূচি পরিচালনা করা অপ্টোমেট্রিস্টদের দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিত।

বাংলাদেশে অপ্টোমেট্রিস্টদের প্রয়োজনীয়তা:

বাংলাদেশে চোখের সমস্যায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ক্রমবর্ধমান। শহরাঞ্চল থেকে গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত প্রায় সব জায়গাতেই চোখের চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছে। বিশেষ করে বয়স্কদের মধ্যে ক্যাটারাক্ট গ্লুকোমা রোগের প্রকোপ বেশি দেখা যায়। এছাড়া, শিশুদের মধ্যে রঙের দৃষ্টি সমস্যা এবং অন্যান্য চোখের সমস্যা নির্ধারণ করতেও অপ্টোমেট্রিস্টদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

চোখের যত্নে সচেতনতা বৃদ্ধি:

অপ্টোমেট্রিস্টদের এক অন্যতম ভূমিকা হল চোখের যত্ন সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা। তাঁরা নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করার গুরুত্ব, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, এবং চোখের ব্যায়ামের উপকারিতা সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে কাজ করে থাকেন। অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় চোখের ক্লান্তি চোখের সমস্যাগুলি সঠিক তথ্য সচেতনতার অভাবে আরও জটিল হয়ে যায়।

প্রযুক্তির ব্যবহার:

বাংলাদেশে অপ্টোমেট্রিস্টরা অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি প্রযুক্তি ব্যবহার করে চোখ পরীক্ষা করে থাকেন। ডিজিটাল রেটিনাল ফটোগ্রাফি, অপটিক্যাল কোহেরেন্স টোমোগ্রাফি (OCT), এবং অটোমেটেড রিফ্রাকশন সিস্টেমের মাধ্যমে তাঁরা আরও নির্ভুলভাবে রোগ নির্ণয় করতে সক্ষম।

অপ্টোমেট্রিস্টদের শিক্ষা প্রশিক্ষণ:

বাংলাদেশে অপ্টোমেট্রিস্টদের যথাযথ শিক্ষা প্রশিক্ষণের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে পেশাদার অপ্টোমেট্রিস্টরা প্রশিক্ষিত হয়ে বেরিয়ে আসেন এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে সেবা প্রদান করেন।

অপ্টোমেট্রিস্টদের অবদান কর্মক্ষেত্রের গুরুত্ব শুধু শহরাঞ্চলে সীমাবদ্ধ নয়। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছেও চোখের সেবা পৌঁছে দিতে তাঁদের ভূমিকা অপরিসীম। বাংলাদেশের চোখের যত্ন সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অপ্টোমেট্রিস্টদের এই কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হওয়া উচিত।

অপ্টোমেট্রিস্টদের এই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সেবা আমাদের চোখের সুস্থতা সুরক্ষায় নতুন দিগন্তের উন্মোচন করছে, যা আমাদের সমাজের স্বাস্থ্যক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনছে।

বাংলাদেশে চোখের যত্ন অপ্টোমেট্রিস্টদের ভূমিকা আরও সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে সরকার বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে। স্বাস্থ্যসেবা খাতে অপ্টোমেট্রিস্টদের আরও অন্তর্ভুক্ত করা, তাদের প্রশিক্ষণ উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন কর্মশালা সেমিনারের আয়োজন করা হচ্ছে।

অপ্টোমেট্রিস্টদের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে চোখের যত্ন সেবা পৌঁছানো সম্ভব হবে। এতে সাধারণ মানুষের চোখের সমস্যা নিরাময় এবং চোখের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

চোখের যত্ন অপ্টোমেট্রিস্টদের ভূমিকা বাংলাদেশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের সেবার মাধ্যমে চোখের সমস্যা নিরাময় এবং প্রতিরোধে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সম্ভব। সঠিক পরিকল্পনা উদ্যোগের মাধ্যমে চোখের যত্নের সেবা আরও সম্প্রসারিত করা সম্ভব হবে এবং দেশের মানুষদের সুস্থ দৃষ্টিশক্তি নিশ্চিত করা যাবে।


লেখক : ডক্টর মহাম্মদ মিজানুর রহমান :

 অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসরম্যানেজমেন্ট এন্ড সাইন্স ইউনিভার্সিটি , মালয়শিয়া


আরও খবর



নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবেশিত হলো নাটক ‘দ্যা স্লেভ'

প্রকাশিত:বুধবার ০৫ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৩ জুন ২০২৪ |

Image

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি :

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবেশিত হলো হ্যারিয়েট বিচার স্টো-এর বিখ্যাত উপন্যাস আঙ্কেল থমস্ কেবিন  অবলম্বনে নাটক 'দ্যা স্লেভ'। আজ (০৪ জুন) রাত ৮:৩০ মিনিটে কলা ও বিজ্ঞান ভবনের সামনে নাটকটি পরিবেশিত হয়। 

নাটকটির পরিকল্পনা ও নির্দেশনা করেছেন থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ মাজহারুল হোসেন তোকদার । বিভাগের ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের অভিনয় অনুশীলন পরীক্ষার জন্য নাটকটি নির্মাণ করা হয়েছে।


আমেরিকার কেন্টাকি শহরের আফ্রো-আফ্রিকান ক্রীতদাসদের নির্মম শোষণের গল্প 'দ্যা স্লেভ'। হ্যারিয়েট বিচার স্টো-এর বিখ্যাত উপন্যাস আঙ্কেল টমস্ ক্যাবিনকে সঙ্গে করে পান্ডুলিপি নির্মিত হয়েছে। নিগ্রো সৎ ক্রীতদাস টমস ও ছোট শিশু হ্যারিকে বিক্রি করার প্রচেষ্টা থেকে গল্পটি আবর্তিত হয়েছে। মি. শেলবী একজন ঋণগ্রস্ত ব্যবসায়ী,  তার সকল সম্পত্তি বন্দক রেখেছেন দাস ব্যবসায়ী মি. হ্যালীর কাছে। মি. হ্যালির বন্দকী অর্থ পরিশোধের জন্য বাধ্য হয়ে টম ও হ্যারিকে বিক্রি করো দেয় মি. শেলবী, এই খবর জানতে পেরে হ্যারির মা এলিজা হ্যারিকে নিয়ে পালিয়ে যায়।  অন্যদিকে এলিজার স্বামী জর্জ হ্যারিস এই বন্দী অবস্থা থেকে মুক্তি নিয়ে কানাডায় পালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।  এলিজা পালানোই মি. হ্যালী ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এবং টমকে হাতে পায়ে ব্যারি পড়িয়ে নিয়ে যায়। নাটকটির ঘটনা প্রবাহে মূলত ঊনবিংশ শতাব্দীর আমেরিকার দাসত্বের অনৈতিকতা এবং অমানবিকতাকে  চিত্রিত করা হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আফ্রো-আফ্রিকান ক্রীতদাসদের দুর্দশার ও নির্যাতনের ছবি তুলে ধরা হয়েছে। 

নির্দেশক মোহাম্মদ মাজহারুল হোসেন তোকদার বলেন, আমেরিকান ক্রীতদাসদের ইতিহাস এবং আঙ্কেল টমস্ কেবিন উপন্যাসকে একসূত্রে মিলিয়ে ক্রীতদাসদের শোষণ নির্যাতনের জীবন গল্প সকলের সামনে তুলে ধরার প্রয়াস তিনি করেছেন। 

উল্লেখ্য, নাটকটির বিশেষ দৃশ্যে অভিনয় করেছে থিয়েটার অ্যান্ড পরিবেশনা বিভাগের ২০২১-২০২২, ২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা, ড্যান্স ক্লাব ও ১৫ জন শিশু কিশোর।


আরও খবর



ভারতে যাত্রীবাহী বাসে আগুন, ৮ জনের মৃত্যু

প্রকাশিত:শনিবার ১৮ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৩ জুন ২০২৪ |

Image

ভারতের হরিয়ানায় যাত্রীবাহী একটি বাসে আগুন লেগে 8 জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত ও দগ্ধ হয়েছেন অন্তত ২৪ জন। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে হরিয়ানার নুহ জেলায় মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটে।

কী কারণে চলন্ত বাসে আগুন ধরল তা এখন পর্যন্ত জানা যায়নি। পুলিশ পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। বাসটিতে প্রায় ৬০ জন যাত্রী ছিলেন। তাদের অধিকাংশই তীর্থযাত্রী। বাসটি বৃন্দাবন এবং মথুরা থেকে তীর্থযাত্রীদের নিয়ে ফিরছিলেন। পাঞ্জাবের হোশিয়ারপুর, লুধিয়ানা এবং চণ্ডীগড়ের যাত্রীরা বাসটিতে ছিলেন।

জানা যায়, নুহ জেলার কাছে কুন্ডলি-মানেসার-পালওয়াল জাতীয় সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ বাসটিতে আগুন ধরে যায়। এতে ৮ জনের মৃত্যু হয়। স্থানীয়রা আগুন দেখার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত ছুটে এসে যাত্রীদের উদ্ধার করার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে দ্রুত ছুটে আসে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ। দমকল বাহিনী দ্রুত আগুন নেভালেও তার আগেই মৃত্যু হয় ৮ জনের। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বাসটির এক নারী যাত্রী ইন্ডিয়া টুডে টিভিকে জানিয়েছেন, বাসে আগুন ধরে যাওয়ার পর তিনি লাফ দিয়ে প্রাণ বাঁচান।

তিনি আরও জানান, বাসে আগুন ধরেছে দেখে এক বাইক আরোহী চালককে সতর্ক করতে এগিয়ে যান। কিন্তু ততক্ষণে আগুন ছড়িয়ে যায়।

ওই যাত্রী বলেন, আমি বাসের নিচ থেকে একটি শব্দ শুনতে পেলাম। ভেবেছিলাম বাম্পারে ধাক্কা খাওয়ার কারণে এমন আওয়াজ হচ্ছে। পরে পোড়া গন্ধ পেয়ে বুঝতে পারি আগুন লেগেছে। একজন বাইক আরোহী তখন চালককে আগুন লাগার বিষয়ে সতর্ক করেন। আমি একদম সামনের সিটে বসেছিলাম। তাই প্রাণ বাঁচাতে লাফ দিয়েছিলাম।

মহিলা জানিয়েছেন যে, তিনি পঞ্জাবের বাসিন্দা এবং তীর্থযাত্রা করে বাড়ি ফিরছিলেন। বাসে তার আরও অনেক আত্মীয় ছিলেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।


আরও খবর