Logo
শিরোনাম

শীতকালে বাড়ে ব্রেন স্ট্রোক !

প্রকাশিত:শুক্রবার ১০ নভেম্বর ২০২৩ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪ |

Image

সাধারণত দেখা যায়, শীতের মাসগুলোতে ব্রেন স্ট্রোকের ঘটনা বেড়ে যায়। বেশ কয়েকটি কারণ আছে। বেশ কয়েকটি গবেষণায় স্ট্রোকের হারের পার্থক্য তুলে ধরা হলেও ঠান্ডার মাসগুলোতে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে। শীতের সময় মস্তিষ্কের স্ট্রোক বৃদ্ধির একটি প্রধান কারণ হলো শ্বাস-প্রশ্বাসের সংক্রমণের বৃদ্ধি, যেমন ফ্লু। এ সংক্রমণগুলো সিস্টেমিক প্রদাহ এবং রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি বৃদ্ধি করতে পারে, যা স্ট্রোকের জন্য একটি সাধারণ ট্রিগার।

দিল্লির বিএলকে ম্যাক্স সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর (নিউরোলজি) ডা. বিনীত ভাঙ্গা বলেন, ঠান্ডা আবহাওয়ায় শিরা সঙ্কুচিত হয়ে যায়, যার ফলে রক্তচাপ বাড়তে পারে। উচ্চ রক্তচাপ স্ট্রোকের জন্য একটি পরিচিত ঝুঁকির কারণ এবং এর সিজেনাল ওঠানামা শীতকালে স্ট্রোকের ক্রমবর্ধমান কারণ হতে পারে। শীতকালে মানুষ কম সক্রিয় থাকে, কম শারীরিক পরিশ্রম করে এবং বেশি ক্যালরি ও অস্বাস্থ্যকর খাবার খেতে পারে।

যা স্থুলতা এবং স্ট্রোকের অন্যান্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে। শীতকালে ব্রেন স্ট্রোকের প্রবণতা বেড়ে যাওয়ার পেছনে বেশ কয়েকটি কারণের সংমিশ্রণ থাকতে পারে। এর মধ্যে শ্বাসকষ্টের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়া, শিরা-উপশিরা সংকুচিত হয়ে যাওয়া, ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তন অন্যতম।

ব্রেন স্ট্রোকের লক্ষণ
* মুখের একপাশে অসাড়তা
* হাত বা পায়ে অবশ ভাব
* হঠাৎ কথা বলতে কষ্ট হয়
* হঠাৎ দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন হয়, যেমন এক চোখে ঝাপসা হয়ে যাওয়া বা ব্ল্যাকআউট হয়ে যাওয়া
* হঠাৎ মাথাব্যথা যা আগে কখনো হয়নি।


সূত্র : জি নিউজ


আরও খবর



বাবার লাশের এক টুকরো মাংস চাই

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৪ মে 20২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪ |

Image

আমার বাবার লাশের এক টুকরো মাংস চাই। যে মাংসের টুকরো ছুঁয়ে দেখতে পারি। সে মাংসের টুকরোকেই বাবা মনে করে জানাজা করাতে চাই।

কলকাতায় ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনারকে নৃশংসভাবে হত্যার সুষ্ঠু বিচার ও হত্যার পরিকল্পনাকারীকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে কাঁদতে কাঁদতে এসব কথা বলেন নিহত এমপি আনারের মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন। শুক্রবার (২৪ মে) বিকেল ৫টার দিকে কালীগঞ্জ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা শহরের মেইন বাসস্ট্যান্ডে এ কর্মসূচির আয়োজন করেন। মানববন্ধন চলাকালে ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়কে আধাঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।

মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী বাবা হারানোর ব্যথা-কষ্ট বোঝেন। তিনি আমার বাবা হারানোর বেদনা বুঝবেন। তার বাবার হত্যার বিচার করেছেন, আমার বাবা হত্যার বিচারও করবেন। হত্যার পরিকল্পনাকারীকে ধরার পরই খতিয়ে দেখা যাবে আসলে সে এত বড় অপকর্ম কেন ঘটালো। এর বিচার অবশ্যই হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সাথে আমার কথা হয়েছে। গতকালও কথা বলেছি। আমরা আইনের আশ্রয় নেব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আছেন, আওয়ামী লীগের দলীয় সর্বোচ্চ অভিভাবকরা আছেন, তারা আমাদের পরামর্শ দেবেন এবং তারা অবশ্যই তাদের দলীয় এমপি হত্যার সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করবেন। কালীগঞ্জের মানুষের সুখে দুঃখে যিনি সবসময় পাশে থেকেছেন সেই মানুষটির হত্যার বিচার আমরা চাই। আমরা কোনো শৃঙ্খলাহানি করতে চাই না।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন কালীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আশরাফুল আলম আশরাফ। এ সময় নব-নির্বাচিত উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শিবলী নোমানী, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমান মতি, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হোসেনসহ আওয়ামী লীগের সকল ইউনিটের নেতাকর্মী ও এলাকাসী উপস্থিত ছিলেন।


আরও খবর

শেখ হাসিনার প্রশংসায় জয়শঙ্কর

শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪




১২০ কিমি গতিতে আঘাত হানতে পারে ‘রেমাল

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৪ মে 20২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪ |

Image

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি আগামী ২৫ মে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে জানিয়েছে ভারতের আবহাওয়া দপ্তর (আইএমডি)। পরের দিন ২৬ মে (রবিবার) সন্ধ্যায় রেমাল নাম নিয়ে ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানতে পারে। ওই সময় ঘূর্ণিঝড়টির বাতাসের গতিবেগ থাকবে ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটার।

ভারতের আবহাওয়া দপ্তর বৃহস্পতিবার সর্বশেষ বুলেটিনে এসব তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, বৃহস্পতিবার সকালে বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণপূর্ব ও তৎসংলগ্ন পশ্চিম-মধ্যাঞলের নিম্নচাপটি উত্তরপূর্ব দিকে সরে গিয়েছে এবং বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণ ও পশ্চিম-মধ্যাঞ্চলে অবস্থান করছে। আগামী ২৫ মে এটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।

ভারতের আবহাওয়া দপ্তর থেকে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানার কথা বলা হলেও আবহাওয়া বিষয়ক বিভিন্ন ওয়েবসাইটে নির্দিষ্ট করে বলা হচ্ছে এটি ভারতের উড়িশা অথবা বাংলাদেশের উপকূলে যেতে পারে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া সংস্থা ইসিএআই এবং এনসিইপি ইঙ্গিত দিয়েছে ঘূর্ণিঝড় রেমাল উড়িশা উপকূলে আছড়ে পড়বে।

অপরদিকে আইমডি, এনসিইউএম এবং আইএমডি এমএমই বলছে, ঘূর্ণিঝড়টি শক্তি সঞ্চার করে বাংলাদেশ উপকূলে আঘাত হানবে। আর ঘূর্ণিঝড়টি আঘাত হানা শুরু করতে পারে ২৬ মে বিকাল ৫টা ৩০ মিনিট থেকে ২৭ মে রাত ২টা ৩০ মিনিটের মধ্যে।

রেমাল একটি আরবি শব্দ। যার বাংলা অর্থ বালু। নামটি দিয়েছে ওমান। বঙ্গোপসাগরে যেসব ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হবে সেগুলোর নাম আগে থেকেই ঠিক করা থাকে।

২০২০ সালে ভারতের আবহাওয়া দপ্তর ১৬৯টি ঘূর্ণিঝড়ের নাম দেয়। সেখান থেকেই এবারের ঘূর্ণিঝড়টির নাম নেওয়া হবে। এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘূর্ণিঝড়ের ঘোষণা দেওয়া হয়নি। যখন এই ঘোষণা আসবে তখনই বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট এ নিম্নচাপটিকে ‍ঘূর্ণিঝড় রেমাল হিসেবে অভিহিত করা হবে।

 সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস


আরও খবর

শেখ হাসিনার প্রশংসায় জয়শঙ্কর

শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪




টপ অর্ডার ব্যাটিং নিয়ে চিন্তিত শান্ত

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৭ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪ |

Image

বিশ্বকাপ শুরু হয়েছে প্রায় সপ্তাহ গড়িয়েছে। তবে এখনও মাঠে নামা হয়নি বাংলাদেশের। শনিবার (৮ জুন) ভোরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাঠে নামবে শান্তর দল। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামার আগে প্রতিপক্ষকে নিয়ে ভাবছেন না টাইগার অধিয়ানায়ক। বরং টপ অর্ডার নিয়ে চিন্তিত শান্ত।

লঙ্কানদের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে প্রতিপক্ষকে নিয়ে কথা বলেছেন শান্ত। সেখানে তিনি বলেন, সবসময় তো সমর্থকদের প্রত্যাশা থাকে এবং সবাই চায়, আমরা ভালো ক্রিকেট খেলি। সেই জায়গাটা থাকবে এবং আমরাও চাই আমরা কত ভালো ক্রিকেট খেলে বাংলাদেশের মানুষদের একটা ভালো ম্যাচ উপহার দিতে পারি। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ হলো আমরা কিভাবে ওই ম্যাচটাতে আমাদের পরিকল্পনা ব্যবহার করছি এবং আমাদের যে শক্তি আছে সেটা অনুযায়ী খেলছি কি না।

শান্ত বলেছেন তিনি শুধু নিজের দলে নিয়ে ভাবছেন। কীভাবে দলকে পরিকল্পনা মোতাবেক খেলানো যায় সেটাই শান্তর পরিকল্পনা। টাইগার অধিনায়ক বলেন, তাদের ম্যাচটা ভালো যায়নি কিন্তু তারা কী অনুভব করছে সেটা নিয়ে ভাবছি না।

লঙ্কানদের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে বাংলাদেশের বড় চিন্তার নাম টপ অর্ডার। এই টপ অর্ডার রান পাচ্ছে না। এমনকি অধিনায়ক শান্তও নেই ছন্দে। অভিজ্ঞ রিয়াদ দলকে টানছেন। তবে বিশ্বকাপে ঘুরে দাঁড়াবে বাংলাদেশ এমন আশা শান্তর।

বাংলাদেশের অধিনায়ক বলেন, সাম্প্রতি খুবই সত্য টপ অর্ডাররা ভালো করেনি বা করছে না। কিন্তু কালকের (শনিবার) দিনটা পুরোপুরি নতুন দিন এবং আপনি যেটা বললেন অনুশীলনে যার যে জায়গায় সমস্যা আছে সবাই শতভাগ দিচ্ছে। আগের জায়গা থেকে সবাই ভালো অবস্থায় আছে।

এদিকে দলের অনুশীলনে দেখে আশাবাদী শান্ত। তিনি বলেন, অবশ্যই আগের জায়গা থেকে সবাই ভালো অবস্থায় আছে। অনুশীলন দেখে বা নেটে ব্যাটিং করেছি সবাই তাতে মনে হয়েছে আগের থেকে ভালো অবস্থায় আছে। আগে কি হয়েছে এটা চিন্তা না করে কালকে একটা নতুন দিন। কালকে আমরা কেউই জানি না কে ভালো খেলবে, কে খারাপ খেলবে।


আরও খবর



সিলেট অঞ্চলে পানিবন্দি সাড়ে ১৩ লাখ মানুষ

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০24 | হালনাগাদ:শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪ |

Image



বিডি টুডে ডেস্ক:


সিলেটে টানা বর্ষণ ও ঢল অব্যাহত  রয়েছে। প্রধান নদী সুরমা, কুশিয়ারা, সারি নদীর ৬ টি পয়েন্টে বন্যার পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে সুরমা ও কুশয়ারা অববাহিকার অন্তত: সাড়ে ১৩ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।



 সিলেট ও সুনামগঞ্জ শহরের অর্ধেকের বেশি বাসা-বাড়ি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। শহর থেকে শুরু করে গ্রাম সর্বত্রই পানি। ঈদুল আজহার আগের রাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি থামছেই না। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সিলেট অঞ্চলে আরও ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে ২০২২ সালের মতো পরিস্থিতি ঘটতে পারে— এমন আতংক বিরাজ করছে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে।  


এদিকে, টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে উত্তরাঞ্চলের নদ-নদীর পানি বাড়ছে। কয়েকটি স্থানে তিস্তাসহ প্রধান নদ-নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী কয়েক দিন অবিরাম বর্ষণের সম্ভাবনা থাকায় রংপুর, নীলফামারী, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কা করা হচ্ছে। 


 সিলেটের ১৩ উপজেলায় ৭ লাখ, সুনামগঞ্জের ৪ উপজেলায় আড়াই লাখ, মৌলভীবাজারের কুলাউড়া ও অন্যান্য এলাকায় ২ লাখ মিলে সাড়ে ১৩ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।


পানিবন্দি কোনো কোনো পরিবার সরকারি আশ্রয় কেন্দ্রে আসলেও বেশির ভাগ মানুষ বাড়িঘর, আসবাবপত্র গরু-বাছুর ফেলে আসতে চান না। তারা ঘরেই চৌকির উপর বসবাস করছেন। সেখানেই টিনের চুল্লায় রান্নাবান্না করে চরম দুর্ভোগে দিন পার করছেন। সেখানে বিশুদ্ধ খাবার পানি ও খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে।   


সিলেট মহানগরীর ২১ টি ওয়ার্ডে অর্ধলক্ষ মানুষ এখন পানিবন্দি। সিলেট জেলা ও মহানগর মিলিয়ে ৬২৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এর মধ্যে মহানগরে ৮০টি। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে ১৭ হাজার ২৮৫ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। জেলা ও মহানগর মিলিয়ে ৬১৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। 



সিলেট মহানগরের শাহজালাল উপশহর, যতরপুর, মেন্দিবাগ, শিবগঞ্জ, রায়নগর, সোবহানীঘাট, কালিঘাট, কামালগড়, মাছিমপুর, তালতলা, জামতলা, কাজিরবাজার, মাদিনা মার্কেট, আখালিয়া, মেজরটিলা ও দক্ষিণ সুরমার লাউয়াই, বরইকান্দি, আলমপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় অনেকের বাসাবাড়িতে গলা  পর্যন্ত পানি। 


নিচু এলাকার বাসা-বাড়ি প্রায় পুরোটাই তলিয়ে গেছে বন্যার পানিতে।  গত ২৭ মে সিলেটে আগাম বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ঈদের দিন ভোররাত থেকে সিলেটে শুরু হয় ভারী বর্ষণ। সঙ্গে নামে পাহাড়ি ঢল। ফলে হু হু করে বাড়তে থাকে সিলেটের সব নদ-নদীর পানি। 



সিলেট সদর, গোয়াইনঘাট, কোমপানীগঞ্জ ও জৈন্তাপুরসহ কয়েকটি উপজেলার রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অনেক কৃষিজমির ফসল তলিয়ে গেছে, ভেসে গেছে পুকুরের মাছ। দুর্যোগ ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. মুহিবুর রহমান এমপি সিলেটের বন্যার্তদের দেখতে সিলেটে ছুটে আসেন। তিনি তাৎক্ষনিকভাবে সিলেট জেলার বন্যার্তদের জন্য নগদ ১০ লাখ টাকা, ১০০ টন চাল, ২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার ত্রাণ সহায়তা প্রদান করেছেন।



সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় প্রধান প্রধান পর্যটনকেন্দ্রগুলো দ্বিতীয় দফায় বন্ধ ঘোষণা করা হয় মঙ্গলবার দুপুরে। এর আগে গত ৩০ মে বন্যা পরিস্থিতির কারণে পর্যটনকেন্দ্রগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরে অবস্থার উন্নতি হলে ও ঈদকে সামনে রেখে পর্যটন কেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়া হয়।


 সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার বলেন, উজানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে।  সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরী জানিয়েছেন, বন্যা মোকাবিলায় সুনামগঞ্জ জেলায় ৫১৬টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।


সুনামগঞ্জ জেলা শহরের বিভিন্ন সড়কসহ অর্ধেকের বেশি বাসাবাড়ি ডুবে গেছে। বুধবার বিকালে বৃষ্টি থামলেও সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি নেই। অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ে গেছেন। আবার অনেকেই ঘরের খাট-পালং উঁচু করে পানির মধ্যেই বসবাস করছেন। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকেছে। মধ্য বাজারে হাঁটু পানি।



 বাধন পাড়া, উকিল পাড়া, বড় পাড়া, সোমপাড়া, হাসন্নগর, ষোলঘর, নবীনগরসহ বহু এলাকার ঘরে পানি। রাতে বৃষ্টি কম হওয়ায় পানি কিছুটা কমলেও বাসাবাড়ি, রাস্তাঘাটে বন্যার পানি। জেলার ছাতক, দোয়ারা, বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর ও সদর উপজেলার অবস্থা ভয়াবহ।


 হবিগঞ্জে খোয়াই নদীতে বাঁধে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। বুধবার দুপুরে শহরতলীর জালালাবাদে নদীর বাঁধে হঠাৎ ভাঙ্গন দেখা দেয়। ফলে প্রবল বেগে নদীর পানি জালালাবাদসহ আশপাশের এলাকায় প্রবেশ করছে। এদিকে সকাল থেকেই খোয়াই, কুশিয়ারা, কালনী নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।


 হাকালুকি হাওরের পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। বড়লেখা উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ২৫২ গ্রাম বন্যা কবলিত। ডুবে গেছে বাড়িঘর, রাস্তাঘাট ও ফসলের মাঠ। এতে প্রায় ১ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।


এদিকে প্রধান প্রধান নদীর পানি দ্রুত বেগে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইতিমধ্যে কলমাকান্দা উপজেলার উপদাখালি নদীর পানি বিপদসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কলমাকান্দার গুরুত্বপূর্ণ মনতলা সড়ক তলিয়ে গেছে।



তিস্তা নদীর  পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলার কাউনিয়া, পীরগাছা ও গঙ্গচড়া উপজেলার তিস্তা অববাহিকার বেশ কয়েকটি এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। পাউবো কোনো প্রতিরোধ মূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় ভাঙন কবলিত পরিবারগুলোর অনেকে নিরুপায় হয়ে বসতি সরিয়ে নিচ্ছে। বেশ কিছু চরাঞ্চলের বাড়িঘরের চারপাশে পানি প্রবেশ করার খবর পাওয়া গেছে।


 পানির নিচে তলিয়ে গেছে গ্রামীণ সড়ক। ডুবে গেছে ওই সব এলাকার মরিচ ও সবজি খেত। জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়া না হলে  সর্বস্বান্ত হয়ে পড়বে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। পীরগাছা উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের শিবদেব পানিয়ালের ঘাট এলাকায়  কৃষকের ফসলি জমিতে ধরেছে ভাঙন। কেউ কেউ নদীর পাড়ে বাদাম তুলে স্তূপ করে রেখেছেন। 



রংপুরে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গতকাল বেলা ১১টায় কাউনিয়া উপজেলার তিস্তা রেলসেতু এলাকায় তিস্তার পানি বিপদসীমার অতিক্রম করেছে।


গতকাল সকালে তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পানি কমতে থাকে। কিন্তু বৃষ্টি না থামায় নদীর পানি যেকোনো সময় বিপদসীমা অতিক্রম করে  লোকালয় প্লাবিত করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা।


এদিকে কুড়িগ্রামে প্রধান নদ-নদীগুলোর মধ্যে তিস্তা নদী ও দুধকুমার নদের পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গতকাল সকাল ৯টায় পাটেশ্বরী পয়েন্টে দুধকুমার নদের পানি বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার এবং কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এ ছাড়া অন্য নদ-নদীর পানি বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে।


নাগেশ্বরীতে একটানা ভারী বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে বাড়ছে নদ-নদীর পানি। প্লাবিত হয়ে পড়েছে তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল। বৃষ্টির পানি সাথে উজানের ঢল মিশে স্বাভাবিকের চেয়ে উচ্চতায় এবং তীব্র স্রোতে প্রবাহিত হচ্ছে দুধকুমার, ব্রহ্মপুত্রসহ সকল নদ-নদীর পানি।  ফুলবাড়ীতে ধরলা নদীসহ সব কয়টি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।  আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।


গাইবান্ধা জেলার সব নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে জেলার চারটি নদ-নদী ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট, তিস্তা ও করতোয়ার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তার পানি বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।


টেকনাফে ভারী বৃষ্টির কারণে কক্সবাজারের টেকনাফ ও সেন্টমার্টিনে ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। তলিয়ে গেছে শত শত বাড়ি-ঘর,চিংড়ি ঘের, মাঠ,খেতের জমি। উপজেলায় বিভিন্ন জায়গায় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটলেও হলেও কেউ হতাহত হয়নি। মানুষের বাড়ি-ঘরেও পানি ডুকেছেন।


ঝিনাইগাতীতে মহরশি নদীর ঢলের পানির তোড়ে দিঘীরপাড় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙ্গে কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। দুপুরে মহারশি নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ঝিনাইগাতী সদর বাজারে প্রবেশ করে।


আরও খবর

শেখ হাসিনার প্রশংসায় জয়শঙ্কর

শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪




নয়াদিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত:শনিবার ০৮ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪ |

Image

বিডি জিটাল ডেস্ক :


ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে নয়াদিল্লির উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।


শনিবার (৮ জুন) সকাল সোয়া ১০টার দিকে ঢাকা ত্যাগ করেন তিনি। মোদির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগদান শেষে ১০ জুন দুপুরে দেশে ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী।



 বুধবার টেলিফোনে আলাপকালে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানান নরেন্দ্র মোদি। শেখ হাসিনা এই আমন্ত্রণ সাদরে গ্রহণ করেন।


আগামী ৯ জুন নরেন্দ্র মোদির শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে। ভারতের ১৮তম লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি-নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট ২৯৩টি এবং ইন্ডিয়া জোট ২৩৩টি আসনে জিতেছে।


আরও খবর

শেখ হাসিনার প্রশংসায় জয়শঙ্কর

শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪