Logo
শিরোনাম

ভোজ্য তেলের দাম ২০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব

প্রকাশিত:সোমবার ০৮ আগস্ট ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ |
Image

সরকার উদ্যোগী হয়ে ভোজ্য তেলের দাম কমানোর ১৫ দিনের মাথায় আবার বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছেন মিল মালিকরা। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো নিয়ে দেশে ক্ষোভ-বিক্ষোভের মধ্যে ভোজ্য তেলের দাম বাড়ানোর এই প্রস্তাব দিয়েছে। বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনে গেছে বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন।

বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া ওই আবেদনে সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে 

তিনি  বলেন, ‘ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে তেলের আমদানি মূল্যে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তেল কিনতে এখন প্রতি ডলারের জন্য ১১০ টাকারও বেশি খরচ করতে হচ্ছে। ডলারের মূল্যবৃদ্ধি বিবেচনায় দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে বিশ্ববাজারে এখন প্রতি টন অপরিশোধিত ভোজ্য তেলের দাম ১৬০০ ডলারে স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানান তিনি।

রাশিয়া-ইউক্রেন উত্তেজনার মধ্যে বিশ্বে ভোজ্য তেলের বাজার অস্থির হয়ে ওঠে। তিন মাস আগে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি টন ১৯০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। দেশের বাজারেও সয়াবিন তেলের দাম বেড়ে প্রতি লিটার ২০০ টাকার ওপরে উঠে যায়।

বছরের প্রথমভাগে যুদ্ধ শুরুর আগে-পরে বাংলাদেশেও কয়েক দফায় বাড়ানো হয় দাম। তবে দাম কমে আসায় গত ১৭ জুলাই প্রতি লিটার তেলের দাম ১৪ টাকা করে কমানো হয়।

ফলে দেশে এখন প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৬৬ টাকায় এবং পাম তেল ১৫২ টাকায়।


আরও খবর

স্বর্ণের দাম কমেছে

রবিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২




সুনামগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি দুই মেয়ে, বাড়িতে ৪ গরু চুরি

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ |
Image

শফিউল আলম,স্টাফ রিপোর্টার:

'মরার উপর খাড়ার ঘা' সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে দুই মেয়ে বাড়িতে ৪ গরু চুরির এমনই ঘটনা ঘটেছে 

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নে রামজীবনপুর গ্রামে। ১৫ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে হতদরিদ্র কৃষক

 বোরহান উদ্দিন'র ৪ টি গরু চুরি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,বোরহান উদ্দিনের পরিবারের ২ জন সদস্য সহ গ্রামের দু'পরিবারের ৭ জন মানুষ পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে  সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।এদিকে বাড়ি খালি থাকায় বোরহান উদ্দিন'র প্রায় ২ লক্ষাধিক টাকা মূল্যের ৪ টি গরু চুরি হয়েছে।রামজীবনপুরের রিয়াদ তালুকদার বলেন, বোরহান উদ্দিন উনার পরিবারের দুই সদস্য সহ গ্রামের ৭ জন মানুষ পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তারা আমার আত্মীয় স্বজন,  গ্রামের মানুষ তাই ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে সার্বক্ষণিক তাদের পাশে মেডিকেলে আছি।

গরু চুরির ঘটনা শোনার পর অত্যন্ত মর্মাহত হয়েছি।দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলী আহমদ মুরাদ ঘটনার সত্যতা জানিয়ে বলেন, বোরহান উদ্দিন'র ২ জন মেয়ে অসুস্থ পানিবাহিত রোগ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে তাদের কে নিয়ে স্ব-স্ত্রীক সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে রয়েছেন। 

এমতাবস্থায় বাড়ি খালি পেয়ে চোর তার দুটি ষাঁড়ও একটি গাভী বাছুর সহ নিয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, ইতিপূর্বে চুরি সংক্রান্ত বিষয়  মাসিক উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা মিটিংয়ে উত্থাপন করেছি  কিছুদিন চুরি-চামারি  বন্ধ ছিল এখন আবার শুরু হয়েছে। 

চুরি সহ সব ধরনের অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আহ্বান জানান তিনি।


আরও খবর

ফকিরহাটের জন্য সম্মান বয়ে আনলেন

বুধবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২




শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গড়তে যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা বন্ধ করুন

প্রকাশিত:শনিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ |
Image

শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গড়তে অস্ত্র প্রতিযোগিতা, যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞা বন্ধ করতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা । জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনে বাংলায় দেয়া ভাষণে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার এ আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ইউক্রেন ও রাশিয়ার সংঘাতের অবসান চাই। যুদ্ধ বা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মত বৈরীপন্থা কখনও কোন জাতির মঙ্গল বয়ে আনতে পারে না। পারস্পরিক আলাপ-আলোচনাই সঙ্কট ও বিরোধ নিষ্পত্তির সেরা উপায়। রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘ এবং বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ সমস্যা অব্যাহত থাকলে, তা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে অনেক আলোচনার পরেও একজন রোহিঙ্গাকেও তাদের মাতৃভূমিতে ফেরত পাঠানো যায়নি। মিয়ানমারে চলমান রাজনৈতিক সংঘাত বাস্তচ্যূত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনকে আরও কঠিন করে তুলেছে। আশা করি, এ বিষয়ে জাতিসংঘ কার্যকর ভূমিকা রাখবে।


আরও খবর

এক এনআইডিতে ১৫টির বেশি সিম নয়

বুধবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন

বুধবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২




কুমিল্লার বাঙ্গরায় পুলিশের ওপর হামলা করে আসামি ছিনতাই

প্রকাশিত:শনিবার ১০ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ |
Image

কু‌মিল্লা ব্যুরো ঃ

কুমিল্লার বাঙ্গরায় পুলিশের ওপর হামলা করে আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।                                        শুক্রবার সন্ধ্যায় জেলার মুরাদনগর উপ‌জেলার বাঙ্গরা বাজার থেকে শেখ আকরাম নামের ওই আসামিকে হ্যান্ডকাফসহ ছিনতাই করা হয়। 

আসামি আকরামের বড় ভাই ওই ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেনের নেতৃত্বে এ ঘটনা ঘটেছে। এতে বাঙ্গরা থানারএসআই রনি নামে এক পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছে।

পুলিশ এবং স্থানীয়রা জানায়, গত ৪সেপ্টেম্বর ফুয়াদ নামে এক স্কুল ছাত্রকে মারধর করে মোবাইল ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় বৃহস্পতিবার বাঙ্গরা বাজার থানায় মামলা দায়ের করেন দৌলতপুর গ্রামের ইকবাল হোসেন নামে এক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা। এ ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবকলীগ কর্মী ও সদর ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেনের ছোট ভাই শেখ আকরাম সহ ৪জনকে আসামি করা হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসব আসামিদের গ্রেফতারে খাপুরা এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় শেখ আকরামকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসার পথে বাঙ্গরা বাজারে ইউপি  চেয়ারম্যান জাকির হোসেনের নেতৃত্বে ৩০-৪০ জন পুলিশের ওপর হামলা করে। এ সময় হ্যান্ডকাফ  পরিহিত আকরামকে ছিনিয়ে নেয়া হয়। এতে পুলিশের এসআই রনি আহত হয়। 

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন বলেন, আমরা পুলিশের ওপর হামলা করিনি, আমার ভাই শেখ আকরামকে অন্যায় ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, এলাকার লোকজন তাকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ করেছে, আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনা সঠিক নয়। 

 মুরানগর উপ‌জেলার বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি ইকবাল হোসেন জানান, এজহার নামীয় আসামি শেখ আকরামকে খাপুরা  গ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে থানায় নিয়ে আসার পথে বাঙ্গরা বাজারে পুলিশের উপর হামলা করে হ্যান্ডকাফসহ আসামী আকরামকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ওই আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে এবং এঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আরও খবর

ফকিরহাটের জন্য সম্মান বয়ে আনলেন

বুধবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২




গ্যাস সংকট কাটাতে নতুন উদ্যোগ

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ |
Image

দেশে প্রকট হয়ে উঠেছে জ্বালানি সংকট। বিশ্লেষকরা বলছেন, এলএনজি আমদানিতে অর্থনীতির ওপর যে চাপ পড়ছে, তা সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। ইতোমধ্যে দেশে ডলার সংকটের জন্য একটি বড় কারণ হিসেবে জ্বালানির আমদানি বৃদ্ধিকে দায়ী করছেন অনেকে। এই অবস্থায় গ্যাস সংকট কাটাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এজন্য ৪৬টি কূপ খনন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী সাড়ে তিন বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। এই কূপগুলো খনন হলে মিলবে ৬২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। এতে এলএনজি আমদানি কমানো সম্ভব হবে। এ ছাড়া সমুদ্রসীমায় নতুন খনি আবিষ্কার হলেও জ্বালানির দীর্ঘমেয়াদি সংকটের সমাধান হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা ৪৬টি নতুন কূপ খনন করার পরিকল্পনা করেছি। আগামী সাড়ে তিন বছরে অর্থাৎ ২০২৫ সালের মধ্যে এই কূপগুলো খনন করা হবে। কূপগুলোর খননকাজ শেষ হলে প্রতিদিন ৬১৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে আশা করছি।

বর্তমানে দেশে দৈনিক ২৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। এরমধ্যে ২৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আসছে দেশি উৎস থেকে। দেশি তিনটি কোম্পানি ৮৪৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করছে। বাকিটা দিচ্ছে বহুজাতিক দুই কোম্পানি শেভরন এবং তাল্লো।

সূত্র জানায়, আগামী শীতে পশ্চিমা দেশগুলোতে ঠান্ডার প্রকোপে বিশ্ববাজারে জ্বালানি আরো এক দফা উচ্চমূল্যের দিকে ছুটতে পারে। তবে শীতের মৌসুমে দেশে গ্যাসের চাহিদা কম থাকায় আন্তর্জাতিক সেই সংকট খুব একটা প্রভাব ফেলবে না।

এ অবস্থায় ৪৬ কূপের মধ্যে বর্তমানে শ্রীকাইলে একটি কূপে খননকাজ চলছে জানিয়ে পেট্রোবাংলা বলছে, এই কূপের খননকাজ পরিদর্শনের জন্য শিগগিরই ওই এলাকায় যাবেন জ্বালানি সচিব, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এর বাইরে এখন ওয়ার্কওভারের কাজ চলছে বিয়ানিবাজার-১ এবং ভোলার টবগিতে। এ ছাড়া শিগগিরই শরীয়তপুর-১ কূপের কাজ শুরু করা হবে। ভোলায় কয়েকটি কূপ খনন করা হবে।


আরও খবর

এক এনআইডিতে ১৫টির বেশি সিম নয়

বুধবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন

বুধবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২




দিল্লিতে আমাদের নামও পরিবর্তন করতে হয়েছিল' -শেখ রেহানা

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ |
Image

সেই সময়ে আমাদের পরিবার...

সকাল বেলায় আব্বা বাইরে থেকে মর্নিং ওয়াক করে আসতেন। আমাদের ৩২ নম্বরের যে বারান্দাটা আমরা ওখানে, আব্বা ইজি চেয়ারে আর সব মোড়ায়। টোস্ট বিস্কুট চা নিয়ে আমরা সবাই খবরের কাগজ পড়ে যার যার স্কুল-কলেজে যেতাম। এই জিনিসটা আমরা ওই যে একটা পরিবেশের মধ্যে বড় হওয়া। ওখান থেকে আর বের হইনি। কামাল ভাইয়ের সবচেয়ে প্রিয় ছিলাম আমি। মায়েরও। শেকড়টা আমরা ভুলব না। আমাদের বাড়ি টুঙ্গিপাড়া। আমি যে একটা গ্রামের মেয়ে সেটি বলতে খুব গর্ববোধ করি।


গণভবন প্রসঙ্গ...

গণভবনটাও আমাদের অনেক স্মৃতির। আমরা থাকিনি এখানে। আমরা কোনো ভাইবোনই সেখানে থাকতে চাইনি। জানি না থাকলে অন্যদিক থেকে ভালো হতো কী খারাপ হতো। মা থাকতে চাননি ৩২ নম্বরের বাড়ি রেখে। কামাল ভাই থাকবে না। আপা থাকবে না। আমি না। জামাল, রাসেল না। আব্বা বলতেন যে, তোমরা থাকবে না। তাহলে আমি কেন শুধু এখানে থাকব?

দাদার নাতবউ...

আমার দাদার খুব শখ ছিল নাতির বউ দেখবে। কামাল ভাই তখন যুদ্ধ থেকে এলেন। আমরা খুকী আপার ভক্ত ছিলাম। মেঝো ভাইয়ের রুমে বিশাল একটা ছবি ছিল স্পোর্টসের। ওরা একসঙ্গে প্র্যাকটিস করত। মাকে বললাম। মা বলল, হ্যাঁ, ঘরের বউ খেলবে লোকে কী বলবে। তো মা চুপচাপ। আমরা কয়েক ভাইবোন তাকে বললাম, মা এত ভালো একটা বউ। তুমি যার কাছ থেকেই নাও, এ মেয়ে কিন্তু পাবে না। মা বলল, কামাল কী বলে। কামাল যদি বলে তাহলে আমি রাজি। বললাম, তবে মা। বিয়ের পর কিন্তু খেলতে দিতে হবে। তখন বলতে পারবে না, ঘরের বউ খেলতে পারবে না। বলছে না, বলব না।

বেলজিয়াম-জার্মানি...


মাকে বললাম- মা, আপা (জার্মানি) যাবে জয় পুতুলকে নিয়ে কষ্ট হবে। আমি গেলে একটু সাহায্য হবে। মা আব্বাকে বলল, ঠিক আছে ও যাক হাসুর সঙ্গে। ক'দিন পর চলে আসবে। এই আমাদের যাওয়া। ১৪ আগস্ট রাতে ক্যান্ডল লাইট ডিনার। ব্রাসেলসে এই বয়সে ক্যান্ডল লাইট ডিনার। মেয়েরা সব আমার বয়সী, আমরা খুব হাসাহাসি গল্প। দুলাভাই এসে আমাদের খুব বকলেন। যে কান্না আছে। এত হাসি। বললাম, আপনি ঘুমাতে পারেন না। উনি যত বকে আমরা তত হাসি। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মানুষের যে পরিবর্তন। ক্যান্ডল লাইট ডিনার থেকে আমাদের বের করে দেয় এ রকম অবস্থা।

আপা ভাবছে আমি জানি না। আমি ভাবছি আপা জানে না। জানি তো দু'জনেই। বাংলাদেশে বাঙালিরা আমার বাবাকে মারবে, এটা তো ধারণারও বাইরে ছিল। ৩২ নম্বরে হৈচৈ, একটা পলিটিক্যাল বাড়ি। টুঙ্গিপাড়ায় ওই আমাদের দাদাবাড়ি আর সেখানে ছোট্ট একটা বাসার মধ্যে দুইটি রুম। ওখানে গিয়ে তো দুই বোন একটা কিসের মধ্যে পড়লাম আমরা। কিচ্ছু বুঝি না। কিচ্ছু করি না। কী খাব। কই যাব। আল্লাহর একটা রহম আমাদের ওপর যে, আমাদের পাগল বানিয়ে রাস্তায় ফেলেনি। আপা কান্নাকাটি করে এই পাশে, আমি ওই পাশে। দুটি বাচ্চা জয়-পুতুলই ছিল আমাদের সান্ত্বনা।


দিল্লিতে...


আমরা অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকতাম যে, একটা সাইকেলের ওপর চারটা গ্যাস সিলিন্ডার। একটা মোটরসাইকেলের ওপর সামনে একটা বাচ্চা, হাসবেন্ড-ওয়াইফ, আরেকটা বাচ্চা। তারপর ব্রিফকেস একটা। জানালা দিয়ে ওই বসে বসে দেখতাম। আরেকটা কথা কখনও বলিনি। ৪০ বছর হয়ে গেছে, এখন বলা যায়। দিল্লি থাকাকালীন আমাদের নামও পরিবর্তন করতে হয়েছে। মিস্টার তালুকদার, মিসেস তালুকদার, মিস তালুকদার আশপাশে যেন কেউ না জানে। আমি বলি, এটা কী ব্যাপার। দেশ ছাড়া, বাড়ি ছাড়া, বাপ-মা ছাড়া। আবার নামও বদলাব? দরকার নাই আমি থাকব না এখানে। কিন্তু তখন উপায় নাই তো। সবসময় রাগ-অভিমান আর হুট করে কোনোকিছু করা যায় না। মানে দিন কাটে না, রাত কাটে না। আমার খোকা চাচা লন্ডন থেকে চিঠি লিখতেন। চিঠি আসতে লাগত এক সপ্তাহ। আমরা দুটি বোন জানালা দিয়ে তাকিয়ে থাকতাম পোস্টম্যান কখন আসবে। চাচার চিঠিগুলো পড়ব।

আপা লিখতেন বসে বসে। আজকে চিনি অতটুকু, বিস্কুট অতটুকু, সুজি অতটুক। ওপর পাশেই আমার লেখা। আল্লাহ তুমি কেন আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছো জানি না। কিন্তু এই খুনিদের ধরব, বিচার করব ইনশাল্লাহ। তারিখ দিয়ে লেখা। তো আপা সেদিন আমাদের দেখালেন। এই দেখো।

মা-আপা...


বাংলাদেশের জনগণ যেখানে যে আছে। নির্যাতিত-নিপীড়িত দুঃখী মানুষ। তারা তো বঙ্গবন্ধুকে, তার অভাবটাকে দেখতে পাচ্ছে। আমরা বাবা হিসেবে পাচ্ছি। আমাদের তার থেকে বেশি ক্ষতি হয়ে গেছে মা চলে যাওয়াতে। আপা (হাসিনা) ইউনিভার্সিটিতে যাবেন, কোন শাড়ি পরবেন- সেটা মা রেডি করে দিত। এসে খাবার ফাঁকি দিয়ে ঘুম। আমি শুধু চিন্তা করি, মাকে যদি বলতে পারতাম যে, মা তোমার হাসু এখন আর আলসেখানায় থাকে না। মাকে না বলা পর্যন্ত আমাদের শান্তি নেই। এখন আমার মনে হয় দৌড় দিয়ে যদি বনানীতে গিয়ে মাকে একটা চিঠি লিখে পাঠাতে পারতাম বা আব্বাকে পাঠাতে পারতাম। এগুলো খুব অনুভব করি।


-শেখ রেহানা

বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ কন্যা


আরও খবর