Logo
শিরোনাম

ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে ধীরগতির শহর

প্রকাশিত:শনিবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | হালনাগাদ:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ |

Image

ঢাকা এখন বিশ্বের সবচেয়ে ধীরগতির শহর। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ব্যুরো অব ইকোনমিক রিসার্চ প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ধীরগতির শহরের তালিকায় শীর্ষ ২০টি শহরের মধ্যে ৩টি বাংলাদেশের। বিপরীতে সবচেয়ে দ্রুত গতির ২০ শহরের মধ্যে ১৯টি যুক্তরাষ্ট্রের।

১৫২টি দেশের ১ হাজার ২০০টির বেশি শহরে যান চলাচলের গতি বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য জানা গেছে। তিন লাখের বেশি মানুষের বসবাস রয়েছে, এমন সব শহরে গাড়িতে বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে কত সময় লেগেছে, সেই তথ্য গুগল ম্যাপ থেকে সংগ্রহ করে গবেষণায় বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সপ্তাহের বিভিন্ন দিন এবং দিনের বিভিন্ন সময়ে যাতায়াতের তথ্য নেয়া হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় গবেষণাটি করেছেন ফিনল্যান্ডের আলটো বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহনব্যবস্থার অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক প্রত্যয় আমান আকবর, কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির সহযোগী অধ্যাপক ভিক্টর কুচিও, যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রিয়েল এস্টেট বিভাগের অধ্যাপক গিলেস ডুরানটন এবং যুক্তরাষ্ট্রের টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির সহযোগী অধ্যাপক অ্যাডাম স্টোরিগার্ড।

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা সূচকে ০.৬০ পয়েন্ট নিয়ে ধীরগতির তালিকার শীর্ষে রয়েছে। তালিকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে নাইজেরিয়ার দুই শহর লাগোস ও ইকোরদু। তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছে ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলা। পঞ্চম স্থানে রয়েছে প্রতিবেশী ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের থানে জেলার শহর বিওয়ান্দি। পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতা রয়েছে তালিকার ৬ নম্বরে। ধীরগতির শহরের তালিকায় ঢাকা ছাড়াও বাংলাদেশের দুই শহরময়মনসিংহ (৯ম) ও চট্টগ্রাম (১২তম) রয়েছে।

রাস্তায় যানবাহনের চাপ কম থাকার পরেও সবচেয়ে ধীরগতির ২০টি শহরের তালিকাও করা হয়েছে গবেষণায়। সেখানে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ঢাকা। তালিকায় বাংলাদেশের আরও চারটি শহর রয়েছেখুলনা (৪র্থ), ময়মনসিংহ (৫ম), চট্টগ্রাম (১৮তম) ও কুমিল্লা (১৯তম)।

বিপরীতে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতির শহরের তালিকার শীর্ষ ২০-এর ১৯টিই যুক্তরাষ্ট্রের। সূচকে দশমিক ৪৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে মিশিগানের শহর ফ্লিন্ট। তালিকার শীর্ষ থেকে শুরু করে ১৮ নম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের শহর। দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে গ্রিনসবোরো ও উইচিতা। শীর্ষ ২০-এ কানাডার একটি মাত্র শহর স্থান করে নিয়েছে। সেটি হলো উইন্ডসর। রয়েছে তালিকার ১৯তম অবস্থানে।

শহরের আয়তনের অনুপাতে সবচেয়ে বেশি মোটরযান রয়েছে কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোতায়। এরপর রয়েছে রাশিয়ার শহর ক্রাসনোদার। তালিকার তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে রয়েছে যথাক্রমে মঙ্গোলিয়ার উলানবাটর ও রোমানিয়ার বুখারেস্ট। এরপরের শহরগুলো হলো-মস্কো, ব্যাংকক, ম্যানিলা, ব্যাঙ্গালোর, ভ্লাদিভস্টক, মেক্সিকো সিটি, লাগোস, লন্ডন, মুম্বাই, ইয়াকাতেরিনবার্গ, গুয়াতেমালা সিটি, পানামা সিটি, নাইরোবি, নিউইয়র্ক, সান ডোমিঙ্গো ও দিল্লি।


আরও খবর



বাংলাদেশ সীমান্তের রাখাইদের এলাকা ত্যাগের নির্দেশ

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৮ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ |

Image

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী শহর মংডু ছাড়ার জন্য বাসিন্দাদের আহ্বান জানিয়েছে বিদ্রোহী গোষ্ঠী ইউনাইটেড লীগ অব আরাকান। রাজ্যটি নিয়ন্ত্রণে নিতে কয়েক সপ্তাহ ধরে জান্তা বাহিনীর সঙ্গে তীব্র লড়াই চলছে সংগঠনটির সশস্ত্র শাখা আরাকান আর্মির (এএ)।

রোববার ইউনাইটেড লীগ অব আরাকান জানায়, মংডু টাউনশিপের অবশিষ্ট জান্তা ঘাঁটিগুলো ঘেরাও করা হয়েছে। শহরটিকে সামরিক বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে তাদের অপারেশনের ঘাঁটি হিসাবে ব্যবহার করেছে। তারা এখন জান্তার অবশিষ্ট শক্তিশালী ঘাঁটিগুলো দখল করতে চায়। এ কারণেই তারা সেখানকার বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

মংডু শহর দখল করার এই পদক্ষেপের আগে গত মে মাসে আরাকান আর্মি বুথিডাং শহর পুরোপুরি দখল করে নেয়।

এএ বলছে, তারা জুন মাসের ১ থেকে ১৩ তারিখের মধ্যে মংডুতে আরও ১০টি জান্তা ঘাঁটি দখল করেছে। এরমধ্যে তিনটি বর্ডার গার্ড ফোর্সের সদর দফতর এবং একটি সেনা ঘাঁটি। তাদের দাবি, সংঘর্ষে সেনাবাহিনীর বেস কমান্ডার কর্নেল তাইজার হতেইসহ ২০০ জনেরও বেশি সেনা নিহত হয়েছেন।

এদিকে একজন সামরিক বিশ্লেষক সম্প্রতি দ্য ইরাবতীকে বলেছেন, মংডুর পর রাজ্যের রাজধানী সিতওয়ে হবে আরাকান আর্মির পরবর্তী টার্গেট।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী। সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইং এই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেন। মিয়ানমারের বর্তমান সামরিক সরকারের প্রধানও তিনি।

জান্তা ক্ষমতায় আসার পরই বিক্ষোভ শুরু হয় মিয়ানমারে। ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় জান্তার বিরুদ্ধে আরও শক্তিশালীভাবে নামে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো। এরপর থেকেই বিভিন্ন গোষ্ঠীর হাতে ঘাঁটি ও সেনা হারাচ্ছে মিয়ানমার জান্তা।


আরও খবর



সেন্টমার্টিন আক্রান্ত হলে ছেড়ে দেব না

প্রকাশিত:শনিবার ১৫ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ |

Image

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মি ও ক্ষমতাসীন জান্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে মর্টার শেল ও ভারী গোলার বিকট শব্দে কেঁপে উঠছে সেন্টমার্টিন। এমনকি টেকনাফ সীমান্তের খুব কাছে চোখে পড়ছে মিয়ানমারের টহল জাহাজও। এ অবস্থায় কোনোভাবে আক্রান্ত হলে মিয়ানমার সরকার বা আরাকান আর্মিকে ছেড়ে দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

শনিবার (১৫ জুন) দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংকটের কারণে আমরা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি, এটা দুঃখজনক। আমরা আক্রান্ত হলে ছেড়ে দেব না। আমরা এখনই আক্রমণ করব না, কিন্তু আমাদের প্রস্তুতি আছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, জাতিসংঘ এখন নখদন্তহীন। ইসরায়েল তাদের কথা শোনে না। বড় বড় দেশগুলোও শোনে না।

এ সময় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক, সুজিত রায় নন্দী, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, উপ প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল আউয়াল শামীম উপস্থিত ছিলেন।


আরও খবর

সপ্তাহ জুড়ে ভারী বৃষ্টির আভাস

বৃহস্পতিবার ১১ জুলাই ২০২৪




ছাত্রদলের পদবঞ্চিত হয়ে ককটেল বিস্ফোরণ: গ্রেপ্তার ২

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৯ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ |

Image
নিজস্ব প্রতিনিধি::

বিএনপির নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় ছাত্রদলের দুই সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদককে গ্রেফতার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

 গ্রেফতারকৃতরা হলেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মারজুক আলামিন (৩৫) ও মো. জহির হাসান মোহন (৩৬)। তারা ছাত্রদলের নতুন কমিটির পদবঞ্চিত বলে জানা গেছে। 

জানা যায়, গত ২৫ জুন নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পরপর কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পথচারীসহ কয়েকজন আহত হন। পরে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। পদবঞ্চিতরা ক্ষুব্ধ হয়েই বিএনপির পার্টি অফিসের সামনে ককটেল হামলা করে। এ ঘটনায় পল্টন থানায় বিস্ফোরক আইনে মামলা হয়। এরপর ঘটনা তদন্তে নামে পুলিশ।
 
পুলিশ জানায়, সেদিন ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা হওয়ার পর কেন্দ্রীয় কমিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বিকেলে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যান। আর নিচে কয়েকজন নেতাকর্মী অবস্থান করছিলেন। সন্ধ্যার দিকে দুদফায় ৬টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যান তারা। ককটেল বিস্ফোরণে বেশ কয়েকজন সাধারণ পথচারী আহত হন। ২০০ এর বেশি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ, তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা এবং প্রকাশ্য ও গোপন অনুসন্ধানের মাধ্যমে হামলাকারীদের শনাক্ত করে এবং গত ৩ জুলাই তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ।
 
পুলিশ জানায়, ঘটনার আগেরদিন বিকেলে পদবঞ্চিত নেতা সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আল আমিন রমনা পার্কের গেটসংলগ্ন এলাকায় পদবঞ্চিত অন্তত ২০ জনকে নিয়ে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে ছিলেন জাহিদুল ইসলাম রঞ্জু, রনি, আজহার হোসেন, ইমরান নওশাদ, সম্রাট, আল আমিন। সেখানে পার্টি অফিসের সামনে নাশকতার ছক করা হয়। 

পুলিশ আরও জানায়, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ছাত্রদলের পদবঞ্চিত নেতারা নতুন কমিটিকে মানসিকভাবে চাপে ফেলতে এবং নতুন কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হতে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ৮ জন সাবেক নেতা নিয়োজিত ছিল। ঘটনার আগেরদিন বিকেলে পদবঞ্চিত নেতা সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আল আমিন রমনা পার্কের গেটসংলগ্ন এলাকায় পদবঞ্চিত অন্তত ২০ জনকে নিয়ে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে ছিলেন জাহিদুল ইসলাম রঞ্জু, রনি, আজহার হোসেন, ইমরান নওশাদ, সম্রাট, আল আমিন। সেখানে পার্টি অফিসের সামনে নাশকতার ছক করা হয়। ভাগ করে দেয়া হয় প্রত্যেকের দায়িত্ব। সে অনুযায়ী ককটেল সংগ্রহ এবং হামলার দায়িত্ব নেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আল আমিন এবং সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র নাদির শাহ পাটোয়ারী। ককটেল বিস্ফোরণ ঘটাতে ব্যবহার করা হয় দুটি মোটরসাইকেল। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
 
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশীদ জানান, বিষয়টিকে অনেকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছিল।  তবে নতুন কমিটিকে না মানার জের ধরে এ ঘটনা ঘটে।    

আরও খবর



ডিআইজি জামিলের অবৈধ সম্পত্তি অনুসন্ধানে দুদকে আবেদন আইনজীবীর

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৪ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১২ জুলাই ২০২৪ |

Image



বিডি টুডেস রিপোর্ট:


পুলিশের বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি জামিল হাসানের অবৈধ সম্পত্তি অনুসন্ধানে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আবেদন করেছেন সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী। 


বুধবার (৩ জুলাই) দুদক চেয়ারম্যান বরাবর আইনজীবী মো. জিয়া উদ্দিন এ আবেদন করেন। 



গত ২২ জুন দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় ‘ডিআইজি জামিল হাসান যেন আরেক ভূস্বামী’ শীর্ষক রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ডিআইজি জামিল হাসান ২০২১ সালে র‌্যাব-৮ এর বরিশালে কমান্ডিং অফিসার হিসেবে চাকরি করার সময় তিনি গোপালগঞ্জের সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদের জমি কিনতে তদারকি করেছেন। 



এই অবস্থায় ডিআইজি জামিল হাসানের বিষয়ে বেনজীর আহমেদের অবৈধ সম্পত্তি অনুসন্ধানের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে তার অবৈধ সম্পত্তির বিষয়ে অনুসন্ধান করা আবশ্যক। চিঠিতে বলা হয়, যথাযথ অনুসন্ধানের উদ্যোগ গ্রহণ করে জানানোর জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।



প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ডিআইজি জামিল হাসান রিসোর্ট করার জন্য উজিরপুরের সাতলা ইউনিয়নের দক্ষিণ রাজাপুর গ্রামের একটি মাঠই কিনে ফেলেছেন। সেখানে তিনি একটি রিসোর্ট বানানোর কার্যক্রম শুরু করেছেন। 



অন্তত ৪০ একর অর্থাৎ ১২০ বিঘার মতো জমি কিনেছেন গত তিন-চার বছরে। আগে এগুলো ছিল ধানি জমি।


বর্তমানে ওই জমির একটা অংশ ভরাট করা হয়েছে। বাকি জমি ভরাটের কাজ চলছে। ভরাট করা জমিতে একটি টিনশেড বানানো হয়েছে। সেখানে মুরগি পালন করেন ওই জমির দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তাকর্মী। এর পাশেই আছে অন্তত ৩৬ বিঘা জমির উপর গরুর খামার। এর সঙ্গে আছে গরুর হাট, যে হাট থেকে ইজারা নেন তারাই। 



তার এসব জমি বরিশালের উজিরপুর উপজেলায়। এর বাইরে ঢাকায় তার আছে দু’টি ফ্ল্যাট, এর একটিতে তার পরিবার বসবাস করে। অন্যটি প্রস্তুত হচ্ছে। গত চার-পাঁচ বছরের মধ্যে তিনি এই সম্পদ করেছেন।



বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে ২০তম ব্যাচে এএসপি হিসেবে জামিল হাসান যোগদান করেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর তাকে আর ফিরে তাকাতে হয়নি। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় চাকরি করেছেন তিনি। ছিলেন ক্ষমতার সর্বোচ্চ মহলের আশপাশে। 



চার বছরেরও বেশি সময় তিনি ফরিদপুরের এসপি হিসেবে দাপটের সঙ্গে চাকরি করেছেন। ২০২১ সালে তিনি র‌্যাব-৮ এর (বরিশাল) কমান্ডিং অফিসার হিসেবে চাকরি করার সময় গোপালগঞ্জে সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদের জমি কেনাতে তদারকি করেছেন।



 সে সময়ের পুলিশ প্রধানের বিশ্বস্ত হওয়ার কারণে তার প্রভাব ছিল অনেক বেশি। অধস্তন পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনি চরম দুর্ব্যবহার করেছেন।



আরও খবর



সুফিবাদ চর্চা বিবেক জাগ্রত হয়

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৫ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ |

Image

মাজহারুল ইসলাম মাসুম : সাংবাদিক, লেখক ও গবেষক :

আত্মার মাধ্যমে মন দেহের সার্বিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে। আবার মন হলো তত্ত্ব, তত্ত্ব মানে জ্ঞান। অর্থাৎ জ্ঞানই সব পরিচালনা করে। মানব হল সত্তা। এর দুটো অংশ। একটি আত্মা, অপরটি মন; যা দেহে অবস্থান করে। দেহ, আত্মা ও মনের সমন্বয়ে পূর্ণ মানব। মনের অন্য রূপ হলো বিবেক। বিবেক দ্বারা সে সত্য মিথ্যার পার্থক্য নিরূপণ করে। বিবেকের অপর নাম চেতনা। চেতনা হল একটি শক্তির নাম, এই শক্তি সুপ্তভাবে প্রতিটি মানবের মধ্যে বিদ্যমান। যিনি এই শক্তিকে জাগ্রত করতে পারে, তিনি মহা শক্তিধর আল্লাহর সাথে সংযোগ স্থাপন করতে পারে। অন্তর্নিহিত এ শক্তিকে জাগ্রত করার জন্য প্রয়োজন ধর্ম। অর্থাৎ ধর্মচর্চা। ধর্ম মানুষকে প্রাকৃতিকতা শিক্ষা দেয়, ধর্ম সুবুদ্ধিতে নিরন্তর চর্চায় রাখে।

ধর্মের দুটো দিক। একটি আনুষ্ঠানিকতা, অপরটি আধ্যাত্মিকতা। আনুষ্ঠানিকতা হলো ধর্মের বাইরের বাতাবরণ। অর্থাৎ বইয়ের মলাটের মত। এর ভেতরেই রয়েছে ধর্মের প্রকৃত রূপ; যার নাম আধ্যাত্মিকতা। আনুষ্ঠানিকতা অংশ নিয়ে বিভিন্ন জাতি, গোষ্ঠীর মধ্যে মতপার্থক্য দেখা যায়, এমনকি একই ধর্ম অনুসরণকারীদের মধ্যেও মতবিরোধ দেখা যায়। এ নিয়ে দ্বন্দ্ব সংঘাতেও লিপ্ত হয়। অপরদিকে আধ্যাত্মিকতা সকল ধর্মের মানুষ গ্রহণ করে। এর সাথে কারো মতবিরোধ নেই, সে যেই ধর্মের হোক না কেন।

মূলত ধর্ম প্রাকৃতিকতার সাথে সম্পর্কিত একটি বিষয়। প্রাকৃতিকতা ব্যতীত প্রকৃতির মালিকের সন্ধান পাওয়া যায় না। প্রাকৃতিকতা ধারণের নামই আধ্যাত্নিকতা। আধ্যাত্মিকতা ইতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি করে, বিবেককে জাগ্রত করে। ইসলাম ধর্মসহ পৃথিবীর সকল ধর্মই নৈতিকতা তথা সত্যকে ধারণ ও মিথ্যাকে বর্জনের শিক্ষা দিয়েছে। ধর্ম কখনো অনৈতিকতাকে সমর্থন করেনি, এখনো করে না,এবং ভবিষ্যতেও করবে না। প্রকৃতির নিয়মে সৃষ্টির মধ্যে একে অপরের সাথে আন্তসংযুক্ত,একে অপরের উপর নির্ভরশীল, আত্মার সাথে সম্পর্কিত। এমনকি আল্লাহর সাথেও সংযোগকৃত ও সম্পর্কিত। আর মানুষ মানুষে সম্পর্ক তো আছেই। সম্পর্কিত বলেই অপরের ব্যথায় ব্যতীত ও সুখে আনন্দিত হয়। ধরি কেউ একজন বাংলাদেশে খাদ্য গ্রহণ করছেন, এমতবস্থায় সংবাদ মাধ্যমে শুনতে পেয়েছেন যে আমেরিকায় বিমান দুর্ঘটনায় অনেক লোক প্রাণ হারিয়েছেন। সাথে সাথে মনের ভেতর বিরুপ প্রভাবসহ খাদ্য গ্রহণে অস্বস্তিবোধ হয়। এথেকে বোঝা যায়একে অপরকে না চিনলেও পারস্পারিক আন্ত:সম্পর্ক ও আন্তঃসংযোগ আছে। ধর্ম এটিকে অটুট রাখতে শিক্ষা দেয়,বিচ্ছিন্ন হতে দেয় না। সমগ্র বিশ্ব হল একটি পরিবারের মতো। তাই কর্তৃত্ব নয় বরং সহযোগিতা ও সহমর্মিতার মাধ্যমে (এ বন্ধনকে) অটুট রাখতে ধর্ম সহায়তা করে। এইজন্য যুগে যুগে যুগসংস্কারকসহ আল্লাহর আউলিয়াগণ বিভিন্ন তরিকা ও দর্শনের মাধ্যমে আধ্যাত্মিক জ্ঞান ও বেলায়েতের শক্তি দিয়ে মানবকে ধর্মচর্চায় প্রভাবিত ও উদ্বুদ্ধ করে। আধ্যাত্মিক জ্ঞানের (শক্তির) প্রভাবে মানবের অহংকারকে ভেঙ্গে চূর্ণবিচূর্ণ করে। এবং মনুষ্যত্ব ধারণে সহায়তা করে।

আবার অন্যদিকে কতকব্যক্তি ধর্মকে বিশ্বাস করেন, গ্রহণ করেন ও ধর্মগ্রন্থকে সম্মান করেন কিন্তু এটি যে একটি জ্ঞানগ্রন্থ তা বুঝে উঠতে পারে না। কারণ এদেরকে কিছু ধর্মব্যবসায়ী অন্ধকারে নিমজ্জিত করে রেখেছে।এই শ্রেণীর লোক সমাজে বেশি। আবার কতক ব্যক্তি আছেন যারা মুখে ধর্মের কথা বলে কিন্তু ধর্ম ধারণ করে না। এরা ধর্মকে পেশা ও ব্যবসা হিসেবে নেয়। সামান্য স্বার্থের জন্য ধর্মকে অনৈতিক কর্মে ব্যবহার করে। ধর্মের লেবাস পরিধান করে মানুষ মানুষে বিভেদ বিচ্ছিন্ন করে। সব ধর্মের অনুসারীদের মধ্যেই এরকম কিছু ধর্ম ব্যবসায়ী আছে, যাদের কারণে অতি উৎসাহী কিছু লোক না বুঝে, কিংবা বুঝে অথবা পরিকল্পিতভাবে ধর্ম নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করে। উভয়ই জন্তু থেকেও অধম। এরা সমাজ রাষ্ট্র সহ সকলের জন্য ক্ষতিকর।

অথচ ধর্মের মূল শিক্ষা হচ্ছে বিভেদ বিচ্ছিন্নতা নয়, সহযোগিতা ও সহমর্মিতার মাধ্যমে সংযুক্তি; কর্তৃত্ব ও প্রভুত্ব নয় বরং একে অপরের ভাই মনে করে সেবার মানসিকতা নিয়ে সমগ্র বিশ্বকে একটি পরিবার মনে করে এবং সহযোগিতার মাধ্যমে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখা।এর নাম সুফিবাদ। এজন্য যুগে যুগে ধর্মকে হৃদয়ে ধারণ করে সুফি সাধকগণ প্রেম, বিনয়, উদারতার মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন সমাজকে একত্রিত থাকার শিক্ষা দেন। সকল ধর্মই শান্তির কথা বলে। তবে সর্বশেষ অতি সহজ, আধুনিক যুগোপযোগী ও বৈজ্ঞানিক ধর্মের নাম ইসলাম। ইসলাম শব্দের অর্থই হলো শান্তি।পূর্ণ শান্তি ও জীবন ব্যবস্থার নাম ইসলাম। ইসলাম দিয়েছে সকল ধর্মানুসারীদের নিরাপত্তার অধিকার, স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকার, সম্পত্তিতে নারীদের অধিকার, নারীদের দিয়েছে (শালীনতার ভিত্তিতে) ব্যবসাসহ কর্ম করার অধিকার।

 সার্বিকভাবে সর্ব বিষয়ে উদারতার শিক্ষা দিয়েছে। সুফিরা বলেছেন, প্রয়োজনে নিজস্বার্থ কিছু ত্যাগ করে হলেও শান্তি প্রতিষ্ঠা করার নাম ইসলাম। আর কিছুলোক নিজস্বার্থের জন্য ধর্মকে রাজনৈতিকভাবে অনৈতিক কর্মে ব্যবহার করে।তারা ইসলামকে রাজনৈতিক দলে পরিনত করেছে। আর এই কুকর্মগুলো করা হয় ধর্মের দোহাই দিয়ে। এর চেয়ে জঘন্য ও নিকৃষ্ট কর্ম আর কী হতে পারে! এদের কারণে বিশ্ব সমপ্রদায় মনে করে ইসলাম মানে জঙ্গিবাদ, মারামারিহানাহানি, হিংসা, বিভেদ বিচ্ছিন্নতা। ইসলাম মানে ওজনে কম দেয়া, অকারণে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করা।ফলে ইসলামসহ শান্তির বার্তাবাহক, আধ্যাত্মিক শক্তির অধিকারী, মানবকুলসহ সমগ্র সৃষ্টি জগতের রহমত হিসেবে (আল্লাহর পক্ষ থেকে) প্রেরিত হযরত আহম্মদ মোস্তবা মোহাম্মদ মোস্তফা (দ.)কে তারা নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখে। এজন্য আমরাই দায়ী। তাই ধর্মকে আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এর ভাব ও নৈতিকতাকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। যাঁরা ধর্মের নৈতিকতা ও ভাব হৃদয়ে ধারণ করে, তাঁদের দ্বারা সমাজে কখনো অকল্যাণ হতে পারে না। ন্যূনতমও যে ধর্ম ধারণ করে, সে কখনো ওজনে কম দিতে পারে না, অকারণে দ্রব্য মূল্য বৃদ্ধি ও গুদামজাত করতে পারে না, সে খাদ্যে ভেজাল দিতে পারে না, রমজান মাসে অতিরিক্ত মুনাফা করতে পারে না। ধার্মিক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে বাজার নিয়ন্ত্রণে এনে মূল্য বৃদ্ধি করে না, বরং অল্প মুনাফা করে সন্তুষ্ট থাকে। তাঁরা দেশের দুর্যোগ ও খাদ্য সংকটকালে গুদামজাত না করে রাষ্ট্র, সরকারের সাথে একত্রিত হয়ে জনগণের কষ্ট দূরীকরণে ভূমিকা রাখে। এঁরাই ধার্মিক। এঁদের উপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হয়।

 ধর্ম ধারণকারীর প্রতিটি কর্মে প্রাকৃতিকতা প্রকাশ পায়। তাঁর দ্বারা কখনো প্রকৃতির দূষণ হতে পারে না, অপ্রয়োজনে বৃক্ষ কর্তন করে অক্সিজেন ধ্বংস করে না। পাহাড় কেটে প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট করে না, (পাহাড় ভূমির ভারসাম্য রক্ষা করে এবং ভূকম্পন নিয়ন্ত্রণে রাখে, পাহাড় কর্তনে পরিবেশ ভারসাম্য হারায়। ফলস্বরূপ অতিমাত্রায় ভূকম্পন হয়, অতিবর্ষণে পাহাড় ধসে অসংখ্য মানুষের মৃত্যু হয়), সে পানি দূষণ করে না। সুফিবাদ চর্চা বিবেককে জাগ্রত হয়। ফলে সে সত্যমিথ্যার প্রভেদ বুঝতে পারে। সবসময় যেকোনো কর্মে সতর্ক থাকে। তাঁর আল্লাহভীতি ও প্রেমানুভূতি জন্মে। ফলে আল্লাহ ধর্মে যা করার নির্দেশনা দিয়েছেন, যা করতে নিষেধ করেছেন এসব পালনে সতর্ক থাকে। সুফিবাদি মানুষের বিবেক সব সময় কথা বলে। যেটা মানবের জন্য কল্যাণকর তা করা এবং অমঙ্গলজনক কর্ম না করার জন্য ভেতর থেকে নির্দেশনা দেয়। আল্লাহভীতির কারণে সে জানে কৃতকর্মের জন্য আল্লাহর নিকট জবাবদিহি করতে হবে। তাই এক প্রকার দায়িত্ববোধ জন্মে। ফলে কোনো অনৈতিক কর্ম করার পূর্বে একবার চিন্তা করে। বিবেক প্রতিনিয়ত তাকে দংশন করে। হৃদয়ের গভীর থেকে অদৃশ্য শক্তি কিংবা কে যেন বলে দেয় এটি মন্দ কর্ম, এটি করিও না। আধ্যাত্মিকতা ধমের্র মূল অংশ।

আধ্যাত্মিকতা আত্মসম্পর্কিত ইবাদত। এটি আত্মাকে আলোকিত করে, আত্মাকে মহাত্মার সাথে সম্পর্ক স্থাপনে সহায়তা করে। প্রেমাগুণ দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে। আর এই কর্মটি করতে সহজ হয় যদি কোনো কামেল পীরের সংস্পর্শে করা যায়। একজন আধ্যাত্মিক মুরশিদ  জ্ঞান, সংস্পর্শ, অনুগ্রহ দ্বারা ভক্ত শিষ্যের প্রেমাগুণকে প্রজ্জ্বলিত করে, এবং প্রেমাগুণে পুড়ে তাকে প্রকৃত মানবে পরিণত করে। এর নাম সালাত।এর নাম এবাদত। প্রেমাগুণে জ্বলে আত্মাকে ভস্ম করে আলোকিত করার নাম সালাত। এটি আমিত্ব, অহংকারসহ নফসকে পুড়ে ছাই করে দেয়, সর্বপ্রকার অপকর্ম থেকে দূরে রাখে।পবিত্র কোরআন শরীফে আছে,ইন্নাস সালাতা তানহা অনিল ফাহসাই ওয়াল মুনকার অর্থাৎ নিশ্চয় নামাজ মানুষকে খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে। একজন কামেল মুরশিদ শিক্ষা ও দীক্ষা দিয়ে পাপিষ্ট ব্যক্তিকে অনৈতিক কর্ম থেকে বিরত রাখা সহ আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে। এবং তাঁকে এমন এক নেশায় আসক্ত করে, যে নেশায় মত্ত হয়ে প্রতিনিয়ত আল্লাহর নৈকট্যতা পাওয়ার জন্য ব্যাকুল থাকে। যে নেশায় সকালে আসক্ত হলে রাতে শেষ হয়ে যায় সেটি প্রকৃত নেশা নয়। এটি ভোগের নেশা। অতএব এমন নেশায় আসক্ত হও যে নেশায় একবার মত্ত হলে পরমকে না পাওয়া পর্যন্ত কাটে না, এটি হলো প্রেমের নেশা। পার্থিব নেশায় আসক্ত হলে জ্ঞান, বিবেক, বুদ্ধি সবই লোপ পায়।

যে প্রেমাস্পদকে ভালোবাসে, সে আল্লাহর সৃষ্টির প্রতিটি বস্তুকে ভালোবাসে। সুফিসাধকগণ আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন কীভাবে প্রকৃতিকে ভালবাসতে হয়, প্রকৃতির সেবা করতে হয়। যে প্রকৃতি ও প্রকৃতির ভাষা বোঝে না, প্রকৃতির ঋণ অস্বীকার করে; সে কখনো স্রষ্টার অনুগ্রহ পায় না।সে স্রষ্টা থেকে অনেক দূরে। প্রকৃতি প্রেমব্যতীত স্রষ্টাপ্রেমী হওয়া যায় না। ধর্মের (সূফীবাদ) চর্চা মানুষকে প্রকৃতির প্রেমে উদ্বুদ্ধ করে, নীরবতা, নির্জনতার দিকে নিয়ে যায়। অপ্রয়োজনীয় কথা ও কর্ম থেকে বিরত রাখে। আবার প্রয়োজনে সঠিক সময়ে সত্য কথা বলে, মিথ্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে। এজন্য বর্তমানে আধুনিক, শান্তিপূর্ণ ও সভ্য সমাজ বিনির্মাণে সুফিবাদ চর্চার বিকল্প নেই। কোনো ধর্মই কখনো দেশ ও সমাজের বিন্দুমাত্র ক্ষতি হয় এরকম অনৈতিক শিক্ষা দেয় না। ধর্ম ন্যায়ের কথা বলে, জ্ঞানের কথা বলে, সত্যের কথা বলে, মানবকল্যাণের কথা বলে ;সর্বোপরি সুবুদ্ধির কথা বলে। সুবুদ্ধির মধ্যে সত্য নিহিত। সুবুদ্ধির বর্ণনা দিতে গিয়ে মাইজ ভান্ডার দরবার শরীফের মহান সুফিসাধক সৈয়দ সাইফ উদ্দিন আহমেদ আল মাইজ ভান্ডারী বলেন, সুবুদ্ধিতে খোদা, সুবুদ্ধিতে রাসুল (দ.),সুবুদ্ধিতে ইসলাম, সুবুদ্ধিতে কোরআন, সুবুদ্ধিতে ঈমান, সুবুদ্ধিতে মানবতা। সুফিবাদ ধারণ করলে মানুষ সুবুদ্ধির পথে অগ্রসর হয়। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় সুবুদ্ধির বিকল্প নেই।

ধর্মে বিশ্বাসী ব্যক্তির মধ্যে একদিকে আল্লাহ ভীতি, অন্যদিকে আল্লাহর প্রেম সৃষ্টি হয়। ভীতির কারণে অনৈতিক কর্ম থেকে দূরে থাকে। কারণ সে জানে একদিনে পরকালে তাকে জবাবদিহি করতে হবে। তাই সদা সর্বদা সতর্ক থাকে। অপরদিকে প্রেমের কারণে সমগ্র সৃষ্টির কণায় কণায় স্রষ্টার অস্তিত্ব উপলব্ধি করে। ফলে সে সৃষ্টির প্রতি সদয় হয়।এবং প্রেমাস্পদের স্মরণে সদা সর্বদা মগ্ন থাকে। অতএব যে ধর্মের আনুষ্ঠানিকতা ও আচারিকতাকে প্রাধান্য দেয়, মূলভাব (নৈতিকতা) হৃদয়ে ধারণ করে না, তার অনুভূতি জাগ্রত হয় না। অনুভূতি ব্যতীত উপলব্ধি আসে না, উপলব্ধি ব্যতীত জ্ঞানচক্ষু ফোটে না,আত্মা পরিশুদ্ধ ও আলোকিত হয় না। আর পরিশুদ্ধ আত্মাই মহাত্মার সাথে মিলন করতে পারে। তাই বিশ্বে সাম্যবাদ ও শান্তি ফিরিয়ে আনার অন্যতম ও উৎকৃষ্ট উপায় হলো সূফীবাদ চর্চা।


আরও খবর