Logo
শিরোনাম
শবে বরাত পালন মুসলিম জাতিকে একতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে। ৫৭ তম খোশরোজ শরীফ ও মইনীয়া যুব ফোরামের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন বাঙালি সাংস্কৃতিতে মাইজভাণ্ডারী ত্বরীকার সাথে সম্পর্ক রয়েছে সীমান্তে হত্যা বন্ধের দাবীতে প্রতীকী লাশ নিয়ে হানিফ বাংলাদেশীর মিছিল লক্ষ্মীপুরে কৃষক কাশেম হত্যা: স্ত্রী, শ্বশুরসহ গ্রেপ্তার ৫ কুমিল্লা সিটি’র উপনির্বাচন: মেয়র পদে প্রতীক বরাদ্দ অবৈধ মজুদকারীরা দেশের শত্রু : খাদ্যমন্ত্রী ফতুল্লায় সিগারেট খাওয়ার প্রতিবাদ করায় কিশোরকে পিটিয়ে হত্যা বকশীগঞ্জে মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা নোবিপ্রবিতে সিএসটিই এলামনাই এসোসিয়েশনের নতুন কমিটি গঠন

ভারতে সুড়ঙ্গে আটকা ৪১ জনকেই উদ্ধার

প্রকাশিত:বুধবার ২৯ নভেম্বর ২০২৩ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ |

Image

ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের উত্তরকাশীতে ধসে পড়া সিল্কিয়ারা টানেলের ভেতর আটকে পড়া ৪১ শ্রমিকের সবাইকে সফলভাবে উদ্ধার করা হয়েছে। ১৭ দিনের রুদ্ধশ্বাস এক অভিযানে মঙ্গলবার (২৮ নভেম্বর) তাদের উদ্ধার করা হয়েছে বলে খবর দিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। উদ্ধারকাজে নিয়োজিত কর্মকর্তারা বলেছেন, শ্রমিকদের সবাই সুস্থ ও সবল আছেন।

এনডিটিভি বলছে, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যার পর সিল্কিয়ারা টানেলের ভেতর থেকে শ্রমিকদের এক এক করে বের করে আনা হয়েছে। ১২ নভেম্বর থেকে আটকে থাকা শ্রমিকদের বের করে আনতে ৬০ মিটার লম্বা একটি পাইপ স্থাপন করা হয়। এই পাইপের মধ্যে দিয়ে বিশেষভাবে তৈরি চাকাচালিত স্ট্রেচারে করে শ্রমিকদের বাইরে নিয়ে আসা হয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও উৎকণ্ঠার মাঝে ১৭ দিনের দুঃস্বপ্নময় এক যাত্রার পর বাইরের আলোর মুখ দেখছেন এই শ্রমিকরা।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্রমিকদের উদ্ধারে প্রথমে পাইপটি দিয়ে টানেলের ভেতরে যান বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন উদ্ধারকারীরা। কীভাবে চাকাচালিত স্ট্রেচারে করে বের হতে হবেসে ব্যাপারে আটকে পড়া শ্রমিকদের নির্দেশনা দেন তারা। এ ছাড়া শ্রমিকদের স্বাস্থ্যও পরীক্ষা করেন। এরপর তাদের স্ট্রেচারে শুইয়ে দেওয়া হয়। শোয়ানোর পর বাইরে থেকে স্ট্রেচার টেনে টেনে শ্রমিকদের বের করে আনা হয়।

ভারতীয় এই সংবাদমাধ্যম বলছে, উদ্ধারকাজ ধীরে ধীরে পরিচালনা করা হয়; যাতে শ্রমিকরা বাইরে এসে আগে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারেন। বর্তমানে সেখানকার তাপমাত্রা ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

মঙ্গলবার বিকেলের দিকে উদ্ধারকারীরা জানিয়েছিলেন, পাইপ স্থাপনের যেসব কাজ ছিল সেগুলো সম্পন্ন করা হয়েছে। নিষিদ্ধ র‌্যাট-হোল মাইনিং কৌশল ব্যবহার করে পাইপ স্থাপনের সর্বশেষ পর্বটি সম্পন্ন করা হয়। হাত দিয়ে পাইপ স্থাপন শুরুর আগে আমেরিকার তৈরি অগার ড্রিলিং মেশিন ব্যবহার করে ড্রিল করে পাইপের বেশিরভাগ অংশ বসানো হয়েছিল। কিন্তু গত শুক্রবার মেশিনটি ভেঙে যাওয়ার পর র‌্যাট-হোল মাইনিং সম্পর্কে জানা বিশেষজ্ঞ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা বাকি কাজ সম্পন্ন করেন।

এর আগে, টানেলের উদ্ধার অভিযানের সমন্বয়ক ও জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (এনডিআরএফ) সদস্য লেফটেনেন্ট জেনারেল (অব.) সৈয়দ আতা হাসনাইন বলেছিলেন, তারা শ্রমিকদের উদ্ধারের কাছাকাছি চলে এসেছেন। কিন্তু পুরো উদ্ধার অভিযান শেষ হতে বুধবার সারারাত লাগতে পারে। তবে তিনি সারারাতের কথা বললেও ওই সময় শ্রমিকদের বরণ করে নেওয়ার সব প্রস্তুতি নিতে দেখা যায়। যার মধ্যে ছিল জরুরি চিকিৎসাসেবাও।

শ্রমিকদের বের করার সঙ্গে সঙ্গে যেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দেওয়া যায় সেজন্য টানেলের ভেতর একটি অস্থায়ী হাসপাতাল স্থাপন করা হয়। এ ছাড়া তাদের জন্য অক্সিজেন সেবাযুক্ত ৪১ বেডের একটি হাসপাতালও প্রস্তুত করে রাখা হয়।

দেশটির বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, শ্রমিকরা সরকারি কর্মকর্তা এবং উদ্ধারকারীদের সঙ্গে হাসছেন, করমর্দন করছেন। ওই সময় শ্রমিকদের পুরো স্বাভাবিক দেখা যায়। শ্রমিকরা দাঁড়িয়েই অন্যদের সঙ্গে কথাবার্তা বলছিলেন। এরপর তাদের অ্যাম্বুলেন্সে করে উত্তরাখণ্ডের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

সূত্র : এনডিটিভি


আরও খবর

অনুমতি ছাড়া হজ করলে শাস্তি ঘোষণা

শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪




নওগাঁয় ২০ কোটি টাকা নিয়ে উধাও হলো কর্ণফুলী সমবায় সমিতি

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ |

Image

সিনিয়র রিপোর্টার :

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলা সদর মডেল স্কুলের মোড় এলাকায় অফিস খুলে পাঁচশত গ্রাহকের প্রায়  ২০ কোটি টাকা নিয়ে আত্মসাথের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কর্ণফুলী সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতির সভাপতি আশরাফুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানার বিচার সহ পাওনা টাকা ফেরতের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা। বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টারদিকে নওগাঁ জেলা সদর উপজেলার সার্কিট হাউজ এর সামনে এ মানববন্ধনের আয়োজন করেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা। কর্ণফুলী সমবায় সমিতির সভাপতি আশরাফুল ইসলাম মহাদেবপুর উপজেলার উত্তর গ্রাম ইউনিয়ন এর বামনসাতা গ্রামের খোদা বক্স মন্ডলের ছেলে। নওগাঁর বেশ কয়েক টি উপজেলায় কর্ণফুলী নামে শাখা পরিচালিত হতো বর্তমানে সেই শাখা গুলোও তালাবদ্ধ।

ভুক্তভোগী জনসাধারণ ব্যানারে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে মোঃ সাঈদ হোসেনের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন, বামনসাতা গ্রামের রবিউল ইসলাম, গোলাম মোস্তফা, রুকসানা পারভীন, উম্মে হাবিবা, লিটন হোসেন, মিলন, রেজাউল করিম প্রমুখ। তারা বলেন, প্রতি লাখে দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা লাভ দেওয়ার কথা বলে অত্র সমিতি তে সঞ্চয় রাখার উৎসাহ প্রদান করে। আমরা সঞ্চয়ের টাকা উত্তোলন করতে চাইলে আজ নয় কাল বা পরশু আসেন বলে কাল ক্ষেপন করতে থাকেন আশরাফুল ইসলাম। এমন নানা অজুহাতে নির্ধারিত সময়ে টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও দেননি। এ ব্যাপারে প্রতিকার চেয়ে নওগাঁ জেলা প্রশাসক ও জেলা সমবায় অফিসার দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা। 

অভিযোগ কারীদের একজন মান্দা উপজেলার বাসিন্দা মোহাম্মদ লিটন হোসেন বলেন, তাকে প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা করে লাভ দেওয়ার কথা বলে ১০ লাখ টাকা সঞ্চয় করান। কয়েক মাস লাভ দেওয়ার পর সেটি বন্ধ করে দেন। এরপর সঞ্চয়ের টাকা ফেরত চাইলে বিভিন্ন তালবাহানা শুরু করেন। বার বার তাগাদা দেওয়া সত্বেও একটি টাকাও ফেরত পাননি তিনি। গত ৭ দিন ধরে সভাপতি, সম্পাদক সকল স্টাফ সবাই উধাও। 

নওগাঁর বদলগাছি উপজেলার বাসিন্দা মিলন হোসেন বলেন, মাসে মাসে লভ্যাংশ পাওয়ার জন্য এক বছর আগে কর্ণফুলী সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতির সভাপতির হাতে ১০ লাখ দিয়েছিলাম। আমাকে এখন আর লভ্যাংশ দেন না টাকা ফেরত চাইলে বিভিন্ন তালবাহানা করেন এখন দেখি অফিস বন্ধ। বার বার ধরনা দিয়েও কোন কাজ হয়নি। টাকা দিয়ে এখন আমি পরিবার পরিজন নিয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছি। মহাদেবপুর, মান্দা পোরশা, সাপাহার, বদলগাছিও পত্নীতলা উপজেলার পাঁচশত মানুষ এভাবে লাভের আসায় টাকা দিয়ে ধরা খেয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার আশরাফুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সেটি বন্ধ থাকায় তার কোন বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।


আরও খবর



ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় এসএসসি পরীক্ষার্থীকে হত্যা

প্রকাশিত:শনিবার ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪ |

Image

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় নিরব আহমেদ (১৭) নামের এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শ্রীনগর উপজেলার কাজী ফজলুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত নিরব শ্রীনগর উপজেলার মধ্য কামারগাঁও এলাকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে। সে লৌহজং পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে শ্রীনগর উপজেলার কাজী ফজলুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা চলাকালীন ওই বিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্রীকে উত্যক্ত করে কয়েকজন যুবক। এ সময় নিহত নিরব ও তার সহপাঠীরা ঘটনার প্রতিবাদ করে।

এ ঘটনার জের ধরে শুক্রবার বিকালে শ্রীনগর উপজেলার কামারগাঁও এলাকায় আড্ডা দেওয়ার সময় নিরব ও তার সহপাঠীদের উপর অতর্কিত হামলা চালায় ইভটিজিংকারীরা।

এ সময় নিরবকে ধারালো ছুড়ি দিয়ে মাথা ও পিঠে আঘাত করে ইভটিজিংকারী প্রতিপক্ষরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা নিরবকে গুরুতর আহত অবস্থায় শ্রীনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক নিরবকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আব্দুল্লাহ আল তায়াবীর জানান, ইভটিজিংয়ের ঘটনার প্রতিবাদ করায় নিরবকে ছুরিকাঘাত করে প্রতিপক্ষরা পালিয়ে যায়। পরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারে মাঠে কাজ করছে পুলিশ।

 


আরও খবর



আইনের কঠোর প্রয়োগ না থাকায় বাড়ছে চালের দাম

প্রকাশিত:বুধবার ৩১ জানুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ |

Image

চলতি বছরের শুরু থেকেই অস্থিরতা লেগে আছে দেশের মানুষের প্রধান খাদ্যপণ্য চালের বাজারে। মন্ত্রী-সচিবদের হুমকি-ধমকি এবং মন্ত্রণালয় ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের অভিযানসহ সরকারের নানা পদক্ষেপেও স্বস্তি ফিরছে না। অভিযানের পর পাইকারি চালের বাজারে তাৎক্ষণিক নামমাত্র দাম কমলেও এর প্রভাব নেই খুচরা বাজারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধু ভয় দেখালে হবে না, আইনের কঠোর প্রয়োগ করতে হবে।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, মোটা চাল (স্বর্ণা ও চায়না ইরি) বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৫০-৫৩ টাকায়। মাঝারি মানের চাল (পাইজাম ও বিআর ২৮) ৫২-৫৭ টাকা এবং সরু চাল (মিনিকেট ও নাজিরশাইল) ৬৫ থেকে ৭৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে কিছু হাস্কিং মিলের মোটা চাল ৪২-৪৫ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে। অথচ চলতি জানুয়ারি মাসের শুরুর দিকেও এসব চালের দাম প্রতি কেজিতে ১০ টাকা কমে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

চালের মূল্য নিয়ন্ত্রণে আনতে জোরেসোরেই মাঠে নেমেছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। চালের অবৈধ মজুত প্রতিরোধে নিয়মিত মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অভিযান চালানো হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে সোমবার (২৯ জানুয়ারি) সারাদেশে কয়েক ডজন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়। মাগুরা জেলায় ৩৭টি প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ফুডগ্রেইন লাইসেন্স না থাকায় ৯ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জয়পুরহাটে ৪৩টি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়। অতিরিক্ত মজুত রাখায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া দিনাজপুরে ৬২টি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ফুডগ্রেইন লাইসেন্স না থাকায় চার হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। নেত্রকোণায় ২২টি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়। এসময় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মূল্যতালিকা ও ফুডগ্রেইন লাইসেন্স না থাকায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি মাঠে কাজ করছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। দাম নিয়ন্ত্রণে নিজেই সরাসরি বাজারে যাচ্ছেন অধিদফতরের মহাপরিচালক এ এইচ এম শফিকুজ্জামান। সম্প্রতি অভিযান পরিচালনার সময় তিনি বলেন, সরকারকে বিব্রত অবস্থায় ফেলতেই অযৌক্তিকভাবে চালের দাম বাড়ানো হয়েছে। ডিসেম্বরের পর হঠাৎ চালের দাম বেড়ে গেছে। এটি উত্তরাঞ্চলের মিলগুলো থেকে করা হয়েছে। মিল মালিকরা বলতে চাচ্ছেন ধানের দাম বেড়ে যাওয়ায় তারা এটা করেছে। তবে ধানের দাম বাড়লেও সেই ধানের চাল বাজারে আসার কথা বৈশাখ মাসে। একটি অসাধু চক্র এর আগেই দাম বাড়িয়েছে। আর যারা এটা করছে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে শনিবার (২৭ জানুয়ারি) বরিশালের ফরিয়াপট্টি, চকবাজার এলাকার পাইকারি বাজার পরিদর্শন করেন এ এইচ এম শফিকুজ্জামান। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপের সময় তিনি বলেন, এসএমএসের (ক্ষুদে বার্তা) মাধ্যমে ডিম, ব্রয়লার মুরগির মতো চালের বাজারও অস্থির করে দেওয়া হচ্ছে। মাঝে মাঝে সুযোগ নিয়ে ১৭ কোটি ভোক্তাকে প্রতারিত করছে ক্ষুদ্র কয়েকটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী। এর আগে আলু, ব্রয়লার মুরগি, ডিম নিয়ে যা করছে আজ চাল, কাল পেঁয়াজ নিয়েও তা করা হচ্ছে। আর এদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান রয়েছে আমাদের।

এদিকে না শোধরালে মজুতদারদের জেলে পাঠানোর হুমকি দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। রোববার নওগাঁয় এক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, দেশে খাদ্য শস্যের কোনো ঘাটতি নেই। সাধারণ মানুষের জন্য সরকারিভাবে ওএমএস চালু আছে। ডিজিটাল কার্ড প্রস্তুত হয়েছে। শিগগিরই ডিজিটাল কার্ডের মাধ্যমে ওএমএস বিতরণ করা হবে। এতে এক ব্যক্তি বারবার চাল নিতে পারবেন না। চালের দাম সহনীয় পর্যায়ে আনতে হলে ব্যবসায়ীদের অধিক লাভের মনোভাব পরিবর্তন করতে হবে। চালের দাম বৃদ্ধির পেছনে মিলার, পাইকারি, খুচরা ব্যবসায়ী ও করপোরেট সবার দায় রয়েছে। ফুডগ্রেইন লাইসেন্স স্পটে গিয়ে দেওয়ার জন্য কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে। অনেকেই আবার ইউনিয়ন পরিষদ থেকে একটা লাইসেন্স নিয়ে কোটি কোটি টাকার পণ্য মজুত করে ফেলেন। এটা তো হতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন, মজুত, স্থানান্তর, পরিবহন, সরবরাহ, বিতরণ ও বিপণন (ক্ষতিকর কার্যক্রম প্রতিরোধ) আইন ২০২৩ পাস হয়েছে। বিধি প্রণয়নের কাজ চলছে। এটি সংসদে অনুমোদন পেলে অবৈধ মজুতদারদের বিরুদ্ধে আরও শক্ত পদক্ষেপ নেওয়া যাবে। শুধু জরিমানা করেই ছাড় নয়, অবৈধ মজুতদারেরা না শোধরালে তাদের জেলে যেতে হবে।

চালের মূল্য বৃদ্ধির মধ্যে বাজারে সরবরাহের কোনো সংকট নেই জানিয়ে খাদ্যসচিব ইসমাইল হোসেন বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে আসতে বাধ্য। না আসার কোনো কারণ নেই। সারাদেশে খাদ্যের কোনো সংকট নেই। আমন মৌসুম শেষ হলো। সুতরাং ভরা মৌসুমে চালের সংকট নেই। খাদ্যের সংকট হবে এমনটিও ভাবার কোনো কারণ নেই। যদি পরিস্থিতি এমন হয় মজুতদারেরা মূল্য কমাতে চাচ্ছে না, তাহলে জিরো ট্যাক্স করে আমরা বিদেশ থেকে চাল আমদানির অনুমতি নিয়ে নেব। তাহলে মজুতদারেরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

অপরদিকে, বাংলাদেশ রাইস মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি জাকির হোসেন রনি  বলেন, দীর্ঘদিন আইনের কঠোর প্রয়োগ না থাকার কারণে অসাধু ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তাদের লাগাম টানতে হবে।

এ বিষয়ে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস চেয়ারম্যান এস এম নাজের হোসাইন বলেন, এখনও চালের বাজারে কোনো নিয়ন্ত্রণ নাই। এখন খাদ্য মন্ত্রণালয় যে অভিযান চালাচ্ছে তার কোনো ইম্পেক্ট খুচরা বাজারে নাই। তারা যে পরিসরে অভিযান পরিচালনা করছে তা খুবই নগণ্য।

তিনি আরও বলেন, আমরা সরকার দুইটা বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছি। একটা হচ্ছে এই অভিযানটা খাদ্য মন্ত্রণালয় একা না করে জেলা প্রশাসক, ভোক্তা অধিদফতরসহ যেসব সংস্থা আছে তাদেরকে নিয়ে সমন্বিতভাবে যদি এটা করতো তাহলে এটার ফলোআপ থাকত। এখন মন্ত্রণালয় থেকে যেখানে যাচ্ছে পরবর্তীতে সেখানে আর কোনো ফলোআপ নাই। আরেকটা বিষয় হচ্ছে, ব্যবসায়ীদেরকে লাইসেন্সের আওতায় নিয়ে আসতে হবে এবং আইনে যে বিষয়গুলো বলা আছে তার কঠোর প্রয়োগ করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে আইন প্রয়োগ হয় নাই। যার কারণে তারা বেপরোয়া হয়ে গেছে। এখন যে হাঁকডাক দেওয়া হচ্ছে, ব্যবসায়ীরা তো জানে এই হাঁকডাক দুই-চার দিন থাকবে, তারপর আবার স্বাভাবিক। এজন্য আর হাঁকডাক না দিয়ে যদি অ্যাকশনে যাওয়া যায় তবে এর সুফল পাওয়া যাবে।


আরও খবর



নওগাঁর সংগ্রামী নারী মরিয়ম নারীদের এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরনা

প্রকাশিত:সোমবার ২৯ জানুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ |

Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, সিনিয়র রিপোর্টার :

নওগাঁর সংগ্রামী নারী মরিয়ম নারীদের এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরনা।

অতিথি পাখির কলরব, পানির কলকল শব্দ আর দূর থেকে ভেসে আসা মাঝির গানে নওগাঁ জেলা সদর উপজেলার হাঁসাইগাড়ী বিলে এক অন্যবদ্য প্রাকৃতিক মনোরম দৃশ্য ফোটে উঠেছে। নওগাঁ শহর থেকে ২৫কিলোমিটার দূরে প্রায় ৬ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে হাঁসাইগাড়ী বিল অবস্থিত। প্রতি নিয়তই বিভিন্ন স্থান থেকে বিলের সৌন্দর্য্য দেখতে দূর দূরান্ত থেকে মানুষের ঢল নামে। সেই হাসাই গাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের মেঠো পথের প্রাকৃতিক পরিবেশে বড় হয়ে উঠেছেন অদম্য নারী সংগ্রামী মরিয়ম আক্তারী। হাসাইগাড়ি গ্রামের শাহাদত হোসেন এর স্ত্রী মরিয়ম আক্তারী'র দু' ছেলে। বড় ছেলে পড়ালেখা শেষ করে বেসরকারী একটি কোম্পানীতে চাকরী করছেন আর ছোট ছেলে ডিপ্লোমায় পড়ালেখা করছে। 

নারী সংগ্রামী মরিয়ম আক্তারী জানান ছোট বেলা থেকেই দূরন্ত প্রকৃতির সঙ্গে গ্রামের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ঘুরে বেরিয়েছেন সব সময়। তিনি ভাই-বোনদের মধ্যে সবার ছোট। ছোট বেলা থেকেই পরোপকারী অন্যের কষ্ট দেখে নিজেকে ধরে রাখতে পারতেন না। চঞ্চল ছোট সেই মেয়েটি কে এখন সবাই গ্রামের এক সংগ্রামী নারী হিসেবে চেনে। পুরো পরিবারের সহযোগিতা নিয়ে তিনি গরীব-দুঃখিদের পাশে থেকে সব সময় নিজের সাধ্যমতো সহযোগিতা করে আসছেন। পিছিয়ে পড়া নারীদের সামনের দিকে এগিয়ে নিতে কাজ করে আসছেন বছরের পর বছর। নওগাঁ সদর উপজেলার হাসাইগাড়ি ইউপির অপরাজিতা সদস্য মরিয়ম অপরাজিতা প্রশিক্ষণ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং নিজেকে অধিদপ্তরের লাইভস্টক প্রভাইডর হিসেবে নিজ ইউনিয়নে গোবাদী পশু পালনে সহায়তা করছেন। 

তিনি আরো জানান, ইতো মধ্যেই তিনি  প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের সরকারী সহায়তা উন্নত পশু পালনের জন্য ১৪০টি পরিবারে নূন্যতম ৩ হাজার ৪শ' টাকা থেকে ২২ হাজার টাকা পর্যন্ত এক কালীন অনুদান প্রদান করেছেন। ৬শ' ১০ টি পরিবারের কৃমিমুক্ত গোবাদি পশু পালনে কৃমির ঔষধ বিনামূলে বিতরন করেছেন এবং ৩শ' জন কৃষকের নাম তালিকা ভুক্ত করেছেন যাদের আগামী এপ্রিল-২০২৪ থেকে উন্নত প্রযুক্তিতে গরু পালনের প্রশিক্ষণ প্রদাণ করবেন। তিনি প্রতিটি ওর্য়াডে নারীদের একটি করে টিম করে দিয়েছে প্রশিক্ষণের জন্য যাতে করে কোনো নারীই বেকার না থাকে। তিনি চেষ্টা করছেন গ্রামের মেয়েদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী করতে। তিনি শুধু প্রণোদনায় নয় প্রতিটি ওয়ার্ডে সরকারী আইনী সহায়তা, বাল্যবিয়ে, মাদক, মহামারি করোনা ভাইরাস সচেতনতা বিষয়ক উঠান বৈঠক করে থাকেন। দূর-দূরান্তে প্রতিদিন পথ হেটে চলেছে নারীদের অধিকার আদায়ের জন্য।  

মরিয়ম আক্তারীর স্বপ্ন সম-অধিকার আদায়ের সংগ্রামে এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাচনে সাধারণ আসন থেকে ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্ব›দ্বীতা করবেন বলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। একটি সমতার সমাজ যেখানে, ব্যবধান থাকবে না নারী আর পুরুষের মাঝে, নারীদের কাজে সহায়তা করবে পুরুষ উভয়ে মিলে-মিশে গড়বে এমন এক সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন মরিয়ম আক্তারীর হৃদয়ে। তিনি মনে করেন, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের সিঁড়ি। নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন প্রতিষ্ঠা করতে হলে নারীকে অর্থনৈতিক সাবলম্বিতা অর্জন করতে হবে। অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নারীকে স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার জন্য উপযুক্ত করে গড়ে তোলে।

নওগাঁ জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ আবু তালেব জানান মরিয়ম সমাজের সকল নারীর জন্য একটি অনুপ্রেরণার বাতিঘর। তাকে দেখলে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সাহস মনে জন্ম নেয়। তাই জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পক্ষ থেকে সব সময় মরিয়মকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে। আগামীতেও মরিয়মদের মতো এগিয়ে যাওয়া নারীদের সার্বিক সহযোগিতা প্রদান অব্যাহত থাকবে। 


আরও খবর



জোট গঠনে মরিয়া নওয়াজ শরিফ

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪ |

Image

পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন)। কিন্তু সরকার গঠন করতে কমপক্ষে ১৩৪ আসন দখল করতে হবে। তাই জোট গঠন করতে হবে রাজনৈতিক দলগুলোকে।

আর এ কারণেই জোট গঠন করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন পিএমএল-এন সুপ্রিমো নওয়াজ শরিফ। তিনি বলেছেন, জোট সরকারের জন্য তার দল পিপিপি, এমকিউএম-পি, জেআইআই-এফের সঙ্গে যোগাযোগ করছে।

নওয়াজ শরিফ বলেছেন, তিনি তার ছোট ভাই শাহবাজকে জোট সরকার গঠনের জন্য পির আসিফ আলী জারদারি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের ফজলুর রেহমান এবং এমকিউএম-পির খালিদ মকবুল সিদ্দিকীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছেন।

পিএমএল-এন নেতা আরও বলেছেন, পাকিস্তান বর্তমানে যে সমস্যার মধ্যে রয়েছে তা থেকে বের করে আনতে সব রাজনৈতিক দলের একসঙ্গে বসে সরকার গঠন করা দরকার।

পাকিস্তানকে এই সংকট থেকে বের করে আনতে দেশের সব প্রতিষ্ঠান, প্রত্যেকের একসঙ্গে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করা উচিত উল্লেখ করে নওয়াজ বলেন, এটা সবার পাকিস্তান, শুধু পিএমএল-এনের নয়। সবার উচিত মিলেমিশে বসে পাকিস্তানকে সমস্যা থেকে বের করে আনা।

এর আগে ইমরানপন্থি স্বতন্ত্র প্রার্থীদেরকে তার দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। নির্বাচনে জয়লাভের জন্য স্বতন্ত্র প্রার্থীদের তাদের অভিনন্দনও জানিয়েছেন নওয়াজ শরিফ।


আরও খবর

অনুমতি ছাড়া হজ করলে শাস্তি ঘোষণা

শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪