Logo
শিরোনাম

বাংলায় ইসলাম প্রচারে সুফীদের ভূমিকা

প্রকাশিত:রবিবার ২০ মার্চ ২০22 | হালনাগাদ:রবিবার ১৪ জুলাই ২০২৪ |

Image

মুসলিম বণিক সম্প্রদায়ের মাধ্যমেই সর্বপ্রথম বাংলাদেশে ইসলামের সূচনা হয় এবং প্রচার, প্রসার ও প্রতিষ্ঠা লাভ করে আলেম ও সুফি সাধকদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও ঐকান্তিক নিষ্ঠার ফলে। আরব, ইয়েমেন, ইরাক, ইরান, খোরাসান, মধ্য এশিয়া ও উত্তর ভারত থেকে আলেম ও সুফীগণ বাংলায় আগমন করেন। ইসলাম প্রচার ও প্রসারের ক্ষেত্রে তারা এক অবিস্মরণীয় অবদান রাখেন। তাঁদের চারিত্রিক মাধুর্যে উজ্জীবিত হয়ে হিন্দু ও অন্যান্য সম্প্রদায় দলে দলে ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় নেয়।

স্বাভাবিক কারণেই তৎকালীন হিন্দু ও অন্য শাসকবর্গ ইসলাম প্রচারকদের উপর ক্ষেপে উঠেন এবং সুফীদের উপর অকথ্য নির্যাতন চালাতে থাকেন। কাজেই প্রচার কাজে নিয়োজিত সুফীগণ ও তাদের শিষ্যদের সমভিব্যাহারে সমস্ত রাজাদের বিরুদ্ধে অসি চালনা করতে হয়েছিল। এ ময়দানে অনেকে হয়েছেন শহীদ আবার অনেকে হয়েছেন গাজী।

বাংলায় মুসলিম বিজয়ের পূর্বে যে সকল সুফীগণ ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে এদেশে আগমন করেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হচ্ছেন:

শাহ মুহাম্মদ সুলতান রুমী: বাঙ্গালার সুবাদার শাহসুজার সনদপত্রে উল্লেখিত হয়েছে যে, শাহ মুহাম্মদ সুলতান রুমী ১০৫৩ সালে তাঁর মুরশিদ সৈয়দ শাহ সুখখুল আনাতিয়াসহ ময়মনসিংহ জেলার মদনপুরে আসেন। মদনপুরেই তাঁর মাযার বিদ্যমান।

শাহ সুলতান বলখী মাহী সাওয়ার: তিনি প্রথমে ঢাকার হরিরামপুর নগর এবং পরে বগুড়া জেলার মহাস্থানগড়ে ইসলাম প্রচার করেন। মৎস্যাকৃতি নৌকায় সমুদ্রপথে বাংলায় আগমন করার কারণে তিনি মাহী সাওয়ার ওলী নামে খ্যাত।

বাবা আদম শহীদ: রাজা বল্লাল সেনের শাসনামলে (১১৫৮-৭৯) তিনি ঢাকা জেলার বিক্রমপুর পরগণার আবদুল্লাহপুর গ্রামে ইসলাম প্রচার করতে আসেন। যুদ্ধে তিনি শহীদ হন এবং এখানেই তাঁর মাযার অবস্থিত।মাখদুম শাহ দৌলা শহীদ: ইয়ামেনের অধিবাসী মাখদুম শাহ দৌলা এক বোন, তিন ভাগিনা ও বহু শিষ্যসহ পাবনা জেলার শাহজাদপুর অঞ্চলে আগমন করেন। ইসলাম প্রচারের এক পর্যায়ে স্থানীয় হিন্দু রাজার সাথে এ দরবেশের যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে মাখদুম শাহসহ ২১ জন মুজাহিদ শহীদ হন। এরপর সমগ্র বগুড়া অঞ্চলে ইসলাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

শাহ নেয়ামতুল্লাহ বুতশিকন: মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠার বহু আগে শাহ নিয়ামতুল্লাহ ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে ঢাকায় আসেন। ঢাকা নগরীর সন্নিহিত এলাকায় তিনি ইসলাম প্রচার করেন। একদা হিন্দুরা তাঁর ইবাদতে বিঘ্ন ঘটালে তিনি ক্রুদ্ধ দৃষ্টিতে হিন্দুদের মূর্তির প্রতি অঙ্গুলি নির্দেশ করতেই মূর্তিগুলো ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যায়। এরপর হিন্দুরা দলে দলে ইসলাম গ্রহণ করে। ঢাকার দিলকুশায় তাঁর মাযার অবস্থিত।

সৈয়দ নাসিরউদ্দীন শাহ আউলিয়া: তিনি দিনাজপুর জেলার প্রাচীনতম ইসলাম প্রচারক। ওই অঞ্চলে তিনি সৈয়দ নেকমদ’বা নেকবাবা বলে পরিচিত।

জালালুদ্দীন তাবরিযী: পারস্যের তাবরিজ নগরে জন্মগ্রহণকারী জালালুদ্দীন তাবরিজী সুলতান গিয়াস উদ্দীন খিলজীর শাসনামলে তৎকালীন বাংলার রাজধানী মালদহ জেলার লাখনৌতি নগরে উপনীত হন এবং রাজধানী থেকে ১৭ মাইল দূরে পান্ডুয়ায় আস্তানা স্থাপন করেন। বাংলার উচ্চশ্রেণীর হিন্দু ও বৌদ্ধসমাজ তাঁর দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়। মুসলিম বিজয়ের পূর্বে আরো যে সকল সুফী এদেশে আগমন করেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মাখদুম শাহ, গজনবী, বায়েজীদ বোস্তামী, শায়খ ফরিদ উদ্দীন শকরগঞ্জ প্রমুখ।

মুসলিম বিজয়ের পর যে সকল সুফী-আলেমগণ ইসলাম প্রচারের জন্য এদেশে আগমন করেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:

শেখ শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামা: বুখারার অধিবাসী সুফী শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামা বিহারের মানের হয়ে বাংলার সোনারগাঁও আসেন সুলতান বুগরাখান ও সুলতান রুকনউদ্দীন কায়কাউসের শাসনামলে। তিনিই প্রথম এদেশে বোখারী শরীফ নিয়ে আসেন। সোনারগাঁও-এ তিনি ইসলামী শিক্ষার কেন্দ্র গড়ে তোলেন। ১৩০০ সালে ইন্তেকালের পর সোনারগাঁও-এ তিনি সমাধিস্থ হন।

শরফুদ্দীন এহিয়া মানেরী: বিহারের অধিবাসী মানেরী ১৫ বছর বয়সে শায়খ শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামার সাথে সোনারগাঁও-এ আসেন। মানেরী ছিলেন সোনারগাঁও শিক্ষা কেন্দ্রের জ্ঞানের নিদর্শন।

মাওলানা আতা: ১৩০০ থেকে ১৩৫০ সালের মধ্যে মাওলানা আতা দিনাজপুরে ইসলাম প্রচার করেন। ১৩৬৩ সালে নির্মিত একটি গৃহের শিলালিপিতে তাঁকে ইসলামের বিশেষ পন্ডিত এবং সত্য ও ধর্মের প্রদীপ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

হযরত শাহাজালাল ইয়ামেনী: পূর্ববাংলায় ইসলাম প্রচারের প্রধান পথিকৃত এই সনামধন্য সুফী দরবেশ ১৩০৩ সালে রাজা গৌড়গোবিন্দকে পরাজিত করে সিলেট অধিকার করেন। এই যুদ্ধে তাঁর সিপাহসালার ছিলেন সৈয়দ নাসির উদ্দীন। মুসলিম আনুমানিক ১৩৪৭ সালে সিলেটেই ইন্তেকাল করেন। বিশ্ব পর্যটক ইবনে বতুতা বলেন, বাংলার অধিকাংশ লোক তাঁর হাতে ইসলাম গ্রহণ করেন। সিলেটে তাঁর মাযার অবস্থিত।

সাইয়েদ আহমদ কল্লা শহীদ: তিনি শাহজালালের অন্যতম শিষ্য ছিলেন। পরগনায় ইসলাম প্রচার করতে গিয়ে হিন্দু রাজা আচক নারায়ণের সাথে যুদ্ধে শহীদ হন। ভক্তরা তাঁর কর্তিত মস্তকের সন্ধান পেয়ে তা আখাউড়ার খড়মপুর গ্রামে সমাধিস্থ করেন। আর একারণেই তিনি কল্লা শহীদ নামে পরিচিত।

শাহ মাখদুম রূপোশ: বর্তমান রাজশাহী জেলার পূর্বনাম ছিল মহাকাল গড়। ১২২৫ সালে বাগদাদ থেকে ইসলাম প্রচার করতে এসে তিনি মহাকাল গড় জয় করেন এবং এখানে ইসলাম প্রচার করেন। ১৩০৩ সালে তিনি ইন্তেকাল করেন।

শেখ নূর কুতুবুল আলম: তিনি ছিলেন বাংলার ইলিয়াছশাহী বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের সহপাঠী। তিনি তৎকালীন অবৈধ, কুখ্যাত রাজা গণেশের পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দেন।

খাজা খানজাহান আলী: সর্বজনমান্য দরবেশ হিসেবে সুপরিচিত খানজাহান আলীই দক্ষিণ বঙ্গজয়ের কৃতিত্বের অধিকারী। পরবর্তী ইলিয়াস শাহী বংশের শাসনামলে তিনি দক্ষিণবঙ্গ জয় করেন।

এ দরবেশ শাসনকর্তা বাগেরহাট শহর নির্মাণ করেন, এবং ঐ অঞ্চলের নামকরণ করেন খলিফতাবাদ, বহু রাস্তা, দীঘি, মসজিদ, শিক্ষালয় এবং বাগেরহাটের ষাট গুম্বুজ মসজিদ তিনিই নির্মাণ করেন।

শাহআলী বাগদাদী শাহআলী বাগদাদী বাংলায় আসেন ১৪৮৯ সালে। দিল্লী হয়ে প্রথমে তিনি ফরিদপুর আসেন। পরে তিনি ঢাকার আশে-পাশে ইসলাম প্রচার করেন। ঢাকার মিরপুরে তাঁর মাজার রয়েছে।

মুসলিম বিজয়ের পর আরও যারা ইসলাম প্রচার করেছেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন,

উলুগ-ই-আজম হুমায়ন জাফরখান বাহরাম: তিনি দিনাজপুরের দেবীকোট অঞ্চলে ইসলাম প্রচার করেন। পীর বদরুদ্দীন ইসলাম প্রচার করেন দিনাজপুরের হেমতাবাদ নামক স্থানে।

সৈয়দ জালালুদ্দীন বুখারী: ইসলাম প্রচার করেন রংপুর জেলার মাহীগঞ্জে। ৪০ জন ইসলাম প্রচারকের একটি দল দিনাজপুর অঞ্চলে ইসলাম প্রচার করেন, যাদেরকে চিহিল গাজী বলা হতো।

খাজা চিশতী বেহেশতী আকবরের শাসনামলে ঢাকায় ইসলাম প্রচার করতে আসেন। ঢাকার হাইকোর্টের পার্শ্বে তার সমাধি রয়েছেন। এরা ব্যতীত আরো রয়েছেন সায়্যিদ আব্বাস আলী মক্কী, শাহ সুফী শহীদ, শায়খ আবদুল্লাহ কিরমানী, মাওলানা তাকিউদ্দীন আরাবী, শাহতুর্কান শহীদ, পীর বদর আলম, শেখ রোজা বিয়াবানী, আখি সিরাজউদ্দীন উসমান, শেখ আলাউল হক, শাহ আফজল মাহম্মুদ শায়খ জালাল হালবী, শাহ সুলতান আনসারী, শাহ চাঁদ আওলিয়া।

হাজী শরীয়াতুল্লাহ (রহ.) ১৭৮০ সালে মাদারীপুর মহকুমার শামাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ইংরেজ শাসন ও তৎকালীন হিন্দু জমিদারদের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন পরিচালনা করেন। তিনি ইসলামের সংস্কার করেন এবং ভন্ডপীর ও বেদাতীদের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করেন। তাঁর পরিচালিত আন্দোলন ফরায়েজী আন্দোলন নামে পরিচিত।

মাওলানা আবুবকর সিদ্দিক (রহ.) ১৮৪১ সালে কলকাতার হুগলী জেলার ফুরফুরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। সুফী ফতেহ আলীর নিকট তিনি বয়াত গ্রহণ করেন। মাওলানা আবুবকরের সংস্কার ছিল বহুমুখী ও গঠনমূলক।

মাইজভান্ডারী দরবার শরীফের প্রতিষ্টাতা শাহসূফী সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারীর। কথিত আছে, তার পুর্বপুরুষ সৈয়দ হামিদ উদ্দীন গৌড়ি ১৫৭৫ সালে ইসলাম প্রচার মানসে চট্টগ্রামে আগমন করেন। এবং পটিয়া থানার কাঞ্চননগরে বসতি স্থাপন করেন। তার এক পুত্র সন্তান সৈয়দ আবদুল কাদের ফটিকছড়ি থানার আজিম নগরে ইমামতির দায়িত্ব নিয়ে বসতি স্থাপন করেন। তার প্রপৌত্র মওলানা সৈয়দ মতি উল্লাহর পবিত্র ঔরসে  শাহসুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী ১৮২৬ খ্রিষ্টাব্দ মোতাবেক বাংলা ১২৩৩ সনের ১ মাঘ রোজ বুধবার জোহরের সময় চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি থানার মাইজভান্ডার শরীফ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মাওলানা শাহসুফ সৈয়দ মতিউল্লাহ এবং মাতার নাম সৈয়দা খাইরুন্নেসা বেগম।

মাওলানা নেছার উদ্দীন (রহ.) বরিশালের বর্তমান পিরোজপুর জেলার ছারছীনা গ্রামে তাঁর জন্ম। তিনি ফুরফুরার আবু বকর সিদ্দিকের শিষ্য ছিলেন। বাংলায় ইসলামী শিক্ষা বিস্তারে তাঁর অবদান সবচেয়ে বেশি। তিনি হাজার হাজার মসজিদ, মাদরাসা ও খানকা প্রতিষ্ঠা করেন।

মাওলানা সৈয়দ এছহাক (রহ.) বরিশালের চরমোনাইতে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি চরমোনাইতে একটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে ইসলাম প্রচার করেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত চরমোনাইতে বর্তমানে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইসলামী সম্মেলন অুনষ্ঠিত হয়ে থাকে। এছাড়া বাংলায় ইসলাম প্রচারে আরো যাদের অবদান রয়েছে তাঁদের মধ্যে রয়েছেন, মাওলানা আবদুল্লাহাহিল কাফি (রহ.), মাওলানা সামছুল হক ফরিদপুরী (রহ.), মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহ হাফেজ্জী হুযুর (রহ.), কিশোরগঞ্জের মাওলানা আতাহার আলী (রহ.), চট্টগ্রামের খতীবে আযম মাওলানা ছিদ্দিক আহমদ (রহ.), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাওলানা তাজুল ইসলাম (রহ.), সিলেটের মাওলানা সৈয়দ আবদুল করিম শায়খে কৌড়িয়া (রহ.) প্রমুখ।


আরও খবর



তিস্তা নিয়ে ভারতের সঙ্গে কাজ করতে চীনের সম্মতি

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৪ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ১৪ জুলাই ২০২৪ |

Image



বিডি টুডেস রিপোর্ট:



তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রকল্পে ভারতের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে চীনের কোনও আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।



তিনি বলেন, ‘সরকারের যেকোনো সিদ্ধান্ত আমরা সম্মান করব। এ প্রকল্প নিয়ে প্রস্তাব দিয়েছিলাম আমরা, এখনো বাংলাদেশের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়।’



বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) কূটনীতিক সাংবাদিকদের সংগঠন ডি ক্যাব আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।


ইয়াও ওয়েন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে এদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, কৃষি সহযোগিতা, ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট, ডিজিটাল ইকোনোমি, শিক্ষা, গণমাধ্যমের সঙ্গে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হবে। 



এছাড়াও দুই দেশের জনগণের মধ্যে সংযোগ বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হবে। আবার রোহিঙ্গা সংকট আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পাবে।

 

তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে চীনের রাষ্ট্রদূত বলেন, এ নদী বাংলাদেশের নদী। অতএব তিস্তা প্রকল্প নিয়ে বাংলাদেশকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যেকোনো সিদ্ধান্ত আমরা সম্মান করব।



 তিস্তা নিয়ে প্রস্তাব দিয়েছিলাম আমরা। আমরা এখনও বাংলাদেশের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তিস্তা নিয়ে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। আমরা সেটা সম্পন্ন করি। যে পক্ষই এ প্রকল্পে কাজ করুক, দ্রুত শেষ হোক সেটা আমরা চাই।


 উত্তরের সমস্যার দ্রুত সমাধান হোক সেটা আমরা চাই। আর তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রকল্পে ভারতের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে রাজি আছে চীন।  

 

চীনা রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, বাংলাদেশকে উদীয়মান অর্থনীতির দেশ হিসেবে দেখে চীন। এ ধারাবাহিকতায় উন্নয়ন চলতে থাকলে আগামী ৫ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় হবে ৪ হাজার ডলার।



 আন্তর্জাতিক নানা ইস্যুতে বাংলাদেশ ও চীনের দৃষ্টিভঙ্গি একই। ফলে আমাদের সম্পর্কের একটি কমন জায়গা রয়েছে।



মিয়ানমারে যুদ্ধ থামাতে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে কথা বলছে চীন- যা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পথ উন্মুক্ত করবে এ কথা জানিয়ে ইয়াও ওয়েন বলেন, দেশটির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হয়ে পড়েছে। কিন্তু যত জটিলই হোক, আমরা চেষ্টা করে যাব যুদ্ধবিরতি আনার। 



যুদ্ধবিরতি না হলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কঠিন। আমরা আরাকান আর্মির সঙ্গেও কথা বলেছি এ বিষয়ে। আরাকান আর্মিসহ সব আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ রয়েছে।


তিনি আরও বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের কারণে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে তৃতীয়পক্ষীয় আলোচনা সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। 



তবে এটিকে আমরা বন্ধ বলতে চাই না। এটাও নিশ্চিত নই যে, কবে প্রত্যাবাসন শুরু হবে। আমরা চেষ্টা করছি যাতে, গৃহযুদ্ধ থামে এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের দ্বার উন্মুক্ত হয় বলেও জানান তিনি। 


আরও খবর



ভারতের বিপক্ষে হারের কারণ ব্যাখ্যা করলেন তামিম

প্রকাশিত:রবিবার ২৩ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ১৪ জুলাই ২০২৪ |

Image



বিডি টুডেস ক্রীড়া ডেস্ক:


সুপার এইটে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতের দেওয়া ১৯৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৪৬ রান তুলতে পারে বাংলাদেশ। 


এতে ৫০ রানে পরাজিত হয় শান্ত বাহিনী। এই ম্যাচে টাইগারদের রান তাড়ার অ্যাপ্রোচ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল।


শনিবার (২১ জুন) ক্রিকইনফোর ম্যাচ পরবর্তী লাইভ অনুষ্ঠানে তামিম বলেন, আমার মনে হয়; অ্যাপ্রোচের দিক থেকে বাংলাদেশ দল হেরেছে। ভারতের কুলদ্বীপ যাদব ভালো বোলিং করেছে। কিন্তু বাংলাদেশের ব্যাটারদের অ্যাপ্রোচের কারণেই সে লুপ এবং ফ্লাইট দিতে পেরেছে...।


‘শুরু থেকে আমার মনেই হয়নি তারা (বাংলাদেশের ব্যাটাররা) রান তাড়া করছে। বাংলাদেশ হয়তো ১৪৬ রান করেছে। কিন্তু রিশাদ হোসেনের ১০ বলে ২৪ রান তাদের ওই পর্যায়ে নিয়ে গেছে। আমার কোনও পয়েন্টেই মনে হয়নি বাংলাদেশ রান তাড়া করছিল।’


পুরো টুর্নামেন্টে ব্যাটাররা যখন রান তুলতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন টস জিতে ভারতের বিপক্ষে বোলিং বেছে নেওয়ায় অনেকের মতোই অবাক হয়েছেন তামিম ইকবালও। তিনি বলেন, পুরো আসরেই বাংলাদেশের ব্যাটিং হতাশাজনক। এখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর উপায় খুঁজে বার করতে হবে।


আবারও সাকিবকে খোঁচা মারলেন শেবাগ

‘ব্যাটাররা যখন রান করে, তখন ১৬০-১৭০ রান তাড়া করা যায়। কিন্তু যখন আপনি জানেন ব্যাটাররা হিমশিম খাচ্ছে... আমি অবাক হয়েছিল বাংলাদেশ আগে বোলিং নেওয়ায়। এই ম্যাচে দলের অনেকগুলো সিদ্ধান্ত আমাকে অবাক করেছে।’


এ ছাড়া একাদশ থেকে তাসকিনকে বাদ দেওয়ায় অবাক হয়েছেন তামিম। এই বাঁহাতি ব্যাটার বলেন, তাসকিন না খেলায় আমি অবাক হয়েছি। দুই স্পিনার (সাকিব ও মাহেদী) অনেক রান খরচ করেছে। একটা সময় তানজিম সাকিবের জোড়া শিকারে চাপে পড়ে গিয়েছিল ভারত।


‘তাসকিন থাকলে ওই সময় বাংলাদেশ ভারতকে আরও বেশি আক্রমণ করতে পারতো। আমরা শিভব দুবের শর্ট বলে দুর্বলতার কথা জানি। ওই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য যথেষ্ট গতি ছিল তাসকিনের।’


মোস্তাফিজকে ভালো ব্যবহার করতে না পারা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক টাইগার অধিনায়ক। তামিম বলেন, বাঁহাতি ফাস্ট বোলিংয়ের বিপক্ষে রোহিতের দুর্বলতার কথা অনেকেই বলেন। ম্যাচে এটার একটা প্রভাব পড়তে পারতো। বাংলাদেশ শুরুটা করতে পারতো বাঁহাতি পেসারকে দিয়েই।


`ভারত ১৯৬ রান করেছে ঠিকই, কিন্তু রোহিত যেভাবে শুরুটা করে দিয়েছে সেটা তার দলের জন্য কাজে দিয়েছে। তানজিদ আগের ম্যাচগুলোতে নতুন বলে ভালো করেছে।



 কিন্তু তাকে নতুন বল দেওয়া হয়নি। কেন আপনাকে শুরু একজনের (রোহিত) জন্য পুরো সেটআপ বদলাতে হবে, যখন কেউ (তানজিম) অসাধারণ বোলিং করছে?'



আরও খবর



প্লাটিনাম জয়ন্তীতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানালো আওয়ামী লীগ

প্রকাশিত:রবিবার ২৩ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ |

Image



বিডি টুডেস ডিজিটাল ডেস্ক :


আওয়ামী লীগের গৌরবোজ্জ্বল প্লাটিনাম জয়ন্তী, অর্থাৎ ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন দলটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।


রোববার (২৩ জুন) সকাল ৭টায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।



প্রথমে প্রধানমন্ত্রী ও পরে আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান শেখ হাসিনা।


প্লাটিনাম জয়ন্তীতে সূর্যোদয়ের সময় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।


এ দিন সকাল সাড়ে ১০টায় গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনকের সমাধিতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিদল শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করবে।


এছাড়া বিকেল ৩টায় ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এ সভায় শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করবেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা, আমন্ত্রিত অতিথিসহ দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা অংশ নেবেন।



আরও খবর



সিলেট-সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

প্রকাশিত:বুধবার ১৯ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ১৪ জুলাই ২০২৪ |

Image

প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সিলেট ও সুনামগঞ্জের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। বন্যায় সিলেট নগরী, সুনামগঞ্জ শহর ও দুই জেলার সবকটি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

এই দুই জেলার গুরুত্বপূর্ণ সব নদী বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলা পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো)। আজ মঙ্গলবার ভোর থেকে আগামী ৭২ ঘণ্টা সিলেট বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সুরমা নদী আজ বিকেল ৩টায় সিলেটের কানাইঘাট উপজেলা পয়েন্টে ১৩১ সেন্টিমিটার, সিলেট নগর পয়েন্টে ২৫ সেন্টিমিটার, সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলা পয়েন্টে ১৬০ সেন্টিমিটার, সুনামগঞ্জ শহর পয়েন্টে ৬৪ সেন্টিমিটার এবং দিরাই উপজেলা পয়েন্টে ৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

একই সময়ে কুশিয়ারা নদী সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার অমলসীদ পয়েন্টে ৩৯ সেন্টিমিটার, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা পয়েন্টে ৮৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সিলেটের সারি-গোয়াইন নদী জৈন্তাপুর উপজেলার সারিঘাটে বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার এবং গোয়াইনঘাট উপজেলায় ৩০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বাপাউবোর দেওয়া তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটের লালাখালে ৩৩৩ মিলিমিটার, জাফলংয়ে ৩২৭ মিলিমিটার, কানাইঘাটে ১৯১ মিলিমিটার, জকিগঞ্জে ১৯১ মিলিমিটার, সিলেট নগরীতে ১০০ মিলিমিটার, সুনামগঞ্জের লাউড়ের গড়ে ১৫৯ মিলিমিটার এবং সুনামগঞ্জ শহর ও ছাতকে ৯৫ মিলিমিটার করে বৃষ্টিপাত হয়েছে।

একই সময়ে বাংলাদেশের উজানে ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে ৩৯৮ মিলিমিটার, আসামের ধুব্রিতে ১২১ মিলিমিটার এবং গোয়ালপাড়ায় ১১৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যার ঢল আজ সকাল থেকে সিলেট ও সুনামগঞ্জে প্রবেশ করছে।


আরও খবর



প্রধানমন্ত্রী নয়াদিল্লি যাচ্ছেন আজ : ভারতের সঙ্গে সই হতে পারে ১০টির বেশি চুক্তি ও এমওইউ

প্রকাশিত:শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ১৪ জুলাই ২০২৪ |

Image



বিডি টুডে রিপোর্ট:


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে আজ শুক্রবার নয়াদিল্লি যাচ্ছেন। 


টানা চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এটি প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফর। আগামীকাল শনিবার শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদি নয়াদিল্লিতে শীর্ষ বৈঠকে বসবেন। 


তারা দুই ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ক ভবিষ্যতে কোথায় নিয়ে যেতে চান, তার দিক-নির্দেশনা থাকবে ঐ বৈঠকে। 


প্রধানমন্ত্রীর সফরে দুই দেশের মধ্যে সংযোগ, জ্বালানি, বাণিজ্যসহ সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে ১০টির বেশি চুক্তি ও এমওইউ সই হতে পারে বলে জানা গেছে। ১৫ দিনেরও কম সময়ের মধ্যে ভারতের রাজধানীতে এটি শেখ হাসিনার দ্বিতীয় সফর হবে। 



তিনি গত ৯ জুন নরেন্দ্র মোদির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সফরসূচি অনুযায়ী, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট আজ দুপুর ২টার দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করবে। 


ফ্লাইটটি স্থানীয় সময় বিকাল ৪টায় নয়াদিল্লির পালাম বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। সন্ধ্যায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার বাসভবনে সাক্ষাৎ করবেন।



প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আগামীকাল শনিবার সকালে রাষ্ট্রপতি ভবনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে অভ্যর্থনা জানাবেন। পরে তিনি রাজঘাটে ভারতের জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধীর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানাবেন।



 এরপর দিল্লির হায়দরাবাদ হাউজে শেখ হাসিনার সঙ্গে নরেন্দ্র মোদির আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পাশাপাশি একান্তে বৈঠক হবে। সূত্র জানায়, ঐ বৈঠকে ভবিষ্যতে দুই দেশের এই সম্পর্ক নিয়ে এক ধরনের রূপকল্পের কথা উঠে আসবে তাদের আলোচনায়। এবারের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি অভিন্ন নদী তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি, সীমান্ত হত্যা পুরোপুরি বন্ধের মতো বিষয়গুলো আলোচনায় তুলবে ঢাকা। 



ভারত তিস্তার প্রকল্পে অর্থায়নে আগ্রহী বলে গত মে মাসে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিনয় কোয়াত্রার সফরে জানা গিয়েছিল। এবার শীর্ষ বৈঠকে ভারতের পক্ষ থেকে তিস্তার ব্যাপারে নতুন একটি প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে।


সূত্র আরও জানায়, ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়লেও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য অনেকটাই ঝুঁকে আছে ভারতের দিকে। এবারের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে সেপা (সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি) আলোচনা শুরুর ঘোষণা দেওয়ার কথা রয়েছে। এটি সই হলে দুই দেশের বাণিজ্যে ভারসাম্য আসার পথ সুগম হতে পারে। 


এছাড়া দুই দেশের মধ্যে সড়ক, রেল, নৌসহ কানেকটিভিটির বিষয়গুলো ২০১০ সাল থেকে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। এবার যে প্রকল্পগুলোর বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সেতু। 


বাংলাদেশের খাগড়াছড়ির রামগড়ের সঙ্গে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সাবরুমের মধ্যে এই সেতু সংযোগ স্থাপন করবে।



দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের পর জ্বালানি, সংযুক্তি, অর্থনীতিসহ সহযোগিতার নানা ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে ১০ থেকে ১৩টি চুক্তি ও এমওইউ সই হতে পারে। এসব চুক্তি ও এমওইউর মধ্যে অন্তত চারটির মেয়াদ শেষে নবায়ন হওয়ার কথা। এরপর তারা হায়দরাবাদ হাউজে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী আয়োজিত ভোজসভায় যোগ দেবেন।



 বিকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সচিবালয়ে ভারতের উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। সন্ধ্যায় শেখ হাসিনা রাষ্ট্রপতি ভবনে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।


আরও খবর