Logo
শিরোনাম

বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম

প্রকাশিত:শনিবার ১৮ নভেম্বর ২০২৩ | হালনাগাদ:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ |

Image

বিএনপি-জামায়াতের ডাকা হরতাল-অবরোধে সৃষ্ট পরিস্থিতির কারণে সারা দেশ থেকে পণ্য ঢাকায় ঢুকতে ভাড়া বেড়েছে। এতে পণ্য পরিবহনে খরচ বেড়ে গেছে। বেড়েছে দামও। এর প্রভাব গিয়ে পড়ছে ভোক্তাদের ওপরে।

অবরোধের আগে এক ট্রাক সবজি বা অন্য খাদ্য পণ্য বাইরে থেকে ঢাকায় আনতে যেখানে খরচ হতো দূরত্ব ভেদে ১৬ থেকে ১৮ হাজার টাকা। এখন একই পণ্য একই স্থান থেকে ঢাকায় পরিবহনে খরচ গুনতে হচ্ছে ১৯ থেকে ২২ হাজার টাকা পর্যন্ত।

তারপরও সব ট্রাক ঢাকায় আসতে চায় না; অবরোধকারীদের অগ্নিসংযোগের আতঙ্কে থাকেন। যারা আসছেন তাদের বাড়তি টাকা দেওয়া লাগছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

অবরোধের জ্বালাও-পোড়াওয়ের ঝুঁকি মাথায় নিয়েই প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে রাত অবধি কয়েক হাজার ট্রাক দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পণ্যবোঝেই করে রাজধানীতে প্রবেশ করছে। এ বিষয়ে কারওয়ানবাজারে কথা হয় ট্রাক ড্রাইভার গিয়াস উদ্দিনের (২৮) সঙ্গে। তিনি যশোরের গদখালি থেকে মিষ্টিকুমড়া নিয়ে এসেছেন। তিনি জানান, অবরোধের সময় তিনি ট্রাক ভাড়া পাবেন ১৯ হাজার টাকায়। অবরোধের আগে একই ওজনের একই পণ্য এনেছিলেন ১৬ হাজার টাকা ভাড়ায়।

তিনি বলেন, অবরোধের সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রাক চালাতে হয়। সব সময় আতঙ্কে থাকতে হয়, কখন কোন দিকে থেকে অবরোধকারীরা ট্রাকে হামলা করে! গ্লাসে একটি ঢিল মারলে যে ক্ষতি হবে তা এক মাসের ভাড়া দিয়েও উঠবে না। আর আগুন দিলে পুরো ট্রাক শেষ, এমনকি জীবনও যেতে পারে। এই ঝুঁকি নিয়েই আসছি, ভাড়া তো একটু বেশি নেবই। এমন অভিযোগ সুজন মাদবরের। তিনি ফুলকপি নিয়ে এসেছে চুয়াডাঙ্গা থেকে।

তিনি বলেন, তারা আমিরুল ইসলাম নামে এক মহাজনের পুরোনো ট্রাকচালক। অনেক দিন থেকেই আমিরুলের পণ্য ঢাকায় নিয়ে আসেন। তিনিও বেশি ভাড়া পাচ্ছেন। অন্য সময়ের থেকে তিন থেকে চার হাজার টাকা বেশি ভাড়া পাচ্ছেন হরতাল-অবরোধের সময়।

তিনি বলেন, অবরোধে ছেলেমেয়েরা ট্রাক চালাতে নিষেধ করে কিন্তু সংসার তো আছে। আতঙ্ক নিয়ে ট্রাক চালাই, কখন কি হয়। কিছু হলে কেউ না দেখলেও পরিবার-পরিজনের কথা চিন্তা করে ট্রাক নিয়ে বের হই।

একই আশঙ্কার কথা জানালেন কুষ্টিয়া থেকে চাল নিয়ে আসা ড্রাইভার আনছার আলী। তিনি মোহাম্মদপুর বাজারে আড়তে চাল নামিয়েছেন। তিনি বলেন, সপ্তাহের শুক্র, শনি ও মঙ্গলবার অবরোধ দিচ্ছে না। এই কয়দিনই ট্রাক চালাই। অবরোধে বসে থাকি। এরপরও ভয় পিছু ছাড়ছে না।

অবরোধের কারণে ঢাকার বাইরে থেকে আসা পণ্যের খরচ বেড়ে গেছে। এর ফলে শীত শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সবজির দাম কমার কথা ছিল, কমছেও। কিন্তু যে হারে কমার কথা ছিল সে হারে কমছে না। বাড়তি পরিবহন ভাড়ার কারণে পণ্যের দামও বাড়ছে।

কারওয়ান বাজারে মুলা নিয়ে আসা হাফিজুর রহমান জানান, তিনি সংবাদপত্রের ফিরতি গাড়িতে করে মুলা নিয়ে এসেছে। রাত তখন সাড়ে ১১টা। বাস থেকে মল সড়কে মুলা নামিয়ে দৈনিক ইত্তেফাকের সামনে ফাঁকা জায়গা মুলার বস্তা রাখছেন। তিনি আরো বলেন, অবরোধের আগে যে বস্তা ৯০ টাকা ভাড়া দিয়ে এনেছিলাম, অবরোধের সময় একই বস্তার ভাড়া গুনতে হয়েছে ১৩০ টাকা। এর ফলে প্রতি কেজি মুলাতে খরচ বেড়েছে এক থেকে এক টাকা ৫০ পয়সা।

তারপরও আগের মতো ট্রাক পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যের চেয়ে বেশি ভাড়া দিলেই কেবল ট্রাক ঢাকায় আসে বলে জানান তিনি। অন্য সবজি, ফল বা পণ্যেও এভাবে বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে।

অবরোধের কারণে ব্যবসায়ীদের যাতায়াত কমে গেছে। আগে ঢাকা থেকে দেশের উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে সবজি ঢাকার আনার জন্য ব্যবসায়ীরা মোবাইলফোনে যোগাযোগ করার পাশাপাশি সশরীরে এসব পণ্যের উৎপাদন স্থলে যেতেন। এখন অনেকেই আর এলাকায় যাচ্ছেন না। প্রয়োজনে ফোনে ফোনে কথা বলে পণ্য আনছেন। খুব প্রয়োজনে দুয়েকজন যাচ্ছেন বা কর্মচারী পাঠাচ্ছেন। এতে পণ্যটি ঢাকায় এলেও দাম বা মানের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা থেকে যাচ্ছে। কোনো কোনো সময় প্রত্যাশার মতো কাজটি হচ্ছে না।

কারওয়ানবাজারের আড়তদার ফারুক হোসেন বলেন, অবরোধের কারণে ব্যবসায়ীর সংখ্যা কিছুটা কমেছে। আর ব্যবসায়ীদের জায়গা দখল করেছে কৃষকরা। ব্যবসায়ী কম পাওয়ার কারণে কৃষকরা নিজেরাই কয়েকজন মিলে ট্রাকবোঝাই করে পণ্য ঢাকায় আনছেন। সবজি এখন বিক্রি করতে না পারলে পরে দাম পড়ে যাবে। আবার মাঠে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তো আছেই। এজন্য কৃষকেরা নিজেরাই ঢাকায় চলে আসছেন। অবরোধের কারণে ব্যবসায়ীর জায়গা কৃষক দখল করেছেন বলে জানান তিনি। যাত্রাবাড়ী, কারওয়ান বাজার, মোহাম্মদপুর মার্কেটে খোঁজ নিয়ে একই খবর মিলল।

অবরোধ-হরতালের প্রভাবের দেখা মিলেছে বাজারে। শীতকালীন শাকসবজির দাম উলে­খযোগ্য হারে কমেনি। মাছের বাজারও চড়া। বিক্রেতারা বলছেন, হরতাল-অবরোধে সরবরাহ কম, তাই দাম বেশি।

শুক্রবার (১৭ নভেম্বর) সকালে সরেজমিনে রাজধানীর মেরাদিয়া হাট, গোড়ান বাজার, খিলগাঁও রেলগেট কাঁচাবাজারসহ বেশ এলাকার বাজার ঘুরে এবং বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

মাছের বাড়তি দামের বিষয়ে মেরাদিয়া হাটের মাছ বিক্রেতা সুজন মিয়া বলেন, হরতাল-অবরোধের কারণে বিভিন্ন স্থান থেকে ঢাকার বাজারগুলোতে মাছ কম আসছে। পরিবহন সংকটে গাড়ি ভাড়াও বেশি দিতে হচ্ছে। এ কারণে মাছের বাজার বাড়তি যাচ্ছে।

পণ্য পরিবহনে পুলিশ প্রহরা সাহস জোগাচ্ছে: অবরোধ চললে ঢাকার বাইরে থেকে পণ্য আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশের গাড়ি পাহারা দিয়ে নিজ নিজ এলাকা পার করে দিচ্ছে বলে জানালেন যশোরের গদখালি থেকে আসা গিয়াস উদ্দিন।

তিনি বলেন, মাঠ বা ছোট বাজার থেকে ট্রাকবোঝাই করে সড়কে উঠলেই দাঁড় করিয়ে পুলিশ অনেকগুলো ট্রাক এক সঙ্গে করে নিজ জেলা পার করে দিচ্ছে। পরের জেলায় ওই জেলার পুলিশ পাহারা দিয়ে পার করে দিচ্ছে।

রাজশাহী থেকে আসা ব্যবসায়ীও এমন কথা জানালেন। তবে চুয়াডাঙ্গা বা ঝিনাইদহ থেকে আসা ট্রাক পুলিশ প্রহরা ছাড়াই এসেছেন বলে জানালেন ব্যবসায়ী এখলাছ হোসেন ও ড্রাইভার সুজন মাদবর। ফলে জীবন ও ট্রাক সম্পত্তির ঝুঁকি নিয়ে পণ্য আনা নেওয়া করতে হচ্ছে। বাড়তি ভাড়া দেওয়ার পরও ব্যবসায়ী বা চালক-হেলপারের জানমালের নিরাপত্তা নেই।

প্রসঙ্গত, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি ও তফসিল প্রত্যাখ্যান করে দেশজুড়ে টানা ৪৮ ঘণ্টা হরতালের ডাক দিয়েছে বিএনপি, জামায়াত, গণঅধিকার পরিষদ, গণতন্ত্র মঞ্চসহ বেশ কয়েকটি দল। আগামীকাল রবিবার থেকে এ হরতাল পালন হবে। গত ২৮ অক্টোবর ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশ ঘিরে হামলা ও সংঘর্ষের পরদিন দলটি সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করে। একদিন বিরতি দিয়ে ৩১ অক্টোবর থেকে টানা তিন দিন অবরোধ কর্মসূচি দেয় তারা।

এরপর শুক্র ও শনিবার বিরতি দিয়ে ৫ ও ৬ নভেম্বর অবরোধ পালন করে বিএনপি। তারপর ৭ নভেম্বর একদিনের বিরতি দিয়ে ৮ ও ৯ নভেম্বর অবরোধ দেওয়া হয়। পরে শুক্র ও শনিবার বিরতি দিয়ে আবার চতুর্থ অবরোধের ডাক দেয় বিএনপি। এর আগে ১৫ ও ১৬ নভেম্বর পঞ্চম দফায় অবরোধ পালন করে বিএনপিসহ বেশ কয়েকটি দল।

 


আরও খবর

আবার কমেছে রিজার্ভ

বুধবার ১০ জুলাই ২০২৪

বাজারের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে?

মঙ্গলবার ০৯ জুলাই ২০২৪




দিল্লিতে ৮৮ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৮ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ |

Image

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে মৌসুমী বৃষ্টিতে অনেক অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া বৃষ্টির কারণে সেখানে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

দেশটির আবহাওয়া বিভাগ শুক্রবার (২৮ জুন) জানিয়েছে, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ৩০ মিনিট থেকে আজ সকাল ৮টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ২৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। যা ১৯৩৬ সালের পর একদিনে (২৪ ঘণ্টায়) সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড। ৮৮ বছর আগে ১৯৩৬ সালে ২৩৫ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছিল।

সাধারণত জুন মাসে দিল্লিতে গড়ে ৮০ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে।

এই অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত দিল্লির শহরের বাসিন্দাদের জন্য বয়ে এনেছে অসহনীয় দুর্ভোগ। যারা অফিস বা কাজের জন্য বের হয়েছিলেন তারা জলাবদ্ধতা এবং ট্রাফিক জ্যামের কবলে পড়েছেন।

তবে এই বৃষ্টিপাত আবার দিল্লিবাসীর জন্য আশীর্বাদ হিসেবেও এসেছে। কারণ সেখানে গত দুই মাস ধরে অসহনীয় তাপমাত্রা বিরাজ করছিল। আজ শুক্রবার দিল্লির তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৪ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা সাধারণ থেকে ৩ দশমিক ২ ডিগ্রি কম।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, এই বৃষ্টিপাত আবার চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়েছে এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য কতটা অপ্রস্তুত দিল্লি।

গত ১৮ জুন দিল্লির মেয়র শেলি ওবে দাবি করেছিলেন, বর্ষা মৌসুমের জন্য তারা প্রস্তুত রয়েছেন। কিন্তু মৌসুমের প্রথম ভারী বৃষ্টিপাতেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে গেছে।

বৃষ্টির পরিমাণ এতই বেশি ছিল যে কোথাও কোথাও ৩ ফুট পর্যন্ত পানি জমেছে। এছাড়া নদিয়ার অবস্থাও এমন নাজুকই বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।


আরও খবর



বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে

প্রকাশিত:বুধবার ০৩ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১২ জুলাই ২০২৪ |

Image

বন্যায় পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সুনামগঞ্জও চরম প্রতিকূল এই পরিস্থিতির মধ্যে সিলেটবাসীর জন্য আরও দুঃসংবাদ নিয়ে এসেছে আবহাওয়া পূর্বাভাসের বিভিন্ন মডেল 

কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া জলবায়ু বিষয়ক পিএইচডি গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ জানান, আগামী তিন দিনে সিলেটের বন্যার চরম অবনতির প্রবল সম্ভাবনা নির্দেশ করছে আবহাওয়া পূর্বাভাসের মডেলগুলো। এসব মডেল প্রায় ৮০ থেকে ৯০ ভাগ নির্ভুল তথ্য দিয়ে থাকে

তিনি বলেন, আগামী তিন দিনে সিলেট সুনামগঞ্জ জেলার সীমান্তবর্তী মেঘালয় পর্বত এলাকায় ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের মডেল অনুসারে প্রায় ৬০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। আমেরিকান মডেল বলছে প্রায় ৫০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে যুক্তরাজ্যের মডেলের পূর্বাভাস আরও ভয়াবহ, সেটি বলছে প্রায় ১১০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে ফ্রান্সের মডেল অনুসারে প্রায় ৬৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে

এদিকে ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের (আইএমডি) বরাত দিয়ে হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের চেরাপুঞ্জি বিশ্বের সবচেয়ে বৃষ্টিপ্রবণ এলাকা। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে ৯৭২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে ,

আর গত তিন দিনে সেখানে প্রায় আড়াই হাজার মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এটিও গত ২৭ বছরের মধ্যে তিন দিনে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতের রেকর্ড। ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, চেরাপুঞ্জিতে আগামী ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫৫০ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে। অন্যদিকে দেশের উত্তরাঞ্চলের প্রধান নদী তিস্তা ব্রহ্মপুত্র নদের পানি দ্রুত বাড়ছে। এরই মধ্যে তিস্তা অববাহিকার চারটি জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে

বন্যা পূর্বাভাস সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, দেশের একটি বিভাগের প্রায় ৮০ শতাংশ ডুবে যাওয়ার মতো বন্যা এর আগে বাংলাদেশে হয়নি। সিলেটে এর আগে যত বন্যা হয়েছে, তা মূলত হাওর এলাকা এর পার্শ্ববর্তী এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এবার গ্রাম, শহর উঁচু এলাকাও পানির নিচে চলে গেছে। আর সোমবারের আগে এই পানি নামার সম্ভাবনা কম। কারণ, উজানে আগামী দুই দিন অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস আছে

এদিকে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সিলেট বিভাগের বেশির ভাগ এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। টেলিফোন নেটওয়ার্ক অকার্যকর হয়ে গেছে। অনেক স্থানে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র বৈদ্যুতিক খুঁটি তলিয়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ভয়াবহ বন্যায় সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক তলিয়ে গেছে। সারা দেশের সঙ্গে সুনামগঞ্জের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অবস্থায় সিলেট সুনামগঞ্জের প্রায় পৌনে দুই লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎহীন রয়েছেন। শুক্রবার দুপুরে বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন


আরও খবর

সপ্তাহ জুড়ে ভারী বৃষ্টির আভাস

বৃহস্পতিবার ১১ জুলাই ২০২৪




সাভারে নদী খাল বিল দখলের মহোৎসব চলছে

প্রকাশিত:শনিবার ২২ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ |

Image

বিডি টুডে রিপোর্ট:

রাজধানীর পাশের জনপদ সাভার উপ শহরের ওপর দিয়ে বংশী, তুরাগ ও ধলেশ্বরী নদীসহ বিভিন্ন খাল বহমান। কিন্তু এ নদী ও খাল এখন কেবলই স্মৃতি।

 ভূমিখেকোদের গ্রাসে নদী এখন পরিণত হয়েছে ছোট খালে। কেননা নদীর দুই পাশের শত শত বিঘা জমি দখল করে নিয়েছে এলাকার প্রভাবশালীরা। সম্প্রতি সাভারে অবস্থিত তিনটি খাল (তেঁতুলঝোড়া, যোগী-জাঙ্গাল ও নয়নজুলী) এবং দুইটি বিলের (তাঁতি বিল, শুকনা বিল ও রইপতা বা নোয়াদ্দা বিল) মূল প্রবাহ অনুযায়ী সীমানা নির্ধারণ করতে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ও ঢাকা জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। 

একই সঙ্গে এসব খাল ও বিল পুনরুদ্ধারের জন্য দখল ও দূষণকারীর তালিকা প্রস্তুত করতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. আতাবুল্লাহর দ্বৈত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। এছাড়া খাল ও বিল দখল এবং দূষণকারীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত সময়ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা তৈরি করতে বিবাদীদের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। আদালতের এই আদেশ বাস্তবায়ন করে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে ঢাকা জেলাধীন সাভার উপজেলার ইয়ারপুর ইউনিয়নের ইছরকান্দি, মনোসন্তোষ ও সাতাইশকান্দি মৌজায় প্রায় ৬০০ একর আয়তনের একটি বিল রয়েছে, যা স্থানীয়ভাবে ‘গজাইরার’ বিল নামে পরিচিত। বিলটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১০ কিলোমিটার ও প্রস্থ ৪ কিলোমিটার। বিলটি রক্ষায় ‘উত্তরণ প্রোপার্টিজ লিমিটেড’ ও ‘অ্যাচিভ করপোরেশন’ নামক আবাসন কোম্পানির অননুমোদিত আবাসন প্রকল্পের জন্য মাটি ভরাট, প্লট বিক্রয়সহ সব কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে আদালত। 

একইসঙ্গে আদালতপ্রদত্ত উল্লিখিত নির্দেশ প্রতিপালন সংবলিত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের জন্য রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দিয়েছেন।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) কর্তৃক দায়েরকৃত একটি জনস্বার্থমূলক মামলার প্রাথমিক শুনানি শেষে সম্প্রতি বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম এবং বিচারপতি মো. আতাবুল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বিভাগের ডিভিশন বেঞ্চ এ আদেশ প্রদান করেন।

সাভার উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত বংশী, ধলেশ্বরী ও তুরাগ নদীগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছে অসংখ্য খাল, বিল ও জলাশয়। যার মধ্যে জামুরমুচিপাড়া মৌজায় তেঁতুলঝোড়া খাল, কান্দিবলিয়ারপুর, চান্দুলিয়া মৌজায় বামনী খাল; পাথালিয়া মৌজায় যোগী-জাঙ্গাল (জুগী জঙ্গল), নয়নজুলী খাল, চারিগাঁও ও চাকরগাঁও মৌজায় তাঁতি বিল (শুকনা বিল) ও বড়ওয়ালিয়া ও মোহনপুর মৌজায় রইপতা (নোয়াদ্দা) উল্লেখযোগ্য। এ খাল ও বিলগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ২০টি গ্রামের লক্ষাধিক গ্রামবাসীর জীবন ও জীবিকা। একসময় কৃষিনির্ভর সাভারবাসী সেচের জন্য অনেকাংশেই এসব খাল ও বিলের পানির ওপর নির্ভরশীল ছিল। অবৈধ খদলদারিত্ব ও দূষণে জনগুরুত্বপূর্ণ এসব খাল, বিল ও জলাশয়গুলো বর্তমানে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। এসব খাল ও বিলের অংশবিশেষ ভরাট করে নির্মাণ করা হয়েছে বাড়িঘরসহ নানা স্থাপনা। 

গৃহস্থালি বর্জ্য ফেলার পাশাপাশি শিল্প মালিকরা তাদের শিল্পকারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য ফেলার স্থান হিসেবে ব্যবহার করছে উল্লিখিত খাল ও বিলসমূহকে।

সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের চোখের সামনেই এভাবে নদী খাল দখল হলেও তারা দেখেও না দেখার ভান করছেন। ফলে প্রভাবশালীদের নদী ও জলাশয় দখল চলছেই । হাউজিং ব্যবসার প্রতারণার শিকার হচ্ছে হাজার হাজার নিরীহ মানুষ। বংশী, তুরাগ ও ধলেশ্বরী শাখা নদী ও একাধিক খালের তীর দখলের প্রতিযোগিতা অব্যাহত রেখেছে ভূমিদস্যুরা। 

এলাকার বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও হাউজিং কোম্পানিগুলো প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এ দখল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তুরাগ, বংশী, ধলেশ্বরী নদী দখলমুক্ত করার জন্য বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন বিভিন্ন সময়ে মিছিল, মানববন্ধন, সমাবেশ করলেও কোনোভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না এ দখল প্রক্রিয়া।

এক কালের সাভারের বন্দর নামে পরিচিত নদীর কুল ঘেঁষে অবস্থিত সাভারের নামা বাজার আস্তে আস্তে বড় হচ্ছে, আর ক্ষুদ্র হচ্ছে বংশী নদী। কেননা বাজারের প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা নদীর জমি দখল করে সেখানে নির্মাণ করছে দোকানপাট , মালামাল রাখার গুদামঘর , চিড়া ও তেলের মিল, ডাল মিলসহ অন্যান্য কলকারখানা।

 বাজারের এসব প্রভাবশালী নদীর জায়গা দখল করে দোকানপাট মিল কলকারখানা বসিয়ে লাভবান হচ্ছেন আর সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ব্যবসায়ীদের নামে অবৈধভাবে জমি লিজ দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

একটি সূত্র জানায়, সরকারি সম্পত্তি দখলে বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি ভূমি অফিসের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ম্যানেজ করে ভূমি দখলের প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েছে। অনেক সরকারি সম্পত্তির ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে ভূমি অফিসের সহায়তায় দখল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি নিজেদের দখলে নিয়েছেন।

 সাভার বাজারের পাশে বংশী নদীর পাড় ঘেঁষে সরকারি জমি (খাস জমি) নামে-বেনামে এবং লিজের মাধ্যমে বেদখল হয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই সিংহভাগ জমিই বেহাত হয়ে গেছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ বেহাত হয়ে যাওয়া সম্পত্তি উদ্ধারে অজ্ঞাত কারণে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। বর্তমানে বংশী নদীর তীর ঘেঁষে এ দখল প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

সাভার পরিবেশ উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ড. রফিকুল ইসলাম মোল্লা বলেন, প্রভাবশালী কর্তৃক নদী দখল হয়ে যাচ্ছে। তিনি নদী সুরক্ষায় সিএস নকশা আনুযায়ী নদীর সীমানা নির্ধারনের দাবি জানান। সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) সাভারের সভাপতি অধ্যাপক দীপক কুমার রায় বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্যই নদনদী রক্ষা প্রয়োজন। ক্রমাগত নদী খাল ভরাট হলে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে।’ 

এ ব্যাপারে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাহুল চন্দ বলেন, ‘উচ্ছেদ অভিযান চলমান রয়েছে। পর্যায়ক্রমে অবৈধ দখলকারীদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হবে। এছাড়া নদী, খাল, জলাশয় ভরাটের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


আরও খবর



এআইআইবি থেকে ৪০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা পেল সরকার

প্রকাশিত:সোমবার ০১ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১২ জুলাই ২০২৪ |

Image



বিডি টুডেস ডেস্ক:


এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) থেকে বাজেট সহায়তা হিসেবে ৪০ কোটি ডলার পেয়েছে বাংলাদেশ সরকার। 



প্রতি ডলার সমান ১১৭ টাকা ১১ পয়সা হিসেবে বাংলাদেশি মুদ্রায় এই সহায়তার পরিমাণ প্রায় ৪ হাজার ৬৮৪ কোটি টাকা।


সোমবার (১ জুলাই) অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ইআরডি’র অতিরিক্ত সচিব মিরানা মাহরুখ এবং এআইআইবির ভারপ্রাপ্ত ভাইস প্রেসিডেন্ট রাজাত মিশ্রা এআইআইবি’র এ ঋণচুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন।



ক্লাইমেট রেজিলেন্ট ইনক্লুসিভ ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের আওতায় সংস্থাটি এ ঋণ দিয়েছে বলে জানা গেছে। এআইআইবি’র এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো, পরিবেশের পরিবর্তন প্রতিরোধকল্পে মজবুত ভিত্তি তৈরি ও অভিযোজনের মাত্রা বৃদ্ধি, জলবায়ুভিত্তিক টেকসই উন্নয়নে সহায়তা দেওয়া, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতির মাত্রা ও প্রভাব হ্রাস, গ্রিন হাউজ গ্যাস নির্গমন হ্রাস এবং দেশের অর্থনীতিকে জলবায়ুভিত্তিক নিম্ন কার্বন অর্থনীতিতে রুপান্তর করা।


এআইআইবি থেকে গৃহীত এ ঋণ পাঁচ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ২৫ বছরে পরিশোধযোগ্য। ঋণের সুদের হার হিসেবে এককালীন শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ পরিশোধ করা হবে।



আরও খবর

সপ্তাহ জুড়ে ভারী বৃষ্টির আভাস

বৃহস্পতিবার ১১ জুলাই ২০২৪




নওগাঁর ৩ জন সৌদি আরবে আগুনে পুড়ে নিহত

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৫ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ |

Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন :

সৌদি আরবের রিয়াদের মুসাসানাইয়া এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় আগুনে পুড়ে নিহত ৪ জন বাংলাদেশির মধ্যে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার-ই রয়েছেন ৩ জন রেমিট্যান্স যোদ্ধা। বুধবার সৌদির স্থানীয় সময় বিকেল ৫টারদিকে আগুনে নিহতের এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন নিহতদের স্বজনরা। মৃত্যুর খবর পাবার পর থেকে ওই তিনজন রেমিট্যান্স যোদ্ধার পরিবারে চলছে শোকের মাতব।

নিহতরা ৩ জন হলেন,  নওগাঁর আত্রাই উপজেলার তেজনন্দি গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে ফারুক হোসেন (৪০), শিকারপুর গ্রামের সাহাদ আলীর ছেলে এনামুল হোসেন (২৫) ও দিঘা স্কুলপাড়া গ্রামের কবেজ আলীর ছেলে শুকবর রহমান (৪০)।

নিহত ফারুকের ভাতিজা পিন্টু আলী বলেন, চাচা ফারুক হোসেন গার্মেন্টসে কাজ করতেন। প্রায় ৬ বছর আগে ধার-দেনা করে সৌদি আরবে যান তিনি। কিন্তু যাবার পর থেকেই সেখানে নানা সমস্যার মধ্যে পড়ে যান। প্রায় ৮ মাস হচ্ছে স্থায়ীভাবে সোফা তৈরির কারখানায় কাজে যোগদান করেছেন। এরই মধ্যে বুধবার রাত ১০টা নাগাদ মোবাইল ফোনে জানতে পারেন কারখানায় আগুনে ফারুক নিহত হয়েছেন। একই

উপজেলার দিঘা গ্রামের নিহত শুকবর আলীর জামাই বিদ্যুত হোসেন বলেন, তার শ্বশুড় কৃষি শ্রমীক ছিলেন। গত আড়াই বছর আগে একমাত্র সম্বল ১১শতক জায়গা বিক্রি করে তার সাথে ধার-দেনার টাকায় তিনি সৌদি আরবে পাড়ি জমান। এখন পর্যন্ত ধার-দেনার টাকা শোধ করতে পারেন নি। শুকবরের দুই ছেলে এক মেয়ে। ছেলেদের মধ্যে বড় ছেলে শামিম হোসেন প্রতিবন্ধি। তার মাথা গোঁজার একমাত্র বাড়ির তিন শতক জায়গা ছাড়া আর কোন জমি নেই। কিভাবে শ্বাশুড়ী, শ্যালোকদের নিয়ে চলবেন তা নিয়ে চরম বিপাকে পরেছেন। শ্বশুর শুকবর আলীই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। শিকারপুর গ্রামের নিহত যুবক এনামুলের চাচা জাহিদুল ইসলাম বলেন, এনামুল গার্মেন্টস শ্রমিক ছিলেন। অনেকটা সুখের আসায় ঘর বাঁধতে ধার-দেনা করে সৌদি আরবে যান। সেখান থেকে কেবলমাত্র রোজগারের টাকায় ধার-দেনা শোধ করে ইটের বাড়ি নির্মান করছেন। বাড়ির কাজ শেষ হলে আগামী বছর দেশে এসে বিয়ে করার কথা ছিলো। কিন্তু সেটা তার ভাগ্যে জুটলোনা। বুধবার রাত অনুমান সাড়ে ১০ টারদিকে আগুনে পুরে মারা যাবার খবর আসে। তখন থেকেই একমাত্র ছেলেকে হারানোর শোকে বাবা-মা পাথর হয়ে পড়েছেন। কিছুতেই যেন তাদেরকে বুঝ দিয়ে থামানো যাচ্ছেনা। নিহতদের তিন পরিবার থেকেই দ্রুত মৃতদেহ দেশে আনতে সরকারের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন। এব্যাপারে আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্চিতা বিশ্বাস বলেন, সৌদি আরবে আগুনে পুরে ৩ জন নিহতের খবর পেয়েছি। তাদের পরিবারের খোঁজ খবর রাখা হচ্ছে। এছাড়া নিহতদের লাশ দেশে ফেরাতে এবং সরকারী কোন সুযোগ সুবিধা থাকলে তা সহায়তা করতে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।


আরও খবর