Logo
শিরোনাম

হযরত সাইয়্যিদ আবুল বশর আল হাসানী মাইজভাণ্ডারী (ক.) জীবনী

প্রকাশিত:শুক্রবার ২১ জুলাই ২০২৩ | হালনাগাদ:সোমবার ২২ এপ্রিল ২০২৪ |

Image

মাজহারুল ইসলাম মাসুম, সিনিয়র সাংবাদিক,লেখক ও গবেষক :

ইসলাম হচ্ছে আল্লাহর মনোনীত একমাত্র ধর্ম। যা রাসুলে পাক (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর মাধ্যমে পৃথিবীতে পূর্ণতা লাভ করেছে। তাঁরই তিরোধানের পর খোলাফা-এ-রাশেদীন, তাবেঈন তাবে- তাবেঈন এবং আল্লাহর প্রিয় বন্ধু আউলিয়া এ-কেরামের মাধ্যমে বিশ্বের প্রত্যন্ত- অঞ্চলে ইসলাম প্রচার ও প্রসার লাভ করেছে। ইসলামের এ মহান সুফি সাধক তথা আউলিয়া-এ-কেরামগণ নিষ্ঠা সহকারে ধর্মীয় অনুশাসনসমূহ পালন করেন এবং সঙ্গে সঙ্গে মুসলমানদেরকে এর দীক্ষা দান করেন। তাঁরা এমন চরিত্র এবং মহা বৈশিষ্ট্যের অধিকারী, যার প্রশংসা মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আ'লামিন পবিত্র কুরআনে এরশাদ করেন-

"হে মুমিনগণ! তোমারা আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্যবাদীদের সঙ্গী হয়ে যাও।"

এই উপমহাদেশের শাসকদের উপর দৃষ্টিপাত করলে দেখা যায়, মুহাম্মদ বিন কাসেম, সুলতান মুহাম্মদ গজনবী, মুহাম্মদ গৌরা ও মাহাম্মদ বখাতিয়ার খলজী সকলেই ছিলেন বিজয়ী বীর। ইতিহাসের বিচারে তারা কেউই ইসলাম প্রচারক ছিলেন না। ইসলাম প্রচার হয়েছে এ দেশের সুফী, দরবেশগণের প্রচেষ্টায়, তাদের অলৌকিক প্রভাবে। তাদের আচার আচরণ, সাদাসিধে জীবন যাপন, ইসলামের উদারনৈতিক সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের শিক্ষায় মুগ্ধ হয়ে দলে দলে মানুষ ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে স্থান পেয়েছেন।

বিশেষ করে সুলতানুল হিন্দ খাজা গরীবে নেওয়াজ (রাঃ) সুলতানুল আউলিয়া হযরত শাহ্‌ জালাল ইয়ামনী (রহঃ), গাউসুল আযম হযরত শাহ্‌ছুফী মাওলানা সাইয়্যিদ আহমদউল্লাহ আল-মাইজভাণ্ডারী (কঃ), গাউসুল আযম শাহ্‌সুফী মাওলানা সাইয়্যিদ গোলামুর রহমান আল-হাসানী ওয়াল হোসাইনী বাবাভাণ্ডারী (কঃ) প্রমুখের প্রচেষ্টায় উপমহাদেশে ইসলাম প্রচার-প্রসার লাভ করেছে। এ-রকম একজন আওলাদে রাসুল (দ), সুলতানুল মাশায়েখ, গাউছে জমান হযরত আল্লামা শাহ্সুফি সাইয়্যিদ আবুল বশর আল-হাসানী ওয়াল হোসাইনী মাইজভাণ্ডারী (কঃ) এর নাম বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য।

.জন্ম ও বংশ পরিচিতি........

১৯০৬ ইংরেজী সনের এক শুভক্ষণে পৃথিবীর পঞ্চম তীর্থস্থান মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের মহান আধ্যাত্মিক সাধক প্রাণপুরুষ অলিকুল শিরোমণি গাউসুল আযম হযরত মাওলানা শাহ্‌সুফি সাইয়্যিদ গোলামুর রহমান বাবভাণ্ডারী কেবলা ক্বাবা (কঃ) এর পবিত্র ঔরশে জন্ম গ্রহণ করেন। এ নূরানী শিশুর আগমনে আনন্দিত ও পুলকিত হয়ে সকলেই বলতে লাগলেন, এ শিশু মানব নয়, এ যেন নুরের পুতুল। সৃষ্টির কর্তৃত্ব নিয়েই যেন এর আগমন! কালে হয়ে ছিলোও তাই। তিনি একজন জগদ্বিখ্যাত মহান অলি আল্লাহ্ হয়েছিলেন।

বাল্যকাল ও শিক্ষা জীবন......

শিক্ষা জীবনের প্রাথমিক পর্যায় দরবার শরীফ থেকেই অতিক্রম করেন। পরবর্তীতে কলকাতা ইসলামিয়া কলেজ থেকে অত্যন্ত কৃতিত্বের সাথে সর্বোচ্চ ডিগ্রী অর্জন করেন।

কর্মময় জীবন..........

শিক্ষা জীবন সমাপন করে তিনি স্বীয় পিতা, অলিকুল শিরোমণি গাউসুল আযম বাবাভান্ডারী (কঃ) এর পবিত্র খেদমতেই নিয়োজিত থাকতেন। বাবাভাণ্ডারী কেবলা ক্বাবা (কঃ) নিজ আদরের সন্তানকে আধ্যাত্মিকতার পরম পরশে যুগসেরা অলি আল্লাহ্ রূপে গড়ে তোলেন। মহান আধ্যাত্ম সাধক বাবাভাণ্ডারী কেবলা ক্বাবা, বিশেষ বায়াত (বায়াতে খাছ) এর মাধ্যমে তাঁকেই খিলাফত দান করে ত্বরিকার মহান খিদমত আঞ্জামের মহান জিম্মাদারী অর্পণ করেন।

বৈবাহিক ও আধ্যাত্মিক জীবন...

বৈবাহিক ও আধ্যাত্মিক জীবন উভয় ছিল চমৎকারিত্বে পরিপূর্ণ। তাঁর পারিবারিক বা সাংসারিক জীবন ছিল হাবিবে কিবরিয়া (সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর গভীর প্রেমময় সাধনায় পরিপূর্ণ। তার পবিত্র চেহারা মুবারকে,হযরত বাবাভাণ্ডারী (কঃ) কেবলা-এ-আলম এর চেহারা মোবারক এর প্রতিফলন ছিল বলে বাবাভাণ্ডারী (কঃ) এর পবিত্র পর্দা করার পরে আশেক, ভক্ত, অলিকুল তাঁর চেহারা মুবারক দেখেই তৃষ্ণা মেটাতেন।

তিনি ইসলামের ও সুফিবাদের বিভিন্ন বিষয়ে যুক্তিপূর্ণ সমাধান ও আলোচনা করতেন। অনেক বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গ তার পবিত্র সান্নিধ্যে গিয়ে আধ্যাত্নিকতা, সুফিবাদ সম্পর্কে উচ্চ পর্যায়ের জ্ঞান লাভে ধণ্য হন। ইমাম শেরে বাংলা আজিজুল হক্ব আল ক্বাদেরী (রঃ), হযরত শাহ্ আহমদ সিরিকোটি (রঃ), শেরে বাংলা একে ফজলুল হক্ব, মওলানা ভাসানী (রঃ) সহ বিশিষ্ট অলি আল্লাহ্ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ তার সান্নিধ্য লাভে ধন্য হয়েছেন।

তাকে সকলে "সুলতানুল মাশায়েখ" বা উলামা মাশায়েখগণের সুলতান বলে অভিহিত করতেন।
গাউসুল আযম বাবাভাণ্ডারী কেবলা ক্বাবা (কঃ) এর নূরানী আওলাদ-এ-পাকগণের মধ্যে যোগ্যতম ও আধ্যাত্নিকতায় সিক্ত হযরত শাহ্‌সুফি সাইয়্যিদ আবুল বশর মাইজভাণ্ডারী (কঃ), হযরত বাবাভাণ্ডারী কেবলা ক্বাবা (কঃ) এর পবিত্র জানাজা শরীফের ইমামতি করেন।

তার কয়েকটি পবিত্র বাণী...

"প্রিয় নবিজী () এর প্রেম ইহকালীন ও পরকালীন মুক্তির পাথেয়"

"একজন প্রকৃত মুসলমানের জন্য সবচেয়ে বেশি মূল্যবান হল, প্রিয় নবিজীকে () নিঃশর্তভাবে ভালবাসা ও তার প্রেমে নিজেকে পূর্ণরূপে সমর্পণ করা।"

"প্রিয় নবিজী () এর স্নেহময় দৃষ্টি অর্জনের জন্য নিজেকে তার প্রেমে উৎসর্গ করে দাও।"

"প্রিয় নবিজী () এর দুশমনদের হতে নিজেকে দূরে রাখবে। তারা মহান আল্লাহর অফুরন্ত দয়া, রহমত ও ক্ষমা হতে বঞ্চিত।"

"হযরত বাবাভাণ্ডারী (কঃ) "গাউসুল আযম"এর মহৎ সম্মানের মুকুটধারী। তিনি সুবিশাল ধনভাণ্ডার (বেলায়ত) অর্জন করেছেন। যার চাবি রয়েছে আমার হাতে। আমি ছাড়া কেউ সেই ধনভাণ্ডারের তালা খুলতে পারবে না।"

"ও মইনুদ্দীন! আমার ভক্তদের জিম্মাদারি তুমি বুঝে নেওয়ায়, আমি চিন্তামুক্ত হয়েছি।"

"প্রিয় মইনুদ্দীন! তোমার মিলাদ মাহ্ফিলে স্বয়ং রাসুলে পাক () তাশরিফ আনায়ন করেন। তুমি মিলাদ মাহ্ফিল পাঠ করলে বাবাভাণ্ডারী ক্বেবলা-এ-আলম (কঃ) খুশি হন।"

বেছাল শরীফ বা পবিত্র ওফাত.....

বিশাল কর্মময় ও আধ্যাত্মিক জগতের স্বর্ণ শিখরে আরোহন করে, ঊনষাট বছর বয়সে ১৯৬৫ সালের ১৬ই ডিসিম্বর, ৩০শে অগ্রহায়ণ, মাবুদে হাক্বিকী তথা আল্লাহর একনিষ্ট সান্নিধ্যে গমন করেন।

স্থলাভিসিক্ত আওলাদে পাকগণ......

১৯৬২ সালের ৫ই এপ্রিল, মহান ২২শে চৈত্র, বাবাভাণ্ডারী ক্বেবলা-এ-আলম (কাদ্দাসাল্লাহু ছিররাহুল আজিজ) এর পবিত্র ওরশ শরীফে রাত ১২টা ৩০ মিনিটে তিনি তার স্নেহধন্য শাহ্জাদা, হযরাতুলহাজ্ব আল্লামা শাহ্সুফি সাইয়্যিদ মইনুদ্দীন আহমদ আল হাসানী ওয়াল হোসাইনী আল মাইজভাণ্ডারী (কাদ্দাসাল্লাহু ছিররাহুল আজিজ)


কে একান্ত সান্নিধ্যে এনে বায়াত-এ-খাছ বা বিশেষ বায়াতের মাধ্যমে বেলায়ত ও খেলাফতের পবিত্র ক্ষমতা ও জিম্মাদারি অর্পণ করেন।

সাত শাহ্‌জাদা ও পাঁচ শাহ্‌জাদা আওলাদে পাকদের মধ্যে আধ্যাত্মিক মহাসমুদ্রে অবগাহনকারী মেঝ শাহ্‌জাদা বর্তমান জমানার যুগ শ্রেষ্ঠ মুজাদ্দিদ, শায়খুল ইসলাম, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের সাবেক প্রেসিডেন্ট, ত্বরীকা-এ-মাইজভাণ্ডারীয়ার দিকপাল, সুফিকুল শিরোমণি হযরত আল্লামা শাহ্‌সুফি সাইয়্যিদ মইনুদ্দিন আহমদ আল হাসানী ওয়াল হোসাইনী মাইজভাণ্ডারী (কঃ) কে তার স্থলাভিষিক্ত করে যান।
তার অগণিত কারামত বা অলৌকিক ক্ষমতাবলে অসংখ্য মানুষ উপকৃত হয়েছেন। তিনি ছিলেন একজন উঁচু মর্যাদার অলিয়ে কামেল, গাউছে জামান। "সুলতানুল মাশয়েখ" বা মাশায়েখদের সুলতান তার এক পবিত্র বিরল উপাধি।


আরও খবর



তীব্র গরম উপেক্ষা করে রমনায় মানুষের ঢল

প্রকাশিত:রবিবার ১৪ এপ্রিল ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ২২ এপ্রিল ২০২৪ |

Image

পয়লা বৈশাখকে বরণ করতে রাজধানীর রমনা পার্কে মানুষের ঢল নেমেছে। দলে দলে আসছেন নারী-পুরুষ ও শিশু। শাহবাগ ও মৎস্য ভবনের সামনের দুটি গেট দিয়ে তারা পার্কে ঢুকছেন। সবাইকে রমনায় প্রবেশের আগে আর্চওয়ে দিয়ে তল্লাশি করে প্রবেশ করাচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা। শাহবাগ ও মৎসভবনের মাঝে ওভারব্রিজের পশ্চিম পাশে আরেকটি গেট করা হয়েছে। সেটি দিয়ে পার্কে প্রবেশকারীরা ঘোরা শেষে বের হচ্ছেন। তবে বের হওয়া মানুষের চেয়ে প্রবেশের সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি।

শাহবাগ থেকে মৎস্যভবন রাস্তার দুইপাশের ফুটপাত ধরে শত শত মানুষ হাঁটছেন। তাদের সবার পরনে কম বেশি বৈশাখের পোশাক। হাঁটার ফাঁকে ফাঁকে কেউ কেউ ছবি তুলছেন। নিজেকে সেলফিবন্দি করতে ভুলছেন না তারা। কেউ আবার রোদের তীব্রতা থেকে নিজেকে রক্ষার জন্য সাথে ছাতা নিয়ে এসেছেন।

আজ আবহাওয়ার তথ্য বলছে, ঢাকায় তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে সেদিকে খেয়াল নেই পয়লা বৈশাখ উদযাপনকারী মানুষজনের। রমনায় প্রবেশের পর লোকজন পুকুরপাড়ের ধার ধরে কেউ বসে গল্প করছেন, কেউ আবার নতুন তৈরি পুকুরের কোল ঘেঁষে কংক্রিটে বাঁধানো পাড়ে হেঁটে সময় কাটাচ্ছেন।

তবে প্রচণ্ড রোদ থাকায় বেশ গরম অনুভূত হচ্ছে খোলা আকাশের নিচে। গরম থেকে রেহাই পেতে তৃষ্ণা নিবারণের জন্য কেউ কেউ আইসক্রিম এবং ঠান্ডা জাতীয় বরফ শরবত কিনে খাচ্ছেন।

শাহবাগের শিশু পার্কের বিপরীতে রমনার প্রধান গেট। তার পাশের ফুটপাতে স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে বসে আছেন আনিস আহমেদ। এসেছেন পুরান ঢাকা থেকে। তিনি বলছিলেন, অনেক কষ্টে ঢুকেছিলাম ভেতরে, কিন্তু এত মানুষ! হাঁটার মতো পরিবেশ নেই। বাধ্য হয়ে এখানে বসে আমরা বিশ্রাম নিচ্ছি।

খিলগাঁও এলাকা থেকে এসেছে নবীন ও আয়েরা। তারা দুজন স্কুলপড়ুয়া। সকালে মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছে তারা। এখন রমনা পার্কটা ঘুরে দেখার জন্য মৎস্য ভবনের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে আছে।

তাদের মতে, রমনা পার্কে অন্য দিন আসাটা আর আজকে আসাটা এক নয়। কারণ হিসেবে তারা বলছে, বৈশাখের আমেজে আজ রমনা পার্ক সেজেছে। হাজার হাজার মানুষ প্রবেশ করছে এতে। ফলে অন্যরকম একটি দেখার দৃশ্য।

তীব্র গরমের হাঁপিয়ে ওঠা মানুষজনকে পুলিশের পক্ষ থেকে পানি সরবরাহ করতেও দেখা গেল। পার্কজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঠেকাতে তারা বেশ তৎপর।

রমনার বটমূলে কোরাস গান গেয়ে সূর্য ওঠার মুহূর্তে বৈশাখকে বরণ করা হয়। এই আয়োজনে শতাধিক শিল্পী অংশ নেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। সেটি শাহবাগ ও ঢাকা ক্লাব হয়ে আবারও চারুকলা ইনস্টিটিউটে গিয়ে শেষ হয়। এতে অংশ নেয় কয়েক হাজার মানুষ।


আরও খবর

তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত জনজীবন

রবিবার ২১ এপ্রিল ২০২৪




নওগাঁয় মাটি ব্যবসায়ীদের নতুন কৌশল, রাতের আধারে কাটছে মাটি

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৬ মার্চ ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২১ এপ্রিল ২০২৪ |

Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, সিনিয়র রিপোর্টার :

নওগাঁয় কোন ভাবেই থামছে না কৃষি জমির মাটি লোপাট করা। কতিপয় মাটি কারবারিবার তাদের কৌশল পাল্টিয়ে রাত নামতেই শুরু হচ্ছে মাটি কাটার মহোৎসব। একটি মেশিনের স্থানে একাধিক মেশিন দিয়ে কাটা হচ্ছে সরকারি খাস জমির মাটি। এতে করে কৃষি জমি হারানোর পাশাপাশি নষ্ট হচ্ছে পাকা সড়ক। পরিবেশ ও মানুষের জন্য হুমকি বন্ধ করতে দ্রুত প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করেছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে দিনে ও রাতে গিয়ে দেখা যায়, মিরাট ইউনিয়নের ২নং সুইস গেট সংলগ্ন স্থানে আতাইকুলা মৌজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ সংলগ্ন স্থানে সরকারি খাস জমির সঙ্গে ব্যক্তি কিছু মালিকানা জমি বছরে ১৬ হাজার টাকা বিঘা হিসেবে বন্ধক নিয়ে খনন করা হচ্ছে পুকুর। সম্প্রতি এ বিষয়ে রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাতে গিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মাটি বহনের কারণে দু' জন ট্রাক্টর চালককে কারাদন্ড প্রদান করেন। এরপর সংবাদ পাওয়ার পর ঐ স্থানে গিয়ে উপজেলা ভুমি অফিসের লোকজন সরকারি খাস জমির একটি সাইনবোর্ড দিয়ে আসে এবং সরকারি জমি পরিমাপ করে লাল ফিতা দিয়ে চিহ্নিত করে আসেন। এর কয়েক দিন পরে উপজেলার কুজাইল এলাকার সর্বরামপুর গ্রামের মাটি ব্যবসায়ী সাইদুল ইসলাম রাজনৈতিক ব্যক্তিকে ম্যানেজের মাধ্যমে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে আঁতাত করে কৌশল পাল্টিয়ে রাতে মাটি কাটাছে। এরপর বিষয়টি প্রশাসনকে একাধিকবার জানালেও কোন পদক্ষেপ গ্রহন না করায় দেদারছে রাতে সরকারি খাস জমি সহ কৃষি জমি গর্ত করে মাটি কেটে বিভিন্ন ইট ভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে আর বড় বড় ড্রাম ট্র্যাকের চাঁকায় নষ্ট হচ্ছে গ্রামীণ সড়ক ও প্রধান প্রধান পাঁকা সড়কগুলো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতরা জানান, রাতে মাটি কাটার জন্য উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের লাখ টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করা হয়। তা না হলে রাতে খবর পেয়ে পুলিশের লোকেরা দফায় দফায় ভেকু মেশিনের চাবি কেড়ে নিয়ে যায়। পরে সন্ধির মাধ্যমে চাবি ফিরিয়ে দেয়। এতো ঝাক্কি-ঝামেলা থেকে মুক্ত হতেই স্থানীয় ইউনিয়ন ভুমি অফিসের মাধ্যমে উপজেলা ভুমি অফিস ও উপজেলা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এই কর্মকান্ড পরিচালনা করা হচ্ছে।

মাটি ব্যবসায়ী সাইদুল ইসলাম জানান, ঐ স্থানে হয়তো কিছু খাস জমি আছে। তবে জমির মালিকরা আমার সঙ্গে চুক্তি করে মাটি কেটে নিচ্ছে। আমি মাটির বিনিময়ে তাদের জমি খনন করে দিচ্ছি। অনুমতির বিষয়ে জমির মালিকগুলো জানেন তিনি কিছু জানেন না। দিনের বেলায় সাটি কাটলে প্রশাসন হানা দেয় তাই তিনি রাতে মাটি কাটছেন। 

মিরাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জানান, ওই জমি থেকে মাটি কাটা নিয়ে মামলা চলমান ছিল। এরপর আমার আর কিছু জানা নেই। তবে মাটি খেকোরা নিশ্চয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেই হয়তো বা রাতে মাটি কাটছে। থানার ওসি আবু ওবায়েদ জানান, পুলিশ শুধুমাত্র আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে কাজ করে। কোথায় কে মাটি কাটছে সেই বিষয়টি দেখবে উপজেলা প্রশাসন কিংবা ভূমি অফিস। যারা পুলিশের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেছে তা সম্পন্ন মিথ্যা ও বানোয়াট। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে তাবাসসুম জানান, বিষয়টি তিনি জানার পর স্থানীয় ইউনিয়ন ভুমি অফিসের মাধ্যমে মাটি কাটা ব্যক্তিকে মাটি কাটা বন্ধ করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন। এরপরও যদি সে মাটি কাটা বন্ধ না করে তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আরও খবর



মার্কিন অভিনেত্রীর সঙ্গে শাকিব খান

প্রকাশিত:রবিবার ০৭ এপ্রিল ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ২২ এপ্রিল ২০২৪ |

Image

প্রথমবারের মতো মার্কিন অভিনেত্রী কোর্টনি কফির সঙ্গে জুটি বেঁধে রাজকুমার সিনেমায় কাজ করেছেন ঢাকাই ছবির শীর্ষ নায়ক শাকিব খান। আসন্ন ঈদেই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে ছবিটি। এরই মধ্যে শাকিবের সঙ্গে দেখা মিলল আরও এক মার্কিন অভিনেত্রীর। এবার লাস্যময়ী তারকা মডেল ও অভিনেত্রী কেলসি নটেজের সঙ্গে জুটি বেঁধে বিজ্ঞাপন করেছেন শাকিব খান।

জানা গেল, যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার বাহামার নাসাউতে কেলসির সঙ্গে নিজের কোম্পানির বিজ্ঞাপনচিত্র তৈরি করছেন তিনি। তাঁর কোম্পানি রিমার্ক-হারল্যানের ব্র্যান্ড লিলির বিজ্ঞাপনচিত্রের শুট করতেই তিনি গিয়েছেন সেখানে। এই বিজ্ঞাপনচিত্রে দর্শকদের জন্য নতুন আকর্ষণ কেলসির সঙ্গে শাকিবের নতুন রসায়ন।

এ বিজ্ঞাপন প্রসঙ্গে রিমার্ক এইচবির অপারেটিভ ডিরেকটর হাসান ফারুক বলেন, কেভস বিচ, কোরাল হারবার, ওশেন ক্লাব ও রক পয়েন্টের মতো দৃষ্টিনন্দন ও বৈচিত্র্যময় স্পটে শাকিব খান, কেলসি ও অন্যান্য আমেরিকান কলাকুশলীদের নিয়ে চিত্রায়িত করা হয়েছে বিজ্ঞাপনটি। এটি একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে আমি বিশ্বাস করি।


আরও খবর



এবার যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করল ইরান

প্রকাশিত:রবিবার ১৪ এপ্রিল ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ২২ এপ্রিল ২০২৪ |

Image

ইসরায়েলে হামলা চালানোর পর যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে ইসরায়েল। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলি মিশন যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেছে, তারা যেন এই সংঘাত থেকে দূরে থাকে। তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়।

রবিবার ভোর রাতে সরাসরি ইসরায়েলের ওপর এই হামলা শুরু করে ইরান। নজিরবিহীন এ হামলায় ইসরায়েলজুড়ে ব্যাপক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে। জেরুজালেম ও তেলআবিবসহ পুরো ইসরায়েলজুড়ে বাজছে বিমান হামলার সাইরেন।

হামলার পর থেকে ইসরায়েলের উপর পূর্ণ সমর্থন প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। জো বাইডেন আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, তারা ইসরায়েলের পাশে আছেন। ইরানের সমালোচনাও করেছেন তিনি। এমন অবস্থায় ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে তারা যেন এই সংঘাত থেকে দূরে থাকে

ইরানের দাবি, তারা আত্মরক্ষার জন্য এই হামলা চালিয়েছে। জাতিসংঘ সনদের ৫১ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তাদের হামলা বৈধ। ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনের প্রতিবাদ হিসেবে তারা এই হামলা চালিয়েছে।

এক্স এ দেওয়া এক পোস্টে ইরান জানায়, ইসরায়েল যেন আর ভুল না করে, তাহলে পরবর্তী পদক্ষেপ আরও মারাত্মক হবে। আর এই সংঘাত শুধুমাত্র ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে। যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই এই সংঘাত থেকে দূরে থাকতে হবে।


আরও খবর

ইরানে হামলা : ইস্ফাহান কেন টার্গেট?

শুক্রবার ১৯ এপ্রিল ২০২৪




রাণীনগরে ডাকাতির প্রস্ততিকালে অস্ত্রসহ আটক-৪

প্রকাশিত:বুধবার ০৩ এপ্রিল ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২১ এপ্রিল ২০২৪ |

Image

কাজী আনিছুর রহমান,রাণীনগর (নওগাঁ)  :

নওগাঁর রাণীনগরে পুলিশ ডাকাতির প্রস্ততিকালে দেশীয় অস্ত্রসহ চার জনকে আটক করেছে । এসময় একটি মিনিট্রাক জব্দ করা হয়।মঙ্গলবার গভীর রাতে নওগাঁ-নাটোর আঞ্চলিক মহাসড়কের গোনা এলাকা থেকে আটক করা হয়। এঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। 

বুধবার দুপুরে রাণীনগর থানায় নওগাঁ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) গাজিউর রহমান পিপিএম,এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, আসন্ন ঈদ উপলক্ষে উপজেলা জুরে পথচারী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা জোরদারে অতিরিক্ত পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে থানাপুলিশ টহল দেয়ার সময় নওগাঁ-নাটোর আঞ্চলিক মহাসড়কের গোনা এলাকায় পৌছলে সড়কের উপর একটি মিনি ট্রাক সন্দেহভাজনক অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে। এসময় পুলিশ ট্রাকের কাছে যেতেই ট্রাক নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে।এসময় পুলিশ এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় চারজনকে আটক করে। আটককৃতরা হলো বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার নিমাইকোলা গ্রামের সোনা মিয়ার ছেলে শাকিল প্রাং(২৪) ও লিটনের ছেলে মুন্না মন্ডল (১৯) এবং নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার হরিশপুর গ্রামের জামাল উদ্দীনের ছেলে আজাদুল ইসলাম (২৮) ও একই উপজেলার আতাইকুলা গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে লিটন হোসেন (২৪)।

আটককালে তাদের নিকট থেকে লোহার শাবল,রড,হাসুয়া,চাকু,কসটেপ,রশি উদ্ধার করা হয়। এসময় একটি মিনিট্রাকও জব্দ করা হয়। পুলিশের এই কর্মকর্তা আরো জানান, মিনিট্রাকে এই দলে ১০/১২জন ছিল। এদের মধ্যে অনেকেই রয়েছে যারা নওগাঁর মহাদেবপুরে গত বছরে সংঘটিত ডাকাতির সঙ্গে জড়িত। এরা কোন বাড়ী বা রাস্তায় পথচারীর পথরোধ করে ডাকাতি সংঘটিত করতো বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে। সংবাদ সম্মেলনে রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু ওবায়েদ,ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মেহেদি মাসুদসহ অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আটককৃতদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করে আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।


আরও খবর