Logo
শিরোনাম
শবে বরাত পালন মুসলিম জাতিকে একতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে। ৫৭ তম খোশরোজ শরীফ ও মইনীয়া যুব ফোরামের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন বাঙালি সাংস্কৃতিতে মাইজভাণ্ডারী ত্বরীকার সাথে সম্পর্ক রয়েছে সীমান্তে হত্যা বন্ধের দাবীতে প্রতীকী লাশ নিয়ে হানিফ বাংলাদেশীর মিছিল লক্ষ্মীপুরে কৃষক কাশেম হত্যা: স্ত্রী, শ্বশুরসহ গ্রেপ্তার ৫ কুমিল্লা সিটি’র উপনির্বাচন: মেয়র পদে প্রতীক বরাদ্দ অবৈধ মজুদকারীরা দেশের শত্রু : খাদ্যমন্ত্রী ফতুল্লায় সিগারেট খাওয়ার প্রতিবাদ করায় কিশোরকে পিটিয়ে হত্যা বকশীগঞ্জে মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা নোবিপ্রবিতে সিএসটিই এলামনাই এসোসিয়েশনের নতুন কমিটি গঠন

নোয়াখালীতে তেল কম দেওয়ায় ফিলিং স্টেশন সিলগালা

প্রকাশিত:বুধবার ০৬ ডিসেম্বর ২০২৩ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ |

Image

অনুপ সিংহ,নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি :

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে তেল কম দেওয়ায় মেসার্স আমিন সিএনজি ফিলিং স্টেশনকে সিলগালা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একইসঙ্গে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

বুধবার (৬ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার বজরা ইউনিয়নের দিঘীরজান এলাকায় এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আহসান হাফিজ।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, বেলা ১১টার দিকে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) প্রতিনিধিসহ হাজির হন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আহসান হাফিজ। এ সময় বিএসটিআইয়ের নির্ধারিত পরিমাপক যন্ত্রে প্রতি ১০ লিটার অকটেনে ৪৮০ মিলিলিটার কম তেল পাওয়া যায় এবং ডিসপ্লে নষ্ট অবস্থায় তেল বিক্রি করতে দেখা যায়। অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করায় আমিন সিএনজি ফিলিং স্টেশনকে ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইনে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। 

জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আহসান হাফিজ বলেন, পেট্রল পাম্পটিকে সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। তারা জরিমানার টাকা নগদ পরিশোধ করেছেন। পরবর্তীতে নতুন ডিসপ্লে প্রতিস্থাপন ও মেশিন ক্যালিব্রেশন করে বিএসটিআইয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে ডিসপেন্সিং ইউনিট পুনরায় চালু করবে।


আরও খবর

তিন মাস পর কারামুক্ত মির্জা আব্বাস

সোমবার ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




স্থায়ী জামিন পেয়েছেন ড. ইউনূস

প্রকাশিত:রবিবার ২৮ জানুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ |

Image

শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তার আইনজীবী আবদুল্লাহ আল-মামুন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 ২৮ জানুয়ারি পৌনে ১১টার দিকে শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে আপিল করেন ড. ইউনূসসহ চার আসামি। আপিলে জামিন আবেদনের পাশাপাশি শ্রম আইন লঙ্ঘন মামলার রায়ে ৬ মাসের সাজার বিরুদ্ধে ২৫টি যুক্তি দেখিয়ে খালাস চাওয়া হয় তাদের পক্ষে। এর প্রেক্ষিতে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাদের জামিন দিয়েছেন শ্রম আপিলেট ট্রাইব্যুনাল।

এর আগে শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের করা মামলায় গত ১ জানুয়ারি ড. ইউনূসসহ চারজনকে ছয় মাস করে কারাদণ্ড দেন ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালত। একইসঙ্গে প্রত্যেককে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সাজাপ্রাপ্ত অপর তিনজন হলেন গ্রামীণ টেলিকমের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আশরাফুল হাসান, পরিচালক নুর জাহান বেগম ও মো. শাহজাহান।

রায় ঘোষণার পর উচ্চ আদালতে আপিল করার শর্তে ড. ইউনূসসহ চারজনকে এক মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছিলেন ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালত।

২০২১ সালের ১ সেপ্টেম্বর ড. ইউনূসসহ চারজনের বিরুদ্ধে শ্রম ট্রাইব্যুনালে মামলাটি করা হয়। গত বছরের ৬ জুন মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয়। গত বছরের ২২ আগস্ট সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়, যা শেষ হয় ৯ নভেম্বর। গত ২৪ ডিসেম্বর যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ হয়।

মামলায় অভিযোগ আনা হয়, শ্রম আইন ২০০৬ ও শ্রম বিধিমালা ২০১৫ অনুযায়ী, গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক বা কর্মচারীদের শিক্ষানবিশকাল পার হলেও তাঁদের নিয়োগ স্থায়ী করা হয়নি। প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিক বা কর্মচারীদের মজুরিসহ বার্ষিক ছুটি, ছুটি নগদায়ন ও ছুটির বিপরীতে নগদ অর্থ দেওয়া হয়নি। গ্রামীণ টেলিকমে শ্রমিক অংশগ্রহণ তহবিল ও কল্যাণ তহবিল গঠন করা হয়নি। লভ্যাংশের ৫ শতাংশের সমপরিমাণ অর্থ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন আইন অনুযায়ী গঠিত তহবিলে জমা দেওয়া হয়নি।

 


আরও খবর

তিন মাস পর কারামুক্ত মির্জা আব্বাস

সোমবার ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




কোটি টাকা নিয়ে দুবাই পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা, ৬ জন আটক

প্রকাশিত:রবিবার ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪ |

Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, সিনিয়র রিপোর্টার :

নওগাঁয় গ্রাহকদের সঞ্চয়কৃত ২০ কোটি টাকা নিয়ে দুবাই পালিয়ে যাওয়ার সময় ডলফিন নামে এক এনজিওর মালিক আব্দুর রাজ্জাক সহ নারী-পুরুষ মোট ৬ জন কে আটক করেছে র‌্যাব। এ সময় জব্দ করা হয় বিভিন্ন মালামাল। রবিবার দুপুরে নওগাঁ সার্কিট হাউজে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান র‌্যাব-৫ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুনিব ফেরদৌস। আটককৃত ৬ জন হলেন, নওগাঁ জেলা সদর উপজেলার ফতেপুর গ্রামের নাছির উদ্দিন মন্ডল এর ছেলে ডলফিন এনজিও (সংস্থার) পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক (৪৪), তার বোন শিল্পী বেগম (৩৫), স্ত্রী সুমি বেগম (৩০), সংস্থার সভাপতি পিয়ার আলী (৪২), ম্যানেজার আতোয়ার রহমান  (৫৫) এবং ক্যাশিয়ার রিপন (২০)।

র‌্যাব-৫ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুনিব ফেরদৌস আরো জানায়, নওগাঁ সদর উপজেলার ফতেপুর বাজারে ২০১৩ সালে সমবায় থেকে নিবন্ধন নিয়ে ডলফিন সেভিং এন্ড ক্রেডিট কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড নামে একটি বে-সরকারি সংস্থা গড়ে তোলেন নাসির উদ্দিনের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক। যেখানে বিভিন্ন গ্রামের সহজ-সরল মানুষদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে স্থায়ী আমানত ও ক্ষুদ্র সঞ্চয় কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। গ্রাহকদের প্রতি লাখে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা মুনাফা দিতেন। গত কয়েক মাস থেকে গ্রাহকদের মুনাফা না দিয়ে আজ দিবো কাল বলে বলে তালবাহানা করতে থাকেন। হঠাৎ করেই গত ২০ জানুয়ারি সংস্থার সকল কার্যক্রম বন্ধ করে দেন আব্দুর রাজ্জাক। এ সময় প্রায় ৩শ' এর বেশি গ্রাহকের ২০ কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যায় আব্দুর রাজ্জাক। এমন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৫ এর গোয়েন্দা দল তাদের কে গ্রেফতার পূর্বক আইনের আওতায় নেওয়ার জন্য গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করেন। তিনি আরো বলেন, আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি আব্দুর রাজ্জাক এর দুবাই পালিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। এরিমাঝে রবিবার ভোরে নারায়নগঞ্জ জেলার রুপগঞ্জ থানার তারাবো বাসস্ট্যান্ড থেকে র‌্যাব-১১ এর সহযোগীতায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে আটক করা হয়। এরপর নওগাঁ জেলা সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আব্দুর রাজ্জাকের বোন, স্ত্রী, এনজিওর সভাপতি, ম্যানেজার ও ক্যাশিয়ার কে আটক করা হয়। আটককৃতদের নওগাঁ সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।


আরও খবর



উপজেলা নির্বাচনে ভালো ভোটের আশা ইসির

প্রকাশিত:রবিবার ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪ |

Image

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কোনো চ্যালেঞ্জ দেখছে না নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শৃঙ্খলা রক্ষায় সংসদ নির্বাচনের চেয়েও বেশি এফোর্ট দেবে। এতে আরো ভালো ভোটের আশা দেখছে সংস্থাটি।

ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রথমবারের মতো একটি জেলায় একাধিক ধাপে ভোট করার পরিকল্পনা নিয়েছে কমিশন। ফলে অধিক হারে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের জন্য অন্য জেলার দারস্থ হতে হবে না। এতে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা যাবে। মূলত, ভোটে যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলেও যেন সহজে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া যায়, তাই এই কৌশল নিয়েছে সংস্থাটি।

অতীতে বিভাগ অনুযায়ী জেলাভিত্তিক উপজেলাগুলোর নির্বাচন হয়েছে। এতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের অন্য এলাকা থেকে নিয়োগ করা হতো। এবারও কয়েক ধাপে ভোট হলেও একই এলাকাকে একাধিক ধাপে বিন্যাস করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ বলেন, উপজেলা নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। নির্বাচন ধাপে ধাপে হবে বিধায় শৃঙ্খলা রক্ষায় আমরা বেশি শক্তি নিয়োগ করার সুযোগ পাবো।

তিনি বলেন, চারটি ধাপে নির্বাচন হওয়াতে কমিশন মনে করছে যে এতে সুবিধা আছে। এছাড়া একই জেলার মধ্যে একাধিক ধাপে নির্বাচন দেওয়ায় একই জেলার পুলিশ,আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং প্রশাসন দিয়ে কাজটা করা অনেক সহজ হবে। আগে যেভাবে নির্বাচন করা হয়েছে, এক অঞ্চলে নির্বাচনের জন্য অন্য অঞ্চলের থেকে পুলিশ আনতে হতো। সেক্ষেত্রে পুলিশের যাতায়াত বা অন্যান্য প্রশাসনে যারা দায়িত্ব পালন করে তাদের যাতায়াত ও থাকার একটা অসুবিধা হয়। আর আমরা যদি একই জেলার মধ্যে ধাপে ধাপে নির্বাচন করি, তাহলে সংশ্লিষ্ট জেলার যে প্রশাসনিক ক্ষমতা আছে সে সংখ্যা দিয়েই আমরা ওই জেলার নির্বাচন সম্পন্ন করতে পারে। এজন্যই কমিশন মনে করছে যে ধাপে ধাপে একই জেলার ভেতরে নির্বাচন হলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মুভমেন্টে বিশেষ সুবিধা পাবে। এতে নির্বাচনী ব্যয়ও কিছুটা কমতে পারে।

নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর বলেন, সংসদ নির্বাচন যেভাবে করেছি উপজেলা নির্বাচন তার চেয়ে ভালো ভাবে করব। কারণ জাতীয় নির্বাচন একসঙ্গে ৩০০ জায়গায় এফোর্ট দিতে হয়েছে। উপজেলা নির্বাচন চার ধাপে করব। প্রতি ধাপে একশ'র মতো উপজেলায় নির্বাচন হবে। এতে আশাকরি নির্বাচন সুষ্ঠু হবে।

এ নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, জেলা পর্যায়েও একাধিক ধাপে ভোট করার পরিকল্পনা এবারই প্রথম। আমার সহকর্মীরা চমৎকার একটি কৌশল বের করেছেন। আশাকরি, এতে ইতিবাচক ফলাফল আসবে।

ইসি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ৪ মে, দ্বিতীয় ধাপে ১১ মে, তৃতীয় ধাপে ১৮ মে ও চতুর্থ ধাপে ২৫ মে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রথম ধাপে ১৫৩টি, দ্বিতীয় ধাপে ১৬৫টি, তৃতীয় ধাপে ১১১টি ও চতুর্থ ধাপে ৫২টি; মোট ৪৮১টি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ করবে কমিশন। দেশে বর্তমানে উপজেলা রয়েছে ৪৯৫টি। অবশিষ্টগুলোতে পরবর্তীতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

 


আরও খবর



অনুপ্রবেশের অপেক্ষায় অনেক রোহিঙ্গা

প্রকাশিত:শনিবার ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪ |

Image

রাখাইনে চলমান সংঘাতের কারণে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের জন্য ওপারে সীমান্তে অবস্থান নিয়েছে অনেক রোহিঙ্গা। তবে তাদের এদেশে আসার ব্যাপারে বিরোধিতা করছে উখিয়া-টেকনাফে অবস্থানরত রোহিঙ্গারা। তারা বলছেন, নিজ দেশ ছেড়ে এবার ভুল করা যাবে না।

শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারি) ক্যাম্পে আয়োজিত কনভেনশনে রোহিঙ্গা নেতারা বলেছেন, আরাকান আর্মি তাদের অবস্থান স্পষ্ট করলে এখনই তারা ফিরে যাবেন মিয়ানমারে।

দেশটির অভ্যন্তরে জান্তা বাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির তুমুল সংঘর্ষ চলছে। ইতোমধ্যে রাখাইন রাজ্যের বেশ কিছু এলাকা দখলে নিয়েছে সংগঠনটি। ফলে বুচিডংসহ রাখাইনের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের জন্য সীমান্তে অবস্থান নিয়েছে।

এদিন উখিয়া ক্যাম্পের কয়েকজন রোহিঙ্গা জানান, দুই পক্ষের হামলায় রোহিঙ্গারা প্রতিনিয়ত আক্রান্ত হচ্ছেন। তাই তারা বাংলাদেশে চলে আসার জন্য নিয়মিত যোগাযোগ করছেন এখানকার রোহিঙ্গাদের সঙ্গে।

তবে এবার নিপীড়নের শিকার হলেও কোনো অবস্থাতেই জন্মভূমি না ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছেন রোহিঙ্গা নেতারা। তারা বলছেন, ২০১৭ সালে বাংলাদেশে এসে ভুল করেছেন। সেটা দ্বিতীয়বার যেন অন্যরা না করেন। মিয়ানমারে এখন জান্তারা দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে এখনই স্বদেশে ফিরে যাওয়া জরুরি।

এক রোহিঙ্গা বলেন, আমরা আর কাউকে বাংলাদেশে আসতে দিতে চায় না। বরং এখনই সময় সেখানে আমাদের চলে যাওয়া। যেটা জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসময়ে যেতে পারলে খুবই ভালো হয়। সেই সুরে সুর মিলিয়ে আরেক রোহিঙ্গা বলেন, তারা কষ্ট পেলেও, জুলুমের শিকার হলেও মিয়ানমারেই থাকা দরকার তাদের। ওরা থাকতে পারলে পরে আমরাও যেতে পারবো।

মিয়ানমারে দ্রুত ফিরে যাওয়ার জন্য এদিন সকালে উখিয়ার লম্বাশিয়া ক্যাম্পে সম্মেলন করেন এফডিএমএন রিপ্রেজেন্টেটিভ কমিটি। এতে নির্বাচিত বিভিন্ন ক্যাম্পের ৪ হাজার প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। আরাকান আর্মিকে ইঙ্গিত করে কমিটির নেতা মাস্টার ছৈয়দ উল্লাহ বলেন, সংগঠনটি রোহিঙ্গাদের অবস্থান স্পষ্ট করলে তারা এখনই চলে যেতে প্রস্তুত।

শরণার্থী কমিশন বলছে, নতুন করে যেকোনো অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে সরকার। শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসান কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, আরও রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢোকার আশঙ্কা রয়েছে। তবে আমাদের বর্ডার গার্ড (বিজিবি) অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

অনুপ্রবেশের পাশাপাশি ওপার থেকে নিয়মিত ভেসে আসছে ভারী অস্ত্রের ঝনঝনানি। এর ফলে কক্সবাজার ও বান্দরবান সীমান্তে আতঙ্কে আছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।


আরও খবর



আইনের কঠোর প্রয়োগ না থাকায় বাড়ছে চালের দাম

প্রকাশিত:বুধবার ৩১ জানুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ |

Image

চলতি বছরের শুরু থেকেই অস্থিরতা লেগে আছে দেশের মানুষের প্রধান খাদ্যপণ্য চালের বাজারে। মন্ত্রী-সচিবদের হুমকি-ধমকি এবং মন্ত্রণালয় ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের অভিযানসহ সরকারের নানা পদক্ষেপেও স্বস্তি ফিরছে না। অভিযানের পর পাইকারি চালের বাজারে তাৎক্ষণিক নামমাত্র দাম কমলেও এর প্রভাব নেই খুচরা বাজারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধু ভয় দেখালে হবে না, আইনের কঠোর প্রয়োগ করতে হবে।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, মোটা চাল (স্বর্ণা ও চায়না ইরি) বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৫০-৫৩ টাকায়। মাঝারি মানের চাল (পাইজাম ও বিআর ২৮) ৫২-৫৭ টাকা এবং সরু চাল (মিনিকেট ও নাজিরশাইল) ৬৫ থেকে ৭৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে কিছু হাস্কিং মিলের মোটা চাল ৪২-৪৫ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে। অথচ চলতি জানুয়ারি মাসের শুরুর দিকেও এসব চালের দাম প্রতি কেজিতে ১০ টাকা কমে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

চালের মূল্য নিয়ন্ত্রণে আনতে জোরেসোরেই মাঠে নেমেছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। চালের অবৈধ মজুত প্রতিরোধে নিয়মিত মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অভিযান চালানো হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে সোমবার (২৯ জানুয়ারি) সারাদেশে কয়েক ডজন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়। মাগুরা জেলায় ৩৭টি প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ফুডগ্রেইন লাইসেন্স না থাকায় ৯ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জয়পুরহাটে ৪৩টি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়। অতিরিক্ত মজুত রাখায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া দিনাজপুরে ৬২টি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ফুডগ্রেইন লাইসেন্স না থাকায় চার হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। নেত্রকোণায় ২২টি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়। এসময় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মূল্যতালিকা ও ফুডগ্রেইন লাইসেন্স না থাকায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি মাঠে কাজ করছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। দাম নিয়ন্ত্রণে নিজেই সরাসরি বাজারে যাচ্ছেন অধিদফতরের মহাপরিচালক এ এইচ এম শফিকুজ্জামান। সম্প্রতি অভিযান পরিচালনার সময় তিনি বলেন, সরকারকে বিব্রত অবস্থায় ফেলতেই অযৌক্তিকভাবে চালের দাম বাড়ানো হয়েছে। ডিসেম্বরের পর হঠাৎ চালের দাম বেড়ে গেছে। এটি উত্তরাঞ্চলের মিলগুলো থেকে করা হয়েছে। মিল মালিকরা বলতে চাচ্ছেন ধানের দাম বেড়ে যাওয়ায় তারা এটা করেছে। তবে ধানের দাম বাড়লেও সেই ধানের চাল বাজারে আসার কথা বৈশাখ মাসে। একটি অসাধু চক্র এর আগেই দাম বাড়িয়েছে। আর যারা এটা করছে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে শনিবার (২৭ জানুয়ারি) বরিশালের ফরিয়াপট্টি, চকবাজার এলাকার পাইকারি বাজার পরিদর্শন করেন এ এইচ এম শফিকুজ্জামান। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপের সময় তিনি বলেন, এসএমএসের (ক্ষুদে বার্তা) মাধ্যমে ডিম, ব্রয়লার মুরগির মতো চালের বাজারও অস্থির করে দেওয়া হচ্ছে। মাঝে মাঝে সুযোগ নিয়ে ১৭ কোটি ভোক্তাকে প্রতারিত করছে ক্ষুদ্র কয়েকটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী। এর আগে আলু, ব্রয়লার মুরগি, ডিম নিয়ে যা করছে আজ চাল, কাল পেঁয়াজ নিয়েও তা করা হচ্ছে। আর এদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান রয়েছে আমাদের।

এদিকে না শোধরালে মজুতদারদের জেলে পাঠানোর হুমকি দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। রোববার নওগাঁয় এক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, দেশে খাদ্য শস্যের কোনো ঘাটতি নেই। সাধারণ মানুষের জন্য সরকারিভাবে ওএমএস চালু আছে। ডিজিটাল কার্ড প্রস্তুত হয়েছে। শিগগিরই ডিজিটাল কার্ডের মাধ্যমে ওএমএস বিতরণ করা হবে। এতে এক ব্যক্তি বারবার চাল নিতে পারবেন না। চালের দাম সহনীয় পর্যায়ে আনতে হলে ব্যবসায়ীদের অধিক লাভের মনোভাব পরিবর্তন করতে হবে। চালের দাম বৃদ্ধির পেছনে মিলার, পাইকারি, খুচরা ব্যবসায়ী ও করপোরেট সবার দায় রয়েছে। ফুডগ্রেইন লাইসেন্স স্পটে গিয়ে দেওয়ার জন্য কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে। অনেকেই আবার ইউনিয়ন পরিষদ থেকে একটা লাইসেন্স নিয়ে কোটি কোটি টাকার পণ্য মজুত করে ফেলেন। এটা তো হতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন, মজুত, স্থানান্তর, পরিবহন, সরবরাহ, বিতরণ ও বিপণন (ক্ষতিকর কার্যক্রম প্রতিরোধ) আইন ২০২৩ পাস হয়েছে। বিধি প্রণয়নের কাজ চলছে। এটি সংসদে অনুমোদন পেলে অবৈধ মজুতদারদের বিরুদ্ধে আরও শক্ত পদক্ষেপ নেওয়া যাবে। শুধু জরিমানা করেই ছাড় নয়, অবৈধ মজুতদারেরা না শোধরালে তাদের জেলে যেতে হবে।

চালের মূল্য বৃদ্ধির মধ্যে বাজারে সরবরাহের কোনো সংকট নেই জানিয়ে খাদ্যসচিব ইসমাইল হোসেন বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে আসতে বাধ্য। না আসার কোনো কারণ নেই। সারাদেশে খাদ্যের কোনো সংকট নেই। আমন মৌসুম শেষ হলো। সুতরাং ভরা মৌসুমে চালের সংকট নেই। খাদ্যের সংকট হবে এমনটিও ভাবার কোনো কারণ নেই। যদি পরিস্থিতি এমন হয় মজুতদারেরা মূল্য কমাতে চাচ্ছে না, তাহলে জিরো ট্যাক্স করে আমরা বিদেশ থেকে চাল আমদানির অনুমতি নিয়ে নেব। তাহলে মজুতদারেরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

অপরদিকে, বাংলাদেশ রাইস মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি জাকির হোসেন রনি  বলেন, দীর্ঘদিন আইনের কঠোর প্রয়োগ না থাকার কারণে অসাধু ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তাদের লাগাম টানতে হবে।

এ বিষয়ে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস চেয়ারম্যান এস এম নাজের হোসাইন বলেন, এখনও চালের বাজারে কোনো নিয়ন্ত্রণ নাই। এখন খাদ্য মন্ত্রণালয় যে অভিযান চালাচ্ছে তার কোনো ইম্পেক্ট খুচরা বাজারে নাই। তারা যে পরিসরে অভিযান পরিচালনা করছে তা খুবই নগণ্য।

তিনি আরও বলেন, আমরা সরকার দুইটা বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছি। একটা হচ্ছে এই অভিযানটা খাদ্য মন্ত্রণালয় একা না করে জেলা প্রশাসক, ভোক্তা অধিদফতরসহ যেসব সংস্থা আছে তাদেরকে নিয়ে সমন্বিতভাবে যদি এটা করতো তাহলে এটার ফলোআপ থাকত। এখন মন্ত্রণালয় থেকে যেখানে যাচ্ছে পরবর্তীতে সেখানে আর কোনো ফলোআপ নাই। আরেকটা বিষয় হচ্ছে, ব্যবসায়ীদেরকে লাইসেন্সের আওতায় নিয়ে আসতে হবে এবং আইনে যে বিষয়গুলো বলা আছে তার কঠোর প্রয়োগ করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে আইন প্রয়োগ হয় নাই। যার কারণে তারা বেপরোয়া হয়ে গেছে। এখন যে হাঁকডাক দেওয়া হচ্ছে, ব্যবসায়ীরা তো জানে এই হাঁকডাক দুই-চার দিন থাকবে, তারপর আবার স্বাভাবিক। এজন্য আর হাঁকডাক না দিয়ে যদি অ্যাকশনে যাওয়া যায় তবে এর সুফল পাওয়া যাবে।


আরও খবর