Logo
শিরোনাম

সংকট কাটাতে মজুদ হচ্ছে চাল-গম

প্রকাশিত:বুধবার ২৩ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ২৮ নভেম্বর ২০২২ |
Image

ভারত, মিয়ানমার ও ভিয়েতনাম থেকে চাল এবং রাশিয়ার গম আমদানি করে আপৎকালীন মজুদ গড়ে তুলছে বাংলাদেশ। চট্টগ্রাম বন্দরে একের পর এক চাল এবং গমবাহী জাহাজ ভিড়ছে। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে গমবাহী ৬টি ও চালবাহী ৪টি জাহাজ থেকে পণ্য খালাস চলছে। চট্টগ্রাম বন্দরের জিসিবির ৫ এবং ৯ নম্বর জেটিতে অবস্থানরত দুটি জাহাজ থেকে আটটি ক্রেনের সাহায্যে চালের বস্তা ট্রাকে নামানো হচ্ছে। চালের বস্তা ভর্তি হতেই একের পর এক ট্রাক গুদামের দিকে ছুটছে। এর মধ্যে নগরীর হালিশহরে সরকারি কেন্দ্রীয় গুদামের পাশাপাশি চাল পাশের জেলাগুলোর গুদামেও চলে যাচ্ছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের প্রধান দুটি জেটির পাশাপাশি পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালের জেটিতে চাল এবং সাইলো জেটিতে খালাস হচ্ছে রাশিয়া থেকে আনা গম। এছাড়া বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থানরত আরো ৫টি মাদার ভেসেল থেকে গম এবং অপর একটি মাদার ভেসেল থেকে চাল খালাস চলছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই খালাস শেষ হয়ে সরকারি গুদামে যাবে অন্তত ২ লাখ টন গম ও ৯০ হাজার টনের বেশি চাল।

মূলত রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকটের আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। আগামী বছরের শুরুতে সেই সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। এ অবস্থায় আপৎকালীন সংকট মোকাবিলায় সরকার ভারত ও মিয়ানমারের পাশাপাশি ভিয়েতনাম থেকেও চাল আমদানি করছে। তবে বর্তমান বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য বেসরকারি খাতকেও চাল আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে মোকাম মালিক, বেসরকারি আমদানিকারক এবং শিল্প গ্রুপগুলোর সিন্ডিকেট কারসাজির মুখে অস্থির হয়ে উঠেছে দেশের চালের বাজার। এ অবস্থায় সংকট কাটাতে সরকারিভাবে আমদানি করা চালের একটি অংশ টিসিবি কিংবা ওএমএসের মাধ্যমে বিক্রির পরামর্শ দিয়েছে ক্যাব।

চলতি বছরের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে সাড়ে পাঁচ লাখ টন গম এবং ৭১ হাজার টন সরকারের আমদানি করা চাল খালাস করা হয়েছে।


আরও খবর

কর্মবিরতিতে নৌযান শ্রমিকরা

রবিবার ২৭ নভেম্বর ২০২২




হাতিবান্ধা সীমান্তে বাংলাদেশীকে পিটিয়ে হত্যা

প্রকাশিত:রবিবার ২৭ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ২৮ নভেম্বর ২০২২ |
Image

নিজস্ব প্রতিনিধি : 

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা সীমান্তে মোঃ শরিফুল ইসলাম সাদ্দাম (২৮) নামে এক বাংলাদেশীকে বিএসএফের বন্দুকের বাট দিয়ে পিটিয়ে হত্যার  অভিযোগ উঠেছে।

রোববার (২৭ নভেম্বর) সকালে সীমান্ত এলাকা থেকে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পথে সে নিহত হয়। এর আগে ওই দিন ভোরবেলা উপজেলার গেন্দুকরি সীমান্ত থেকে বিএসএফ তাকে ধরে নিয়ে যায়। পরে তাকে তাদের ক্যাম্পে নিয়ে বন্দুকের বাট ও লাঠি দিয়ে পিটুনি দিলে সে গুরুতর আহত হয়।

নিহত শরিফুল ইসলাম সাদ্দাম গোতামারী এলাকার আছিম উদ্দিনের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, প্রকৃতির ডাকে শনিবার ভোরবেলা শরিফুল বাংলাদেশের অভ্যন্তরের ৯০১ নম্বর পিলারের কাছে গেলে বিএসএফ সদস্যরা তাকে চোর সন্দেহে ক্যাম্পে ধরে নিয়ে যায়। পরে ক্যাম্পের সদস্যরা তাকে লাঠি ও বন্দুকের বাট দিয়ে দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে। এতে শরিফুল অসুস্থ হয়ে পড়লে বিএসএফ সদস্যরা তাকে বাংলাদেশের গোতামারী ইউনিয়নের ভুটিয়ামঙ্গল নামক সীমান্ত এলাকায় তাকে ফেলে দিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে রবিবার সকালে শরিফুলের পরিবারের লোকজন তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে সে মারা যায়।

হাতীবান্ধা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহা আলম জানান, সীমান্ত এলাকা থেকে আহত অবস্থায় শরিফুলকে উদ্ধার করা হলেও বিএসএফ’র প্রহারে তার মৃত্যু হয়েছে কি না তিনি নিশ্চিত নন। তবে মরদেহের ময়না তদন্ত সম্পন্ন হলেই মৃত্যুর কারন জানা যাবে।


আরও খবর



চালের দাম বাড়ার কোন সম্ভাবনা নেই--নওগাঁয় খাদ্যমন্ত্রী

প্রকাশিত:শনিবার ১৯ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ২৮ নভেম্বর ২০২২ |
Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, স্টাফ রিপোর্টারঃ 


খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার এমপি বলেছেন, মিলগেট থেকে শুরু করে কোথাও চালের দাম বাড়েনি। একটা মৌসুম শেষ আরেকটা মৌসুম শুরু হলে এই দুই মৌসুমের মাঝখানে চালের দাম একটু ওঠানামা হয়। ইতিমধ্যে আমন মৌসুম এর ধান কাটা-মাড়াই শুরু হচ্ছে। এছাড়াও ওএমএস চলমান রয়েছে। তাই চালের দাম বাড়ার কোন সম্ভাবনা নেই। 

শনিবার দুপুরে নওগাঁ চেম্বার অফ কর্মাস ভবনে ‘বঙ্গবন্ধু কর্ণার’ উদ্বোধনে শেষ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

খাদ্যমন্ত্রী আরো বলেন, সরকারী গুদামে যে খাদ্য মজুত থাকার কথা, তার দ্বিগুন আছে। প্রায় ১৮ লাখ টন চাল সরকারী গুদামে মজুদ আছে। পাশাপাশি সরকারী ও বেসরকারী ভাবে আমদানী করা হচ্ছে। এরসাথে ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যেই যোগ হবে নতুন আমনের ফলন। সব মিলিয়ে দেশে খাদ্য সংকটের কোন শংকা নেই।

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, সরকার প্রান্তিক কৃষকদের নায্যামূল্য দিতেই ধান কিনে। সরকারের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হলো কি হলো না সেটা কোন বড় কথা নয়। আমরা চাই কৃষকেরা ধানের নায্যা মূল্য পাচ্ছেন।

মন্ত্রী আরো বলেন, চকচকে চাউল না খেয়ে সবাইকে নন-পলিশ চাল খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। আগের মত মানুষ যদি নন-পালিশ চাল খাওয়া শিখে তাহলে আমাদের দেশে ১৮ থেকে ২০ লাখ চাল সেফ হবে। তখন আমদানি করার প্রয়োজন হবে না।

খাদ্য নিয়ে অযথা কেউ যাতে গুজব ছড়াতে না পারে সে দিকে ব্যবসায়ীসহ সকলকে সচেতন থাকার আহবান জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী।

এসময় সংসদ সদস্য ছলিম উদ্দিন তরফদার ও আনোয়ার হোসেন হেলাল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ ইব্রাহিম, এফবিসিসিআই ভাইস প্রেসিডেন্ট আমিন হেলালি, পরিচালক মোসাদ্দেক হোসেন খান ও যশোধা জীবন দেবনাথ, এফবিসিসিআই এর পরিচালক ও নওগাঁ চেম্বার অফ কর্মাসের সভাপতি ইকবাল শাহরিয়ার রাসেল, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান টুনুসহ চেম্বারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

পরে চেম্বারের মেম্বার-ডে অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে এফবিসিসিআইয়ের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের কর্ণধাররা অংশ নিয়ে বক্তব্য দেন। তারা দেশের যে কোন সংকটে সরকার কে সহযোগিতা ও মানুষের পাশে দাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন।


আরও খবর

কর্মবিরতিতে নৌযান শ্রমিকরা

রবিবার ২৭ নভেম্বর ২০২২




পুলিশ কর্মকর্তার নজরে পড়ায়

মোড়েলগঞ্জে ২০ বছর পর স্বজনদের কাছে ফিরে গেল সাদেক আলী

প্রকাশিত:শনিবার ২৯ অক্টোবর ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ২৮ নভেম্বর ২০২২ |
Image

এম.পলাশ শরীফ, নিজস্ব প্রতিবেদক : 

বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জে সাদেক আলী বিশ্বাস নামে এক ব্যাক্তিকে ২০ বছর পরে তার পরিবারের সদস্যরা খুজে পয়েছেন। গতকাল শনিবার বেলা ১০টার দিকে মোড়েলগঞ্জ থানা পুলিশের নিকট থেকে তাকে বুঝে নেন ছোট ভাই নুরুল ইসলাম বিশ্বাস। সাদেক আলীর বয়স এখন ৫৪ বছর। সে ঝিনাইদহ জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার খর্দ্দ ধোপাদী গ্রামে মহর আলী বিশ্বাসের ছেলে। মোরেলগঞ্জে কর্মরত কালিগঞ্জের এক পুলিশ কর্মকর্তার নজরে পড়ায় ঠিকানা আবিস্কার হয় সাদেক আলীর। 

জানা গেছে, নিখোঁজের পর থেকেই মোরেলগঞ্জে নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের মাঝিবাড়ি এলাকায় খাদিজা বেগমে(৫৫) নামে এক দরিদ্র বিধবা নারীর বাড়ির পাশে একটি পরিত্যাক্ত ঘরে ওঠেন। খাদিজা বেগম স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম বাচ্চু’র সহযোগিতায় সেখানে তার খাওয়া পরার ব্যবস্থা করেন। মস্তিস্ক বিকৃতজনিত কারনে ২০ বছর পূর্বে ৩৪ বছর বয়সে সাদেক আলী পরিবার থেকে হারিয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুজি করে কোন সন্ধান পাননি তার মা ও ভাইয়েরা। 

কালিগঞ্জ এলাকার পুলিশের এসআই নুরুল ইসলাম এই ঘটনাটি জানতেন। সম্প্রতি তিনি মোড়েলগঞ্জ থানায় বদলী হয়ে গেলে সেখানে মাঝিবাড়ি এলাকায় সাদেক আলীকে ঘোরাফেরা করতে দেখেন। ওই সময় এসআই নুরুল ইসলাম তার ছবি তুলে কালিগঞ্জের এক সাংবাদিকের মাধ্যমে পরিবারকে জানান। ছবি দেখে সাদেক আলীর ভাই চিনতে পারেন। 

গতকাল শনিবার পুলিশের মাধ্যমে সাদেক আলীকে তার পরিবারের নিকট হস্তান্তরের সময় কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন হতদরিদ্র বিধবা খাদিজা বেগম। সাদেক আলীও যেতে রাজি ছিলেন না। থানা অফিসার ইনচার্জ মো. সাইদুর রহমান, নিশানবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম বাচ্চু ও এসআই নুরুল ইসলাম এ সময় উপস্থিত ছিলেন। 


আরও খবর



ইটনায় জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০১ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৭ নভেম্বর ২০২২ |
Image

মোজাহিদ সরকার‌‌‌, ইটনা, কিশোরগঞ্জ।

“প্রশিক্ষিত যুব উন্নত দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ”-এ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে কিশোরগঞ্জের ইটনায় উপজেলা প্রশাসন ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উদ্যোগে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

০১ নভেম্বর সকালে উপজেলার হল রুমে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাফিসা আক্তারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ মাইনুল ইসলাম, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার মোঃ সাইফুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আবাসিক ডাক্তার প্রসন সাহা, উপজেলা সহকারী প্রোগ্রামার মোঃ মহিবুর রহমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অভিজিৎ সরকার, ইটনা থানা পুলিশ কর্মকর্তা এস আই সাকীব, উপজেলার বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিক বৃন্দ সহ বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আমন্ত্রিত যুবক-যুবতী এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। আলোচনা সভায় যুব দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য রাখেন অতিথিরা।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাফিসা আক্তার বলেন, আজকের যুবক-যুবতী আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। যুবক-যুবতীদের উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সম্পদে পরিণত করা হচ্ছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল সোনার বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে যুবক-যুবতীদের জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মশালা হচ্ছে। 

বেলা ১২ টায় আলোচনা সভা শেষে উপজেলা প্রশাসনিক ভবনের সামন থেকে র‌্যালি নিয়ে বিভিন্ন রাস্তা প্রদক্ষিণ করে উপজেলা গেইটে গিয়ে শেষ হয়।


আরও খবর



আত্মিক জ্ঞান ও বাহ্যিক জ্ঞান

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৮ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ২৮ নভেম্বর ২০২২ |
Image

মাজহারুল ইসলাম মাসুম, সিনিয়র সাংবাদিক, লেখক ও গবেষক :

সৃষ্টি জগত দুভাগে বিভক্ত। বস্তুজগত ও আত্মিক জগত। বস্তু বা দৃশ্যমান জগতের সাথে আমরা দৈহিক ভাবে নানা কলা- কৌশল তথা নিয়ম পদ্ধতির মাধ্যমে যোগাযোগ করে থাকি। পক্ষান্তরে আত্মিক বা অদৃশ্য জগত হলো অত্যন্ত সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম ও রহস্যময় জগত। এই জগতের সাথে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য বস্তুজগত বা দৃশ্যমান জগতের যোগাযোগ মাধ্যম সম্পূর্ণ অচল। একমাত্র পরিশুদ্ধ ও নিয়ন্ত্রিত আত্মার সাহায্যেই আত্মিক জগতের সাথে যোগসূত্র স্থাপন করা যায়। বিজ্ঞানের চরম উন্নতির যুগেও আমরা অনেকেই আত্মিক জগত সম্পর্কে নানা মত পোষণ করে থাকি। এও মনে করি যে, আত্মিক জগত সম্পর্র্কে চিন্তা করারও কোন প্রয়োজন নেই, আর তা করলে ঈমানহারা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মৃত্যুর পরই কেবল সে জগতের প্রশ্ন আসে। আবার অনেকেই মনে করে থাকি যে, আত্মিক জগত শুধু কল্পনারই জগত ইত্যাদি। প্রকৃত পক্ষে সৃষ্টির সুচনালগ্ন থেকেই মহান আল্লাহর পক্ষ হতে আগত নবী-রাসূলগণ ও পরে তাঁদের উত্তরসূরী অসংখ্য মহামানব এবং তাদের অনুসারীগণ আত্মিক জগতের সাথে যোগাযোগ করতে সক্ষম হয়েছেন, তাঁরা মহান আল্লাহ্ পাক ও তাঁর প্রিয়তম বন্ধু হযরত রাসূল (সঃ)-এর দিদার লাভে ধন্য হয়েছেন। জেনেছেন স্রষ্টা ও সৃষ্টির রহস্য। কিন্তু বিজ্ঞানের এই চরম উন্নতির যুগেও আত্মিক জগতের সাথে আমরা অনেকেই পরিচিত নই, এটা আমাদের জন্য চরম ব্যর্থতা। আর এজন্য পবিত্র কুরআনে এরশাদ হয়েছে, “যে ইহলোকে অন্ধ সে পরলোকেও অন্ধ এবং আরো বেশী পথভ্রষ্ঠ”(সূরা বনি ইসরাঈল, আয়াত-৭২)।

দেহ আর আত্মার সমন্বয়েই মানুষ। আত্মা ছাড়া দেহ মৃত লাশ। আর প্রত্যেক মানুষ মূলতঃ দুটি দেহের অধিকারী। একটি তার জৈবিক বা জড় দেহ যা রক্ত মাংস ও হাড্ডিযুক্ত, অপরটি হচ্ছে আলোক বা ইথারিক দেহ যা ধরা ছোঁয়ার বাইরে। কিন্তু আলোক দেহধারীর ছবি দেখা যায় ও তার কথাও শোনা যায়। ওই দেহধারীর বাস্তবতা আমরা দেখতে পাই টেলিভিশন নামক যন্ত্রে। টিভি সম্প্রচার কেন্দ্র থেকে একজন জড় দেহের মানুষকে আধুনিক বিজ্ঞানের কলা কৌশলের মাধ্যমে ইথারিক বা আলোক দেহে রূপান্তরিত করে সমগ্র বিশ্বে ইথার তথা তরঙ্গে ছড়িয়ে দেয়া হয়। ভূ-উপগ্রহের মাধ্যমে টেলিভিশন নামক গ্রাহক যন্ত্রের দ্বারা পৃথিবীর যে কোন প্রান্ত থেকে তাৎক্ষণিক জড় দেহধারী ব্যক্তির আলোক দেহ দেখা যায় ও তার কথাও শোনা যায়। টিভিতে আমরা যে ছবি দেখি তা ধরা ছোয়ার বাইরে। কিন্তু তার ছবি ও কথা কোনটিই মিথ্যা নয়। এতো সামান্য জ্ঞানের অধিকারী মানুষের আবিস্কারকৃত কলা কৌশলের ফল। বর্তমান বিশ্বের অন্যতম যোগাযোগের মাধ্যম ইন্টারনেটএর সাথে আলোকময় জগতের যোগাযোগ পদ্ধতির অনেকটা সামঞ্জস্য লক্ষ্য করা যায়। যেমন, একটি কম্পিউটার বা ল্যাপটপে ইন্টারনেট কানেকশন সংযোগ করে ঘরে বসে পৃথিবীর যেকোন দেশের খবরাখবর নেয়া ও ছবি দেখা যায়। তেমনি ডিস এ্যান্টিনার মাধ্যমে টেলিভিশন নামক যন্ত্রে বিশ্বের খবরাখবর নেয়া ও ছবি দেখা যায়। এই বিষয়গুলো নিয়ে আমরা যদি গভীর ভাবে চিন্তা করি তা হলেই আত্মিক জগতের চিত্র আমাদের সামনে অনেকটাই পরিস্কার হয়ে যায়। তবে এইযে জাগতিক কলাকৌশলের বিষয়ে আলোচনা করলাম এগুলো হলো মহান আল্লাহ্ পাকের সৃষ্টি ক্ষুদ্র জ্ঞানের মানুষের আবিস্কার যা জাগতিক জ্ঞানের ফসল। অপরদিকে আত্মিক জগতের সাথে যোগযোগ করতে হলে আধ্যাত্মিক জ্ঞান অর্জন করতে হবে। আর এই আত্মিক জ্ঞান অর্জনের বিষয়ে পবিত্র কুরআনে সবিস্তারে বর্ণনা রয়েছে।

পবিত্র কুরআনে এরশাদ হয়েছে, “আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সব আল্লাহ্রই এবং সব কিছুকে আল্লাহ্ পরিবেষ্টন করে আছেন” (সূরা নেসা, আয়াত-১২৬)। অন্যত্র এরশাদ হয়েছে,“তিনি (আল্লাহ্) যাকে ইচ্ছা হিকমত(বিশেষ জ্ঞান)প্রদান করেন এবং যাকে হিকমত প্রদান করা হয় তাকে প্রভূত কল্যাণ দান করা হয় এবং বোধশক্তিসম্পন্ন লোকেরাই শুধু শিক্ষা গ্রহণ করে” (সূরা বাকারা-২৬৯)। প্রথমোক্ত আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহ্ পাক বিশ্বজাহানের মালিক এবং সমগ্র বিশ্ব জগত তিনি পরিবেষ্টন করে আছেন। অর্থাৎ তিনি সমগ্র সৃষ্টি জগতে বিরাজমান। পরের আয়াতে বলা হয়েছে, মহান আল্লাহ্ দয়া করে যাকে ইচ্ছা তাকেই হিকমতবিশেষ জ্ঞান (তাঁকে জানার জ্ঞান) দান করেন। আর যাকে ওই বিশেষ জ্ঞান দান করেন তাঁকে প্রভূত কল্যাণও দান করে থাকেন। আর বোধশক্তিসম্পন্ন অর্থাৎ বিশেষ জ্ঞানের অধিকারীগণই প্রকৃত শিক্ষা লাভের ক্ষমতা রাখেন। মহান আল্লাহ পাকের জ্ঞানে যারা জ্ঞানী তারা সাধারণ মানব নন বরং তারা বিশেষ মর্যদাশীল ব্যক্তি,তারা আল্লাহ পাকের মনোনিত ব্যক্তি, তারা আল্লাহ্ পাকের বন্ধু বলে পরিগণিত। আল্লাহ্র বন্ধুগণই আত্মিক জগতের সাথে যোগাযোগের ক্ষমতা রাখেন এবং অপরকেও আত্মিক জগতের শিক্ষায় শিক্ষিত করতে পারেন। সৃষ্টির শুরু থেকে যত নবী-রাসূল জগতে আগমন করেছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই মহান আল্লাহর সাথে যোগাযোগ রেখে তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী ধর্ম প্রচার এবং মানব জাতিকে হেদায়েতের কাজ করেছেন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাঁর নিজ সম্পর্কে এরশাদ করেন, “তিনি (আল্লাহ্) আদি, তিনিই অন্ত, তিনি প্রকাশ, তিনি গুপ্ত এবং তিনি সর্ব বিষয়ে সম্যক অবহিত”(সূরা হাদিদ, আয়াত-৩)। অর্থাৎ সৃষ্টি জগত সৃজনের আগে মহান আল্লাহ ব্যতীত আর কোন কিছুই ছিলনা, সৃষ্টি জগত ধ্বংস হওয়ার পরও তিনি থাকবেন, তিনি সৃষ্টির মাঝেই নিজেকে প্রকাশ করেছেন,আবার তিনি তাঁর সৃষ্টি থেকে গোপন অবস্থায় আছেন।

হাদীসে কুদসীতে আল্লাহ বলেন, “আমি গুপ্ত ধনাগার ছিলাম, নিজকে প্রকাশ করতে ভালোবাসলাম, তাই সৃষ্টি জগত সৃজন করলাম” (সিররুল আসরার)। অর্থাৎ আল্লাহ্ পাক গোপনে না থেকে নিজেকে প্রকাশ করার জন্য ভালবাসলেন এবং সৃষ্টিকেই তাঁর ভালবাসার মাধ্যম হিসেবে বেঁচে নিলেন। হাদিসে কুদসীতে আল্লাহ আরো বলেন, “মানবজাতি আমার গুপÍ ভেদ এবং আমি মানুষের গুপ্ত রহস্য” (সিররুল আসরার)। মানুষ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব। সমগ্র সৃষ্টিরাজির উপর প্রাধান্য বিস্তার করার ক্ষমতা মানুষকে দেয়া হয়েছে। এরপরও মানুষ হিসেবে আমরা আত্মিক জগতের কথা ভাবিনা, আল্লাহ পাকের দিদার লাভের চিন্তা করিনা বা কি করে তাঁর দিদার লাভ করা যায় সেই পথের সন্ধানও করিনা। অথচ মহান আল্লাহ পাকের মানব সৃষ্টির উদ্দেশ্যই ছিল-মানুষের মাধ্যমে তাঁর গুনাবলী প্রকাশ পাবে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্ বলেন,“ পৃথিবীর সব গাছ যদি কলম হয়, আর এই যে সমুদ্র এর সঙ্গে যদি সাত সমুদ্র যোগ দিয়ে কালি হয় তবুও আল্লাহ্র গুণাবলী লিখে শেষ করা যাবেনা। আল্লাহ্তো শক্তিমান তত্ত্বজ্ঞানী” (সূরা লোকমান, আয়াত-২৭)। এই অসীম গুনাবলীর অধিকারী মহান আল্লাহ গোপন অবস্থা থেকে প্রকাশ পেয়ে তাঁর গুণাবলীর বিকাশ ঘটাতে চেয়েই মানব সৃষ্টি করেন। আল্লাহ্ পাক মানুষকে এতো উচ্চ মর্যাদায় দিয়েছেন যে, তাঁর প্রতিনিধি করে মানুষকে দুনিয়াতে প্রেরণ করেছেন। আল্লাহ্ প্রদত্ত এই উচ্চ মর্যাদা সম্পর্কে আমরা নিজেরাই হয়ত অনেকে জানিনা। এছাড়া মানুষের সার্বিক প্রয়োজনে এই সৃষ্টি জগত সৃজিত। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্ ঘোষণা করেন, “তোমরা কি দেখনা আকাশ ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই আল্লাহ্ তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত করেছেন এবং প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করেছেন?” (সূরা লুকমান, আয়াত-২০)। বস্তুতঃ আল্লাহ্র অনুগ্রহ ব্যতীত কারো চলার শক্তি নেই। আরো এরশাদ হয়েছে, “তিনি (আল্লাহ্) পৃথিবীর সবকিছু তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন, তৎপর তিনি আকাশের দিকে মনোসংযোগ করেন এবং উহাকে সপ্তাকাশে বিন্যস্ত করেন; তিনি সর্ব বিষয়ে সবিশেষ অবহিত”(সূরা বাকারা-২৯)। এই সৃষ্টি জগত দুভাগে বিভক্ত। যার একটি হলো বস্তু জগত বা দৃশ্যমান জগত আর অপরটি আলোকময় তথা আত্মিক জগত। 


আরও খবর

সাধনার মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি অর্জন

বুধবার ০৯ নভেম্বর ২০২২

মাইজভান্ডারী তরিকা

মঙ্গলবার ২৫ অক্টোবর ২০২২