Logo
শিরোনাম
শবে বরাত পালন মুসলিম জাতিকে একতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে। ৫৭ তম খোশরোজ শরীফ ও মইনীয়া যুব ফোরামের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন বাঙালি সাংস্কৃতিতে মাইজভাণ্ডারী ত্বরীকার সাথে সম্পর্ক রয়েছে সীমান্তে হত্যা বন্ধের দাবীতে প্রতীকী লাশ নিয়ে হানিফ বাংলাদেশীর মিছিল লক্ষ্মীপুরে কৃষক কাশেম হত্যা: স্ত্রী, শ্বশুরসহ গ্রেপ্তার ৫ কুমিল্লা সিটি’র উপনির্বাচন: মেয়র পদে প্রতীক বরাদ্দ অবৈধ মজুদকারীরা দেশের শত্রু : খাদ্যমন্ত্রী ফতুল্লায় সিগারেট খাওয়ার প্রতিবাদ করায় কিশোরকে পিটিয়ে হত্যা বকশীগঞ্জে মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা নোবিপ্রবিতে সিএসটিই এলামনাই এসোসিয়েশনের নতুন কমিটি গঠন

বিল বাকি থাকায় ইন্টারনেটের গতি ধীর

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৪ নভেম্বর ২০২৩ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ |

Image

বিল বকেয়া থাকায় দেশের ৩৪টি ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি) প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৯টির ব্যান্ডউইথ ডাউন করে দিয়েছে সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি। ফলে দেশে ইন্টারনেট গ্রাহকরা অনেকে ধীর গতির ইন্টারনেট সেবা পাচ্ছেন।

১৯টি আইআইজির কাছে বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলস পিএলসির (বিএসসিপিএলসি) পাওনা ৩৮৪ কোটি টাকা। বকেয়া পরিশোধ না করায় ২৩ নভেম্বর মধ্যরাতের পরে বিএসসিপিএলসি আইআইজিগুলোর গড়ে ২৫ শতাংশ ব্যান্ডউইথ তথা ৬২৫ জিবিপিএস ডাউন (সীমিত) করে দেয়। আর এতেই ধীর গতির ইন্টারনেট সেবার পাচ্ছেন অনেক ব্যবহারকারী।

প্রসঙ্গত, দেশের মোট ব্যবহৃত (৫১০০ জিবিপিএস) ব্যান্ডউইথের মধ্যে ২৫০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ বিক্রি করে বিএসসিপিএলসি।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইটিসির (ইন্টারন্যাশনাল টেরিস্ট্রিয়াল ক্যাবল) ব্যাকআপ থাকায় ইন্টারনেটে সেবায় ধীরগতির প্রভাব খুব একটা বোঝা যাচ্ছে না। ছুটির দিন হওয়াও একটা কারণ। ছুটির দিনে অফিস-আদালত বন্ধ থাকায় ইন্টারনেট ব্যবহার কম হয়। শনিবারও (২৫ নভেম্বর) এই অবস্থা থাকবে। রবিবার মূল প্রভাবটা বোঝা যেতে পারে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএসসিপিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মির্জা কামাল আহমেদ শুক্রবার (২৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় বলেন, আইটিসির (ইন্টারন্যাশনাল টেরিস্ট্রিয়াল ক্যাবল) ব্যাকআপ থাকায় খুব একটা প্রভাব পড়ছে বলে আমাদের মনে হয় না।

তিনি জানান, সরকারের নির্দেশে ব্যান্ডউইথ ডাউন করা হয়েছে। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, এত টাকা বকেয়া রেখে ব্যান্ডউইথ সরবরাহে আমাদের কঠোর হতে বলা হয়। একটি আইআইজি বকেয়া আপডেট করায় তাদের সার্ভিস রিস্টোর করা (আগের অবস্থায়) হয়েছে। আমরা নেটওয়ার্কস নামের একটি আইআইজির কাছে ৬১ কোটি টাকা পাবো। দীর্ঘদিন বলার পরও তারা বকেয়া পরিশোধ না করায় তাদের ব্যান্ডউইথের বেশি অংশ ডাউন করা হয়েছে। আগামী রবিবারের মধ্যে আইআইজিগুলো বকেয়া পরিশোধ করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে বলে তিনি জানান।

জানা যায়, আইআইজিদের কাছ থেকে পাওনা আদায়ে গত ১৩ জুলাই বিএসসিপিএলসি ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে ৯ আগস্ট টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বিটিআরসিকে চিঠি দেয় ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়। তাতে জানানো হয়, বিভিন্ন অপারেটরের কাছে বিএসসিপিএলসির বকেয়ার পরিমাণ ৩৮৪ কোটি টাকা।

আরও জানা গেছে, নিয়ম আছে এক মাসের বিল বিএসসিপিএলসিতে বকেয়া রাখা যাবে। বিএসসিপিএলসি যে হিসাব দিয়েছে তাতে করে দেখা যায় আইআইজিগুলোর প্রায় ৮ মাসের বিল বকেয়া রয়েছে।


আরও খবর



উপজেলা নির্বাচনে ভালো ভোটের আশা ইসির

প্রকাশিত:রবিবার ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪ |

Image

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কোনো চ্যালেঞ্জ দেখছে না নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শৃঙ্খলা রক্ষায় সংসদ নির্বাচনের চেয়েও বেশি এফোর্ট দেবে। এতে আরো ভালো ভোটের আশা দেখছে সংস্থাটি।

ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রথমবারের মতো একটি জেলায় একাধিক ধাপে ভোট করার পরিকল্পনা নিয়েছে কমিশন। ফলে অধিক হারে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের জন্য অন্য জেলার দারস্থ হতে হবে না। এতে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা যাবে। মূলত, ভোটে যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলেও যেন সহজে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া যায়, তাই এই কৌশল নিয়েছে সংস্থাটি।

অতীতে বিভাগ অনুযায়ী জেলাভিত্তিক উপজেলাগুলোর নির্বাচন হয়েছে। এতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের অন্য এলাকা থেকে নিয়োগ করা হতো। এবারও কয়েক ধাপে ভোট হলেও একই এলাকাকে একাধিক ধাপে বিন্যাস করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ বলেন, উপজেলা নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। নির্বাচন ধাপে ধাপে হবে বিধায় শৃঙ্খলা রক্ষায় আমরা বেশি শক্তি নিয়োগ করার সুযোগ পাবো।

তিনি বলেন, চারটি ধাপে নির্বাচন হওয়াতে কমিশন মনে করছে যে এতে সুবিধা আছে। এছাড়া একই জেলার মধ্যে একাধিক ধাপে নির্বাচন দেওয়ায় একই জেলার পুলিশ,আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং প্রশাসন দিয়ে কাজটা করা অনেক সহজ হবে। আগে যেভাবে নির্বাচন করা হয়েছে, এক অঞ্চলে নির্বাচনের জন্য অন্য অঞ্চলের থেকে পুলিশ আনতে হতো। সেক্ষেত্রে পুলিশের যাতায়াত বা অন্যান্য প্রশাসনে যারা দায়িত্ব পালন করে তাদের যাতায়াত ও থাকার একটা অসুবিধা হয়। আর আমরা যদি একই জেলার মধ্যে ধাপে ধাপে নির্বাচন করি, তাহলে সংশ্লিষ্ট জেলার যে প্রশাসনিক ক্ষমতা আছে সে সংখ্যা দিয়েই আমরা ওই জেলার নির্বাচন সম্পন্ন করতে পারে। এজন্যই কমিশন মনে করছে যে ধাপে ধাপে একই জেলার ভেতরে নির্বাচন হলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মুভমেন্টে বিশেষ সুবিধা পাবে। এতে নির্বাচনী ব্যয়ও কিছুটা কমতে পারে।

নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর বলেন, সংসদ নির্বাচন যেভাবে করেছি উপজেলা নির্বাচন তার চেয়ে ভালো ভাবে করব। কারণ জাতীয় নির্বাচন একসঙ্গে ৩০০ জায়গায় এফোর্ট দিতে হয়েছে। উপজেলা নির্বাচন চার ধাপে করব। প্রতি ধাপে একশ'র মতো উপজেলায় নির্বাচন হবে। এতে আশাকরি নির্বাচন সুষ্ঠু হবে।

এ নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, জেলা পর্যায়েও একাধিক ধাপে ভোট করার পরিকল্পনা এবারই প্রথম। আমার সহকর্মীরা চমৎকার একটি কৌশল বের করেছেন। আশাকরি, এতে ইতিবাচক ফলাফল আসবে।

ইসি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ৪ মে, দ্বিতীয় ধাপে ১১ মে, তৃতীয় ধাপে ১৮ মে ও চতুর্থ ধাপে ২৫ মে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রথম ধাপে ১৫৩টি, দ্বিতীয় ধাপে ১৬৫টি, তৃতীয় ধাপে ১১১টি ও চতুর্থ ধাপে ৫২টি; মোট ৪৮১টি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ করবে কমিশন। দেশে বর্তমানে উপজেলা রয়েছে ৪৯৫টি। অবশিষ্টগুলোতে পরবর্তীতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

 


আরও খবর



চাকুরি দেওয়ার লোভ দেখিয়ে ১১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪ |

Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, সিনিয়র রিপোর্টার :

রেলওয়ের খালাসি পদে চাকরির প্রলোভন দিয়ে ১১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আব্বাস আলী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী আজিজুল হক নওগাঁর জেলা প্রশাসক সহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করে প্রতিকার না পেয়ে অবশেষে নওগাঁ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ৩ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলার চাকরাইল গ্রামের মৃত জমির উদ্দীনের ছেলে আব্বাস আলী দেওয়ান এবং তার দুই সন্তান ডিএম আব্দুল ওয়াহাব পলাশ ও সাব্বির আহম্মেদ সাদি। ভুক্তভোগী আজিজুল হক নওগাঁ সদর উপজেলার বরুনকান্দি (স্কুলপাড়া) গ্রামের মৃত ঝরু মন্ডলের ছেলে। 

মামলা সুত্রে জানা যায়, আব্দুল ওয়াহাব পলাশ রেলওয়ের খালাসি হিসেবে পারবর্তীপুরে চাকুরি করেন। বড় ভাই পরিবার নিয়ে আজিজুল হকের বাসায় ভাড়া থাকার সুবাদে আজিজুর হকের সাথে পালাশের পরিবারের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সুযোগে পালাশ তার বাবা ও ভাইকে দিয়ে আজিজুল হকের ছেলে মেহেদী হাসানকে রেওয়ের খালাসী পদে চাকুরি দেওয়ার কথা বলে ১১ লাখ নেন। ভুক্তভোগী সরল বিশ্বাসে কোনো প্রমানপত্র ছাড়া তাকে ১১ লাখ টাকা দেন। টাকা নেওয়ার পর বেশ কিছুদিন পার হয়ে গেলে ছেলের আর চাকুরি হয় না। আজিজুল হক তার ছেলের চাকুরির জন্য পলাশ ও তার বাবার দ্বারে দ্বারে ঘুরে ছেলেকে চাকুরি দেন না, টাকাও ফেরত পান না। ছেলের চাকুরি ও টাকা কোনোটি ফেরত না পেয়ে ভুক্তভোগী আজিজুল বাবা ও ছেলে কাছ থেকে নন জুডিসিয়াল ট্যাম্প করে নেন। বাবা ও ছেলে আগামী এক মাসের মধ্যে টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য ট্যাম্পে অঙ্গিকার করেন। অঙ্গিকার করার পরে আব্বাস আলী আজিজুল হকের বিরুদ্ধে জোর করে স্ট্যাম্প করে নেওয়া হয়েছে বলে চাঁদাবাজি মামলা করেন। চাঁদাবাজি প্রমান করতে না পারায় মামলা আদালত থেকে বাতিল করা হয়েছে। আজিজুল হক নিরুপায় হয়ে বিভিন্ন দপ্তরে টাকা ফেরতের জন্য আবেদন করেন। অবশেষে আদালতে মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় ডিএম আব্দুল ওয়াহাব পলাশ ও তার ভাই সাব্বির আহম্মেদ সাদি জেল হাজতে আছেন।

এ ব্যাপারে চাকরী প্রার্থী মেহেদী হাসান অভিযোগ করে বলেন, পলাশ ও তার পরিবার সাথে আমাদের পরিবারে ভালো সম্পর্ক ছিলো। আমাদের জমি-জমা বিক্রি করে ১১ লাখ টাকা দেওয়া হয়। আমাদের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নিয়ে আমাদের পরিবারকে নিঃস্ব করে দিয়েছে। আমরা বিভিন্ন সময়ে এলাকার গণ্যমান্য লোকজনকে ধরে তাকে অনুরোধ করেও টাকা ফেরত পাচ্ছি না। এছাড়া কয়েক মাস পূর্বে টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে একটি নন জুডিসিয়াল স্ট্যাম্প করে দেন পলাশ ও তার বাবা। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে পেরিয়ে গেলেও টাকাগুলো আর ফেরত দেননি তারা। ভুক্তভোগী আজিজুল হক দাবি করেন, পলাশ ও তার বাবা টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অঙ্গীকার করে স্ট্যাম্প করে দেন। তবে এখন টাকা না দিয়ে উল্টো আমাদেরকে জোর করে তার কাছে থেকে স্ট্যাম্প নেওয়া হয়েছে বলে ভুল তথ্য সরবরাহ করে টাকা নেওয়ার বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন এবং আমাদের কিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলা করেন। তবে সেই মামলা তিনি প্রমান করতে পারেনি। তিনি বলেন, বিভিন্ন দপ্তরের অফিযোগ করার পর বিষয়টি জেলা গোয়েন্দা স্ংস্থা তদন্ত করে ১১ লাখ টাকা নেওয়ার বিষয়টি প্রমান হয়েছে। তারপর তিনি টাকা ফেরত দিতে অস্বীকার করেন। তাই আমি আইনের আশ্রয় নিয়েছি। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত পালাশ জেল হাজতে থাকায় তার বক্তব্য না পাওয়া গেলেও পালাশের পিতা আব্বাস আলী বলেন, চাকুরি দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সত্য নয়। মিথ্যা ও ভীত্তিহীন। তারা জোর করে আমাদের কাছ থেকে স্ট্যাম্প করে নিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে আমার দুই ছেলেকে জেলে পাঠিয়েছেন। 


আরও খবর



জোট গঠনের পথে নওয়াজ-বিলাওয়াল

প্রকাশিত:সোমবার ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪ |

Image

পাকিস্তানে জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় সরকার গঠন নিয়ে সংকট বাড়ছে। জোট সরকার গঠনে মরিয়া পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ। এদিকে কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক ই ইনসাফ সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সবচেয়ে বেশি আসনে জয়ী হলেও তাদের সরকার গঠনের বিষয়টি এখনও অন্ধকারে রয়েছে।

জোট সরকার গঠনের লক্ষ্যে রবিবার লাহোরে পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) এবং মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট-পাকিস্তান (এমকিউএম-পি) এর সঙ্গে বৈঠক করেছেন নওয়াজ শরিফ।

পাকিস্তানে নির্বাচন-পরবর্তী অনিশ্চয়তার মধ্যে সরকার গঠন নিয়ে নানা হিসাব-নিকাশ চলছে। ডনের খবরে বলা হয়েছে, এর মধ্যে লাহোরে পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সভায় তাদের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। তারা দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষার স্বার্থে একযোগে কাজ করতে রাজি হয়েছেন বলে জানা গেছে।

বৈঠকের একটি সূত্র জানিয়েছে, পিপিপি এখনো সমঝোতার অংশ হিসেবে বিলওয়াল ভুট্টো জারদারিকে প্রধানমন্ত্রী পদে দেখতে আগ্রহী। কিন্তু পিএমএল-এন এই ছাড় দিতে রাজি নয়।

সূত্রটি জানিয়েছে, পিএমএল-এন সমঝোতার অংশ হিসেবে পিপিপিকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি, পার্লামেন্টের স্পিকার এবং সিনেটের চেয়ারম্যান পদ ছেড়ে দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।

পিপিপি রাজি হলে বিলওয়াল ভুট্টো জারদারি হতে পারেন রাষ্ট্রপতি। তিনি ইমরান খান সরকারের পতনের পর গঠিত শাহবাজ শরিফের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। খবরে বলা হয়েছে, পিপিপি পার্লামেন্টের স্পিকার পদে তাদের দলের রাজা পারভেজ আশরাফ কিংবা সৈয়দ ইউসুফ রাজা গিলানিকে চাচ্ছে।

সরকার গঠন প্রশ্নে পিপিপির কো-চেয়ারম্যান আসিফ জারদারি, পিপিপির চেয়ারম্যান বিলওয়াল ভুট্টো-জারদারি এবং শাহবাজ শরিফ আলোচনা করেন। বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন আজম নাজির তারার, আয়াজ সাদিক, আহসান ইকবাল, রানা তানভির, খাজা সাদ রফিক, মালিক আহমদ খান, মরিয়ম আওরঙ্গজেব, শিজা ফাতিমা।

পিএমএলএন-পিপিপি জোট বাস্তবায়িত হলে পাঞ্জাবে পিপিপির সমর্থন পাবে পিএমএলএন। পিএমএলএন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রিত্ব পাবে। পিপিপি কয়েকটি মন্ত্রী পাবে। একইসাথে পিপিপি বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী পাবে। সূত্র জানিয়েছে, পিপিপি সেইসাথে বেলুচিস্তানের গভর্নর এবং স্পিকারের পদও চেয়েছে।

এদিকে পিটিআই অভিযোগ করেছে, তাদের কাছ থেকে ৫০টি আসন ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। ভোটকেন্দ্রে এসব আসনে পিটিআই-সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বিজয়ী ঘোষণা করা হলেও পরে অন্যদের জয়ী দেখানো হয়েছে। তারা দাবি করেছে, এই আসনগুলো এবং সেইসাথে সংরক্ষিত ৭০টি আসন থেকে তাদের হিস্যা দেয়া হলে তাদের মোট আসন হবে ১৭০। আর তাতে করে তারা একাই সরকার গঠন করতে পারে।

পিটিআইয়ের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট লতিফ খোসা রোববার রাতে দাবি করেন, পিটিআই-সমর্থিত ৫০টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বিজয় করে ফরম ৪৫ দেয়া হয়েছিল। এসব আসনে ওইসব প্রার্থী কয়েক হাজার ভোটে জয়ী হয়েছিল।

কেন্দ্র, খাইবারপাখতুনখোয়া ও পাঞ্জাবে সরকার গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) নেতা ইমরান খান। সরকার গঠন নিয়ে পিটিআই পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) ও পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) সঙ্গে আলোচনা করবে না বলে জানিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান গহর আলী খান। তিনি বলেন, আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনায় স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি না। তাদের সঙ্গে সরকার গঠনের আলাপ হবে না। দলের ম্যান্ডেট গ্রহণ না করলে বিরোধী দল গঠন করবে পিটিআই।

পাকিস্তানের নির্বাচনের ফল

পাকিস্তানে নির্বাচনের পর এখন পর্যন্ত আসন সংখ্যা অনুযায়ী ইমরান খানের পিটিআই-সমর্থিত স্বতন্ত্র সদস্য ৯৩ জন, পিএমএল-এন ৭৫, পিপিপি ৫৪, এমকিউএম ১৭, অন্যান্য স্বতন্ত্র ৯, পিএমএল ৩, আইপিপি ২, বিএনপি ২টি আসন পেয়েছে। এছাড়া একটি করে পেয়েছে পিএমএল-জেড, পিএনএপি, বিএপি, পিকেএমএপি, এনপি একটি করে আসন।

পাঞ্জাবে পিএমএলএন পেয়েছে ১৩৮টি আসন, পিটিআই-সমর্থিত স্বতন্ত্ররা পেয়েছে ১১৬টি, অন্যান্য স্বতন্ত্র ২২টি, পিপিপি ১০টি, পিএমএল ৭টি, টিএলপি ১টি।

সিন্ধুতে পিপিপি ৮৩টি, এমকিউএম ২৮টি, পিটিআই-সমর্থিত স্বতন্ত্র ১১টি, অন্যান্য স্বতন্ত্র ৩টি, জিডিএ ৩টি, জেআই ২টি।

খাইবার পাকতুনখাওয়ায় পিটিআই-সমর্থিত স্বতন্ত্র ৮৪টি, স্বতন্ত্র ৮টি, জেইউআইএফ ৭টি, পিএমএলএন ৫টি, পিপিটি ৪টি, জেআই২টি, পিটিআই-পি ২টি, এএনপি ১টি।

বেলুচিস্তানে পিপিপি ১১টি, পিএমএলএন ১০টি, জেইউআই-এফ ১০টি, স্বতন্ত্র ৫টি, বিএপি ৪টি, এনপি ৩টি, বিএনপি ২টি, এএনপি ২টি, এইচডিটি ১টি, জেআই ১টি, আরএইচ হক ১টি, বিএনটি-এ ১টি।


আরও খবর

অনুমতি ছাড়া হজ করলে শাস্তি ঘোষণা

শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪




কোটি টাকা নিয়ে দুবাই পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা, ৬ জন আটক

প্রকাশিত:রবিবার ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪ |

Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, সিনিয়র রিপোর্টার :

নওগাঁয় গ্রাহকদের সঞ্চয়কৃত ২০ কোটি টাকা নিয়ে দুবাই পালিয়ে যাওয়ার সময় ডলফিন নামে এক এনজিওর মালিক আব্দুর রাজ্জাক সহ নারী-পুরুষ মোট ৬ জন কে আটক করেছে র‌্যাব। এ সময় জব্দ করা হয় বিভিন্ন মালামাল। রবিবার দুপুরে নওগাঁ সার্কিট হাউজে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান র‌্যাব-৫ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুনিব ফেরদৌস। আটককৃত ৬ জন হলেন, নওগাঁ জেলা সদর উপজেলার ফতেপুর গ্রামের নাছির উদ্দিন মন্ডল এর ছেলে ডলফিন এনজিও (সংস্থার) পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক (৪৪), তার বোন শিল্পী বেগম (৩৫), স্ত্রী সুমি বেগম (৩০), সংস্থার সভাপতি পিয়ার আলী (৪২), ম্যানেজার আতোয়ার রহমান  (৫৫) এবং ক্যাশিয়ার রিপন (২০)।

র‌্যাব-৫ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুনিব ফেরদৌস আরো জানায়, নওগাঁ সদর উপজেলার ফতেপুর বাজারে ২০১৩ সালে সমবায় থেকে নিবন্ধন নিয়ে ডলফিন সেভিং এন্ড ক্রেডিট কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড নামে একটি বে-সরকারি সংস্থা গড়ে তোলেন নাসির উদ্দিনের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক। যেখানে বিভিন্ন গ্রামের সহজ-সরল মানুষদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে স্থায়ী আমানত ও ক্ষুদ্র সঞ্চয় কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। গ্রাহকদের প্রতি লাখে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা মুনাফা দিতেন। গত কয়েক মাস থেকে গ্রাহকদের মুনাফা না দিয়ে আজ দিবো কাল বলে বলে তালবাহানা করতে থাকেন। হঠাৎ করেই গত ২০ জানুয়ারি সংস্থার সকল কার্যক্রম বন্ধ করে দেন আব্দুর রাজ্জাক। এ সময় প্রায় ৩শ' এর বেশি গ্রাহকের ২০ কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যায় আব্দুর রাজ্জাক। এমন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৫ এর গোয়েন্দা দল তাদের কে গ্রেফতার পূর্বক আইনের আওতায় নেওয়ার জন্য গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করেন। তিনি আরো বলেন, আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি আব্দুর রাজ্জাক এর দুবাই পালিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। এরিমাঝে রবিবার ভোরে নারায়নগঞ্জ জেলার রুপগঞ্জ থানার তারাবো বাসস্ট্যান্ড থেকে র‌্যাব-১১ এর সহযোগীতায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে আটক করা হয়। এরপর নওগাঁ জেলা সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আব্দুর রাজ্জাকের বোন, স্ত্রী, এনজিওর সভাপতি, ম্যানেজার ও ক্যাশিয়ার কে আটক করা হয়। আটককৃতদের নওগাঁ সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।


আরও খবর



রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের

প্রকাশিত:রবিবার ২৮ জানুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ |

Image

রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে সৃষ্ট বিশ্ব সংকটের মধ্যেই দেশটি এই প্রস্তুতি শুরু করেছে। যার জেরে যুক্তরাজ্যে পারমাণবিক অস্ত্র স্থাপনের পরিকল্পনা করেছে। রাশিয়ার সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার ১৫ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, পারমাণবিক অস্ত্রগুলো সাফোকের আরএএফ লেকেনহেথে (ইংল্যান্ডের রয়েল এয়ার ফোর্স স্টেশন) স্থাপন করা হবে।

পেন্টাগনের নথিপত্র যাচাই করে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ওই স্থানে ৫০ কিলোটনের বি৬১-১২ গ্র্যাভিটি বোমা থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যার ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা ১৯৪৫ সালে হিরোশিমায় ফেলা পারমাণবিক বোমার চেয়েও তিন গুণ বেশি। দ্য গার্ডিয়ান।

নথিগুলো থেকে জানা যায়, পেন্টাগন যুক্তরাজ্যের সামরিক ঘাঁটিটির জন্য নতুন অস্ত্রের ক্রয়াদেশ দিয়েছে। যেখানে শত্রুপক্ষের আক্রমণ থেকে সামরিক কর্মীদের রক্ষা করার জন্য ব্যালিস্টিক শিল্ডসহ নতুন বেশ কিছু সরঞ্জাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। সেখানে কাজ করা মার্কিন সেনাদের জন্য নতুন আবাসন ব্যবস্থা নির্মাণের কাজ আগামী জুন মাসে শুরু হবে।

যুক্তরাষ্ট্র এর আগে আরএএফ লেকেনহেথে পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপন করেছিল। পরে মস্কোর পক্ষ থেকে স্নায়ুযুদ্ধের হুমকি কমে যাওয়ায় ২০০৮ সালে সেগুলো সরিয়ে ফেলে। আবারও একই পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ক্রেমলিনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ন্যাটো জোটের উত্তেজনা ক্রমেই বেড়েছে। যার প্রতিক্রিয়ায় পারমাণবিক অস্ত্র বাড়ানো এবং সেগুলোকে আরও উন্নত করার কর্মসূচি নেয় ন্যাটো। এর অংশ হিসাবেই আবারও যুক্তরাজ্যে ফিরছে যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু অস্ত্র।

যুক্তরাজ্যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেছেন, প্রদত্ত স্থানে পারমাণবিক অস্ত্রের উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য একটি দীর্ঘস্থায়ী যুক্তরাজ্য এবং ন্যাটো নীতি রয়েছে। সম্প্রতি আটলান্টিকের উভয় প্রান্তের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা ন্যাটো বাহিনী ও রাশিয়ার মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধের ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যকে প্রস্তুত থাকার জন্য সতর্ক করেছেন। চলতি সপ্তাহের শুরুতে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর বিদায়ি প্রধান জেনারেল স্যার প্যাট্রিক স্যান্ডার্স বলেছিলেন, সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য আরও ভালোভাবে প্রস্তুত হতে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর ৭৪ হাজার কর্মকর্তার মধ্যে কমপক্ষে ৪৫ হাজারকে মোতায়েন রাখতে হবে। সেনাবাহিনীর আকার বেশ ছোট হওয়ায় নাগরিকদেরও যুদ্ধের জন্য ডাকা হবে।

 


আরও খবর