Logo
শিরোনাম
শবে বরাত পালন মুসলিম জাতিকে একতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে। ৫৭ তম খোশরোজ শরীফ ও মইনীয়া যুব ফোরামের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন বাঙালি সাংস্কৃতিতে মাইজভাণ্ডারী ত্বরীকার সাথে সম্পর্ক রয়েছে সীমান্তে হত্যা বন্ধের দাবীতে প্রতীকী লাশ নিয়ে হানিফ বাংলাদেশীর মিছিল লক্ষ্মীপুরে কৃষক কাশেম হত্যা: স্ত্রী, শ্বশুরসহ গ্রেপ্তার ৫ কুমিল্লা সিটি’র উপনির্বাচন: মেয়র পদে প্রতীক বরাদ্দ অবৈধ মজুদকারীরা দেশের শত্রু : খাদ্যমন্ত্রী ফতুল্লায় সিগারেট খাওয়ার প্রতিবাদ করায় কিশোরকে পিটিয়ে হত্যা বকশীগঞ্জে মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা নোবিপ্রবিতে সিএসটিই এলামনাই এসোসিয়েশনের নতুন কমিটি গঠন

জনবল সংকটে নওগাঁ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত

প্রকাশিত:রবিবার ১৩ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ |

Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, স্টাফ রিপোর্টারঃ


প্রায় ২৮ লাখ মানুষের চিকিৎসার জন্য একমাত্র ভরসাস্থল নওগাঁ সদর ২৫০ শয্যা আধুনিক হাসপাতাল। এ হাসপাতালে প্রতিদিন আউটডোরে প্রায় ১ হাজার ৭শ’ জন ও ইনডোরে আরও ৩ শতাধিক রোগীর চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়। নওগাঁর ১১ উপজেলা ছাড়াও পাশের বগুড়া জেলার আদমদীঘি ও জয়পুরহাটের আক্কেলপুর থেকেও লোকজন আসেন এ হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে। কিন্তু আশানুরুপ সেবা না পাওয়ায় নওগাঁ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা।

এ জেলার মানুষকে উন্নত চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয় হাসপাতাল টি। তবে আগের ১০০ শয্যা হাসাপাতালের যে জনবল সেটা দিয়েই ২৫০ শয্যার কার্যক্রম চলছে এখনো। এতে করে রোগীদের চাপে হিমশিম খাচ্ছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সরা। আর উন্নত চিকিৎসা সেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন মানুষ।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ১০০ শয্যার হাসপাতালে উপ-পরিচালক, শিশু, মেডিসিন, সার্জারি, ফরেনসিক, চক্ষু, অর্থোপেডিকস, রেডিওলজি ইমেজিং, কার্ডিওলজি, চর্ম ও যৌন, গাইনি এ্যান্ড অবস, নাক-কান-গলা, প্যাথলজি, নিউরোসার্জারি, নেফ্রোলজি, ও মেডিকেল অফিসারসহ মোট ৪৫ চিকিৎসকের মধ্যে আছেন মাত্র ৩২ জন। ৮৬ জনের মধ্যে নার্স রয়েছেন ৭৮ জন। বর্তমানে ১৩ জন মেডিকেল অফিসার দিয়ে আউটডোর ও ইনডোরে সেবা দেয়া হচ্ছে। 

প্রতিদিন আউটডোরে প্রায় ১৬/১৭শ’ এবং ইনডোরে প্রায় ৩ শতাধিক রোগীর চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়।

এছাড়াও ১০০ শয্যার জন্য মঞ্জুরি করা পদের মধ্যে সিনিয়র কনসালটেন্ট মেডিসিন, চক্ষু, অর্থোপেডিকস ও রেডিওলজি ইমেজিং, জুনিয়র কনসালটেন্ট গাইনি এ্যান্ড অবস, মানসিক, প্যাথলজি ও নেফ্রোলজি, ডেন্টাল সার্জন, মেডিকেল অফিসার চক্ষু, রেডিওলজিস্ট এবং ইনডোর মেডিকেল অফিসার কার্ডিওলজি ও মেডিসিন প্রতি পদে একটি করে শূন্য রয়েছে। হাসপাতাল পরিচালনার জন্য ১৭৬ মঞ্জুরি পদের বিপরীতে জনবল আছে ১২১ জন।

নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, র্দীঘ লাইনে দাঁড়িয়ে চিকিৎসা সেবা না পেয়ে অনেক সেবা প্রত্যাশীরা বাধ্য হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। আবার অনেকে বেড না পেয়ে মেঝে এমনকি বারান্দায় ভর্তি হয়ে চিকিৎসা সেবা গ্রহন করছেন। অন্যদিকে, রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন হাসপাতালের দায়িত্বরতরা। অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতাল থেকে রোগীদের ওষুধ সরবরাহের পাশাপাশি বাড়তি ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হয়।

ইনডোরে রোগী দেখার পর ডাক্তার আউটডোরে গিয়ে রোগী দেখা শুরু করেন। এতে হাসপাতালের আউটডোরে চিকিৎসা সেবা নিতে আসাদের দীর্ঘসময় অপেক্ষা করতে হয়। আবার চিকিৎসক না থাকায় হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে সেবা নিতে আসা রোগীদেরও।

নওগাঁর নিয়ামতপুর থেকে পায়ের চিকিৎসা করাতে এসেছেন রমজান আলী। তার সঙ্গে আসা মেয়ে নিলুফা খাতুন বলেন, অর্থোপেডিক ডাক্তারের কক্ষের সামনে এতই ভিড় বাবাকে যে পাশে কোথাও বসিয়ে রাখবো সেই ব্যবস্থাও নেই। ২ ঘণ্টা অপেক্ষা করেও বাবাকে ডাক্তার দেখাতে পারিনি। বাধ্য হয়ে বাসায় ফিরে যাচ্ছি। অন্যকোনো দিন আবার আসবো আর না হয় রাজশাহীতে নিয়ে যাবো।

একই অবস্থা মেডিসিন বিভাগের সামনেও, দীর্ঘ লাইনে প্রায় ৫০-৬০ জনের মত সেবাপ্রত্যাশী দাঁড়িয়ে আছেন। আমেনা বেগম নামে এক সেবা প্রত্যাশী বলেন, দুইদিন হলো ঘুরে গেলাম। সেই সকাল ১০টায় এসেছি এখন ১২টা বেজে গেল। কিন্তু এখনও ডাক্তারের কাছে যেতেই পারলাম না। অনেকে বাধ্য হয়ে ফিরে গেছে। আমি চলে যাবো। আর কিছুক্ষণ এভাবে দাঁড়িয়ে থাকলে আমি আরও অসুস্থ্য হয়ে পড়বো। একসাথে তিন -চারটি কক্ষে যদি মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা রোগী দেখতেন, তাহলে এতো ভোগান্তি পোহাতে হতো না।

হাসপাতালের নতুন ভবনের সার্জারী ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, অনেকে মেঝেতে ও বাড়ান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। কামরুল হোসেন নামে একজন বলেন, আমার ভাইকে ভর্তি করা হয়েছে। বেড সংকট তাই মেঝেতেই চিকিৎসা সেবা নিতে হচ্ছে। কি আর করার, বাধ্য হয়েই এসেছি সরকারি হাসপাতালে।

রেনুকা বেগম নামে এক রোগী বলেন, বেড নাই তাই বারান্দা থেকেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। চিকিৎসা পাওয়াতো আমাদের মৌলিক অধিকার। কিন্তু চিকিৎসাটাও ভালো ভাবে পাই না আমরা। বারান্দায় এভাবে থাকা যে কতটা কষ্টের, তা বুঝাবো কি করে? টাকা খরচ করে প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা করার মত সামর্থ্য নেই। তাই বাধ্য হয়েই এখানে থেকেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর থেকে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে মিলাদুল ইসলাম এসে ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছেন। তিনি বলেন, হঠাৎ করে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। হাসপাতাল থেকে কিছু ওষুধ দেয়া হয়েছে। আর বেশি ভাগ ওষুধ বাইরে থেকেই কিনতে হয়েছে।

নওগাঁ নাগরিক কমিটির সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট এ.কে.এম ফজলে রাব্বী বকু জানান, ২৮ লাখ মানুষের ভরসা নওগাঁ সদর হাসপাতাল। চিকিৎসক সংকটের কারণে যদি কেউ সময়মত সেবা না নিতে পারে তাহলে এর চেয়ে দুঃখজনক কি আর হতে পারে। হাসপাতালে যদি সেবার মান ভালো না হয় তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে সেবা নিতে? চিকিৎসক সংকটসহ হাসপাতালের সার্বিক সমস্যা দূর করে যেন সেবার মান বৃদ্ধি করা হয় সেই দাবি জানান তিনি।

নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক (উপ-পরিচালক) ডা. জাহিদ নজরুল চৌধুরী জানান, ২৫০ শয্যা বলা হলেও ১০০ শয্যার হাসপাতাল চালাতে যে পরিমাণ জনবল দরকার তাও এখানে নেই। এতে করে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিদিন আউটডোরে প্রায় ১৬শ' জন ও ইনডোরে প্রায় ৩ শতাধিক রোগীর চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে।

তিনি আরো জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জন্য প্রশাসনিক অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সেবার মান বৃদ্ধির জন্য চাহিদা পত্রের মাধ্যমে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। আশা করছি চাহিদা গুলোর অনুমোদন পেলে ডাক্তার, সেবিকা, ওষুধ ও অবকাঠামো সহ সার্বিকভাবে সেবার মান আরো ভালো হবে বলে জানান তিনি।


আরও খবর



ফুটপাতের চাঁদার টাকা খায় কারা ?

প্রকাশিত:সোমবার ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪ |

Image

রোকসানা মনোয়ার : রাজধানীর কদমতলী থানা এলাকায় শনিরআখড়া জিয়া সরণি সড়কে আবেদিন মার্কেটের কোনা থেকে জাপানি বাজার পর্যন্ত সড়ক ও ফুটপাত দখল করে চার শতাধিক শতাধিক দোকান রয়েছে দুপাশে। বর্নমালা স্কুল রোডে গোয়াল বাড়ী মোড় পর্যন্ত সড়ক ও ফুটপাত দখল করে দুই শতাধিক শতাধিক দোকান রয়েছে । যার ফলে প্রতিদিন বড় জ্যামে পরে থাকতে হয় এলাকাবাসি ও স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রীদের । এদিকে ধোলাইপাড়ের শেষ মাথায় অবৈধ অটোরিকশা স্ট্যান্ড আরো বিপদে ফেলছে এলাকাবাসিকে ।

কদমতলী থানার জুরাইন মেডিকেল রোড থেকে বিক্রমপুর প্লাজা পর্যন্ত এবং জুরাইন আলম মার্কেট থেকে সেতু মার্কেট রাস্তায় শদেড়েক দোকান রয়েছে।  রাজধানীর গুলিস্তান ও বায়তুল মোকাররম এলাকায় ফুটপাত, সড়ক এবং অলিগলির রাস্তায় প্রায় আড়াই হাজার দোকান বসছে।

খিলগাঁওয়ের শহীদ বাকী সড়কের পশ্চিম মাথা থেকে শুরু করে তালতলা হয়ে মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ পর্যন্ত এক দশমিক এক কিলোমিটার রাস্তার দুইপাশে প্রতিদিন স্ট্রিট ফুডের ৩০-৩৫টি গাড়িসহ বিভিন্ন পণ্যের শতাধিক ভ্যান বসে। ফলে একশ ফুটের প্রশস্ত রাস্তার মাত্র ৫০ থেকে ৬০ ফুট যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত থাকে। রাস্তা দখল করে বসা অবৈধ দোকানিদের অবাধ বাণিজ্যের কারণে শুক্রবারসহ বিভিন্ন ছুটির দিনে ব্যস্ততম এ সড়কটি আরও সংকীর্ণ হয়ে সৃষ্টি হয় ব্যাপক যানজট।

একই অবস্থা মিরপুর-১৪ নম্বর থেকে ভাষানটেক পর্যন্ত গোটা সড়কের। ১০০ ফুট প্রশস্ত এ রাস্তার দুপাশের অর্ধেকের বেশি জায়গা দখল করে অবৈধভাবে মালামাল রেখে সেখানকার দোকানিরা নির্বিঘ্নে ব্যবসা করছেন। এতে সামান্য গাড়ির চাপ বাড়লেই ওই সড়ক দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। অথচ ভাষানটেক থানা এ সড়ক সংলগ্ন হওয়ায় পুলিশের গাড়িগুলোকে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা অবৈধ দখলদারদের স্তূপকৃত মালামালের পাশ কাটিয়ে যেতে হচ্ছে।

রাজধানীবাসীর অভিযোগ, শুধু শহীদ বাকী সড়ক কিংবা ভাষানটেক রাস্তাতেই নয়, ঢাকার ব্যস্ততম প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলির প্রতিটি রাস্তার দুপাশের বড় অংশ হাজার হাজার অবৈধ দোকানির দখলে। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা ভাড়ার বাণিজ্য চলমান থাকলেও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তা আরও বেড়েছে। আগে যে সড়কে ৭৫ থেকে ৮০টি অবৈধ দোকান বসত, তা এখন শয়ের কোটা ছাড়িয়েছে। আসন্ন রমজানে প্রতিটি রাস্তায় অতিরিক্ত আরও ২০ থেকে ২৫ শতাংশ অবৈধ দোকান বাড়ানোর জন্য এর নেপথ্যের গডফাদাররা জোরেশোরে প্রস্তুতি নিচ্ছে। এতে নগরীর অধিকাংশ সড়কে ঈদের আগ পর্যন্ত যানজট পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেবে বলে অনেকে আশঙ্কা করছেন।

এদিকে রমজানে ইফতারির পণ্য ও ঈদের পোশাকসহ বিভিন্ন মালামাল বিক্রির জন্য রাস্তা দখল করে নতুন দোকান বসানো নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সন্ত্রাসীদের মধ্যে নতুন শত্রুতা দানা বাঁধছে। গোয়েন্দাদের আশঙ্কা, এ নিয়ে তাদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে। যা এরইমধ্যে তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছে।

গোয়েন্দারা জানান, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, পুলিশ ও সন্ত্রাসীরা শুধু অবৈধভাবে রাস্তা ভাড়া দিয়ে চাঁদা তুলছে তাই-ই নয়, অনেক জায়গায় এখন এসব স্থানের পজিশন বিক্রি হচ্ছে। জায়গার গুরুত্বভেদে ২ থেকে ৩ লাখ টাকা, এমনকি কোথাও কোথাও ৫ লাখ টাকায় পজিশন বিক্রি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাস্তা দখল করে অবৈধ ব্যবসা পরিচালনার বিষয়টি থানা পুলিশ, সিটি করপোরেশন ও জনপ্রতিনিধিদের বিভিন্ন দপ্তরে জানানো হলেও তারা একে অপরের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে নিজেদের দায়িত্ব এড়াচ্ছে। তবে স্থানীয় লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে এসব রাস্তা দখলকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে তাদের আসল স্বরূপ প্রকাশ পাচ্ছে। তখন তারা তাদের প্রতিবাদে সহযোগিতা না করে বরং অবৈধ দখলদারদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ইন্ধন যোগাচ্ছে। এদিকে সংকীর্ণ রাস্তার যানজটে পড়ে যান্ত্রিক যানবাহনের গতি মন্থর হয়ে যাওয়ায় প্রতিদিন অযথাই হাজার হাজার লিটার সিএনজি, এলপিজি, ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন পুড়ছে। নষ্ট হচ্ছে যানবাহনের যাত্রীদের মূল্যবান কর্মঘণ্টা। অস্বাভাবিক যানজটের কারণে তাদের গণপরিবহণে বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাস্তার পাশে ছোট চৌকি, ভ্যান ও চাকাওয়ালা ঘুন্টিঘর বসিয়ে দেড় থেকে দুই লাখ মানুষ অবৈধভাবে ব্যবসা করছে। তবে এদের কাছ থেকে যারা অবৈধভাবে টাকা তুলছেন তাদের নেপথ্যের গডফাদার মাত্র ৩ থেকে ৪শ। যদিও তাদের প্রত্যেকের ১০ থেকে ১৫ জন করে লাইনম্যান রয়েছে। যারা প্রতি মাসে ১৫০ থেকে ১৬০ কোটি টাকা রাস্তা ভাড়া তুলে চাঁদাবাজচক্রের মূল হোতাদের হাতে তুলে দিচ্ছে। এ টাকা থানা ও ফাঁড়ির পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশ, ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক নেতা, স্থানীয় সন্ত্রাসী ও সিটি করপোরেশনের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের মধ্যে ভাগ হচ্ছে।

ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের এক গবেষণা অনুযায়ী, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের অবৈধ দোকানিদের কাছ থেকে বছরে ১ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা চাঁদা আদায় হয়। যা চলে যায় দখলবাজ সিন্ডিকেটের পকেটে। এই বাণিজ্য ঘিরে হামলা, সংঘর্ষ, এমনকি খুনের ঘটনাও ঘটছে।

নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, মানবিক কারণে পুলিশ ও জনপ্রতিনিধিরা রাস্তা থেকে অবৈধ পণ্য বিক্রেতাদের তুলে দিচ্ছে না এমনটা দাবি চাউর করলেও পুরোটাই ধান্ধাবাজি কথাবার্তা। ক্ষমতাসীন দলের নেতা, স্থানীয় সন্ত্রাসী, পুলিশ ও জনপ্রতিনিধিদের চাঁদা না দিয়ে ঢাকার কোনো রাস্তায় একটি অবৈধ দোকানও বসতে পারে না। রাস্তার ভাড়া আদায়ের নামে তারা উল্টো দরিদ্রদের রক্ত চুষে খাচ্ছে। গডফাদারদের সুযোগ না দিয়ে বরং টেন্ডারের মাধ্যমে ইজারা দেওয়া হলে রাস্তা দখল করা দোকানিদের কম ভাড়া গুনতে হতো। পাশাপাশি সরকারি কোষাগারেও বড় অঙ্কের অর্থ জমা পড়ত। রাস্তা থেকে অবৈধ দখলদার তুলে দিতে না পারাটাকে প্রশাসনের দুর্নীতিজনিত ব্যর্থতা বলেও মন্তব্য করেন তারা।

এ প্রসঙ্গে নগর পরিকল্পনাবিদ ইকবাল হাবিব বলেন, অবৈধ কর্মকাণ্ডে প্রশাসনের নীরব ভূমিকা প্রমাণ করে তারা কোনো না কোনোভাবে এসবের সঙ্গে জড়িত। অবৈধ দখলদারদের জবাবদিহিতার মধ্যে আনতে পারছে না বলেই রাস্তার একটি বড় অংশ বেদখল হয়ে গেছে। যদিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কখনো কখনো মিডিয়াকে সঙ্গে নিয়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সরকারের যেসব সংস্থা বা কার্যালয় নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে, তাদের জবাবদিহিতার মধ্যে আনলেই এসব থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব বলে মনে করেন এ পরিকল্পনাবিদ।

মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মনজিল মোরশেদ বলেন, যানজটের কারণে ঢাকা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যাচ্ছে। এজন্য প্রশাসনের ব্যর্থতা দায়ী। তারা সঠিকভাবে কাজ করে না। তিনি আরও বলেন, মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ করার দায়িত্ব সরকারের। সরকার আইনগতভাবে সেটা নিশ্চিত করবে। কিন্তু মানুষের চলাচলের পথ বন্ধ করে তো ব্যবসার সুযোগ দিতে পারে না।

এদিকে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন রাস্তা থেকে অবৈধ দোকানিদের উচ্ছেদে তাদের ব্যর্থতা ঢাকতে নানা খোঁড়া যুক্তি দাঁড় করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, সিটি করপোরেশনকে নগরীর রাস্তা-ফুটপাত পরিচ্ছন্ন ও দখলমুক্ত রাখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। অবৈধ দখলদার উচ্ছেদে পুলিশ ফোর্স বিশেষ প্রয়োজন। যা সিটি করপোরেশন প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করতে পারবে। সেটা না থাকায় ডিএমপির পুলিশ নিয়ে সিটি করপোরেশন অবৈধ দোকানিদের উচ্ছেদ করে আসার সঙ্গে সঙ্গে তা আবার বেদখল হয়ে যাচ্ছে।

ডিসি পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা বলেন, পুলিশের মাঠ পর্যায়ের দুএকজন সদস্য রাস্তার অবৈধ দোকানিদের কাছ থেকে উৎকোচ নিতে পারে। তবে ঢালাওভাবে সবাইকে অভিযুক্ত করা ঠিক নয়। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে তারা সরাসরি তদারকি করে বিভিন্ন রাস্তা থেকে অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করেছেন। কিন্তু লাভের লাভ তেমন কিছুই হয়নি। কারণ তারা উচ্ছেদ অভিযান থেকে সরে আসার পরপরই স্থানীয় প্রভাবশালী ও সন্ত্রাসীরা ফের সেখানে দোকান বসিয়ে চাঁদা আদায় করছে। ফুটপাত ও রাস্তায় অবৈধ দোকান বসিয়ে লাইনম্যানরা ভাড়া তুললেও তা স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা ও পুলিশের পকেটে যাচ্ছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।

 


আরও খবর



স্মার্ট পার্লামেন্ট প্রতিষ্ঠিত হবে : স্পিকার

প্রকাশিত:সোমবার ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ |

Image

অচিরেই স্মার্ট পার্লামেন্ট প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। তিনি বলেছেন, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য নিষ্ঠার সাথে পালন করে চলেছেন। জাতীয় সংসদের কাজ আইন অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে।

জাতীয় সংসদ ভবনের উত্তর প্লাজায় নবনির্মিত কনফারেন্স রুমে সংসদ সচিবালয়ের বিভিন্ন উইং সমূহের মধ্যে বিশেষ সমন্বয় সভায় অংশগ্রহণ করে এসব কথা বলেন। সভায় স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন জাতীয় সংসদের সিনিয়র সচিব কে এম আব্দুস সালাম। আলোচনায় অংশ নেন সংসদ সচিবালয়ের অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সাপোর্ট উইংয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. নূরুজ্জামান, মানব সম্পদ উইংয়ের অতিরিক্ত সচিব মাহবুবা পান্না, বিএন্ডআইটি অনুবিভাগের মহাপরিচালক যুগ্মসচিব এস এম মঞ্জুর, লেজিসলেটিভ সাপোর্ট উইংয়ের যুগ্মসচিব বেগম ছুমিয়া খানম প্রমুখ।

সভায় স্পিকার বলেন, বছরের শুরুতে সংসদ সচিবালয়ের সকল উইংয়ের অংশগ্রহণে এ ধরণের সমন্বয় সভার গুরুত্ব অনেক। এ ধরনের সমন্বয় সভায় আগামী পাঁচ বছরের পরিকল্পনা করা সম্ভব। তিনি আরো বলেন, বিভিন্ন উইং এর সমস্যাগুলোকে গুরুত্ব অনুযায়ী সমাধান করতে হবে।

এসময় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সাইবার সিকিউরিটি বৃদ্ধি, মানব সম্পদ শাখার সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সংসদ লাইব্রেরিকে ডিজিটালাইজড করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন তিনি। তিনি সংসদ সচিবালয়ের প্রশাসনিক, লেজিসলেটিভ ও প্রকিউরমেন্ট কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করেন।


আরও খবর



ধামরাইয়ে বংশী নদী ভরাট চলছে আঁটো রাইছ মিলের ছাই দিয়ে

প্রকাশিত:শনিবার ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ |

Image

মাহবুবুল আলম রিপন (স্টাফ রিপোর্টার):

ধামরাই উপজেলার সোমভাগ ইউনিয়নের সোমভাগ কাটাখালী এলাকায় কেলিয়ার উত্তরপাশে বংশী নদী ভরাট চলছে ধানের চাতালের ছাই দিয়ে। নদী ভরাটের ফলে গতি পথে বাঁধা সৃষ্টি হচ্ছে। দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। প্রশাসনের নাকের ডগায় চলছে ছাই দিয়ে ভরাটের কর্মযজ্ঞ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার কুল্লা ইউনিয়নের কেলিয়া এলাকায় কে এন্ড কে অটোরাইস মিল, কাদের আটো রাইস মিল, সৌদিয়া অটো রাইস মিল,সুষমা অটো রাইস মিল মালিকরা নদী ভরাট করে পানি চলাচলের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।


আরও খবর



গাজায় গণহত্যা বন্ধে বিশ্বজুড়ে বিক্ষোভ

প্রকাশিত:রবিবার ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪ |

Image

গাজায় চলমান ইসরাইলি গণহত্যা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বিশ্বজুড়ে বিক্ষোভ করা হয়েছে। দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সংহতি দিবসে লন্ডন থেকে আহ্বানের পর ১২০টিরও বেশি শহরে লাখ লাখ বিক্ষোভকারী জড়ো হয়েছে।

প্যালেস্টাইন ফোরাম ইন ব্রিটেন (পিএফবি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই বিক্ষোভের লক্ষ্য হচ্ছে ইসরাইলের গণহত্যা এবং জাতিগত নির্মূল প্রচেষ্টা বন্ধ করা।

শনিবার ইস্তাম্বুল, ওয়াশিংটন, সিডনি, ডাবলিন, বার্লিন, প্যারিস, ভিয়েনা, ব্রাসিলিয়া, কেপটাউন, রাবাত এবং বাগদাদে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

পিএফবি-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং এই আয়োজনের প্রতিনিধি আদনান হামিদান বলেন, বিপুল ভোটদান গাজার জন্য টেকসই বৈশ্বিক সমর্থনের একটি প্রমাণ, যা অতিরিক্ত আগ্রহ হ্রাসে পাশ্চাত্যের প্রত্যাশা মোকাবেলা করে।

তিনি বলেন, লন্ডন, গ্লাসগো, ম্যানচেস্টার, কার্ডিফ এবং বিশ্বব্যাপী প্রধান শহরগুলোতে আমরা দখলদারিত্বের সঙ্ঘটিত গণহত্যামূলক অপরাধগুলো বন্ধ করার লক্ষ্যে একটি শক্তিশালী আন্দোলন লক্ষ্য করি। একটি ইউগভ জরিপ প্রকাশের মাত্র কয়েক দিন পর স্পষ্ট যে ব্রিটেনের ৬৬ শতাংশ গাজায় যুদ্ধবিরতির পক্ষে। ব্রিটেনে ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন ইসরাইলের জন্য ১৬ শতাংশের তুলনায় ২২ শতাংশে বেড়েছে।

লন্ডনের বিক্ষোভে বক্তব্য দেয়া বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন লেবার পার্টির সাবেক নেতা জেরেমি করবিন, যুক্তরাজ্যে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত হোসাম জোমলট এবং ফিলিস্তিন সলিডারিটি ক্যাম্পেইনের কামেল হাওয়াশ এবং বেন জামালসহ বিভিন্ন সংহতি গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা, ফিলিস্তিন ফোরামের ফারাহ সাবের। ব্রিটেন, স্টপ দ্য ওয়ার কোয়ালিশন থেকে লিন্ডসে জার্মান, ব্রিটেনের মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন থেকে মুস্তাফা আল-দাবাঘ, ফ্রেন্ডস অফ আল-আকসা অর্গানাইজেশন থেকে ইসমাইল প্যাটেল এবং পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ অভিযানের কেট হাডসন।

উল্লেখযোগ্য ছিল ইলফোর্ড নর্থের একজন তরুণ ফিলিস্তিনি-ব্রিটিশ নারী লিয়ান মোহাম্মদের অংশগ্রহণ। তিনি ২০২৪ সালের শেষের দিকে হওয়া আইনসভা নির্বাচনে হিজাব পরিধানকারী প্রথম ফিলিস্তিনি নারী প্রার্থী হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে আসন্ন ব্রিটিশ নির্বাচনে তার প্রার্থিতা ঘোষণা করেছিলেন।

ফিলিস্তিন সলিডারিটির পরিচালক বেন জামাল বলেন, ইসরাইলি আগ্রাসন এবং গাজার জনগণের বিরুদ্ধে তার গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ডের প্রতিটি পর্যায়ে আমরা এমন নৃশংসতা দেখেছি যা আমরা কখনো কল্পনাও করিনি। বোমাবর্ষণে রাফাহ এবং আহত শিশুদের ছবি বিশ্বের বিবেককে স্তম্ভিত করেছে।

বিশ্বজুড়ে বিক্ষোভকারীরা অবিলম্বে ইসরাইলি হামলা বন্ধ, যুদ্ধাপরাধের জন্য জবাবদিহিতা এবং নদী থেকে সমুদ্র পর্যন্ত ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার দাবিতে স্লোগান দেয়।

তারা গণহত্যা বন্ধ, রাফাহর সাথে সংহতি এবং সাহায্যের সুবিধার্থে সীমান্ত খুলে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
সূত্র : মিডেল ইস্ট আই


আরও খবর

অনুমতি ছাড়া হজ করলে শাস্তি ঘোষণা

শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪




জননিরাপত্তা নিশ্চিতে অপচেষ্টা প্রতিহত করুন : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত:সোমবার ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪ |

Image

জননিরাপত্তা রক্ষায় যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করতে সাহস ও আন্তরিকতার সাথে রুখে দাঁড়াতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, দেশের বৃহত্তম বাহিনী হিসেবে আপনাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। জননিরাপত্তা রক্ষায় যেকোনো অশুভ তৎপরতা প্রতিহত করতে হবে। আপনাদের সততা, সাহস ও আন্তরিকতার সাথে এটা করতে হবে।

সোমবার  সকালে গাজীপুরের সফিপুরে বাংলাদেশ আনসার-ভিডিপি একাডেমিতে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির ৪৪তম জাতীয় সমাবেশ-২০২৪ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, জনগণের নিরাপত্তা ও বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শান্তি বজায় রাখা তার সরকারের পবিত্র দায়িত্ব।

 

তিনি বলেন, দেশের সার্বিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সুষ্ঠু অর্থনৈতিক পরিবেশ ও গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা অব্যাহত রাখা পূর্বশর্ত। দেশে এমন পরিবেশ বজায় রাখার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের অর্জিত উন্নয়নের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ এখন যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলার সক্ষমতা অর্জন করেছে।

দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে সকলকে সততার সাথে কঠোর পরিশ্রম করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি দেশের সরকারি-বেসরকারি কাঠামো ও প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সর্ববৃহৎ বাহিনী আনসার-ভিডিপির ৬১ লাখ সদস্যের অবদানের কথা স্মরণ করেন।

বৃহৎ এই বাহিনীটিতে দুটি নারী ব্যাটালিয়ন এবং একটি বিশেষায়িত ব্যাটালিয়নসহ মোট ৪২টি ব্যাটালিয়ন রয়েছে।


সূত্র : ইউএনবি

 


আরও খবর