Logo
শিরোনাম

আত্মা থেকে পরমাত্মার দূরত্ব কত ?

প্রকাশিত:Wednesday ০২ November 2০২2 | হালনাগাদ:Tuesday ০৭ February ২০২৩ |
Image

গোবিন্দ শীল, সিনিয়র সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ঃ

 যোগবিজ্ঞান বলে কোন দূরত্বই নেই । তাহলে প্রশ্ন জাগে আমরা আমাদের higher self কে দেখতে পাচ্ছিনা কেন? বা, তার জন্য এত সাধনা করতে হয় কেন ? আমরা আমাদের প্রকৃত রুপ দেখতে পাচ্ছিনা এজন্য যে, আমাদের তাবৎ বিনিয়োগ আমরা করে রেখেছি ইগো মাইন্ড বা lower self এর ওপর। এই ইগো মাইন্ড তৈরী হয়েছে যাবতীয় ‍ঋণাত্বক কন্ডিশনিং দিয়ে। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা, ধর্ম ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য সামাজিক প্রতিষ্ঠান lower self কে লালন ও উৎসাহিত করে। এত কিছুর মধ্যেও মাঝে মাঝে সুযোগ পেলে আমাদের higher self মনের কোণে উঁকি দেয়। গভীর ঘুম, soothing music, সুন্দর কোন স্থানে ভ্রমণ, মেডিটেশন--- এরকম কয়েকটি উদাহরণ। আমাদের নৈমত্তিক মন এতটাই শক্তিশালী যে আমরা তাকে ‘inner self’ বা ‘আসল আমি’ বলে ভুল করি। মনের ওপর থেকে ইগো মাইন্ডের প্রলেপ মুছে ফেলতে পারলে তবেই আত্ম জিজ্ঞাসা সুসম্পন্ন হয় ( Self-realization )। মেডিটেশন এই মুছে ফেলার কাজটি করে । তখন নতুন একটি মনের জন্ম হয়। পুরাতন মনটি ধীরে ধীরে নিস্তেজ ও কর্মহীন হয়ে পড়ে। কেননা পুরাতন মনটিতো আসলে নেতিবাচক ধারণা দিয়ে তৈরী ছিল । নতুন মেডিটেটিভ মনের কাছে পুরাতন মন পরাস্ত হয়। কতদিন মেডিটেশন করলে ইগো মাইন্ড দুর্বল হয়, তা ব্যক্তি বিশেষের ওপর নির্ভর করে। তবে, যোগবিজ্ঞান অনুযায়ী যে কোন কেউ তাঁর ‘প্রকৃত আমি’ কে দেখার ক্ষমতা রাখেন। আমাদের শরীরের নিচের দিকে যে তিনটি ধ্যান চক্র আছে, যথা, root chakra, solar plexus ও sacral chakra---সেসব আয়ত্ত্ব করতে পারলে আমাদের lower self দুর্বল হতে শুরু করে । এটিই আমাদের নতুন মনের রাস্তাটি তৈরী করে দেয়। তখনই আপনি সবকিছুতে শান্তি খুঁজে পেতে শুরু করেন। বাকি ৪ টি ধ্যান চক্র আপনাকে ’প্রকৃত আমি’র দিকে নিয়ে যেতে সাহায্য করে।


আরও খবর



নওগাঁয় খাদ্যমন্ত্রী

শেখ হাসিনা সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন

প্রকাশিত:Monday ১৬ January ২০২৩ | হালনাগাদ:Monday ০৬ February ২০২৩ |
Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, স্টাফ রিপোর্টার :

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ন্যায়ের পথে কাজ করে যাচ্ছেন। সকল সম্প্রদায়ের উন্নয়নে তিনি নিবেদিত প্রাণ বলে মন্তব্য করেছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার এমপি।

তিনি সোমবার ১৬ জানুয়ারী সকালে ২য় পর্যায়ে সারাদেশে ৫০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র উদ্বোধন অনুষ্ঠানে নওগাঁর নিয়ামতপুরে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। 

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে ভার্চুয়ালিতে যুক্ত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের জন্য  ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর সুযোগ্য কন্যার নেত্রীত্বে সারা দেশে মডেল মসজিদ নির্মিত হচ্ছে। তিনি সকল ধর্মের উন্নয়নে কাজ করেন। তিনি বিশ্বাস করেন ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার।

খাদ্যমন্ত্রী আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব অগ্রগতি হয়েছে। পৃথিবীর অনেক শক্তিশালী দেশের চেয়েও এখন বাংলাদেশের জিডিপি ও এসডিজির অগ্রগতি ভালো। প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ্য নেত্রীত্বে বাংলাদেশ করোনা মোকাবিলায় বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন অবকাঠামো ও রাষ্ট্রীয় উন্নয়নের পাশাপাশি দেশরত্ন শেখ হাসিনা ধর্মীয় ও নৈতিক উন্নয়নের দিকেও নজর দিয়েছেন। 

পিতার দেখানো পথ ধরে তিনি সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন।

আর সে ধারাবাহিকতায় মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে তোলা হচ্ছে।

উল্লেখ্য,আধুনিক সুযোগ-সুবিধা-সংবলিত সুবিশাল এসব মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্সে নারী ও পুরুষদের পৃথক ওজু ও নামাজ আদায়ের সুবিধা, লাইব্রেরি, গবেষণা কেন্দ্র, ইসলামিক বই বিক্রয় কেন্দ্র, পবিত্র কোরআন হেফজ বিভাগ, শিশু শিক্ষা, অতিথিশালা, বিদেশি পর্যটকদের আবাসন, মৃতদেহ গোসলের ব্যবস্থা, হজ্ব যাত্রীদের নিবন্ধন ও অটিজম সেন্টার, প্রতিবন্ধী মুসল্লিদের টয়লেট সহ নামাজের পৃথক ব্যবস্থা, গণশিক্ষা কেন্দ্র, ইসলামি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র থাকবে। এ ছাড়াও ইমাম-মুয়াজ্জিনের প্রশিক্ষণ-আবাসন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য অফিসের ব্যবস্থা এবং গাড়ি পার্কিং-সুবিধা রাখা হয়েছে।

মডেল মসজিদগুলোতে দ্বিনি দাওয়াত কার্যক্রম ও ইসলামি সংস্কৃতিচর্চার পাশাপাশি মাদক, সন্ত্রাস, যৌতুক, নারীর প্রতি সহিংসতাসহ বিভিন্ন সামাজিক ব্যাধি রোধে সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

নওগাঁ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আল মামুন হক, নিয়ামতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ফারুক সুফিয়ান, উপজেলা চেয়ারম্যান ফরিদ আহম্মেদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ এবং ইসলামী ফাউন্ডেশন এর উপ-পরিচালক গোলাম মোস্তফা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। 


আরও খবর



ধামরাইয়ের বিখ্যাত মিষ্টি ক্ষীরমোহন

প্রকাশিত:Tuesday ১৭ January ২০২৩ | হালনাগাদ:Tuesday ০৭ February ২০২৩ |
Image

মাহবুবুল আলম রিপন (স্টাফ রিপোর্টার):


ঢাকার ধামরাইয়ের কাওয়ালীপাড়া বাজারের ইসমাইল সুইটস এর ক্ষীরমোহন অনন্য এক মিষ্টান্নের নাম। অনেকেই ভীষণ ভোজনপ্রিয় মানুষ। খাবারের নাম শুনলেই জিভে জল চলে আসে। আর যদি সেটা হয় মন জুড়ানো মিষ্টি গন্ধ, তাহলে তো কথাই নেই। এই সুস্বাদু মুখরোচক খাবারটি হচ্ছে কাওয়ালীপাড়ার ‘ক্ষীরমোহন’। দুধ, চিনি, ঘি, দুধের ছানা, ময়দা, তেজপাতা, ছোট এলাচ ইত্যাদি দিয়ে তৈরি ঘন রসযুক্ত মিষ্টান্ন।

ধামরাই উপজেলার গ্রামাঞ্চলে প্রাকৃতিক উপায়ে বেড়ে ওঠা সবুজ ঘাস, লতা-পাতাসহ নানা গো-খাদ্য বাড়িতে পালা গাভিকে খেতে দেয়া হয়। তাই এই এলাকার গরুর দুধ খাঁটি দুধের গুনাগুণ সমৃদ্ধ। সেই দুধ থেকে তৈরি হয় এই ক্ষীরমোহন।

প্রসঙ্গত,ক্ষীর ও মোহনের সংমিশ্রণে তৈরি হয় ক্ষীরমোহন। দুধ ক্ষীরে পরিণত হলে ও মিষ্টির ভেতরে ক্ষীর ঢুকে গেলে তৈরি হয় অমৃত স্বাদের ক্ষীরমোহন।

ইসমাইল সুইটস এর কর্মচারী মোঃ বাদশা মিয়া বলেন, খাঁটি ছানা থেকে তৈরি মিষ্টি প্রথমে গরম চিনির রসে জ্বাল দেয়া হয়। মিষ্টি হয়ে এলে তা থেকে রস ঝরিয়ে নিয়ে দুধে জ্বাল দেয়া হয়। দুধ ক্ষীরে পরিণত হলে ও মিষ্টির ভিতরে ক্ষীর ঢুকে গেলে তৈরি হয় লোভনীয় ‘ক্ষীরমোহন’। সাধারণত ১ মণ দুধ জ্বাল দিয়ে ১৭ থেকে ১৮ কেজি ক্ষীর তৈরি করা হয়। এতে যুক্ত হয় ২৫০ গ্রাম ঘী। এর সাথে ৮ কেজির মত মিষ্টি ক্ষীরে জ্বাল দিয়ে ২৪/ ২৫ কেজি ক্ষীরমোহন বানানো হয়। এর স্বাদ নিতে আসেন ছোট-বড় সকলেই। প্রতিটি ক্ষীরমোহন ৫০ টাকা এবং ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হয় ।

ক্ষীরমোহন খেতে আসা ভোজনপ্রিয় মানুষ মোঃ বাবুল হোসেন বলেন, ক্ষীরমোহনের স্বাদ ও গন্ধ থেকেই জিভে পানি আনার মতো। এই খাবার খেতে খুবই সুস্বাদু আত্মীয় স্বজনদের বাড়ি নিয়ে গেলেও এই রসমালাইকে গুরুত্ব দেয়।


আরও খবর



জিকির,আসকার মধ্য দিয়ে চলছে ইজতেমা

প্রকাশিত:Saturday ১৪ January ২০২৩ | হালনাগাদ:Tuesday ০৭ February ২০২৩ |
Image

লাখো মুসল্লির জিকির আসকার ও তাবলীগের দেশি-বিদেশি মুরুব্বিদের বয়ানের মধ্যদিয়ে চলছে ইজতেমার দ্বিতীয় দিন। শীত উপেক্ষা করেই ইজতেমায় যোগ দিয়েছেন লাখো মুসল্লি।

ফজরের নামাজের পর আম বয়ান করেন পাকিস্তানের মাওলানা খোরশিদুল হক। পরে, আলেমদের উদ্দেশ্যে বিশেষ বয়ান দেবেন ভারতের মাওলানা ইব্রাহিম দেওলা। বার্ধক্য ও অসুস্থতার কারণে ২৪ ঘণ্টায় ৩ মুসল্লি মারা গেছেন।এছাড়াও নানা অসুস্থতায় আশপাশের হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন অনেকেই। এদিকে, ইজতেমা ময়দানে পানির সঙ্কট রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মুসল্লিরা। রোববার আখেরি মোনাজাতের মধ্যদিয়ে শেষ হবে ইজতেমার প্রথম পর্ব। দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমা শুরু হবে আগামী ২০ জানুয়ারি।


আরও খবর



স্মার্ট হবে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ‘রাঙ্গাবালী’-এমপি মহিব

প্রকাশিত:Friday ২০ January ২০23 | হালনাগাদ:Tuesday ০৭ February ২০২৩ |
Image

কামরুল হাসান,পটুয়াখালী :

উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে নৌকায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনের সংসদ সদস্য মহিব্বুর রহমান মহিব। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ উন্নয়নের সরকার। তাই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আওয়ামী লীগের বিকল্প নেই। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার বিকল্প নেই। সরকার ২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে ডিজিটাল থেকে ‘স্মার্ট বাংলাদেশে’ রূপান্তর করতে কাজ করে যাচ্ছে।

শুক্রবার দুপুর ২ টায় পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চালিতাবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদে দুস্থ-অসহায় পরিবারের মাঝে ব্যক্তিগত অর্থায়নে শীতবস্ত্র বিতরণকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে  তিনি এ কথা বলেন। এসময় এমপি আরও বলেন, সরকারের এই উন্নয়ন স্রোতে  এগিয়ে যাচ্ছে দক্ষিণাঞ্চল। এই সরকারের আমলে পটুয়াখালীতে পায়রা সমুদ্র বন্দর, পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন, শেরে বাংলা নৌঘাটি, বড় বড় আরও মেঘা প্রকল্পসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ চলছে।    এসবের কৃতিত্ব বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার।

এমপি মহিব বলেন, পিছিয়ে নেই বিচ্ছিন্ন জনপদগুলোও। রাঙ্গাবালীকে থানা থেকে উপজেলায় উন্নিত করা হয়েছে। অসম্ভবকে সম্ভব করে সেখানে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ দেওয়া হয়েছে।  আদালত অনুমোদন হয়েছে।  সারাদেশের সঙ্গে এই দ্বীপকে সংযুক্ত করতে ফেরি চালুর কাজ চলছে।  হাসপাতালের কাজ শুরু হয়েছে । সোনারচর, চরহেয়ার, জাহাজমারা ও তুফানিয়া নিয়ে পর্যটন জোন করার পরিকল্পনা সরকারের।  এছাড়া অনেক উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ হয়েছে এবং হচ্ছে।   আগামীতে সারাদেশের সঙ্গে তালমিলিয়ে বিচ্ছিন্ন এই রাঙ্গাবালীও স্মার্ট রাঙ্গাবালী হিসেবে রূপান্তরিত হবে। সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। তাই নৌকায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে জয়যুক্ত করুন।  

এরআগে ওইদিন সকাল সাড়ে ১০ টায় উপজেলার চরমোন্তাজ লঞ্চঘাট থেকে চরমোন্তাজ পুরাতন বাজারের রাস্তা পাকাকরণ এবং বিকেল ৪ টায় মৌডুবি বাজার থেকে মুখরবান্দা সাইক্লোন সেল্টার পর্যন্ত রাস্তা পাকাকরণ কাজের উদ্বোধন করেন এমপি। পাশাপাশি চরমোন্তাজ, মৌডুবি, বড়বাইশদিয়াসহ ৪ ইউনিয়নে দুস্থ-অসহায় দুই হাজার পরিবারের মাঝে ব্যক্তিগত অর্থায়ণে শীতবস্ত্র হিসেবে কম্বল বিতরণ করেছেন তিনি।

এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক রাঙ্গাবালী সদর ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুজ্জামান মামুন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরে আলম ফকু, দপ্তর সম্পাদক সালাউদ্দিন আহমেদ, এমপির ব্যক্তিগত সহকারী তরিকুল ইসলাম মৃধা ও ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান শিবলী প্রমুখ।   


আরও খবর



মৃত্যুর পরও অমর সারাহ ইসলাম

প্রকাশিত:Monday ২৩ January 20২৩ | হালনাগাদ:Sunday ০৫ February ২০২৩ |
Image
রোকসানা মনোয়ার :সারাহ ইসলাম, বয়স মাত্র ২০। দশ মাস বয়সে তার ব্রেন টিউমার ধরা পড়ে। মেয়েকে সুস্থ করে তুলতে দীর্ঘ ১৯ বছর সংগ্রাম করেছেন তার বাবা মা। দেশে বিদেশে নানা রকম চিকিৎসাতেও কোন কাজ হয়নি। ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন; সদ্য জীবন শুরু করা ফুটফুটে এই মেয়েটি। বাবা মাকে সারাহ অনুরোধ করেছিলেন; মৃত্যুর পর তার দেহটি যাতে মানুষের কল্যানে দান করা হয়।
বুধবার রাত ১০টায় সারাহ মারা যান। তার দুটি কিডনী ও চোখের দুটি কর্নিয়া সরিয়ে নিয়ে প্রায় সাথে সাথেই চারজন মানুষের দেহে প্রতিস্থাপন করেন ডাক্তাররা। রাত ১০টা থেকে টানা ভোর পর্যন্ত চলেছে এই অস্ত্রপচার। চারজন রোগীই সুস্থ আছেন। এটি হয়তো দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার এগিয়ে যাওয়ার চিত্র। কিন্তু আমি বিস্মিত অন্য কারনে।
মৃত্যুর মতো একটি কঠিন সত্যকে মেনে নিয়ে; এমন আত্মত্যাগের জীবন গড়তে কে তোমাকে শেখালো মা ? এই সার্থপর সমাজ, চারপাশে লোভের-লাভের এতো এতো প্রতিযোগিতা; এই নষ্ট সময়ে তুমি এক তরতাজা ফুল।
স্যালুট তোমাকে মা। স্যালুট তোমার মতো বীরকন্যার জন্মদাত্রী মাকেও। যে কিনা এমন একটা পবিত্র সৌরভের জন্ম দিয়েছে।

মৃত্যুতেও অমর একজন সারাহ ইসলাম । দূরারোগ্য রোগের সাথে লড়াই করে নিজে হার মানলেও, কিডনি ও কর্নিয়া দান করে নতুন জীবন দিয়েছেন চারজনকে। সারাহর অঙ্গ নেয়া চার রোগীই এখন সুস্থ আছেন। সাহসিকা সারাহর গল্প জানালেন তার মা ।

পাঁচ বছর যাবত বোনের চিকিৎসা খরচ জোগাতে গিয়ে যখন প্রায় নি:স্ব শাহাজাদা আহমেদের পরিবার তখন সারাহ ইসলাম এসেছেন জীবনের বাক বদলকারী হিসেবে। শাহাজাদা ফিরে পেয়েছেন তার বোনকে আর দশ বছরের ছোট্ট সন্তানের কাছে তার মাকে ফিরিয়ে দিয়েছে সারাহর দান করা কিডনী।

বলছি সেই ২০ বছরের সারাহর কথা। মাত্র দশ মাস বয়স থেকেই লড়েছেন টিউবেরাস স্কেলোসিসের মত দুরারোগ্য ব্যাধির সাথে।এবার ব্রেনে বাঁধা বেসেছিলো টিউমার। হয়তো বুঝতে পরেছিলেন লড়াইয়ে এবার ফিরে নাও আসতে পারেন। মৃত্যুর পরও নিজেকে বিলিয়ে বাঁচতে চেয়েছেন সারাহ। মস্তিস্ক যখন আর সারা দিচ্ছিলো না তখন সারাহর দুই কিডনী আর চোখের কর্ণিয়া নতুন করে বাঁচার আশা যুগিয়েছে চার চারটা মানুষকে।

বড় আঁকিয়ে হবেন একদিন, এমন স্বপ্ন ছিলো সারাহর চোখে। জীবন তাকে সেই সময়টুকু না দিলেও মৃত্যুতেও থমকে যাননি সারাহ! এমন সাহসী আর মানবিক মেয়েই তো চেয়েছিলেন মা শবনম।

বিখ্যাত কেউ নন কিন্তু তারপরও এমন সিলিউট থেকে সারাহ ইসলামকে চিনে নিতে আর কষ্ট হয় না। তার এই দেখিয়ে যাওয়া পথে যেদিন এমন আরও অনেক মৃত্যুঞ্জয়ের কাহিনীযুক্ত হবে সেই দিনের অপেক্ষায় সারাহর পরিবার।




আরও খবর